স্বাধীনতা দিবসের স্যালুটঃ ঘোষক নিয়ে ক্যাচাল
২৬ শে মার্চ, ২০০৭ সকাল ৯:০৬
উৎসর্গঃ সামহোয়্যারকে বিদায় জানানো ব্লগার আনোয়ার সাদাত শিমুল, যার বন্ধুতা আমাকে প্রেরণা দেয় অহরহ!
ব্লগে দেখলাম সেদিন জনৈক রহমান বিশাল খাঁটাখাঁটনি করছেন স্বাধীনতার ঘোষকের নব্যইতিহাস রচনার জন্য। ভালোই লেখছিলেন তিনি, কেউ কেউ দেখলাম তাঁর কোলে চইড়া পিঠে আদুরে চাপরও দিয়া আসছে, সুখের কথা, বড়ই সুখের কথা!
যারা যারা রহমান ভাইয়ের পিঠ চাপরে শামিল হোন নাই, তারা আসেন। যারা শামিল হইছেন, তারাও আসেন। মূল লেখা পড়ার আগে এই গানটা শোনেন ।
মূল লেখাঃ
স্বাধীনতার ৩৬তম বার্ষিকীতে এসেও যে বিষয় গুলো এখনো মুখরোচক, ঘোষক বিতর্ক তার মধ্যে অন্যতম। এতগুলো দিন অতিবাহিত করার পরেও স্বাধীনতার ঘোষক বিতর্কে এখনো একমত হওয়া গেলো না। স্থান দেয়া গেলো না স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে তাঁর জন্য সংরক্ষিত আসনে, দেওয়া হলো না তৎকালীন সেক্টর কমান্ডার, অন্যতম মুক্তিসেনানী মেজর জিয়াউর রহমানকে তাঁর যোগ্য সম্মান।
বাংলাদেশের জন্মের পর থেকেই চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করে চলেছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। রাজনৈতিক ক্ষেত্র এদিক দিয়ে সবচাইতে এগিয়ে। বর্গীদের হানা বন্ধ হলেও তাদের উত্তরসূরীরা কখনোই থেমে ছিলো না এদেশে। ধন-সম্পদের মতো তারা তাদের হাত বাড়িয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাসের দিকেও। কালো পর্দা দিয়ে দৃষ্টি ঢেকে দিয়েছে এদেশের মানুষের, রেখেছে অন্ধকারে। রচিত হয়েছে নতুন ইতিহাস, যে ইতিহাস সত্যকে ধারণ করেনা সে ইতিহাস। স্বাধীনতার নানা ঘটনার সাথে চাপা পরে গেছে "স্বাধীনতার ঘোষক"-এর প্রকৃত নাম।
স্বাধীনতার ঘোষকের কথা বললে সাধারনভাবে যে প্রমান সবাই চোখের সামনে পেতে চায় তা হলো 'দি স্টেটসম্যান' পত্রিকার মার্চ ২৭, ১৯৭১ এর সংখ্যাটি। মি. রহমান-এর উদ্বৃতি দিয়ে প্রকাশ করা ঘোষনাটিকেই ধরা হয় মহান স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষনা। বলাহয় মি. রহমান বলতে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানকেই বুঝিয়েছিলো স্টেটসম্যান। আর তাই মেজর জিয়াউর রহমান হলেন বংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক।
কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বাস্তবতা ছিলো খানিকটা ভিন্ন। মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম থেকে প্রথম যে ঘোষনাটা পাঠ করেন (বঙ্গবন্ধুর পক্ষে) তার সময় ছিলো ২৭ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট। ২৭ মার্চের সন্ধ্যায় প্রচারিত ঘোষনাটি ২৭ তারিখের পত্রিকায় আসাটা কোনভাবেই যুক্তিসিদ্ধ হয় না। প্রশ্ন থেকে যায়, তাহলে দি স্টেটসম্যান কোন ঘোষনার কথা উল্লেখ করেছিলো, আর মি. রহমান বলতে কাকে বুঝিয়েছিলো?
