আমার প্রিয় পোস্ট
- [হুমায়ুন ফরিদী স্মরনে] ধারাবাহিক নাটক সংশপ্তকের (১৯৮৮-৮৯) রিভিউ - রাইসুল জুহালা
- 'জাদুকন্যা' আজরা জ্যাবিনকে মনে আছে? - বিডি আইডল
- বিদেশে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক সকল পোস্ট একত্র করার ক্ষুদ্র প্রয়াস । - এ বি এম হায়াত উল্লাহ
- ১৯৭১ এ মক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত অস্ত্রের ছবি ও বিবরন। - হাসান কালবৈশাখী
- সোলস ব্যান্ড (সব এ্যালবাম এর কভার +)সোলস ফ্যানরা না পড়লে পস্তাইবেন - আব্দুল্লাহ-আল-মামুন শামীম
- বিদেশে বাংলাদেশি ফ্যাকাল্টি মেম্বাররা - আবুল হায়াত শিবলু
- একজন সৃষ্টিকর্তা একজন হুমায়ুন আজাদ - অচেনা মেয়ে
- চৌধুরি সাহেব!! আই লাভ ইউ।
- জিকসেস
- বৃষ্টি বিলাসঃ বৃষ্টি দিনের গানের অনলাইন সংগ্রহ। (প্রথম কিস্তিঃ৬০ টি গানের ডাউনলোড লিংক) - এ. এস. এম. রাহাত খান
- ডিজিটাল ক্যামেরা থেকে মুল্যবান ছবি মুছে গেছে,
উপায় কি? - রণক্লান্ত
- জাহাজ মারা হাবিব: হাবিবুর রহমান বীরবিক্রম - এম. রহমান
- সর্বোচ্চ জলপ্রপাতের খোঁজে [পর্ব এক] - দুখী মানব
- বাংলাদেশের আদিবাসী ভাষা পরিচিতি (শেষ কিস্তি) - লুলু পাগলা
- আর কত বিশ্ববিদ্যালয় চাই? আসুন গোটা দেশকেই এবার ইউনিভার্সিটি বানিয়েই ফেলি! - আহমেদ শামসুল আরেফীন
- কবিয়াল বিজয় সরকার ও তাঁর গান - আরেফ রিওনেন
- ধন্যবাদ কাজী আনোয়ার হোসেনকে,আপনার কল্যানে এত বিখ্যাত সব বই আমার পড়া হয়ে গেল

- অপার্থিব ক্রিয়েশন
- " ঢাকার এবং ঢাকার বাইরের অনেক মজাদার খাবারের নাম ও লোকেশন (বাংলার মিনি ফুড ডিকশনারী) " - নাফিজ মুনতাসির
- টিউটোরিয়ালঃ প্রফেশনাল ওয়েব ২.০ টেম্পলেট ডিজাইন করা শিখি - খুজে ফিরি অজানা কে?
- প্রিয় হুমায়ুন আজাদের ৩১টি নির্বাচিত প্রবচন - নির্ঝর নৈঃশব্দ্য-২
- ওয়েব সাইট ডিজাইনিং ,ফ্রী ওয়েব টেম্পলেট ডাউনলোড, সোর্স কোড ডাউনলোড এবং ওয়ার্ড প্রেস এর থিম ডাউনলোডের লিঙ্ক লিস্ট...... - খুজে ফিরি অজানা কে?
- আসুন পরিচিত হই ঢাকা শহরের অলিগলির সাথে (পর্ব-১) - মোসারাফ
- আহমদ ছফার সাক্ষাৎকার : 'স্বাধীন দেশের নাগরিক হিশেবে কোলকাতা আর আমাদের কিছু দিতে পারবে না - শাহাদাৎ তৈয়ব
- কার্জন হল (ছবি ব্লগ) - জিকসেস
- বাংলার বিখ্যাত নাটকগুলোর সেই বিখ্যাত ডায়ালগঃ ব্লগাররা একটু মনে করিয়ে দিন, লিস্টি বানাই --- - লাল সাগর
- পুরোনো কিছু বিজ্ঞাপন - সংবাদপত্রে প্রকাশিত ( ২য় পর্ব ) - বল্টু মিয়া
- ফকির লাল মিয়ার অপ্রকাশিত গান 'বিচার চাই' এর লিরিকস - বল্টু মিয়া
- আসুন ছবি দেখে আম চেনার চেষ্টা করি ( ছবি ব্লগ ) ১ম পর্ব - জুয়েল ফুজি
- বাংলাদেশের বিখ্যাত চাট্টগাঁর ভাষা শিখুন - সাত্ত্বিক
- ছবি ব্লগঃ পাহাড় ডাকে আজ আমায় - আহমেদ রাকিব
- হুমায়ুন আহমদ, মধ্যাহ্ন এবং দেশভাগ - ওলি
- ডিজিটাল ক্যামেরা ও ফটোগ্রাফি বিষয়ক পোস্টগুলোর সংকলন - টি. জাহান চৌধুরী
- ভ্রমণ ব্লগ - ভারতের ছবি (প্রথম পর্ব) - পারভেজ
- হুমায়ুন আহমেদের ১৪৮ টি বইয়ের বিশাল সমগ্র [রিপোস্ট] লিংকসহ ঠিক করে দিলাম - বখতিয়ার হোসেন
- শব্দপিডিয়া : সবচেয়ে কুৎসিত, সবচেয়ে শ্রুতিমধুর আর ইতিহাসের শব্দরাজি... - ফিউশন ফাইভ
- ফটুব্লগ : ঐতিহাসিক কিছু সমাধির ছবি - কানু
- ্মুস্তাফা জুব্বার কে পাপ্পানা ভাইয়ের বাশ বহু আগেই দেয়া - শরিফ চয়ন
- অফেন্ডিং জিয়া ১ : স্বাধীনতার ঘোষণা পর্ব - নুরুজ্জামান মানিক
- প্রত্যক্ষ করলাম বিলুপ্তপ্রায় সংস্কৃতি-চড়ক পূজা (সতর্কতাঃ দূর্বল হৃদয়ের কারো না ঢোকাই ভাল হবে) - মহলদার
- সস্তা আর পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের জন্য ব্লুম বক্স - মেহেদী_হাসান
- Taবিজ Faruক [অ্যানাদার মিনি রিসার্চ ........... ] - নিস্সঙ্গ যোদ্ধা
- স্মৃতিচারণমূলক আপসুস পোস্ট



- আমি রোদের ছেলে
- ৭ই মার্চের ভাষণঃ স্বাধীনতার দলিল বনাম জিয়ে পাকিস্তান/জয় পাকিস্তান/পাকিস্তান জিন্দাবাদ নামা - আইরিন সুলতানা
- জার্ণী টু চায়নাঃ(জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর)- ১ - জুল ভার্ন
- মুক্তিযোদ্ধা নারী - আকাশভরাতারা
- লিনাক্স :: একটি বিশ্বস্ত, শক্তিশালী এবং স্বপ্নের অপারেটিং সিস্টেম (ইতিহাস, ইন্সটল, ব্যবহার) - পাপী
- সামহয়ারইন ব্লগ সংকলনঃ টপ টেকি পোষ্ট!!
- ইসানুর
- অঞ্জন দত্ত'র গানঃ ম্যারি এন - জয় সরকার
- আউটসোর্সিং : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ - ক্যামেরাম্যান
- ট্রেন থেকে নেওয়া যমুনা নদীর কয়েকটি ছবি - এহ্তেশাম
- স্বপ্নগুলো হলো এলোমেলো - শোশমিতা
- রাষ্ঠ্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠা এবং জামাতি ভাবধারার দেউলিয়াত্ব নিয়ে এক নোক্তা। - নরাধম
- পাহাড় থেকে সেনা প্রত্যাহারের মানে কী - পি মুন্সী
- আবার আসিব ফিরে প্রিয় মগবাজারে, ছাগুদের ভীড়ে।-----মুইত্যা আনন্দ দাস - কালের কুতুব
- একাত্তরের চিঠি : ইন্দিরা গান্ধীকে মওলানা ভাসানী (ভারতের সঙ্গে স্বাধীন বাংলাদেশের কনফেডারেশন!) - অমি রহমান পিয়াল
- পার্বত্য চট্টগ্রাম : ওয়েবে আমার বাংলাদেশ যেভাবে ধর্ষিত হচ্ছে প্রতিদিন - ফিউশন ফাইভ
- সহীহ্ শিবিরনামা - একজন সৎ মানুষের খোঁজে......
