আমার প্রিয় পোস্ট

দুঃখটাকে দিলাম ছুটি, আসবে না ফিরে

জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০০৮ নিয়ে কিছু কথা

১২ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:৩৯

শেয়ারঃ
0 0 0

চারিদিকে বেশ হইচই শুরু হয়েছে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০০৮ নিয়ে। আসলে এই নীতিতে কি বলা আছে........

আমি জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ১৯৯৭, ২০০৪ এবং ২০০৮ নিয়ে তুলনামূলক পড়ে দেখলাম। বেশিরভাগই একই রকম। "জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতির লক্ষ্যসমূহ" এর মধ্যে প্রায় সবক্ষেত্রে একই কথা বলা হয়েছে।

আর উন্নয়ন নীতি হিসাবে যা বলা হয়েছে তাও বেশিরভাগই একই। কিছু পার্থক্য ছাড়া। পার্থক্য আছে এবং ব্যাপক বিতর্ক সুষ্টি হয়েছে, বিশেষত আলেম সমাজ এবং সরকার মুখোমুখি এমন একটি ধারা নিচে উল্লেখ করছি।

১৯৯৭ এ আর্টিকেল ৭.২ এর নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের অধীনে আছে.....

" নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে জরুরী বিষয়াদি যথা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, জীবনব্যাপী শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, তথ্য, উপার্জনের সুযোগ, উত্তরাধিকার, সম্পদ, ঋণ, প্রযুক্তি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদসহ ভূমির উপর অধিকার ইত্যাদির ক্ষেত্রে নারীর প‌ূর্ণ ও সমান সুযোগ এবং নিয়ন্ত্রণের অধিকার দেয়া এবং সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নতুন আইন প্রণয়ন করা।"

এবং আর্টিকেল ৭ এর অধীনে ৫ নং পয়েন্টে বলা হয়েছে.......
" সম্পদ, কর্মসংস্থান, বাজার ও ব্যবসায় নারীকে সমান সুযোগ ও অংশীদারিত্ব দেয়া।"

২০০৪ এ আর্টিকেল ৭.২ এর নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের অধীনে আছে.....

" নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে জরুরী বিষয়াদি যথা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, জীবনব্যাপী শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, তথ্য, উপার্জনের সুযোগ, ঋণ, প্রযুক্তি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ ইত্যাদির ক্ষেত্রে নারীর প‌ূর্ণ ও সমান সুযোগ এবং নিয়ন্ত্রণের অধিকার দেয়া এবং সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নতুন আইন প্রণয়ন করা।"

এবং আর্টিকেল ৭ এর অধীনে ৫ নং পয়েন্টে বলা হয়েছে.......
" কর্মসংস্থান, বাজার ও ব্যবসায় নারীকে সমান সুযোগ ও অংশীদারিত্ব দেয়া।"

২০০৮ এ যা বলা হয়েছে, আর্টিকেল ৯.১৩ এর নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের অধীনে আছে.....

" নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে জরুরী বিষয়াদি যথা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, জীবনব্যাপী শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, তথ্য, উপার্জনের সুযোগ, সম্পদ, ঋণ, প্রযুক্তি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্জিত স্থাবর/ অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে নারীর প‌ূর্ণ ও সমান সুযোগ এবং নিয়ন্ত্রণের অধিকার দেয়া এবং সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নতুন আইন প্রণয়ন করা।"

এবং আর্টিকেল ৯.৫ এর অধীনে বলা হয়েছে.......
" সম্পদ, কর্মসংস্থান, বাজার ও ব্যবসায় নারীকে সমান সুযোগ ও অংশীদারিত্ব দেয়া।"


দেখা যাচ্ছে ২০০৪ এ সম্পদের কথা বলা হয়নি। ১৯৯৭ এ সম্পদ ও উত্তরাধিকার এবং ২০০৮ এ কেবল সম্পদের কথা বলা হয়েছে।

আমার মতে আপত্তির ব্যাপার ছিল ১৯৯৭ এ যেটা করা হয়েছে সেটাতে। ২০০৮ এ যে সম্পদের কথা বলা হয়েছে তা উত্তরাধিকারের মধ্যে পড়ে না।

