ভেনিস এর জলপথে...
২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:৪৯
ট্রেন ষ্টেশনের সামনে:
ট্রেন স্টেশন থেকে বেরিয়েই মাথায় হাত, সামনে দেখি নদী, রাস্তা ঘাট কিছুই দেখি না। ভুল বললাম, রাস্তা না দেখা গেলেও ঘাট দেখা যাচ্ছে। ষ্টেশন এর ভেতরের টুরিষ্ট অফিস থেকে হোটেল বুকিং দিয়েছি, সাথে ম্যাপ আর শহরে চলাচলের নির্দেশিকা ফ্রি। বুড়ি মহিলা বলে দিয়েছে স্টেশন থেকে বের হয়ে বড় রাস্তা ধরে বাম দিকে কিছুদুর গেলে হোটেল দেখতে পাবো, নদীনালা পার হওয়ার কথা বলে নি কিছুই।
বাস স্টপেজ:
ওয়াটার বাস:
ট্যাক্সি ও ট্যাক্সি স্ট্যান্ড:
রাজপথ:
আবার ঢুকলাম ভেতরে, রাস্তা খুঁজে পাইনি জানাতে ফোকলা দাঁতে হাসি দিয়ে বলল স্টেশনের বাম দিক দিয়ে হেটে যেতে। হাটা শুরু করে বুঝলাম এই চিপা রাস্তাই এখানে বড় রাস্তা। হোটেল দেখে তো মনে মনে গালি দিলাম বুড়ি কে, বলেছিলাম মাঝারি মানের হোটেল চাই যেখানে এটাচ বাথ ও ডাবল সাইজ বেড ওয়ালা রুম আছে, বেশ অনেকগুলো ইউরো গুনে এসেছি নগদ অথচ এখন দেখি পালেস্তারা খসা পুরান ঝরঝরে এক বাসার উপর হোটেলের নাম শোভা পাচ্ছে (চিৎ-কাত বোর্ডিং এর মত চেহারা)। কি আর করা মনে মনে নিজের কপাল কে গালি দিতে দিতে রুমে ব্যাগ রেখে বাইরে বের হলাম ঘুরতে, একটু পরে অবশ্য বুঝতে পারলাম এখানে সব ঘরবাড়িই সেই পুরানো আমলের, কোন কিছুই বদলান হয় নাই। পাঁচ তারা হোটেল থেকে শুরু করে ডিজনির শোরুম সবই ভাঙা দালানে।
রিয়ালটো সেতু
গ্রান্ড ক্যানাল:
সেন্ট মার্কোর পিয়াজা:
সেন্ট মার্কোর পিয়াজা:
ওয়াটার ফ্রন্ট:
স্হল পথের রাস্তা বলতে সরু সরু চিপা গলি, কিছু সাইকেল দেখলাম, বাকি সবাই হেটে হেটে উপভোগ করছে। আর জলপথে পুরা শহরটাকে সাপের মত পেঁচিয়ে আছে অসংখ্য নদীনালা। একসময় এখানে জলপথেই যাতায়াত করতো ভেনিশিয়ান রা, প্রতিটা বাড়ির একটা করে গেট আছে এই নালার সাথে। এখানকার গনডোলা নামের বিশেষ নৌকা ছিল জনসাধারনের সহজলভ্য বাহন আর বর্তমানের পর্যটকদের মুল আকর্ষন, যদিও ভাড়া অনেক হওয়ায় আমি ছিলাম ছবি তুলেই সন্তুষ্ট।
গনডোলা:
জলপথ:
জলপথ:
এখানকার বেশিরভাগ বাড়ি তৈরী করা হয়েছিল বহুযুগ আগে পানির নিচে মাটিতে কাঠের লগ পুতে তার উপরে (পাইলিং এর মত করে), এই কাঠ লবন পানিতে থাকতে থাকতে সাথে বিভিন্ন খনিজ পদার্থ জমে নাকি পাথরের মত শক্ত হয়ে গেছে। যদিও সময়ের সাথে সাথে নিচের মাটি সরে যাওয়ায় অনেক দালান হুমকির মুখে। এইসব দালান কে বর্তমান প্রযুক্তি ব্যাবহার করে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত, কিন্তু