আজও অনেকেই একটা বিষয়কে নিয়ে সুবিধাবাদী রাজনীতি চালু রেখেছেন। সেটা হলো, ছোটকাগজের বিজ্ঞাপন নেয়া না-নেয়া। প্রথমে ভাবা দরকার, বিজ্ঞাপন প্রয়োজন কেন। তারপর, বিজ্ঞাপন বিরোধীতা কেন। আর সবশেষে, বিজ্ঞাপন নির্ভরতা বলতে কি বুঝায়।
বিজ্ঞাপন নিয়ে সুবিধাবাদীতা নতুন কিছু নয়। সুবিধাবাদীরা এটা বহু বছর ধরেই চালিয়ে আসছেন। তারা কেন এটা করেন? যারা ছোটকাগজ, প্রায়-ছোটকাগজ বা মিডিম্যাগগুলো পড়ে থাকেন, তারা সবাই এর উত্তর কমবেশি জানেন বলেই আশা করি। কিন্তু নতুন প্রজন্মের অনেকে হয়তো নাও জেনে থাকতে পারেন। সেটাই আশংকার। এ আশংকা থেকেই এটা লেখা।
সুবিধাবাদী একজনের যুক্তি হলো : ও একটা বিজ্ঞাপন নিয়েছে তো আমি বিশটা নিবো। স্পষ্টভাবেই তার অবস্থান বিজ্ঞাপন বিরোধী নয়। সে কখনোই বলবে না : 'আমি বিজ্ঞাপন না-নিয়েও এবার কাগজটি করতে পেরেছি, চেষ্টা করবো ভবিষ্যতেও এভাবে চালাতে।' সুবিধাবাদীরা এ দাবী কখনোই করবে না। বরং তারা বলতে চাইবে, কোনো কাগজ একটা বিজ্ঞাপন নিয়েছে তো পুরো ছোটকাগজ আন্দোলনই ব্যর্থ হয়ে গেছে। বিজ্ঞাপন সর্বস্ব কাগজের সাথে ছোটকাগজের সমস্ত পার্থক্য ধুয়ে-মুছে গেছে। এমনকি বিজ্ঞাপন-নির্ভর ইন্ডাস্ট্রি দৈনিকগুলোর সাথেও। এটা কী পরিমাণ হাস্যকর একবার ভাবলেই টের পাওয়া যাবে।
চাকরি কোথাও না কোথাও করতেই হয়, মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্তদের না করে উপায় নেই। আর শ্রমিকদের তো বাধ্যতামূলক শ্রম সারাক্ষণই দিতে হয়। কিন্তু এ জন্য যদি প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে কার্যকর মুখপত্র দৈনিকের ত্রুটিগুলো সম্পর্কে নীরব থাকতে হয় (যদিও এদেশেও অনেক লেখক দৈনিকে লেখা সত্বেও এ নিয়ে নীরব নন), আর ছোটকাগজের ত্রুটি নিয়ে সরব হতে হয়( নিশ্চয় ছোটকাগজও সীমাবদ্ধতার অতীত নয়), তা যদি তার মাঝে গর্বেরও সঞ্চার করে এবং ছোটকাগজ তাচ্ছিল্যের পাত্র হয়ে পড়ে_ সে নিয়ে বলার আর কী থাকে। শুধু বলা যায়,এটা বিপ্লবী কাজই বটে! এটা সত্যিই আত্ম অবমাননাকর!
এখনকার অধিকাংশ সমালোচক ছোটকাগজের অনুশীলন করেন না, এমনকি ছোটকাগজগুলো পড়েও দেখেন না। তাদের সমালোচনার বিষয় ও ধরণ থেকে তা সহজেই বোঝা যায়। তারা দাবী করতেই পারে_'সমালোচনার জন্য ছোটকাগজ অনুশীলনের দরকার নেই, এমনকি তা পড়েও দেখার দরকার নেই।' ছোটকাগজ থেকে শতহাত দূরে অবস্থান করেও কেবল সাধারণ জ্ঞানের প্রয়োগই যথেষ্ট মনে হতে পারে তাদের কাছে, যেহেতু তারা মিডিম্যাগ ও মিডিয়ার সমালোচক। যেমন আমরাও পারি, মিডিয়ার শত হাত দূরে থেকে বিজ্ঞাপননিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার সমালোচনা করতে! মজার ব্যাপার, তারাই কিন্তু বলে থাকেন, ক্ষমতা কাঠামোর নিকটে ও সমান্তরালে থাকা মানে প্রায়ই ক্ষমতাকাঠামোর চাটুকারী করা ও এটা ব্যাক্তিস্বার্থ উদ্ধারেরই একটা চিরাচরিত প্রক্রিয়া। তারাই এ অবস্থাকে আপস বলে চিহ্নিত করেন।