ইতিহাস বিকৃতির স্বীকার অনেকেই মানতে নারাজ যে ২৫শে মার্চের কালো রাতে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানী সামরিক জান্তার হাতে আটক হবার আগেই আলোচনা ভেস্তে গেলে কি পরিস্থিতি হতে পারে তা আঁচ করেছিলেন এবং তাঁর লিখিত দু'টি ঘোষনার পাশাপাশি নিজের কণ্ঠে একটি মেসেজ তৈরী করেছিলেন যা কিনা ২৫শে মার্চের কালো রাতে পাকিস্তানী সামরিক জান্তার হত্যাজজ্ঞ শুরু হওয়ার পর একটি হ্যান্ডি ট্রান্সমিটারের সাহায্যে প্রচার করা হয়।
এই প্রি-রেকর্ডেড মেসেজ এবং হ্যান্ডি ট্রান্সমিটারের বিষয়টি গোঁপন থাকে বঙ্গবন্ধু স্বয়ং এবং তাঁর খুব কাছের কয়েকজন সিনিয়র সহকর্মীর মাঝে। ২৫শে মার্চ রাত ১১:৩০ মিনিটে বলধা গার্ডেন থেকে হ্যান্ডি ট্রান্সমিটারের সাহায্যে 'রেডিও পাকিস্তান ঢাকা'-এর ফ্রিকোয়েন্সীর খুব কছাকাছি ফ্রিকোয়েন্সীতে প্রচার করা হয় প্রি-রেকর্ডেড মেসেজটি, যাতে করে যারা যারা রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা কেন্দ্র শুনবে তারা তখন মেসেজটিও শুনতে পাবে, এই ছিলো উদ্দেশ্য। আর সবচেয়ে বড় যে উদ্দেশ্যটি ছিলো তা হলো ঢাকায় অবস্থানরত সকল দেশী-বিদেশী সাংবাদিকদের এবং আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের কাছে মেসেজটি পৌঁছানো। সে উদ্দেশ্য যে সফল হয়েছিলো তার প্রমান ডেভিড লসাকের 'পাকিস্তান ক্রাইসিস' বইটি। এই মেসেজটিই হচ্ছে মহান স্বাধীনতার ঘোষনা যা বাংলাদেশ ডকুমেন্ট হিসেবে ভারতে সংরক্ষিত আছে এবং যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার দলিলে রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর আমলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ভুলে যাবার আগে এখানে বলে নিই, তৎকালীন ডেইলী টেলিগ্রাফের সাংবাদিক লসাক তাঁর বইটি প্রকাশ করেন বিলেত ফিরে গিয়ে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের আগেই।
গোটা পৃথিবী যাতে বাংলার মানুষের স্বাধীকার আদায়ের আন্দোলনকে উগ্র-বিচ্ছিণ্ণতাবাদীদের আন্দোলনে রূপ না দিতে পারে সেজন্যই বঙ্গবন্ধু অপেক্ষা করেছিলেন সঠিক সময়ের। সিদ্দিক সালিক তাঁর "হুইটনেস টু স্যারেন্ডার"- এ লিখেছেন যে বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর সিনিয়র সহকর্মীর মাঝে গোঁপন বৈঠকের সময়ই নির্ধারিত হয়েছিলো যুদ্ধ বাঁধলে কয়টা সেক্টরে ভাগ হয়ে যুদ্ধ পরিচালিত হবে এবং কে হবেন যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক।
২৫ শে মার্চ রাতে ইয়াহিয়া বাঙালী জাতিকে ব্লাফ দিয়ে পালিয়ে যাবার পরই বঙ্গবন্ধু গোঁপন পরামর্শ মোতাবেক সিনিয়র নেতাদের ভারতে পালিয়ে গিয়ে যুদ্ধ পরিচালনার নির্দেশনা দেন। অত:পর তিনি নায়ীম গওহর ও মোশাররফ হোসেনের মাধ্যমে টেলিফোন বার্তা পাঠান চট্টগ্রামে জহুর আহম্মদ ও এমআর সিদ্দিকের কছে। এর পরপরই বলধা গার্ডেন থেকে বাজানো হয় বঙ্গবন্ধুর "দিস মে বি মাই লাস্ট মেসেজ, ফ্রম টুডে বাঙলা দেশ ইজ ইন্ডিপেন্ডেন্ট..." এই অবিস্মরণীয় প্রি-রেকর্ডেড মেসেজটি। এই মেসেজটির কথা ইয়াহিয়া খান ২৬ মার্চ বেতার ভাষনে বলেছিলেন এবং পরবর্তীতে পাকিস্তান থেকে প্রকাশিত শ্বেতপত্রেও উল্লেখ করা হয়।
