somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিবর্তনবাদ ও বৃটিশ কলনিজমের কলঙ্কজনক ইতিহাস

১১ ই অক্টোবর, ২০১১ দুপুর ১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সিনেমার কাহীনি হলে এর ফলাফল অন্যরকম। ভূমিকাটা শুরু হয়েছিলো ১৮৩০ সালের শুরুর দিকে। দক্ষিন আমেরিকাকে বলা হতো অন্ধকারচ্ছন্ন মহাঅঞ্চল। আর সেখানকার রেড ইন্ডিয়ানরা ছিলো তেমনই বুনো ও অসভ্য। সেখানে আলো ছরিয়ে দেয়ার অদ্ভুত পরিকল্পনা এটেঁছিলো বৃটিশ ক্যাপ্টেন রবার্ট ফিৎজয়র। ফলাফল নাটকীয় হবে ভেবে রবার্ট তার পরিকল্পনায় ছিলেন মরিয়া। দক্ষিন আমেরিকায় সভ্যতার আলো ছরিয়ে দিতে সেই অন্ধকারচ্ছন্ন অঞ্চলের ৪ রেড ইন্ডিয়ানকে বন্দি করে বৃটেনে নিয়ে এসেছিলেন। উদ্দেশ্য, সেই ৪ জনকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে সভ্য করে আবার দক্কিন আমেরিকায় পাঠিয়ে দেয়া। তারা যেন সেই মেঘেঢাকা অঞ্চলকে তাদের বিদ্যার দ্যুতিতে আলোকিত করতে পারে। কিন্তু এটি হলিউডের বক্স অফিস মাতানো কন চলচিত্রের কাহীনি নয়। বৃটিশ কমেডি ক্রিডেনশিয়ান হ্যারি থম্পসন ২০০৫-এর মারা যাবার এক সাপ্তাহ পর। কমেডিয়ান হলেও তার লেখা ‘দিস থিং অব ডার্কনেস’ বইটি পুরো দস্তুর ইতিহাস কেন্দ্রিক এবং বিস্ময়কর সেই ‘থিং অব ডার্কনেস’-এর সার কথা ইতমধ্যে বলা হয়েছে।
বইটির জনপ্রিয়তা লাভের স্বর্ণসুত্র হিসেবে কাজ করেছে এর নেপথ্যের বৃটিশ উপনিবেশিকতার ঘৃন্য ইতিহাস ও চার্লস ডারউইন। হ্যাঁ সেই বিবর্তন সম্রাট ডারউইন যিনি রবার্ট ফিৎজিয়েরের জাহাজ তথা ভয়েজ অব বিগল-এ চড়ে নিবিষ্ট চিত্তে বিবর্তনের সুত্র খুজেছিলেন। ১৮৩১ সালে ক্যাপ্টেন রবার্টের সাথে ডারউইন যখন প্লেমাউথ বন্দর থেকে দক্ষন আটলান্টিকের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন তখন তাদের সঙ্গে সেই বন্দি প্যাটাগোনিয়ান ইন্ডিয়ানরাও ছিলো।
মূল ঘটনা শুরু হয়েছিলো ডারউনের দক্ষিন আমেরিকা ভ্রমনের পনের মাস আগে। যখন ক্যাপ্টেন রবার্ট তার অদ্ভুত এক এক্সপেরিমেন্ট চালানোর জন্য দক্ষিন আমেরিকা থেকে চার জন ইন্ডিয়ানকে বন্দি করে জোরপুর্বক বৃটেনে নিয়ে এসেছিলেন। সেই বন্দিদের দেয়া হয় খ্রীষ্টান নাম এবং ভর্তি করিয়ে দেয়া হয় বৃটেনের এক স্কুলে। প্লেমাউথ ছেড়ে বেরিয়ে আসতেই স্মল পক্সে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ২০ বছর বয়েসী কেট মেমোরী (ক্যাপ্টেন রবার্টের দেয়া নাম)। ৯ বছর বয়সী মেয়ে ফুজিয়া বাস্কেট কিশোর জমি বাটন ও ২৬ বছর বয়সী ইয়র্ক মিনস্টারকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত বৃটেনে পৌছান রবার্ট। তখন রবার্টের সঙ্গে থাকা ইতিহাস রচিয়তা পিটার নিকোলাস এসব ঘটনা লেখে রাখা শুরু করেছিলেন। ইয়র্ক মিনস্টার দ্রুত নতুন বন্ধু পেয়ে কিছুটা পাল্টে যায়। ফুজিয়ার প্রতি তার আসক্তি জন্মালেও শেষ পর্যন্ত রবার্টের চাপে সরে আসতে বাধ্য হয়। ফুজিয়া অতদিন লন্ডনের একটি নামী-দামী স্কুলে ভালোই পড়া-শোনা করছিলো আর বাটন শিখছিলো কিভাবে অসভ্য আর অন্ধকার অঞ্চলটিতে খ্রীষ্টান ধর্ম ছরিয়ে দেয়া যায়। রবার্ট ছিলো তাদের স্থানীয় প্রভুর মত। মিনস্টার, শিশু ফুজিয়া, জেমি বাটনকে তিনি গিনিপিগের মতই ব্যাবহার করেছিলেন। তাই পনের মাস পরি ৩ জনকে পুনরায় দক্ষিন আমেরিকায় স্থানান্তরের জন্য উঠে পড়ে লাগেন। তার সঙ্গে ছিলেন ডারউইন। রবার্টের অনুরোধেই ডারউইনকে তার সঙ্গে দেয় বৃটিশ প্রশাসন।
গল্পের শেষাংকে এক কথায় ট্রাজিক বলা চলে। কেননা মানুষকে গিনিপিগ বানিয়ে রবার্টের এই এক্সপেরিমেন্ট আলোর মুখ দেখেনি। ইয়র্ক মিনস্টার দেড় বছর বৃটেনে থেকে শিখেছিলো কিভাবে ডাকাতি আর অস্ত্র ব্যাবহার করতে হয়। ফুজিয়াকে বিয়ে করে প্রথমেই সে সফর সঙ্গি জেমি বাটনের সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়। তখন তাদের রবার্ট ছিলেন না। তিনি এক্সপেরিমেন্টের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। অপেক্ষার পর রবার্ট তার পরিক্ষার ফলাফল বিচারে এসে দেখলেন জেমি বাটন আগের সেই অসভ্য (!) সমাজের সাথে মিশে গেছে। ফুজিয়া তার ধর্ম শিক্ষা ভুলে জড়িয়ে পরেছে পতিতা বৃত্তিতে। আর ইয়র্ক মনস্টার বোট চুরির দায়ে বন্দি জীবন কাটাচ্ছে। ইতিহাসবিদরা একে নিছক রবার্টের ব্যার্থতা হিসেবে দেখলেও অনেকেই এই ফলাফলকে স্বাগত জানাবেন। কেননা এ সত্যি গল্পে এক অর্থে বৃটিশদের সেই ঘৃন্য ঔপনিবেশিক চক্রান্তই ব্যর্থ হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০১১ দুপুর ১:১৩
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×