- অদৃশ্য দানব (প্রথম পর্ব) - ~স্বপ্নজয়~
- বাংলাদেশের বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের (অসম্পূর্ণ) র্যাংকিং - আহমেদ শামসুল আরেফীন
- ভালবাসা দিবসে অন্যরকম ভালবাসা। - নরাধম
- শিবির: কাছ থেকে দেখা-২ - আ শী ষ
- ছাগুগিরি : অনলাইনে অর্থ উপার্জনের সহজ উপায় - জোকার হাবিব
- রাজনৈতিক দলগুলোর ঘোষনা করা উচিত যাতে কোন ছাত্র সংগঠনের ব্যানারে কেউ তাদের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে না পারে-মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম - সায়েমুজজ্জামান
- বাংলাদেশের প্রস্তাবিত শিক্ষানীতি - রকি সপ্নচারী
- দ্য আদার কনসার্ট ফর বাংলাদেশ : যেটার কথা কেউ বলে না! - অমি রহমান পিয়াল
- হাসিনার ভারত সফর: যৌথ ঘোষণা ও ভারতীয় কূটনীতি - পি মুন্সী
- কিছু প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইট - রিজভী
- বউ/বান্ধবীর চাইতে কম্পিউটার/ল্যাপটপ ভাল লাগিবার কারণ সমূহ (বছর শেষের আবজাব পোস্ট)
- জানজাবিদ
- উইকিপিডিয়াতে লেখা সাজাবার সহজ উপায়-(পর্ব-১) - সাদাচোখ
- গত দশ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ বাংলা বইগুলো কী কী? - মাহবুব মোর্শেদ
- গ্রামীণফোনের অন্দরমহল-৪ - পাললিক মন
- ডিজিটাল ফটোগ্রাফির প্রাথমিক শিক্ষা (১ম পর্ব) - পারভেজ রবিন
- ক্যামেরা কিনবেন কে কে ? - নক্ষত্রের কান্না
- অাসেন কিছু চাঁটগাইয়া ভাষা শিখি......







- লবঙ্গ
- বাংলাদেশের প্রতারক মোবাইল কোম্পানিগুলোর বিশেষ লোগো উন্মোচন করা হল - ফিউশন ফাইভ
- ভারতবর্ষের হারিয়ে যাওয়া ৬ টি নগরী এবং সাম্রাজ্য........ছবিসহ - সারওয়ার ইবনে কায়সার
- সিকিম ও কাস্মিরের ভুখন্ড বড়দের বাট্টা হতে পারে কিন্তু রক্তের দামে কেনা বাংলাদেশ নয়- পর্ব ১ - এ. এস. এম. রাহাত খান
- ঘুরে আসুন টাঙ্গোয়ার হাওড়! - নীল ভোমরা
- আমি বাঙালী, আমি মানুষ, আমি মুসলমান- একবার মরে, দুইবার না… - অমি রহমান পিয়াল
- একটি ভিন্নধারার বাংলা ছবি: হলে ঢোকার আগে, শ্রেষ্টাংশে ওবামা আছে কিনা শিওর হয়ে নিন - ইশতিয়াক অাহমেদ
- নারিন্দা গ্রেভ ইয়ার্ড (ওয়ারী) - এর বর্তমানের কিছু ছবি ... - রাজিব শাহরিয়ার
- কারা ছিল বর্গী? - ইমন জুবায়ের
- গুয়াহাটীতে ( গৌহাটি ) দুই দিন - এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল
- আমরা ৭২ এর সংবিধানে ফেরত যাবো নাকি যাবো না? - যারা ৭২ এর সংবিধান ও বর্তমান সংবিধান এর মধ্যে বিরোধ কি তা ভালো ভাবে বোঝেন না, তাদের জন্য এই পোস্ট। - নাহিদ মাহমুদ
- দিস ইস ইট মাইকেল জ্যাকসনের আনরিলিজড এ্যালবাম - তর্ষ
- শোন গো দক্ষিন হাওয়া প্রেম করেছি আমি ... আহা আজ শচীন কর্তার মৃত্যু দিবস - সব্যসাচী প্রসূন
- বিদেশী ভাষায় রবীন্দ্রসংগীত (শেষ পর্ব) - সুফিয়ান ডট কম
- গোলাম আজমের কুকীর্তির এক ক্ষুদ্র নমুনা - কালের সাক্ষী
- ক্ষেপনাস্ত্রের সাতকাহন - ২ - নুভান
- ছবি ব্লগ-গণ আদালত ১৯৯২ - শওকত হোসেন মাসুম
- দিন বদলের শিক্ষানীতি ও বাস্তবতা - ইবনে সালাম
- সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কোরাল/প্রবাল: পানির নীচে অন্য এক জগত - রাব্বি !
- একটি চরম বাটপাড়িমূলক পোষ্ট!!! - জেনুইন করুন আপনার প্রায় সকল প্রকার উইন্ডোজ(উইন্ডোজ এক্সপি, উইন্ডোজ ভিসতা এবং উইন্ডোজ সেভেন)। - নির্ভয় নির্ঝর
- ওই ছোটোলোকের পোলাটা কিন্তু বীরপ্রতীক ছিল - অমি রহমান পিয়াল
- ফায়ারফক্সে বাংলা বানান পরীক্ষার এড-অন - অপড়ালেখা
- শাহ আব্দুল করিমের একটি সাক্ষাৎকার - সৈয়দ আফসার__১৯৭৯
- উবুন্টুর জন্য ছোট্ট সাতটি টিপস - কার্নেল
- শাহ আবদুল করিম : বাউল নন কিংবদন্তি লোকসঙ্গীত স্রষ্টা -- - করিম আদনান
- প্রিয় মাকসুদুল হক, সাধারণ মানুষের এই মেলা থেকে জন্মদিনে শুভেচ্ছা - ইশতিয়াক অাহমেদ
- আধুনিক গবেষনায় দেশের সায়েন্স ও টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় গুলির দীর্ঘ ব্যর্থতা।মূল কারনটা কোথায়?যোগ্যতা-প্রতিভার অভাব না অন্যকিছু? কিস্তি-২ - প্লাটো
- প্রিয় গান (পর্ব-১) তোমাকে দেখলে একাবার - মাকসুদ। (ডাউনলোড লিংক সহ)।
- এস.কে.ফয়সাল আলম
- হুমায়ুন আজাদের কিছু নির্বাচিত প্রবচন - জানজাবিদ
- ফাদার মারিনো রিগনের প্রকাশিত বইসমূহ - জুল ভার্ন
- রিকশাচালকদের সৌজন্য মুলক সম্বোধন করুন - জুল ভার্ন
- খুনী আল-বদরের উত্তরসূরী ছাত্র শিবির : উত্থানের ভয়াবহ দলিলপত্র - অমি রহমান পিয়াল
- আমাদের সময়ের সেইসব গান

- শওকত হোসেন মাসুম
- কেওকারাডং এ বর্ষা-বিলাস - সৌম্য
- মাতামূহুরীর পথ ধরে দূরে........ পর্ব এক: যাত্রা শুরু - যীশূ
- জামাতের নেতারা বলে কি আর করে কি !? (শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে জামাতি ভন্ডামির চালচিত্র
) - সেলটিক সাগর
- নিঃসঙ্গ যোদ্ধা : তাজউদ্দীন - মেঘ
- বঙ্গ দেশের প্রথম বাঙ্গালীর মহাকাশ অভিযানের বিবরণী - আনোয়ারুল আলম
- মোবাইলে ইন্টারনেটের চাহিদা পূরণ (সফটওয়্যারের ফিচার ও লিংকসহ)
- নাফিস ইফতেখার
- ঃঃঃ ফটো-ব্লগ—কেওকারাডং ওঠার অপ্রচলিত ট্রেক। ২ ঃঃঃ - সৌম্য
- উইন্ডোজ একটিভ করতে পারেন কোন সফটওয়ার বা ক্র্যাক ছারা ই - নাজিরুল হক
- সাহায্য চাচ্ছি উবন্টুতে বাংলা লিখতে - তানভীর আশিক
- যারা ব্লগিং করতে করতে ক্লান্ত তারা একটি কবিতা পড়ুন, ভালো লাগবে। - সজল বলছি
- বিরিশিরি(ফটোব্লগ) - আনমনে
- সিরাজ শিকদার : ভুল বিপ্লবের বাঁশীওয়ালা! ১ - অমি রহমান পিয়াল
- কাপ্তাই-রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মুহূর্ত - আকাশ অম্বর
- ভাত আর ভাতার এক লয় গো ... (আনএডিটেড ট্রান্সক্রিপশন: দৌলতদিয়া) ১ - মারুফ ব্লগ
- জুমলা টিউটোরিয়াল ৭: জুমলার বিভিন্ন মেন্যু বা অপশন পরিচিতি - গৌতম রায়
- ধুতি মানে শুধু ধুতি নয় - ভূপর্যটক
- শ্রমিকদের দাবি জানানোর গণতান্ত্রিক রাস্তা করে দিতে হবে - আবু নাঈম
- গ্রামীনফোন মোডেম দিয়ে অন্য অপারেটরের(একটেল, বাংলালিংক,ওয়ারিদ) ইন্টারনেট ব্যাবহার - ফরহাদুল কবির
- সেই ইত্যাদি! - রুবাইয়াত ইসলাম সাদাত
- এখনে এতো ভারত বিরোধী মন্তব্য কেন??? ভারত কি সত্যিই এতো খারাপ দেশ? - কিছুকিছু
- বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, ইসলামী জঙ্গিবাদ ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের ডকুমেন্টারী এখন ইউটিউবে - জাহাঙ্গীর আলম আকাশ
- বিবাহনামার সেকেন্ড পার্ট : অর্ধমৃত সময়ের গল্প গুলো
- রোহান
- ভারত ভ্রমন - বাংলা বিহার উড়িষ্যা পাড়ি দিয়ে আরব সাগরের তীরে গোয়া সৈকতে - শ।মসীর
