somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ~পাখি আমার একলা পাখি~
বিষয়টা হলো আমার পাখি পোষার শখ নিয়ে। সেই ছোট বেলা থেকেই যেটা আমার মনের মধ্যে ঘাপটি মেলে বসে থাকে, সুযোগ পেলেই ডালপালা মেলে মহিরুহ হতে চায়।

মনে আছে অনেক ছোট বেলায় আমাদের বাসায় একটা পেয়ারা গাছ ছিল, সেটার মাঝে মাঝেই টিয়ে পাখির দল পেয়ারা খাবার জন্য হামলা চালাতো। তো একবার এভাবে আসা একটা টিয়ের বাচ্চা গাছের নীচে দেখি একদিন পরে আছে, উড়তে পারে না। আমার তো পোয়াবারো, কিছুতেই সেই পাখি আমি ছাড়বো না। আর মা রাখতে দেবে না, বলে "মনে করো তোমাকে যদি খাচায় আটকে রাখে তাহলে কি হবে!"
কিন্তু কে শোনে কার কথা, আমি রাখবোই। শেষে মেয়ের কাছে হার মানতে হলো মাকে, আমাকে একটা খাচা কিনে দেয়া হলো। সেটায় আশ্রয় হলো তার, ওর নাম রেখেছিলাম পিংকি। দু' বছর ছিল আমার সাথে, কি সুন্দর করে যে শুকনো মরিচের মধ্য থেকে ঠুকরে ঠুকরে বীজ বের করে সেই বীজের মধ্যে থেকে আবার শাস বের করে খেত, আমি প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে ঘন্টা খানেক হা করে শুধু তাই দেখতাম।

এরপরে একদিন একটা নাটক দেখলাম সেখানে ছোট একটা মেয়ে, সম্ভবত ঈষিতা, টিয়া পুষতো। এরপরে একদিন তারা কোথায় বেড়াতে গেছে, ফিরে এসে দেখে টিয়া মরে পরে আছে খাচায়। এই নাটক আমার শিশু মনে খুব দাগ কাটে, কেঁদেকেটে একাকার আমার টিয়ের কথা মনে করে। তাই পরদিন সকালে ছেড়ে দিলাম পিংকিকে। মজার ব্যাপার, খাচার দরজা খোলার পরও সে উড়ে যাচ্ছিল না, এরপর হাত দিয়ে বের করে দেবার পরও অনেকক্ষণ আমাদের বারান্দার সামনের নারকেল গাছে বসে ছিল।

সেই থেকে বহুদিন আর পাখি পোষার কথা ভাবিনি। এরও অনেক অনেক পরে, একবার উয়ারীতে ফিল্ড ওয়ার্কে গেছি। গ্রামের এক লোক, রতন ভাইয়ের বাসায় আমরা কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নিতাম, একদিন দেখি তার একটা ঘরে ঘুঘুর ফাঁদ' বলে অদ্ভুত এক যন্ত্র। জীবনে সেই প্রথম ঘুঘুর ফাদ দেখা <img src=" style="border:0;" />
দেখি সেটায় দুটো ছিট ঘুঘুর বাচ্চা। জানতে চাইলাম কি হবে এটা দিয়ে, বলে জবাই করে নাকি খাবে!

এত টুকু বাচ্চা, ভাল করে পালক গজায় নি, সেটা নাকি খাবে! বল্লাম রতন ভাই, আমার কাছে বেচে দেবেন? উনি রাজি হলেন, সেই ঘুঘুর বাচ্চা দুটো পঁচিশ টাকা দিয়ে কিনে আনলাম। এরপর প্রায় তিন বছর তারা ছিল আমার সাথে।


ঝিম ধরা দুপুরে উদাস করে দিয়ে ডাকতো তারা। খুব মায়া পরে গিয়েছিল তাদের উপর। পরিবারের একজন মনে হতো।



এই সময়েই আমার পাখি প্রেমের জন্য দুটো বার্জার আর চারটা খয়েরী মুনিয়া গিফট পেলাম।



আমার বাসায় তখন পাখির চেচামেচি সারাদিন।

এর মধ্যেই একদিন খাচার দরজা খোলা পেয়ে আমার এতদিনের প্রিয় ছিট ঘুঘুদ্বয় উড়াল দিল একদিন। বনের পাখি কি আর পোষ মানে!
খুব কষ্ট পেলাম, অনেকটা স্বজন হারানোর মতো কষ্ট। তাই বাকিদেরও ছেড়ে দিলাম এক দিন....যা চলে যা।
শুন্য খাচা গুলো পরে রইলো স্টোরের এক কোনে।


তারপর আবার অনেক দিন...



কি মনে হতে একদিন কিনে ফেললাম এক জোড়া স্ফিঞ্চ আর লাভ বার্ডস।এবার আমার সাথে আছে আমার মেয়ে সোহা, দু'জনায় মহাউৎসাহে আবার শুরু করলাম.....



সাদা আর সাদা খয়েরিতে মেশানো ছোট্ট দুটো পাখি হলো স্ফিঞ্চ।



একদিন দেখি তারা বাসা বাঁধছে মাটির ঘরে, খরকুটো দিয়েছিলাম দোকানীর কথা মতো। তারা সুখে বসবাস করছে এখন।
খুব ছটফটে এই পাখি গুলো, এক দন্ড স্থির হয়ে বসে না। তাই ফটোশেসনও তেমন ভাল হলো না <img src=" style="border:0;" />



লক্ষী পাখি হলো লাভ বার্ডস, যদিও গলার স্বর একটু চড়া। এরা জোড়ায় জোড়ায় থাকে। যদিও দোকানিরা এই পাখি গুলোকে লাভ বার্ডস নামে বিক্রী করে, আসলে এটার নাম বার্জার, অনেকে প্যারাকেটস নামেও ঢাকে টিয়া প্রজাতির এই পাখিকে।



আমার চারটা বার্জার, তিনটা সবুজাভ হলুদ আর একটা নীল।



একটু আলস টাইপের পাখি।



আমরা জানি পাখির ডাকে মানুষের ঘুম ভাঙে, কিন্তু এরা ঘুম থেকে ওঠে বেলা ফোটার পরে।



দুপুরে খেয়েদেয়ে একটা আরেকটির ঘা ঘেসাঘেসি করে পালকে মুখ গুজে আবার ঘুমায় কিছু সময়। তারপর সন্ধ্যার আবার কিছুক্ষন খেয়েদেয়ে রাতে মাটির বাসায় গুটিসুটি দিয়ে ঘুম ......


মাঝে মাঝে অদ্ভুত কায়দায় ঠোট দিয়ে খাচার রড কামড়ে ধরে ধরে হেটে বেড়ায়, খুব মজা লাগে তখন।


এদের ছাড়াও আমাদের সাথে ছিলেন এক জোড়া সবুজ মুনিয়া দম্পতি। কিন্তু সম্প্রতি পত্নী বিয়োগ হবার কারণে এখন মুনিয়া সাহেব, লাভ বার্ডসের ফ্লাটেই থাকে!

ওহ, আরেকটা সুখবর তো বলাই হয়নি। আমাদের স্ফিঞ্চ দম্পতি বাবা মা হতে চলছে, দুটি ডিমে তারা পালা করে তা দিচ্ছে। দোয়া করবেন এদের জন্য।



সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: পাখি পুষলে প্রথমেই খেয়াল রাখতে হবে পরিচ্ছন্নতা নিয়ে। ১৫ দিনে একবার খাচার নীচের ট্রে টা পরিস্কার করা উচিত। ভাল হয় এতে কাঠের গুড়ো ছড়িয়ে রাখতে পরলে। পানিটা রেগুলার চেঞ্জ করতে হবে, কারণ পাখি কিন্তু ময়লা হলে সেই পানিটা খায় না। অতি শীতে পাখি মরে যায় অনেক সময়, তাই এ সময়ে চেস্টা করবেন খাঁচা উষ্ণ জায়গায় রাখতে। না হলে চটের ছালা দিয়ে ভাল করে ঢেকে দেবেন খাঁচা। আর সব চাইতে বড় কথা হলো পাখি থেকে বিভিন্ন রোগ জীবানু ছড়াতে পারে, যেমন যাদের হাপানীর সমস্যা আছে বা এলার্জী আছে,এমন হলে পাখি না পোষাই ভাল।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29536773 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29536773 2012-02-07 21:12:16
আমাদের প্রাণের উৎসে আমাদের গানের উৎস গান শোনার ক্ষেত্রে আমি মোটামুটি সর্বভুক, সেই সাথে গানের ইতিহাস গুলোও জানতে ভাল লাগে।
ভাল লাগে আমাদের লোকসঙ্গীত গুলো। কি অসাধারণ ঐশ্বর্য্যশালী আমাদের লোক গানের ভান্ডার, কত শত তার ডালপালা দেখলে অবাক বিস্ময় জাগে মনে।

ঘেটু গান ও নাচ:
শুরুতেই ঘেটু গান ও নাচ, কারণ ইদানিং হুমায়ূন আহমেদে "ঘেটু পুত্র কমলা" নিয়ে এত সোরগোল হচ্ছে, যে আপনা আপনি ঘেটু গান সিরিয়াল ব্রেক করে সামনে চলে আসলো!
ঘাটু গান’ এর নামকরণের ইতিহাস একেক জনের বর্ণনায় একেক রকম। সাধারণের ধারণা, ঘাটে ঘাটে নৌকা ভিড়িয়ে গাওয়া হতো বলে এর নাম হয়েছে ঘাটু গান। নেত্রকোনার স্থানীয় লোক সাহিত্য সংগ্রাহক গোলাম এরশাদুর রহমান তার ’নেত্রকোনার লোকগীতি পরিচয়’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন: “ঘাটু নামকরণ সম্পর্কে স্থানীয়ভাবে আদিকালের সমঝদারদের বক্তব্য ছিল- কৃষ্ণের বাঁশির ঘাট শব্দ থেকে ঘাটু নামকরণ হয়। কারণ ঘাটু ছেলেটিকে মূলত নাচে ও গানে নিয়ন্ত্রণ করে বাঁশি’’।

ঘাটু গানে প্রধান আকর্ষণ ঘাটু চরিত্র। একজন সুন্দর কিশোর মেয়ের সাজে সজ্জিত হয়ে গান ও নাচ করতো। এই ছেলেদের মাথায় লম্বা চুল রাখা ছিল বাধ্যতামূলক। তারা চুলে বেণী ও খোঁপা বাঁধতেন। উকিল মুনশীর নাম অনেকেই শুনেছেন। তিনি শৈশবে ঘাটু গানের ঘাটু ছিলেন। তাছাড়া আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামও ঘাটু গানের (লেটো গান) দলে ছিলেন।
ঘাটু গানের মূল বিষয়বস্তু ছিল রাধা-কৃষ্ণের প্রণয়লীলা। চিরায়ত এ প্রেমলীলাকে কেন্দ্র করেই রচিত হতো ঘাটু দলের গান। আসরে উঠে ঘাটু প্রথমে বন্দনা গাইতেন। এরপর প্রেম, প্রেমতত্ত্ব, মান, অভিমান, বিচ্ছেদ, মিলন, সন্ন্যাস প্রভৃতি বিষয় অবলম্বন করে প্রবাহিত হতো তার গীতধারা।
ঘাটু গান নিয়ে চমৎকার একটি লেখা পড়ুন এখানে ....লোকসঙ্গীতের সাতরঙ (পর্ব -০২)


জারী গান:
বাংলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহি গান হলো জারী গান, অপ্রতিদন্ধি গায়ক জারী সম্রাট আবদুল গনি বয়াতীর গান নিশ্চয় অনেকেরই শোনা।
জারী গানের সৃষ্টি হয়েছিল মুসলমানী পৌরনিক ঘটনাবলী নিয়ে, পরে মুহররমের করুন কাহিনী এতে প্রাধন্য লাভ করে। জারী গানে মূলত: কোন ঐতিহাসিক ঘটনা দলীয় সংগিত আকারে পরিবেশন করা হয়। এতে এক সময়ে চন্ডিদাস-রজকিনী, নিমাই-সন্ন্যাস প্রভৃতি কাহিনীও জারীর সুরে গাওয়া শুরু হয়, মানে শ্রোতার চাহিদা ভিত্তিক কাহিনী সংযোজন হয় এত।
এবার আবদুর রহমান বয়াতীর একটি জারী গান শুনন



সোহেলির গান:
এটা একদম মেয়েলি গান। এক সময়ে গ্রাম বংলায় মেয়েদের মধ্যে ঘটা করে সই পাতানোর প্রচলন ছিল। এর অনেক নিদর্শন আমরা রবীন্দ্র বা শরৎ রচনা গুলোতে পাই। এই সই' দের সম্বন্ধের আবার আলাদা নামও থাকতো, যেমন চোখের বালি।
যাই হোক এই সই' প্রথাকে ঘিরেও সৃষ্টি হয়েছিল গানের একটি ধারা, যার নাম 'সহেলার গান'। এমন একটি গান.....

চলিল, কমলা গো-সহেলা পাতিবারে
চিড়া গুড় লৈক কমলা, ডাইলারে ভরিয়া
কলা চিনি লৈল কমলা, ডাইলারে ভরিয়া
পান শুবারি লৈল কমলা বাটারে ভরিয়া
পুস্প দূর্বা লৈল কমলা সাজি ভরিয়া!

মানে হলো চিড়া-গুড়, কলা-চিনি, পান-শুপাড়ি নিয়ে কমলা সই পাতাতে যাচ্ছে।
দারুন ব্যাপার না?
আবার সহেলী গানের পরিচয় দিতে গিয়ে মোহাম্মদ আবদুল আজিজ (আমাদের লোক সাহিত্য) বলেছেন, "এই সব সঙ্গিত সাধারণত বিবাহ, উপনয়ন, খাৎনা প্রভৃতি উপলক্ষে মেয়েরা একসাথে গাহিয়া থাকেন"।

গাজীর গান:
বাংলাদেশের সুন্দরবন আর উত্তরবঙ্গের এক সময়ে বাঘের বেশ উপদ্রব ছিল। ধর্মভীরু মানুষ এই বাঘের উপদ্রব থেকে রক্ষাপেতে এক সময়ে কল্পনা করে নেয়ে বাঘের দেবতা বা পীরের। এই পীরের নাম গাজী।
গাজী নামে কোন ঐতিহাসিক চরিত্র ছিল কিনা সেটা একটি বিতর্কিত বিষয়, তবে লোকমানসে তিনি পরম শ্রদ্ধার। তাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য লোকসঙ্গিত, যা গাজীর গান নামে পরিচিত।

"ঢাহারে দোম দোম বলিয়া গাজি ছাড়িল জীহির
নন্দ ঘোষরের মায় বলে, এই আইল ফকির,
নন্দ ঘোষের মায় বলে কালু ঘোষের ঝি
বাড়ি আইল গাজির ফকির ভিক্ষা দেবো কি!"

