নিঝুম দ্বীপে কয়েক দিন (বাউন্ডুলে দের জন্য)

১৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:০১

শেয়ারঃ
0 6 0

কিছু দিন পর পর ঢাকার বাইরে না গেলে আমার পা সুর সুর করতে থাকে, যখন কোথাও যেতে পারিনা কাজের চাপে তখন অবসর সময়ে নেটে গবেষনা করতে থাকি কোথায় যাওয়া যায় তা নিয়ে। এই গবেষনার কোনো সিমানা নাই, কখনো প্ল্যান করি চিটাগাং থেকে আকাশপথে থাইল্যান্ড হয়ে রেলপথে মালয়সিয়া বা সিংগাপুর, কখনো চিটাগাং থেকে চান্দের গাড়ি তে বান্দরবান হয়ে হাটা পথে পুকুরপাড়া,থানচি বা বগা লেক...



২০০৭ সালের কথা, গবেষনা করতে করতে বেরিয়ে এলো কোনো একটা পত্রিকার লেখা ও ছবি, নিঝুম দ্বীপ নিয়ে- হরিনের ছবি দেখে চোখ কপালে উঠে গেল। ঠিক করলাম পরের ছুটিতেই বেরিয়ে পড়বো। তখন ফেসবুকের ঘুরাঘুরি করা গ্রুপ "ভ্রমন বাংলাদেশ"এর খবর জানা ছিল না, বন্ধু বান্ধব দের তোষামুদি করতে লাগলাম সঙ্গি হওয়ার জন্য। খুব একটা আগ্রহ দেখালো না কেউ, হরিন এর গল্পও মনে হয় কেউ বিশ্বাস করলো না, যাই হোক শেষ পর্যন্ত আমরা দুই বন্ধু (আমি আর সোহেল) বেরিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।

কেউ ঠিকমতো বলতে পারে না কিভাবে যেতে হবে, খবর পেলাম লন্ঞ্চ এ যেতে হবে ঢাকা থেকে। যা আছে কপালে ভেবে দুইটা ছোট তাবু, একগাদা বিস্কুট, পাউরুটি, জ্যাম, ৩ইন১ কফি, গরম পানির ফ্লাক্স আর টিস্যু নিয়ে এক সন্ধায় উঠে বসলাম সদরঘাট থেকে হাতিয়া-র লন্ঞ্চ এ, নামতে হবে শেষ ঘাট তমিরুদ্দি তে।



গরম গরম মারাত্মক ঝাল রুই মাছ আর ভাত দিয়ে রাতের খাবার খেয়ে সারারাত পার করে সকাল বেলা পৌছালাম তমিরুদ্দি, ঘাটে নেমে তাড়াতাড়ি কলা, চা আর লাঠি বিস্কুট দিয়ে নাস্তা শেষে খোঁজ করতে লাগলাম কিভাবে যাওয়া যাবে নিজুম দ্বীপ। পরিচয় হলো আরেক গ্রুপ এর সাথে (তাদের কয়েকজনের টি-শার্ট আর ক্যাপ পরিচয় দিচ্ছে তারা গ্রামীনফোন এর গর্বিত কর্মী), ভিড়ে গেলাম তাদের সাথে নৌকা ভাড়া মুলামুলি করতে। ঠিক হলো নৌকাওয়ালা আমাদের পৌছে দিয়ে ২ দিন নিঝুমদ্বীপেই থাকবে, আর আমরা ঐ নৌকা নিয়েই ফিরে আসবো।



বিকালটা ভালই কাটলো ঘাস বনে হরিন আর পাখি দেখে, কিন্তু সন্ধা বেলা পড়লাম মহা বিপদে, আমাদের সঙ্গিরা কয়েক ঘন্টা ঘুরে ঠিক করলো পরদিন সকালে তারা ফিরে যাবে হাতিয়া সদরে, অথচ আমাদের প্ল্যান আরো ১টা পুরা দিন ঘুরে ঘুরে দেখা। তারা নৌকা নিয়ে গেলে আমরা কিভাবে যাবো কনো ঠিক নাই, আবার ঠিক সময়ে ঢাকা ফিরে অফিস ধরতে হবে.. যা আছে কপালে ভেবে বিদায় দিলাম উনাদের।



