আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাক্ষী দেখুন, কৌতুক পড়ুন---আমার মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন!!!
।
গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা গতকাল ১৩তম সাক্ষী হিসেবে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্য দেয়ার সময় তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে তার বয়স ছিল ২৭ বছর। তবে মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীরা জেরার সময় ভোটার তালিকার সূত্র উল্লেখ করে আদালতে বলেন, সাক্ষী ভোটার তালিকায় তার জন্মতারিখ উল্লেখ করেছেন ১৯৬৩ সালের ৮ জুলাই। সে হিসাবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় তার বয়স হয়েছিল সাত বছর আট মাস।
২০০৮ সালে ভোটার তালিকায় উল্লিখিত জন্মতারিখ বিষয়ে সাক্ষী গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা বলেন, হয় ওই সময় আমি ভুল বলেছি, না হয় তারা ভুল লিখেছে।
জবানবন্দীতে তিনি জানান, ১৯৭১ সালে মাওলানা সাঈদী ও অন্যান্য রাজাকার তার তিন বোনকে ধরে নিয়ে পাক আর্মিদের ক্যাম্পে দিয়ে আসে। তিন দিন পর ক্যাম্প থেকে তাদের ফেরত পাঠানো হয় এবং এরপর তার ওই তিন বোনসহ অন্য সব ভাইবোন, মা-বাবা ভারতে চলে যায়। তিনি একাই কেবল বাংলাদেশে আছেন।
গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহার আগে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ১২ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। গতকাল মাওলানা সাঈদীর আইনজীবীদের জেরার সময় গৌরাঙ্গ স্বীকার করেন, আগের ১২ জন সাক্ষীর সবাইকেই তিনি দীর্ঘ দিন ধরে চেনেন। স্বাধীনতার আগে থেকেই অনেকের সাথে পরিচয়। এই মামলার বাদি ও এক নম্বর সাক্ষী মাহবুবুল আলমের সাথে স্বাধীনতার পর তার ভালো করে পরিচয় হয়। মাহবুবুল আলমের বাবা স্বাধীনতার আগে থেকেই পারেরহাট বাজারে তাদের দোকানের খরিদ্দার ছিলেন। কিন' গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহার তিন বোনকে ধরে নিয় পাক আর্মি ক্যাম্পে আটকে রেখে ধর্ষণের মতো এত বড় ঘটনা আগের ১২ জন সাক্ষীর কেউই উল্লেখ করেননি। মামলার বাদি মাহবুবুল আলম হাওলাদারও বলেননি।
গৌরাঙ্গ চন্দ্র জানান, তার বাড়ি পারেরহাটে। স্বাধীনতার আগে থেকেই পারেরহাট বাজারে তাদের মুদিদোকানের ব্যবসায়। এই মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী রুহুল আমিন নবিনের বাড়িও পারেরহাট বাজারের কাছে। তারও সেখানে ব্যবসায় আছে। মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়ার সময় রুহুল আমিন নবিন নিজেকে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তার নেতৃত্বে পারেরহাট বাজার শত্রুমুক্ত হয় বলে বেশ কয়েকজন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। রুহুল আমিন ও গৌরাঙ্গ চন্দ্রের বাড়িও কাছাকাছি। মানিক পসারী, আব্দুল জলিল শেখসহ বেশ কয়েকজন সাক্ষীর বাড়ি পারেরহাটের খুব কাছে। রুহুল আমিন নবিন, মানিক পসারী, আব্দুল জলিল শেখসহ প্রায় সব সাক্ষী মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে পারেরহাট বাজার এবং আশপাশ অনেক এলাকায় লুটপাট, ধর্ষণ, হত্যা, অগ্নিসংযোগের অভিযোগ করলেও গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহার তিন বোনকে পাক আর্মি ক্যাম্পে তিন দিন আটকে রেখে ধর্ষণের বিষয়টি কেউ কিছু উল্লেখ করেননি।
গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা জবানবন্দীতে ১৯৭১ সালের কোন সময় তার তিন বোনকে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি।
জেরার সময় মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহাকে প্রশ্ন করেন, ভারতে তার পরিবারের সদস্যরা কোথায় আছেন। সাক্ষী জানান, ভারতে তারা কোথায় কী অবস'ায় আছে তার কিছুই তিনি জানেন না। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তার মা-বাবা মারা যাওয়ার পর তার বড় ভাই টেলিগ্রাম করেছিলেন তাকে।
তা ছাড়া পিরোজপুরে পাক বাহিনীর আগমন, পারেরহাটে শান্তি কমিটি এবং রাজাকার বাহিনী গঠনের তারিখ বিষয়ে এর আগের সাক্ষীরা যে তথ্য দিয়েছেন তার সাথে অনেক গরমিল দেখা গেছে গতকাল গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহার দেয়া তথ্যে।
সাক্ষী জানান, কিছু দিন আগে তিনি পারেরহাট বাজারে আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন। কত দিন আগে তিনি ঘর পেয়েছেন এর জবাবে বলেন, তিন বছর আগে।
গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহার জবানবন্দী : জবানবন্দীতে গৌরাঙ্গ সাহা বলেন, আমার বয়স ৬৭ বছর। ১৯৭১ সালে বয়স ছিল ২৭ বছর। ১৯৭১ সালে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কিছু রাজাকার নিয়ে আমাদের বাড়িতে যায়। বাড়িতে যাইয়া লুটপাট করে। রাজাকাররা আমার তিন বোনকে ধরে নিয়ে যায়। তাদেরকে পিরোজপুরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে দিয়ে আসে। সেখানে ধর্ষণ করে তিন দিন পর তাদের ফেরত পাঠায়। এর কিছু দিন পর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী আমার মা-বাবা, ভাই- বোন ও পরিবারের সবাইকে মুসলমান বানায়। মসজিদে নিয়া নামাজ পড়ায়। এ লজ্জায় আমার মা- বাবা ও ভাইবোন সবাই ভারতে চলে যায়। আমি একাই এ দেশে থেকে যাই।
সাক্ষী বলেন, তারা আরো অনেক হিন্দুকে মুসলমান বানায়। এক শ’ থেকে দেড় শ’ হবে। এর মধ্যে কয়েকজন হলো নারায়ণ সাহা, নিখিল পাল, গৌরাঙ্গ পাল, সুনীল পাল। তাদের অনেকে ভারতে চলে গেছে। অনেকে মারা গেছে। আমাকে মুসলমান বানিয়ে নাম দেয় আব্দুল গনি। হাতে তজবি-টুপি দেয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমি আবার নিজ ধর্মে ফিরে আসি।
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী তখন আমার বাড়ির পাশে ভাড়া থাকত।
সাক্ষীর জেরা
আইনজীবী : মাহবুবুল আলম হাওলাদারকে (এই মামলার বাদি এবং এক নম্বর সাক্ষী) চেনেন?
সাক্ষী : হ্যাঁ, চিনি।
আইনজীবী : ওনার সাথে কত দিন ধরে পরিচয়?
সাক্ষী : বহু আগে। স্বাধীনতার আগে স্কুলে পড়ার সময় পরিচয়। স্বাধীনতার পর ভালো করে পরিচয় হয়।
আইনজীবী : মাহবুব কোন স্কুলে পড়ত?
সাক্ষী : পারেরহাট রাজলক্ষ্মী স্কুলে।
আইনজীবী : স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মাহবুবুল আলমের সাথে আপনার দেখা হয়?
সাক্ষী : তখন যে যার সুবিধামতো পালিয়ে থাকত। কার খবর কে রাখে।
আইনজীবী : স্বাধীনতার পরবর্তীকালে ওনার সাথে ভাল করে পরিচয় হয় ঠিক কখন?