- কয়লা নীতি, টেকনিক্যাল জ্ঞানের রাজনীতি - আমরা কেমন বুয়েট চাইতে পারি? - পি মুন্সী
- মন খারাপ করা একটি গান। মনে হয় অনেক দিনের চেনা গান কাঞ্চনজংঘা - মোতাব্বির কাগু
- আমি জুমলা শিখতে চাই। - আমি পৃথিবী রচে যায়
- যে কোন সাইটে বাংলা অক্ষর ভাল ভাবে দেখার জন্য ইনস্টল করুন Font Fixer - মেঘবালক অর্ভনীড়
- নবীনদের জন্য - নাদান
- “ভালোবাসার কাজটি খুঁজে নিতে হবে” – স্টিভ জবস এর বিখ্যাত সমাবর্তন বক্তৃতা - বিলাশ বিডি
- গোলাম মোস্তাফার কণ্ঠে সুকান্তের বোধন - সোজা কথা
শিক্ষানীতির সহজ পাঠ - মুহম্মদ জাফর ইকবাল
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:১১
( এই লেখাটি প্রথম আলোতে ৪ঠা নভেম্বর ছাপা হয়েছে। লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল শিক্ষানীতি প্রস্তাবনা কমিটির একজন সদস্য ছিলেন। জনগুরুত্বপূর্ন একটি লেখা হওয়ায় আমি তা এখানে পুনঃপ্রকাশ করলাম যাতে সবাই পড়তে পারেন। লেখকের সাথে একমত হওয়া বা না হওয়া পাঠকের নিজের দায়িত্ব। আমার নিজের কোন মতামত এখানে দেইনি। )
এবারের শিক্ষানীতি নিয়ে দেশের মানুষের অনেক আগ্রহ, খবরের কাগজ খুললেই দেখতে পাই, কোথাও না কোথাও সেটা নিয়ে সেমিনার বা আলোচনা হচ্ছে, পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে। এটা খুব চমত্কার একটা ব্যাপার, দেশের মানুষ যদি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে, তাহলে আগে হোক পরে হোক, আমরা চমত্কার একটা শিক্ষাব্যবস্থা পাব, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
এ শিক্ষানীতিটা দাঁড় করানোর জন্য সরকার কিন্তু কোনো কমিশন তৈরি করেনি, সরকার একটা কমিটি তৈরি করেছে; সোজা কথায় সরকার এ কমিটির সদস্যদের বলেছে তাদের একটু সাহায্য করতে। শুধু তাই নয়, সরকার একেবারে গোড়া থেকে শুরু করে নতুন একটা শিক্ষানীতি তৈরি করতেও বলেনি, একেবারে পরিষ্কার করে বলে দিয়েছে, শিক্ষানীতি ২০০০-কে ‘অধিকতর সময়োপযোগী করে পুনর্গঠন’ করে দিতে। শুধু তাই নয়, সরকার এ কমিটিকে একেবারে সময় বেঁধে দিয়েছিল, কমিটি তাদের প্রথম মিটিং করেছে ৩ মে, কাজ শেষ করেছে সেপ্টেম্বরের ২ তারিখে। কেউ কেউ একে এক ধরনের তাড়াহুড়ো মনে করতে পারেন, কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে, এটা খুব ভালো একটা পরিকল্পনা। সরকার যদি ডিসেম্বরের ভেতর কাজ চালানোর মতো একটা নীতি দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারে, তাহলে একে বাস্তবায়ন করার জন্য হাতে চার চারটা বছর পেয়ে যাবে, যেটা আগে কখনো কেউ পায়নি। সবচেয়ে বড় কথা, এ শিক্ষানীতিটা আগামী ১০০ বছরের জন্য পাথরে খোদাই করে ফেলা হচ্ছে তা নয়, এখানে পরিষ্কার করে বলা আছে, সময় আর অবস্থা বিবেচনায় এতে প্রয়োজনীয় রদবদল করা যাবে। এটা হচ্ছে শুরু।
শিক্ষানীতি পুনর্গঠনের যে কমিটি করে দেওয়া হয়েছিল, আমি এর একজন সদস্য ছিলাম, সরকারকে খসড়াটা না দেওয়া পর্যন্ত আমরা এটা কারও কাছে প্রকাশ করিনি। আমরা সরকারের তৈরি করে দেওয়া একটা কমিটি মাত্র, সরকার চাইলে আমাদের খসড়া নীতিটা নিজের মতো করে কাটছাঁট করে প্রকাশ করতে পারত—আমি ভেতরে ভেতরে সেটা নিয়ে এক ধরনের দুশ্চিন্তায় ছিলাম, কিন্তু সরকার তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার পর আমি অত্যন্ত স্বস্তি ও আনন্দের সঙ্গে আবিষ্কার করলাম, সরকার আমাদের দেওয়া নীতিমালাটাই একটা দাঁড়িকমাও পরিবর্তন না করে হুবহু প্রকাশ করেছে। এখন নানা ধরনের আলোচনা, সমালোচনা, সুপারিশ আসছে, আমরা আশা করব, সরকার সেগুলো হাতে নিয়ে খসড়াটাকে চূড়ান্ত করে নেবে। শিক্ষানীতি কমিটি তাদের দায়িত্ব পালন করে দিয়েছে, একে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার জন্য সরকার কাদের দায়িত্ব দেবে আমরা এখনো তা জানি না।
খসড়া শিক্ষানীতিটা দেশে মোটামুটি একটা উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এটা প্রণয়ন করার আগে আমরা অনেক সংগঠনের সঙ্গে কথা বলেছি, শিক্ষা নিয়ে আগ্রহী এ দেশের প্রগতিশীল মানুষেরা কীভাবে চিন্তা করেন, আমরা মোটামুটিভাবে সেটা বুঝতে পেরেছিলাম এবং আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব, সেভাবে শিক্ষানীতি ২০০০-কে পুনর্গঠন করেছি। খসড়াটা প্রকাশিত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। এক ভাগ একে গ্রহণ করেছেন এবং একে পূর্ণাঙ্গ করার জন্য আরও কী কী বিষয় সংযোজন বা পরিবর্তন করা যায়, সে সুপারিশ করেছেন। অন্য ভাগ একে প্রত্যাখ্যান করেছেন, তাঁদেরও দুই ভাগে ভাগ করা যায়। এক ভাগ রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কারণ দেখিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন (খবর পেয়েছি, মসজিদে মসজিদে এ শিক্ষানীতিকে প্রত্যাখ্যান করে ইসলামকে ‘রক্ষা’ করার একটা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।) অন্য ভাগ একে প্রত্যাখ্যান করেছেন এটা যথেষ্ট প্রগতিশীল নয় বলে, দুর্ভাগ্যক্রমে তাঁদের সমালোচনাটা আমার চোখে পড়েছে, কিন্তু ঠিক কোথায় কোথায় পরিবর্তন করে শিক্ষানীতিটা মোটামুটিভাবে কাজ চালানোর মতো করে ফেলা যায়, তাঁরা সে ব্যাপারে কোনো বক্তব্য রাখছেন না।
শিক্ষার ব্যাপারে আগ্রহী বুদ্ধিজীবী কিংবা রাজনৈতিক কারণে এর বিরোধিতা করার জন্য কেউ কেউ একে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়েছেন, কিন্তু দেশের বেশির ভাগ মানুষ কিন্তু এখনো ঠিক করে জানে না, এর ভেতর কী আছে। এর কারণ, এ শিক্ষানীতিতে অধ্যায় রয়েছে ২৯টি, সংযোজনী সাতটি। সব মিলিয়ে পৃষ্ঠা ৯৭। অনেক তথ্য ঠেসে দেওয়া হয়েছে বলে রোমান্টিক উপন্যাসের মতো সহজ পাঠ্য নয়, যাঁদের কৌতূহল আছে, শুধু তাঁরাই হয়তো কষ্ট করে পড়বেন। ওয়েবসাইটে পিডিএফ করে দেওয়া হলেও ফন্টটি সংযোজন করা হয়নি, কাজেই কম্পিউটারে বাংলা ফন্ট না থাকলে এটা পড়ার উপায় নেই (শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়টা খেয়াল করা উচিত ছিল)। পত্রপত্রিকায় ছাড়াছাড়াভাবে এর কিছু বিষয় লেখা হয়েছে, সেটা পড়ে পুরো শিক্ষানীতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু আমার মনে হয়, দেশের সাধারণ মানুষেরও এটা জানা দরকার। যে মা তাঁর বাচ্চাকে দুই বেলা স্কুলে নিয়ে যান এবং ফিরিয়ে আনেন, যে বাবা তাঁর সন্তানের পড়ার খরচ কোথা থেকে আসবে তা নিয়ে দুর্ভাবনা করেন, কিংবা যে কিশোর বা কিশোরী প্রাইভেট আর কোচিংয়ে ছোটাছুটি করে গাইড বই মুখস্থ করতে করতে অবাক হয়ে ভাবে, এ দেশে কি একজন মানুষও নেই যে তাদের কথা ভাবেন—তাদের সবারই জানা দরকার শিক্ষানীতিতে কী আছে। আমি তাই খুব সংক্ষেপে শিক্ষানীতির কয়েকটা বিষয় এখানে লিখেছি। একবারে যেন পড়ে ফেলা যায়, তাই লেখাটা হবে ছোট এবং যেহেতু লিখছি ‘আমি’, তাই ‘আমার’ কাছে যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, সেগুলোই এখানে উঠে আসবে এ সীমাবদ্ধতাটুকু যদি কেউ মেনে নিতে রাজি থাকেন, তাহলে পড়তে শুরু করতে পারেন।