একই ঘোষনার মেসেজ ইপিআর যখন পাঠাতে শুরু করে ততোক্ষণে ২৫ শে মার্চের রাত শেষ হয়ে ২৬ শে মার্চ শুরু হয়ে গিয়েছিলো বলেই আমরা আমাদের স্বাধীনতা দিবস পালন করি ২৬ শে মার্চ।
রবার্ট পেইনের ম্যাসাকার অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু তখন আরেকটি যুদ্ধ ঘোষনার মেসেজ ডিকটেট করেন "পাক আর্মি সাডেনলী এট্যাক্ট ইপিআর বেইস এট পিলখানা এন্ড রাজারবাগ পুলিস লাইন, কিলিং সিটিজেন্স..."।
২৬ শে মার্চ দুপুরে প্রথম স্বাধীনবাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয় এম এ হান্নানের ভরাট কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনা বার্তা। বেলাল মোহাম্মদের তত্ত্বাবধানে আবুল কাশেম সন্দীপ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষনার উল্লেখ করে সাধারণকে উদ্দীপ্ত করার জন্য বিভিন্ন ধরণের বক্তব্য প্রচার করতে থাকেন।
এর মধ্যে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান ফোর্স নিয়ে প্রতিরোধ যুদ্ধ করতে করতে পিছিয়ে পটিয়া চলে আসেন। তখন তাঁকে অনুরোধ করা হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে পাহারা বসানোর জন্য। মেজর জিয়া সে অনুরোধ সানন্দে গ্রহন করেন এবং ২৭ তারিখ সন্ধ্যায় তিনি বেতার কেন্দ্র পরিদর্শনে এলে বেলাল মোহাম্মদ তাঁকে অনুরোধ জানান যেন সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে তিনি একটি ঘোষনা দেন।
মেজর জিয়া স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে পরপর দুটি ঘোষনা পাঠ করেন যার দ্বিতীয়টি ছিলো এরকম,
"আই, মেজর জিয়াউর রহমান ডু হেয়ারবাই ডিক্লেয়ার দ্যা ইনডিপেন্ডেস অফ বাংলাদেশ অন বিহাফ অফ আওয়ার গ্রেট ন্যাশনাল লীডার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান...", বেলাল মোহাম্মদের "স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র" বইতে উল্লেখ আছে তা।
একথা ঠিক যে মেজর জিয়াউর রহমানের ঘোষনা সবচাইতে বেশী মানুষ শুনেছে এবং বঙ্গবন্ধুর ডাকে পলিটিশিয়ানদের সাথে সেনাবাহিনীও যোগ দিয়েছে যুদ্ধে- এই ঘোষনায় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তুমুল জাগরণ তৈরী হয়।
পক্ষান্তরে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনার মেসেজ পাঠানো হয় বঙ্গবন্ধুর প্রি-রেকর্ডেড সেই মেসেজটির মাধ্যমে। আর মাস পিপোলের কাছেই যদি মেসেজ পৌঁছানোর কথা বলি, তাহলে ৭-ই মার্চের সেই অবিস্মরণীয় ভাষনের কথা বলতে হয়।
এবার পাঠক আপনারাই ঠিক করুন, স্বাধীনতার ঘোষকের স্থানে কাকে বসানো যায়, কাকে বসানো উচিৎ, আর কাকে বসাবেন- সে সিদ্ধান্ত আপনাদের...
---------------------
রেফারেন্স:
*পাকিস্তান ক্রাইসিস - ডেভিড লসাক
*হুইটনেস টু স্যারেন্ডার - সিদ্দিক সালিক
*আমেরিকান স্লট রিপোর্ট
*পাকিস্তান সরকারের শ্বেতপত্র
*ম্যাসাকার - রবার্ট পেইন
*স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র - বেলাল মোহাম্মদ
*অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন (আমার স্যার)
লেখাটি স্বাধীনতা দিবসের হাজারদুয়ারীতে প্রকাশিত।
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি বিভাগে ।