সাক্ষী : স্বাধীনতার পর পরই। তার বাবা আমার দোকানের খরিদ্দার ছিলেন।
আইনজীবী : আপনার বোনদের ধর্ষণ এবং পরিবারের সবাইকে মুসলমান বানানো বিষয়ে আজকে যে অভিযোগ করলেন এসব ঘটনা কি স্বাধীনতার পর মাহবুবুল আলম হাওলাদারকে জানিয়েছিলেন?
সাক্ষী : ওনাকে বলব কেন?
আইনজীবী : স্বাধীনতার পর মাহবুবুল আলম কি এ ঘটনা জেনেছে?
সাক্ষী : হ্যাঁ জেনেছে। অন্য কেউ তাকে বলেছে।
আইনজীবী : এমপি আউয়াল সাহেব কি জানতেন এ ঘটনা?
সাক্ষী : সেটা আমার জানা নেই।
এ পর্যায়ে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত যত জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তাদের সবার নাম উল্লেখ করে সাক্ষীকে জিজ্ঞেস করা হয় তাদের তিনি চেনেন কি না এবং সাক্ষীর তিন বোনকে ধর্ষণের ঘটনা তারা জানত কি-না।
আইনজীবী : রুহুল আমিন নবিন কে চেনেন?
সাক্ষী: হ্যাঁ চিনি।
আইনজীবী : যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে তিনি কী করতেন?
সাক্ষী : আমি বলতে পারব না।
আইনজীবী : তিনি কি ওই ধর্ষণের ঘটনা জানতেন ?
সাক্ষী : আমি বলতে পারব না।
আইনজীবী : ১৯৭১ সালে পারেরহাট বাজারে ছোলামুড়ি ও বুটমুড়ি বিক্রি করতেন মোস্তফা হাওলাদার, তাকে চিনতেন?
সাক্ষী : হ্যাঁ।
আইনজীবী : আপনার বোনদের ধর্ষণের ঘটনা মোস্তফা জানত?
সাক্ষী : আমার জানা নেই।
আইনজীবী : সুলতান আহম্মেদ হাওলাদারকে চেনেন?
সাক্ষী : হ্যাঁ।
আইনজীবী : ১৯৭১ সালের আগেই চিনতেন?
সাক্ষী : চিনতাম কি-না বলতে পারছি না এখন।
আইনজীবী : তিনি কি আপনার বোনদের ঘটনা জানতেন?
সাক্ষী : আমি বলতে পারব না।
আইনজীবী : মিজানুর রহমান তালুকদারকে চেনেন?
সাক্ষী : বহু দিন ধরেই চিনি। স্বাধীনতার সময় চিনতাম কি না স্মরণ নেই।
আইনজীবী: মাহতাব উদ্দিন হাওলাদারকে চেনেন?
সাক্ষী : হ্যাঁ।
আইনজীবী: সে কি আপনার বোনদের ধর্ষণ এবং সবাইকে মুসলমান বানানোর ঘটনা জানে?
সাক্ষী : বলতে পারব না।
আইনজীবী : চিথলিয়ার সইজুদ্দীন পসারীর ছেলে মানিক পসারীকে চেনেন?
সাক্ষী : চিনি।
আইনজীবী: তিনি ওই ঘটনা জানেন?
সাক্ষী : বলতে পারব না।
আইনজীবী : চিথলিয়ার বাসুদেব মিস্ত্রি, আব্দুল জলিল শেখ- তারা কি আপনার বোনদের ঘটনা জানত?
সাক্ষী : বলতে পারব না।
আইনজীবী : টেংরাটিলার আলতাফ হোসেন হাওলাদারকেও আপনি দীর্ঘদিন থেকে চেনেন?
সাক্ষী : চিনি।
আইনজীবী : তিনি কি আপনার তিন বোনকে ধর্ষণ এবং পরিবারের সবাইকে ধর্মান্তরকরণের বিষয় জানতেন?