এখানে বনবিভাগ একসময় কিছু হরিন ছাড়ে, তাই বেড়ে বেড়ে হয়েছে অসংখ্য। আমরা উঠেছি বন বিভাগের বিট অফিস এ, একটা সুন্দর গেস্ট রুম (কোলবালিশ সহ) আছে বড়কর্তা দের জন্য, ওটাই জুটেছে কপালগুনে। পরদিন সকালে ঘাটে খোঁজ করতে গেলাম নৌকার, দুরে চরে যেতে হবে নৌকা নিয়ে ভালোভাবে হরিন দেখতে হলে। এরই মধ্যে ৮/১০ জনের একটা গ্রুপকে পেলাম, বন বিভাগের কোন কর্তার যেন গেস্ট, বনবিভাগের নৌকা নিয়ে যাবে চর এ ঘুরতে, আমরা যেতে চাই আনুরোধ করাতে খুব একটা খুশি হলেন না উনারা, হয়ত ভেবেছেন কোথাকার না কোথাকার পোলাপাইন, তাদের সঙ্গের "যে তো আমার চেহারা, নাম রেখেছে পেয়ারা" টাইপ মেয়েদের সাথে না আবার খাতির করার কনো চেষ্টা করি। আমাদের নৌকায় নেয় নি শুনে খুবই মন খারাপ করলো বনবিভাগের মালি খোকন ভাই, আসার পর থেকে উনিই আমাদের দেখাশুনা করছিলেন এই ২ দিন।



বন বিভাগের নৌকা আরো আছে, কিন্তু মাঝি একজন, যে কিনা পেয়ারা গ্রুপ নিয়ে চলে গেছে। বেশ কিছুক্ষন পর খোকন ভাই বাজার থেকে এক মাঝি নিয়ে হাজির, বল্লো চলেন স্যার রওয়ানা দেই। আমরা ২ জন, সাথে এক পিচ্চি (আমাদের সাথে সাথে ঘুরে ও, আমরা খুসি হয়ে ১০/২০ টাকা দেই, সেন্ট মার্টিনস এর মত "গাইড" কথাটা শেখেনি তখনো) আর খোকন ভাই রওনা দিলাম বিশাল নৌকা নিয়ে, নিজেদের কে বেশ নবাব নবাব মনে হচ্ছিল তখন। খোকন ভাই আমাদের বেশ অনেকগুলি চরে ঘুরালেন। রাজশাহী চিড়িয়াখানাই অনেক হরিন দেখেছিলাম ছোট বেলায়, কিন্তু এত হরিন কখন দেখবো কল্পনাও করিনি। এরি মাঝে আমরা পেয়ারা গ্রুপ কে নবাবি কায়দায় ওভারটেক করে এসেছি, ভাব ধরেছি "হু হু বাবা, আমাদের তো চেনো না...."



সারাদিন ঘুরে ফিরে সন্ধায় লোকাল বাজারে চক্কর দিলাম কিছুক্ষন। একটা সিনেমা হল আছে, সামনে পোষ্টার টাঙানো, ঢু মারলাম ভিতরে, দেখি অনেক গুলা কাঠের বেঞ্চি, একদম সামনে টিভি আর ভিসিডি প্লেয়ার রাখা, চলে ব্যাটারি তে। বেশ ভালো সিস্টেম। রাতে খোকন ভাই এর রান্না মুরগির ঝোল আর ভাত, বাইরে চাঁদের আলো তে হরিন এর জ্বলজলে চোখ....