সবই বাইরের চেহারা অক্ষত রেখে। দু:খ লাগে যখন দেখি ঢাকার শত বছরের পুরানো দালান ভেঙে ফেলা হচ্ছে ইচ্ছা করে। এই শহর কে রক্ষা করার জন্য ওদের সরকার অনেক রকম কাজ করছে জানতে পারলাম। মাঝে মাঝে জোয়ার এর সময় নাকি পথ ঘাটে পানি উঠে যায় হঠাৎ করে খুব দ্রুত, তাই ওখানে সাইরেন দিয়ে বিপদ সংকেত দেয়া হ্য় যেন সবাই নিরাপদে উচু স্হানে সরে যেতে পারে। পর্যটকদের জন্য অনেক জায়গায় ঐ সংকেত এর নির্দেশবলী লেখা আছে।
ঢাকাইয়া চিপা গলি:
রাতের সেন্ট মার্কো পিয়াজা
রিয়ালটো ব্রিজ:
জলপথ:
প্রথম দিন আর রাত হেঁটে হেঁটেয় দেখা শেষ শহর, পরের দিন কোন কাজ না থাকায় আবার একই যায়গা ঘুরতে বেরোলাম, কিন্তু এইবার জলপথে। ২৪ ঘন্টার জলপথের পাশ কিনে নিয়েছি, বোটে করে যতদুর যাওয়া যায় গেলাম, আবার ফিরতি বোটে চলে এলাম। মাঝখানে ঘন্টাখানেক ঘুমিয়েও নিলাম দুপুরে (হোটেল যেহেতু সকালেই ছেড়ে দিয়েছি)। রাতের ট্রেনে যাব রোম শহরে......
ইউরোস্টার রেল:
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১২:৫৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সঙ্গে ঘুরার জন্য ![]()
রাহা বলেছেন:
ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আমার দেখা একমাত্র শহর যেখানে গাড়ি নাই রাস্তায়। কান খুলা রাখলে বেশ কিছু বাঙগালি পাবেন টুকটাক জিনিষপত্র ফেরি করছে। আপনিও ভাল থাকবেন।
লেখক বলেছেন: তারমানে আপনি পড়েন নি ![]()
লেখক বলেছেন: মাইনাস দিয়েছেন "মিনেসোটা"। আমিও উনার কয়েকটা পোষ্ট এ সাথে সাথে যেয়ে মাইনাস....
বিকালে থাকবো কোথায়? মুসতাকিম?
যুগান্তকারী বলেছেন:
ভালো লাগলো।
লেখক বলেছেন: ধইন্যা
রুবাইয়াত ইসলাম সাদাত বলেছেন:
আমার দেখা ইটালির সেরা জায়গা হল ভেনিস। কোন বর্ণনা দিয়েই বোঝানো সম্ভব নয়। খুব সুন্দর পোস্ট। ভালো থাকুন।
লেখক বলেছেন: আমারো খুব ভালো লেগেছে ভেনিস, অন্যরকম, মনে হয় নাই ২০০৮ সাল ছিল ঐটা। আপনিও ভাল থাকুন।
পতত্রী বলেছেন:
+++
লেখক বলেছেন:
![]()
দূরন্ত বলেছেন:
দারুণ লাগলো। শুভেচ্ছা।
লেখক বলেছেন: আপনাকেউ শুভেচ্ছা।
দূরন্ত বলেছেন:
প্রিয় পোস্টে রাখলাম।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ প্রিয় তে রাখার জন্য।
ধীবর বলেছেন:
ভেনিস ভ্রমনের স্বপন ছিল অনেক দিনের। কিন্তু সব স্বপ্ন তো পুরণ হয় না। তাই পোস্ট পড়ে দুধের স্বাদ ঘোলে মিটালাম। ইয়ে , খাওয়া দাওয়ার কি করলেন, কিছু তো লিখলেন না ভাই। অনেক ধন্যবাদ এবং প্লাস তো বটেই, সাথে প্রিয়তে নিলাম।
