থ্রী-তে থাকতে এক বিকেলের কথা। তখন বন্দর উপজেলা কমপ্লেক্সের সব পোলাপাইন ইউএনও'র বাসার পাশে বিকেল হলেই ভিড় করে। আমার সমবয়সী বলতে ছিলাম আমরা মাত্র দু'জন। শিমু আর আমি। এক বছর পরের আছে শরীফ, শিমুর ছোট ভাই রতন। বড়রা তখন ভাইয়াদের সাথের। ওদের গ্রুপটা বিশাল। আলমচাঁন হাইস্কুলে যায় সবাই। তো আমরা খেলতে গেলে প্রায়ই যুঁথী আপা আমাদের ধরে অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতো, "আচ্ছা এরা কি দুধ খেয়ে ভাত খায়, নাকি ভাত খেয়ে দুধ"?
অনেকগুলো দিন কথাটার মানেই ধরতে পারি নি। কারণ, বাকী বড়রা যে উত্তরই দিতেন, আমরা খেলায় জায়গা পেতাম। কিন্তু স্ট্যাটাসে খানিক হেরফের হতো। আন্ডাবাচ্চা আমরা সেদিকে মনই দিতাম না। এক হাতে হাফপ্যান্ট টেনে ধরে আরেক হাত নেড়ে নেড়ে দৌড়াতাম সারা মাঠময়। গলা ছেড়ে চিৎকার করতাম শুধু শুধুই।
ফাইভে ওঠার পর শ্যামলরা এলো আমাদের বাসার ওপরের তলায়। আমার ক্লাসের শ্যামল আর তার ছোট বোন হাসিনা। জুয়েল ভাই, যুঁথী আপারা ততদিনে চলে গেছেন অন্য জায়গায়। কাজেই আমাদের কঁচিকাঁচা গ্রুপের ততদিনে খেলায় প্রমোশন হয়েছে। এখন আর "দুধভাত টাইপের" সেই কোড কথা শুনতে হয় না, ডাইরেক্ট খেলাতে নিয়ে নেয়। কিন্তু তখনো কেনো যেন বুঝে উঠতে পারিনি সেই কথার আড়ালে কী ছিলো!
মদনগঞ্জ প্রাইমারী স্কুলে পড়ার সময় একটা ছেলের সাথে পরিচয় হয়েছিলো। পুরা আজব ছেলেটা। যেচে এসে ঝগড়া করতো। খুব বাহাদুরী দেখাতো নিরিহ ছেলেপেলের সাথে।
ছোট বেলা থেকেই দল বেধে চলার কারণে সবসময় ঠ্যাঙানো দাতাদের দলেই ছিলাম, গ্রহীতাদের দলে খুবেকটা পড়তে হয় নি। যদিও আমার 'কম্প্রোমাইজিং' এটিচিউডের কারণে সহজে বন্ধুরা আমাকে একশনে নিতে চাইতো না। একশনে প্যাঁচ না লাগলে মোটামোটি শেষ হলেই আমি খবর পেতাম।
তো একবার সেই ছেলের সাথে আমার এক বন্ধুর বেশ ভালোই লেগে গেলো। ইচ্ছেমতো সাইজ করা হলো তাকে। বিনিময়ে আমাদের কয়েকজনকে বাংলা স্যারের হাতে মার খাওয়ালো। তারপর শুরু করলো প্রপাগান্ডা। "আমার লগে লাগতে আইছিলো, স্যারের হাতে মাইর খাওয়াইছি"। আমরা সিঁড়িয়ে বসে আমড়া খাই আর তার দৌড়াত্ব দেখি। আমাদের সহপাঠিনী সুমির কাছে যেয়ে বলতেই সুমি বললো, "তোমার লজ্জা করে না, নিজেরে এতো পালোয়ান ভাবো, এতো বাহাদুরী করো আর একটু আগে টেংকু একটা ছেলের কাছে পিটা খেয়ে স্যারের কাছে গেছো বিচার নিয়ে। তুমি আসলেই একটা বেহায়া..."।
এইবার আমরা আমড়া খাওয়া রেখে হা করে ভাবি, মুখচোরা সুমিটা এতো কথা শিখলো কবে, এটাও বুঝতে পারলাম না!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



