somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পীর মুরিদী প্রসঙ্গে

১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পীরী---- মুরীদী---প্রক্রিয়ায় ই আবহমানকাল হতে ধর্ম আমাদের নিকট আগত।ধর্মের প্রকৃত এই দিকটাই বকধার্মিকদের নিকট পছন্দনীয় হবে না এটাই স্বাভাবিক। পার্থিব বিষয় সমূহ শিক্ষা লাভের জন্য কেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষক ছাড়া বিদ্যা লাভের বিষয়টি চিন্তাই করতে পারে না। অথচ একজন মুসলমানের জন্য দুরিয়া ও আখেরাতের সবচেয়ে গুরূত্বপূর্ণ বিষয় ইসলাম ধর্ম কে একজন প্রকৃত শিক্ষকের (পীর/মুর্শিদ/শায়খ)সহায়তা ছাড়াই কোন কোন নির্বোধ শিখে নিতে চায়(কি হাস্যকর চিন্তা)।

জামাতের বিকৃত আক্বীদা -বিশ্বাসে পরিপূর্ন ভ্রান্ত মতবাদে পীর মুরিদীর অস্তিত্ব নেই। অথচ জামাতের মূল স্রষ্টা আবুল আলা মওদুদীর পিতা চিশতিয়া তরীকার একজন পীর। গোআজম মাসিক পৃথিবী নামক জামাতের একটি পত্রিকায় প্রশ্নত্তর পাতায় উত্তর লিখেছেন এভাবে, "কেবল ধর্ম শিক্ষার উদ্দেশ্যে পীরের কাছে যাওয়া যেতে পারে।" আর তার অনুসারীরা বলছে ভিন্ন কথা । কি দারুন পীর মুরিদীর নিদর্শন। জামাতীর তাদের পীর গোআজম আদেশ এবং উপদেশ এর বিরুদ্ধাচারনকে তীব্র ঘৃনা করে।তাদের ইমাম মওদুদী (জাহান্নামী )সমালোচনা শুনতে নারাজ।কিন্তু মওদুদী যখন নবী (আঃ) গনের এবং সাহাবা (রাঃ) সমালোচনা করে তখন তারা তাদের পীর সাহেবের (মওদুদী) প্রশংসায় মূখর।
প্রকৃত তত্ত্ব হচ্ছে আল্লাহতা'লার যত মকবুল বান্দাগণের নাম করা যায় তারা প্রকৃত ইসলামে সঠিক নির্দেশনা অনুযায়ী একজন পীরের মাধ্যমে জ্ঞান আরহন করেছেণ। রাসূল (সঃ) ছিলেন সম্মানিত সাহাবা (রাঃ) গনের পীর। সাহাব (রাঃ) গন তাবেয়ী (রঃ) গনের , তাবেয়ী (রঃ) গণ তাবেতাবেয়ী (রঃ) গনের এই ভাবে চলেছে পরম্পরা। ইমামে আযম আবু হানীফা(রঃ), ইমাম গাজ্জালী (রঃ) . ইমাম বূখারী (রঃ) প্রমূখ গণ প্রত্যেকেই পীরের সাহচর্যেই জ্ঞান আহরন করেছেন।

মওলানা জালালুদ্দীন রূমী(রঃ), শােয়খ সাদী (রঃ) , হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (রঃ) কতজনার নাম উল্লেখ করব?
অনেকেই ভন্ড ও দুনিয়াদার পীরদের উদ্ধিৃতি টেনে পীরদের নিন্দা করেন।
এ ক্ষেত্রে বলতে হয় খাটি জিনিষ থাকলে সেখানে সুবিধাভোগীরা ভেজাল জিনিষের আমদানী করবে এটাইতো শয়তানের ধর্ম। বাজারে পাওয়া সকল মধূই কি খাটিঁ? আর ভেজাল মধূ যদি আপনাকে সন্তুষ্ট না করতে পারে বা ওষধি গুনাগুন প্রদর্শন না করে তবে কি তা খাটি মধূর দোষ? না আপনার খাটি মধূ না চিনতে পারার ব্যর্থতাঃ
জামাতীরা ও তাদের দোসর অজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ বলে থাকে পীর মুরিদীর প্রথা মূলত এ উপমহাদেশেই প্রচলিত।

তাদের উত্তরে বলতে গেলে বলতে হয় বড়পীড় সাহেব কিন্তু এই উপমহাদেশের বাসিন্দা নন।হযরত শাহজালাল(রঃ) ইয়েমেনের বাসিন্দা, হযরত বায়েজিদ বোস্তামী (রঃ) ইরানের বোস্তাম শহরের বাসিন্দা। হযরত খাজা বাহাউদ্দিন নক্সবন্দ(রঃ) বোখারার বাসিন্দা। এবং ওনারা প্রত্যেকেই মশহুর পীর ছিলেন।আর কতজনের নাম বলবো? আপনারা বরং দুই একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় মুসলিম ব্যক্তিত্ব যার আল্লাহর অলি হিসেবে পরিগণিত অথচ পীরী মুরিদি প্রথা বহির্ভূত , পারলে নাম করূন।

পীর-মুরিদীতো প্রকৃতপক্ষে শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্ক ছাড়া আর কিছুই নয় পীর হচ্ছেন শিক্ষক মুরীদ হচ্ছেন ছাত্র। আসলে এ বিষয়ে না জেনে তর্কে লিপ্ত হওয়া শয়তানী প্রবৃত্তির বহিঃপ্রকাশ মাত্র যা মওদুদী গোআযম, নিযামী মুজাহিদীদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট মাত্র।
সার কথা হচ্ছে এই যে ,

১. প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য এলেম বা জ্ঞান শিক্ষা করা ফরজ।" (ইবনে মাযা)
২. "এলেম দু্ই প্রকার। জবানী এলেম ও কলবী এলেম।"( মেশকাত শরীফ)


জবানী এলেম িশক্ষা করতে গেলে মাদ্রাসায় দাখেল হতে হয়। অথবা ফেকাহ্র কেতাব পাঠ করতে হয়। অরজ্ঞান না থাকলে আলেমগণের কাছ থেকে জেনে শুনে নিতে হয়।

আর কলবী এলেম শিখতে গেলে এমন ব্যক্তির শরণাপন্ন হতে হয়, যার কলবে জিকিরের নূর প্রজ্জ্বলিত থাকে সারাণ। এইরুপ ব্যক্তির সহবত এখতেয়ারের জন্য তাঁর নিকট মুরিদ বা বায়াত হওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়ে। বায়াতের প্রেমময় বন্ধনের সূত্র ধরেই এইরুপ বুজর্গ ব্যক্তির কলব থেকে জিকিরের নূর মুরিদের কলবে প্রতিবিম্বিত হয়ে মুরিদের কলবও জিকিরময় হয়ে উঠে। আর তখনই কলব সালিম অবস্থায় পৌছতে পারে। যিনি কলবী এলেম সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ তাঁকেই পীর বা মোর্শেদ বলা হয়। জাহেরী এলেম শিক্ষার শেষে অথবা সাথে সাথে কলবী এলেম শিক্ষায় মনযোগী হওয়া উচিত। নতুবা ফরজ তরক করার দায়ে দায়ী হতে হবে।


৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×