আমার প্রিয় পোস্ট

একটি নির্বিকার নৃশংসতার গল্প

২৬ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:২৬

শেয়ার করুন:                   Facebook

[ আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে শোনা মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাগুলো সংগ্রহ করে আর্কাইভ গঠন- ব্লগার জ্বিনের বাদশা নিয়েছেন এই অসাধারণ উদ্যোগটি। তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে আমি পোস্ট করছি আমার দাদার জীবনে ঘটে যাওয়া মুক্তিযুদ্ধের একটি ঘটনা; চলুন ফিরে যাই সেই সময়ে যখন নির্বিকার নৃশংসতা পথেঘাটে সস্তায় বিকোতো ]

ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় আমার দাদার বাড়ি। মুক্তিযুদ্ধের সময় দাদার বয়স প্রায় সত্তর, অস্ত্র হাতে যুদ্ধে অংশ না নিলেও বিভিন্নভাবে সাহায্য করছেন মুক্তিযোদ্ধাদের। একদিন বেরিয়েছেন বাজার করতে, সাথে প্রতিবেশী বন্ধু। বাজার করে ফিরে আসার সময় পড়ে গেলেন পাকবাহিনীর একটা ট্রাকের সামনে। আতংকজাগানিয়া ট্রাকটা রাস্তার একধারে দাঁড়িয়ে আছে, ভেতরে প্রায় দশ-পনেরো জন খানসেনার সাথে এলাকার চিহ্নিত আলবদর বাহিনীর কয়েকজন সদস্য বসে আছে। দাদাদেরকে দেখে তাদের কোন ভাবান্তর হলোনা বলেই মনে হলো, একজন শুধু দাদার হাতে ধরা বাজারের থলেটার দিকে ইংগিত করে কিছু একটা বললো।

দাদারা ট্রাকটা পার হয়ে বেশ কিছুদুর চলে এসেছেন, এমন সময় হঠাৎ গুলির আওয়াজ; দাদা দেখলেন তার ছোটখাটো বন্ধুটি একটা ঝাঁকি খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে গেছে। দাদা বুঝতে পারছেন বন্ধুটি এখনো মারা যায়নি, বাজারের ব্যাগ ফেলে দাদা তাকে ধরে ওঠানোর চেষ্টা করলেন। কিন্ত পেছন থেকে আসা একটি কন্ঠস্বর শুনে তাকে থেমে যেতে হলো, “ঐ অরে ধরবিনা খবরদার, দেখতাছসনা স্যারেরা প্র্যাকটিস করতাছে? একটু পরে অপারেশন আছে।” দাদা ফিরে তাকালেন; ট্রাকের ভেতর বসা এক আলবদর বলেছে কথাগুলো। এক পাকসেনা হাত দিয়ে দাদাকে ইশারা করলো সরে যেতে। তখনো পর্যন্ত দাদা বুঝে ঊঠতে পারেননি একটু পরে তার চোখের সামনে পৃথিবীর সবচেয়ে নারকীয় দৃশ্যের অবতারণা হতে চলেছে।

দাদাকে বন্দুকের ইশারায় তার বন্ধুর কাছ থেকে সরানো হলো। এবার একজন একজন করে পাকসেনা দাদার বন্ধুটিকে লক্ষ্য করে নিশানা প্র্যাকটিস করা শুরু করলো। আলবদরগুলি হাততালি মেরে তাদেরকে উৎসাহ দিচ্ছে। তখন প্রায় দুপুরবেলা, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, যতদূর দেখা যাচ্ছে রাস্তাঘাট পুরো ফাঁকা, তার মাঝে শুধু একটি ট্রাকের ভেতর কিছু পথভ্রষ্ট মানুষ আর রাস্তায় আমার দাদা, আর হঠাৎ করেই পৃথিবীর সবচেয়ে হতভাগ্য মানুষে পরিণত হওয়া দাদার সেই বন্ধু, জীবিত না মৃত বোঝা যায়না। দুয়েকটা শকুনও কি ওড়ে আসন্ন ভোজের অপেক্ষায়? পুরো ব্যাপারটিকে কোন পরাবাস্তব জগতের দৃশ্য বলে মনে হয়।

অবশেষে একসময় শেষ হয় খানসেনাদের এই উৎসব। দাদার বন্ধুটিকে মানুষ হিসাবে আর চেনা যায়না, অনেক লাল রঙ দেয়া একটা গোল বলের মতো মনে হয়। দাদা ভেবে পাননা কী করে তিনি এই লাল বলটিকে বাড়িতে নিয়ে যাবেন। সমাধান দেয় এক আলবদর, “অক্ষণ চইলা যা, অইটারে নিবিনা, স্যারেরা আরো প্র্যাকটিস করব পরে।”

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): মুক্তিযুদ্ধ ;

 

  • ১১ টি মন্তব্য
  • ২২৯ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৬ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৭ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:০১
comment by: মানুষ বলেছেন: মর্মান্তিক ঘটনা। এতো কিছুর পরেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে কিছু মানুষের এতো আপত্তি হয় কেন? ধিক্কার জানাই তাদের।
২. ২৭ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১২:০৮
comment by: রাতমজুর বলেছেন: +
৩. ২৭ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১:০৫
comment by: স্বাক্ষর শতাব্দ বলেছেন: নির্মম!

