বর্তমানে সারা বিশ্বের রমরমা ব্যবসা পর্নোগ্রাফি। এই অসীম জগতে পর্নোগ্রাফির যেন কোন শেষ নেই। এটা অমর, চিরন্তন। একে কেবল একরূপ থেকে অন্যরূপে রূপান্তর করা যায় মাত্র-শক্তির নিত্যতা সূত্রের মতো। আমেরিকা, চীন, ব্রাজিল, ইন্ডিয়া এমনকি খোদ সৌদি আরব, পাকিস্তানও এই তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বাংলাদেশের মতো মূল্যবোধসম্পন্ন দেশের জন্য এটা বড় হুমকি। একটি চক্র যেটা ব্রেইন ওয়াশ করছে মানুষদের তাদের মতোই এই পর্নো কিংরা চড়ে খাচ্ছে সারা বিশ্বে। এই যে একটা সংঘবদ্ধ চক্র, অনলাইনে কিংবা ডিভিডি-সিডি রেন্টে তাদের কারবার, কোটি মানুষ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ইজি অ্যাকসেস করে বাগিয়ে নিচ্ছে শত শত, অযুত পর্নো ভিডিও, ছবি...নানা রঙের, নানা বিকৃতির।
প্রত্যেকটা পর্নো সাইটে লেখা থাকে : অ্যাডাল্ট ম্যাটেরিয়াল। একুশ বছরের উর্ধ্বে কারো জন্য প্রযোজ্য নহে। এমনকি আপনার দেশে এ ধরণের ম্যাটেরিয়াল প্রদর্শন, দর্শন নিষিদ্ধ হলে এক্ষুণি এই ওয়েবসাইট দেখা বন্ধ করুন...
নিতান্তই হাস্যকর আবেদন। অন্ধকারে প্রবেশের পূর্বে একটু শিহরণ জাগানো। ব্যস্ এরচেয়ে বেশি কিছু না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, আমি দেখেছি আমার এলাকার সাইবার ক্যাফেগুলোতে বিকৃত ওয়েবসাইট প্রদর্শন করে তেরো কিংবা তার থেকেও ছোট শিশু-কিশোর। তাদের অপরিণত মানসিকতা নিয়ে সেটা দেখছে এবং বিকৃত ভুল ধারণা নিয়ে ঘরে ফিরছে। টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে আমরা আন্দোলন করছি, নারী অধিকার, এসিড সন্ত্রাস নিয়ে গলা ছিঁড়ে ফেলছি চিৎকার করে... অথচ আমরা কী চিন্তা করি পর্নোগ্রাফির ভয়াবহতা? মানুষের মধ্যে এক ধরণের যৌনপ্রবৃত্তি সৃষ্টি করছে এই পর্নোগ্রাফি। সেটা বিস্তারিত না বলে এভাবে বলি : পর্নোগ্রাফি শিল্পের সাথে যারা জড়িত তারা একে বিভিন্নভাবে ক্যাটেগোরাইজ করেছে : হার্ডকোর, গে, লেসবিয়ান, ইনসেস্ট, শিমেল, এনিমেল আরো অনেক বিচিত্র শব্দ যেগুলোর পেছনে বিস্ময়কর বিকৃত উপস্থাপন লুক্কায়িত। এগুলো একেকটা একেক রুচির দর্শকের জন্য। টিনেজারদের জন্য টিন, সমকামীদের জন্য গে-লেসবিয়ান। এখন একজন সদ্যকিশোর যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক চোখ দিয়ে গে-লেসবিয়ানদের কুরুচিপূর্ণ দৃশ্য অবলোকন করে তাহলে তার মানসিক অবস্থা যে কিরকম সংশয়পূর্ণ হতে পারে সেটা একজন কিশোরই বলতে পারবে। এই মাদারির খেল পর্নোগ্রাফি দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। বাড়ছে গোপনে মিলনদৃশ্য ভিডিও করে রাখার প্রবণতা। এই জিনিসগুলোই নষ্ট করছে আমাদের চেতনা। আমাদের স্বাধীনতার উদ্দেশ্য ছিলো এমন এক দেশ, যেখানে হিন্দু-মুসলিম-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ সবাই সমান। কিন্তু না, পাশ্চাত্য নিয়ন্ত্রিত বিশ্বে অন্ধকার দুর্গন্ধ নর্দমায় সবারই গোসল করতে হবে, বাংলাদেশও যে তার ব্যতিক্রম হবে, এমনটা আশা করা কী খুব বেশি কিছু?