এক কবিতা পাঠের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম প্রায় বছর তের কি চৌদ্দ আগে। তো সমস্ত ভাসা-ভাসা আলোচনা শেষ, অনুষ্ঠানও শেষ করার ঘোষণা দেবার সময় হলো, সভাপতি এবং প্রধান আলোচক তখনো অনুপস্থিত, তারা নাকি কী একটা বিশেষ কাজে ব্যাস্ত আছেন, তাই আসতে পারছিলেন না। তো এলেন, যখন উপস্থাপক সমাপ্তি ঘোষণা দিয়ে ফেললেন। তো প্রধান আলোচক এসেই বললেন, 'আমরা কবি তো। আমরা আসলে জানি, এখানে কী আলোচনা হয়েছে। তো আজকের অনুষ্ঠানে দেরীতে পৌছানোর জন্য আপনাদের কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই। আজকের অনুষ্ঠান অনেক ভাল হয়েছে। বেশ কটা কবিতা খুবই ভাল হয়েছে। পড়ে মজা পেলাম খুব। আপনারা আগামী সপ্তাহে নতুন কবিতা নিয়ে আসবেন, আশা রাখি সেদিন আরো ভালো কবিতা পড়বো।' তো সভাপতি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে পুনরায় অনুষ্ঠানটি শেষ করলেন। আমরা জানতে পারলাম না আলোচক কোন কোন কবিতার কথা বললেন। আর জানালেনও না এখানে আলোচনার কোন কোন বিষয় তার ভাল লেগেছে। কেউ তাঁকে প্রশ্নও করলেন না। ফলে, না-জেনেই বেরিয়ে এলাম, ও প্রধান আলোচক ও সভাপতির 'ত্রুটিহীনতা' নিয়েও বাসায় ফিরতে হলো। ছোটকাগজ নিয়েও এমন সম্পাদক, সমালোচক, আলোচক পাঠকের অভাব আগেও ছিল না, এখনো নেই!
এক শ্রেণীর সম্পাদক ও লেখক বিজ্ঞাপনের বিষয়টাকে ইচ্ছে করেই ঘুলিয়ে রাখেন। এতে মিডিম্যাগে লেখার সুযোগ তৈরি হয়। বা সুযোগটা হাত ছাড়া হয় না। এরাই আবার বিজ্ঞাপন নির্ভর মুনাফানিয়ন্ত্রিত পত্রিকাগুলোতে চাকরি করছেন। ফলে নিজের রুটিরুজির প্রতিষ্ঠানের সাথেও সংঘর্ষের জায়গাটা এড়িয়ে যাওয়া যায়, ঝুঁকিটা নিতে হয় না।
আর আমরা কথা বলছি, ছোটকাগজ নিয়ে। এখানে যারা লেখেন তাদের সবারই যে প্রচুর অর্থ-সম্পদ আছে, ব্যাপারটা তেমন আদৌ নয়। আর ছোটকাগজের বিক্রিটা এতোই স্বল্প, বিক্রির সংখ্যাটাও কেউ উল্লেখের ক্ষেত্রে সংকোচ বোধ করেন। ফলে নতুন একটা কাগজ যখন বাজারে আসে, সেখানে নতুন কোন বিক্রির রেকর্ড সৃষ্টি হবে আশা করা হাস্যকর। সে ক্ষেত্রে সম্পাদক লেখকদের টাকাপয়সার সাথে একটা দুটা বিজ্ঞাপন পেলে লোকসানের বিশাল থাবা খেয়ে সম্পাদক আহত হলেও নিহত হওয়ার হাত থেকে বেঁচে যান সেবারের মতোন। পরবর্তী সংখ্যা আবার ভর্তুকি দিয়ে মুদ্রণের মুখ দেখতে পারে। আর এভাবেই সমস্ত ছোটকাগজ চলছে।
আর মিডিয়ার লেখকরাই যখন সম্পাদক ও লেখক হয়ে মিডিম্যাগাজিন করতে আসেন, তাদের বিজ্ঞাপনের অভাব হয় না, তারা সেসব বিজ্ঞাপন নিয়ে একটা লাভজনক কাগজ করে ফেলতে পারেন, সেটা এক কপি না-বিক্রি হলেও লাভজনক থাকে। আর বিক্রি হলে তো অধিক লাভ। এই হলো পরিস্থিতি। এই মিডিম্যাগের ক্রাইটেরিয়াকে ছোটকাগজের ওপর চাপিয়ে দেয়ার তীব্র প্রবণতা আগেও ছিলো, এখনো আছে।