বিশেষ গ্রুপের ব্লগাররা এই পোষ্ট এ কোনো কমেন্ট করবে না জানি
৪. ২৭ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১:২৫
comment by: আকাশচুরি বলেছেন: মানুষ বলেছেন: মর্মান্তিক ঘটনা। এতো কিছুর পরেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে কিছু মানুষের এতো আপত্তি হয় কেন? ধিক্কার জানাই তাদের।

সহমত +
৫. ২৭ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৫:৫৬
comment by: রাশেদ বলেছেন: মানুষ বলেছেন: মর্মান্তিক ঘটনা। এতো কিছুর পরেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে কিছু মানুষের এতো আপত্তি হয় কেন? ধিক্কার জানাই তাদের।

সহমত
৬. ২৭ শে মার্চ, ২০০৮ ভোর ৬:৫২
comment by: জ্বিনের বাদশা বলেছেন: কি ভয়াবহ !!!!!!!!!!!
আর এদের বিচার হবেনা!!!!
হতেই হবে
৭. ২৭ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:৩৫
comment by: মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন: ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা
এবার আমি আমি গোলাপ নেব,
গুল বাগিচা বিরান বলে হরহামেশা ফিরে যাব?
তা হবে না দিচ্ছি বলে।

সৃষ্টিকর্তা কি কোন জাতিকে অভিশপ্ত ঘোষনা করেছে? ... যুদ্ধাপরাধী আর দালালদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত ঈশ্বর আমাদের ক্ষমা করবে না।
৮. ২৮ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৩:৩০
comment by: সলিল বলেছেন: কি নির্মম! এর কি কোনো বিচার হবে না কখনো??????????

মানুষ বলেছেন: মর্মান্তিক ঘটনা। এতো কিছুর পরেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে কিছু মানুষের এতো আপত্তি হয় কেন? ধিক্কার জানাই তাদের।
৯. ২৮ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৩:৫০
comment by: সলিল বলেছেন: যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কত্থা শুনলে যাদের গায়ে ফোস্কা পড়ে......সেইসব জারজ গুলার কথা ভাবলে অবাক হয়ে যাই...

সকাল বেলা যখন পেপার খুলে দেখি নরকের কীট রাজাকারগুলা মার্চ মাসে মুক্তিযোদ্ধা সঙ্গঠন খুলসে তখন আর সকালের নাস্তা টা গলা দিয়ে নামতে চায় না......

আবার সেটার সমর্থনে এই ব্লগেই কোনো একটা ছাগল বলে বসে যে এবার নাকি সত্তিকার মুক্তিযোদ্ধারা জেগে উঠেছে...চেতনার ব্যাবসায়ীরা নাকি আর পাত্তা পাবে না...
শুধু তাই না...হারামিটা প্রমাণ করতে চায় যে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নাকি "সিভিল ওয়ার"...............
হায়রে ঘৃন্য কীট...কবে তোরা মানুষ হবি?
১০. ২৩ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৫:৫৫
comment by: আসিফ আহমেদ বলেছেন: কি নির্মম আর নিষ্ঠুর... ওদের কোন প্রকার ক্ষমা নেই।
১১. ২৩ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৬:৩৭
comment by: উল্কা বলেছেন: এক টা কথা বলি আপনারা কেউ কিছু মনে কইরেন না।
আপনারা নিজেরা বিশ্বাস করেন নিজেদের কে। বিশ্বাস করেন ওদের বিচার করবেন আপনারা।
আপনারা এবং আমি ও এই খানেই ব্লগবজি করতে পারব ঝুকি নিয়ে রাস্তায় নামতে পারব না। আমাদের মুরোদ নাই।
আমারা সব বাঘের বাচ্চা না বরং বিলাইএর বাচ্চা। সারা দিন শুধু মিউ মিউ করতে পারব।
হয়ত দেখতে হবে ওরাই এক দিন আমাদের শাশন করবে।

 



 


আশ্চর্য! কেউ চারা লাগাতে চায় না, অথচ বটবৃক্ষছায়ার জন্যে কী অশ্লীল অপেক্ষা!
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ২৬৭৯৮