ঘরের বারান্দা থেকে দেখা যায় হরিনের ঘাস পানি খাওয়া:


পরদিন সকালে ফেরত যাবে এমন আরেক টুরিস্ট গ্রুপের মাঝির সাথে আমাদের ভাও করে দিলেন খোকন ভাই। ভোরবেলা অন্ধকার থাকতে আমরা নৌকা ঘাটে এসে বসে আছি, যেনো আমাদের ফেলে চলে না যায় নৌকা। নৌকা মিস্‌ মানে লঞ্চ মিস্‌, আর লঞ্চ মিস্‌ করলে অফিসে খবর।

জোয়ার আসতে নৌকা রওয়ানা দিল, বেশ বড় টুরিস্ট গ্রুপ, দেখে মনে হচ্ছে রাজধানির হাওয়া লাগান মানুষ। সামনে পাটি বিছানো, সেখানে অভিজাতরা বসে, আমাদের স্হান হয়েছে পেছনে ইন্জিনের কাছাকাছি, শব্দ আর ধোয়ার মাঝে মাঝিদের সাথে। সবাই দেখি নাস্তা শুরু করেছে, পরাটা, পলেথিনে ডাল আর একটা করে কলা। টুরিষ্ট রা পেল, মাঝিরা পেল, আমরা কিন্তু পেলাম না নাস্তা। সোহেল কিন্তু খুব খুসি যে আমাদের নাস্তা অফার করেনি কেউ, ব্যাকপ্যাকের এপকেট ওপকেট খুজে ও বের করা শুরু করলো আমাদের সম্বল, কুপারস এর রুটি, টোভা জ্যাম এর বয়াম, প্রানের আমসত্ত্ব, ৩ইন১ কফির প্যাকেট- সামনে নৌকার পাটাতন তো না যেনো বাসার ডাইনিং টেবিল। সোহেল এরি মধ্যে মাঝিদের এক প্রস্হ রুটি বিতরন করে ফেলেছে সবাইকে লজ্জা দেয়ার জন্য, আমিতো ভয়েই ছিলাম ও না আবার অন্যদেরও অফার করে বসে। খাওয়া শেষে ২ মগে ৩ইন১ কফি ঢেলে পানি ঢেলে দেখি পানি একদম ঠান্ডা, গতরাতে ফ্লাস্কে রাখা পানি, সকালে আবার গরম পানি নিবো মনে ছিল না। আমি ফিসফিস করে পরামর্শ দিলাম পানি গরম এমন ভাব ধরতে, মান সম্মান এর ব্যাপার হাজার হলেও। দুইজন মিলে ঠান্ডা কফি চুমুক দিয়ে দিয়ে সময় নিয়ে শেষ করলাম :)

[লঞ্চে ঐ টুরিস্ট গ্রুপের একটি স্কুল পড়ুয়া ছেলে পরে আমাদের কাছে আসে গল্প করতে, তারা সবাই থাকে মিরপুর এ। আমাদের নিয়ে নাকি তারা অনেক আলাপ আলোচনা করেছে, বিশেষ করে আমাদের বিশাল ব্যাকপ্যাক ও নাস্তায় কফি খাওয়া তাদের বিশেষ ভাবে আলোড়িত করেছে, আমরাও সুজোগ পেয়ে তাকে অনেক রকম রাজা উজির হাতি ঘোড়া মারা গল্প দিলাম বিভিন্ন টুরের]।

নিচে কিছু ছবি:

ম্যানগ্রোভ বনে হরিন:


হরিনের পাল:


বন্য কুকুরের কামড়ে মৃত হরিন:


হরিনের পাল:


মহিষের পাল:


চিংড়ি পোনা সংগ্রহ:


শুটকি তৈরি:



নিঝুম দ্বীপের আরো ছবি দেখতে দেখুন আমার ফেসবুক পাবলিক এলবাম: NijhumDwip

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ভ্রমননিঝুম দ্বীপ ;
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:২৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:২০
ইমন জুবায়ের বলেছেন: Great!
Remember সিপ্পি পাহারের ভ্রমন?
১৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৪১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