মিডিম্যাগের লেখকরা যেহেতু ইতোমধ্যেই আত্মবিক্রয় সম্পন্ন করে রেখেছেন। দুএকজন এর ব্যাতিক্রম থাকতেই পারেন। ফলে সেগুলো প্রকাশের সুযোগ হিসেবেই নয় শুধু, করে খাওয়ার একটা অতিরিক্ত উপায় হিসেবেও আবিভূর্ত হয়, কি সম্পাদকের কাছে, কী লেখকের কাছে। এদের কাছে লেখার মান বড়ো না-হয়ে, নিরাপোষী মত প্রকাশের জন্য অনিবার্য না-হয়ে, বিজ্ঞাপনের প্রাচুর্যতার কারণেই মিডিম্যাগটি অনিবার্য হয়ে ওঠে। আর সেটাই উদযাপন করতে থাকে সম্পাদক ও লেখকরা। যদিও লেখকরা আর্থিক লাভের ভাগ বলতে গেলে পায় না। দুয়েকজন লেখক হয়তো দুএকবেলা সম্পাদকের খরচে মাতাল হওয়ার সুযোগ পায়। আর ভাবে: 'টাকা না পেলাম, কেউই পায় না লেখার বদলে, এদেশে সম্পাদকের পয়সায় কয়টা লেখকই বা মাতাল হওয়ার দুর্লভ সুযোগ পায়, আমি তো সেই বিরলদেরই একজন।' আর বিজ্ঞাপনের লাভ ও লোভেই মিডিম্যাগের সম্পাদক দেশের ভেতর মানসম্মত এমনকি নতুনত্বের দাবীদার অগণন লেখক ও লেখা একরাতে আবিস্কার করে বসেন। এবং পেটমোটা শিশুর মতো করুণ দশা নিয়ে পত্রিকাটি বের হয়। পাঠকমাত্রই কি টের পান, এর অপুষ্ঠির নিম্নমাত্রা? সচেতন পাঠকের পরিমাণ যেকোন দেশেই নেহায়েতই কম। তা-ই এ ধরণের মিডিম্যাগ মিডি-সচেতন পাঠকদের কাছে গ্রহণ যোগ্যও হয়ে ওঠে। আসলে তাদের অধিকাংশই পাঠক নন, দেশের নবিশী লেখক। তারা মিডম্যাগটিকে অবলম্বন করেন লেখা পড়তে নয়, লেখা প্রকাশ করতে এবং ভবিষ্যতে কর্পোরেট মিডিয়াগুলোতে অনুপ্রবেশের সেতুটি গড়ে তুলতে। এইসব লেখক-পাঠকই ছোটকাগজেরও 'পাঠক' হিসেবে পরিচিতি পেয়ে আসছে, মিডিসচেতন লেখক ও সমালোচক ও আলোচক ও নানামাত্রার রাজনৈতিক কর্মীদের কাছে। অধিকাংশ লেখককে এই 'পাঠকসংখ্যা'র ভেতর জায়গা দিয়ে সম্পাদকের পক্ষে নবিশী লেখকদের কৃতজ্ঞতা আদায় করা সহজ হয়। একইসাথে, সম্পাদক নিজেরই দুর্নীতির পক্ষে অনুচ্চার থাকতে বাধ্যও করতে পারেন। এই নবিশী লেখকরা মিডি-ম্যাগটির একটি কপি নগদে কিনে থাকেন, ফলে একে একটু পাঠক সমাদৃতও মনে হয়।
আর সিকি-সচেতন আলোচক সমালোচকদের কাছে মিডিম্যাগ কৌশলগত কারণেই লিটলম্যাগ হিসেবে বিবেচ্য। এরা আবার নিজের মূর্খতা স্বীকার করার বদলে বিষয়কে ঘোলাটে করার দিকে টেনে নিয়ে চলেন, তাতে যুক্তি থাক বা না থাক- তাতে কিছু এসে যায় না তাদের। মজা লুটেন, সমাধানের দিকে এগুন না কখনো। এতেই এদের উদ্দেশ্য পরিস্কার হয়ে ওঠে। তারা বারবার ছোটকাগজের মৃত্যু ঘোষণা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। যেনো কারো অজানা কথা ছোটকাগজ দুটো কি তিনটি সংখ্যা প্রকাশের পর দুটো কারণে মারা যায়_ প্রধানত লেখক বা সম্পাদক মিডিয়াতে বা অন্যকোন ব্যস্ত পেশায় চাপা পড়েন। বা আর্থিক চাপ সামলাতে পারেন না। কিন্তু এরপরও নতুন নতুন লেখক সম্পাদকরা বেশ কজন পুরোনো লেখক সম্পাদকদের সমান্তরালে প্রকাশ করছেন ছোটকাগজ। আর প্রকাশের মুহূর্তেই