যশোর জেলার একটা ঐতিহ্যবাহী গাজির গান


ঝুমুর গান:
ঝুমুর প্রধানত পশ্চিম বাংলার সীমান্ত অঞ্চলের গান। এক কালে এই সংগীতে শুধু আদিবাসীদেরই আধিকার ছিল। সাওতাল গান যে গুলো আমরা শুনি, এগুলোও ঝুমুর। ঝুমুর গান ও নাচের আছে অনেক গুলো শাখা, যেমন ছো নাচের ঝুমুর, করম নাচের ঝুমুর, সাওতালি ঝুমুর, পাতা নাচের ঝুমুর ইত্যাদি ইত্যাদি।
কালক্রমে এই মৌলিক ঝুমুর গান ধীরে ধীরে বাংলা লোকসংগিতে চলে আসে, এক সময়ের লোকসংস্কার মুক্ত বাস্তব জীবন ভিত্তিক এই গানে প্রবেশ করে ধর্ম, চলে আসে রাধাকৃষ্ণ।
অমিতাভ ঘোষের গলায় ঝুমুর গান, সেই সাথে করম নাচের ঝুমুর..

এখানে একটা কথা উল্লেখ্য যে ঝুমুর গানের সাথে নাচ অঙ্গাআঙ্গিক ভাবে জড়িত।

গম্ভীরা গান:
এই গানের প্রচলন দেখা যায় বাংলাদেশের চাপাই নবাবগঞ্জ আর ভারতের মালদহ জেলায়। হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের ধর্মালম্বীদের অন্যতম দেবতা শিব, তার অপর এক নাম‘গম্ভীর’। শিবের উৎসবে শিবের বন্দনা করে যে গান গাওয়া হত- সেই গানের নামই কালক্রমে হয়ে যায়‘গম্ভীরা’এক সময়ে শিবের পুজা উপলক্ষে এই গানের প্রচলন হলেও কালক্রামে এতে সামাজিক বিষয় গুলো প্রাধান্য লাভ করে।
বর্তমানে বাংলাদেশের যে গম্ভীরা গান চলে, তাতে প্রধান দুটো চরিত্র থাকে, নানা এবং নাতি। এই নানা ও নাতীর ‘নানা-নাতি’র সংলাপ ও গানের মধ্য দিয়ে দ্বৈতভাবে গম্ভীরা গান পরিবেশিত হয়।



ভাওয়াইয়া:
বাংলাদেশের রংপুর ভারতের জলাপাইগুড়ি ও কোচবিহারই ভাওয়াইয়া গানের উৎস ভূমি। এই গান মূলত: প্রেম সঙ্গীত, এর গানের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এ গানগুলোতে স্থানীয় সংস্কৃতি, জনপদের জীবনযাত্রা, তাদের কর্মক্ষেত্র, পারিবারিক ঘটনাবলী ইত্যাদি নিয়েই গান গুলো রচিত হয়।
গাড়িয়াল কে উদ্দেশ্যকে রচিত ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাস উদ্দিনের সেই বিখ্যাত গানটি...


তবে লোকসংগীতের অন্যতম নায়ক "কৃষ্ণের" উপস্থিতিও আছে অনেক ভাওয়াইয়া গানে।

ভাটিয়ালি:
ভাটিয়ালি কিন্তু গানের কোন শ্রেণীর নাম নয়, এটা লোক সঙ্গীতের একটা সুরের নাম। ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, নোয়াখালি, চট্টগ্রাম এবং ত্রিপুরা অঞ্চলের লোকগিতী ভাটিয়ালি নামে পরিচিত। ভাটিয়ালী গানও প্রেম এবং ধর্ম ভিত্তিক।
ফেরদৌসি রহমানের দরাজ গলায় ভাটিয়ালি...



সারি গান:
‘সারিগান’ বলতে সাধারণত নৌকা বাইচের গানকেই বোঝায়। মাঝি-মাল্লার বিষয়টি এখানে জড়িত। তবে ভাটিয়ালী গানের মতো সারিগান একক সঙ্গীত নয়, সমবেত। কর্মের সাথে সম্পর্কযুক্ত সমবেত সঙ্গীতকে সারি শ্রেণীর গান বলা যায়। সারিগানের সংজ্ঞা নিয়ে লোক-বিজ্ঞানীদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে। মুহম্মদ আব্দুল হাই এর মতে, ‘ইংরেজিতে যাকে বলে Action song. সারিগান হচ্ছে তাই। ‘সারিগান নৌকা বাইচের গান।’ ড. ওয়াকিল আহমদ- এর মতে, ‘সারি’ (√সৃ+নিচ) শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ গমন করানো। নৌকাকে দাঁড়ের টানে সামনে এগিয়ে নেয়া হয়। ‘সারি’ শব্দের অর্থ পঙতি বা শ্রেণী। এ থেকে শ্রেণী বা সারিবদ্ধভাবে যে গান গাওয়া হয় তাই সারিগান নামে পরিচিতি লাভ করে।আবার ড. শুদ্ধসত্ব বসুর মতে ‘কর্মরত অবস্থায় সমবেতভাবে গেয় এক বিশেষ সঙ্গীতের নাম ‘সারিগান।’ ‘সারি’ কথাটির মানে শ্রেণী, যখন এক শ্রেণীর লোক একই কর্মেরত। কর্মের সঙ্গে সঙ্গে গান করে থাকে- সেই গান হলো ‘সারিগান।’ সারিগান সমবেত কণ্ঠে গাওয়া হয়।’ চর্যাপদে ‘সারি’ শব্দ আছে ‘বীণার ছড়’ অর্থে। বিজয় গুপ্তের পদ্মপুরাণে (১৪৯৪) সারিগানের উল্লেখ আছে। শ্যাম চাঁদ গুপ্ত (১৭৭৪-১৮৫৪) এর রচিত সারিগান সংগ্রহ করে রামপ্রাণ গুপ্ত ‘সারিগান’ নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর এর আমলে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অবলম্বন করেই সারিগানের উৎপত্তি ও বিকাশ লাভ করেছে।
যাই হোক সারিগানকে কেউ কেউ কর্ম সঙ্গীত, কেউ কেউ মাঝি-মাল্লাদের সঙ্গীত হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। আমার মতে নৌকার মাল্লারা বা বাইচালরা সারিবদ্ধভাবে বসে বৈঠার তালে তালে যে গান গায় তাকে ‘সারিগান’ বলে।
টাংগাইল অঞ্চলের একটা সারি গান দেখুন..

"একটা জয়-ধ্বনি দে গো তোরা

রহিম মিঞার নৌকাতে

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ

একটা জয়-ধ্বনি দে……।

আল্লাহর নামটি নইয়্যা আমরা নৌকা দিলাম ছাইড়

কোথায় আছো দয়াল নবী আমরা হইলাম বাইড়।

একটা জয়-ধ্বনি দে…….।

তোমার নামটি ভসসা কইরা নৌকা দিলাম ছাইড়া

কোথায় আছো ইমাম দুইভাই দ্যাখো না চাইয়্যা।

একটা জয় ধ্বনি দে …………।

কবি গান: '
খেউড়' বা খেড়ু থেকে কবি গানের উদ্ভব হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। সপ্তদশ শতেকর মাঝামাঝিতে এই গানের প্রচলনের নিদর্শন পাওয়া যায়। কবি ঈশ্বর গুপ্ত এই গানের উদ্ভব স্থাল বলে নদীয়া লেজার শান্তিপুরকে নির্দেশ করেছেন।
কবি গানের বিশেষত হলো একাধিক দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা, এবং সেটা গানের মাধ্যমে। একদল প্রশ্ন করবে সুরে সুরে, অন্য দল সুরেই তার উত্তর দেবে।

পরবর্তিকালে কবি গানের বিষয় বস্তুতে আদিরসের অতিরিক্ত ছড়াছড়ি অনেকেরই কাছে স্থুল মনে হয়েছিল. রবি ঠাকুর একবার কবি গান নিয়ে তার বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন। নারী পুরুষ দ্বন্দ নিয়ে কবি গানের একটা অংশ দেখুন, কথা গুলো খেয়াল করুন.....


ছোকরা এবং খেমটা গান:
আসরের কম বয়সি ছেলেদের দলীয় গান গুলোই ছোকরা গান নামে পরিচিত। এই গান একেবারেরই ধর্ম আর লোক সংস্কার নিরপেক্ষ।
খেমটা হলো ছোকারা গানের একটা অপরিহার্য অঙ্গ। ছোকরা গানের গায়ক আর তার সংগীয়া যখন টানা গান গেয়ে ক্লান্ত হয়ে যায়, সেই মধ্যবর্তি সময়ে গাওয়া হতো খেমটা গান, যার বেশির ভাগই আদিরসাত্মক ছিল। এই গানের সাথে আবশ্যিক ভাবে থাকতো একক বা দলিয় নাচ। এখনকার যাত্রা পালা গুলোতে যেটা আমরা দেখি এখনও। আধুনিক আইটেম সং বলা যায়।


আরও বাকি রইলো অনেক অনেক শাখা প্রশাখা আমাদের ঐতিহ্যবাহী গানের।
অন্য কোন দিন হয়তো আবার কথা হবে সে সব নিয়ে...

গানচিল ভাইয়া...........এমন কোন বাংলা গান কি আছে, যা তার কাছে জানতে চাইলে খুজে পাওয়া যাবে না? না নেই! শুধু মাত্র গান এবং তার ইতিহাস নিয়ে চমকপ্রদ লেখা গুলো আমাদের শোনা আর জানার চাহিদাকে সমান তালে পূরণ করছে। এই সামান্য লেখাটি তাকেই উৎসর্গ করলাম...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29530948 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29530948 2012-01-28 20:38:48
বাড়ির পাশের আরশিনগর...... জয়স্কন্ধভার শ্রীবিক্রমমনিপুর যাই হোক, তারও অনেকপরে যখন বিক্রমপুরের ইতিহাস নিয়ে কিছু পড়ালেখার সুযোগ পেলাম, তখন মনে হলো, প্রবচনটা উদ্ভব যৌক্তিক।
কেন বলছি সে কথা?

আসুন দেখি.........

বিক্রমপুর নিম্ন গাঙ্গেয় উপত্যকায় পদ্মা-মেঘনা-বক্ষ্রপুত্র বিধৌত অঞ্চল। প্রাচীন বিক্রমপুর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থান। বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ জেলার বেশিরভাগ অঞ্চল এর অন্তর্ভুক্ত হলেও এক সময়ে বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার বিস্তৃত অঞ্চল সহ পদ্মা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়া বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে এর অবস্থান ছিল।
গবেষকগণ চন্দ্র, পাল ও সেন রাজাদের বাংলার রাজধানী হিসাবে বিক্রমপুরকে উল্লেখ করেছেন। প্রাচীন লিপিসাক্ষ্যে বিক্রমপুরকে "জয়স্কন্ধভার" বলে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবার কারণে প্রতিটি রাজবংশ তাদের জয়স্কন্ধভার" বা বিজয় ছাউনী এখানে স্থাপন করেছিল।
বিক্রমপুর, রামপাল, ব্রজযোগিনী, বল্লাল বাড়ি সহ বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী স্থান নাম থেকে বিক্রমপুরের ঐতিহাসিকতা সম্বন্ধে ধারণা পাওয়া যায়।
এ অঞ্চল থেকে চন্দ্র ও সেন রাজবংশের বেশ কিছু তাম্র লিপি পাওয়া গেছে, এছাড়া বৌদ্ধ ও হিন্দু সভ্যতার বেশ কিছু প্রস্তর ভাস্কর্য, কাঠের ভাস্কর্য পাওয়া গেছে, যেগুলো বাংলাদেশ জাতীয় যাদুঘর, বরেন্দ্র রিসার্চ যাদুঘর ও ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম কোলকাতায় প্রদর্শিত হচ্ছে।
এখানে বিশ্বনন্দিত অনেক গুনীজন জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন পন্ডিত অতীশ দিপঙ্কর, নালন্দা মহাবিহারের আচার্য শীলভদ্র। এখানে বসেই বল্লাল সেনের শিক্ষাগুরু গোপালভট্ট রচনা করেছিলেন :বল্লাল চরিত"।
বিক্রমপুরের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন স্থাপত্যিক ধ্বংসাবশেষ, ঢিবি, জলাশয়ে সেই প্রাচীন আলোকিত সভ্যতার কিছুটা আজও ধারণ করেছে।

আসুন দেখে নেই কিছু প্রাচীন জয়স্কন্ধভার শ্রীবিক্রমমনিপুরের বর্তমানের কিছু নিদর্শন......
মুন্সিগঞ্জ ভাগ্যকুলের ভুতপূর্ব জমিদার যাদুনাথ সরকারের বাড়ি।



এই স্থাপত্য কমপ্লেক্সে রয়েছে ৪ টি আলাদা স্থাপত্য এবং ২ টি পুকুর।


আরেকটি ভবন।


মন্দির


এখানেই গড়ে তোলার প্রকল্প চলছে বিক্রমপুর যাদুঘর এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।


এটা দেখে কি দিল্লীর রেড ফোর্টের প্রবেশদ্বারে কথা মনে পরছে না? এটা বিক্রমপুরের আরেক জমিদার টোকর পালের প্রাসাদ কমপ্লেক্সের প্রবেশ দ্বার।


কমপ্লেক্সের ঢোকার মুখেই চিনিটিকরী কারুকায করা দারুন সুন্দর একটা মন্দির।


মন্দিরের স্তম্ভ


এটা অন্দর মহলের একটা অংশ


সব গুলো জানালার উপরের প্যানেলে এমন স্টাকো ফ্লোরাল ডেকোরেশন।


এটা আরেকটি ভবন। এমন ধরনের ৫/৬টা আলাদা প্রাসাদ আছে সেখানে।


পুকুর ঘাট


টঙ্গী বাড়ি সোনারং গ্রামে গেলে দেখতে পাওয়া যাবে বিখ্যাত সোনারং মন্দির।


শিখর শীর্ষ মন্দিরের নীচের অংশটা। অনেক বড় এ কারনে পুরোটা এক ফ্রেমে আনতে পারিনি।


রামপাল থানার কসবা গ্রামের বাবা আদম মসজিদ, সুলতানী স্থাপত্যকলার একটি চমৎকার নিদর্শন।