সৌম্য বিস্তারিত লিখেছিল সিপ্পি নিয়ে, দেখুন:
Click This Link

২. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:০৬
সাদা মনের মানুষ বলেছেন: অ-সা-ধা-র-ণ, শোকেসে রাখলাম ।
১৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:১৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ কামাল ভাই। ঝুলিতে আরো কিছু আছে, ফেসবুকের একেকটা এলবাম ধরবো আর লিখবো ভাবছি।

৩. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:২০
শেরজা তপন বলেছেন: কিছুক্ষনের জন্য মনে হচ্ছিল আমি ঘুরছিলাম আপনাদের সাথে। ধন্যবাদ অসাধারন বর্ননা
১৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:৩৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সঙ্গে থাকার জন্য। গল্প বলার মতো করে লিখে দিলাম...

৪. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:৫৬
শন পাপড়ি বলেছেন: আমি বাউন্ডুলে না।তাও পড়ে মজা পেয়েছি।:)

ঘুরে বেড়াতে খুব ইচ্ছা করে।কিন্তু ছোটবেলা থেকেই আব্বু-আম্মু কোথাও একা ঘুরতে এত বাধা দিয়েছে যে সেই ইচ্ছাটাও উবে গেছে :(.

এখন আপনাদের বাউন্ডুলে পোষ্ট পড়েই দুধের স্বাদ ঘোলে মিটাই।
৫. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:২৩
আবদুল ওয়াহিদ বলেছেন:
অসাধারন। একটা ছুটি কাটানোর জন্য মন আনচান করছে।
১৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:০৬

লেখক বলেছেন: চলুন যাই কোথাও :)

৬. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:১৭
শূন্য আরণ্যক বলেছেন: সুন্দরবন না যাওয়ার দু:খ এখনো ভুলতে পারি নাই

সমস্যা নাই একদিন না একদিন হবে

পোষ্ট ++
১৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৮

লেখক বলেছেন: সুন্দরবন শেষ গেছি ২০০৫ সালে। ৩ রাত ছিলাম লঞ্চ এ।

অবশ্যই হবে, ইচ্ছা থাকলেই হবে।

৭. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৭
অন্যরকম বলেছেন: ++++++++++++++

জটিলসসসসস..........
আহ্ আবারো পুরানো দিনে ফিরে যেতে ইচ্ছা করছে। গত বছর টেলিকমের কাজে ১৪টা জেলা ঘুরছি..... হেভ্ভী মজা...... নিঝুম দ্বীপ যাবার প্ল্যান ছিল। পরে আর যেতে পারি নাই!
:(
১৭ ই এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:২৬

লেখক বলেছেন: নতুন এলাকা গুলো সম্পর্কে লিখলে আমরা জানতে পারতাম, চেষ্টা করে দেখুন।

শুনেছি সিডরে অনেক ক্ষতি হয়েছিল ঐ এলাকার হরিন ও বনের। ঘুরে এসেন সময় থাকতে, পরে নাও থাকতে পারে এই সৌন্দর্য।

৮. ১৮ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:১৬
রাহা বলেছেন: চমৎকার সব ছবি.. জায়গা জটিল...+
১৮ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:২৫

লেখক বলেছেন: সত্যি চমৎকার জায়গাটা। ধন্যবাদ

২০ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৯:০৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, চালিয়ে যাচ্ছি....

১০. ২১ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:০২
মোহাম্মদ জাফর সাদেক বলেছেন: ভাই, এই মে জুনে দেশে যাবো। তখন ওখানে যাওয়া যাবে কি? । সাহস দিলে আমিই host হবার সম্মান টা নিতে চাই। রাজী হলে খুশীর শেষ থাকবে না।
২১ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:৫৭

লেখক বলেছেন: যাওয়া যাবে, কনো সমস্যা নাই। আগে থেকে বলেন প্ল্যান করে দিবো, আমি যেতে না পারলেও আরো অনেকে আছে হয়ত যাবে।