ছোটকাগজ ছেড়ে যাওয়া লোকজন, ছোটকাগজের মৃত্যু ঘোষণা করে থাকেন। কাগজটা হয়তো দুই বা পাঁচবছর বেরুচ্ছে না_কিন্তু তারা তড়িঘড়ি করে একটা অনিয়মিত কাগজকে নিয়মিত কাগজের ক্রাইটেরিয়ায় বিচার করে 'অগ্রীম মৃত' বলে চালিয়ে দেন। তারা কেন ভুলে যেতে চায়, সৃজনশীল সাহিত্যের ওপর জোরারোপ করে বলেই একটা ছোটকাগজ নিয়মিত প্রকাশ হওয়া দুর্লভ ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়? ছোটকাগজ থেকে নতুনদের দৃষ্টি ঘোরাতেই এই কৌশল। আর বেরোলেই তাদের ঈর্ষাকাতর বিবেচনার চাপ টের পাওয়া যায়, তাদের ভবিষ্যত বাণীর অমোঘতা তাদের ভক্তদের কাছে ভেঙে পড়ে বলে। তাদের করুণ দশা চাপা দেয়ার এক প্রকাশ্য ক্ষোভ হিসেবে চিহ্নিত হয় তাদের 'প্রকাশ হওয়া উচিত/অনুচিত' বা ছোটকাগজ আত্মহত্যা করেছে' জাতীয় মন্তব্য।
যদি ছোটকাগজের আন্দোলনটা নতুন সাহিত্যের লক্ষে হয়ে থাকে, তাহলে বলতে হয়, যার জন্য এই আন্দোলন মার খেয়েছে বলে একদার ছোটকাগজ ছেড়ে যাওয়া লেখকের মন্তব্য করেছেন, তার প্রত্যুত্তরে এটুকুই বলার: ছোটকাগজ ছেড়ে যাওয়ার পর ঐ লেখকের সৃজনশীল লেখা দেখান আমাদের। নাকি বলবো, সৃজনশীল লেখার অভাবের সাথে তখনকার অর্থনৈতিক সংকটই তাকে নিজের কলম বিসর্জন দিতে বাধ্য করেছিল। কিন্তু তাকে সক্রিয় দেখলাম প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য নিয়ে সাংস্কৃতি-সাংগঠনিক কার্যকলাপ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে। আর এটাও তার সময় কেড়ে নিয়েছে বলা কি অন্যায় হবে?এও মনে হয়, কেড়ে নিয়েছে, নাকি তিনিই তার মনোযোগ এক্ষেত্রে নিজের প্রতিষ্ঠার জন্য ঘুরিয়ে নিয়েছেন, হাতের কলম অপহরণ হওয়ার বদলে নিজেই ছুড়ে ফেলেছেন। এ ক্ষেত্রে কথা একটাই, পাঠক, সতর্ক থাকুন, কেননা ইতিহাস চিৎকার চেচাঁমেচি দিয়ে নির্মিত নয়, নির্মিত কাজ দিয়ে, আর সাহিত্যের ইতিহাসও নির্মিত নিশ্চয় সৃজনশীল সাহিত্য দিয়ে।
রাজনৈতিক কর্মীর কাছে মিডি-ম্যাগাজিন একটা কৌশলগত সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হতেই পারে, কিন্তু সাহিত্য-আন্দোলনের সাথে যুক্ত যে-কারো কাছেই সর্বনাশের মনে হবে। যেখানে সৃজনশীল শক্তির মূল্যায়ন হয় না, মূল্যায়ন হয় 'পাঠক-লেখক' সংখ্যার। মূল্যায়ন হয় ক্ষমতার। সাহিত্যের নতুনত্বের নয়। কেবল বিজ্ঞাপনের।
বিজ্ঞাপনের সংখ্যা আসলে সম্পাদকের বিজ্ঞাপনী সংস্থার সাথে একটা শক্তিশালী সংযোগকে চিহ্নিত করে, সাথে সাথে সম্পাদকের ক্ষমতাকেও। ফলে নতুন কোন লেখক বা সম্পাদক যশোপ্রার্থী ঐ ক্ষমতাশালী সম্পাদকের সাথে একটা আঁতাত গড়ে তোলেন। যেহেতু এদের টার্গেট ব্যবসা বা ক্যারিয়ার, লেখা এই ব্যবসার অবলম্বনমাত্র। ফলে তাদের লেখকের যেমন অভাব হয় না, তেমনি চাটুবৃত্তিও তাদের সফলতার চাবিকাঠি হয়ে ওঠে। ভাবলেই হাসি পায়, জিভই নেই, তার আবার জীভ কাটা যাওয়ার ভয়!
