আমার প্রিয় পোস্ট

দুঃখটাকে দিলাম ছুটি, আসবে না ফিরে

জবাবঃ আই ওয়ান্ট টু বি এ গুড ম্যান-হাওয়া ইরফান (কাউন্সেলর)

৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৩০

শেয়ার করুন:                   Facebook

(এই জবাবটা পড়ার আগে আপনারা দয়া করে এখান থেকে প্রশ্নটা পড়ে নিবেন। )

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু।

মাই ডিয়ার সান, তুমি শুরু করেছ তোমার নিজের একদম খারাপ দিকের অনুভূতি থেকে। স্বাভাবিকভাবেই পরিণতির কথা ভেবে তুমি বিদ্ধস্ত হয়েছ। হ্যাঁ, অবশ্যই তুমি একটা বাজে ছেলে যে সব খারাপ কাজই করেছে কেবল কুফরি (স্রষ্টায় অবিশ্বাস) জ্বিনা-ব্যভিচার এবং হত্যা ছাড়া। এরকম আরও- বেশ্যাবৃত্তি, চোগলখুরি, ব্যঙ্ক ডাকাতি, ইন্সুরেন্স স্কিমের পিছনে দৌড়ানো, মাদক-বিক্রয় এবং জীবাণু যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া- আমি নিশ্চিত এগুলিও ছাড়া। আর হ্যাঁ, আমরা যেন ভুলে না যায় সেই শৈশব যেখানে অল্প কিছু ভাল ছাড়া খুব বাজে সময় কেটেছে। আমার ধারণা, তোমার অবস্থা এখন যা তাতে তুমি ভীষণ আশাহত, নইলে আমাদের কাছে লিখতে না।

মাই ডিয়ার সান, আমরা সবাই ভালকিছু ধারণ করে আছি এবং আমরা সবাই খারাপ কাজের ক্ষমতা রাখি।

"প্রত্যেকেই তার দিন শুরু করে মুক্তভাবে, অথবা ধ্বংশ থেকে।" (আন-নববী #২৩)

হ্যাঁ, তুমি ঠিক বলেছ, দোষারোপ পরির্বতন আনতে পারে না। এ পর্যন্ত যা তোমার অর্জিত হয়েছে তা তোমাকে ভীষণ আশাহত করেছে। কেন বিরক্ত হচ্ছ! কিছু মানুষ সারাজীবন বিরক্তি নিয়ে চলে না। তারা মনকে পরিবর্তন করতে জীবনের ঝুঁকি নেয়। সফল হয়, নয়তো মরে যায়। এখন তুমি ২০এর গোড়ার দিকে। একটি জিনিস আল্লাহ সকল মানুষকে দিয়েছেন- এমনকি তোমাকেও। তা হচ্ছে, পছন্দ করার মত ক্ষমতা। তুমি চাইলে অপেক্ষা করতে পার তোমার মৃত্যু পর্যন্ত, অথবা তুমি চাইলে তোমার জীবন এখনই পরিবর্তন করতে পার- কারণ এখনই তা তুমি পার। কেবল আল্লাহই জানেন এখন থেকে আধা ঘন্টা পর তোমার জন্য কি অপেক্ষা করছে, অথবা ২৪ ঘন্টা পর, অথবা ২৪ বছর পর যদি তুমি বেঁচে থাক।

যখন তুমি দৌড়াও তখন তুমি হাড়ে ব্যাথা পাও, কারণ তুমি তোমার হাড়কে বোঝাতে সক্ষম হওনি যে, তোমার দৈহিক জীবনে তার একটা গুরুত্ব আছে। যত বেশি দৌড়াবে তত বেশি মাংসপেশী, হাড়, হাড়ের জয়েন্ট মজবুত হবে। এতে তোমার অর্গানগুলোতে রক্ত সঞ্চালন ভাল হবে- লাঞ্চ ক্যাপাসিটি বাড়বে। তোমার দেহের পশমের অসম বৃদ্ধি সম্ভবত তোমার খাদ্যাভ্যাসের কারণেই হয়েছে। তুমি হয়ত জানো সেজন্য তোমাকে কি করতে হবে- বেশি করে সতেজ ফলমুল ও শাকসব্জি খাবে। দুধের সামগ্রী (ডেইরি প্রোডাক্ট), ভাজা খাবার, গোশ্ত- এগুলি কম খাবে- কেবল বাড়ীতে খাবে। বেশি করে পানি পান করবে। খাবারের সময়ই কেবল খাবে। যখন ক্ষুধা অনুভব করবে, তখন খেতে পার lib, melon seeds, অথবা চাবাতে পার liban যা তোমার দাঁতকে শক্ত এবং সাদা করবে।

অন্য সব খারাপ অভ্যাসের জন্য, যেমন-

ঃ নামাজ না পড়া
ঃ নিয়মিত রোজা না রাখা
ঃ পর্ণোগ্রাফি মুভি দেখা
ঃ হস্তমৈথুন
ঃ ধর্ম নিয়ে হাসাহাসি করা
ঃ গার্লফ্রেন্ড থাকা
ঃ মিথ্যা বলা
ঃ শপথ ভঙ্গ করা
ঃ টাকা চুরি করা
ঃ গীবত করা
ঃ আড্ডা দিয়ে সময় নষ্ট করা
ঃ অন্যের সমস্যা তৈরি করা
ঃ প্রতারণা করা