জুন এর ৪-৮ সেন্ট মার্টিনস দ্বীপে বর্ষা দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে আমাদের দলের, আর শীতে আবার নিঝুমদ্বীপ।

১১. ২১ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:১৩
শ।মসীর বলেছেন: যাইতে মন চাই। এই জায়গাটা বাকি রয়ে গেছে।
২১ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১১:১৮

লেখক বলেছেন: এই শীতে আবার যাওয়ার ইচ্ছা আছে। এইবার বনের ভিতরে তাবু তে থাকা হবে।

১২. ২১ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৯
নাজনীন১ বলেছেন: দেখা হয় নায় চক্ষু মেলিয়া, ঘর হতে দুই পা ফেলিয়া.........

নোয়াখালীর মাইজদীতেই বড় হয়েছি, কিন্তু কখনো নিঝুম দ্বীপে যাওয়া হয় নাই, বেড়ানোর সুযোগ খুব কমই হয়।

আরো একজন ব্লগার, মাহমুদুল হক ফয়েজ ভাই-ও নিঝুম দ্বীপ নিয়ে লিখেছিলেন, কিন্তু সেখানে ছবি ছিল না, আজ আপনার এখানে ছবিসহ বর্ণনা, খুব ভাল লাগলো।

আপনি ভাই দারুন শৌখিন।
২১ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৯

লেখক বলেছেন: একদিন বেরিয়ে পড়ুন দুই পা ফেলিয়া.....

ভাল লেগেছে জেনে আমার কষ্ট করে বাংলা লেখা সার্থক।

আমি শৌখিন না রে ভাই, তবে ঘুরা ঘুরি করতে ভালবাসি। ছোটবেলায় স্কাউটিং করে মনে হয় অভ্যাস টা তৈরী হয়েছে।

১৩. ২১ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৪
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: আমিও গিয়েছিলাম-গত মাসে। আপনার মতো এত ছবি তুলতে পারিনি। তাছাড়া অনেক ছবি নষ্ট হয়ে গেছে। আপনার ছবিগুলো দারুন।



আমিও ব্লগে একটা লিখা দিয়েছি পড়ে আসতে পারেন চাইলে।
২১ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৬

লেখক বলেছেন: আপনার লেখাটা খুবই ভালো হয়েছে, অনেক কাব্যিক আর তথ্য সমৃদ্ধ। ধন্যবাদ আপনাকে।

২১ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৬

লেখক বলেছেন: ওখানে ইন্দুরও আছে :)

১৫. ২৩ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ১০:০৪
মমতা জাহান বলেছেন: নিঝুম দ্বীপ নিয়ে আমি কয়েকটা পোষ্ট দিয়েছিলাম। আমার অনুমান সেখানে প্রায় এক লক্ষের মত হরিণ থাকতে পারে। অনেক পাঠকই হরিণের ছবি চেয়েছিল, কিন্তু ছবি দেওয়ার কোন সুযোগ আমার নেই।
লেখককে অনেক ধন্যবাদ ছবি দেয়ার জন্যে।

হাতিয়া আমার জম্মভুমি। হাতিয়া নিয়েই আমার জীবনের সকল স্বপ্ন। হাতিয়ার কথা হয়তো কেউ মনে রাখেনা। কিন্তু নিঝুম দ্বীপের কথা কেউ হয়তো এড়িয়ে যেতে পারে না। আমি এজন্যে আনন্দিত যে নিঝুম দ্বীপ হাতিয়ারই একটি ইউনিয়ন।

আমার অবাক লাগে নোয়াখালীর ৯৯.৯৯%ই বাসিন্দাই হয়তো মনে রাখতে পারেনা যে তাদের পাশেই রয়েছে একটা গ্রীন ল্যান্ড। হয়তো পুরো জীবনে একবার নিঝুম দ্বীপে যাওয়ার সুযোগই হয়না। যদি যেতে পারে তারা সিঙ্গাপুর অথবা সিডনি।

নোয়াখারীর মেয়ে নাজনীন আপুকে লক্ষ্য করে কথাটা বললাম।নোয়াখালীর কারো প্রতি ক্ষোভ প্রকাশের অধিকার আমার আছে।



২৩ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৫০

লেখক বলেছেন: আপনার সাথে আমিও একমত, হরিন লক্ষাধিক রয়েছে। যে হরিনের পাল আমরা দেখেছিলাম একটি পাশে, ওরকম নাকি চারপাশে আছে।

মক্কার লোক.....