সাক্ষী : আমার জানা নেই।
আইনজীবী : মাহবুবুল আলম হাওলাদার ও মানিক পসারী এর আগে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে পিরোজপুর আদালতে মামলা করেছিল। তখন কি তারা আপনার সাথে যোগাযোগ করেছিল?
সাক্ষী : না।
আইনজীবী : মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল সাহেবের সাথে কবে দেখা হয়?
সাক্ষী : আমাকে দোকান থেকে হাইস্কুলে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর।
আইনজীবী : স্কুলের হেড মাস্টারের রুমে বসে জবানবন্দী দিয়েছিলেন?
সাক্ষী : না। ক্লাসরুমে বসে।
আইনজীবী : ১৯৯২ সালে গণ-আদালত হয়েছিল শুনেছেন?
সাক্ষী : খেয়াল নেই।
আইনজীবী : ওই গণ-আদালতে সাক্ষী দিয়েছিলেন?
সাক্ষী : আমি জীবনে কোনো দিন কোনো আদালতে সাক্ষী দিইনি। আজ এখানে প্রথম সাক্ষ্য দিলাম।
আইনজীবী : দুই বছর পর ১৯৯৪ সালে গণ-তদন্ত কমিশন হয়েছিল স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং তদন্তের জন্য। জাহানারা ইমাম, কবি সুফিয়া কামাল, শাহরিয়ার কবির বা তাদের পক্ষে কেউ কি আপনার কাছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা জানার জন্য গিয়েছিলেন?
সাক্ষী : না।
আইনজীবী : পিরোজপুর জেলা পরিষদ কর্তৃক পিরোজপুর জেলার মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা বিষয়ে বই প্রকাশের জন্য ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রচারণা চালায়। ১৯৭১ সালের ঘটনা তাদেরকে জানানোর জন্য গণ-বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। তা কি জানতেন?
সাক্ষী : না।
আইনজীবী : জেলা পরিষদের কারো কাছে আপনার ঘটনা জানিয়ে কোনো বক্তব্য দেননি?
সাক্ষী : আমার কাছে কেউ যায়নি। আমিও কিছু বলি নাই।
আইনজীবী : সাঈদী সাহেব আপনার বাড়ির পাশে ভাড়া থাকতেন। তিনি কি ১৯৭১ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় ওই বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন?
সাক্ষী : খেয়াল নেই। ওটা ছিল ওনার ভায়রার বাড়ি।
আইনজীবী : আপনি পড়ালেখা কত দূর করেছেন?
সাক্ষী : থ্রি।
আইনজীবী : যে তিন বোনকে ধর্ষণের শিকার বলে উল্লেখ করেছেন তারা সবাই আপনার ছোট?
সাক্ষী : হ্যাঁ। সবাই আমার পিঠাপিঠি ছোট।
আইনজীবী : ১৯৭১ সালে পিরোজপুর ট্রেজারি থেকে অস্ত্র লুটের ঘটনার কথা খেয়াল আছে?
সাক্ষী : শুনেছি।
আইনজীবী : অস্ত্র লুটের কয়েকদিন পরই পিরোজপুরে পাক আর্মি আসে?
সাক্ষী : কয় দিন পর আসে খেয়াল নেই।
আইনজীবী : অনুমান কত দিন পর ?
সাক্ষী : পাঁচ-সাত দিন পর।
আইনজীবী : পাক সেনাবাহিনী আসার আগেই পিরোজপুর ও আপনার এলাকায় পিস কমিটি ও রাজাকার বাহিনী গঠিত হয়?
সাক্ষী : হ্যাঁ।
আইনজীবী : কত দিন আগে?
সাক্ষী : কিছু দিন আগে।
আইনজীবী : অনুমান কত দিন হবে?