২.
প্রাথমিক বা প্রাইমারি শিক্ষা দিয়ে শুরু করা যাক। আমরা দেখেছি, এ দেশের বিত্তশালী মানুষের ছেলেমেয়েরা প্রাইমারি স্কুল শুরু করার আগে প্রি-স্কুলে এক-দুই বছর যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। এ শিক্ষানীতিতে দেশের সব শিশুর জন্য এক বছরের প্রি-স্কুল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং পরিষ্কার করে বলে দেওয়া হয়েছে, সেটা যেন হয় খুব আনন্দময় পরিবেশে। এ দেশে যত বাবা-মা আছেন, তাঁরা ছেলেমেয়েকে ভালো স্কুলের প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি করানোর জন্য তাঁদের বাচ্চাদের একটা ভয়ঙ্কর ভর্তি পরীক্ষার ভেতর দিয়ে নিয়ে যান। শিক্ষানীতিতে একটা শিশুকে এ রকম হাজারো রকম তথ্য মুখস্থ করিয়ে বিষয়ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষাকে নিষিদ্ধ করতে বলা হয়েছে।
আমাদের দেশে প্রাথমিক শিক্ষা খুব দুর্বল, পাবলিক পরীক্ষাগুলো হয় ১০ বছর এবং ১২ বছরের মাথায়, তাই যেটুকু লেখাপড়া করতে হয় পরীক্ষায় ভালো একটা ফলের জন্য, সেটা তখনই করা হয়। প্রাথমিক স্তরের পর যদি একটা পাবলিক পরীক্ষা থাকত, তাহলে স্কুলগুলো সেই পরীক্ষায় ভালো করার জন্য হলেও লেখাপড়ায় মনোযোগী হতো। এখন প্রাইমারি স্কুল থেকে পাস করে বের হওয়া ছাত্র কতটুকু জানে সেটা সম্পর্কে কারও বিন্দুমাত্র ধারণা নেই। তবে ক্লাস ফাইভের পরই একটা পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়, দশম শ্রেণীর পর যে প্রথম পাবলিক পরীক্ষা হয়, সেটাকে বরং অষ্টম শ্রেণীর পর নিয়ে আসা যেতে পারে। এটা করা হলে আরও একটা অনেক বড় ব্যাপার ঘটে যেতে পারে। শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রাথমিক শিক্ষা হবে সর্বজনীন, বাধ্যতামূলক, অবৈতনিক এবং সকলের জন্য একই মানের’ যার অর্থ আমাদের দরিদ্র দেশের দরিদ্র বাবা-মায়ের সন্তানেরা আরও তিন বছর সরকারের খরচে পড়তে পারবে। আট বছরের প্রাথমিক শিক্ষা করার একটা বাস্তব দিকও রয়েছে। আর্থসামাজিক কারণে অনেক ছেলেমেয়েই পড়াশোনা শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যেতে পারে না, তাদের যদি জোর করেও অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে অন্তত সেই পড়ালেখাটা দিয়েও তারা কোনো একটা বৃত্তিমূলক কাজে ঢুকে যেতে পারবে। পাঁচ বছরের প্রাথমিক শিক্ষায় সেটা সম্ভব নয়। এসব কিছু বিবেচনা করে শিক্ষানীতিতে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বিস্তৃত করার কথা বলা হয়েছে। হুট করে সেটা করার কোনো পরিকল্পনা নেই; ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময় নেওয়া হয়েছে। এর জন্য অনেক অবকাঠামো দাঁড় করাতে হবে, অনেক শিক্ষকের নিয়োগ দিতে হবে। টাকাগুলো কোথা থেকে আসতে পারে, শিক্ষানীতিতে তারও একটা ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে (৭৯)।
প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত নেওয়া হবে, এর অর্থ এ রকম নয় যে এখন ছেলেমেয়েরা পঞ্চম শ্রেণীতে যেটুকু পড়ে, ভবিষ্যতে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সময় নিয়ে সেটুকু পড়বে। অষ্টম শ্রেণীতে যা পড়া দরকার, তারা সেটাই পড়বে, আমরা সেটাকে বলব প্রাথমিক স্তর—এটাই হচ্ছে আসল কথা।
এবার প্রাথমিক শিক্ষায় দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বলা যায়—এতদিন সাধারণ, ইংরেজি মাধ্যম আর মাদ্রাসার সবাই নিজের নিজের বিষয় পড়েছে। এ শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছে, অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত মৌলিক কিছু বিষয় সবাইকে একইভাবে পড়তে হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে বিষয়গুলো শুরু হবে বাংলা ইংরেজি আর গণিত দিয়ে। তৃতীয় শ্রেণী থেকে শুরু হবে বাংলাদেশ স্টাডিজ, জলবায়ু পরিবর্তনসহ পরিবেশ (যার ভেতর বিজ্ঞানের সূচনা করা হবে) এবং ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা। অতীতে ধর্ম শিক্ষা দিতে গিয়ে ছোট বাচ্চাদের ঘোরতর সাম্প্রদায়িক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে, সে রকমটি যেন না ঘটে, তাই শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছে, ধর্ম শিক্ষার একটা গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হচ্ছে ‘শিক্ষার্থীর বাংলাদেশের মূল চারটি ধর্ম সম্পর্কে পরিচিতি’ ঘটানো। শুরুতে একটা শিশু যদি অন্য ধর্ম সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়, তাহলে সে সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা নিয়ে বড় হতে পারবে। এ ছাড়া তৃতীয় থেকে যে নৈতিক ও ধর্ম শিক্ষা শুরু হবে, সেটা হবে জীবন আর গল্পের ভেতর দিয়ে। ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে আরও দুটি বিষয় যুক্ত হবে, সে দুটো হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি (এর সঙ্গে বিজ্ঞান) এবং একটি কর্মমুখী শিক্ষা। শিক্ষানীতির ভেতর আসলে এত খুঁটিনাটিতে যাওয়ার কথা নয়, কিন্তু ইচ্ছে করে এটি রাখা হয়েছে যেন সবাই বুঝতে পারে, কখন একটা বাচ্চা কী পড়বে। আমাদের দেশে ১৯৯৫ সালের পর কারিকুলামের কোনো পরিবর্তন করা হয়নি, শিক্ষানীতিতে তাই নতুন শিক্ষাক্রম আর পাঠ্যসূচির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং প্রাথমিক স্তরের ছেলেমেয়েদের হাতে যেন আকর্ষণীয় আর সুন্দর বই তুলে দেওয়া যায়, সেটার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত দেশের সব ছেলেমেয়ে মূল বিষয়গুলো একই শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচিতে পড়বে, পাঠ্যবইগুলোও হবে এক। আমরা জানি, আমাদের দেশে দুই ধরনের ইংরেজি মাধ্যম চালু আছে, প্রচলিত ইংরেজি মাধ্যমে এসএসসি, অন্যটি ও লেভেল। এ শিক্ষানীতিতে ইংরেজি মাধ্যম রেখে দেওয়া হয়েছে কিন্তু তাদের ইংরেজি ভাষায় হলেও মূল বিষয়গুলো একই পাঠ্যসূচিতে পড়তে হবে। শিক্ষানীতিতে যখন মাদ্রাসা শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, তখন আলিয়া ও কওমি দুই মাদ্রাসাই বোঝানো হয়েছে। আলিয়া মাদ্রাসা আমাদের দেশের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অংশ হিসেবে আছে, কওমি মাদ্রাসাকে এর আওতায় আনা হবে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ, ইংরেজি মাধ্যম বা মাদ্রাসা—প্রতিটা ধারাই মূল বিষয়ের বাইরে নিজেদের প্রয়োজনে বাড়তি বিষয় পড়াতে পারবে।
