somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরিচিত হবেন কয়েকজন পৌরণিক ব্লগারের সাথে?

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একলব্য
একলব্য ছিলেন নিষাদরাজ হিরণ্যধনুর পূত্র। তিনি একবার ধর্নুবিদ্যা শেখের জন্য অদ্বিতীয় ধনুর্বিদ দ্রোণের কাছে আসলে দ্রোন তাকে নীচ জাতি বলে প্রত্যাখান করে। এতে একলব্য মনে খুব দূ:খ পান এবং নির্জন এক বনে গিয়ে দ্রোণের মাটির মুর্তি গড়ে সেটাকে গুরু রূপে কল্পনা করে যোগবলে শিক্ষা লাভ করেণ। ধিরে ধিরে তিনি অর্জুনে চেয়ও দক্ষ হয়ে ওঠেন।


এসময় একদিন পঞ্চপান্ডবরা শিকারের জন্য ঐ বনে আসে। তাদের সাথে আসা একটি কুকুর ময়লা কালো পোষাক পড়া, জটাধারী একলব্য দেখে ভয়ে চিৎকার শুরু করে। এতে বিরক্ত হয়ে একলব্য পাঁচটি তীর ছুড়ে কুকুরের মুখে বিধিয়ে দিয়ে ওটার কন্ঠোরোধ করেন।
শরবিদ্ধ কুকুর পান্ডবদের কাছে ফিরে গেলে তীর বেধার কৌশল দেখে বিস্মিত হয় পান্ডবরা। পরে তারা খুজে বের করে এই তীরন্দাজকে। তিনি নিজেকে দ্রোনের শিষ্য হিসেবে পরিচয় দেন।
পান্ডবরা এ কথা দ্রোনকে জানায়। অর্জুন অভিমান করেন, তারই শ্রেষ্ঠ তীরন্দাজ হবার কথা। সব শুনে দ্রোন বলেন, তিনি একলব্যকে কোন দিক্ষা বা শিক্ষা দেননি, অর্জুনই তার একমাত্র শিষ্য। এরপরে তিনি একলব্যের সাথে দেখা করার জন্য বনে যান। একলব্যের ধর্নুবিদ্যা দেখে তিনি বিস্মিত হন, এবং বলেন "তুমি এত ভাল শিখেছো, আমাকে গুরু দক্ষিনা দাও"। এ কথা শুনে একলব্যের মন অনন্দে ভরে ওঠে, তিনি বলেন গুরুকে তার কিছুই অদেয় নেই। তখন দ্রোন গুরু দক্ষিনা হিসেবে একলব্যের ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল চান। একলব্য গুরু সন্মান রক্ষার্থে খুশি মনে আঙ্গুলটা কেটে তাকে দিয়ে দেন।
আসল ব্যাপারটা হলো অর্জুন তার ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে আর দ্রোণ তার আর্য শ্রেষ্টত্ব বজায় রাখা জন্য একলব্যের এই অসাধারণ প্রতিভা নষ্ট করে দিয়েছিল /:)

অপ্সরা
অপ্ (জল) হতে জন্ম নেবার কারণে এদের নাম অপ্সরা। দেবাসুরের সমুদ্র মন্হনের সময় অসংখ্য পরিচারিকা সহ এরা উঠে আসে। দেব দানব কেউই এদের গ্রহন না করার কারণে এরা সাধারণ স্ত্রী হিসেবে গণ্য হয়।

মনুসংহিতার অপ্সরারা সপ্তমনুর সৃষ্টি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অপ্সরারা সংখ্যায় ৬০ কোটি। নৃত্যকলায় পারদর্শী অপ্সরাদের অধিপতি হলেন কামদেব। রামায়ন, মহাভারতে এদেরকে গান্ধর্বদের স্ত্রী হিসেবে দেখানো হয়েছে। এরা ইন্দ্রসভায় গায়িকা ও নর্তকীরূপে গান্ধর্বদের নাচ গানে অংশগ্রহণ করে। দেবতারা এদের নানা কাজে ব্য ব হার করে। কখনো কোন মুনি ঋষির কঠোর তপস্ব্য়া দেবতাদের চেয়ে বেশি শক্তিধর হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দেয়, তখন তাদের ধ্যান করার জন্য অপ্সরাদের পাঠানো হতো;)। যেমন বিশ্বমিত্রের জন্য পাঠনো হয়েছিল মেনকাকে, এবং জন্ম হয় শকুন্তলার।
অপ্সরারা মায়ারূপীনি, তারা চেহারা বদল করে মর্তে এসে মানুষদের সাহায্য করে। এরা পাশা খেলতে খুব পছন্দ করে।