১৬. ২৩ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:২৬
মমতা জাহান বলেছেন: এই পোস্ট প্রিয় পোস্টে নিয়ে গেলাম। নিঝুম দ্বীপ এবং হাতিয়া দ্বীপ নিয়ে যত পোষ্ট সামুতে আছে সব আমার প্রিয় পোষ্ট । কারণ হাতিয়া আমার স্বপ্ন।
২৩ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৫০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ প্রিয়তে নেয়ার জন্য, আর সুন্দর মন্ত্যবের জন্য।

১৭. ২৩ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৫
মেসবাহ য়াযাদ বলেছেন: আপনার লেখার হাত আমাকে মুগ্ধ করেছে...ছবিগুলোও ফাটাফাটি। পরের ট্রিপে আমাকে মনে করবেন ! আমিও ম্যালা ট্যুর করি। এখন আগের মত সুযোগ পাই না। বুঝতে পারছি, আপনার সাথে আমার হবে...
২৩ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৪

লেখক বলেছেন: আপনার সাথে হবে এমন অনেকে আছি আমরা, ফেসবুক এ যদি থাকেন তাহলে আসুন আমাদের দল "ভ্রমন বাংলাদেশ" এ।

ধন্যবাদ মুগ্ধ্ হওয়ার জন্য, লেখার উৎসাহ পাচ্ছি।

২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:৫০

লেখক বলেছেন: ধইন্যা

১৯. ২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:১৫
মুহিব বলেছেন: আমাদের অফিসের তৌহিদ ভাই প্রতি বছর নিঝুম দ্বীপে যায়। আমরাও তাই তার নাম নিঝুম ভাই করে দিয়েছি।

ইচ্ছা আছে একবার যাওয়ার।
২৭ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:৫১

লেখক বলেছেন: নিঝুম ভাইয়ের সাথে একবার চলে যাবেন। ভালো লাগবে।

২০. ৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:০৩
কালাপাহাড়ী বলেছেন: খুব ভালো লাগলো ভাইয়া !! অ-স।-ধ।-র-ন ! শোকেসে রাখলাম ! +++++++
০১ লা মে, ২০০৯ রাত ১২:৫৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইয়া।

২১. ০৬ ই মে, ২০০৯ সকাল ৭:২৩
রন্টি চৌধুরী বলেছেন: নাজনীন আসলে মমতা জাহানের আবেগটা বুঝতে পারেন নি।
০৬ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১:৪২

লেখক বলেছেন: লেখক এ ব্যাপারে নিরব :)

২২. ০৬ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১:৫৫
মাহবুব সুমন বলেছেন: দারুন একটা ভ্রমন কাহিনী পড়লাম।
০৭ ই মে, ২০০৯ সকাল ৯:৩২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সুন্দর মন্ত্যব্যের জন্য

২৩. ২১ শে মে, ২০০৯ সকাল ১১:৪৬
অন্ধ দাঁড়কাক বলেছেন: যাওয়ার প্ল্যান করতেছি।
২১ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৩:২২

লেখক বলেছেন: শীতে যেয়েন, এখন নদী পথ অশান্ত, গরমও বেশি।

২৪. ২১ শে মে, ২০০৯ দুপুর ১২:২০
শ্রাবনসন্ধ্যা বলেছেন: প্রিয়তে।

লেখা খুবই ভাল হয়েছে, পেয়ারা পার্টির জন্য সমবেদনা।
২১ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৩:২৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
পেয়ারা পার্টি জানল না কি হারাল :p

২১ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৩:২৫

লেখক বলেছেন: এক্কেরে সেইরাম!!!!!