আবার 'ছোটকাগজে'র সফলতাও মিডিরাইটাররাই নানা কাগজে এবং পত্রিকায় নির্ণয় করে চলেন, এবং যে-পত্রিকায় লিখছেন বা লিখবেন সে পত্রিকার প্রশংসা করে থাকেন এবং যেটায় তার লেখার সুযোগ দুর্লভ বলে মনে হয়, সেটাকে ডাস্টবীনের ময়লার চেয়ে নিকৃষ্ট বলে অভিহিত করেন। কিন্তু এদের মন্তব্যের সপক্ষে যেসব উদ্ধৃতি, যুক্তি এবং লেখার কথা উল্লেখ করা হয় তা আরো হাস্যকর। আর যে পত্রিকার বিরুদ্ধে তারা অভিমত দেন তার অভিমতের সপক্ষে কোন ধরণের যুক্তি সরবরাহের প্রয়োজনও তারা বোধ করেন না। আর যা বলা হয় তার ভঙ্গি থাকে দৃঢ় এবং দৈব-বাণীর মতো, একমাত্র সত্যের মতো, এ আসলে তাদের নেতৃত্ব হারানোর বা নেতা হওয়ার সংকট বা লেখক হওয়ার ক্ষেত্রে যে ব্যর্থতা তা থেকেই উদ্ভুত হয়ে থাকে। এসবই চলছে। চারপাশে। ব্যর্থ হওয়াতে অগৌরবের কিছু নেই, আছে সফলতার ভান করার মাঝে! ফলে নবীশি লেখকদের লেখায় ভরা মিডি-পত্রিকাটিকে সফল ছোট কাগজের মতো দেখায়, এবং একেই তারা তারস্বরে 'ছোটকাগজ' বলে বাজারে চালিয়ে থাকেন।
এবং মিডিম্যাগের বিজ্ঞাপন গুণে গুণে অনেক ইতিহাসজ্ঞানহীন আকস্মিক দ্রোহী নতুন প্রজন্মের কিছু মিডিয়া-ক্যারিয়ার-প্রার্থী, কিংবা কোন না কোন মিডিয়ায় নবনিয়োগপ্রাপ্ত, মাত্র মিডিয়াবদল সেরেছেন তারাই এইসব চেচামেচি করে থাকেন। এরা আসলে ছোটকাগজ উল্টোও দেখেন না, এবং বেশ যুক্তিহীনভাবেই একে মিডিকাগজকে ছোটকাগজ বলে অভিহিত করেন। এবং এর বিজ্ঞাপন-নির্ভরতা বা বিজ্ঞাপন-সর্বস্বতা দেখে সব ভেসে গেলো বলে চেঁচান। মিডিম্যাগাজিনের ক্রাইসিসকে ছোটকাগজের ওপর আরোপ করে থাকেন। তদুপরি, তারা যেমন কখনোই বিজ্ঞাপন-বিরোধী নন, বরং বিজ্ঞাপন-লোভী। তেমনই এইসব মিডি-কাগজকেও সমালোচনার অক্ষমতা থেকে ছোটকাগজের ওপর চুটফাট দেখান।
মিডিম্যাগ নিয়ে কিছু বলেন না কারণ, এরাইতো তার মিডিয়াতুতো ভাই। আর এই অভিযোগ চাপিয়ে দেন যেগুলো আসলে বিজ্ঞাপন নির্ভর নয় তাদের ওপরেই। তারা একটা বা দুটো বিজ্ঞাপন বাধ্য হয়ে ছাপে, না-হলে এদের প্রকাশই অসম্ভব হয়ে পড়তো। একআধটা বিজ্ঞাপনের জন্য তাদের জিভগুলো তাদের বিজ্ঞাপনদাতাদের হাতে তুলে দিতে হয়নি, মিডিম্যাগ ও কর্পোরেট মিডিয়ার মতো। অথচ, এইসব ছোটকাগজের গায়ে তারা সেই দোষটা সেঁটে প্রচুর তৃপ্তি পান। গেল গেল রব খুব সবর হয়ে ওঠে। কিন্তু নিজের অবস্থানের সংকটগুলো কখনোই ক্লিয়ার করেন না, বা চেপে যান, বা স্বাভাবিক বলে চালিয়ে যান। তাদের মনে হবে, ছোটকাগজ বিরোধী নন, বিজ্ঞাপন বিরোধী মারাত্মক! আর তারাই প্রকৃত ছোটকাগজ হোক বলে দাবীও জানান!
আসল খেলাটা তা-ও নয়, সে হলো যা মুখে বলছেন, বা লিখছেন তার বিপরীত অবস্থাটাই তারা গোপন রাখতে এমন করেন। তারা বাজারে বিজ্ঞাপন বিরোধীতাটা চারিয়ে থাকুক এটা তারা চান না। কারণ তাদের মিডিয়াগুলো বিজ্ঞাপন দাদাদের কাছে নিদারুণভাবে বন্ধী। আবার অন্যরা বিজ্ঞাপন বিরোধীতার কথা বলে বিজ্ঞাপন ঠিকই নিচ্ছে বলে বাজারে এটাই চালু রাখতে চায়: 'কোথায় যাবে বাপ, বিজ্ঞাপন ছাড়া তোমাদের কোন উপায় নেই। আমরা প্রকাশ্যে নেই, তোমরাও নাও। আমাদের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। বরং তোমরা অসৎ, আমরাই সৎ। আমরা বিজ্ঞাপনের গিবৎ গাই না, তোমরা গাও।' তারা আসলে এর ভেতর দিয়ে বুঝাতে চান, তারা বিজ্ঞাপনসর্বস্ব হয়ে ঠিক পথেই আছেন। বরং এক-আধটা-শর্তমুক্ত বিজ্ঞাপন নিয়ে ছোটকাগজগুলোই ধ্বংস হয়ে গেছে, ছোটকাগজই থাকছে না আর, একবারেই ধান্ধাবাজ হয়ে পড়েছে। কেবল তাদের মিডিম্যাগাজিন ও কর্পোরেটমিডিয়াগুলো বিজ্ঞাপনসর্বস্ব হয়েও এ ক্রাইসিস থেকে একেবারে মুক্ত । এতে এদের দুটি লাভ হয়, এদেরকে সততার প্রতিমূর্তি ও দ্রোহী মনে হয়। এর ভেতর দিয়ে মিডিয়ার কাছে নিজেদের আনুগত্য প্রকাশ করার সুযোগও ঘটে। যদিও প্রতিষ্ঠান এ কর্তব্য পালনের জন্য তার কাছ থেকে কোন লিখিত মুচলেকা আদায় করেনি। এটাই ট্রাজেডি!