মসজিদের গায়ে সংযুক্ত শিলালিপি অনুযায়ী এর নির্মানকাল ৮৮৮ হিজরী/ ১৪৮৩ সাল। সুলতান ফতেহ শাহ এর শাসনামলে মালিক কাফুর এটা নির্মান করেছিলেন।


মসজিদের সামনের দিকের আর্চে রয়েছে পোড়ামাটির ফুল লতা-পাতার অলংকরন।


এছাড়া মসজিদের কার্নিশ প্যানেল গুলোতে পোড়ামাটির ফলকে জিওমেট্রিক আর ফ্লোরাল ডেকোরেশন রয়েছে।


এখানে রয়েছে একটা সুলতানী আমলের জলদূর্গ,


ইদ্রাকপুর দূর্গ। এছাড়াও এখানে আছে বল্লাল সেনের দিঘী, রাজবাড়ীর ঢিবি, শান্তিবাবুর বাড়ির মঠ, টঙ্গিবাড়ি মঠ, শ্যামসিদ্ধীর মঠ ইত্যাদি।

সুলতানী, মুঘল এবং ঔপনিবেশিক আমলের এই স্থাপনা গুলো আজও ঠিকে থাকলেও কালের পরিক্রমায় গুপ্ত এবং পাল আমল বিক্রমপুরের মানববসতি সম্পর্কিত প্রত্যক্ষ কোন নিদর্শন এখনও পাওয়া যায়নি।
এছাড়া পদ্মা এবং ধলেশ্বরী নদীর করাল গ্রাসে প্রাচীন বিক্রমপুরের অনেক অংশই বিলিন হয়ে গেছে।
তারপরও বিক্রমপুরের সেই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে খুজে বের করার জন্য ২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রালয়ের আর্থিক সহায়তায় 'অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের' উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা কেন্দ্র "ঐতিহ্য অন্বেষণ" এবং জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ ও অন্যান্য গবেষকগণের অংশ গ্রহণে এখানে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে উৎখনন এবং অনুসন্ধানের কাজ শুরু হয়েছে।
উৎখননে পাওয়া স্থাপত্যিক নিদর্শনের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলো রঘুনাথপুরে আবিস্কৃত ৫ মিটার দীর্ঘ এবং ১.৪৫ মিটার চওয়ার ইটের দেয়াল। দেয়ালে পার্শ্ব সংযুক্তি থাকায় একে তাৎপর্যপূর্ণ স্থাপনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া সুখবাসপুর, বজ্রযোগিনী গ্রাম, গুহাপাড়া, খানকা ইত্যাদি গ্রামে ৯ টা উৎখনন ট্রেঞ্চ নেয়া হয়েছিল ২০১০।

উৎখননে পাওয়া ইটের পরিমাপ থেকে ধারণা করা হয় কোন কোন স্থানের সময়কাল প্রাক-মধ্যযুগ হতে পারে। উৎখননে পাওয়া কিছু জৈব অবশেষ কার্বন ১৪ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, এটার রেজাল্ট পাওয়া গেলে সঠিক সময়কালটা বলা সম্ভব হবে।


এরই ধারাবাহিকতায় ২০১২ এর ৭ই জানুয়ারী দ্বিতীয় পর্যায়ের খনন কাজ উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনে এসেছিলেন বিচারপতি হাবিবুর রহমান।


এ প্রসঙ্গে একটা কথা না বলে পারছি না, এই বয়সে হাবিবুর রহমান স্যারের এই সকল বিষয়ে এত উদ্যম আর উৎসাহ খুব প্রেরণা দেয়। তিনি নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বেরও একাধিকবার এসেছিলেন।


ঊৎখনন আর অনুসন্ধান চলুক পূর্ণোদ্যমে, আশা করা যায় এর এসব সূত্র- ধরে ধারাবাহিকভাবে অন্যান্য অঞ্চলে ক্ষেত্রীয় জরিপ আর উৎখননের মাধ্যমে প্রাচীন বিক্রমপুরের সমৃদ্ধ ইতিহাসকে খুজে বের করা সম্ভব হবে।

যেভাবে যাবেন উৎখনন দেখতে: ঢাকার গুলিস্তান সিনেমা হল মার্কেটের উল্টো দিক থেকে বাস যায় ধলা গাঁও বাসস্টান্ড পর্যন্ত। এখানে নেমে ডানের রাস্তা ধরে ২০০ মি: এর মতো হাঁটলেই পৌছে যাওয়া যাবে উৎখনন ট্রেঞ্চে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29521860 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29521860 2012-01-13 21:09:13
~প্রিয় যাযাবরদের ভ্রমন পোস্ট সংকলন~ " style="border:0;" />
তো সেই বিদেশি পর্যটকেরা কোর্সের লিখিত পরীক্ষায় আমাদের জ্বালাতন শেষ করে ভাইভা পর্যন্ত পিছু ছাড়েনি। প্রথম বর্ষের ভাইভায় এক্সটার্নাল ছিলেন আবার ঢাবির হাবিবা খাতুন ম্যাডম। আমি ভাইভা দিতে গেলাম, যথারিতী স্যার আমাকে বললেন কোন বিষয়টা বেশি ভাল লেগেছে? মুখ ফসকে বলে ফেললাম , বাংলায় বিদেশী পর্যটক <img src=" style="border:0;" />
আর যায় কোথায়, সাথে সাথে প্রশ্ন, ঠিক আছে তাহলে একজন চৈনিক পর্যটকের নাম বলো!
ওদিকে আমার হাত পা ঠান্ডা, কারণ এসব খুব কম জানি আর যা জানতাম তাও ভুলে গেছি।
কোন মতে বললাম........ইৎ সাঙ
ম্যাডাম বললেন..... ইৎসাঙ?
আমি কনফিডেন্টলি বললাম, জ্বি ম্যাডাম ইৎসাঙ, বইতে পড়েছি! স্যারেও দেখি হ্যাঁ বোধক ভাবে মাথা নাড়লেন! তারপর আরও কিছু ঠুকঠাক প্রশ্ন করে ছেড়ে দিলেন আর আমি তাইরে নাইরে করতে করতে বেরিয়া আসলাম।

আসলে ইৎসাঙ বলে কোন পর্যটকই নেই। ভয়ে আমি চৈনিক পর্যটক ইৎ সিং এর ইৎ আর হিউয়েন সাঙ এর সাঙ মিলিয়ে ইৎসাঙ বলে ফেলেছিলাম, তবে ধরা পরিনি <img src=" style="border:0;" />
যাই হোক তখন পাঠ্য পুস্তকে এই সব পর্যটকদের লেখা আমার পড়তে অসহ্য লাগলেও , ব্লগে আমার সব চাইতে প্রিয় বিষয় হলো "ভ্রমন পোস্ট" গুলো।
ব্লগীয় পর্যটকদের ভ্রমন কাহিনী গুলো পড়ার অন্যতম আকর্ষণ হলো তাদের তোলা চমৎকার সব ছবি , চোখের আর মনের খোরাক এক সাথে হয়।
এবার আমার দৃষ্টিতে কয়েকজন পর্যটক....

সৌম্য:

তুখোর ছবি তোলক ! এত চমৎকার সব ছবি যে দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায় , সেই সাথে দারুন লেখনি তো আছেই। বাংলাদেশের আর্মেনিয় গোরস্থান থেকে শুরু করে সেই হিমালয় পর্যন্ত , সর্বত্র তার গতিবিধী।
১.সিপ্পি আরসুয়াং ৪র্থ পর্বঃ আরসুয়াং সামিট।
২।মাকালুর পথে বাংলাদেশের পতাকা
ট্রাভেলগঃ চন্দ্রনাথ টু সীতাকুন্ড ইকো পার্ক।
৪।ছবি ব্লগ নারিন্দা গ্রেভ ইয়ার্ড
৫।কেওকারাডং এ বর্ষা-বিলাস
৬।এডভেঞ্চার পুবের পাহাড়-৪র্থ পর্ব (তাজিনডং
৭।:::: সাতছড়ির জঙ্গলে ::::
৮।এডভেঞ্চার পুবের পাহাড় ৭-বাংলাদেশের ছাঁদে।
৯।:::ঝুম বৃষ্টিতে নিঝুম দ্বীপে (শেষ খন্ড):::
১০। ::: ক্যাম্পিং: উয়ারী-বটেশ্বর:::
১১।সোমেশ্বরীর কোলে...
১২।:::: রহস্য দ্বীপ ::::
১৩। :::: বনের নাম রাজকান্দি ::::
১৪।::::হিমালয়ান ডায়েরী, স্তোক কাংড়ির পথে -২::::

জুন:

সামু ব্লগের লেডি বতুতা। কিছু দিন আগে চীন , মিশর, পিরামিড ইত্যাদির ছবি আর কাহিনী দিয়ে আমাদের চোখ ট্যারা করে দিয়েছেন। ওনার ভ্রমন বিষয়ক পোস্টের লিংক আনতে আনতে আমি টায়ার্ড হয়ে গেছি <img src=" style="border:0;" />
লেডি বতুতার ভ্রমন বিষয়ক পোষ্ট :
১।কায়রো মিউজিয়াম ছবি ব্লগ
২।সাদা আর কালো মরুভুমি শেষ পর্ব
৩।চীন লাল পতাকার দেশে শেষ পর্ব
৪।স্টিমারে ভ্রমন
৫।অসম আসাম (শেষ পর্ব)
৬।ব্রীজ অন দ্য রিভার কাওয়াই
৭।ভেনিস আমার স্বপ্নের ভেনিস (শেষ পর্ব)
৮।ভিসূভিয়াস - ২
৯।থাইল্যান্ড
১০।মালশিয়া ভ্রমন নিয়ে লেখাজোনাকীর ঝিকিমিকি !!!
১১।ম্যাডামের বিমার ও আমার ভুটান ভ্রমন

দুখি মানব:

অভিযাত্রী........এছাড়া আর কি বলবো তাকে ! তার পোস্টে সন্ধান পাবেন বাংলাদেশের অজানা সব জলপ্রপাতের!
মাধব কুন্ড আমরা অনেকেই গেছি , কিন্তু তার পাশেই যে আরেকটা দারুন জলপ্রপাত আছে সেটা কি জানি? না জানলেও অসুবিধা নেই, দেখে নিন দুখি মানবের চোখে.......
১।হ্রদ-পাহাড় ও সবুজের দেশে (পর্ব এক)
২।বাংলার ভূ-স্বর্গ, তিন্দু(ছবি ব্লগ)
আচ্ছা বলুন তো, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জলপ্রপাত কোনটি? মনে করতে পারছেন না তো? নো প্রবলেম, দুখী মানব আছে না !! ....
৩।সর্বোচ্চ জলপ্রপাতের খোঁজে, বাকলাই ফলস,পর্ব চার
এটার চারটা পর্ব আছে।
৪।দূর্গম দূর্গাপুর, পর্ব দুই- ছবি সহ
৫।একদিন খাগড়াছড়িতে আলুটিলা, রিসাং ফলস, ছবি ব্লগ
৬।হ্রদ-পাহাড় ও সবুজের দেশে মাধবপুর লেক,পর্ব তিন
৭।ট্রেকিং সিরিজঃ অপারেশন কির্সতং, তিন
৮।রাজকান্দিঃ লুকানো রাজ্য
সব শেষ যারা পাহাড়ে চড়তে চান, তাদের জন্য দুখী মানবের গাইডেন্স
৯।পাহাড়ে উঠার ম্যানুয়াল

নীল ভোমরা

ইনি আরেক অদম্য পরিব্রাজক। তার ব্লগে সব দূর্গম জায়গায় খোজ....নাখাফুম, রোমাক্রি কিংবা চড়কুকড়ি মুকড়ি থেকে শুরু করে সাজিক।
ভাইয়ার পোস্টের একটা বড় সুবিধা হলো, যে সাইটটা নিয়ে লিখেন , সেটার যাত্রা বিবরনীটা এত চমৎকার করে দেন যে , যে কারো পক্ষেই খুজে বের করা সম্ভব! ইদানিং ব্যাস্ততার কারণে ব্লগে হয়তো কম আসছেন , ভাইয়া আমরা আবার আপনার লেখা পড়তে চাই....
আসুন ভ্রমন করি ওনার সাথে.......
১।নাফাখুম...... বাংলাদেশের নায়েগ্রা!
২।সাজেক ট্যুর! কিছু ছবি, কিছু তথ্য!
৩।তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা.....
৪।চিম্বুক, নীলগীরি, বগা লেক
৫।ঘুরে আসুন টাঙ্গোয়ার হাওড়!
৬।চর কুকরী-মুকরী ট্যুর!
৭।চট্টগ্রাম বহিঃনোঙর...ছবি ব্লগ!

শামসীর:

অধিকাংশ ব্লগারের প্রিয়র লিস্টে একটি পোস্টটি হয়তো খেয়াল করেছেন আপনারা, "বাংলাদেশের প্রায় সকল পর্যটন স্থানের ছবি ব্লগ".........হ্যাঁ এটাই ভ্রমন পিয়াসু শামসীরের ব্লগ।
সেই ময়মনসিংহের কুমিরের খামার থেকে শুরু করে চিটাগং এর প্রজাপতির খামার পর্যন্ত , কোথায় না গেছেন তিনি! আর সাথে তার ক্যামেরা। তার ভ্রমন বিষয়ক পোস্টের বড় আর্কষনীয় বিষয় অবশ্যই ছবি এবং সেই সাথে কিভাবে যাওয়া যায়, তা খুব পরিস্কার ভাষায় লেখা থাকে!
এখানে তার সকল ভ্রমন পোস্টের লিংক পাওয়া যাবে......
১।বাংলাদেশের প্রায় সকল পর্যটন স্হানের ছবি ব্লগের সংকলন (শত তম পোষ্ট )
ঘুরতে গিয়ে লাইভ ব্লগিংও করেছিলেন...
সুন্দরবন থেকে ব্লগিং- প্রথম বারের মত

তবে সম্প্রতি তার পায়ের তলায় সর্ষের পরিমান কিছু কম হচ্ছে, আমাদের নতুন ভাবী এসে তার পায়ে সর্ষের বোয়ামটা লুকিয়ে ফেলেছেন। তাই ঘুরঘুর একটু কমেছে! তারপরও গেছেন........
অবশেষে হাম হাম ঝর্ণা !!!!