২৬. ২১ শে মে, ২০০৯ দুপুর ১:৪৮
শাওন৩৫০৪ বলেছেন: কামের কাম করছেন ভাই.....বর্ননা আর ছবি দারুন লাগছে..
২১ শে মে, ২০০৯ বিকাল ৩:২৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে। আরো কয়েকটা ভ্রমান কাহিনি আছে আমার ব্লগে, সময় পেলে পড়েন।

২৭. ২৫ শে মে, ২০০৯ সকাল ১১:২০
অন্ধ দাঁড়কাক বলেছেন: ঢাকা থেকে কিভাবে যেতে হবে একটু আইডিয়া দেন
২৮. ২৫ শে মে, ২০০৯ দুপুর ২:৫৭
রাব্বি ! বলেছেন: সদরঘাট থেকে হাতিয়া-র লন্ঞ্চ এ, নামতে হবে শেষ ঘাট তমিরুদ্দি তে

১ দিন পর পর লঞ্চ ছাড়ে সন্ধায়, পৌছুবেন পরেরদিন দুপুরে।
১২ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৯:১৮

লেখক বলেছেন: কিসের জন্য?

৩০. ১২ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:২২
তাপু বলেছেন: দারুন লিখেছেন, ছবি গুলো ও খুব সুন্দর হয়েছে, এই শীতে যাওয়ার ইচ্ছা আছে, খরচপাতি কেমন হতে পারে? বনবিভাগের রেষ্ট হাউস বুকিং দেওয়ার উপায় কি? অথবা অন্য কোনো হোটেল/রেষ্টহাউসের নাম, কত লাগে থাকতে, ইত্যাদি বলতে পারলে উপকৃত হতাম।

হাতিয়ার পাশের থানা হচ্ছে সন্দীপ, যদি পারেন ঘুরে আসিয়েন, সবুজচর নামে একটা জায়গা আছে, দারুন জায়গা।
১১ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৩১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

খরচ বলতে লন্চ ভাড়া, নৌকা ভাড়া, খাওয়া। খুব বেশি হওয়ার কথা না। আমি অনেকদিন আগে গেছি, মনে নাই সঠিক, তবে ২৫০০-৩০০০ এ হয়ে যাওয়ার কথা ৩/৪ দিন।

বনবিভাগে যোগাযোগ করতে হবে, নোয়াখালি রিজিয়ন মোস্ট প্রোবাবলি।

হাতিয়া যাব সময় পেলে কখনো।

১১ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৫৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

৩২. ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৪৯
নাজমুল হাসান শান্ত বলেছেন: নোয়াখালী সম্পর্কে জানতে চাইলে যোগাযোগ করেন।
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২০

লেখক বলেছেন: কখনও তথ্য লাগলে যোগাযোগ করবো অবশ্যই। ধন্যবাদ

০৭ ই জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, গত সপ্তাহে আবার বড় দল নিয়ে ঘুরে এলাম। এবার হরিন অনেক কম পেয়েছি।

৩৪. ১২ ই জুন, ২০১০ বিকাল ৫:১৫
নোয়াখাইল্যা বলেছেন: আরে ভাই এই রকম একখান লেখাতো আঁই লেকতাম চাই ছিলাম।আন্নে আর কাজটা কইরা দিছেন। থ্যাংকস।ছবি গুলা 'আংগো বাড়ি নোয়াখালী' নামক ফেইসবুক গ্রুফে দিলাম।

গ্রুফ লিংক-http://www.facebook.com/?sk=2361831622#!/group.php?gid=114316695270974
২১ শে জুন, ২০১০ দুপুর ১:০৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।

৩৫. ১২ ই জুন, ২০১০ বিকাল ৫:২৭
রিফাত হোসেন বলেছেন: সহজ যাতায়াত ব্যবস্থার একটু বর্ণনা দিন ঢাকার এয়াপোর্ট থেকে ...