মাহবুব সুমন বলেছেন:
রেফারেন্স দেয়া এই পোস্টের জবাবে ইরানি গালিচা কি দেয় সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি।
রাকিব হাসনাত সুমন বলেছেন:
ভাই আপনি যতই যুক্তি দেননা কেন ..তা যত সত্যিই হোকনা কেন ...... জামায়াতীরা (জামায়াতীরা বলেছি কারন জিয়াউর রহমান নিজে কখনো স্বাধীনতার ঘোষক হওয়ার মতো উদ্ভট দাবি করেনাই..... কারন তিনি জানতেন 71-এ বঙ্গবন্ধু ছাড়া অন্য কারো স্বাধীনতা ঘোষনার ক্ষমতা, সাহস, কর্তৃত্ব কিছুই ছিলোনা। কেউ যদি নিজে ওই ঘোষনা দিতো তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তার কবর রচনা হয়ে যেতো... অন্তত পিঠের চামড়া থাকতোনা) জিয়াউর রহমানরেই ঘোষক বলবে ..কারন এটা ছাড়া তাদের উপায় নেই।
হযবরল বলেছেন:
দূর্দান্ত গোধূলী। এটা তোর সেরা পোস্ট। অনেক ভাল লাগলো।
অতিথি বলেছেন:
ফারহান দাউদ, আমার পকেটে আছে!ধন্যবাদ সবাইকে।
স্বাধীনতা দিবস এবং বিশ্বকাপের ইতিহাসে বাংলাদেশের সদর্প পদার্পনের লাল শুভেচ্ছা।
অতিথি বলেছেন:
তোর জন্য তিন উল্লাস ।জরুরী, ভীষন জরুরী পোষ্ট । নির্লজ্জ গুলো বারবার প্রমান পাবার পর ও ঘেউ ঘেউ করে ।
অতিথি বলেছেন:
কঠিঠন -গো ধু
অতিথি বলেছেন:
ভাই, আমি মুখখ্য-সুখখ্য মানুষ। ছোটবেলায় বইতে যা পড়েছিলাম, তা ভালোই লাগত। 1991 সালের পর থেকে ইতিহাস এতভাবে পরিবর্তন হতে লাগল যে পরবতর্ীতে আর ট্র্যাক রাখতে পারি নাই। তবে মুরুবি্বদের (1971 যারা দেখেছেন) কাছে যা শুনেছি, তাতে মনে হয়েছে আমাদের ছেলেবেলার পাঠ্যবইয়ের কথাই ঠিক ছিল। আর 1991 পরবতর্ী সময়ে নোংরা রাজনীতির মাধ্যমে আমাদের মত 1971 না দেখা জেনারেশনের কাছে ইতিহাসে কালি দেয়া হয়েছে।
নীতু বলেছেন:
অত্যন্ত তথ্যবহুল একটা লেখা। ধন্যবাদ।
অতিথি বলেছেন:
এটা এযাবৎ দেখা সেরা পোস্ট ... স্টিকি করার মতো।বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষনা দেয়ার খবর নিউইয়র্ক টাইমসেও এসেছিল ... ইউ.এস গভঃ এর দলিলেও আছে ...
আমার মনে হয়, জিয়াউর রহমানের দেয়া ঘোষনাটার তাৎপর্য হলো এরকম যে মানুষ আন্দাজ করতে পেরেছিল বাঙালী সেনারা বাংলার হয়ে লড়তে যাচ্ছে।
চমৎকার @ গোধুলী
লেখক বলেছেন:
ঠিক তাই। জিয়াউর রহমানের ঘোষনাটা সবচেয়ে বেশি মানুষ শুনেছে এবং একটা জোয়ার কে প্রচন্ড আন্দোলিত করতে সাহায্য করেছিলো।
ধন্যবাদ আপনাকে।
অতিথি বলেছেন:
অভিনন্দন, ধুসর গোধুলী!চমৎকার। ঘোষক বিতর্ক নিয়ে আপনার এ পোস্ট আগামীর রেফারেন্স। শুভেচ্ছা!!!
অতিথি বলেছেন:
তথ্যগুলো একত্র করে উপস্থিত করার জন্যে ধন্যবাদ, ধুসর গোধূলি। কিন্তু মুশকিল হলো, যারা এই আজাইরা তর্কটা করে তারা এইসব পড়বে না, মানবেও না। তাতে অবশ্য কিছু আসে যায় না। অনেক ধন্যবাদ।
অঃরঃপিঃ বলেছেন:
দুর্দান্ত পোস্ট হইছে ছোড ভাই। পুরা গুলি্ল
মাহবুব সুমন বলেছেন:
রাজাকারের ছাউ গুলা পড়েছে তবে কমেন্ট করার মতো ইমানি তাগদ নাই ।(রাগ উঠে গেসে, গালাগালী আর করলাম না)
নামবিহীন বলেছেন:
ধুসর গোধূলিকে ধন্যবাদ জানানোর ভাষা নাই ....... সময়োপযোগী, তথ্যবহুল, দরকারি এবং সব ধরনের বিভ্রান্তি নিরসনকারী একটা লেখা।টু থাম্বস্ আপ ম্যান.... হ্যাট্স অফ টু ইউ ব্রাদার....