আহাদিল:

আহদিল আপুর ভার্সিটির বন্ধুদের মিলে মনে হয় একটা গ্রুপ আছে, যারা সুযোগ পেলেই লোটাকম্বল গুছিয়ে বেরিয়ে পরেন। কারণ তার অনেক ঘুরাঘুরি পোস্টেই আদের অস্তিত্বের কথা জানান দেয়!
আহদিল আপুর ভ্রমন দেশের গন্ডি পেরিয়ে চলে গেছে দেশের বাইরেও!
চমৎকার লেখনী শক্তির সাথে তার পোস্টেরও আরেকটা আকর্ষনীয় দিক হলো ছবি। সে কিন্তু দারুন ফটোগ্রাফার। বৃষ্টির দিনেও বেরিয়ে পড়ে ক্যামেররা খানা নিয়ে...........
এখানে আহাদিল আপুর দেশে বিদেশের সমস্ত ভ্রমন ব্লগ গুলোর লিংক পাওয়া যাবে
আহাদিলের ভ্রমণ ব্লগ সমগ্র

জুলভার্ণ:
নিজ লেখনী গুনে তার লেখা গুলো সুখপাঠ্য! যদিও তিনি ছবি আপলোডের জটিলতার কারণে ছবি দেন না, তবে তাতে করেও পড়ার আনন্দ বিন্দু মাত্র কমে না...
১।দেখে এলাম- চারু মজুমদারের বাড়ি
২।জুরাং বার্ড পার্কঃ সিংগাপুর
৩।আসুন কুমিল্লার ওয়ার সিমেট্রি

শুধু তো ভ্রমন কাহিনী পড়ে মজা পেলেই চলবে না, ভ্রমন বিড়ম্বনার কথাও মাথায় রাখতে হবে..
৪।ঢাকা-কলকাতা ভ্রমনের তিক্ত অভিজ্ঞতা

সাদা মনের মানুষ:

সত্যিকারের পদব্রাজক যাকে বলে, ইনি তাই । তার পোস্ট গুলোকে হয়তো পদ্ধতিগত ভাবে ভ্রমন পোস্ট বলা যায় না, মূলত ছবি ব্লগ। তবে এই সংকলেন তাকে রাখলাম তার এক বিশেষ কাজের জন্য!
সাদা মনের এই মানুষ একবার রেল লাইন ধরে পায়ে হেটে ঢাকার কমলাপুর ষ্টেশন থেকে চিটাগাং পর্যন্ত যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, গিয়েও ছিলেন!
সেই হন্ঠন ভ্রমনের সিরিজ কাহিনী পড়ুন এখানে.......
১।ঢাকা টু চিটাগাং - ১২ ( আমীরগঞ্জ )
এছাড়া তার আর যে সব পোস্ট ভাল লগেছে......
২।এগারসিন্দুর দূর্গ ( ঈশা খাঁ দূর্গ )
৩।নিঝুম দ্বীপ ভ্রমন- শেষ পর্ব
৪।সোনাদিয়া দ্বীপ শেষ পর্ব
৫।গাড়ো পাহাড়ের পাদদেশে ( গজনী অবকাশ )
৬।এ্যাডভেঞ্চার অব সিপ্পি

আরমিন :

একদমই নতুন ব্লগার আরমিন, মাত্র দুমাস ধরে লিখছেন এখানে, তবে এই কদিনেই যে কয়টা ভ্রমন কাহিনী পোস্ট করেছেন সেটা পড়ে বোঝা যায় তার কাছ থেকে আমরা হয়তও ভাল কিছু পেতে যাচ্ছি......
১।মিটিং এর ফাঁকে হায়দ্রাবাদে: পর্ব২

২।মিটিং এর ফাঁকে হায়দ্রাবাদে
৩।যেখানে পাহাড় মেঘ চেনায়

পয়গম্বর:

ভুপেন হাজারিকার "আমি এক যাযাবর" গানটা যেন পয়গম্বর ভাইয়ার জন্যই তৈরি হয়েছে। সেই সীমান্ত পেরিয়ে কমলালেবুর বাগান দেখতে যাওয়া থেকে শরু করে পাশের দেশের কালিমপং ভ্রমন, কি নেই তার ঝুড়িতে! তার ভ্রমন পোস্ট গুলোর বিশেষত্ব যেটা আমার মনে হয়েছে, সেটা হলো পর্যটন স্থান হিসাবে তুলনামূলক কম পরিচিত জায়গা গুলোতে তিনি বেশি ঘুরেছেন, এবং যাতায়ত ব্যবস্থা, ছবি সহ খুব সুন্দর করে ভবিষ্যৎ ভ্রমনকারীদের জন্য ব্লগে তা লিপিবদ্ধ করেছেন।
পয়গম্বর ভাইয়র বিশাল ভ্রমন কাহিনী গুলোর সংকলন সবই পাবেন এই পোস্টেই : আমার ভ্রমণ-কাহিনী ও ছবি ব্লগ গুলোর কালেকশন

নাআমি :

নাআমি আপুর ভ্রমন পোস্ট গুলো বেশির ভাগই আস্ট্রেলিয়া নিয়ে। আর সুন্দর লেখা ও ছবির পাশাপাশি প্রবাসী ব্লগার নাআমি আপুর লেখার পড়ার সাথে সাথে গান শোনারো ব্যবস্থাও থাকে।
তার চোখে আমারও দেখে নেই অস্ট্রেলিয়ারকে........
১।অপরুপা পার্কল্যান্ড !!
২।স্বপ্নের দেশ অস্ট্রেলিয়া ! ব্রিসবেন-- ২য় পর্ব
৩।থিম পার্ক, সোনালি সৈকতময় শহর, গোল্ড কোস্ট, (শেষ পর্ব)
৪।প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর সান সাইন কোষ্ট (শেষ পর্ব),অস্ট্রেলিয়া..
৫।ছোট্ট বালি দ্বীপ.....ব্রাইবী আইল্যান্ড (Bribie Island) !

আরিয়ানা:

আরিয়ানা আপু কে আমার খুব দু:সাহসী, ডানপিটে মেয়ে বলে মনে হয় , তার লেখার ভাঁজে ভাঁজেও কিন্তু সেই প্রচ্ছায়াটা টের পাওয়া যায়! বাংলা বানান রীতি নিয়ে তার অজ্ঞতার কথা স্বীকার করে সে নিজেই, তারপরও তার ভ্রমন কাহিনী গুলো পড়ার মজাই আলাদা, গড়পরতা বাঙ্গালী জীবনের চাইতে একদম ভিন্ন স্বাদের.......
১।আশির দশকে চিরকাল শহরে থাকা আরিয়ানা আপু গ্রাম ভ্রমণে গিয়ে আটকে পরলেন বণ্যায়, এর পর পাক্কা তিন মাস বণ্যা বন্দী, সেই কাহিনী পড়ুন .......
১৯৮৮ ও আমার সাড়ে তিন মাস।
২।আকাশ থেকে লাফিয়ে মাটিতে নেমে আসার মাঝখানের শূণ্যে পথে ভ্রমন করার আভিজ্ঞতায় মানে স্কাই ডাইভিং নিয়ে লেখা জীবনের সবচাইতে বড় অভিজ্ঞতা Anyone can ever have...
৩।প্যাসিফিক সিতে তিমিদের জলকেলি চাক্ষুস করার দূর্লভ অভিজ্ঞতা পড়তে পারবেন
তিমির প্রেম
৪।অস্ট্রেলিয়ার এক সোনার খনি দেখতে যাওয়া নিয়ে লেখা
অস্ট্রেলিয়া - ৬
এছাড়াও অস্ট্রেলিয়া যাত্রাপথ নিয়ে তার আরও ৫ টি খুবই মজার লেখা আছে, পেয়ে যাবেন ওনার ব্লগেই!
৫।ব্রিসবেন নিয়ে দুই পর্বের লেখার শেষটা
ব্রিসবেন-২
৬।ভিয়েতনাম ভ্রমণ নিয়ে পাঁচ পর্বের সিরিজ লেখার শেষ পর্বটি ...
ভিয়েতনাম_ডেনাং
৭।কম্বোডিয়ায় ভ্রমণ নিয়ে কয়েক পর্ব লেখার মধ্য থেকে দুটি দিলাম এখানে
সিয়াম রিপ অ্যাংকর ওয়াট
৮। কেম্বডিয়ায় ৭ দিন

মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম:

সৌখিন মুদ্রা সংগ্রহক ঝির ভাইয়েরও রয়েছে ভয়াবহ রকমের ঘোরাঘুরির শখ। এই ঈদেও ভাবিকে দেশে রেখে একা একাই ঘুরে আসলেন ফিলিপাইন (সেই জন্য তীব্র ধিক্কার<img src=(" style="border:0;" />)।
এইখানে জহির ভাইয়ার সব কটা ভ্রমন পোস্টের লিংক পাওয়া যাবে, যার মধ্যে কিছু কিছু আবার দৈনিক পত্রিকাতেও প্রকাশিত হয়েছে
আমার যত ভ্রমন ব্লগ...

কাঊসার রুশো:

রুশো ভাই মুভিখোর হিসাবে বহুল পরিচিত হলেও তিনি কিন্তু খুব চমৎকার সব ভ্রমন কাহিনী লিখতেও সমান ওস্তাদ। সেই সাথে তার ছবি তোলরা হাতটাও সমানে সমান।
কাঊসার রুশোর ভ্রমন কাহিনী সমকাল পত্রিকাতেও প্রকাশিত হয়েছে।
এখানে রুশোর সকল ভ্রমন পোস্টের লিংক পাওয়া যাবে........
আমার যত ভ্রমণ ও ছবিব্লগ

টিংকু ট্রাভেলার:

চ্যানের আইতে টিংকু ভাইয়ের "বাংলার পথে" অনুষ্ঠানটি নিশ্চয়ই অনেকেই দেখেছেন! তার ব্লগেও রয়েছে জম্পেস সব ভ্রমন কাহিনী, ভিডিও এবং ভ্রমন সংক্রান্ত বিভিন্ন ইভেন্টের আপডেট........
১।নাটোরের উত্তরা গণভবন দেখুন। বাংলারপথে.........
২।শাহপরীর দ্বীপে গেছিলাম। ভাল লাগছে। ছবি তুলছি। দেখাইলাম।
৩।নাফাখুম থেকে জিনাপাড়া... বাংলারপথে
৪। নারায়নগঞ্জের গরমে একটু নৌকাবাইচ হয়ে যাক
৫। বান্দরবানের গহীনের নাক্ষিয়ং দেখতে, এবার নেবেন ছোট্ট একটা রিস্ক, কাটুন নম্বর ছিক্স

সায়েম মুন:

মুনাপ্পি প্রধানত কবি সাহেব হলেও ভ্রমন কাহিনী এবং ছবি তোলাতেও যে কম যায় না, সেটা তার ভ্রমন পোস্ট গুলোই বলে দেয়!
সায়েম মুনের ভ্রমন ব্লগ গুলো দেখে নেই তাহলে......
১।পাহাড় যখন সফরসঙ্গী
২। ঝর্ণার টানে ছুটে চলা ছবি ও ভ্রমণ কাহিনী
৩। চল! আর একবার যাযাবর হই!
৪। বান্দরবান-পরিভ্রমণ
৫।সুন্দরবন পরিভ্রমণ

ত্রিনিত্রি:

গল্পকার ত্রিনিত্রির ব্লগ যাত্রা শুরু হয়েছিল ভ্রমন কাহিনী দিয়েই, যদিও পরে আর তার তেমন একটা মনোযোগ দেখা যাচ্ছে না সেদিকে<img src=(" style="border:0;" />
১। দার্জিলিং জমজমাট! ২।ভ্রমন বিষয়ক লেখা আহবান
৩।ভূটান: ল্যান্ড অব থান্ডার ড্রাগন
৪।ছবি ব্লগঃ হিমালয় কন্যা নেপাল – পোখারা
৫।ছবি ব্লগঃ হিমালয় কন্যা নেপাল

চাটিকিয়াং রুমান:

নিকের মধ্যেই কেমন একটা চাটগাইয়া ভাব তাই না? <img src=" style="border:0;" />
রুমানের ভ্রমন ব্লগ গুলো ..........
১।পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতঃ ছবিয়াল ব্লগ
২।প্রাকৃতিক নৈসর্গে ভরা মহামায়া ও মুহুরী প্রকল্পে একদিন
৩।দেখে আসুন বাটালী হিল
৪।ঘুরে এলাম শ্রীহট্ট থেকে- শেষ পর্ব

পুরাতন:

একদা শ্রীলংকা প্রবাসী এই পুরাতন ভাইয়ের কল্যানে আমরা শ্রীলংকা, মালদ্বীপের চোখ ধাধানো সৌন্দর্য্য গুলো উপভোগ করতে পারতাম!
কিন্তু বর্তমানে তিনি দেশে ফিরে ভেলপুরি, চিকেন শর্মা এইসভ হাবিজাবি বানাতে ব্যস্ত থাকায় আমাদের আর নতুন করে কোন পুরাতন ভ্রমন কাহিনী পড়া হয় না <img src=" style="border:0;" />
১।ন্যাশনাল জুয়োলজিকাল গার্ডেন, ওয়েলাওয়াত্তা
২।গল মাতারা ভ্রমণ
৩।ইধাফুশী আইল্যান্ড
৪।মালেতে কয়েকদিন
৫।ছুটির দিনে ধানগীতি আর অন্যান্য

অর্ফিয়াস:

আন্তর্জাতিক গাইড বই লোনলি প্লানেটের বাংলাদেশের কন্ট্রিবিউটর অর্ফিয়াস ভাইয়ার ভ্রমন কাহিনী গুল খুব আগ্রহ উদ্দীপক হবে, এ আর নতুন কি!!
তার যে লেখাটা আমার সব চাইতে বেশি ভাল লেগেছিল, সেটা ছিল ড়াইল জেলার হরিহার নামে প্রত্যন্ত এক গ্রামে ভোদর দিয়ে মাছ শিকার করার কাহিনী....
১। 'অটার ফিশিং' দেখতে গহীন গায়ে.........
২।মালঞ্চে'র সে রাতে মনে হয়েছিলো 'আহা জীবন এতো ছোটো ক্যানে?'
৩।রানীগন্জের প্রকৃতি......
৪।জোসনার মায়াবী আলোয় এক আলৌকিক জল ভ্রমণের গল্প
৫।লাউডোব এ সন্ধ্যা নামে...............

কুন্তল_এ

কুন্তল_এ , খুব নিয়মিত নন ব্লগে। ওনার দিল্লী থেকে অমৃতসর স্বর্ণমন্দিরকে নিয়ে একটি সুন্দর ভ্রমন কাহিনী আছে যা পাঁচটি পর্বে ওনার ব্লগে দিয়েছেন। চমৎকার বর্ণনার জন্য ভ্রমণ কাহিনীটি বেশ আকর্ষণীয় হয়েছে। এখানে দেখা যাবে ভ্রমণ নিয়ে ওনার চমৎকার পোষ্ট টি :
ভ্রমণ : দিল্লী থেকে অমৃতসর ... স্বর্ণমন্দির ছুঁয়ে একটি ঝটিকা সফর


হিবিজিবি:
প্যারিস, ভেনিস, মেনকো, কান, সুইজারল্যান্ড.....এসব নামীদামী শহর গুলোর অপার সৈন্দর্য্যকে উপভোগ করতে চান নেটে বসেই? তাহলে আপনাকে যেতেই হবে হিবিজিবি ভাইয়ের ব্লগে।
নাম হিবিজিবি হলেও তার লেখা খুব গোছানো আর ছবি গুলোও মনোরোম.....
১।হিবিজিবি’র ভ্রমণ ব্লগঃ বিশ্বখ্যাত Postojnska Jama গুহা, স্লোভেনিয়া।
২।চলুন ঘুরে আসি রোমান্টিক ও রহস্যময় নগরী ভেনিস!!
৩।উপভোগ করুন ইতালীর ইসেও (Iseo Lake) লেকের সৌন্দর্য!!
৪।চলুন ঘুরে আসি মোনাকো এবং কান সিটি থেকে
৫।আমার দেখা জেনেভা, সুইজারল্যান্ড-৩


এছাড়া ভ্রমনপিয়াসী সবার জন্য এই পোস্টটিও কাজে লাগবে বলে আশাকরি...
১।হানীর বাংলাদেশের জেলা ভিত্তিক দর্শনীয় স্থানের তালিকা চলুন ঘুরি টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া.................



শুভকামনা রইলো সকল পর্যটক আর ভবিষ্যত পর্যটকদের জন্য। পর্যটন শিল্প হতে পারতো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম একটা চালিকা শক্তি। কিন্তু হাজারো অপূর্ণতার সাথে এটাও এখনও একটা অবহেলিত জায়গা ! নেটে সার্চ দিলে বাংলাদেশের এই সব সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে ধরতে গেলে তেমন কোন তথ্যই পাওয়া যায় না। সেদিকে থেকে ব্লগ মাধ্যমের এসব লেখাই অনেকটা অন্ধের ষষ্ঠীর মতো।

সকলের জন্য শুভ কামনা আর নববর্ষের শুভেচ্ছা রইলো....

এখানে মূলত: ব্লগে যাদের লেখার মূল থিম হলো ভ্রমন কাহিনী তাদের লেখা নেয়া হয়েছে। এমন কারো লেখা যদি বাদ পরে যায় তো, দয়া করে জানাবেন!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29514703 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29514703 2012-01-02 13:19:41
আবারও খুলছে প্রাচীন নগরের দ্বার, আপনি যাবেন? কিন্তু ধ্বংসের ভিতর থেকেই মানুষ আবার ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছে নতুন সভ্যতা। প্রত্নত্বাত্তিকগণ যার নাম দিয়েছেন দ্বিতীয় নগরায়ন। তাম্র-প্রস্তর যুগের পর আদি ঐতিহাসিক যুগের এই নগরায়ন ঘটেছিল ভারতের চন্দ্রকেতুগড়, বানগড়, মঙ্গলকোট, তমলুক সহ আরও কিছু অঞ্চলে, এবং এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে শনাক্তকৃত মহাস্থানগড় (পুন্ড্রনগর) আর নরসিংদীর বেলাব থানার ওয়ারী-বটেশ্বরে।

মহাস্থানগড় সম্পর্কে আমরা কম বেশি জানলেও এক দশক আগ পর্যন্ত আমাদের ধারণার বাইরে ছিল উয়ারী দূর্গ নগরীর সমৃদ্ধির তথ্য। এর কারণ পর্যাপ্ত অনুসন্ধান ও প্রত্নতাত্ত্বিক খননের অভাব।
তবে স্থানীয় স্কুল শিক্ষক হাবীবুল্লাহ পাঠান ও তাঁর পিতা হানিফ পাঠান ব্যাক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘ দিন এই অঞ্চলের প্রত্নবস্তু সংগ্রহ, সংরক্ষন আর সে সব নিয়ে গবেষণা ও লেখালেখি করছিলেন। এতে অনুপ্রানিত হয়ে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক আর শিক্ষার্থীদের প্রবল প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে প্রাচীন এই নগর সভ্যতার এক একটি দ্বার, নতুন নতুন স্থাপত্য ও প্রত্ননিদর্শন। বৈচিত্রময়, বিস্ময়কর আর উন্নত কারিগরী দক্ষতার এসব নিদর্শন শুধু আমাদের মুগ্ধই করে না, প্রাচীন এক সমৃদ্ধ জনপদের অংশীদার হিসাবে গর্বিতও করে।

এবার তাহলে আসুন এক নজরে দেখে নেই ওয়ারী বটেশ্বরে ক্ষেত্রীয় অনুসন্ধান আর প্রত্নতাত্ত্বি উৎখনন সমূহে প্রাপ্ত কিছু স্থাপত্য আর প্রত্নবস্তু ..........


নব্য প্রস্তর যুগীর পাথের হাতিয়ার (হাবিবুল্লাহ পাঠান সংগ্রহ)।



লৌহ হাত কুঠার (হাবিবুল্লাহ পাঠান সংগ্রহ)।



২০০৪-৫ উৎখননে প্রাপ্ত পিট ডুইলিং বা তাম্রপ্রস্তর যুগীর গর্ত বসতি। আদি ঐতিহাসিক প্রত্নস্থান মহারাস্ট্রের ইনাম গাওয়ে এই ধরনে প্রচুর গর্তবসতি পাওয়া গেছে, এমনকি আধুনিক কালেই এই ধারা বর্তমান আছে ওখানে।



২০০৫-২০০৭ উৎখননে প্রাপ্ত বাই লেন সহ প্রাচীন রাস্তা। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো এই রাস্তার উপরের স্তরে আধুনিক রাস্তার মতো একটা কোটিং ছিল, উপাদান গুলো এখনও নিশ্চিত হওয়া যায় নি।



ব্রোঞ্জের নবড ওয়ার (হাবিবুল্লাহ পাঠান সংগ্রহ)। নবড ওয়ারকে বৌদ্ধ ধর্মের সাথে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়। এই ধরনে আরও বেশ কিছু মাটির নবড ওয়ার এই অঞ্চলে পাওয়া গেছে।



২০০৬-২০০৭ উৎখননে প্রাপ্ত চমৎকার একটা স্থাপত্য, তবে এটা কি ছিল আদতে সেটা এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


কাজ চলছে উৎখননের।



শুঙ্গ যুগীয় টেরাকোটা ফলকে যক্ষ(?)। এই ধরনের প্রচুর টেরাকোটা ফলক পাওয়া গেছে চন্দ্রকেতু গড়ে। এই ফলকটা উপরের সে স্থাপত্যের ছবি দেয়া হয়েছে, ওখানে উৎখননে এটা পাওয়া গিয়েছিল।


ছাপাংকিত রৌপ্য মুদ্রা। প্রচুর পরিমানে পাওয়া যায় এই অঞ্চল থেকে। এই ধরনের মুদ্রা ভারতবর্ষের সর্ব প্রাচীন মুদ্রা!



কয়েন হোরড বা কলসি ভর্তি মুদ্রা! এটা উৎখননে পাওয়া।



উত্তর ভারতীয় কালো মসৃন মৎপাত্র। বাংলায় সময়কাল ধরা খ্রী:পূ ৪০০ থেকে খ্রী: ১০০ পর্যন্ত। এটা এক ধরনের অভিজাত মৃৎপাত্র ছিল, সাধারণত কালো তবে লাল রং এরও হয়।



স্বল্প মূল্যবান পাথরের পুতি। এটা স্থানীর ভাবে সোলেমানী গোটা বলে!
ওয়ারী বটেশ্বরে সব চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে এই পুতি, কোন কোন টা ইনপারফোরেটে (মানে তখনও ছিদ্র করা হয়নি), ফ্লেক। পাথরের মধ্যে জেসপার, চেলসিডনি, এগেট, কার্লেনিয়ান ইত্যাদি। মজার ব্যাপর হলো এই পাথর গুলোর কোনটাই আমাদের দেশে পাওয়া যায় না।
এই সকল বিষয় গুলোর উপর ভিত্তি করে ধারণা করা হয়, এই অঞ্চলটা ছিল পুতি তৈরির কারখানা, কাচাঁমাল আসতো বাইরে থেকে। এই অঞ্চলের পুতি সিল্ক রোড ধরে রপ্তানী হতো ভুমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে!



কার্লেনিয়ান পাথরের তৈরি টাইগার এমুলেট। প্রাচীন সময়ে এই ধরনের পশু পাখি আকৃতির লকেটে ব্যাবহার দেখা যায় বিভিন্ন সংস্কৃতিতে, ধারণা করা হয় এগুলো সেই সব প্রানীর শক্তির প্রতীক!



২০০৮-২০১০উৎখননে আবিস্কৃত মন্দিরধাপে অবস্থিত বৌদ্ধ লোটাস টেম্পল! চারিদিকে প্রদক্ষিন পথ পাওয়া যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে এটা একটা বৌদ্ধ মন্দির।



ছবির ডান দিকের উপরের কোন পদ্মটি!



উৎখননের পরে এভাবে ঢেকে রাখা হয় স্থাপনা গুলো!



জাঙ্খারটেক বৌদ্ধ বিহার। এখন পর্যন্ত উৎখননে এখানে তিন চারট কক্ষ আবিস্কৃত হয়েছে।



উৎখননের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত গুলো ভিডিও ডকুমেন্টেশন করা হয়। (মেঝেতে উপুর হয় শুয়ে আছে গামছা মাথায় সোহার বাবা <img src=" style="border:0;" />)



মোস্তাফিজুর রহমান লাল স্যারের তত্বাবধানে চলছে শুঙ্গ ফলকটির ক্লিনিং। (পাশে সোহার মা <img src=" style="border:0;" />)



প্রতি বছর উৎখনন চলাকালিন সময়ে চলে প্রাপ্ত প্রত্নবস্তু নিয়ে ওপেন এয়ার মিউজিয়াম প্রদর্শনী।

জাহাঙ্গীর নগর প্রত্নতত্ব বিভাগের শিক্ষক শাহ সুফি মোস্তাফিজুর রহমান স্যারের নেতৃত্বে প্রতি বছরের মতো এবারও শুরু হতে যাচ্ছে শীতকালিন উৎখনন কাজ। উৎখননের উদ্বোধন হবে ২৪ ডিসেম্বর।

যদি যেতে চান নিজের শেকড় খুজঁতে, দেখতে চান নিজের প্রাচীন সেই গৌরবময় নিদর্শন গুলো তাহলে যে কোন দিন বেরিয়ে পরুন। ঢাকা মহাখালী থেকে ভৈরবগামি বা সিলেট রোডের যে কোন গাড়ি উঠে পড়ুন, নামতে হবে মরজালে। এর পরে রিক্সা বা সি এন জি নিয়ে 'খনন দেখতে যাবো' বললেই তারা নিয়ে যাবে অভিস্ট লক্ষে <img src=" style="border:0;" /> অথবা গুলিস্তান থেকে সরাসরি বেলাবোর গাড়িতেও যেতে পারেন !



শুভকামনা রইলো উৎখনন টিমের জন্য..........]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29507449 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29507449 2011-12-21 22:55:49
একাত্তরের গণহত্যা : যমুনার পূর্ব-পশ্চিম আমাদের নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানেন না ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীতাকারী পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী, রাজাকার ও আলবদরদের পরিচয় কিংবা তাদের কার্যকলাপ।
১৯৭১ সালে খুলনায় সর্বপ্রথম রাজাকার বাহিনী গঠিত হয়েছিল। জামায়েত ইসলামীর তৎকালীন শুরা সদস্য একেএম ইউসুফের নেতৃত্বে ৯৬ জন জামায়ত কর্মী নিয়ে রাজাকার বাহিনী গঠনের পরপরই দেশের সর্বত্র এই বাহিনী তৈরি হতে থাকে। জুন মাসে টিক্কা খান "পূর্ব পাকিস্তান রাজাকার অর্ডিন্যান্স ১৯৭১' জারি করেন'। রাজাকারদের ছোট ছোট ব্যাচে অল্পদিনের অস্ত্র ট্রেনিংও দেয়া হয়েছিল।
আলবদর বাহিনী' তৈরি হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে ১৯৭১ এর ২২ এপ্রিল জামালপুরে। ময়মনসিংহ জেলা ইসলামী ছা্ত্র সংঘের তৎকালিন সভাপতি মুহাম্মদ আশরাফ হোসাইনের নেতৃত্বে। পরিক্ষামূলক ভাবে সারা ময়মনসিংহ জেলায় ইসলামী ছা্ত্র সংঘের কর্মীদের আলবদর বাহিনী হিসাবে সংঘঠিত করে সশস্ত্র ট্রেনিং দেয় হয়, যার সাংগঠনিক পরিচালক ছিল বর্তমান জামায়েত ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামন!

এই সব কুলাঙ্গারদের সহায়তায় সে সময়ে পাকি হানাদার বাহিনী নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছিল শহরে-বন্দরে-গ্রামে, বধ্যভূমিতে পরিনত হয়েছিল বাংলাদেশ। উনিশশ একাত্তরে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর কতৃক যমুনা নদীর পূর্ব ও পশ্চিম পারের গনহত্যার কিছু ঘটনা ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরতে চাই........

