ইউএনডিপির বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করে অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি—ইউএনডিপি অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও কাজ করছে।বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন নেটওয়ার্ক, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোকে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সম্পদের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটিয়ে জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করে এই সংস্থা।ইউএনডিপি বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন প্রতিবন্ধকতা নিরসনে সরকার, এনজিও, সুশীল সমাজ, বেসরকারি খাত ও স্থানীয় উন্নয়ন সংগঠনগুলোকে সাহায্য করে থাকে।
ইউএনডিপির নানা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রয়েছে কর্মীবাহিনী। এ সংস্থায় তরুণদের কাজ করার সুযোগও রয়েছে। এমনকি অভিজ্ঞতা ছাড়াও কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায় ইউএনডিপিতে। সে ক্ষেত্রে আপনাকে যোগাযোগ করতে হবে সংগঠনের মানবসম্পদ বিভাগের সঙ্গে এবং তাদের ওয়েবসাইটে। ইউএনডিপিতে আপনি কাজ করতে পারেন একজন তরুণ পেশাজীবী হিসেবে। তবে এটি মূলত স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে। এ বিষয়ে বাংলাদেশেইউএনডিপির কান্ট্রি অফিসের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক রাহাত শিকদার বলেন, এ কাজের ফলে যে সম্মানী দেওয়া হয়, তা একেবারেই ন্যূনতম। তবে প্রার্থীরা এখান থেকে অনেক কিছু শিখতে ও জানতে পারবেন।তিনি অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারবেন। তরুণ পেশাজীবী কর্মকর্তা হিসেবে সদ্য স্নাতক উৎসাহী তরুণদের নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। ইউএনডিপির যে ১০টি কর্মসূচি পরিচালিত হয়, সেসবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে তরুণদের।
ইউএনডিপির তরুণ পেশাজীবী কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার সুবিধা হলো, আপনি আপনার পেশাজীবন ‘অন দ্য জব প্রফেশনাল’ হিসেবে শুরু করতে পারছেন। এটি মূলত সেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে হলেও ইউএনডিপি প্রার্থীদের মাসিক বৃত্তি দিয়ে থাকে।
প্রতিবছর ইউএনডিপির দেশীয় অফিসগুলোতে প্রয়োজনের ভিত্তিতে কমপক্ষে ১০ জন করে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। নিয়োগের পর তাদের বিভিন্ন কর্মসূচির দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়।
নির্বাচন পদ্ধতি
তরুণ পেশাজীবী কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয় প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে। ইউএনডিপির ওয়েবসাইটে দেওয়া নির্দেশনার ভিত্তিতে জীবনবৃত্তান্ত লিখতে হবে এবং সেটি ইউএনডিপির কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিতে হবে। আর ইউএনডিপির ওয়েবসাইটে দেওয়া ‘পারসোনাল হিস্ট্রি ফর্ম’ নামিয়ে নিয়ে প্রিন্ট করে সেটি পূরণ করে পাঠাতে হবে।
যোগ্যতা
প্রার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ডিগ্রি থাকতে হবে, বিশেষ করে উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিষয় থেকে যেমন অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, সমাজ উন্নয়ন, লোকনীতি, লোক প্রশাসন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন, ফিন্যান্স ইত্যাদি। তবে ইউএনডিপির কাজের ক্ষেত্রসংশ্লিস্ট বিষয়ের প্রতি বেশি জোর দেওয়া হবে।
প্রার্থীর ইংরেজিতে লেখা ও কথোপকথনের ক্ষেত্রে দক্ষতা থাকতে হবে। প্রার্থীর কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা থাকতে হবে (এমএস অফিস জানা থাকতে হবে)। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার আগ্রহ থাকতে হবে। সর্বোপরি প্রার্থীর জাতিসংঘ সনদের প্রতি সহানুভূতি থাকতে হবে।
রেফারেন্স ও যোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে পূর্বকাজের অভিজ্ঞতা থাকার দরকার নেই। তবে সর্বোচ্চ এক বছরের কর্ম অভিজ্ঞতা মেনে নেওয়া হবে। প্রার্থীদের স্পেশাল সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্টের আওতায় তাঁদের সর্বোচ্চ দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে।প্রথমে তাঁদের ছয় মাসের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর প্রার্থীর কাজ যদি আশানুরূপ হয়, তবে তাঁকে আরও ছয় মাস বেশি কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে। তবে প্রার্থীর সঙ্গে এই চুক্তি তাঁকে কোনোমতেই ইউএনডিপির নিয়মিত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।
বিস্তারিত যোগাযোগ—
ইউএনডিপি, ইউএন অফিস, ১৯ তলা, আইডিবি ভবন, আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭, বাংলাদেশ।
ওয়েবসাইট: http://www.undp.org.bd
ফোন: ৮১৫০০৮৮, ফ্যাক্স: ৮১১৩১৯৬
ই-মেইল: [email protected]
লেখক : কৃষ্ণ কুমার সাহা .
সূত্র : প্রথম আল

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


