somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বপ্ন যখন ডিজিটাল লাইব্রেরির....

০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বপ্ন যখন ডিজিটাল লাইব্রেরির

লাইব্রেরি বা পাঠাগারের সাথে কমবেশি সবাই পরিচিত ৷বড় বড় সেলফ থেকে মনের মতো বই নিয়ে পড়ার আনন্দ শুধু লাইব্রেরিতেই পাবেন৷ অনেকেই লাইব্রেরিকে পৃথিবীর সব থেকে পবিত্র স্থান হিসাবে বিবেচনা করেন ৷ কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে আমাদের প্রচলিত সেই লাইব্রেরির ধারণাটি এখন বদলে যাচ্ছে ৷ তথ্যপ্রযুক্তি লাইব্রেরির মূল কাঠামোর সাথে সংযুক্ত হয়ে লাইব্রেরিগুলোতে একটি নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে, যার নাম ই-লাইব্রেরি (e-library) বা ই-পাঠাগার ৷ সাধারণ পাঠাগারের সাথে তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধাগুলোকে ব্যবহার করে লাইব্রেরির কাজগুলো আরও দ্রুত ও যেকোনো জায়গা থেকে লাইব্রেরির বই পড়ার সুবিধাগুলো ভোগ করাই এর উদ্দেশ্য ৷

ই-লাইব্রেরির প্রথম ধাপেই থাকবে ডিজিটাল ক্যাটালগ ৷ যারা লাইব্রেরিতে বই খুঁজতে যান, তারা নিশ্চয় ক্যাটালগ কার্ড দিয়ে বই খোঁজার চেষ্টা করেন ৷ সনাতন কাগজের কার্ডগুলো রূপান্তরিত হচ্ছে ডিজিটাল কার্ডে, অর্থাৎ বইয়ের তথ্যগুলো যেমন বইয়ের নাম, লেখক, প্রকাশক, বছর ও অন্যান্য তথ্য থাকবে ডিজিটালে ৷ এর ফলে খুব সহজেই আপনি আপনার কাঙ্খিত বইটি খুঁজে পাবেন ক্যাটালগ কার্ডে ৷ যেসব লাইব্রেরি এভাবে তাদের বইয়ের তথ্যগুলো ডিজিটালে রূপান্তর করছে, সেগুলোতে সাধারণত লাইব্রেরির ভেতরেই কমপিউটার দিয়ে বই খোঁজার সুবিধাটি পাওয়া যায়৷ আবার অনেক ই-লাইব্রেরি বই খোঁজার এই সুবিধাটি দেয় অনলাইনে বা কোনো ইন্টারনেট ব্রাউজারের মাধ্যমে ৷এই সিস্টেমটি দিয়েই আপনি কোনো বই ইচ্ছে করলে বুকিং করতে পারবেন, কিংবা আপনার ডিপার্টমেন্টের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিতে পারবেন৷ অর্থাৎ পুরো লাইব্রেরির বই ম্যানেজমেন্টের কাজগুলো ই-লাইব্রেরির কল্যাণে দ্রুত ও সহজেই করতে পারবেন৷আপনি চাইলে আপনার নামে লগইন করে দেখে নিতে পারবেন আপনি কী কী বই বর্তমানে লাইব্রেরি থেকে ধার নিয়েছেন এবং কবে তা ফেরত দিতে হবে৷

এরপরের স্তরে ই-লাইব্রেরি যে সুবিধা দেবে তা হলো শুধু বইয়ের তথ্যগুলো ডিজিটালে নয়, বইগুলোই থাকবে ডিজিটালে ৷ চাইলে বইটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন কমপিউটারে এবং তা পড়তেও পারবেন। এ ছাড়া মাইক্রোফিল্মে সংগৃহীত আর্কাইভগুলোকে ডিজিটালে রূপান্তর করে কমপিউটারে তা দেখার সুযোগতো থাকছেই ।

ডিজিটাল লাইব্রেরির বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট
বিশ্বের অনেক লাইব্রেরির মতই বাংলাদেশেরও বেশকিছু লাইব্রেরিতে এখন ই-লাইব্রেরির এ ধারণাগুলো প্রয়োগ করা হচ্ছে ৷বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ই-লাইব্রেরি কয়েকটি ধাপে প্রয়োগ করা যেতে পারে। যেমন-
প্রথম ধাপ :
বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইব্রেরিসমূহ ডিজিটাল লাইব্রেরিতে বা ই-লাইব্রেরিতে রূপান্তর করা যেতে পারে ৷ এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ উদ্যোগ নিতে পারে অথবা এর জন্য অন্য দাতা সংস্থাগুলোর সাহায্যও নেয়া যেতে পারে ৷
দ্বিতীয় ধাপ :
দ্বিতীয় ধাপে বাংলাদেশের লাইব্রেরিগুলো একে অপরের সাথে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হয়ে একটি আন্তঃলাইব্রেরি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারে এবং লাইব্রেরিগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস অর্থাৎ বই খোঁজা ও বই নেবারব্যাবস্থা করা যেতে পারে ৷ এর ফলে একটি লাইব্রেরি আরেকটি লাইব্রেরির তথ্যগুলো ব্যবহার করার সুযোগ পাবে৷ উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আপনি হয়তো রংপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোনো কলেজে বসেই অনলাইনে ই-লাইব্রেরির মাধ্যমে খুঁজতে পারেন ঢাকা পাবলিক লাইব্রেরিতে কি কি বই রয়েছে এবং কোনো বই যদি আপনার প্রয়োজন হয়, সে বইটি রংপুরের লাইব্রেরিতে পাঠানোর অনুরোধ করতে পারেন৷ পরবর্তীতে রংপুরের লাইব্রেরিতে বসেই বইটি পড়তে পারেন৷
তৃতীয় ধাপ :
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ই-লাইব্রেরি স্থাপন হয়ে গেলে আমরা বিশ্বের ই-লাইব্রেরিগুলোর সাথে সংযোগ করতে পারি ৷তবে ই-লাইব্রেরি নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্ক হচ্ছে কপিরাইট সংক্রান্ত ব্যাপারগুলো ৷ ই-লাইব্রেরির প্রথম স্তর যেখানে লাইব্রেরির বইগুলোর ব্যবস্থাপনা চলবে ডিজিটালের মাধ্যেমে, সে ব্যাপারে কারো আপত্তি নেই৷ কিন্তু আপত্তি হচ্ছে দ্বিতীয় ধাপে যেখানে বইগুলোকেই ডিজিটালে রূপান্তরিত করা হবে ৷কেননা, বইগুলো ডিজিটাল হলে বাধাই করা কাগজের বইয়ের বিক্রি কমে যাবে৷ এতে প্রকাশনা শিল্প নামে প্রতিষ্ঠিত একটি শিল্প ধ্বংস হয়ে যেতে পারে৷ ইতোমধ্যেই অনলাইনে অসংখ্য বই ডিজিটালে রূপান্তর করে গুগল এই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে৷

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যেসব বইয়ের কপিরাইটে কোনো সমস্যা হবে না, সে ধরনের পুরনো ও লুপ্ত প্রায় বইগুলো ডিজিটালে রূপান্তর করা জরুরি৷ এছাড়া কোনো লেখক বা প্রকাশক যদি তাদের প্রকাশিত বইকে ডিজিটালে রূপান্তর করার অনুমতি দেন তবে ডিজিটালে রূপান্তর করে তা সংরক্ষণ করা যেতে পারে ৷একথা অনস্বীকার্য, ডিজিটালে রূপান্তরের মাধ্যমে আমরা বইগুলোকে আজীবন সংরক্ষণ করতে পারি এবং খুব সহজেই তা পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে পারি ৷কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ওপেনসোর্স নেটওয়ার্ক বেশ কয়েকটি বই লেখকের মাধ্যমে কপিরাইটটি উন্মুক্ত অর্থাৎ পাবলিক ডোমেইন করার উদ্যোগ নেয় ৷ বাংলাদেশে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের কপিরাইটগুলোও একদিন উন্মুক্ত হবে আশা করা যায়৷

লাইব্রেরিতে না গিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমেই লাইব্রেরির বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এভাবেই ই-লাইব্রেরির মাধ্যমে উপভোগ করা সম্ভব৷ যদিও ই-লাইব্রেরির ধারণাটি বাংলাদেশে নতুন, তবুও সামনে এটি ব্যবহার করে শিক্ষার্থী, গবেষক ও বইপিপাসু মানুষ সকলেই উপকৃত হবেন এমনটিই আশা করা যায়।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৯
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×