তো যেসব কাগজকে লক্ষ্য করে এসব মন্তব্য সেগুলোর প্রকাশের তারিখ আর তখনকার সময়ের বিজ্ঞাপনের মূল্য দেখে কাগজটির প্রকাশনার খরচের সাথে তুলনা করলেই তো পেয়ে যাচ্ছেন_ কাগজটি করে খাওয়ার, না কি খাওয়ার টাকা দিয়ে করা। তা আপনি করবেন না জানি। এতে আপনার যুক্তি ও তথ্যের দেউলিয়াত্ব প্রকাশ হয়ে পড়বে। আরও জানি, যে মিডি-কাগজগুলির কথা বলছেন, সেগুলোর নামও আপনি বলবেন না। এতে আপনার সংঘর্ষে যেতে হবে আপন লোকদের সাথে, ঘরের খেয়ে ঘরের মোষ কে তাড়ায়! তো এই হলো আমাদের হাকডাকের পরিস্থিতি।
আর যারা করে খায়, আর সেটার যদি আপনি বিরোধী হোন তাহলে আপনার আক্রমণটা সেদিকেই সানানো উচিত, তাদের নাম ধরে হিসেব কষে পাঠকদের বুঝিয়ে দেয়া উচিত এবং প্রতিরোধও গড়া দরকার। আপনি জানান আমরা সমর্থন না দিলে তখন ভেঁড়–য়া বলে গাল পারতে পারবেন। বলতে পারেন, কুতর্কে সবগুলিয়ে যাবে, বেড়ালের গলায় ঘন্টা বাধাটাই মূল ল্য হলে, সেটা যতো কঠিনই হোক করা চাই। করুন না আপনি, আমরাও আপনার সাথে থাকি।
আবার, 'প্রকৃত' ছোটকাগজ নেই বলে নিজেদের বর্তমান বিচ্যুত অবস্থানের বৈধতা আদায়ের ছদ্ম প্রচেষ্টাও জারি রাখতে পারেন। 'প্রকৃত' লিটলম্যাগতো একটা ইউটোপীয় বিষয়, বা একেকটি কাগজ বেরুনোর সাথেই সাথেই এই ইউটোপিয়ার রূপও নিজের অজ্ঞাতে বদলাতে থাকে, নিজেরই আরো একটা উচ্চতর-মান কল্পলোকে বুনে তুলতে। অধিকাংশজনই ছোটকাগজের পাঠক না হয়েই ছোটকাগজের পাঠক-সমালোচক সাজে। নতুন পাঠক ও লেখকেদের বিভ্রান্ত করাই তাদের লক্ষ্য। আর ইতোমধ্যে ছোটকাগজ থেকে বিচ্যুত/পালিয়ে যাওয়া লেখকদের সম্পর্কে বলাই যায় : লেজকাটা শেয়ালের লেজকর্তন রীতি চালু করতেই হয়।
এতে, একইসাথে, মিডিম্যাগগুলো যেগুলো এদের নাবীশির অবলম্বন সেগুলোর পক্ষে সাফাই গাওয়া সহজ হয়। আসলেই কাগজটা কতটা বিজ্ঞাপন নির্ভর, বা পরমত প্রহৃত, তা তারা দেখেন না। তাদের এ নিয়ে মাথা ব্যথা তো দূরের, আগ্রহই নেই। তারা কাগজটা ভাল কি মন্দ দেখার বদলে এতে একটা বিজ্ঞাপন আছে কিনা তা ভাল করে দেখে। একটা আছে তো গেলো। এগুলোর মাঝে যে গুণগত তফাৎ রয়ে গেছে সেটা তারা ইচ্ছে করেই চাপা দিয়ে রাখেন। কথার ভঙ্গিতে মারত্মক দৃঢ়তা দেখান, কোন পরিসংখ্যান উপস্থাপনের বদলে। হাঁ, কেউ বলতে পারেন, 'আপনি যেসব কাগজকে ছোট কাগজ মনে করছেন সেগুলোকে আমি ছোটকাগজ মনে করি না।' তো সে কথাটি আগে পরিস্কার করে প্রশ্ন উত্থাপন করাই তো শ্রেয়। বলতেই পারেন, দেশে কতগুলো কাগজ বেরুচ্ছে আর কোনকোনগুলোকে আপনি ছোটকাগজ মনে করছেন, আর কোন কোনগুলোকে মনে করছেন না। এতে তর্ক হ্রাস পায়। যেহেতু সমালোচনার অবতারণা আপনি করছেন, সেহেতু তা স্পষ্ট করে আপনাকেই পাঠকদের জানাতে হবে। কিন্তু কে শোনে কার কথা!