মধুপুর গণহত্যা

১৯৭১ সালের ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের পর থেকেই মধুপুরের ছা্ত্র যুবকেরা মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষন নিতে থাকেন। মধুপুরের তৎকালিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মালেক খুব গোপনে এই ট্রেনিং এর জন্য একটা করে রাইফেল দিতেন গভীড় রাতে, আর ভোর রাতে জমা নিতেন। আনসার সদস্য বেলায়েত হোসেন এবং ইপিআর সদস্য এম মনসুর আলীর নেতৃত্বে ট্রেনিং চলতে থাকে।
১৯৭১ সালের ১৩ই এপ্রিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর একটা গ্রুপ মধুপুর বাজার এলাকা রেকী করে যায়। হামলা হতে পারে আনুমান করে তখন সদ্য ট্রেনিং প্রাপ্ত মুক্তি বাহিনীরা এদের প্রতিরোধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৪ই এপ্রিল হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিকামী এই সাধারণ যোদ্ধাদের ছোটখাট একটা সংঘর্ষ হয়, কিন্তু সংখ্যায় কম থাকার কারণে তাঁরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। ১৯ এপ্রিলের মধ্যে বেশ কয়েক গাড়ি পাকি সৈন্য এসে মধুপুরে অবস্থান নেয়, এই সময়ে মধুপুরে এরা বিমান থেকে গুলিও বর্ষন করে। কয়েকদিনের মধ্যে ময়মনসিংহ, জামালপুর, টাংগাইল অঞ্চল পাকিদের সাবজোনে পরিনত হয়।
পরবর্তী সময় থেকে বিজয়ের আগ পর্যন্ত দেশীয় রাজাকার আর আলবদর বাহিনীর সহায়তায় মধুপুরের অগণিত সাধারণ মানুষ গণহত্যার স্বীকার হয়। এলাকাবাসীর মতে শুধু মাত্র মধুপুর বধ্যভূতিতেই প্রায় ৯৩১ জন নিরাপরাধ মানুষকে অমানুষিক ভাবে হত্যা করে তারা।

মধুপুরের কালমাঝি গ্রামের অনুমানিক ২০ জন সাধারণ মানুষকে একদিনে বেনোয়াট দিয়ে খুচিয়ে হত্যা করে পুন্ডুয়া মোড়ের জব্বারের কুপে ফেলে দিয়েছিল রাজাকার সুবেদার মোস্তাক এবং মোয়াজ্জেম মৌলভী।

সেদিন এই বধ্যভুমি থেকে আহত অবস্থায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন মির্জাপুরের সাধন মন্ডল। বংশাই নদীতে ভেসে যাচ্ছিলেন তিনি, সেই অবস্থা থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে এসে চিকিৎসা করার অপরাধে চাপড়ি গ্রামের জনপ্রিয় ডাক্তার সুধাংশু সাহাকে রাজাকার মেছের মাওলানা ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে।


মহেড়া গণহত্যা

মহেড়া জমিদার বাড়ি, যেটা এখন পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, সেই বাড়ি নিশ্চয় অনেকেই দেখেছেন। ১৯৭১ সালের ১৪ই মে এই বাড়িতেই ঘটে যায় এক নিষ্ঠুর হত্যাযড়, লুটতরাজ। পুরো গ্রাম হয়ে যায় বিধ্বস্ত।
সেদিন এই জমিদার বাড়ির চৌধুরি লজের সামনে লনে দাড় করিয়ে হত্যা করা হয়েছিল জমিদার বাড়ীর গৃহবধু যোগমায়া চৌধুরানী সহ আর ৭ জনকে।

মুক্তাগাছা গণহত্যা

১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল মুক্তাগাছা প্রবেশ করে পাকি বাহিনী। সেদিনই তারা মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি সহ আশেপাশের বাড়ি গুলোতে লুটপাট চালায়, আগুন ধরিয়ে দেয়। হত্যা করে জমিদার বকুল কিশোর অচার্য্য চৌধুরী কে। এরপর ১০ই ডিসেম্বর পর্যন্ত এরা মুক্তাগাছার বিভিন্ন এলাকায় রাজাকার কমান্ডার দুই ভাল চান এবং সুরুজের প্রতক্ষ সহযোগীতায় গণহত্যা চালিয়ে প্রায় ২০০ লোককে হত্যা করে!
মুক্তাগাছার বনবাংলা গ্রামের অসম্প্রদায়িক চেতনার এক মানুষ ছিলেন শহীদ সন্তোষ ধর। ১৯৭১ সালের ১ সেপ্টেম্বরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রাজাকার কেরামত আলী তালুকদার কয়েকজন রাজাকারের সহায়তায় সন্তোষ ধরের গরু চুরি করে নিয়ে যায়, এরপর পরিকল্পিত ভাবে সেই গরু ফেরত দেবার কথা বলে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে বিজয়পুর বাজারে। সেখানে প্রকাশ্য দিনের বেলায় সন্তোষ ধর এবং জগদীশ সিং কে মাটিতে ফেলে চেপে ধরে ব্লেড দিয়ে শরীরের চামড়া চিড়ে রক্তাক্ত শরীরে মরিচ আর লবন ছিটিয়ে সেই বর্বর রাজাকারের দল। তাদের আর্ত চিকৎারে কেপে ওঠে পুরো এলাকা, কিন্তু কেউ তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসার সাহস পায়নি।
একপর্যায়ে তারা কোন রকমে উঠে দৌড়াবার চেষ্টা করেল গুলি করে মেরে ফেলা হয় তাদের।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপড়ার চড়িয়া শিকার-পাটধারী গণহত্যা:

১৯৭১ সালের ২৫ এপ্রিল, রবিবার, পাকিহানাদার বাহিনী আর তাদের সহযোগী রাজাকারদের এক নৃশংস হত্যাযঙ্গ চলেছিল সেদিন হাটিকুমরুলের আশেপাশের গ্রাম গুলোতে, শহীদ হয়েছিল ২০০ জনেরও বেশি সাধারণ মানুষ।

শেখ মুজিবর রহমানের ৭ই মার্চ ভাষণের পর থেকেই উল্লাপাড়া চড়িয়া শিকার গ্রামের কালু মাস্টার এবং আনসার কমান্ডার শাহাদাত হোসেনের তত্বাবধানে প্রাথমিক স্কুলের মাঠে গ্রামের যুবকদের প্রাথমিক ট্রেনিং চলতে থাকে। গ্রামের ডাক্তার শাহজাহান আলী, ডা: মজিবর রহমান এবং বাহাজ উদ্দীন আকান্দ এই ট্রেনিং এর সব ব্যায় বহন করতেন (এরা তিন জনই ২৫ এপ্রিল গণহত্যায় শহীদ হয়েছিলেন)।
দেশীর রাজাকার আলবদরদের মাধ্যমে এই সংগঠিত হবার কথা খুব তারাতারিই পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর কানে পৌছে যায়। এবং এরা ২৫ এপ্রিল সরাসরি এই সব গ্রাম অতর্কিতে আক্রমন করে, চালায় মর্টার শেল আক্রমন। অপ্রস্তুত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ ভেঙে তারা ছোট ছোট দলে সারা গ্রামে মহল্লায় মহল্লায় আক্রমন চালাতে থাকে।
ভীত সন্ত্রস্ত মানুষ আশেপাশের জঙ্গল, কবরস্থানে লুকিয়ে আত্মরক্ষয়ার চেষ্টা চালায়। হানাদারেরা সেখানে তাদের ঘিরে ফেলে, এবং বেড়িয়ে আসলে হত্যা করা হবে না বলে আশ্বাস দেয়। রাজকারদের এই আশ্বাস বানী শুনে আস্তে আস্তে মানুষজন জঙ্গল, কবরস্থান থেকে বের হয়ে আসলে, তাদের মন্ডল বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ওখানে তাদের পানি খেতে দেয় পাকিরা। কিন্তু এদের মনের মধ্যে যে ভয়ংকর সাপটা আছে, তার অস্তিত্ব তখনও টের পায়নি সেই সরল মানুষ গুলো। আস্তে আস্তে আশেপাশের লুকিয়ে থাকা গ্রামবাসীরাও এদের সাথে যোগ দেয়।
'রাস্তায় বড় বড় গাছ কেটে বেরিকেট দেয়া আছ, সেগুলো সরাতে হবে" এই কথা বলে তাদের সবাইকে নিয়ে যায় পাশের সরকার বাড়ীর জঙ্গলের মধ্যে ফাঁকা জায়গায়। এখানে সবাইকে বৃত্তাকারে বসিয়ে কালেমা পড়তে বলে, কালেমা পড়া শেষ না হতেই ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে অনুমানিক ১৩৮ জন কে।

এই শহীদের অধিকাংশকেই কবর দেয়া সম্ভব হয়নি। পরদিন অল্প কিছু লাশ গ্রামের মানুষ মাটি চাপা দিয়েছিল জানাজা ছাড়াই।

টাংগাঈল ভূঞাপুরের ছাব্বিশা গণহত্যা

ভূঞাপুরের সিরাজকান্দিতে ধলেশ্বরী নদীর উৎসমুখে যমুনা নদীতে পাকি হানাদার বাহিনীর অস্ত্র বোঝাই 'এস ইউ ইঞ্জিনিয়ার এল সি-৩' এবং 'এস টি রাজন' নামের দু'টি জাহাজ দখল আর বিপুল পরিমান গোলা-বারুদ দখল আর ধ্বংস করে মুক্তিবাহিনীর বীর যোদ্ধারা ১১ ই আগস্ট। এতে করে এই অঞ্চলটা পাকিস্তানী হাইকমান্ডের টার্গেটে পরিণত হয়।
তবে বারবার মুক্তিযোদ্ধাদের নিচ্ছিদ্র প্রতিরোধের কারণে তারা ভূঞাপুর আক্রমনের সুযোগ পাচ্ছিল না।
এরই সূত্র ধরে ১৭ নভেম্বর পাকি বাহিনী আতর্কিতে আক্রমন করে ভূঞাপুরের ছাব্বিশা গ্রামে, গ্রামটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে তারা।
মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সেদিন সাধারণ মানুষও প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিল। তাদেরই একজন বীর শহীদ বিশু মন্ডল। ১৭ ই নভেম্বর, গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে চলেছে পাকিদের তান্ডব, মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে, এর মধ্যে বিশু মন্ডলের বাড়িত দুই পাকি সেনা ঢুকলে, তিনি খালি হাতেই তাদের উপর ঝাপিয়ে পরেন। সুঠামদেহী বিশু মন্ডল দুই হাতে দুই পাকি সৈন্যের গলা চেপে ধরে তার মা শাহাতন বেগম কে ঘর থেকে দা আনতে বলেন। শাহাতন বেগমের দা আনতে দেরী হওয়ায় বিশু মন্ডল কৌশলে এদের অস্ত্র কেরে নিয়ে বাড়ির সেটা দিয়ে পিটিয়ে বাড়ির পুকুরে নামান, সেখানে এদের চুবিয়ে মারার চেষ্টা করেন। কিন্তু ইতোমধ্যে পাকি সৈন্যদের ছোট একটি দল সেখান এসে পরে, তারা অকুতভয় এই যোদ্ধাকে প্রথমে বেয়নট দিয়ে খুচিয়ে মেরে, তাঁর গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।

ছাব্বিশা গণহত্যায় সেদিন শহীদ হয়েছিলেন আনুমানিক ৩২ জন, এরমধ্যে একজন ১৭ দিন বয়সী শিশুও ছিল। এই শিশু কণ্যা আর আর মাকে পাকি পশুরা আগুনের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল।
পাবনার হাদল-কালিকাপুর গণহত্যা

পাবনা জেলার একটা প্রত্যন্ত গ্রাম হাদল-কালিপুর। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর আক্রমন থেকে রক্ষা পাবার জন্য পাবনা সদর, উল্লাপাড়া, ঈশ্বরদী প্রভৃতি জায়গা থেকে অনেক লোকজন এই গ্রামকে নিরাপদ মনে করে এখানকার বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এমনকি যাদের কোন আত্মীয় স্বজন নেই এমন অনেক নারী পুরুষ গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির গোয়ল ঘর, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ আশ্রয় নিয়েছিল।
শহর থেকে আশা অনেক লোকজনের কাছেই স্বর্ণালংকরার, টাকা পয়সা ছিল, যেগুলোর হাতানোর লোভে পরে দেশীয় দালালেরা। এরই পরিকল্পানার অংশ হিসাবে এরা গোপনে হাদল-কালিকাপুরে মুক্তিযোদ্ধারা সমবেত হয়েছে বলে খবর দেয় পাবনা বড়াল ব্রিজ হানাদার ক্যাম্পে।

৭ই মে ১৯৭১, ভোর রাতে বড়াল ব্রীজ হানাদার ক্যাম্পের প্রায় ৩০০ পাকি সেনা আর দেশীয় দালালেরা হাদল-কালিকাপুর গ্রাম দুটোকে ঘিরে ফেলে। ঘুমিয়ে থাকা নিরস্ত্র লোকজনের উপর ঝাপিয়ে পরে হায়নার দল, ঘর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়, ধর্ষিত হয় শতাধিক নারী। বেলা এগারোটা পর্যন্ত চলে তাদের এই তান্ডব।
সেদিন দখলদার বাহিনীর এই নির্মমতায় ঠিক কতজন মানুষ শদীদ হয়েছিলেন তার সঠিক হিসাব আজও করা যায় নি, তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য মতে এই সংখ্যা প্রায় নয় শতাধিক।



মধুপুর, মহেড়া, মুক্তাগাছা, ভূঞাপুর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ গণহত্যায় সহযোগী রাজাকার আলবদরেরা:

১। হাফেজ আবদুল গফুর: মধুপুর ভট্টবাড়ির এই রাজাকার কমান্ডার বর্তমানে মধুপুর উপজেলার একটি মসজিদের ইমাম!

২। মোয়াজ্জেম মৌলভি: রাজাকার, পিতা ছিলিম উদ্দীন, কালমাঝি, মধুপুর।

৩। মেছের মওলানার কোন খবর পাওয়া যায়নি।

৪। আবদুস সামাদ: রাজাকার, পিতা-তোয়াজ উদ্দীন, কালমাঝি, মধুপুর।

৫।শাহজাহান আলি: রাজাকার' পিতা- আফসার উদ্দীন , কালমাঝি, মধুপুর।

৬।মসলিম উদ্দিন: এই রাজাকার মুক্তাগাছার অনেক হিন্দুকে জোর করে মুসলমান বানিয়েছিল।

৭।কুতুব উদ্দীন মওলানা: রাজকার, মুক্তাগাছা সদর। স্বাধীনতার পর পর বিক্ষুব্দ জনতার গণধোলাই তে মারা যায়।

৮। দানেশ আলী: মুক্তাগাছা সদর।

৯। আড্ডু বিহারী: আটানি বাজার, মুক্তাগাছা। এই রাজাকার প্রকাশ্য দিবালোকে তারিটী পূর্বপাড়ার কাজিম উদ্দীন মন্ডলকে মুক্তিবাহিনীকে সহায়তা করার অপরাধে পায়ে দড়ি বেধে বুক ও পিঠের চামড়া তুলে নিয়ে হত্যা করেছিল। স্বাধীনতার পরে জনতার রোষে সে মারা যায়!

