পর্নোগ্রাফির ভালো কোনো দিক আছে কি-না, জানা নেই, তবে গবেষণায় দ্যাখা গেছে যে, যৌনসংক্রান্ত অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে এই পর্নোগ্রাফির ভূমিকা রয়েছে। এবং সেটা মোটেও অস্বীকার করার মতো কোন কিছু নয়।
Research concerning the effects of pornography is inconclusive. Some studies support the contention that the viewing of pornographic material may increase rates of sexual crimes, while others have shown no effects, or a decrease in the rates of such crimes. (তথসূত্র : উইকিপিডিয়া)
পর্নোগ্রাফিক সাইটগুলোতে শুরুতে "১৮ কিংবা ২১ বছরের নিম্নের ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য নয়" কিংবা "আপনার এলাকায় পর্নো মুভি অবলোকন অবৈধ হলে এক্ষুণি সাইট ত্যাগ করুন" প্রভৃতি মিছরির ছুরি টাইপ কথা-বার্তা লিখা থাকে। ব্যাপারটা অনেকটা "চোরের মা'র বড় গলা'র মতো! এতে করে শিশু-কিশোরদের তো পর্নো মুভি থেকে দূরে রাখা সম্ভব হচ্ছেই না, বরং "ওকে" বাটনে ক্লিক করে নিষিদ্ধ ইন্টারনেট অন্ধকারে প্রবেশ করা অনেকটা মজারই বটে! একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পুলিশ ৮৪টি পর্নো ওয়েবসাইট এর তালিকা বিটিআরসি বরাবর পাঠিয়ে সেগুলো বন্ধের ব্যবস্থা করতে বলে। তবে বিটিআরসির চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ দাবি করেন, বিটিআরসির একার পক্ষে এই কাজ করা সম্ভব নয়। ওয়েবসাইটগুলো আজ বন্ধ করলে সামান্য নামের এদিক সেদিক করে কালই আবার চালু হবে।
প্রশ্ন হলো :
১. ওয়েবসাইটগুলো বন্ধে বিটিআরসি'র কেন এত অনীহা?
২. বন্ধ করলে কালই যে আবার চালু হবে নতুন আঙ্গিকে - এতটা নিশ্চিত হবার কারণ কী বিটিআরসি চেয়ারম্যানের?
চেয়ারম্যানের এ দাবির সমালোচনা করে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি জনাব মোস্তফা জব্বার চমৎকার বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আবারও অপরাধ ঘটার আশঙ্কায় বিদ্যমান অপরাধ দমনে উদ্যোগ না নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) গুলোকে ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জের আওতায় নিলেই এসব কাজ যারা করছে তাদের চিহ্নিত করা সম্ভব।
সবমিলিয়ে বিটিআরসির কালক্ষেপণ কোনোমতেই মেনে নেয়া যায় না। এটার সাথে যেহেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত (শিশু পর্নোগ্রাফির ওপর শিশু অধিকার সম্মেলনে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী) তাই দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে সরকার ও বিটিআরসিকে। সতর্ক থাকতে হবে আবালবৃদ্ধবনিতাকে। অন্যান্য নির্লজ্জ জাতির মতো আমরা পর্নোগ্রাফির অবাধ ও অবৈধ বিস্তারকে কোনোক্রমেই মেনে নিতে পারি না। এই অশ্লীলতা বাংলা চলচ্চিত্রের ভরাডুবি করেছিলো। এখন তার পরিবর্তন হচ্ছে। ভালো বাংলা চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে। প্রিভেনশন ইজ বেটার দেন কিওর... অর্থাৎ পর্নোগ্রাফির এই বৃক্ষ যাতে মহীরূহে পরিণত না হয় তার জন্য এগিয়ে আসতে হবে সবাইকেই। নাহলে ডিজিটাল বাংলাদেশে প্রবেশের পাশাপাশি আমরা আমাদের মনুষ্যত্বের একটি আলোকিত দিককে অন্ধকারে রেখে অন্যান্য পর্নো ইন্ডাস্ট্রি কেন্দ্রিক দেশগুলোর মতো ক্যামেরার সামনে ন্যাংটো হতে শিখবো (?)
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