নজমুল আলবাব বলেছেন:
ধুসর আমি খুব ক্ষুদ্র মানুষ। আমার বলা কথাগুলোও খুব বড় মাপের নয়। তাই বেশি কথা বলবনা। শুধু একটা স্যালুট করব। ধুসরকে আমার স্যালুট। স্যালুট ধুসর, স্যালুট
লেখক বলেছেন:
আপনি আলবাব ভাই এবং আপনাদের ভালোবাসাই তো প্রেরণা যোগায় সবসময়। সবকিছুর জন্যই কৃতজ্ঞতা আপনাদের প্রতি।
উৎস বলেছেন:
ধুসর সিরিয়াস লেখা লিখছে।
অমিত বলেছেন:
কঠঠিন !!! তবে 36 বছর পরেও যখন আমাদের এই লেখা লিখতে হয় তখন একটা কথাই সবার আগে মনে হয়, মুক্তিযুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি...
হযবরল বলেছেন:
আবার পড়লাম। কাছে থাকলে বুকে জড়ায়ে ধরতাম তোরে।
নামবিহীন বলেছেন:
অলরেডী একবার দিছি, তয় যখন ঢুকলামই, এই চান্সে আরেকখান স্যালুট মাইরা যাই....
অতিথি বলেছেন:
আপনার এ লেখাটা মুক্তমনায় থাকা উচিৎ। মূলধারার পত্রিকায়ও ছাপানো দরকার।
অতিথি বলেছেন:
ধুরঃ মিয়া- আমার ছাইপাশ ব্লগেই মানায় 
সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ পাশে থাকার জন্য। এমন একটা ইসু্য আসলে সবার অবদান না থাকলে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব না। সবাই যদি ঐক্যমত হওয়া যায় তবেই আশরাফ রহমানদের মতো গোয়েবলসদের হাত থেকে নিস্কৃতি পাবে মানুষ।
অতিথি বলেছেন:
ধুসর, এটা আপনার বিনয়ের প্রকাশ। লেখাটা আগামীতে রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে। তাই ব্লগের বাইরের পাঠকদের পড়া দরকার।
অতিথি বলেছেন:
Dabs!!!
অতিথি বলেছেন:
Dabs মানে কী ? @ বদ্দা
নূর হাসান বলেছেন:
ভাই অমিত মুক্তিযুদ্ধ তো আসলেই শেষ হয় নাই। দেখেন না রাজাকারদের বাপ সাংসদ হয়। আমরা তাদের ভোট দেই। আর লেখা সম্পর্কে এক কথায় জটিল। বঙ্গবন্ধুকে, তার অবদানকে অস্বীকার করে আসলে আমরা আমাদের নীচুতাকে প্রকট করে তুলছি। ইতিহাসবিদেরা বলেন ঘটনার সত্যটা বের হতে ৫০ বছর সময় লেগে যায়। আমাদের তো কেবল ৩৩। তাই তো আমি আশা ছাড়ি না। যত দিন যাবে বঙ্গবন্ধুর মহিমা ততই বাড়বে আর যারা তাকে অস্বীকার করতে চেয়েছিল তারা হারিয়ে যাবে সময়ের অতল গহবরে।
ধুসর গোধূলি বলেছেন:
স্বাধীনতার ঘোষনা নিয়ে আরও প্রামাণ্য দলিল আছে। কিন্ত কথা হলো বিকৃতিকারীরা তারপরেও গোঁ ধরেই থাকে, মানে না। তখন দরকার হয় মাথায় ঠাউল্লা দিয়ে মানানো।৩৩ কেন নূর হাসান, ৯৯ বছর পরে হলেও স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস বের হবেই। ইনফ্যাক্ট হচ্ছে ধীরে ধীরে। প্রক্রিয়াটা শুরু হয়ে গেছে, এখন শুধু অপেক্ষা উপযুক্ত সময়ের। যখন বিকৃতিকারী গোয়েবলস এবং বাংলার স্বাধীনতার বিরোধিতাকারিদের দাঁড় করানো হবে বিচারের কঠাগড়ায়।
মনিটর বলেছেন:
ধুসরগোঁধুলী----আপনার এ লেখাটি অন্য কোথাও ছাপানোর অনুমতি পাওয়া যাবে??
লেখক বলেছেন:
অন্যকোথাও তো ছাপা হয়েছে মনিটর বাবু।
হাজারদুয়ারী বলে একটা ওয়েব সাইট আছে, তার মে সংখ্যায়।
http://hajarduari.com/unicode দেখুন এখানে পুরাতন সংখ্যার তালিকায়।
তারপরেও যদি কোথাও ছাপানো যায়, আমাকে জানাবেন, বাধিত হবো। সত্যিকারের ইতিহাস পৌঁছে যাক দুয়ারে দুয়ারে, এটাই প্রত্যাশা করি সব সময়।
ধন্যবাদ।
dhushorgodhuli AT gmail DOT com



















ভালো পোস্ট।