সাক্ষী : মাসখাকে আগে অনুমান।
আইনজীবী : পিস কমিটি রাজাকার বাহিনী গঠনের পর পরই এলাকায় অত্যাচার নির্যাতন শুরু হয়?
সাক্ষী : হ্যাঁ।
আইনজীবী : লুটপাটও শুরু হয়?
সাক্ষী : হ্যাঁ।
আইনজীবী : পাক হানাদার বাহিনী আসার আগে লুটপাট হয় এমন দুয়েকজন দোকান মালিক বা বাড়ির মালিকের নাম বলতে পারবেন?
সাক্ষী : বিপদ সাহার দোকান, আমাদের ঘরসহ বহু ঘর লুট হয়।
আইনজীবী : আপনার ঘরে লুট হওয়া মালামালের তালিকা কি তদন্ত কর্মকর্তাকে দিয়েছেন?
সাক্ষী : সবই নিয়ে গেছে। কী দেবো? ঘরের পিছাও (ঝাড়-) নিয়ে গেছে।
আইনজীবী : পাকিস্তান বাহিনী আসার তিন-চার দিন পর আপনার বোনদের ধরে নিয়ে যায়?
সাক্ষী : ১০-১৫ দিন পর।
আইনজীবী : অস্ত্র লুট হওয়ার ১০-১৫ দিন পরই পাকিস্তান আর্মি পারেরহাট আসে?
সাক্ষী : হ্যাঁ।
আইনজীবী : পাক বাহিনী আসার পর না আগে আপনাদের মুসলমান বানানো হয়?
সাক্ষী : পারেরহাট আসার মাস দুয়েক পর।
আইনজীবী: যে মসজিদে নিয়ে আপনাদের নামাজ পড়াত তার ইমাম মুয়াজ্জিনের নাম বলতে পারবেন?
সাক্ষী : না।
আইনজীবী : পরে যখন আবার নিজ ধর্মে ফিরে আসেন তখন কি প্রায়শ্চিত্ত করেছিলেন?
সাক্ষী : জান বাঁচাতে মুসলমান হয়েছিলাম। তার আবার প্রায়শ্চিত্ত কিসের?
আইনজীবী : চরখালির পীর ইয়াসিনকে চিনতেন?
সাক্ষী : হ্যাঁ চিনতাম। ইয়াসিন মাওলানা।
আইনজীবী : ১৯৭১ সালে আপনি বিবাহিত ছিলেন?
সাক্ষী : স্বাধীনতার লগে লগে বিয়ে করি।
আইনজীবী : স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আপনি কি করতেন?
সাক্ষী : মুদিদোকান করতাম।
আইনজীবী : এখনো তা করেন?
সাক্ষী : হ্যাঁ।
আইনজীবী : ১৯৭১ সালে বাজারে আপনার স'ায়ী দোকান ছিল?
সাক্ষী : হ্যাঁ তখন স'ায়ী দোকান ছিল। এখন ফুটপাথে বসি।
আইনজীবী: আপনার ছেলেমেয়ে কত জন?
সাক্ষী : তিন মেয়ে ও এত ছেলে।
আইনজীবী : ছেলে কী করে?
সাক্ষী : চিটাগাং থাকে। কী করে জানি না। ১০-১২ বছর ধরে থাকে সেখানে।
আইনজীবী : আপনার বোনদের ক্যাম্প থেকে ফেরত দেয়ার কয় দিন পর তারা ভারতে যায়?
সাক্ষী : মুসলমান হওয়ার কিছু দিন পর।
আইনজীবী : পারেরহাটের অতুল পোদ্দারের ছেলে লক্ষ্মী কান্ত পোদ্দারকে চেনেন?
সাক্ষী : হ্যাঁ।
আইনজীবী : আপনার যে তিন বোন ধর্ষণের শিকার তার মধ্যে বড় বোন বিবাহিত ছিল?
সাক্ষী : না।
আইনজীবী : তিন বোন ভারতে যাওয়ার পর এখন বিয়ে হয়েছে?
