দুনিয়াটা কেমন জানি হয়ে যাচ্ছে। নিজের বলে আর কিছু থাকছে না। সব কিছুই খুব বেশি মাত্রায় শেয়ার হয়ে যাচ্ছে। সায়েন্স এবং টেকনোলজির কল্যাণে মানুষ খুব বেশিই জেনে ফেলছে।
অনেক দিন আগে ক্লাসে স্যার বলছিলেন- সায়েন্স দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ। সাথে সাথে একটা ছেলে বলেছিল, স্যার সায়েন্স আবেগের বেগকে বাড়িয়ে দিয়েছে। সবাই হো হো করে হেসেছিল। আপাত দৃষ্টিতে তাই মনে হতে পারে। তবে পুরো ভিন্ন দিকে আমার অবস্থান।
ধরুন মোবাইলের কথা। আমার কাছে খুব যন্ত্রণাদায়ক এক জিনিস। এটা কাছে থাকলেও যন্ত্রণা দেয়, না থাকলেও দেয়। মোবাইলের কল্যাণে আমার সবই কেউ কেউ জানে। সামান্য জ্বর থেকে শুরু করে কোথায় আছি কি করছি, শুয়ে আছি না বসে আছি, কি খবর, দিনকাল কেমন, পাশে কে চিৎকার করছে- কেন করছে ইত্যাদি ইত্যাদি। এহেন বিষয় নেই যা অন্যরা জানছে না। অনেক দিন পরে নিকটজনের কাছে গেলাম, গল্প করার মত কোন ইলেমেন্ট নেই। কারণ আমার সবই তাঁর জানা।
আপনার নিকটতম দুরত্বে হয়ত ভাল কোন লোকেশন খুঁজে পেয়েছেন যেখানে মাঝে মধ্যে ঘুরতে যাওয়া যায়, মিডিয়ার কল্যাণে সে জায়গাও সবার জানা হয়ে গেল। এখন আর সেটা ভাল লাগে না।
এত বেশি আইডিয়া এসেছে এবং প্রচার পেয়েছে অথবা শেয়ার হয়ে যাচ্ছে যে আপনি নতুন আনকমন কোন আইডিয়া আর দিতে পারছেন না।
আমি ভাবব, কেন ভাবব, কি ভাবব- সেটা অন্যরা জানবে কেন? কিন্তু জেনে যাচ্ছে উপায় নেই। হয়ত ভাবনা শেষ হওয়ার আগেই অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ গুরুজনেরা অভিজ্ঞতার আলোকে পরামর্শ দিচ্ছেন। এটা হলো! আমি ভাবব আমার মত, বাস্তবায়নও করতে চাই আমার মত। অন্যের ভাবনা এসে আমাকে টানছে, আমার যে অভিজ্ঞতা কম- বিপদের সম্ভাবনা আছে বলে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