বিপরীত দিক থেকে ভাব। একটা ডায়েরি নাও, সেখানে তোমার সকল খারাপ কাজের লিস্ট কর। সব খারাপ কাজের বিপরীতে তার উল্টাটা লেখ। যেমন, নামাজ না পড়া > নামাজ পড়া। তোমার সকল খারাপ কাজের মুল বিষয়ই ইসলামী আদর্শের বিপরীত (এন্টি-থিসিস অব ইসলাম)। প্রথমে নামাজ না পড়া দিয়ে শুরু কর। তার মানে, একটা খারাপ অভ্যাস এবং তার বিপরীত কাজ সিলেক্ট কর। বিপরীত কাজটার মাধ্যমে খারাপটা দুর করতে মনের মধ্যে শক্ত চ্যালেঞ্জ নিয়ে নাও। ভাল অভ্যাসে পরিণত করতে ৩ মাসের সময় নাও। নামাজ পড়তে যা তোমাকে বাধা দেয় তার একটা তালিকা তৈরি কর। যেমন, যদি টিভি একটা কারণ হয়ে থাকে, তবে এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে নাও যাতে টিভিতে ভাল কিছু হয় এমন অজুহাত মনে স্থান না পায় (যদিও সাধারণ অর্থে তা নয়)। যখন তুমি দেখলে যে তুমি আর টিভির দাস নও, লিস্ট থেকে এটাকে বাদ দাও এবং মনোযোগ দাও পরবর্তী অজুহাতের দিকে যেটা তোমাকে নামাজ পড়তে বাধা দেয়। ইচ্ছা করলে কোন কিছুই অসম্ভব নয়। যখন তুমি একটি বাধা পার হও- নিজের মূল্যায়ন কর- না এখন আর চকলেট, খাবার, টিভি বা মুভি নয়- এখন তোমার সময় যায় হস্তমৈথুনে। যদি তোমার হাতে সময় থাকে, ভলেন্টার হিসাবে বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজে লেগে যাও, নতুন দক্ষতা অর্জন কর অথবা বন্ধুদের সাথে খেলা দেখতে যেতে পার যা সামাজিক অ্যাওয়ারনেস বৃদ্ধি করে। শারিরিকভাবে এবং আত্নিকভাবে নিজেকে গড়ে তোলার মাধ্যমে বিয়ের ভাল একটা সুযোগ দাঁড় করাও। ওহ! আচ্ছা চোখের সমস্যা! এখানে ক্লিক করে দেখতে পার।

"Narrated Abu Huraira: Prophet Muhammed said: "Allah said: "The son of Adam hurts Me by abusing Time, for I am Time; in My Hands are all things and I cause the revolution of night and day' " (Al Bukhari 9: 93 #583)

 

 

  • ১৫ টি মন্তব্য
  • ৩১০ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৯ জনের ভাল লেগেছে, ৮ জনের ভাল লাগেনি
১. ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৪৪
comment by: িদদারুল আলম বাননা বলেছেন:

সুন্দর !
সুন্দর লিখেছেন।
আপনার এটা পড়ে অনেক কিছু শিখলাম।
আসলে আল্লাহর দেওয়া বিধান মাফিক চললে অন মানুষ খারাপ পথে চলতে পারেনা।

৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৪৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আমি লিখিনি, কেবল অনুবাদ করেছি। লেখাটি ইসলাম অন লাইন থেকে পেয়েছি।

২. ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৫৫
comment by: িদদারুল আলম বাননা বলেছেন:

এটার কি কোনো বাংলা অন লাইন আছে?
৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:২২

লেখক বলেছেন: না, নেই। সাইটটি খুবই চমৎকার। ইসলামের সৌন্দর্য ঘরে বসেই উপলব্ধি করতে পারবেন। এখানে পাবেন এই লেখাটি যেখান থেকে আমি অনুবাদ করেছি, আরো আছে, পড়ুন

৩. ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:৪৬
comment by: ত্রিভুজ বলেছেন:

মাহমুদ ভাই, আগের পোস্টের শেষে এই পোষ্টের লিংক যুক্ত করে দিন জবাব হিসেবে।


ভাল লাগলো... দু'টেই প্রিয় পোষ্টে রাখলাম। +
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৭:৩০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ত্রিভুজ ভাই। যুক্ত করে দিয়েছি।

৪. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৭:১৫
comment by: পান্জেরী বলেছেন: +
৫. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:০৯
comment by: বৃত্ত বলেছেন: +++
৬. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:৪৫
comment by: মাহমুদ রহমান বলেছেন: ধন্যবাদ, সকলকে। এই পোস্টটি পড়ে কেউ যদি মনে একটু শক্তি এবং সাহস খুঁজে পান নিজেকে বদলে ফেলার, তবে আমি নিজে খুব খুশী হব।
৭. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৩৫
comment by: ইছামতীর পাড়ে বলেছেন: খুবই সুন্দর। +
৮. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৫০
comment by: ইছামতীর পাড়ে বলেছেন: প্রিয়তে এড করেছে বলতে ভুলে গিয়েছি।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৫৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। অনেক শুকরিয়া............।

৯. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:২৬
comment by: দ্বীপবালক বলেছেন: সুন্দর হইয়াছে। প্রিয়তে +
১০. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:২৮
comment by: দ্বীপবালক বলেছেন: আর উত্তরদাত্রী উপদেষ্টার নাম "হুয়া" নয় হাওয়া ইরফান হইবে।
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:০৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ দ্বীপবালক।

এডিটেড....হাওয়া ইরফান।

 



 


আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৪৩০৩৮