সাক্ষী : তারা কোথায় কিভাবে আছে কিছুই জানি না। বিয়ে হয়েছে কি-না তাও জানি না। আমার আরো এক ছোট বোন ছিল সেও তিন বোনের সাথে ভারতে যায়।
আইনজীবী : আপনার মা-বাবার কোনো খবর জানেন?
সাক্ষী : মা-ও নেই বাবা-ও নেই। তারা মারা যাওয়ার পর পারেরহাট টেলিগ্রাম এসেছে।
আইনজীবী : টেলিগ্রাম কে করেছিল?
সাক্ষী : আমার বড় ভাই।
আইনজীবী : আপনি কার মাধ্যমে ভারতে গিয়েছিলেন?
সাক্ষী : রইজুদ্দীন নাইয়ার মাধ্যমে।
আইনজীবী : মুত্যৃ সংবাদ ছাড়া তাদের আর কোনো খবর জানেন না?
সাক্ষী : না।
আইনজীবী : রইজুদ্দীনদের টেন্ডু পাতার ব্যবসা ছিল?
সাক্ষী : পাকিস্তান আমলে ছিল।
আইনজীবী : আপনার যে তিন বোনকে পাক আর্মি ধর্ষণ করে বললেন তার মধ্যে বড়বোনকে স্বাধীনতার অনেক পরে পারেরহাটের অতুল পোদ্দারের ছেলে লক্ষ্মী কান্ত পোদ্দারের সাথে বিয়ে দেয়া হয় পারেরহাটে বসেই।
সাক্ষী : মোটেই ঠিক নয়।
আইনজীবী: পারেরহাট বাজারের তিনজন ব্যবসায়ী নারায়ণ সাহা, উত্তম পাল, দেলোয়ার হোসেন ফকির এদের চেনেন?
সাক্ষী :???
আইনজীবী : তাদের কাছ থেকে বাকিতে পাইকারি মাল আনতেন আপনি। সে মালের দাম দিতে না পারায় আপনাকে তারা বাকিতে মাল দেয়া বন্ধ করে দেয়। সে কারণে আপনার দোকান বন্ধ হয়ে গেছে এবং আপনি এখন ফুটপাথে বসে ব্যবসা করেন।
জবাবে বাকিতে মালা আনা টাকা পরিশোধের কথা স্বীকার করে সাক্ষী বলেন, তাদের বাজারে ডাকাতি হয়েছিল। তার দোকানেও ডাকাতি হয়। তা ছাড়া অন্য একটি ঘটনায় মালামালসহ নৌকা ডুবে যায় তার। সে সব কারণে তিনি দাম পরিশোধ করতে পারেননি। তা ছাড়া তার দোকানঘর নদীতে ভেঙে গেছে। সে কারণে তিনি এখন ফুটপাথে দোকানদারি করেন।
আইনজীবী : আপনি বলেছেন সাঈদী ও অন্য রাজাকাররা আপনার বাড়িতে গিয়ে লুটপাট করে এবং বোনদের ধরে নিয়ে যায়। অন্য দু-এক জন রাজাকারের নাম বলতে পারবেন?
সাক্ষী: অন্য কোনো রাজাকারের নাম জানি না।
আইনজীবী : পিস কমিটির কারো নাম যেমন চেয়ারম্যান মেম্বার কারো নাম বলতে পারবেন?
সাক্ষী : সভাপতি সেক্রেটারির নাম খেয়াল নেই। আরেকজন রাজাকারের নাম জানি। রাজ্জাক রাজাকার। তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। অন্য রাজাকারদের কার কী নাম তা আমার জানা নেই।
আইনজীবী : মোসলেম মাওলানাকে চেনেন?
সাক্ষী : চিনতে পারি তবে নাম জানি না।
আইনজীবী : দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ১৯৭১ সালের কত দিন আগে থেকে চিনতেন?