না, কারণ বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম জানে কিভাবে অন্যায়কে ঘৃণা করতে হয়। অনেক প্রতিভাবান, হৃদয়বান, ভালো ছেলে-মেয়ে আছে দেশে। তারা চাইলেই মাদকের বিস্তার রোধ করতে পারে। ইয়াবা কালচার বাংলা সংস্কৃতির বিপরীত-এটা মানুষকে বোঝাতে পারে। যে তরুণপ্রজন্ম আজ পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত তারা যদি বুঝতে পারে, গার্জিয়ান কিংবা প্রবীণরা যি তাদের বোঝাতে পারে, যৌনতার অর্থ এসব নোংরামি নয়। তাহলে কি তারা বুঝবে না? আমাদের, তরুণদের ওপরই নির্ভর করছে সবকিছু। নষ্ট রাজনীতির দুষ্টচক্র থেকে বের হয়ে গঠন করতে হবে এমন এক যুবসমাজ যেখানে অন্ধকারমুক্ত, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে যেতে হবে। কিশোর কবি সুকান্তের মতো লক্ষ সুকান্ত আজ বড় প্রয়োজন।
বাড়ছে জনসংখ্যা। খোদ ঢাকা শহরের বিস্ফোরণ ঘটছে জনসংখ্যার। এরকম আরো কয়েকটা ঢাকা যদি থাকতো/ঢাকার মতো উন্নত শহর যদি গড়ে তোলা যেত তাহলে হয়তো বা শুধু ঢাকার ওপর এই অত্যধিক চাপ কমে যেত। জীবিকার তাগিয়ে মানুষ বেছে নিচ্ছে বিচিত্র সব পেশা। প্রসটিটিউশন বা পতিতাবৃত্তি আদিম পেশা। বেশিরভাগ মেয়েরাই বাধ্য হয় এই পেশায় যেতে। নারী পাচার, দালালচক্র, পারিবারিক আর্থিক সমস্যা নানা কারণে একজন নারী তার নারীত্বের বিরুদ্ধে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এক পোস্টে হয়তো সবটুকু কারণ তুলে ধরা সম্ভব নয়। প্রচুর জানা দরকার, তথ্য দরকার। আমি যে শ্রেণীর কথাই বলি না কেন, একদল আছে ধনী মানুষদের জন্য, আরেকদল চিড়িয়াখানার (পতিতালয়) এর জন্য। পতিতালয় এর এক পতিতা যেটুকু আয় করেন তার সিংহভাগই যায় সর্দারনীর হাতে। সেখান থেকে সম্মানিত পুলিশ সদস্যবৃন্দ একটা অংশ পান। যে জায়গায় ব্যবসা হচ্ছে সেখানকার মালিক একটা অংশ পায়। বলতে গেলে সরকারের কোষাগারেও একটা অংশ জমা হয়!
এ ধরণের হাজারো সমস্যা, বিচিত্র ব্যবসা জর্জরিত এই দেশ একদিন আদৌ পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে কি? দেশ পরিচালনার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরাই যেখানে জনগণের সাথে দূরত্ব রেখে রেষারেষি করতে ব্যাপক ভালোবাসেন, সেখানে আমরা তরুণদের নিয়ে স্বপ্ন দেখি, আমজনতার কী দোষ? নাকি সব পেটের দায়? কলকাঠি নাড়ছে ধনী দেশগুলো... সেই অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে একেকটি উন্নয়নশীল দরিদ্র রাষ্ট্র।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ১২:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