আবার রেগে গিয়ে নানা তথ্য যুক্তি দিয়েও বলা যেতে পারে : আমি তো বাংলাদেশে কোন ছোটকাগজই দেখছি না। তো বলার কথা একটাই তখন : আপনি, তাহলে, এতক্ষণ কি নিয়ে কথা বলছেন! তাহলে করে খাচ্ছে কারা! কারো কারো এক কাঠি সরেস ঘোষণা রয়েছে, তাদের মতে ছোটকাগজের অস্তিত্ব না থাকলেও, 'এন্টি-লিটলম্যাগ' ঘোষণার যৌক্তিকতা ঠিকই বজায় থাকে! এমনকি এর নতুন নামকরণেও ছোটকাগজ চ্যুত কেউ কেউ এগিযে আসেন। অথচ তাদেরই পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতায় 'ছোটকাগজ মেলা' হচ্ছে। তাহলে কি তারা সেসব অংশগ্রহণকারী মিডিম্যাজিনগুলোকে 'ছোটকাগজই মনে করেন না?
আবার কেউ কেউ সমস্ত ক্রোধ দিয়ে পুড়িয়ে ফলতে চান ছোটকাগজের পরিধি। ছোটকাগজ ও এর লেখকরা এখন নাকি 'ডুবন্ত পিঁপড়ের দলা', যারা নিজেরাই মরতে বসেছে, তাদেরকে উদ্ধার করতেই জলের নিচে চেপে ধরাই সঠিক কাজ। কিন্তু মায়া বড়ো মায়াবী_ তিনি কি ছোটকাগজের মৃত্যুতে আনন্দিত হতেন, আর মিডিম্যাগকে ছোটকাগজ বলে চালাতে পারতেন? সে সুযোগের অভাব কি তাকে ছোটকাগজের বর্তমান 'ঘেরাটোপের' বাইরেও শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না? এ আসলে পালিয়ে যাওয়ার আত্মগ্লানী, নাকি বিশুদ্ধ হিংস্রতা! 'ডুবন্ত পিঁপড়ের দলা' নিয়ে কারো এতো মাথা ব্যথা হতে পারে, ভাবতেই অবাক লাগে।
কেউকেউ একটা ছোটকাগজে লেখার জন্য বন্ধুদের এবং তার ভাললাগা লেখকদের পরিত্যাগ করে অভিযানে নামেন, এবং একটা সংখ্যায় লেখা ছাপা হলে বুক ফুলিয়ে বলেন 'কাগজ খুবই ভাল হয়েছে', তাহলে 'আমাকেও লেখক হিসেবে তারা স্বীকৃতি দিলো!' কিন্তু পরবর্তী সংখ্যাতে তার অনুপস্থিতিতে পুরো কাগজটি বদ্ধ জলায় পরিণত হয়, অন্য লেখকরা একরাতে সৃজনবন্ধ্যা হয়ে পড়েন এবং সৌচ করার যোগ্য জলও তাতে থাকে না। এতে সাহিত্যিক মূল্যায়নের বদলে ব্যাক্তি স্বার্থ উদ্ধারের কৌশলটাই তীক্ষমুখ হয়ে চোখে আঘাত করতে থাকে। এর বেশি কিছু নয়।
ছোটকাগজ নামটার প্রতি কি এখনো লোভ রয়ে গেছে মনের কোথাও, লিটল ম্যাগ করার ব্যর্থতা কি আত্মগ্লানীর সৃষ্টি করে, একদিন ছোটকাগজকে কি খুব ভালবাসতেন, আর্থিক বা পেশাগত কারণে কি তা বিসর্জন দিতে হয়েছে? একদিন পলিটিক্যাল লিটল ম্যগ করার যে স্বপ্ন ছিলো, তার বাস্তবতা কি আজ ধসে গেছে, নাকি সেই স্বপ্ন মরা যমুনায় ভাসিয়ে দিয়ে মিডিয়ায় প্রবেশ করতে হয়েছে বলে অনেক কষ্ট পেয়েছেন?
