somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন্য রকম এক বিয়ের অনুষ্ঠান

০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ সকাল ৭:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিয়ে আমাদের সমাজে পারিবারিক বন্ধনকে অনেক বেশি দৃঢ়তা দেয়। অনেকগুলো মধুর সম্পর্কের সুত্রপাত হয় এই বিয়ের মাধ্যমে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ পাকের অশেষ নিয়ামত।

এবারের ঈদুল আযহার একদিন পরে আমার তিন নম্বর মামার বিয়ে অনুষ্ঠিত হল। দুই-তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান। ঈদ এবং বিয়ে, আনন্দটা একটি বেশিই ছিল।

বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোতে অন্যরা যেমন কতলোক খাবে, কাকে কাকে দাওয়াত দিতে হবে, কয়টা গাড়ি যাবে বিয়েতে, খাওয়ার আইটেম কি হবে ইত্যাদি ভারি ভারি ব্যাপার স্যাপার নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আমি থাকি ছোটখাট বিষয় নিয়ে। এই যেমন, বিয়ের অনুষ্ঠানে কি গান বাজবে? সাউন্ড সিস্টেম থাকতে হবে, দেয়াল লিখন বা পোস্টারিং, বাসর ঘর সাজানো, ছবি তোলা, গায়ে হলুদ ইত্যাদি বিষয় নিয়েই কেবল আমার ভাবনা।

বিয়ের আগে কথা হচ্ছিল, ভিডিও করা হবে কি হবে না.......! আম্মা না করছিলেন। বললেন এসব ঠিক না। যুক্তি হচ্ছে, বাইরের লোক ভিডিও করবে; পর্দার খেলাপ হবে। আমি আম্মাকে বললাম, আপনাদের এই হচ্ছে এক সমস্যা সবকিছুতে খালি না করেন। বিকল্প কিছু দেখান না, (ইসলামের উল্টা!)। বললাম, আসলে নিজেদেরই ভিডিও ক্যামেরা থাকা উচিত। তাছাড়া ঔসব ভিডিওতে যেসব হিন্দী গান সেট করে তাতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখা মুশকিল। মেজ মামা বললেন আগে বললে না একটা ভিডিও ক্যামেরা কিনতাম।

নানার বাড়ী এবং দাদার বাড়ী ৫ মাইলের ব্যবধান হওয়ায় রাতে থাকতাম দাদার বাড়ী। ঈদের পরদিন নানা বাড়ী গিয়ে শুনলাম মামার গায়ে হলুদ হবে। এখানেও নানান জনের নানান চিন্তা ভাবনা। আমি প্রশস্ত উঠানে গায়ে হলুদের স্টেজ বানালাম। ঢাকা থেকে আগেই সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে গিয়েছিলাম। সাথে ছিল বাছাই করা গানের একটা সিডি। গানগুলি ছিল সামি ইউসুফ, হামযা রবার্টসন, মেসুট কারটিসের সাথে কিছু ভাল বাংলা গান। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়েছিল, ব্রাইটার দ্যান দা সান ফেয়ারার দ্যান দ্যা মুন গানটি। সন্ধার পরপরই অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল। ব্যাক গ্রাউন্ডে এইসব গান বাজছিল। দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, সারাদিন ধরে যা আয়োজন করলাম সেই অনুষ্ঠানে আমি ছিলাম না। এক রকম রাগ করে বেরিয়ে গিয়েছিলাম। ঠিক শুরুর সময়ই ভিডিও ম্যান আসল ভিডিও করার জন্য। ইলেকট্রিক লাইন পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে আমার গানের লাইন খুলে সেখান থেকে লাইন দেয়া হল। ভীষণ রাগ হয়েছিল, বিয়ে স্রষ্টার অপার নেয়ামত। আর এইসব অনুষ্ঠানে স্রষ্টার স্মরণ থাকবে না? এটা কি হয়? টুক করে বের হয়ে ওখান থেকে সোজা নিজের বাড়ী চলে গিয়েছিলাম। অন্যরা অবশ্য এত সিরিয়াসলি এসব ভাবেন নি। তারা রিয়েলিস্টিক চিন্তা করতেই পছন্দ করেন। দুই মিনিট সময় নিয়ে মাল্টি প্লাগ খুঁজলেই ল্যাঠা চুকে যেত। শীত করছে, রাত হয়ে যাচ্ছে....... এসব চিন্তা সবার মাথায় ছিল।

যাই হোক, রাগ ক্ষোভকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিলাম। পরের দিন আবার গেলাম ওখানে। নানান জনের নানান রকম প্রশ্নবানে জর্জরিত হলাম। এটা ওটা ওজুহাত দেখিয়ে সে যাত্রা পার হলাম। ঐদিন রাতে বাসর ঘর সাজানোর প্ল্যান ছিল, এখানে অবহেলা করলে সমস্যা আছে! ঈদের মধ্যে শাহীন ভাইয়ের অসাধারণ একটা লেখা ছিল যায় যায় দিনে। সেখানে এ পি জে আব্দুল কালামের একটা উক্তি আমার খুব ভাল লেগেছিল। সেই উক্তিটা বাসর ঘরের একটা ওয়ালে সেঁটে দিয়েছিলাম, লেখার নিচে কাগজ কেটে একটা ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরি করেছিলাম। কুরআনের একটা আয়াতের অংশবিশেষও ছিল বাসর ঘরে, "তারা তোমাদের পোষাক, তোমরাও তাদের পোষাক"।

বিয়ের দিন বরের একপাটি জুতা গায়েব করে ফেলেছিল ঐপক্ষ। বৌভাতের দিন ইনডিরেক্টলি ওদেরকে বাঁশ দিয়ে লিখেছিলাম, "তোমরা জুতা চুরি কইর না, জুতা চুরি করিলে মনে পইড়া যায়... একদিন 'কিসব' ছিলাম রে..." বিয়ের দিন বউ খুব বেশি কান্না কাটি করছিল। তাই লিখলাম, " যদি বউ কাঁদ গো, খারাপ লাগবে গো, হাসো হাসো আরও হাসো লাগবে মন্দ নয়".... কিছু কোরআনের আয়াত আর বিভিন্ন কথাবার্তা দিয়ে পোস্টারিং করেছিলাম বৌভাতের দিন।

সকল অতিথিকে ইনভাইট করেছিলাম বর কনের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বাণী লেখার জন্য। ভিজিটিং কার্ড হোল্ডারে ভরে এলবামের মত করে পরে বর-কনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। আজ হতে বহুদিন পর এসব কমেন্ট পড়ে নিশ্চয়ই তাঁরা সেই পুরাতন স্মৃতিতে ফিরে যাবেন।

বর-কনেকে আমি উপহার দিয়েছিলাম ১০০০ টাকা দামের সৌদি প্রিন্টের একটি ইংরাজী অনুবাদ করা কোরআন শরীফ।

এইসব কিছুর আয়োজন করতে পারার জন্য সামহয়ারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। বিশেষত সন্ধ্যাবাতি এবং শামসুজ্জামান সিদ্দিকী শাহীন ভাইয়ের কাছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ সকাল ১১:২৫
৮টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×