আমার প্রিয় পোস্ট

দুঃখটাকে দিলাম ছুটি, আসবে না ফিরে

প্রশ্নঃ আই ওয়ান্ট টু বি এ গুড ম্যান-- মুস্তফা (ইজিপ্ট)

৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:৫১

শেয়ার করুন:                   Facebook

(ইসলাম অন লাইনে এই প্রশ্নোত্তরটা পেলাম। পড়ে মনে হল অনেকের জন্যই এখানে পড়ার কিছু আছে। বহু কষ্টে বাংলা করেছি, জানি না ভাল হয়েছে কিনা.... উত্তরটা আরেকদিন দিব।)

প্রশ্ন: .......ঃঃঃ

আসসালামু আলাইকুম। যা বলা উচিত, আপনি কি জানেন একটি বাড়ী তৈরি করতে যে কারোই একটি শক্ত ভিত্তি গড়তে হয়। একইভাবে, একজন ভাল মানুষ হতে হলে একজন ব্যক্তির ভাল শৈশব এবং কৈশোর থাকতে হয়। যা হোক, আমি এখন ২০ এর গোড়ার দিকে, আমি একজন ভাল মানুষ হতে চাই। দুঃখজনকভাবে, আমার শৈশবে ভাল কিছু নেই, সেসময় প্রচুর চকলেট এবং খাবার খেতাম। ফলস্বরুপ, আমি এখন মোটা, আমার আছে উচ্চ রক্তচাপ এবং যখন বন্ধুদের সাথে দৌড়াই- খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হাড়ে ব্যাথা শুরু হয়। আমি ঘন্টার পর ঘন্টা টিভি আর কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতাম (এখন দৃষ্টিশক্তি দূর্বল)। আমি দাঁত ব্রাশ করতাম না (এখন দাঁতগুলো হলুদ)। এর সাথে আছে, আল্লাহ আমার নাককে বড় করেছেন। বুকের পঠনও যুতসই নয়, গায়ের পশম কোথাও বেশি কোথাও কম (আমার ডান পায়ে চুল বেশি, বামপায়ে তেমন নেই)। আমার পিঠে অনেক চুল, কিন্তু সমান নয়। মাথায়ও চুল নেই।

আমি আগে নামাজ পড়ি নাই, ঠিকমত রোজা রাখতাম না। পর্ণোগ্রাফি দেখতাম, হস্তমৈথুন করতাম, ধর্ম নিয়ে রসিকতা করতাম, আমার গার্লফ্রেন্ড ছিল, আমি অনেক মিথ্যা বলতাম ( কিছু বললে বন্ধুরা বিশ্বাস করে না)। অনেক ব্যাপারে ওয়াদা করতাম, কিন্তু তা রাখতাম না। আমি আমার মা এবং বন্ধুদের থেকে টাকা চুরি করতাম, গীবত করতাম, আড্ডা দিয়ে- গান শুনে সময় পার করতাম। আমি আল্লাহর নামে ওয়াদা করতাম, এমনকি যখন মিথ্যা বলতাম তখনও। বাজে কথা বলতাম, পিতামাতার সাথে অসদাচারণ করতাম। স্কুলের পড়া পড়তাম না, ফাঁকিবাজি করে সেরা নাম্বার নিতাম। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসিতে পড়ার সূযোগ পেয়েছি ভাল নাম্বার থাকার কারণে (যদিও তা সব চিট করে পাওয়া)। যা কিছু বললাম তা খুব সামান্যই মাত্র। রাজ্যের সব বাজে কাজ করেছি শুধু কুফরি (স্রষ্টায় অবিশ্বাস), জ্বেনা-ব্যভিচার এবং খুন করা ছাড়া। এত কিছুর পরও আমার কিছু ভাল দিকও আছে- আমি দয়ালু, আমি বেশ মজার, কখনও কখনও আমি অন্যকে সাহায্য করি, কখনও কখনও আমি খুব ধার্মিক হয়ে যায়, আমি শান্তিকামী, আমার পিতামাতা আমাকে নিয়ে গর্ব করেন, বন্ধুরা আমাকে পছন্দ করে।

যা হোক, আমি এখন ২০ এর গোড়াতে। প্রচলিত কথাটি হলো, কৈশোর জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। আমার সমবয়সী অনেক বন্ধু আছে যাদের ফিগার ভাল, বিবাহিত জীবনে সুখী, ধার্মিক, দেখতে হ্যান্ডসাম, বিশ্ববিদ্যালয়ে সফল এবং প্রচুর টাকাও ইনকাম করে। আর আমি কি করি? আমার মনে হয় আমি একজন মৃত কুকুর অথবা ধ্বসিত বাড়ী। আমি আমার জীবন পরিবর্তন করতে চাই, ভাল মুসলিম হতে চাই, ভাল ব্যক্তি হতে চাই। কিন্তু আমার জীবনে এমন কোন বিল্ডিং ব্লক নেই যার উপর ভবিষ্যত নির্মাণ করা চলে। সবকিছুই ছিল খারাপ, ভাল যা ছিল তাও ছিল লোক দেখানো (রিয়া)।

