চারিদিকে বেশ হইচই শুরু হয়েছে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০০৮ নিয়ে। আসলে এই নীতিতে কি বলা আছে........
আমি জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ১৯৯৭, ২০০৪ এবং ২০০৮ নিয়ে তুলনামূলক পড়ে দেখলাম। বেশিরভাগই একই রকম। "জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতির লক্ষ্যসমূহ" এর মধ্যে প্রায় সবক্ষেত্রে একই কথা বলা হয়েছে।
আর উন্নয়ন নীতি হিসাবে যা বলা হয়েছে তাও বেশিরভাগই একই। কিছু পার্থক্য ছাড়া। পার্থক্য আছে এবং ব্যাপক বিতর্ক সুষ্টি হয়েছে, বিশেষত আলেম সমাজ এবং সরকার মুখোমুখি এমন একটি ধারা নিচে উল্লেখ করছি।
১৯৯৭ এ আর্টিকেল ৭.২ এর নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের অধীনে আছে.....
" নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে জরুরী বিষয়াদি যথা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, জীবনব্যাপী শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, তথ্য, উপার্জনের সুযোগ, উত্তরাধিকার, সম্পদ, ঋণ, প্রযুক্তি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদসহ ভূমির উপর অধিকার ইত্যাদির ক্ষেত্রে নারীর পূর্ণ ও সমান সুযোগ এবং নিয়ন্ত্রণের অধিকার দেয়া এবং সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নতুন আইন প্রণয়ন করা।"
এবং আর্টিকেল ৭ এর অধীনে ৫ নং পয়েন্টে বলা হয়েছে.......
" সম্পদ, কর্মসংস্থান, বাজার ও ব্যবসায় নারীকে সমান সুযোগ ও অংশীদারিত্ব দেয়া।"
২০০৪ এ আর্টিকেল ৭.২ এর নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের অধীনে আছে.....
" নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে জরুরী বিষয়াদি যথা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, জীবনব্যাপী শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, তথ্য, উপার্জনের সুযোগ, ঋণ, প্রযুক্তি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ ইত্যাদির ক্ষেত্রে নারীর পূর্ণ ও সমান সুযোগ এবং নিয়ন্ত্রণের অধিকার দেয়া এবং সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নতুন আইন প্রণয়ন করা।"
এবং আর্টিকেল ৭ এর অধীনে ৫ নং পয়েন্টে বলা হয়েছে.......
" কর্মসংস্থান, বাজার ও ব্যবসায় নারীকে সমান সুযোগ ও অংশীদারিত্ব দেয়া।"
২০০৮ এ যা বলা হয়েছে, আর্টিকেল ৯.১৩ এর নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের অধীনে আছে.....
" নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে জরুরী বিষয়াদি যথা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, জীবনব্যাপী শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, তথ্য, উপার্জনের সুযোগ, সম্পদ, ঋণ, প্রযুক্তি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্জিত স্থাবর/ অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে নারীর পূর্ণ ও সমান সুযোগ এবং নিয়ন্ত্রণের অধিকার দেয়া এবং সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নতুন আইন প্রণয়ন করা।"
এবং আর্টিকেল ৯.৫ এর অধীনে বলা হয়েছে.......
" সম্পদ, কর্মসংস্থান, বাজার ও ব্যবসায় নারীকে সমান সুযোগ ও অংশীদারিত্ব দেয়া।"
দেখা যাচ্ছে ২০০৪ এ সম্পদের কথা বলা হয়নি। ১৯৯৭ এ সম্পদ ও উত্তরাধিকার এবং ২০০৮ এ কেবল সম্পদের কথা বলা হয়েছে।
আমার মতে আপত্তির ব্যাপার ছিল ১৯৯৭ এ যেটা করা হয়েছে সেটাতে। ২০০৮ এ যে সম্পদের কথা বলা হয়েছে তা উত্তরাধিকারের মধ্যে পড়ে না।
আমাদের আসলে অনেক যৌক্তিক আচরণ করা উচিত। এমন অনেক বিষয়ই আছে যাতে সমতার কথা বলা হলেও ইসলামের সাথে মেলে না। আলেমদের উচিত পুরো নীতিটি পড়া এবং পড়ে এইসব নীতির ব্যাপারে কোরআনের সল্যুশনই যে বেস্ট সেটা যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া। সেজন্য অভিজ্ঞদের সাথে ডায়ালগের ব্যবস্থা করা, এবং মিডিয়ার উচিত এসব ডায়ালগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা। শোনা কথায় বা অগভীর বিষয়কে সাংঘাতিক গুরুত্ব দেয়া কতটুকু যৌক্তিক সে বিষয় আলোচনায় আসতেই পারে।
....... আমি কেবল উত্তরাধিকারের ব্যাপারটি নিয়েই কথা বলেছি যেটা নিয়েই ব্যপক হইচই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

