নিজের পারিবারিক বলয়ের না, এমনকি মানুষ্য প্রজাতিও না এমন কিছু আত্মার আত্মীয় আছে আমার। এর আগে দুজনার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম, আজ আরও বারো জন।
এরা অনেকদিন ধরে আছে আমার সাথে, তা প্রায় বছর তিনেক তো হবেই। তেমন আলাদা কোন যত্ন নেই, কোন আব্দার নেই, নিরলস ভাবে আমাদের চোখের আর মনে প্রশান্তি দিয়ে যাচ্ছে ......................
হুম, এরাই তারা, গোল্ড ফিস, ব্ল্যাকমুর, র্যাম্বো শার্ক, এঞ্জেল, সিলভার শার্ক আর দু;জোড়া নাম না জানা দম্পতি, এদের নিয়ে আমার মৎসজগত!
একুরিয়ামে মাছ পালার মানুষের এই শখ কিন্তু আজকের কথা না। প্রায় চার হাজার বছর আগে থেকেই মানুষ মাছ পোষা শুরু করেছিল, পৃথিবীর প্রথম মাছ পোষার নির্দশন পাওয়া যায় সুমেরীয় সভ্যতায়। খ্রী: পূ: ২৫০০ অব্দে সুমেরিয়ানরা পুকুর বানিয়ে তার মধ্যে মাছ রাখতো, এদের উদ্দ্যেশয় অবশ্য বর্তমান কালের মতো শোভাবর্ধন ছিল না, এই মাছ গুলো তারা খেতো।
এছাড়া মিশরীয় সভ্যতায় পিরামিদের অভ্যন্তরে আর সমাধিক্ষেত্র গুলোর দেয়ালে বিশেষ কিছু রঙিন মাছের ছবি প্রায় চোখে পরে। এরাও কিন্তু উজ্জ্বল বর্ণ আর সৌন্দর্যের জন্য বেশ কয়েক প্রজাতির মাছের প্রজনন করেছিল।
এই হলো আমার পুরো একুরিয়ামটা। এখনকার এক্যুরিয়াম এমন কাঁচের হলেও আগের যুগের এক্যুরিয়াম গুলো কিন্তু মোটেও এমন সুন্দর ছিল না।
একুরিয়াম নিয়ে সবচেয়ে মজার কাজট করতো রোমানরা, তারা তাদের বাড়ির অভ্যাগতদের বিছানার নিচে মার্বেলের জারে করে মাছ রাখতো শোভা বর্ধনের জন্য। পরে কাঁচের উদ্ভাবন হবার পরে জারের একাপাশের দেয়াল কাঁচ দিয়ে বানাতো, যাতে ভেতরের মাছ গুলো দেখা যায়।
ভিক্টোরিয়ান যুগের একুরিয়াম গুলোর দু পাশে ছিল কাঠ, আর সামনের দেয়ালটা শুধু কাঁচে, মেঝেটা বানানো হতো শ্লেট দিয়ে। তবে এই সব প্রাচীন একু্রিয়ামে মাছ কিন্তু বেশি দিন বাঁচতো না।
পরবর্তি কালে ১৮৭০ সালের দিকে ওয়াটার ফিল্টার, টেম্পারেচার কন্ট্রোলার ইত্যাদি প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে এই অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হতে থাকে, শৌখিন মৎসপালকদের মাছ গুলোর আয়ু বাড়তে থাকে। উনবিংশ শতক থেকে মূলত: নানা ঢং এর, ডিজাইনের এক্যুরিয়ামের প্রচলন শুরু হ্য়।
একুরিয়ামের মাছের মধ্যে সবচেয়ে কমন মাছটি হলো গোল্ড ফিস। আমার একুরিয়ামেরও সবচেয়ে পুরানো সদস্য এরা। তবে এদের জ্বালায় মাছের ফটোশেসনে একটু সমস্য হয়েছে, যেখানেই ক্যামেরা নিয়ে যাই সাথে সাথে নিজের বেজার মুখটা দেখানোর জন্য অন্যদের হটিয়ে সেখানে হাজির।
এই যে, হাজির হয়েছে দুজনে, বাকিরা দৌড়ের উপরে
গোল্ডফিসকে অনেক জাপানের উদ্ভাবন মনে করে থাকেন, কিন্তু এর মূল উদ্বাবন কিন্তু চীনে। প্রায় এক হাজার বছর আগে সুন্দর চেহারা আর রং জন্য গোল্ড ফিস পোষা আর প্রজনন শুরু করেছিল চীনারা। চতুর্দশ শতকে জাপানে গোল্ডফিস রপ্তানী করা হয়।
গোল গোল চোখের কৃষ্ণাঙ্গ মাছটার নাম ব্ল্যাক মুর, কালো হলে কি হবে, ইনিও কিন্তু গোল্ডফিসের খুড়তুতো ভাই হন। এবারের শীতে ওনার সঙ্গীর অকাল মৃত্যু ঘটায় কিছুটা বিমর্ষ, তবে তার এই একাকিত্ব আশাকরি তারাতারিই অবসান হবে।
সোনালি রং এর এই পেটমোটা মাছ গুলোও গোল্ড ফিস প্রজাতির। তবে লাল গোল্ডফিস গুলোর তুলনায় অনেক বেশি চটপটে। সারাদিন খুব দৌড়াদৌড়ির উপর থাকে।
মাঝে মাঝেই দেখি বড় লাল গোল্ড ফিস গুলোকে দৌড় করাচ্ছে। হাড় বজ্জাত একদম, কচ্ছপ গুলোকেও ছাড়ে না!
আলসে র্যাম্বো শার্ক! এর নাম শার্ক হলো কেন বুঝলাম না, সারাদিন পানির শ্যাওলা আর কৃত্রিম গাছ গুলোর মধ্যে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকে। আর এদের মুখটা এত ছোট যে খাবার গুলোও আধ ভাঙ্গা করে দিতে হয়।
এই পুটি মাছের মতো দেখতে মাছ গুলোও নাকি শার্ক, এদের নাম বালা শার্ক।
এদের সাথে একবার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম মনে আছে কি?
কচ্ছপ গুলো এই দুই বছরে এক চুল ও বড় হয়নি। ওদের আলাদা ঘর আছে, তবে মাঝে মাঝে বড় একুরিয়ামেও বেড়াতে আসে। গোল্ড ফিসটা খুব অবাক হয়ে দেখছে!
এরাই আমার অতি প্রিয় মৎসকণ্যা আর মৎসপুত্র! এদের দীর্ঘ জীবন কামনা করছি।
ওহ, ভুলেই গিয়েছিলাম, ইনি হলেন মাছের কেয়ারটেকার, ইনি তার রক্ষী বাহিনীকে নিয়ে সদা সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন তার মৎস ভাই বোনদের দিকে। সুতরং যারা এদের প্রাণহানী করে নিজের উদরপূর্তির কথা ভাবছেন, তারা সাবধান
বি: দ্র: যারা একুরিয়ামে মাছ পোষার ব্যাপারে আগ্রহী, তারা মিলটন ভাইয়ের এই পোস্ট গুলোতে চোখ বুলান। কিভাবে মাছের যত্ন আত্তি নিবেন, একুরিয়ামে কি ধরণের মাছ রাখবেন, রোগ ইত্যাতি সব খুটিনাটি বিষয় নিয়ে কয়েকটা সিরিয়াল পোস্ট আছে, অনেক কাজের পোস্ট।
আপনার একুরিয়াম
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০১২ রাত ১২:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


