somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৮৪টি পর্নোসাইট বন্ধে বিটিআরসির কালক্ষেপণ : মেনে নেয়া যায় না

২৬ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১০:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কয়েক বছর ধরেই ইন্টারনেট পর্নোগ্রাফি অন্যান্য সব দেশের মতো এই ডিজিটাল বাংলাদেশেও একচেটিয়া বাণিজ্য এবং প্রভার বিস্তার করতে শুরু করেছে। শুরুতে ইন্টারনেট সহজলভ্য না হওয়ায় এর অন্ধকার দিকটি সম্পর্কে অজ্ঞাত ছিলো শিশু এবং উঠতি বয়সি কিশোর-কিশোরিরা। তবে আদিযুগের ভিসিআর, ভিসিপি, ভিসিডি এবং সর্বশেষ আধুনিক সংযোজন ডিভিডিতে পর্নোগ্রাফি মুভি অনেকটাই 'হটকেক' ছিলো, বিশেষত ভিডিওর দোকানগুলোতে, কিন্তু বলা বাহুল্য, সেগুলোর মধ্যেও নানা রেস্ট্রিকশন ছিলো। কিন্তু এখন সর্বত্র ইন্টারনেট এর বিস্তার হওয়াতে শুধু সাইবার ক্যাফে নয় বাসা-বাড়িতে বসেও পর্নোগ্রাফি অবলোকন, মেয়েদের আপত্তিকর ছবি আপলোডকরণ এমনকি নিজেরাও ক্যামেরার মাধ্যমে একটু হলেও এই লাইনে হাত পাকানোর ব্যাপারটা অনেকটাই ডাল-ভাতের মতো হয়ে গেছে! সব কিছু মিলিয়ে, পর্নোগ্রাফির যে প্রকোপ, সারা বিশ্বজুড়ে এর যে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক, দুর্দণ্ড প্রতাপ নিঃসন্দেহে বিস্মিত হবার মতো! মানুষ মাত্রেরই নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি দুর্বার আকর্ষণ। স্বভাবতই কিশোর বয়সে এসব জিনিসের প্রতি আগ্রহ থাকে অপরিসীম। আর এই বয়সটাতেই বিপথগামী হবার সম্ভাবনা শতকরা আশি ভাগ। শতকরা ৭৭ ভাগ শিশু-কিশোর বর্তমানে পর্নোগ্রাফির ভোক্তা (সূত্র : মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন জরিপ ২০০৯) আরেকটু হিসাব করলে হয়তো সবমিলিয়ে শতকরা ৯০ ভাগ হবারও সম্ভাবনা রয়েছে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন হাজারো পর্নো ওয়েবসাইট নির্মিত হয় সেখানে আমাদের দেশে মাত্র ৮৪টি পর্নো ওয়েবসাইট বন্ধ করতে বলা হয়েছে, ব্যাপারটা হাস্যকর হলেও আমার এবং অনেকের মতে, কিছুটা কার্যকর। কারণ এতে করে মানুষ কিছুটা হলেও সতর্ক হয়ে উঠবে। সাইবার অপরাধীদের গ্রেপ্তার করার মতো প্রযুক্তি নেই বাংলাদেশে - এ কথাটা শোনার চাইতে ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করে দেয়াটাই কার্যকরী করে বলে মনে করি আমি।

পর্নোগ্রাফির ভালো কোনো দিক আছে কি-না, জানা নেই, তবে গবেষণায় দ্যাখা গেছে যে, যৌনসংক্রান্ত অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে এই পর্নোগ্রাফির ভূমিকা রয়েছে। এবং সেটা মোটেও অস্বীকার করার মতো কোন কিছু নয়।

Research concerning the effects of pornography is inconclusive. Some studies support the contention that the viewing of pornographic material may increase rates of sexual crimes, while others have shown no effects, or a decrease in the rates of such crimes. (তথসূত্র : উইকিপিডিয়া)

পর্নোগ্রাফিক সাইটগুলোতে শুরুতে "১৮ কিংবা ২১ বছরের নিম্নের ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য নয়" কিংবা "আপনার এলাকায় পর্নো মুভি অবলোকন অবৈধ হলে এক্ষুণি সাইট ত্যাগ করুন" প্রভৃতি মিছরির ছুরি টাইপ কথা-বার্তা লিখা থাকে। ব্যাপারটা অনেকটা "চোরের মা'র বড় গলা'র মতো! এতে করে শিশু-কিশোরদের তো পর্নো মুভি থেকে দূরে রাখা সম্ভব হচ্ছেই না, বরং "ওকে" বাটনে ক্লিক করে নিষিদ্ধ ইন্টারনেট অন্ধকারে প্রবেশ করা অনেকটা মজারই বটে! একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পুলিশ ৮৪টি পর্নো ওয়েবসাইট এর তালিকা বিটিআরসি বরাবর পাঠিয়ে সেগুলো বন্ধের ব্যবস্থা করতে বলে। তবে বিটিআরসির চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ দাবি করেন, বিটিআরসির একার পক্ষে এই কাজ করা সম্ভব নয়। ওয়েবসাইটগুলো আজ বন্ধ করলে সামান্য নামের এদিক সেদিক করে কালই আবার চালু হবে।

প্রশ্ন হলো :

১. ওয়েবসাইটগুলো বন্ধে বিটিআরসি'র কেন এত অনীহা?
২. বন্ধ করলে কালই যে আবার চালু হবে নতুন আঙ্গিকে - এতটা নিশ্চিত হবার কারণ কী বিটিআরসি চেয়ারম্যানের?


চেয়ারম্যানের এ দাবির সমালোচনা করে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি জনাব মোস্তফা জব্বার চমৎকার বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আবারও অপরাধ ঘটার আশঙ্কায় বিদ্যমান অপরাধ দমনে উদ্যোগ না নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) গুলোকে ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জের আওতায় নিলেই এসব কাজ যারা করছে তাদের চিহ্নিত করা সম্ভব।

সবমিলিয়ে বিটিআরসির কালক্ষেপণ কোনোমতেই মেনে নেয়া যায় না। এটার সাথে যেহেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত (শিশু পর্নোগ্রাফির ওপর শিশু অধিকার সম্মেলনে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী) তাই দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে সরকার ও বিটিআরসিকে। সতর্ক থাকতে হবে আবালবৃদ্ধবনিতাকে। অন্যান্য নির্লজ্জ জাতির মতো আমরা পর্নোগ্রাফির অবাধ ও অবৈধ বিস্তারকে কোনোক্রমেই মেনে নিতে পারি না। এই অশ্লীলতা বাংলা চলচ্চিত্রের ভরাডুবি করেছিলো। এখন তার পরিবর্তন হচ্ছে। ভালো বাংলা চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে। প্রিভেনশন ইজ বেটার দেন কিওর... অর্থাৎ পর্নোগ্রাফির এই বৃক্ষ যাতে মহীরূহে পরিণত না হয় তার জন্য এগিয়ে আসতে হবে সবাইকেই। নাহলে ডিজিটাল বাংলাদেশে প্রবেশের পাশাপাশি আমরা আমাদের মনুষ্যত্বের একটি আলোকিত দিককে অন্ধকারে রেখে অন্যান্য পর্নো ইন্ডাস্ট্রি কেন্দ্রিক দেশগুলোর মতো ক্যামেরার সামনে ন্যাংটো হতে শিখবো (?)



সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:০০
১৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×