১০। কোরবান আলী: আলবদর কমান্ডার। চর কৈজুরি, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ। একাত্তররে কোরবান আলী পূর্ব পাকিস্তান জামায়েত ইসলামীর প্রচার সম্পাদক ও শান্তি কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ছিল। তার নিজের বাড়িতেই ছিল হানাদার ক্যাম্প।
১৯৭১ এর ঘৃনিত কর্মকান্ডের জন্য বাংলাদেশ সরকার এর নাগরিকত্ব বাতিল করেছিল, ১৯৭০, ১৯৯১, ১৯৯৬ সালে এই রাজাকরা ব্যারিস্টার কোরবান আলি চৌহালি-শাহজাদপুর নির্বাচনী এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করে।

১১। আশরাফ মওলানা: রাজাকার কমান্ডার, নিকরাইল, ভূঞাপুর। ১৯৭০ সালে জামায়েত ইসলামীর মনোনায়নে জাতীয় পরিষদে নির্বাচন করেছিল। ১৯৭১ এর হানাদারদের দোসর হিসাবে হত্যা, ধর্যণ আর লুটপাটের নেতা এই রাজাকারের নাম কাদের সিদ্দীকির স্বাধীনতা-৭১, মুনতাসীর মামুনের 'মুক্তিযুদ্ধ কোষ' এও উল্লেখ আছে। কয়েক বছর আগে ইনি পলশিয়া রানী দিনমনি উচ্চ বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষকতার পদ থেকে অবসর নেয়। বর্তমানে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী নেতা।

১২। শাহজাহান চৌধুরী: রাজাকার কমান্ডার, ঘাটাইল, টাংগাইল। বাবা ইদ্রীস চৌধুরী ইউনিয়ন পরিষন চেয়ারম্যান ছিলেন যুদ্ধকালিন সময়ে।
দেশ স্বাধীন হবার পরে অত্যাচারীত জনগন রাজাকার শাহজাহান চৌধুরিকে ধরে গাছের সাথে ঝুলিয়ে পিটিয়ে ছিল! রাজাকারে যোগ দেবার কারণে তার বাবা ইদ্রিস হোসেন চৌধুরি তাকে ত্যাজ্য পুত্র করেছিলেন। বর্তমানে সে এলাকায় ঘটকালি পেশায় জড়িত আছে।

চলবে.........


তথ্য: সকল তথ্য শফি উদ্দীন তালুকদার রচিত "একাত্তরের গণহত্যা: যমুনার পূর্ব পশ্চিম" থেকে নেয়া। বইটি পাওয়া যাবে কথাপ্রকাশে, আজিজ সুপার মার্কেট, ঢাকায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29502168 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29502168 2011-12-13 20:04:25
ব্লগারদের বই অপর বাস্তব -৬ এর জন্য লেখা আহবান ''শুদ্ধস্বর" থেকে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে ব্লগারদের বই "অপর বাস্তব-৬"। উল্লেখ্য বাংলাদেশে অপর বাস্তব-ই প্রথম বই, যা সামহোয়্যারইন এর বিভিন্ন ব্লগারের লেখা ভিন্ন ভিন্ন পোস্ট নিয়ে ২০০৭ সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে আসছে। ফেইস বুকে দেখুন অপর বাস্তবকে

লেখার বিষয়বস্তু :
এবছর অপর বাস্তবের বিষয়বস্তু হিসাবে নির্বাচন করা হয়েছে নভেম্বর ২০১০ থেকে ডিসেম্বর ২০১১ সময়কালের মধ্যে সামহোয়্যারইন ব্লগে প্রকাশিত রম্য নির্ভর লেখা এবং সেই সাথে সেইসব লেখা গুলো , যা বিকল্প মিডিয়ার চাহিদাকে পূরণ করেছে।

রম্য নির্ভর লেখা : এটা হতে পারে গল্প , কবিতা , সমসাময়িক ঘটনা প্রবাহ , রাজনৈতিক , মুভি রিভিউ ইতাদি।
বিকল্প মিডিয়ার চাহিদা সম্পন্ন লেখা : দৈনিক সংবাদ পত্র, রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদি প্রচার মাধ্যমের বিকল্প ধারায় মূলত: ব্লগ এবং ফেইসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম গুলোকে ধরা হয়। সমসাময়িক হিসেবে লেখা আসতে পারে : ভিকারুন্নেসার ছাত্রী নির্যাতন, কনকো পিলিপস চুক্তি, টিফা , জগন্নাথ ভার্সিটি, পারসোনা ইতাদি সম্পর্কিত লেখা।

এছাড়া আরও একটা খুশির খবর : সামহোয়্যারইন ব্লগের নির্বাচিত লেখা নিয়ে প্রকাশিত সংকলন ‘অপর বাস্তব’ এর প্রচারণার জন্য 'রেডিও ফুর্তি ৮৮ এফ এম ব্যান্ডের ' মধ্যে গত ২৪ শে নভেম্বর ২০১১ একটা চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়ছে। এই চুক্তির আওতায় রেডিও ফুর্তি ফেব্রুয়ারী মাস জুড়ে অপর বাস্তবের প্রচারণা চালাবে, হবে ব্লগারদের সাক্ষাৎকার। অপর বাস্তবের ব্লগাররা রেডিও ফুর্তির বেশ কিছু অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে সেসব নিয়ে ব্লগ লিখবেন। এছাড়াও থাকবে অপর বাস্তবের বিভিন্ন তথ্য নিয়ে কুইজ অনুষ্ঠান এবং কুইজে বিজয়ীদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার!

সুতরাং ব্লগের ভাইয়া এবং আপুরা, সামহোয়ারইন ব্লগে প্রকাশিত আপনাদের নিজেদের অথবা আপনাদের পছন্দের রম্য আর বিকল্প মিডায়াতে অবদান রাখা পোস্ট গুলোর নাম এবং লিংক এই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে উল্লেখ করুন।
লেখা মনোনায়ন দেবার শেষ তারিখ ১৬ই ডিসেম্বর।

আপনাদের সবার সহযোগিতা কামনা করছি, যেটা ছাড়া কোন ভাবেই এই কাজটা করা সম্ভব হবে না। সুতরাং চমৎকার সব লেখা গুলো খুজে পেতে আপনার সাহায্যের হাতটা বাড়িয়ে দিন, আশাকরি সকলের প্রচেষ্টায় 'ব্লগারদের বই' অপর বাস্তব-৬ হয়ে উঠবে অত্যন্ত আকর্ষনীয় এক সংকলন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29492007 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29492007 2011-11-28 12:24:23
সেই স্কুল পালানো ছেলেটা একদিন কোরআন অনুবাদ করে ফেললো..... অথচ এই গিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়িটিই যে বাংলাদেশে এখনও প্রায় ভগ্নাংশ হয়ে দাড়িয়ে আছে, তার খবর ক'জনা রাখে!
তবে এখানে আমি আপনাদের কিছু আশার কথা শোনাবো, তার আগে এক নজরে দেখে নেই এই মনিষীর সংক্ষিপ্ত জীবন পরিক্রমা........

১৮৩৫ সালে ঢাকা মহাকুমার মহেম্বরদি পরগনার পাঁচদোনা গ্রামে ভাই গিরিশ চন্দ্র সেন জন্মগ্রহন করেন। পিতা মাধমরাম সেনের পূর্ব পরুষেরা ছিলেন নবাব আলিবর্দী খানের দেওয়ান। গিরিশ চন্দ্র সেন যখন মাত্র দশ বছর বয়সের শিশু, সেই সময় তাঁর বাবা মারা যান।
গিরিশ চন্দ্র সেনের শিক্ষা জীবন ছিল বেশ বৈচিত্রময়। মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই তিনি তাঁর দাদামশায়ের কাছে ফার্সি শিখেছিলেন, পরে ইংরেজি শেখার জন্য তাঁকে ঢাকার পোগেজ স্কুলে ভর্তি করানো হয়েছিল। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের বেত্রঘাতের ভয়ে, এখানে তাঁর স্কুল জীবন বেশি দীর্ঘয়িত হয়নি। এসময়ে তাঁর পরিচয় হয় পন্ডিত মুন্সি কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের পরিচয় হয়, তাঁর সান্নিধ্যে এসে তিনি বিখ্যাত ফার্সি বই গুলো সব পড়ে ফেলেন।
এরপর তিনি ময়মনসিংহের একটি সংস্কৃত স্কুলে ভর্তি হন এবং সেখান থেকেই পড়াশুনা করে পাঠশালা পর্ব শেষ করে, হার্ডিঞ্জ স্কুল থেকে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশুনা শেষ করেন। পরে ময়মনসিংহ স্কুলে সেকেন্ড টিচার হিসাবে জয়েন করেন।
পরবর্তিতে কেশব চন্দ্র সেনের মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে তিনি ব্রাক্ষ্ম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। ১৮৬৯ সালে কেশব চন্দ্র সেন পৃথিবীর আদি ধর্ম গুলো নিয়ে বিস্তারিত গবেষণার জন্যন ব্রাক্ষ্ম সমাজের চার জন পন্ডিকে নিযুক্ত করেছিলেন, এর মধ্যে গিরিশ চন্দ্র সেন দায়িত্ব লাভ করেন ইসলাম ধর্ম নিয়ে কাজ করার, খুলে যায় নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার।
এই সময়ে গিরিশ চন্দ্রের আরবী ভাষা জানা না থাকায় ১৮৭৬ সালে তিনি আরবি শিক্ষার জন্য গিরিশ চন্দ্র লক্ষ্মৌ গিয়েছিলেন। সেখানকার ব্রাহ্ম সমাজের আনুকূল্যে এবং সহযোগিতায় মৌলবী এহসান আলী সাহেবের কাছে আরবি ব্যাকরণ ও দিওয়ান-ই-হাফিজের পাঠ গ্রহণ করেন। লক্ষ্মৌ থেকে কলকাতায় ফিরে আরেকজন মৌলবীর (নামটা জানা নেই) কাছে এ বিষয়ে আরও কিছু শিক্ষা গ্রহণ করেন। এরপর ঢাকায় নলগোলায় মৌলবী আলিমউদ্দিন সাহেবের কাছে আরবি ইতিহাস ও সাহিত্যের পাঠ গ্রহণ করেছিলেন।
এভাবে ভাষা শিক্ষা শেষ হবার পরে গিরিশ চন্দ্র সেন কোরআন শরিফ অনুবাদের কাজটি শুরু করেছিলেন ১৮৮১ সালের ১২ ডিসেম্বর। এই সময়ে তিনি প্রথম প্যারাটা অনুবাদ করেছিলেন। পুরো কোরআন অনুবাদ কাজ শেষ করতে তাঁর সময় লেগেছিল ছয় বছর। এই সময়ে এই অনুবাদ গুলো দুই তিন প্যারা করে এক সাথে মুদ্রন হতো, ৫০০ থেকে ১০০০ পর্যন্ত কপি হয়েছিল এক একটা মুদ্রনের, আর মূল্য ছিল দুই থেকে তিন আনা পর্যন্ত।
বাংলায় অনুবাদিত পূর্নাঙ্গ কোরআনের প্রথম মুদ্রন হয় কোলকাতা থেকে। কোরআন অনুবাদের পরে তৎকালিন মুসলিম সমাজ থেকে ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনে কে সন্মানসূচক "মাওলানা" উপাধি দেয়া হয়েছিল।

কুরআন শরিফ অনুবাদের পরে ধন্যবাদ জানিয়ে গিরিশ চন্দ্র সেনের কাছে লেখা কোলকাতা মাদ্রাসার সিনিয়র সক্লার আহম্মদ উল্লাহর চিঠি

এর পাশাপাশি তিনি "বামবোধিনী পত্রিকা" নামে একটা মহিলা পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
তাঁর প্রথম বাংলা অনুবাদ ছিল ফরাসি ভাষায় রচিত শেখ সাদির "গোলস্তান"। এর অনুবাদ গ্রন্থ 'হিতোপোখ্যান মালা" সেই সময়ে শিক্ষা বিভাগে পাঠ্য ছিল।
গিরিশ চন্দ্র সেন ইসলাম ধর্ম বিষয়ক ২২টি বই রচনা করেছিলেন, এছাড়া নববিধান নিয়ে তাঁর মোট ১৩ টি বই ছিল।


গিরিশ চন্দ্র সেনের লেখা একটা বইয়ের অরিজিনাল কপি!



এই কর্মবীর মনিষীর মৃত্যুবরন করেন ১৯১০ সালের ১৫ আগস্ট।
আপনি যদি এই মহামনিষীর বাড়িটি, যেখানে তিনি তাঁর জীবনের একটা বড় অংশ অতিবাহিত করেছেন, দেখতে চান তাহলে আপনাকে যেতে হবে নরসিংদি জেলার মনোহারদির পাঁচদোনা গ্রামে।


চারিদিক থেকে লোকজন জমি দখল করতে করতে বাড়িটাকে একদম ঢেকে ফেলেছে!

সম্প্রতি স্থানীয় ভাবে তাঁর বাড়িটি সংরক্ষন করে সেখানে গিরিশ চন্দ্র সেনের একটা মিউজিয়াম তৈরি করার পরিকল্পনা চলছে, বাকি শুধু বাংলাদেশ প্রত্নতত্ব বিভাগের অনুমতি।


বাইরে থেকে দেখা না গেলেও ভেতরে পুরো বাড়িটা মোটামুটি ভাবে পুন:নির্মান যোগ্য আছে!

স্থানীয় ভাবে গিরিশ চন্দ্র সেনকে নিয়ে নিরলস ভাবে গবেষণা করে যাচ্ছেন খন্দকার ফয়সাল আহম্মেদ নামের একজন চমৎকার মানুষ। চমৎকার বললাম এ কারণে যে, বর্তমানে প্রফেশনাল লোক ছাড়া যখন কেউ এ ধরনের গবেষনায় আসতে চায় না, সেখানে একজন ব্যাবসায়ী হিসাবে তার এ অধ্যবসায় সত্যিই মুগ্ধ হবার মতো। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনও খুবই আগ্রহী এই বাড়ি সংরক্ষন আর পুন:নির্মানে। যদি তারা এ কাজে সফল হয় তাহলে একটা হবে বাংলাদেশে পাবলিক আর্কিওলজির অন্যতম একটা পদক্ষেপ!