কালপুরুষ
কালপুরুষ হলেন বক্ষ্রার পৌত্র আর সূর্যের পুত্র। তার অপর আরেকটি নাম হলো যম :|

একবার তিনি তাপস রূপ নিয়ে রামের কাছে এসেছিলেন তাকে বৈকুন্ঠে ফিরে যাবার অনুরোধ নিয়ে। এসময় তিনি রামকে শর্ত দেন যে, তাদের কথোপোকথনে সময় যে ঐ স্থানে প্রথম আসবে, রামকে তার সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে। তখন রামের দ্বার রক্ষক ছিলেন লক্ষণ। এমন সময় দূর্বাসা আসে রামের সাথে দেখা করার জন্য আসলে, লক্ষণ দূর্বাসার আভিশাপের ভয়ে রামকে তার আসার খবর দিতে যান। ফলে কালপুরুষের সাথে করা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার জন্য, রাম লক্ষণকে ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
পরে লক্ষন মনের দু:খে সুরুয নদীর তীরে ধ্যানস্থ হন। ধ্যানে প্রীত হয়ে ইন্দ্র আশাপমোচন করে, এবং অবশেষে লক্ষণ স্বর্গে ফিরে যায় :)

কৌশিক:
কৌশিকের দুটো উপাখ্যান জানা যায়।
প্রথম উপাখ্যান অনয়যায়ি ইনি ছিলেন একজন ব্রাক্ষণ তপস্বি। এক দিন গাছের নীচে বসে শাস্ত্র পাঠ করার সময় একটা বক তার মাথের উপর পূরীষ ত্যাগ করে :P। এতে কৌশিক প্রচন্ড রেগে গিয়ে অগ্নি দৃষ্টির সাহায্যে বক টিকে ভস্মিভূত করে, পরে অনুতপ্ত হয়। এরপর তিনি দীর্ঘদিন মিথিলাবাসী ধর্মব্যধের কাছে ধর্ম শিক্ষা করেণ।


দ্বিতীয় মিথ অনুযায়ী, কৌশিক ছিলেন একজন ব্রাক্ষণ তপস্বি, তিনি সব সময় সত্যকথা বলতেন :P। একদিন কিছু লোক ডাকাতের হাত থেকে বাচার জন্য তার তপোবনে আত্মগোপন করেন। এমন সময় ডাকাতরা এসে কৌশিকের কাছে তাদের কথা জানতে চাইলে, সত্যবাদিতার করাণে তিনি এরা কোথায় লুকিয়েছে তা বলে দেন। তখন ডাকাতরা এদের খুজে বের করে ধরে নিয়ে হত্যা করে।
এ কারনে তিন অভিসাপ গ্রস্ত হন, কারণ তিনি ধর্মের সূক্ষ তথ্য জানতেন না।

মদন
ব্রক্ষা যে সময় দক্ষ, প্রজাপতি, মারীচি প্রমুখ মানসপুত্রদের সৃষ্টি করছিলেন, সেই সময় তার মন থেকে পরমা সুন্দরী এক নারীর তৈরি হন, যার নাম সন্ধ্যা। এই সন্ধ্যাই পূজিত হন। এই নরীর সঙ্গ দেবার জন্য পরে সুন্দর এক পুরুষকে সৃষ্টি করা হয়, ইনিই মদন।
কিছু দিন পরেই মদন ব্রক্ষার উপর তার শক্তির প্রয়োগ করে, মানে কাম শর বিদ্ধ করে। ফলে ব্রক্ষার অভিশাপে তিনি শিবের আগ্নিবানে পুড়ে যান। পরে মহাদেবের সাথে পার্বতীর বিয়ে হলে তিনি আবার দেহ লাভ করেণ। এর পর মদন দক্ষ কন্যা রতীকে বিয়ে করেণ।
ইনি প্রেমের দেবতা। আরো অনেক গুলো নাম আছে এনার: কামদেব,
মন্মথ, কন্দর্প, অনঙ্গ, মদ, রমন ইত্যাদি।
বসন্ত ওনার সহচর।

মি: মদন মানব মানবির উপর পুস্পশর নিক্ষেপ করেণ এবং প্রেম জাগিয়ে তোলেন। অনেক নামিদামি দেবতা, যেমন ব্রক্ষা, ইন্দ্র প্রমুখের কিছু কিছু স্খলনের পেছনের এর হাত ছিল, সে সব কথা এখানে আর না বলি...


আপাতত এই পর্যন্তই...................:):D
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০১২ রাত ১:২৭
৭৬টি মন্তব্য ৭৬টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×