এবার পরীক্ষার বিষয়ে আসা যায়। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে কোনো আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা থাকবে না। তৃতীয় শ্রেণী থেকে বছরে দুটি অর্ধবার্ষিক আর বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। পঞ্চম শ্রেণীর পরীক্ষা হবে আঞ্চলিক, আর সেটার ওপর নির্ভর করে ছাত্রছাত্রীদের অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বৃত্তি দেওয়া হবে। আগেই বলা হয়েছে, অষ্টম শ্রেণীর পরীক্ষাটা হবে পাবলিক পরীক্ষা, সেই পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর কর দশম শ্রেণী পর্যন্ত বৃত্তি দেওয়া হবে। শিক্ষানীতিতে খুব স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে, পরীক্ষাগুলো হবে সৃজনশীল পরীক্ষাপদ্ধতিতে।
৩.
প্রাথমিক শিক্ষার পর স্বাভাবিকভাবেই আসে মাধ্যমিক শিক্ষার ব্যাপারটা। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন অবশ্যই সেটাকে ১২ বছর পর্যন্ত বিস্তৃত করা। ১২ বছর পর গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষাটা হবে, তবে দশম শ্রেণীর পরীক্ষাটা পুরোপুরি স্কুলের একটা বার্ষিক পরীক্ষা হিসেবে রাখা হয়নি, আঞ্চলিক পরীক্ষা হিসেবে খানিকটা গুরুত্ব দিয়ে রাখা হয়েছে দুই কারণে। প্রথমত এ পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে ছাত্রছাত্রীদের দুই বছরের জন্য বৃত্তি দেওয়া হবে, দ্বিতীয়ত কারিগরি শিক্ষায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ছাত্রছাত্রীরা দশম শ্রেণী শেষ করে পড়তে শুরু করবে, তাই এর খানিকটা গুরুত্ব আছে। শিক্ষাক্রম বা বিষয় তালিকায় খুব বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়নি, তবে কিছু যৌক্তিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেমন, বিজ্ঞান পড়ার জন্য উচ্চতর গণিত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষায় একটা বিষয় না হলে ছাত্রছাত্রীরা পাছে একটা বিষয়কে হেলাফেলা করে, সে জন্য সামাজিক বিজ্ঞানকে (যার ভেতর থাকবে বাংলাদেশ স্টাডিজ) একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীতে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তবে আমার মতে, মাধ্যমিক শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটা এসেছে মাদ্রাসা শিক্ষায়। আগে তারা অনেক বিষয়ে কম পড়েই মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকের সমান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, ব্যাপারটা তাদের জন্য মোটেও ভালো হয়নি। খুব সহজে অনেক বেশি নম্বর পেয়ে তারা এক ধরনের সুবিধা পেত সত্যি, কিন্তু উচ্চশিক্ষার সুযোগের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এ শিক্ষানীতিতে প্রথমবারের মতো তাদেরও অন্যদের সমান মানের লেখাপড়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তারা শুধু যে মাধ্যমিক পর্যায়ের অন্যদের সমান লেখাপড়া করবে তা নয়, তারা আসলে একই প্রশ্নপত্রে একই সঙ্গে পরীক্ষা দেবে; শুধু মাদ্রাসার জন্য নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের পরীক্ষা নেবে মাদ্রাসা বোর্ড। কিছু বিষয় শিক্ষাবোর্ড, কিছু বিষয় মাদ্রাসা বোর্ড পরীক্ষা নেবে; সেটা কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি করবে কি না সেটা নিয়ে কেউ কেউ আশংকা প্রকাশ করেছেন, তাঁদের আশ্বস্ত করার জন্য বলা যায়, কম্পিউটারের ডেটাবেইসে রাখা তথ্যগুলো যোগ-বিয়োগ করে এর চেয়ে অনেক জটিল বিষয় অনেক সহজে সমাধান করে ফেলা যায়।
শিক্ষানীতিতে বলা আছে, ১২ বছর পরের পাবলিক পরীক্ষা হবে সৃজনশীল পদ্ধতি এবং মূল্যায়ন হবে গ্রেডিং পদ্ধতিতে। এ পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে বৃত্তি দেওয়া হবে। বর্তমান গ্রেডিং পদ্ধতিতে মাত্র কয়েকটা ধাপ থাকার কারণে ছাত্রছাত্রীদের সূক্ষ্মভাবে মূল্যায়ন করা যায় না। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রেডিংয়ের একটা অভিন্ন পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়েও সে পদ্ধতি চালু করা হবে, যেন দেশে একটা পদ্ধতি থাকে।
এ শিক্ষানীতিতে আমার একটা প্রিয় অংশ হচ্ছে বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষার বিষয়টুকু। অতীতে সব সময়ই আকার ইঙ্গিতে বা সোজাসুজি বলা হয়েছে, দেশের দরিদ্র মানুষেরা এ ধারায় লেখাপড়া করবে, যদিও এ দেশের জন্য এটা একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সত্যি কথা বলতে কি, এ ধারা থেকে বের হয়ে আসা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা দেশের উন্নয়নে অনেক বড় ভূমিকা রেখেছেন। এ শিক্ষানীতিতে প্রথমবার বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষাকে তার প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে, এটা হচ্ছে অত্যন্ত দ্রুত জনশক্তি তৈরি করার ধারা, এমনকি ভবিষ্যতে কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করার জন্যও সুপারিশ করা হয়েছে।
বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষা নিয়ে একেবারে অষ্টম শ্রেণী থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রীরা যেন বিভিন্ন দক্ষতা মান অর্জন করতে পারে, এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। একজন ছাত্র বা ছাত্রী বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষার ধারায় এসে তার উচ্চশিক্ষার পথ যেন রুদ্ধ না হয়ে যায় সেটা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষাকে অন্যান্য মাধ্যমিক শিক্ষার ধারার সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়গুলো নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এ ধারায় শিক্ষক-ছাত্রের অনুপাত হবে ১:১২ যদিও অন্যান্য ধারায় সেটি ১:৩০। আমাদের দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে এখন একজন শিক্ষক মাঝেমধ্যে কয়েক শ ছাত্রছাত্রীকে পড়ান (কিংবা পড়ানোর ভান করেন)। তাঁদের কাছে ৩০ জন ছাত্রছাত্রীর একটা ক্লাসকে নিশ্চয়ই স্বপ্নের মতো মনে হয়। শিক্ষানীতিতে একটু স্বপ্ন দেখতে দোষ কী!
৪.
এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না যে আমাদের দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুব দুরবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নতুন অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে, তাদের না আছে অবকাঠামো, না আছে জনবল, না আছে সম্মানজনক বাজেট। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমরা যখনই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নানা ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিচিতি হই, তখন এক ধরনের বিস্ময় নিয়ে আবিষ্কার করি, তাঁরা প্রায় সময়ই হাজার হাজার কোটি টাকার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। আমরা কেউই অস্বীকার করি না যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় বা উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অনেক বেশি প্রয়োজনীয় হচ্ছে দেশের প্রাথমিক-মাধ্যমিক স্কুলের লেখাপড়া, কিন্তু শুধু সেগুলোর দিকে নজর দিতে গিয়ে এ দেশের উচ্চশিক্ষার দিকে ঠিক করে নজর দেওয়া হচ্ছে না—দেশের একটা বড় ক্ষতি হচ্ছে। যদি উচ্চশিক্ষার জন্য আলাদা একটা মন্ত্রণালয় থাকত, তাহলে হয়তো উচ্চশিক্ষার ব্যাপারটা আরও বেশি গুরুত্ব পেত। তাই এ শিক্ষানীতিতে উচ্চশিক্ষার জন্য একটা আলাদা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ করা হয়েছে।
সাধারণভাবে উচ্চশিক্ষায় আমরা লেখাপড়া ও গবেষণা নিয়ে যা আশা করি, তার সবই এ শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছে। যে দুটো বিষয় আলাদা করে বলা যায়, তার একটা হচ্ছে কেন্দ্রীয়ভাবে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় মিলে একটা কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা। সারা দেশে ভর্তি পরীক্ষার ফরম বিতরণ ইত্যাদি নিয়ে যেসব ঘটনা ঘটছে, আমার ধারণা, এর কারণে সবাই নিশ্চয়ই এটা দেখতে চাইবে। দ্বিতীয় আরেকটা বিষয় শিক্ষানীতিতে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে, সেটা হচ্ছে, চার বছরের স্নাতক ডিগ্রিকে সমাপনী ডিগ্রি হিসেবে বিবেচনা করা। এমনিতেই সেশন জটের কারণে চার বছরের স্নাতক ডিগ্রি শেষ করতেই ছয়-সাত বছর লেগে যায়, তারপর সবাই স্নাতকোত্তর বা মাস্টার্স ডিগ্রি করতে শুরু করেন, যার অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হতে হতে একজন ছাত্র রীতিমতো মধ্যবয়স্ক হয়ে যান। শিক্ষানীতিতে বেশ স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষায় যাঁরা শিক্ষকতা করবেন, তাঁরা ছাড়া অন্য কারও মাস্টার্স করার কোনো প্রয়োজন নেই।
৫.
শিক্ষানীতির সব বিষয়কে এ ছোট আলোচনার মধ্যে আনা সম্ভব নয়; কিন্তু শিক্ষকদের মর্যাদা দেওয়ার জন্য এ শিক্ষানীতিতে যেসব প্রস্তাব রাখা হয়েছে, এর কয়েকটা উল্লেখ করা দরকার। এ শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে সচিবের পদমর্যাদার সমান করে এর সঙ্গে মিল রেখে বিশ্ববিদ্যালয় আর কলেজের অধ্যক্ষ আর শিক্ষকদের পদমর্যাদা নির্ধারণ করতে হবে এবং বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকদের বেতন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমান করতে হবে। মাধ্যমিক আর প্রাথমিকের শিক্ষকেরা যদি প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন, তাহলে আট ও ১০ নম্বর গ্রেডে, আর যদি প্রশিক্ষণ না নিয়ে থাকেন, তাহলে এক ধাপ নিচের গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করার কথা সুনির্দিষ্টভাবে বলা আছে।
দেশের প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের নিজের দায়িত্বের বাইরে অনেক ধরনের কাজ করতে হয় (শুনে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। গ্রামে স্যানিটারি ল্যাট্রিন কতগুলো আছে, মাঝেমধ্যে ক্লাসে পড়ানো বন্ধ করে সেগুলোও গুনতে হয়।) এ শিক্ষানীতিতে তাই বেশ স্পষ্ট করে বলে দেওয়া আছে, ছুটির সময় ছাড়া অন্য সময়ে তাঁদের এ ধরনের কাজে লাগানো যাবে না।
শিক্ষকদের নির্বাচনের জন্য একটা শিক্ষক নির্বাচন ও উন্নয়ন কমিশনের কথা বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষকদের নির্বাচন করে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের বিষয়টাও অনেক বিস্তারিতভাবে এ শিক্ষানীতিতে বলা আছে। শিক্ষা প্রশাসনে শিক্ষকেরা থাকেন না বলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা নানা ধরনের যন্ত্রণা সহ্য করে, তাই এখানে খুব স্পষ্ট করে বলা আছে, ‘শিক্ষা প্রশাসনে একেবারে সচিব থেকে শুরু করে সকল স্তরে যোগ্য শিক্ষকদের নিয়োগ দিতে হবে।’
৬.
এ শিক্ষানীতি বা অন্য কোনো শিক্ষানীতিই আসলে বর্তমান কিংবা ভবিষ্যতের সব বিষয়কে ধারণ করতে পারবে না। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য শিক্ষানীতিকে ক্রমাগত পরিমার্জন করতে হবে। এ দায়িত্বগুলো পালন করার জন্য সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের জন্য এ শিক্ষানীতিতে আইনের মাধ্যমে একটা জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করার কথা বলা হয়েছে। যোগ্য শিক্ষক, শিক্ষানুরাগী, প্রশাসক বা জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনের মতো একটা শক্ত শিক্ষা কমিশন তৈরি করে দেওয়া হলে সেই কমিশন দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে সব সময় দেখেশুনে রাখতে পারবে।
৭.
শিক্ষানীতিতে যা যা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, এতক্ষণ আমি সেগুলো লেখার চেষ্টা করেছি। যাঁরা ধৈর্য ধরে এতক্ষণ পড়ে এসেছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই লক্ষ করেছেন, আমি শিক্ষানীতির দর্শন বা আদর্শ অংশগুলো লিখিনি, লিখেছি অত্যন্ত বাস্তব বিষয়গুলো, যেগুলো সরাসরি আমাদের ছেলেমেয়েদের জীবনকে স্পর্শ করবে। আগেই বলা হয়েছে, আমার এ লেখাটা মোটেও শিক্ষানীতির পূর্ণাঙ্গ রূপ নয়, এটা ‘আমার’ দৃষ্টিতে দেখা অত্যন্ত খণ্ডিত একটা রূপ। লেখা শেষ করে আমি আবার শিক্ষানীতিটার মধ্যে চোখ বুলিয়ে গেছি, সাধারণ মানুষ যে বিষয়গুলোতে বা যে বাক্যগুলোতে আগ্রহী হতে পারে, সেগুলো কাগজে টুকেছি, টোকা শেষ হওয়ার পর গুনে দেখেছি, ৪০টা বিষয় লেখা হয়েছে। এ লেখায় ৪০টা নতুন বিষয়-বাক্য লেখা সম্ভব নয়, তাই ৪০টা থেকে বেছে ১৫টা বিষয় সংক্ষেপে লিখি—এক লাইনে, আমার ধারণা, যে কেউ বিষয়গুলোকে স্বাগত জানাবেন। বিষয়গুলো এ রকম:
১) শিক্ষাকে মুনাফা অর্জনের লক্ষ্য হিসেবে মুনাফা অর্জনের পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ২) আদিবাসী বা ক্ষুদ্র জাতি-সত্তার ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য তাদের ভাষায় কথা বলতে পারে, এ রকম শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে এবং তাদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে যেন বিকাশ করতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। ৩) লেখাপড়ার বিষয়টা এমনি এমনি ছেড়ে না দিয়ে প্রত্যেক শ্রেণী বা বিষয়ে আগে থেকে প্রান্তিক যোগ্যতা ঠিক করে নিয়ে সেই যোগ্যতা অর্জন করার লক্ষ্যে লেখাপড়া করতে হবে। (১২ বছর ইংরেজি পড়ে অনেকে এক লাইন ইংরেজি লিখতে পারে না এ রকম ব্যাপার যেন না ঘটে।) ৪) প্রাইমারি স্কুলে অনেক বাচ্চা ঝরে পড়ে, তারা স্কুলে আসে ক্ষুধার্ত হয়ে, ফিরে যায় ক্ষুধার্ত থেকে। কাজেই দুপুরে স্কুলে গরম খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। গরম খাবার কথাটা লেখা হয়নি, বোঝানো হয়েছে। ৫) পশ্চাত্পদ এলাকার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করতে হবে, যেমন, হাওর এলাকায় বর্ষার পানি নেমে আসে, সবাই পানিবন্দী হয়ে যায়। তাদের জন্য বা তাদের মতো অন্যদের জন্য আলাদা সময়সূচি করতে হবে। ৬) মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের প্রজননস্বাস্থ্য শিক্ষা দিতে হবে, শিক্ষানীতির নারীশিক্ষা অধ্যায়ে এটা আরও একবার লেখা হয়েছে বলে অনেকের ধারণা হয়েছে, এটা বুঝি শুধু মেয়েদের জন্য বলা হয়েছে; আসলে সবার জন্যই বলা হয়েছে। ৭) আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেভাবে গবেষণা হয় না, কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো আন্ডারগ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয়। সব বিশ্বব্যািলয়ে গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম শুরু করে জোরেসোরে গবেষণা করার কথা বলা হয়েছে। ৮) তথ্যপ্রযুক্তির কথা বলা হলেই আমরা সবাইকে কম্পিউটার শেখানোর কথা বলি, কিন্তু কম্পিউটার যে আসলে একটা ‘টুল’ এবং লেখাপড়া শেখানোর জন্য যে কম্পিউটারকে নানাভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটা আমরা লক্ষ করি না। শিক্ষানীতিতে সেটা সবাইকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৯) আমাদের অনেকের ধারণা, মেয়েরা শুধু মেয়েলি বিষয় পড়বে (যেমন গার্হস্থ্য বিজ্ঞান) শিক্ষানীতি সেটাকে পুরোপুরি বাতিল করে বলেছে, মেয়েদের লেখাপড়ার পূর্ণ স্বাধীনতা আছে, তাদের যেটা ইচ্ছে সেটা পড়বে, কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না। ১০) এতদিন প্রতিবন্ধীদের লেখাপড়া ছিল সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে, এটাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার কথা বলা হয়েছে। ১১) প্রতিটি প্রাইমারি স্কুলে লাইব্রেরি তৈরি করে ছোট বাচ্চাদের হাতে গল্পের বই তুলে দেওয়া হবে। ১২) জেনারেল এরশাদের আমলে বাংলাদেশের স্কুলের লাইব্রেরিয়ান পদটি বাতিল করে দেওয়ায় সারা দেশে কোনো হাইস্কুলে আর কার্যকর লাইব্রেরি নেই। লাইব্রেরিয়ানের পদ সৃষ্টি করে সব হাইস্কুলে আবার নতুন করে লাইব্রেরি কার্যকর করতে হবে। ১৩) এখন বোর্ডের বই লেখার জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, কয়েকজন লিখে জমা দেন, একজনেরটা বেছে নেওয়া হয়। তা না করে যাঁরা আসলেই ভালো বই লিখতে পারবেন, তাঁদের খুঁজে বের করে বই লেখার দায়িত্ব দিতে হবে। ১৪) স্কুল কমিটিতে নারী অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে সেগুলোকে আরও বেশি কার্যকর করা হবে। ১৫) ২০০৮-০৯ সালে শিক্ষার জন্য জাতীয় আয়ের মাত্র ২ দশমিক ২৭ শতাংশ খরচ করা হয়েছে, যদিও ‘ডাকার ফ্রেমওয়ার্ক’ অনুযায়ী বাংলাদেশ শিক্ষার জন্য জাতীয় আয়ের ছয় শতাংশ ব্যয় করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। সরকারকে দ্রুত তার অঙ্গীকার পালনের কথা বলা হয়েছে।
পাঠকদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটার আগে থামা উচিত। ধর্মান্ধ মানুষেরা এর মধ্যেই এ শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে মাঠে নেমে পড়েছে। যারা মনে করেন, বাংলাদেশটা ধর্মান্ধ মানুষের নয়, আমাদের, তাঁদের হয়তো মাঠে নামার প্রয়োজন নেই, কিন্তু তাঁরা যেন নিজেদের পছন্দ-অপছন্দের ব্যাপারগুলো অন্যদের জানাতে দ্বিধা না করেন। আমাদের পরের প্রজন্মকে যেন আমরা চমত্কার একটা শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে যেতে পারি, সে দায়িত্ব কিন্তু গুটিকতক মানুষের নয়—এ দেশের সবার।
মুহম্মদ জাফর ইকবাল: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।
সূত্র: প্রথম আলো নভেম্বর ৪, ২০০৯ সংখ্যা।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ২:২৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
নাগরিক বলেছেন:
ভালোই তো লেখছে।
ডিজিটাল কলম বলেছেন:
উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে দলীয় লেজুড়বৃত্তির ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করা উচিত........... তা না হলে ১২ ক্লাশ পর্যন্ত যতোই পড়নো হোক আর জ্ঞান লাভ করুক আমাদের কোনো উন্নতিই হবে না............. সবাই হবে শিক্ষিত নির্বাক জড় পদার্থ
কালোজাম বলেছেন:
হুমম পোস্টের লেখককে প্লাস।কিন্তু স্বপ্ন স্যারকে প্লাস দিতে পারলাম না। কারণ তিনি পূর্ববর্তী শিক্ষানীতির কোন প্রকার সীমাবদ্ধতা না দেখিয়েই অনেক মন্তব্য ঝেড়েছেন।
এটা বাস্তবায়ন হলে আমাদের অনেক উপকার হবে -- আর বৈষম্য কমবে ।
মুহাম্মদ জাফর ইকবাল কে পুরোনো রুপে ফেরত পেয়ে অনেক ভালো লাগলো ।
এখন মোল্লারা এটা নিয়া রাজনীতি না করলেই হয় ।
~~~
ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য ।
সাদাকালোরঙিন বলেছেন:
কালোজাম বলেছেন: হুমম পোস্টের লেখককে প্লাস।কিন্তু স্বপ্ন স্যারকে প্লাস দিতে পারলাম না। কারণ তিনি পূর্ববর্তী শিক্ষানীতির কোন প্রকার সীমাবদ্ধতা না দেখিয়েই অনেক মন্তব্য ঝেড়েছে
=========================================
@কালোজাম, শুধু কি সমালোচনার জন্য সমালোচনা করলেন ? স্যারের প্রতিটা মন্তব্যেই তো আগের শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করা আছে। যেমন : প্রাথমিক স্তরে শিক্ষা বৈষম্য, বিনোদনমূলক শিক্ষা পদ্ধতি না হওয়া, আদি ও ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কারিকুলাম না থাকা, ক্ষুধা ও দারিদ্রের কারনে দ্রুত ঝরে পড়া, কারিগরিশিক্ষার বৈষম্য , যথাপোযোগী পরীক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা, উচ্চ শিক্ষায় ভর্তি অনিয়ম ও গবেষনার দারিদ্রতা, মাদ্রাসা নামক অনুপোযোগী শিক্ষা আরো আরো । এতকিছুর পরেও আগের শিক্ষাব্যবস্থার কোন সীমাবদ্ধতা আপনার গোচরীভূত হলো না ?? নাকি আপনি চোখ থাকিতেও অন্ধ ??
সাম্প্রতিককালে বেশ কিছু ব্লগার জাফর ইকবাল স্যারের নামে বিষোদগার করেছেন তাঁর টিপাইমুখ ও অন্যান্য ইস্যুতে চুপ থাকার জন্য। আমার মনে হয় স্যারের এই শিক্ষানীতি নিয়ে ব্যস্ততাও তার একটা অন্যতম কারন হতে পারে ।
এত সুন্দর শিক্ষানীতির পরেও কিছু ধর্মব্যবসায়ী রাজনৈতিক দল ধর্ম গেল ধর্ম গেল বলে রব তুলবে নি:সন্দেহে । এসব পরজীবি ধর্মব্যবসায়িদের থেকে দেশের মুক্তি চাই ।
সাদাকালোরঙিন বলেছেন:
শিক্ষানীতি নিয়ে জাফরইকবাল স্যারের সহজ পাঠ্য বর্ণনা ও পোষ্টের লেখকের জন্য অনেক ধন্যবাদ রইল ।
বিডি আইডল বলেছেন:
পোষ্টটা দেবার জন্য ধন্যবাদ...কিছুদিন জাবর কাটা যাবে...প্রিয়তে রাখলাম
পেন্সিল বলেছেন:
উচ্চ শিক্ষার জন্য আলাদা মন্ত্রনালয়ের কি আদৌ দরকার আছে??শিক্ষানীতি ভালোই হয়ছে...সাধুবাদ।
নুভান বলেছেন:
" শুরুতে একটা শিশু যদি অন্য ধর্ম সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়, তাহলে সে সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা নিয়ে বড় হতে পারবে। "-সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা নিয়েও বড় হতে পারে, আবার জোকার নায়েকও হৈতে পারে!