লেখক বলেছেন: একবেলা খেলাম অয়েস্টার দিয়ে পাস্তা, রেস্টুরেন্ট গুলা অনেক এক্সপেনসিভ, ট্যাক্স, সার্ভিস চার্জ এর পর কভার চার্জ বলে একটা বস্তু আছে নতুন শিখলাম এইবার। সুতরাং ৫ ইউরোর খাবার শেষে ১২ ইউরো তে ঠেকলে অবাক হবেন না ![]()
বাকি বেলা গুলো একটা বড় ফাস্টফুড জয়েন্ট এর মত আছে ওখানে খেলাম, সামনে গ্রিল আর বার-বি-কিউ আছে, সাথে পাস্তা, সালাদ বার। সেল্ফ সার্ভিস, সুতরাং সার্ভিস ও কভার চার্জ নাই। ফিস অথবা বিফ স্টেক তুলনামুলক ভাবে সস্তা।
আগে হলিউডের বিভিন্ন সিনেমায় এরকম শহরের মাঝে জলপথ দেখেছি, এই রকম যে সত্যিই আছে জানতাম না। আজ জানা হলো। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আমার নিয়মিত পাঠক এতক্ষন পরে!!
পুরো শহর টাই পানির উপরে তৈরী করা, ছোট ছোট পায়ে হাটা যেসব অলি গলি আছে তা অসংখ্য সেতু দিয়ে ভরা। কিছুদুর পর পর একটু করে ফাকা জায়গা, ওখানে নাকি বাজার বসত অথবা অনুস্ঠান হত।
লাইফ স্টাইল: ওখানে স্হানীয়রা আর থাকে না, সবাই সরে গেছে আসে পাসের আধুনিক অংশে। ভেনিস এর এই মুল শহর এখন শুধুই পর্যটক আর পর্যটন কে ঘিরে যেসব ব্যাবসা তদের আনাগোনায় মুখর।
বন্যার ঢাকার সাথে পার্থ্ক্য ওখানে পানি পরিস্কার।
এন এইচ আর বলেছেন:
আসলেই ভেনিস শহরটা একটা অবাক বিষ্ময়। দেখেছি আর অবাক হেয়েছি। তবে নিচের ছবি দেখে অবাক হবেন না। এটা গত ডিসেম্বরের ছবি। আপনি কি ঘুরতে এসেছিলেন ইতালিতে ??
লেখক বলেছেন: হায় হায় সেন্ট মার্কো দেখি পানির তলে
কবুতর গুলা কৈ খাবে এখন?
আমি গত নভেম্বরে গেছিলাম ঘুরতে।
লেখক বলেছেন: তুমি তো আগেই দেখেছো ফেসবুকে ![]()
লেখক বলেছেন: দেখি ফেসবুকের সবগুলা এলবাম কে পোষ্ট বানায়ে ফেলতে হবে।
লেখক বলেছেন: ছবি গুলি দেখার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
লেখক বলেছেন: নিশ্চয় কখনো যাবেন। ধন্যবাদ ভাল লাগার জন্য।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে। আমি ঘুরতে ভালবাসি, হোক তা দেশে বা বিদেশে।
আশা করি পরের পোস্ট গুলাও পছন্দ করবেন।
অরুন্ধতি বলেছেন:
চমৎকার
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
মুভি পাগল বলেছেন:
bish bedona shuru
লেখক বলেছেন: কেনো?
িজসান বলেছেন:
++++++++
রক্তিম কৃষ্ণচূড়া বলেছেন:
বাহ্! খুব সুন্দর।
সায়েম মুন বলেছেন:
ভেনিস শহর দেখবার বড় ইচ্ছে হয়। আপনার পোষ্টের মাধ্যমে কিছুটা দেখা হলো। বাকীটা স্বচোক্ষে না দেখলে হবেনা
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...



