খরচ যাবে কত জন প্রতি?

সিকিউরিটি কতটুকু?

ঐখানে থাকার ব্যবস্থা কতটুকু স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ..

ইত্যাদি জানালে উপকৃত হব ।

অগ্রিম ধন্যবাদ । :)

২১ শে জুন, ২০১০ দুপুর ১:০৮

লেখক বলেছেন: ঢাকা এয়ার পোর্ট থেকে সদরঘাট যাবেন বাসে বা ট্যাক্সিতে। বিকাল ৪:৩০ এ হাতিয়ার লন্চ ছাড়ে প্রতিদিন, নামবেন শেষ ঘাট তমুরুদ্দি তে, ভাড়া ডাবল কেবিন: ১২০০টাকা, ডেকের ভাড়া যতদুর সম্ভব ২০০ টাকা।

সিকিররিটি বাংলাদেশের যেকোন গ্রামের মত, নিজে সাবধানে থাকবেন তাহলেই হবে।

থাকাব ব্যাবস্থা মোটামুটি, একটা গেস্ট হাউস আছে, টোটাল মনে হয় ৬ টা রুম। খাওয়ার কোন সমস্যা নাই।

৬-১০ জনের দল হলে জন প্রতি ৩০০০ মত লাগার কথা।

২৬ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১১:৩৯

লেখক বলেছেন: এই শীতে রওয়ানা দেন

৩৭. ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১০ রাত ১১:০৮
টেকি মামুন বলেছেন: নিঝুম দ্বীপ নিয়ে একটু সাহায্য করেন Click This Link
২৬ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১১:৪৭

লেখক বলেছেন: সাহায্য দেয়া হলো :)

৩৮. ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১০ রাত ১১:২০
বাউন্ডুলে রুবেল বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই আমাদের জন্য পোস্ট দেয়ায়।
এবারই যাব ইনশাল্লাহ নিঝুম দ্বীপে।
২৬ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১১:৪৮

লেখক বলেছেন: যেকোন তথ্যের জন্য http://tb.banglatrek.org এই ফেসবুকের গ্রুপে জয়েন করুন।

৩৯. ০৫ ই অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১১:০৪
সত্যবাদী মনোবট বলেছেন: আবার মনে পড়ে গেলো সেই দিনগুলোর কথা.........

হাতিয়াতে অনেক দিন ছিলাম। আয়েশা হোটেল নামে একটা হোটেল আছে। আমি ঐ হোটেলে বাজি ধরে ৫০টা মিষ্টি খাইছিলাম। হাতিয়ার লোকজন প্রচুল হলুদ খায়। অনেক মজার স্মৃতি আছে হাতিয়ায়
২৬ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১১:৪৯

লেখক বলেছেন: :) শেয়ার করুন সেই স্মৃতিগুলো আমাদের জন্য

৪০. ০৬ ই জুন, ২০১১ দুপুর ১:১২
দিনরাত্রী বলেছেন: জটিল লিখেছেন রাব্বি ভাই।
পড়ে ভালো লেগেছে।
০৮ ই জুন, ২০১১ রাত ৮:১৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ :)

২১ শে জুন, ২০১১ সকাল ৯:৩৯

লেখক বলেছেন: যাক, শেষ পর্যন্ত পাশ মার্ক পাওয়া গেলো :)

৪২. ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:০৬
মেঘেরদেশ বলেছেন: আমরাও গিয়েছিলাম গত বছর,অনেক মজা হইছে :) ভাল লাগল লেখাটা :)

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৮৬০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ঢাকায় থাকি.....
সখ অনেক: বই পড়া, ইলেক্ট্রনিকস টুকিটাকি কাজ, ঘুরে বেড়ানো, অ্যামেচার রেডিও, ক্যাম্পিং, হাইকিং ও ট্রেকিং।
মাথায় বর্তমান ভুত স্নোরকল এবং...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই