ছেড়াদিয়ায় তারার নীচে একরাত... (একটি ভবঘুরে পোস্ট)
৩১ শে অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১:৪০
ঈদের সময় সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পানির নীচের ছবি তুলতে গেছিলাম সে সব তো আগেই শুনেছেন, কিন্তু ঐ রাতে যে আমরা ছেড়াদ্বিপে থেকে গেছিলাম তা মনে হয় বলা হয় নি। আমি আর ফয়সাল আগে থেকেই প্ল্যান করে গেছিলাম যে সারাদিন পানির নীচে ঘুরে ফিরে রাতটা ছেড়াদিয়াতেই কাটিয়ে দিব - ইচ্ছা সকালে আরেকবার পানির নীচে নামার, রাত কাটানোর প্রস্তুতি হিসাবে সাথে আছে ২ টা ছোট তাবু, যার যার স্লিপিং ব্যাগ, ক্যাম্পিং চুলা, নুডলস, ডিম আর পর্যাপ্ত পরিমান চা/কফি ও পানি।
১. ভাটার সময় ছেড়াদিয়ার সাগরতীর:

টুরিস্ট সিসন শুরু না হউয়াতে সারাদিন ছেড়াদিয়াতে আমরা ছাড়া আর কোন জনমানব নাই, কিন্তু বিকালের দিকে কিছু স্থানীয় পিচ্চির দল দেখলাম কড়ি/ঝিনুক কুড়াতে এখানে চলে এসেছে। যেহেতু ছেড়াদিয়াতে থাকা নীষেধ আর আমরাও চাইনা কেউ জানুক আমরা এখানে রাতে থাকবো, তাই অপেক্ষা করতে লাগলাম ওদের চলে যাওয়ার। এর মাঝে আমরা ক্যাম্প কোথায় করবো ঠিক করে ফেলেছি, দেখে মনে হচ্ছে এখানে পানি উঠেনা জোয়ারের সময়। শেষ মুহুর্তে লোভ সামলাতে না পেরে আমার ছোট বোন মনিষাও থেকে যাওয়া ঠিক করেছে আমাদের সাথে, যদিও ওর ফিরে যাওয়ার কথা ছিল বিকালে।
২. অপেক্ষা করছি, সবাই চলে গেলে ক্যাম্প করবো এখানে: (ছবি: ফয়সাল কাইয়ুম)

৩. আমাদের ক্যাম্প:

৪. আমাদের ক্যাম্প:

এরমাঝে জোয়ার শুরু হয়েগেছে, আমরা ছাড়া সবাই ফিরে গেছে মুল দ্বীপে। আকাশের অবস্থাও ভালো না, চারিদিকে ঘন কালো মেঘ। তাড়াতাড়ি তাবু গুলা পেতে আমরা রান্নার ব্যাবস্তা করতে লাগলাম, বৃষ্টি নামার আগেই খেয়ে তাবু তে ঢুকতে হবে। রাতের খাওয়া ডিম দিয়ে নুডলস আর পরে ক্যালশিয়াম (বার্মিজ ইন্সট্যান্ট ড্রিংকস, যবের তৈরী)।
৫. রাতের রান্নার শুরু: (ছবি: ফয়সাল কাইয়ুম)

৬. ডিনার টাইম: (ছবি: ফয়সাল কাইয়ুম)

৭. আকাশ ভরা তারা: (ছবি: ফয়সাল কাইয়ুম)

কিছুক্ষন পরে ঝড়ো বাতাস শুরু হলে মেঘ সরে গেলো, ফয়সাল ট্রাইপডে ক্যামেরা লাগিয়ে আকাশের ছবি তুলতে ব্যাস্ত হয়ে পড়লো। অনেক রাত পর্যন্ত আমরা হাটাহাটি করে আড্ডা দিয়ে ঘুমাতে গেলাম, রাতে মুশলধারে বৃষ্টি এসেছিল কিন্তু সারাদিনের পরিশ্রমের কারনে আমরা বেশ আরাম করে ঘুমালাম। সকালে উঠে আরেকপ্রস্থ ক্যালশিয়াম আর কফি ষাথে নুডলস দিয়ে নাস্তা করে ফেললাম। আমাদের পানি শেষ হয়ে যাওয়াতে সবাই কম কম পানি খাচ্ছি, কফি খাওয়ারো উপায় নাই। এর মাঝে ফয়সাল মুখ ধুতে যেয়ে আবিস্কার করলো সামনে যে জায়গাটাতে পানি জমে আছে তা আসলে লবনাক্ত না, বৃষ্টির পানি জমে আছে। আমরা মনে করেছিলাম সমুদ্রের পানি। পানির অভাব মিটে গেলো, আমরা প্রান ভরে ঐ পানি খাতে লাগলাম।
৮. সকালের নাস্তা চুলায়: (ছবি: ফয়সাল কাইয়ুম)

৯. ইয়ামি:

১০. মিস্টি পানির জলাশয়: (ছবি: ফয়সাল কাইয়ুম)

একটা দ্বিপে আমরা মাত্র কয়জন, নিজেদেরকে বেশ রবিনসন ক্রুশো মনে হচ্ছিল, জীবনে এত আনন্দ খুব কমই পেয়েছি কোথাও ঘুরতে যেয়ে........
১১. সকালের নাস্তা:

১২. ছেড়াদ্বীপ বা ছেড়াদিয়া: (ছবি: ফয়সাল কাইয়ুম)

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ছেড়াদিয়া, ছেড়াদ্বীপ, সেন্ট মার্টিন, ক্যাম্পিং ;
বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
ব্ল্যাক মামবা বলেছেন:
এত্ত রাতে কি করেন....ঘুমান গিয়া
লেখক বলেছেন: ভাই আপনার জন্য গালি খাইসি ঐদিন মৃদুভাষির কাছে। আমি আর আপনি নাকি একই মানুষ আলাদা নিক ![]()
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন:
লোভ লাগায়া দিলেন তো ভ্রাতা। ইন্সপায়ার্ড। কিন্তুক টাইম কই পাই? আফসুসিত মন নিয়া পুস্টে প্লাসাইলাম।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। কখনো টাইম পাইলে ঘুরে এসেন।
চাষী বলেছেন:
valo laglo apnader adventurer golpo shune.
লেখক বলেছেন: ইচ্ছা আছে আগামি মাসে লাওয়াছড়ার বনে চুপ করে এক রাত কাটানোর। ধন্যবাদ আপনাকে।
ছেড়াদিয়ায় সবাই যাবার প্ল্যান হলেও শেষমুহূর্তে আমি যাচ্ছিলাম না, নৌকার সাইজ দেখে, কারণ আমি অনেক ভীতু। তারপরেও ইচ্ছার বিরুদ্বে চোখের পানি বিসর্জন দিয়ে যাত্রা শুরু করলাম।
পরে মনে হয়েছে না গেলে অনেক কিছু মিস করতাম যদিও আমরা রাত্রী যাপন করিনি।
সেন্ট মার্টিন এবং ছেড়াদিয়ার সবচেয়ে আকর্ষনীয় হল আকাশের অগুণিত তারা...... অসাধারণ !!!!
লেখক বলেছেন: নৌকায় করে সেন্ট মার্টিন যাওয়ার মজা বেশি জাহাজের থেকে।
ছেড়াদিয়াতে তো বড় নৌকা যায়!! ছোট কৈ দেখলেন? অবশ্য ডিংগি নৌকা লাগে একটা তীরে যেতে।
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য বলেছেন:
সেন্ট মার্টিন এবং ছেড়াদিয়ার সবচেয়ে আকর্ষনীয় হল আকাশের অগুণিত তারা...... অসাধারণ !!!!
লেখক বলেছেন: আকাশের তারা আর সুনীল সমূদ্র......
ঘুমরাজ বলেছেন:
দারুন।ইনশাল্লাহ আবার ছেড়া দীপ এ গেলে রাত কাটাবো +++
লেখক বলেছেন: শীতের সময় হলে বৃস্টির ভয় নাই, গরম কাপড় আর চাদর নিয়ে যাবেন।
দূর আকাশের নীল তারা বলেছেন:
ভাল লাগল কিন্তু তারার ছবিটা কেন জানি কম্পিউটার এনিমেটেড লাগতাছে। তারা তো সবুজ হয় না।
লেখক বলেছেন: সনি এইচ৫০ ক্যামেরা তে তোলা, এই ক্যামেরা এই কাজের জন্য না, ছবি যে এসেছে এই অনেক।
তারা সবুজ হয় না কে বলেছে আপনাকে? নক্ষত্রের রং নির্ভর করে তার তাপমাত্রার উপর, আমাদের সূর্য যেমন হলূদ তেমনি অন্যন্য নক্ষত্র লাল থেকে শুরু করে বেগুনি পর্যন্ত সকল রং এর হয়। আমরা দূরের তারা নীল দেখি কারন বেগুনী ওয়েভলেন্থ এর আলো আমাদের পর্যন্ত এসে পৌছায় তাই।
ভাল লাগল আপনাদের আনন্দ দেখে....
লেখক বলেছেন: আমাদের কাজই নিজে আনন্দ করা আর মানুষ কে লোভ লাগায়ে দেয়া ![]()
দাদুভাই বলেছেন:
যাবার বাসনা জাগে মনে
লেখক বলেছেন: বাসনা পূরন করে ফেলেন।
লেখক বলেছেন: আমরা হেঁটেই যাই, মজা বেশি। আমাবশ্যা আর পূর্ণিমা দুইটার ই ভিন্ন আর অসম্ভব সুনদর রুপ ওখানে।
স্বপ্নকথক বলেছেন:
ভালো লেগেছে।
লেখক বলেছেন: ধন্যাবাদ
পারভেজ বলেছেন:
চমেৎকার একটা অভিজ্ঞতা, নিঃসন্দেহে!কখনো গেলে মিলিয়ে নেবার চেষ্টা করবো।
ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্যে।
লেখক বলেছেন: মিল পাবেন না...... একেকবার একেক রূপ।
ঘাসফুল বলেছেন:
দারুন লাগলো লেখাটা...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
ধূসর মানচিত্র বলেছেন:
ইনশাল্লাহ নেক্সট টাইম গেলে ছেড়াদ্বীপে একরাত কাটিয়ে দিব।ছবির জন্য +++
লেখক বলেছেন:
মজা পাবেন। পর্যাপ্ত পানি আর খাবার নিয়ে যাবেন মনে করে।
রোহান বলেছেন:
দারুন লেখা + ছবি...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
সুবিদ্ বলেছেন:
ইস!! কবে যে যেতে পারবো.....
লেখক বলেছেন: সময় করে ঘুরে আসেন
দীপান্বিতা বলেছেন:
দারুন এ্যাডভেঞ্চার!আকাশ ভরা তারা:-এভাবে যে কতদিন দেখি নি!
লেখক বলেছেন:
সাগরের দিকে তাকিয়ে এমনেই মন ভালো হয়ে যায়........
সাইফুল ফারদিন বলেছেন:
আপনার ছবিগুলো অনেক অনেক নাইস হইছে ভাইয়া...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














