আমার প্রিয় পোস্ট

দুঃখটাকে দিলাম ছুটি, আসবে না ফিরে

আমার কেবল ইচ্ছা করে.........

০৭ ই মে, ২০০৮ রাত ১২:০৪

                       

মানুষের স্রষ্টা মানুষের জীবন ধারনের জন্য অনেক কিছুই মানুষকে দিয়েছেন। তার মধ্যে 'মানুষের মন'....অন্যতম। তর্কবীদরা হয়ত তর্ক জুড়ে দিতে পারে......মন কি? শরীরের কোন অঙ্গের নাম মন? মানুষ যা চিন্তা করে তার সবই আসে মাথা থেকে। আমি তর্কে যাচ্ছি না, মানুষের চিন্তা করার শক্তি এই যে স্রষ্টা দিলেন এটা অনেক বড় এক দান। আমাদের কল্পনা যতদুর পর্যন্ত পৌঁছায় ততদুর আমরা ভাবি।

সবার মত আমারও একটা ভাবার মত মন আছে। আমিও ভাবি, আমার চারিদিকে যা ঘটে...যে বিষয়ে আমার জ্ঞান আছে তা-ই আমার ভাবনার বিষয় বস্তু। আমার চিন্তা-শক্তির সীমা-রেখা ছোট না বড় সেই তুলনা হয়ত আমি করতে পারি না, তবে চিন্তা করার মত একটা ক্ষেত্র যে আমার আছে সেটা ভালই উপলব্ধিতে আসে। আমার চিন্তা অন্যেরা জানতে পারে আমার কথায়, আমার লেখায়, হয়ত বা আমার আচরণেও। আমি কিছু জিনিস জানাতে চাই, কিছু জিনিস জানতে চাই।

আমি যখন জুমাবারে মসজিদে যাই, খতিবের খুতবা শুনি; খতিবের (সবারই না) অনর্থক চিৎকার চেচামেচি শুনে, ১৫ মিনিট ধরে কে কে দোয়া চেয়েছেন তার ফিরিস্তি শুনে, আরও ১৫ মিনিট মসজিদের উন্নয়ন কাজে শরীক হলে কি কি লাভ তার ওয়াজ শুনে, ইচ্ছা করে মসজিদের খতিব হয়ে যাই। খতিবের মুল্যবান কথার ফাঁকে আমার চিন্তা-শক্তি অন্য কোথাও দৌড়িয়ে বেড়াই। সারা দেশে মসজিদ ছড়িয়ে আছে, কতশত মানুষ সপ্তাহের একটি দিন একত্রিত হচ্ছে, ভাবা যায়!

রাস্তা দিয়ে হাঁটি, দেখি সবল কর্তৃক দুর্বল নির্যাতিত হচ্ছে। পুলিশের ভূমিকা যেখানে নিরব দর্শক, ইচ্ছা করে পুলিশ হয়ে যাই। তখন মনে হয়, পুলিশ হয়ে জাতিকে অনেক কিছু দেবার আছে। পারি না।

পত্রিকায় যখন দেখি খাবারের জন্য মা তার সন্তানকে বিক্রি করছেন। তখন ইচ্ছা করে, সবাইকে শুনিয়ে দেই মহানবীর সেই বাণী.... সেই ব্যক্তি আমার দলভূক্ত নয় যে পেটপুরে আহার করে আর তার প্রতিবেশি অনাহারে রাত্রি যাপন করে। আফসোস হয়, এমন একটি প্রতিবেশীও কি সেই মহিলার পাশে ছিল না যে রাসুলের দলভূক্ত হতে পারে? আবার আঁতকে উঠি, আমার আশেপাশে এমন কেউ নেই তো!

চারিদিকে মিথ্যার ছড়াছড়ি, সন্দেহ-সংশয়, অনুমান-ধারণার ভিত্তিতে কথা বলা। যা দেখলে মানুষ আস্বস্ত হতে পারে সেটাকেই ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে অন্যায় করা। আমি ভাবি, এসবের থেকে পরিত্রাণের উপায় কি?

ছোট ছোট শিশুদেরকে দেখি ভারী ব্যাগ ঘাড়ে স্কুলে যেতে। যে শিশুকে 'এক গ্লাস পানি আন তো' বললে বুঝে না কি করা উচিত..... আর তাকেই শিক্ষিত করার জন্য বাবা-মায়ের সে কি নিরন্তর দৌড়-ঝাপ! এসব শিশুদের কথা ভেবে কষ্ট লাগে। যে শিশু নিমর্ল আনন্দের উৎস.... তার থেকে এত দ্রুতই স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার কি দরকার? আসলে মায়েরা ব্যস্ত, শিশু-গঠনে সময় দেওয়ার মত সময় তাদের নেই। ইচ্ছা করে এসব অসহায়দের জন্য কিছু একটা করি..... উল্টো দিকে এমন অনেক শিশু ছড়িয়ে আছে যারা ক্লাশ ফাইভ পাশ করে গেছে অথচ বর্ণমালা চিনতে ভুল হয়।

