somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিরিশিরি ও রানিক্ষং এর পথে সোমেশ্বরী নদীতে..

২১ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৮:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত বছরের মার্চ মাসে আমি আর সোহেল ঠিক করলাম কোথাও ঘুরতে যাবো, উপলক্ষ ২ টা। ওর নতুন সনি ডিএসএলআর আলফা২০০ ক্যামেরা দিয়ে কিছু ছবি তোলা ঢাকার বাইরে আর আমার পাগলামির নতুন সংযোজন ইনফ্লেটেবল নৌকা টা চালিয়ে পরীক্ষা করা। ঘুরতে যাবো শুনে অফিসের এক কলিগ সায়রা বার বার অনুরোধ করাতে ঠিক করলাম বিরিশিরি যাবো, কখনো যাই নি, বিজয় স্বরণি তে গ্রামীনফোনের একটা বিলবোর্ডে বিরিশিরির নদীটার ছবি দেখে মনে গেঁথে ছিল। খোঁজ নিয়ে জানলাম মহাখালি বাস টার্মিনাল থেকে সকালে বাস ছাড়ে। দিনক্ষন দেখে ২৬ তারিখ সকালে আমি, সোহেল, টিটু আর ওর বৌ কেকা উঠে বসলাম বিরিশিরির বাসে (সায়রা মাইনাস হয়ে গেছে ওর স্বভাব মতো)। হেলে দুলে ওখানে আমরা পৌছুলাম ১২টার দিকে, হেটে হেটে খুজতে লাগলাম ওয়াই-ডাব্লিউ-সি-এ র গেস্ট হাউজ। বড় রাস্তা থেকে একটু ভেতরে বেশ সাজানো গোছানো জায়গা, জিনিশ পত্র রেখে একটু ফ্রেশ হয়ে গেলাম আবার বাজারে, খুজতে লাগলাম "রুটিন" এর হোটেল। আগে থেকে জেনে গেছিলাম যে এখানে খাওয়া ভাল, নাম শুনে যদিও প্রথমে মনে করেছিলাম এখানে রুটিন মাফিক খাওয়া দাওয়া হয়, পরে জানলাম উপজাতী মালিক এর নাম "রুটিন"। পেট ভরে ঝাল মুরগির সাথে গরম ভাত আর ভাজি খেয়ে গেস্ট হাউজ এ ফিরে এসে ঝামেলা লাগলো সোহেল এর সাথে। আমি চাই একটু ঘুমাতে কিন্তু ও চায় নদীর ধারে যেতে, শেষে মাঝামাঝি সমঝোতা হল, আমি মিনিট বিশেক ঘুমানোর আনুমতি পেলাম, তারপর রোদ কমলে যাবো নদীর ধারে। টিটুদের কনো মতামত নাই, ওরা ঢাকার বাইরে আসতে পেরেই খুশি।


ছবি: শফিউল ইসলাম (সোহেল)



২০ মিনিট কে টেনে টেনে ঘন্টা খানেক পার করে (যারা আমাকে চেনে তারা খুব ভালো করে যানে আমাকে বিছানা থেকে তুলা কত কষ্টের) রওনা দিলাম নদীর উদ্দেশ্যে, সঙ্গে রাবারের নৌকা আর একটা বিচ্ শেলটার। রিক্সা নিয়ে নদীর তীরে এসে দেখি বিশাল চর। নদীর ধারে বালির উপর প্রথমে শেলটার টা লাগিয়ে ব্যাগ, ক্যামেরা রেখে হাত দিলাম নৌকা টাতে। সন্ধা পর্যন্ত ভালোই কাটলো নদীর বুকে নৌকা চালিয়ে। সূর্য ডুবার পর ফিরে আসলাম ঘরে। ঐ দিন অনেক রাত পর্যন্ত গল্প করে সবাই ঘুমাতে গেলাম, সকালে যাবো রানিক্ষং।






পরদিন সকালে রুটিন এর হোটেল এ নাস্তা করে (সাথে দুপুরের জন্য নিয়ে নিয়েছি পরাটা, মুরগি আর ভাজি) নৌকা নিয়ে রওনা দিলাম রানিক্ষং এর দিকে। রানিক্ষং রিক্সা, মটরবাইক এবং নৌকাতে যাওয়া যায়, আরামপ্রিয় আমি স্বভাবতই নৌকাতে যেতে আগ্রহী। অসাধারন সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে চললাম নদীর মাঝ দিয়ে। রানিক্ষং এ স্কুল এর ঘাটে নেমে এবার রিক্সা নিলাম চীনা মাটির খনি তে যাওয়ার জন্য, পথে পড়ল একটা স্মৃতিসৌধ্য, কিসের মনে নাই এখন।


ছবি: শফিউল ইসলাম (সোহেল)



ছবি: শফিউল ইসলাম (সোহেল)


ছবি: শফিউল ইসলাম (সোহেল)


ছোট ছোট পাহাড়ের মাঝে চীনা মাটি তুলে তুলে এখানে বিশাল খাদের সৃষ্টি হয়েছে, অনেক গভীর এই খাদের পানি শীতে একদম নীল থাকে, মার্চের শেষে পানি সবুজাভ। আমি আর টিটু ঝাপিয়ে পড়লাম এই পানিতে, পানি দেখলে মাথার ঠিক থাকে না। এখান থেকে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল মিশনারি দের নাকি একটা খুব সুন্দর বিদ্যালয় আছে সেখানে, কিন্তু সবাই পরিশ্রান্ত থাকায় নৌকায় ফিরে যাওয়া ঠিক হলো। আসার সময় বেশ রোদ ছিল, যাওয়ার সময় বেশ আরাম, রোদ কম আর মৃদু বাতাস।

চীনামাটির পাহাড়:





ছবি: শফিউল ইসলাম (সোহেল)



রাতে দেখি শেষ পর্যন্ত রুটিন সাহেব হাঁস ম্যানেজ করতে পেরেছেন, ঝাল হাঁস আর ভাত...... উফ্ফ খিদা লেগে গেলো এখন আবার।



ছবি: শফিউল ইসলাম (সোহেল)


ছবি: শফিউল ইসলাম (সোহেল)

মাছ না, কয়লা ধরার জাল:







আরো ছবি দেখতে দেখুন আমার ফেসবুকের পাবলিক এলবাম .. বিরিশিরি
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০০৯ সকাল ৯:৩৭
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×