বইটির জনপ্রিয়তা লাভের স্বর্ণসুত্র হিসেবে কাজ করেছে এর নেপথ্যের বৃটিশ উপনিবেশিকতার ঘৃন্য ইতিহাস ও চার্লস ডারউইন। হ্যাঁ সেই বিবর্তন সম্রাট ডারউইন যিনি রবার্ট ফিৎজিয়েরের জাহাজ তথা ভয়েজ অব বিগল-এ চড়ে নিবিষ্ট চিত্তে বিবর্তনের সুত্র খুজেছিলেন। ১৮৩১ সালে ক্যাপ্টেন রবার্টের সাথে ডারউইন যখন প্লেমাউথ বন্দর থেকে দক্ষন আটলান্টিকের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন তখন তাদের সঙ্গে সেই বন্দি প্যাটাগোনিয়ান ইন্ডিয়ানরাও ছিলো।
মূল ঘটনা শুরু হয়েছিলো ডারউনের দক্ষিন আমেরিকা ভ্রমনের পনের মাস আগে। যখন ক্যাপ্টেন রবার্ট তার অদ্ভুত এক এক্সপেরিমেন্ট চালানোর জন্য দক্ষিন আমেরিকা থেকে চার জন ইন্ডিয়ানকে বন্দি করে জোরপুর্বক বৃটেনে নিয়ে এসেছিলেন। সেই বন্দিদের দেয়া হয় খ্রীষ্টান নাম এবং ভর্তি করিয়ে দেয়া হয় বৃটেনের এক স্কুলে। প্লেমাউথ ছেড়ে বেরিয়ে আসতেই স্মল পক্সে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ২০ বছর বয়েসী কেট মেমোরী (ক্যাপ্টেন রবার্টের দেয়া নাম)। ৯ বছর বয়সী মেয়ে ফুজিয়া বাস্কেট কিশোর জমি বাটন ও ২৬ বছর বয়সী ইয়র্ক মিনস্টারকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত বৃটেনে পৌছান রবার্ট। তখন রবার্টের সঙ্গে থাকা ইতিহাস রচিয়তা পিটার নিকোলাস এসব ঘটনা লেখে রাখা শুরু করেছিলেন। ইয়র্ক মিনস্টার দ্রুত নতুন বন্ধু পেয়ে কিছুটা পাল্টে যায়। ফুজিয়ার প্রতি তার আসক্তি জন্মালেও শেষ পর্যন্ত রবার্টের চাপে সরে আসতে বাধ্য হয়। ফুজিয়া অতদিন লন্ডনের একটি নামী-দামী স্কুলে ভালোই পড়া-শোনা করছিলো আর বাটন শিখছিলো কিভাবে অসভ্য আর অন্ধকার অঞ্চলটিতে খ্রীষ্টান ধর্ম ছরিয়ে দেয়া যায়। রবার্ট ছিলো তাদের স্থানীয় প্রভুর মত। মিনস্টার, শিশু ফুজিয়া, জেমি বাটনকে তিনি গিনিপিগের মতই ব্যাবহার করেছিলেন। তাই পনের মাস পরি ৩ জনকে পুনরায় দক্ষিন আমেরিকায় স্থানান্তরের জন্য উঠে পড়ে লাগেন। তার সঙ্গে ছিলেন ডারউইন। রবার্টের অনুরোধেই ডারউইনকে তার সঙ্গে দেয় বৃটিশ প্রশাসন।
গল্পের শেষাংকে এক কথায় ট্রাজিক বলা চলে। কেননা মানুষকে গিনিপিগ বানিয়ে রবার্টের এই এক্সপেরিমেন্ট আলোর মুখ দেখেনি। ইয়র্ক মিনস্টার দেড় বছর বৃটেনে থেকে শিখেছিলো কিভাবে ডাকাতি আর অস্ত্র ব্যাবহার করতে হয়। ফুজিয়াকে বিয়ে করে প্রথমেই সে সফর সঙ্গি জেমি বাটনের সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়। তখন তাদের রবার্ট ছিলেন না। তিনি এক্সপেরিমেন্টের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। অপেক্ষার পর রবার্ট তার পরিক্ষার ফলাফল বিচারে এসে দেখলেন জেমি বাটন আগের সেই অসভ্য (!) সমাজের সাথে মিশে গেছে। ফুজিয়া তার ধর্ম শিক্ষা ভুলে জড়িয়ে পরেছে পতিতা বৃত্তিতে। আর ইয়র্ক মনস্টার বোট চুরির দায়ে বন্দি জীবন কাটাচ্ছে। ইতিহাসবিদরা একে নিছক রবার্টের ব্যার্থতা হিসেবে দেখলেও অনেকেই এই ফলাফলকে স্বাগত জানাবেন। কেননা এ সত্যি গল্পে এক অর্থে বৃটিশদের সেই ঘৃন্য ঔপনিবেশিক চক্রান্তই ব্যর্থ হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০১১ দুপুর ১:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