যা হোক, আমি কিছু একটা করতে পারি। আমি আমার খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে পারি, দাঁত পরিস্কার করতে পারি। তওবা করতে পারি- এভাবে নিজেকে পরিবর্তন করতে পারি। এরপরও কিছু সমস্যা আছে যা আমি পারি না। যেমন টেকো মাথায় চুল গজানো অথবা দুর্বল দৃষ্টিশক্তি বা বড় নাকের সমস্যা মেটানো। আপনিই বলেন, কোন মেয়ে কি এমন ছেলেকে বিয়ে করতে পছন্দ করবে যার মাথায় চুল নেই, যে চশমা পরে, যার নাক বড়, যার শরীরের পশম অসামঞ্জস্য, যে অসুস্থ? ঠিক আছে, অনেক মানুষ এমন পাওয়া যাবে যার মাথায় চুল নেই এবং এমনও পাওয়া যাবে যে চশমা পরে। আমি নিজেই এমন লোকদের জানি। কিন্তু আমি এমন একটি লোকও দেখি নাই যে, এতগুলো বাজে জিনিস একসাথে ধারণ করে আছে (আমি ছাড়া)। হ্যাঁ, আমি জানি সব দোষই আমার। আজ যা হচ্ছে তার জন্য আমিই অপরাধী। কিন্তু শুধু দোষারোপই কি করতে পারে? যদি আমি এই অ্যাপেয়ারেন্স এবং বাজে অবস্থায় জীবন চালাতে না পারি।

দ্বিতীয়ত, আমি সবসময় যেটার মুখোমুখি হই তা হলো তওবা। কিন্তু তা টিকে থাকে মাত্র কয়েক ঘন্টা (খুব বেশি হলে একদিন)। আবার আমি হস্তমৈথুন করি, আবার নামাজ ছেড়ে দেই, আবার গীবত করি, সময় নষ্ট করি ইত্যাদি। আমি আমার জীবন পরিবর্তন করতে চাই, যৌবন পেতে চাই- স্বাভাবিক যৌবন। আমি এনজয় করতে চাই আমার কৈশোরকে আল্লাহ, ইসলাম, এনার্জি, ফান, খেলাধুলা, চুল ইত্যাদি নিয়ে। আমি হতে চাই ভাল ব্যক্তি। কিন্তু তওবা কাজ করে না, বাকীগুলো এমন যা ভাল হওয়ার নয় যেমন নাক, চুল। আমি জানি তওবা করলে আল্লাহ গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। কিন্তু আমি লোকদের সাথে যা করেছি তার কি হবে? আমি শুনেছি, আমাকে তাদের কাছে যেতে হবে এবং ক্ষমা চাইতে হবে। যদি কেউ মারা যেয়ে থাকেন বা দেশান্তরি হয়ে থাকেন, আমি এর বেশি জানি না, তখন কি হবে?

আপনি যদি নিজেকে এই প্রশ্ন করেন যে, আমার পিতামাতা বা পরিবার আমাকে আমার ভাল-মন্দ শিখানোর সময় কোথায় ছিল? আমি তাদের দোষ দেই না, তারা আমাকে হাজারবার বলেছেন, কিন্তু আমি তাদের কথা শুনি নাই

এই প্রশ্নের জবাব এখানে পাবেন

 

 

  • ৯ টি মন্তব্য
  • ৩১৬ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১২ জনের ভাল লেগেছে, ৫ জনের ভাল লাগেনি
১. ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:৫৫
comment by: ফেলুদা বলেছেন: আপনার এই লেখাটা আমি নয়াদিগন্তে ছাপাতে চাই। অনুমতি দেবেন?
৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:১৩

লেখক বলেছেন: আপনার পরিচয়?

আমার মনে হয় আপনি এর থেকে সুন্দর অনুবাদ করে ছাপাতে পারেন। ধন্যবাদ।

২. ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:৫৭
comment by: বৃত্ত বলেছেন: হুমম। তাহলে এখন কী করবেন?
৩. ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৯
comment by: িঅনুশীলনকািরনী বলেছেন: দারুন পোস্ট। ধন্যবাদ।
৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:২৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। কিন্তু এই লোকের এইসব সমস্যার সমাধান কি?

৪. ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৮
comment by: পান্জেরী বলেছেন: অনেকের জন্য কাজে লাগবে আশা করি।
৫. ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:৩৬
comment by: ত্রিভুজ বলেছেন:


হুমমম.... পরের পর্বটা পড়ে এটা পড়লাম.. আরেকবার পড়ছি....

+
৬. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:০৮
comment by: বৃত্ত বলেছেন: হুম।
৭. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৪১
comment by: ইছামতীর পাড়ে বলেছেন: পরের পর্বটা পড়ে এটা পড়লাম। +

 



 


আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৪৪০৪৮