আমাদের আসলে অনেক যৌক্তিক আচরণ করা উচিত। এমন অনেক বিষয়ই আছে যাতে সমতার কথা বলা হলেও ইসলামের সাথে মেলে না। আলেমদের উচিত পুরো নীতিটি পড়া এবং পড়ে এইসব নীতির ব্যাপারে কোরআনের সল্যুশনই যে বেস্ট সেটা যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া। সেজন্য অভিজ্ঞদের সাথে ডায়ালগের ব্যবস্থা করা, এবং মিডিয়ার উচিত এসব ডায়ালগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা। শোনা কথায় বা অগভীর বিষয়কে সাংঘাতিক গুরুত্ব দেয়া কতটুকু যৌক্তিক সে বিষয় আলোচনায় আসতেই পারে।

....... আমি কেবল উত্তরাধিকারের ব্যাপারটি নিয়েই কথা বলেছি যেটা নিয়েই ব্যপক হইচই।

 

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১০:৪৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১২ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৪০
ভালো-মানুষ বলেছেন:

আপনার মত কি? আপনার বোন আপনার সমান সম্পত্তি পাক? নাকি আপনি বেশী চান?
১৩ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:২৪

লেখক বলেছেন: আমার মত তো ভিন্ন। আমি মনে করি, মেয়েদের স্বাধীনতা, মর্যাদা , সম্মান ফিরিয়ে দিতে ইসলামের যথাযথ প্রয়োগ দরকার। কিন্তু আমার এই মত এখনও মোড়লেরা বুঝে উঠতে পারে নাই। ইসলাম নারীদের যা দিয়েছে, যথাযথই দিয়েছে। ইকুয়াল রাইটস নয়, ব্যালান্স্ড রাইটস ফলে করতে হবে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ন্যায়ের দুয়ার খুলে দিতে হবে।........ আমি মনে করি এটা করতে পারলেই সেটা হবে সর্বাধুনিক।

আমার এই পোস্টের উদ্দেশ্য কিন্তু অন্যরকম, পোস্টে আমি বোঝাতে চেয়েছি ডে বিষয়ে আপত্তি, বাস্তবে আপত্তিকর সেটা নেই। উত্তরাধিকারের ব্যাপারে এই নীতি কোন কথা বলেনি। অধিকাংশ মানুষের বিশ্বাসের আলোকে পরিস্কার করে বললে বিভ্রান্তি দুর হতো। তবে, একটা বিভ্রান্তি থেকেই যাচ্ছে..... সরকার কিন্তু বলছে নাযে এই নীতিতে উত্তরাধিকার নিয়ে কথা বলা হয়নি, বরং বলছে, এটা কেবলই নীতি আইন নয়। তারমানে এই দাঁড়াচ্ছে, আলেমদের অভিযোগকে তাঁরা অস্বীকার করছেন না। দুই কুলই রক্ষা করতে চান।

২. ১৩ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ২:১৫
নাজিম উদদীন বলেছেন: ছাগলামি পোস্ট। নীতিমালা অত্যন্ত আ ধুনিক ও ১৯৯৭ সালের মূল নীতি অনুযায়ী হয়েছে। মাঝখানে জামাতী সরকার ওটাকে কাঁটছাট করেছিল।
১৩ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:২৫

লেখক বলেছেন: আপনার জন্যও উপরের মন্তব্যে জবাব রয়েছে। অবশ্য সেখানেও আপনি ছাগলামি ছাড়া আর কিছুই দেখবেন না।

৩. ১৩ ই মার্চ, ২০০৮ সকাল ১০:৫০
মাহমুদ রহমান বলেছেন: ২০০৪ এ প্রকাশিত নীতিমালার ধারা ৮ এর ৫ নং পয়েন্টে ছিল, "জাতীয় সংসদে নারীদের অধিকতর অংশ নিশ্চিত করার জন্য সংরক্ষিত আসন বৃদ্ধিসহ অন্যান্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।"

আর এবারে আর্টিকেল ১০.৫ এ করা হয়েছে, "জাতীয় সংসদের ১/৩ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ ও সংরক্ষিত আসনে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়া।"

....... একটি অনির্বাচিত সরকার কার মতামতের ভিত্তিতে নিজেদের খেয়াল খুশিমত এসব বিধানাবলী সেট করেন?
৪. ১৩ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৬
স্বাক্ষর শতাব্দ বলেছেন: নীতিমালাটার কপি কই পাবো? ভালো হয়েছে আপনার লেখা
১৩ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:৩৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৫. ০৫ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:২৭
শেহাব বলেছেন: নীতিমালার কপিটা দিবেন?
০৬ ই জুন, ২০০৮ রাত ১২:৪১

লেখক বলেছেন: দুঃখিত, এটা তো অনেক দিন গত হয়ে গিয়েছে..... আমার কাছে নীতিমালার একটা ফটোকপি ছিল, দেখতে হবে আছে কিনা। কোন সফ্ট কপি নেই।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০০৬০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