আমি একজন মাকে জানতাম, যে তার সন্তানদের লালনেপালনের জন্য চুরি করে বেড়াতো। এবং ধরাও পড়েছেন বেশ কয়েকবার। কিন্তু নতুন একটা অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তান জন্মের সাথে সাথে গলা টিপে মেরে ফেলেছিলেন। কেউ কেউ বলে, সেটা তার বৈধ সন্তান ছিলো না। কেউ কেউ বলে, তার স্বামীর চাপেই এটা করেছেন। আর এটাও সত্য ক্ষুধার উগ্র চাপও যে তাকে বাধ্য করেছে, সেটাই অনির্বচনীয় ছিল সবার কাছে, সেটাই অশ্রুতপ্রায় উচ্চারণ করতেন কেউ কেউ। কিন্তু তার ভালবাসা শেষ পর্যন্ত খুনী হয়ে ওঠার পেছনের কারণগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল নিঃসন্দেহে অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকট বিপ্লবীকেও একরাতেই ভাঁড় বানিয়ে ফেলে। আর আপনিও কি তেমন কেউ? আপনার জন্য আমাদের ভালবাসা ও সমবেদনা রইলো, কেননা জীবনের নিষ্ঠুর চাপ, আজও বেড়েই চলেছে। তার তীব্র হলকায় আমাদেরই পিঠ পুড়ছে সবার আগে।
কিংবা হয়তো আপনার নিজের মতো ছোটকাগজের একটা সংজ্ঞা রয়েছে। যেটা আপনি নিজেই অনুশীলন করে দেখাতে চান যে, এটাকেই ছোটকাগজ বলে। করে দেখান না! ধন্য হই। তারা তা কখনোই করেনি এবং করবেও না। সে দিকে ন্যুনতম চেষ্টাও তাদের নেই। আপনারও কি নেই?
সাহিত্যের মুভমেন্ট আর পলিটিক্যাল মুভম্যান্ট একতারে প্রায়-বাজেই না, কি সময়গত, কি স্থানগত, কি চেতনাগতভাবেও। সেটা ভুলে গেলে চলবে না। সাহিত্যে রাজনীতি আছে। রাজনীতিরও সাহিত্য আছে। কিন্তু রাজনৈতিক মঞ্চে রাজনীতিটাই মুখ্য। আর সাহিত্যের মঞ্চে সাহিত্যটা। প্রাধান্যর মাত্রায় এখানে বিরাট তফাৎ। তো পার্টিকর্মীর রাজনীতি, সাহিত্যকর্মীর রাজনীতির মধ্যেও তাই বেশ তফাৎ। পার্টিকর্মী কেবল রাজনীতির দিকটাই খুঁজতে আসবে এখানে এবং স্বাভাবিকভাবেই সেটাই তার কাছে প্রাধান্য পাবে। এবং এ দিয়েই মাপতে চাইবে সবকিছু (অনেকটা কলাকৈবল্যবাদীদের সমান্তরাল হয়ে ওঠে : রাজনীতির জন্য রাজনীতিই তার কাছে মুখ্য হয় ওঠবে। বুর্জোয়াদের জন্য যেটা খুবই দরকারী একটা কৌশল।) সে বরাবরই গুণের চেয়ে পরিমাপের দিকে হেলে থাকবে। মাথার সংখ্যাই তার কাছে মূখ্য হয়ে ওঠবে। রাজনীতির মঞ্চে সেটাই প্রত্যক্ষগোচর শক্তি হিসেবে তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটায়।
আর নতুন ধরনের মুভমেন্ট হোক এটা আমরাও চাই এবং এর প্রয়োজন সবসময়েই ছিলো, এর প্রয়োজন অনুভূত হয়নি এমন পরিস্থিতিই বরং কখনোই ইতিহাস সমর্থিত হবে না। ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা রয়েছে প্রচুর, অংকুরে বিনষ্ট হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে অনেক। কিন্তু কখনোই নব নব মুভমেন্টের প্রয়োজনহীনতা কোথাও অনুভূত হয়নি। আর সবসময়েই এটা বলা সবচেয়ে সহজ যে, ছোট কাগজ আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে। এ ঘোষণা নতুন নয়, বহুবছর ধরে তা হচ্ছে। মজার ব্যাপর হচ্ছে, ছোটকাগজ ছেড়ে যাওয়া লেখকরাই এসব বলেন ও লেখেন। এ পথে ইতিমধ্যে হতাশ হয়ে পড়েছে ছোটকাগজের এমন অনেক লেখকই আছেন। তারা অনেক আগেই আন্দেলন ব্যর্থ হয়েছে বলে কর্পোরেটমিডিয়াতে ঘোষণাও দিয়ে রেখেছেন। সত্য হলো আন্দোলনটা চলছে, বরং তারাই এ আন্দোলন থেকে চ্যুত। 'মিডিআন্দেলনের' সাথে এখন ওতপ্রোত। তারা তাদের হত্যাশাকে জয় করার বদলে ছোটকাগজের ওপর তা আরোপ করছেন। নিজেদের হতাশার পক্ষে সাফাই গাইছেন। তাদের গাইতে দেয়াই ভাল।
আর পাঠককে বলার কথা একটাই, ব্যর্থ হবার আগেই যারা ব্যর্থ ঘোষণা দিয়ে ভীড়ের হৃদয় হয়ে গেছেন, ইতিহাস তাদের আপসকামিতার সাক্ষ্য দিবে, যদি সত্যিই আপনি কান পাততে রাজি থাকেন!
০১৮.০৩.২০১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