উচ্চতর গণিতকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বিজ্ঞান শাখার জন্য - একমত।
"তাই এ শিক্ষানীতিতে উচ্চশিক্ষার জন্য একটা আলাদা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ করা হয়েছে।"-সহমত
ভালৈ হৈছে শিক্ষানীতি শুধু ২-১ টা মাইনর জিনিস বাদে।
রিয়াজুল ইস্লাম বলেছেন:
ইংরেজি মাধ্যমে মাধ্যমিক পর্যায়ের সিলেবাস পরিবর্তনের করার কথা বলা হয়নি। অর্থাৎ সাধারণ বাংলা মাধ্যমে বা মাদ্রাসায় যে কমন বিষয়গুলো পড়ানো হবে সেটা কিন্ত ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানো হবে না।সেক্ষেত্রে কিন্ত ঐ বৈষম্যমুলক সিলেবাসটা থেকেই যাচ্ছে।
বাংলাদেশ স্টাডিজের ("বাংলাদেশ স্টাডিজ" আরেকটু সুন্দর বাংলা একটা নাম দেয়া যায়না?) প্রচলন,
ষষ্ঠ শ্রেনী থেকে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা এবং
পরিবেশ সচেতনতার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্তি খুবই পজিটিভ বিষয় বলে মনে হয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নে পেশ করা প্রস্তাবগুলোও সমৎকার, তবে সেসব ক্যারি আউট করার মতো শিক্ষকগোষ্ঠী তৈরী করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
সমালোচনা
আগের শিক্ষানীতির সাথে গুণগত পার্থক্য তেমন একটা চোখে পড়লোনা, আমি আরো ব্যপক পরিবর্তন আশা করেছিলাম।
শিক্ষানীতিতে চোখ বুলিয়ে যে কয়েকটা পয়েন্ট মাথায় আসলো:
১। অস্টম শ্রেনী পর্যন্ত পড়ার পর একটা সার্টিফিকেট দেয়ার বিষয়টা পজিটিভ হতে পারে, তবে সেজন্য বিদ্যালয় অবকাঠামোর পরিবর্ধন ব্যাপারটা (মানে আরো অনেক অনেক প্রাইমারী স্কুল বানানো) কতটুকু জরূরী -- তার ব্যাখ্যাটুকু পেলামনা। এখনকার অবকাঠামো রেখ ক্লাস এইটের শেষ পরীক্ষাটাকে জাতীয় শিক্ষাবোর্ডের অধীনে নিয়ে নিলেই যথেষ্ট বলে মনে হচ্ছে।
২। দেখা যাচ্ছে পাবলিক পরীক্ষা হবে অন্ততঃ তিনটা -- (১) অস্টম, (২দশম আর (৩)দ্বাদশ শ্রেনীতে(পঞ্চম শ্রেনীরটায় কি সবার অংশ নেয়া বাধ্যতামূলক কিনা বুঝলামনা, সেটা হলে সংখ্যাটা চারে গিয়ে ঠেকবে)
এখানে যে ব্যাপারটা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তা হলো, আমরা এতদিন যে দুটো পাবলিক পরীক্ষা দিয়ে এসেছি তার জন্য সম্পূর্ণ বিনাকারণে আমাদের জীবনের আটমাস থেকে বারোমাস নষ্ট হচ্ছে (আমি এইচএসসি পাশ করেছি ৯৮ তে, সেবছর এইচএসসির রেজাল্ট হয়েছিলো ডিসেম্বরের ২০ তারিখ, ১৯৮২ তে ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হওয়া আমাকে একেবারে অযথাই তের বছর খরচ করতে হয়েছে বারো বছরের স্কুলিংয়ের জন্য)
পাবলিক পরীক্ষা যত ইচ্ছে নিন অসুবিধা নেই, আমার কথা হলো যে শ্রেনীতে পাবলিক পরীক্ষা নেয়া হবে তার রেজাল্ট যেন সেবছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রকাশিত হয়, সেই ব্যবস্থাটুকু নেয়া।
৩। নতুন নীতির ফলে শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মের প্রভাব বাড়বে না কমবে বোঝা যাচ্ছেনা, কারণ,
ক. কেচ্ছা-কাহিনী ভিত্তিক ধর্মশিক্ষা কুসংস্কারের সম্প্রসারণে ভূমিকা রেখে ব্যাকফায়ার করতে পারে!
খ. তাছাড়া আমি দেশের নন-মুসলিম বাচ্চাদের নিয়েও চিন্তিত; এমনিতেই পারিপার্শ্বিকতায় সংখ্যাগরিষ্ঠদের সামাজিক সংস্কৃতি থেকে তাদেরকে একটা চাপ সহ্য করতে হয়, এরপর বিদ্যালয়েও যদি আবার সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মও পড়তে হয় -- তাতে তাদের কনফিউজড হয়ে যাবার সম্ভাবনা অনেক বেশী। মনে রাখা দরকার, এধরনের মিথস্ক্রিয়া টাইপের ব্যাপারগুলোতে শেষমেষ সংখ্যাগরিষ্ঠরাই প্রাধান্য বিস্তার করে ফেলে।
একটা উদাহরণ দিই (আমার মনে হচ্ছে আমাদের দেশে এরকমটা হওয়া খুবই সম্ভব) -- ইসলাম ধর্ম নিয়ে কোন একটা প্রশ্নের উত্তর না দিতে পারার কারণে একজন হিন্দু/খ্রিস্টান ছাত্রকে স্যার যত সহজে মারতে পারবেন, হিন্দু/খ্রিস্টান ধর্মের কোন একটা পড়া না পারার কারণে স্যার একজন মুসলিম ছাত্রকে তত সহজে মারতে হয়তো ভয় পাবেন (তাত্ত্বিকভাবে অনেক মধুর কথা বললেও আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এমনটা ঘটা খুবই স্বাভাবিক)।
আমার মতে স্কুলে ধর্ম যদি পড়াতেই হয় তবে এমনভাবে পাঠ্যক্রম ঠিক করে দেয়া উচিত যাতে ধর্মপ্রসূত সাম্প্রদায়িকতাটা না তৈরী হয়, এবং সেজন্য খুব উঁচুমানের হার্ডওয়ার্ক দরকার।
৪। বলা হচ্ছে, "শিক্ষানীতিতে বেশ স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষায় যাঁরা শিক্ষকতা করবেন, তাঁরা ছাড়া অন্য কারও মাস্টার্স করার কোনো প্রয়োজন নেই।"
এটা এখনকার যুগের সাথে যায়না, আন্ডারগ্র্যাড করা বিষয়ের একটা বিশেষ অংশের ব্যাপারে প্রফেশনাল হয়ে ওঠার জন্য মাস্টার্সের প্রয়োজন হয়, যেজন্য শিক্ষকতার বাইরের মানুষদের জন্যও এই সুযোগ খোলা রাখাই উচিত। যদি ছাত্রসংখ্যা কমানোটা উদ্দেশ্য হয় তাহলে বরং মাস্টার্স পাশ করাকে আরো কঠিন করে প্রণয়ন করা উচিত যাতে যাদের সত্যিই আগ্রহ আছে তারাই এতে অংশ নেয়।
আমাদের ইউনিভার্সিটিগুলোতে ধীরে ধীরে পিএইচডি দেয়ার কাজও শুরু করা উচিত।
লালসালু বলেছেন:
নাগরিক বলেছেন: ভালোই তো লেখছে।
তানিয়া মুন বলেছেন:
প্রিয়তে..
শেলী বলেছেন:
শুরুতে একটা শিশু যদি অন্য ধর্ম সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়, তাহলে সে সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা নিয়ে বড় হতে পারবে। "আমার মনে হয় এতে confused হয়ে যাবে বাচ্চারা। আমি একটা উদাহরণ দেই।তারা ইসলামে পড়বে তওহীদ আর হিন্দু ধর্মে পড়বে তার উল্টা,তখন কিন্তু তারা জগাখিচুরি পাকিয়ে ফেলবে। তখন এরা ধর্মটাকে বাদ দিতে চাইবে। আপনাদের কি মনে হয়?
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