সাক্ষী : এক বছর আগে থেকে।
আ্ইনজীবী : ১৯১৭ সালে তার কোনো ছেলেমেয়ে ছিল?
সাক্ষী : এতটা খেয়াল নেই।
আইনজীবী : আপনার বাসা থেকে তার বাসার দূরত্ব কতটুকু।
সাক্ষী : মাঝে তিন-চারটা ঘর।
আইনজীবী: ওই ঘরগুলো কাদের?
সাক্ষী : বিন্দু বাবু, সাধুচরণ সাহা, কেষ্ট সাহা, মোজাহার মল্লিকের ঘর তার পেছনে সাঈদী সাহেবের ঘর।
আইনজীবী : স্বাধীনতার কত দিন আগে সাঈদী সাহেব বিয়ে করেন?
সাক্ষী : বছর দু-এক আগে।
আইনজীবী : আপনি ২০০৮ সালের ভোটার লিস্টে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন?
সাক্ষী: হ্যাঁ।
আইনজীবী: আইডি কার্ড পান?
সাক্ষী: হ্যাঁ।
আইনজীবী: ভোটার লিস্টের জন্য ছবি তোলা এবং কাগজপত্র সই করেছিলেন?
সাক্ষী : খেয়াল নেই।
আইনজীবী : ওই ভোটার লিস্টে আপনি আপনার জন্ম তারিখ উল্লেখ করেছেন ৮ জুলাই ১৯৬৩ সাল।
সাক্ষী : হয় আমি ভুল বলেছি তখন, না হয় তারা ভুল লিখেছে।
আইনজীবী : আপনি সঠিক তারিখ উল্লেখ করেই আইডি কার্ড নিয়েছেন।
সাক্ষী : না।
আইনজীবী : বয়স সংশোধনের কোনো আবেদন করেছিলেন?
সাক্ষী : না।
আইনজীবী : আমি বলছি আপনার ওই তিন বোন ১৯৭১ সালে খুবই ছোট ছিল।
সাক্ষী : না।
আইনজীবী : আপনার বাড়ি জিয়ানগর উপজেলায়?
সাক্ষী : হ্যাঁ।
আইনজীবী : জিয়া নগর উপজেলায় ১৯৭১ সালে রাজাকারদের সহায়তায় পাক আর্মি আপনার তিন বোন বা অন্য কোনো মেয়েকে ধর্ষণ করেনি।
সাক্ষী : আমার তিন বোনকে ধর্ষণ করা হয়েছে।
আইনজীবী : কিছু দিন আগে আপনি পারেরহাট আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটি ঘর বরাদ্দ পান?
সাক্ষী : হ্যাঁ।
আইনজীবী : কবে পান?
সাক্ষী : প্রায় তিন বছর আগে।
আইনজীবী : পারেরহাট বাজারে যাদের মুসলমান বানানো হয়েছিল তাদের মুসলমান বানায় চরখালির ওই ইয়াসিন পীর পারেরহাট বাজারে তার খানকায় বসে।
সাক্ষী : সত্য নয়।
আইনজীবী : মামলায় সাক্ষী হওয়ার পর আপনি পাওনাদারদের নিবৃত্ত রেখেছেন শাসক দল এবং পুলিশের ভয় দেখিয়ে।
সাক্ষী : মিথ্যা।
আইনজীবী: যুদ্ধ শুরুর আগে থেকে জুলাই মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত মাওলানা সাঈদী পিরোজপুর বা পারেরহাট ছিলেন না।
সাক্ষী : সত্য নয়। তিনি পিরোজপুর ছিলেন।
সাক্ষীকে জেরা করেন মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম ও মনজুর আহমদ আনছারী। তাদের সহায়তা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার তানভির আল আমিন, ব্যারিস্টার মুন্সি আহসান কবির প্রমুখ।
সূত্রঃ.এখানে ক্লিক করুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