টিভির নাটক যখন দেখি নাট্যকার হতে ইচ্ছা করে, সিনেমার পরিচালক হওয়ারও সখ জাগে যখন বাংলা ছবি দেখি। আবার যখন ভাল কোন গান শুনি, মনে হয় একটি গানই দেওয়ার মত অনেক কিছু। যখন সংলাপ দেখি, মেজাজ খারাপ হয়; মনে হয়, আসল কথাটাতেই তারা এড়িয়ে যাচ্ছে।

এত কিছু ভাবনার মধ্যে সামহয়্যার আমার অনেকটা জুড়ে থাকে। মনে কোন বিষয় আঁকু-পাঁকু করলেই মনে হয় আমার চিন্তার ভাল একটা রুপ দেই। আমার বলার জায়গা আছে। আমাদের মত লোকদের (যাদের চিন্তা-ভাবনা পত্রিকায় প্রকাশের সম্ভাবনা নেই লেখা সেই মানে উত্তীর্ন না হওয়ার অভিযোগে) জন্য এটা অনেক কিছু। আমার ভাবনা ঐখানেই, এই জায়গাটিতেই সামহয়্যার যারা বানিয়েছে তারা বুঝে না। কিছু মানুষ তারপরও চায় না আমি ভাবতেই থাকি, আমার ইচ্ছাগুলো সামনে এগুতে থাকুক। এক বুক বেদনা নিয়ে অনেককে আমি সামহয়্যার ছেড়ে যেতে দেখেছি। সর্বশেষ ছেড়ে গেলেন বোন ফারজানা । নির্মমতা মাত্রা ছেড়ে গেল, যখন চলে যাওয়া মুহুর্তেও ভাষা কেড়ে নেয়া হলো। জানি না, সামহয়্যার আর কত মানুষকে বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজের লালসা দেখিয়ে বিদায় করবে।.......আমার চিন্তা থামেনা। তখন খুব করে ইচ্ছা করে, আমি যদি মডারেটর হতাম! কিন্তু সেটা সম্ভব নয়।

এত কিছু ভাবতে ভাবতে(বড় হয়ে যাবে হেতু সব ভাবনায় জানানো গেল না বলে দুঃখিত) স্রষ্টার সেই বাণীতে এস আমি আটকে যাই। সুরা বাকারার শেষ আয়াতের অংশ বিশেষ.......আমি কারও উপরই তার সামর্থের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেই নি। অর্থাৎ, সামর্থের অতিরিক্ত কোন বিষয়ই কারও জন্যই বোঝা নয়, সেটার জন্য তাকে জবাবদিহী করতে হবে না। সামর্থের মধ্যে যা কিছু করণীয় তার জন্য আমি রেসপন্সিবল। ভাবনা তখন নতুন মোড় নেই। সত্যিই তো, এত ভেবে লাভ কি? আমার যা করার সেটা আমি করছি তো! নাকি আমাকে দেখে আমার যতটুকু ক্ষমতা আছে তার জন্য অন্যেরা আফসোস করে! তাইলে তো সর্বনাশ!! আমার আসলে আমার ক্ষেত্রের মধ্যের কাজকেই প্রাধান্য দেয়া উচিত। আমার কাজ অন্যেরা করে দিবে না, আমার কাজ আমাকেই করতে হবে।

হে আল্লাহ, আমার কর্তব্যে যাতে অবহেলা তৈরি না হয় সেজন্য তোমার সাহায্য চাচ্ছি। আমীন।।




 

 

  • ৬ টি মন্তব্য
  • ৯৮বার পঠিত
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৬ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৭ ই মে, ২০০৮ রাত ২:০৯
comment by: ফজল বলেছেন: এই তো জীবন এবং এভাবেই তা গতিশীল, পেরুতে হয়, পেরিয়ে যায়, এবং একদিন সমাপ্তও হয়ে যায়।

চিন্তাগুলো শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
০৭ ই মে, ২০০৮ ভোর ৫:৫৭

লেখক বলেছেন: ঠিকই বলেছেন।

আপনাকেও ধন্যবাদ ফজল ভাই।

২. ০৭ ই মে, ২০০৮ ভোর ৪:২৭
comment by: মাইনুল বলেছেন: ভাল লাগলো পড়ে। আরো জানলাম কেন সামহোয়ারের ইতিহাসের সবচেয়ে ভাল ব্লগারদের একজন মাহবুবা কেন ব্লগ ছেড়েছেন। পিয়াল দের মত নিন্ম প্রজাতির পশুদের জন্য ই সিমিরা নিগ্রিহীত হয়ে সুইসাইড করে, ফারাজানার মত ভাল ভাল ব্লগারদের ব্লগ ছেড়ে দিতে হয়। এই সব নিন্ম প্রজাতির প্রানীদের জন্য করুনা ছাড়া আর কিছুই নাই।
০৭ ই মে, ২০০৮ ভোর ৫:৫৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৩. ১৭ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৩
comment by: বিবেক সত্যি বলেছেন: হে আল্লাহ, আমার কর্তব্যে যাতে অবহেলা তৈরি না হয় সেজন্য তোমার সাহায্য চাচ্ছি। আমীন

একই দোয়া নিজের জন্যও করলাম...
১৭ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৮

লেখক বলেছেন: দোয়াটা যেন মনে থাকে!

 



 


আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৩৭১৭৪