আর্চ, লিন্টেল গুলো মোটামুটি অক্ষত আছে

পৃথিবীর অনেক দেশেই এভাবে প্রত্নসম্পদ গুলো স্থানীয় আর ব্যাক্তিগত ভাবে সংরক্ষিত হয়ে আসছে, বাংলাদেশে এটার শুভ সূচনা হতে যাচ্ছে, সেই সুদিনের অপেক্ষায় রইলাম আমরা....




বই এবং চিঠির অনুকৃতিটা ফয়সাল আহম্মেদের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে নেয়া।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29486479 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29486479 2011-11-19 21:11:50
যাদুবিদ্যা ও ডাইনীতন্ত্র!! যাদুবিদ্যা মূলত: অতিন্দ্রিয় আর প্রাকৃতিক শক্তিকে বশ করার বিদ্যা! ইংরেজি ম্যাজিক শব্দের উদ্ভব হয়েছে ফার্সি মাজি থেকে! মাজিরা যে সব ক্রিয়া-কর্ম পালন করতো, গ্রীকরা তাকেই ম্যাজিক বলে অভিহিত করতেন!
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সমজাবিদ আর নৃত্বাত্তিকগণ সমাজে প্রচলিত যাদু বিধান গুলো পর্যালোচনা করে এদের বিভিন্ন শ্রেণী বিভাগ করার চেষ্টা করেছেন। যেমন স্যার জেমস জর্জ ফ্রেজারের মতে যাদুবিদ্যার বিধাব গুলো প্রধানত দুই রকমের.........
Homeopathic Magic:

১। এই যাদু বিধান সর্বকালে সব দেশে শত্রুর ধ্বংসের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে শত্রুর প্রতিমূর্তি (মোম, মাটি, কাঠ, কাপড়), বা ছবি ইত্যাদি তৈরি করার করে পুড়িয়ে, বা ছুড়ি দিয়ে কেটে ধ্বংস করা হয়! ধারণা এই যে, মূর্তিটা যে যন্ত্রনা পাচ্ছে, শত্রুও তেমন যন্ত্রনা বা আঘাত পাচ্ছে। এটাকে ব্ল্যাক ম্যাজিক বলে!

তবে এই যাদু আবার অনেক সময় মানুষে উপকার বা ভালর জন্যেও ব্যাবহার করা হয়। যেমন ইন্দোনেশিয়ার সমুত্রা দ্বীপে একটা এমন একটা যাদু বিধান আছে-------কোন নারীর সন্তান হচ্ছে না, তখন করা হয় কি একটা কাঠের ছোট শিশু বানিয়ে নি:সন্তান রমনীটি কোলে বসিয়ে আদর করে! এর ফলে তার সন্তান হবে এমন ভাবা হয়!
কখনো কখনো রোগের চিৎকসার জন্যও এই ধরণের যাদুর প্রয়োগ দেখা যায়! যেমন প্রাচীন হিন্দু সমাজে জন্ডিস (পান্ডুর) রোগের চিকিৎসার জন্য মন্ত্র পাঠ করে রোগীর চোখের হলুদ অংশ সূর্যের কাছে পাঠানো হত!!

২।Contagious Magic:
এই ধরনের যাদু বিধানের মাধ্যমে বিশ্বাস করা হয় মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশ বিশেষ যেমন চুল, নখ, থুথু বা পরিধেয় বস্ত্রের মাধ্যমে যাদু করে মানুষের ক্ষতি বা উপকার দুটাই করা সম্ভব! মালয়ে এমন এক ধরনের যাদু বিধানের প্রচলন দেখা যায়---শত্রুর আঙ্গুলের নখ, চুল, ভ্রু, থুথু ইত্যাদি সংগ্রহ করে মোমের সাহায্যে শত্রুর একটা অবিকল প্রতিরূপ তৈরি করে তা ছয় দিন ধরে মোমের আলোয় ঝলসাতে হবে এবং সাত দিনের দিন মূর্তিটি পুড়িয়ে ফেললে শত্রুর মৃত্যু হবে!

ভুডু পুতুল

যাদুবিদ্যার ধরন আর প্রাকরভেদ নিয়ে অনেকে অনেক মত দিয়েছেন, তাদের সকল মতবাদ সমূহ একসাথে করেলে বলা যায় যাদুবিদ্যা প্রধাণত তিন ধরণের.........

১। সৃজনধর্মী যাদু বা হোয়াইট ম্যাজিক: ফসলের ভাল উৎপাদন, বৃষ্টি আনা, গাছে ভাল ফল হওয়া, প্রেম বিয়ে হবার ইত্যাদির উদ্দেশ্য ব্যবহৃত যাদু। এটাকে বলা হয় হোয়াইট ম্যাজিক।

২।প্র‌তিরোধক যাদু: এই যাদুও হোয়াইট ম্যাজিকের মধ্যেই পরে। এটা বিদপ আপদ এড়ানো, রোগব্যাধির দূর করা আর কালো যাদুর প্রভাব এড়াবার কাছে ব্যবহার করা হয়!

৩।ধ্বংসাত্মক যাদু বা ব্ল্যাক ম্যাজিক : রোগব্যাধি সৃষ্ট, সম্পত্তি ধ্বংস, জীবন নাশের কাজ ব্যাবহার করা হয়, ডাইনি বিদ্যায় এর প্রয়োগ বেশি দেখা যায়! এটাই হলো ব্ল্যাক ম্যাজিক।


সেই প্রাগঐতিহাসিক কাল থেকে আজও পর্যন্ত এর প্রভাব দেখা যায় রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির উপর!
যাদুবিদ্যার প্রাচীন ইতিহাস যদি আমরা খুজে দেখতে চাই তাহলে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে সেই প্যালিওলিথিক যুগের গুহামানবদের গুহাচিত্রের দিকে।
অরিগেনেসিয়ার নামক গুহায় বেশ কিছু মুখোশ পরা মানুষ আর জন্তু জানোয়ারের ছবি দেখা যায়, যেখানে মানুষগুলোর হাতের আঙ্গুলের প্রথম গিট পর্যন্ত কাটা! যদিও নৃত্বাত্তিকেরা এদের কুষ্ঠরোগ আক্রান্ত মানুষ বলে বর্ননা করেছেন, তবে যাদুবিদ্যা বিশারদদের মতে মৃত্যুকে জয় করার জন্যই হাতের আঙ্গুল কেটে তা নিবেদন করার রীতি সে আমলে প্রচলিত ছিল। দেহের অংশ বিশেষ দিয়ে গুন (ব্লাক ম্যাজিক) করার রীতি বাংলাদেশেও দেখা যায়!

প্রাচীন ধর্ম গ্রন্থ গুলোতেোও নানা আঙ্গিকের যাদুবিদ্যা চর্চার প্রমাণ পাওয়া যায় সমসাময়িক ধর্মগুরু আর জনগনের !
পারস্যের জোরেয়াস্তার (আনু: ১০০০ খ্রি:পূ) মাজিয়ান ধর্মের প্রচলন করেছিলেন যার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ভাল ও মন্দের মধ্যের ভালোর জয় লাভ। কিন্তু পরে এ ধর্মমতের মধ্যে যাদুবিদ্যার উদ্ভব হয়!
মাজিয়ান ধর্মের ধর্মীর আচার অনুষ্টান গুলো পালনের নেতৃত্ব দিত যারা তাদের বলা হয় মাজি! এই মাজিরা মূলত: জ্যোতিষী, গনৎকার হিসাবে পরিচিত ছিল, এরা সূর্য, চন্দ্র, মাটি, পানি বাতাস প্রভৃতির উদ্দ্যেশে শিশু ও পশু বলি দিয়ে দেহ রক্ত শুদ্ধ করত!

ইহুদিদের বাইবেল(ওল্ড টেস্টেমেন্ট) যাদুবিশ্বাসের উল্লেখ আছে,
"মোশি যখন সদাপ্রভুর অস্বিত্ব নিয়ে জনগণের সন্দেহের কথা বলছিলেন তখন সদাপ্রভু তাকে বললেন "তোমার হস্তে ওখানি কি? মোশি কহিলেন ষষ্টি, তখন তিনি কহিলেন, উহা ভুমিতে ফেল। পরে তিনি তা ভুমিতে ফেললেন, ষষ্টি সর্প হইলো। তখন সদাপ্রভু বলিলেন উহার লেজ ধর...মোশি সাপের লেজ ধরা মাত্রই তা আবার লাঠি হয়ে গেল! "
আল-কুরআনের সুরা বাকারা (৩৫ রুকু, ২৬৯ আয়াত) একটি অংশের কথাও উল্লেখ করা যায় :
"আরও স্মরণ কর সেই সময়ের কথা, ইব্রাহীম যখন বলিয়াছিল: হে আমার প্রভু, মোর্দ্দাকে তুমি জেন্দা করিবে কিভাবে, তাহা আমাকে দেখাইয়া দাও। আল্লাহ ইরশাদ করিলেন:তবে তুমি ইহা বিশ্বাস কর নাই, ইব্রাহীন উত্তরে বলিল, হাঁ (বিশ্বাস করি) তবে আমার অন্ত:করণ স্বস্তিলাভ করুক এই জন্য (প্রার্থনা); আল্লাহ বলিলেন: তাহলে তুমি চারটা পাখি গ্রহণ কর এবং সেগুলোকে নিজের প্রতি অনুরক্ত করিয়ে লও, তাহার পরে সেগুলো আলাদা আলাদা চারটি পর্বতের উপর রাখিয়া তাহার পর ডাক দাও সেগুলোকে-দেখিবে তাহারা ছুটিয়া আসিতেছে তোমার কাছে----"
তবে প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, আল-কুরআনে স্পষ্টভাবে যাদুবিদ্যার নিন্দাবাদ করা হয়েছে।

মূলত: হযরত মুহাম্মদ স এর নবুয়ৎ প্রাপ্তির আগ পর্যন্ত সেমেটিক জাতি গুলোর মধ্যে ব্যাপক ভাবে যাদুবিদ্যা চর্চার প্রমাণ পাওয়া যায়!
মেসোপটেমিয় সভ্যতা গুলো থেকে যাদুবিদ্যার প্রচুর ট্যাবলেট পাওয়া গিয়েছে, যেখানে তিন শ্রেনীর পুরোহিতের কথা বলা হয়েছে----বারু,এরা ছিল যাদুকর ও গুনিক, এরা মৃত প্রানীর যকৃৎ, নাড়ি ভুড়ি দেখে ভবিষ্যৎ গণনা করতো। অসিপু নামের আরেক শ্রেনীর পুরোহিত ছিল ওঝা, এরা ভুত প্রেত তাড়াত!

তবে যাদুবিদ্যায় যারা সবচাইতে বেশি ভূমিকা রেখেছে তারা হলো প্রাচীন মিশরীয়রা। চতুর্থ রাজবংশ প্রতিস্ঠা হাবার আগে থেকেই মিশরে ব্যাপক হারে যাদুবিদ্যার চর্চা শুরু হয়!
ভুত প্রেতের আছর থেকে শুরু করে রোগব্যাধীর নিরাময় এমন কি সাপে কাটলেও তার প্রতিকারের জন্য আলাদা আলাদা যাদুবিদ্যার আশ্রয় নিত এরা, আর এইসব কাজ করার জন্য আলাদা আলাদা ওঝা ছিল!
এরা নিগ্রো আর এশিয়ার মৃত নারীর আত্মা সম্পর্কে খুব ভয় পেত, আর ভয় করতো নিজের আত্না হারানোর! তারা মনে করতো যাদুকরেরা ইচ্ছা করলে যাদুর সাহায্যের অন্যের আত্মাও চুরি করতে পারে!
তৃতীয় রামেসেসের সময়ে হুই নামের এক যাদুকর সম্রাট রামেসেস ও তার পরিবারের সকল সদস্যদের মূর্তি বানিয়ে এর মাধ্যেম রামেসেসের বংশ ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রও করেছিল একবার।
ইহুদির মিশরে বন্দী অবস্থায় অবস্থানের সময়েই মিশরীয় যাদুবিদ্যার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল! অবশ্য তাদের নিজেদেরও আলাদা বৈশিষ্ট্যময় যাদু বিশ্বাস ছিল।তাদের বিশ্বাস মতে স্বর্গভ্রষ্ট আদম পৃথিবীতে যাদুবিদ্যাসংক্রান্ত একটা বিশেষ বই এনেছিলেন, যার নাম দ্যা বুক অব রাজিয়েল! আবার কারো কারো মতো স্বর্গভ্রষ্ট ফেরেশতা উজ্জা ও আজাইল একজন নারীকে যাদুবিদ্যার গান শিখিয়েছিলেন।
ইহুদি যাদুকরেরা বাস্পস্নানের মাধ্যমে বলি আর উপহার দিয়ে অতিপ্রকৃত শক্তিকে বশ করার চেষ্টা করতো! এদের যাদু চর্চায় স্হূল যৌনাচার হত এছাড়া অল্পবয়স্ক বালকদের ব্যাবহার করতো অতিন্দ্রীয় শক্তির সাথে যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে। তারা মনে করতো যাদুবিদ্যার সবার পক্ষে আয়ত্বকর সম্ভব না, শুধু মাত্র বিশেষ দক্ষ ব্যাক্তিদের পক্ষেই এটা সম্ভব আর এই বিশেষ দক্ষ ব্যাক্তিদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো কিং সলোমন! তার ' কি অফ সলোমান' বইটা পরবর্তীকালে যাদুবিদ্যার সর্বশ্রেষ্ট বই হিসাবে স্বীকৃত হয়েছে।
ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ গুলোতেও যাদুবিদ্যা আর ধর্মের একটা জটিল সংমিশ্রন দেখা যায়! স্বপ্নব্যাখ্যাও প্রাচীন যাদুবিদ্যার অঙ্গরূপে স্বীকৃতি পেয়েছিল।
যেমন কৌশিক সূত্রে অনিষ্টকারী ভুত প্রেতাত্মাকে তারানোর জন্য সেই অশুভ শক্তির উদ্দ্যেশ্যে পাখি যে ডালে বাসা বাধে, সেই ডালের লাকড়ি দিয়ে রান্না করে খাবার উৎসর্গের কথা বলা আছে। কিছু বৈদিক ক্রিয়া অনুষ্ঠানে বলি দেয়া পশুর নাড়ি ভুড়ি ও অন্যান্য অংশ রাক্ষস আর সাপকে উৎসর্গ করা হতো!
এখনকার সমাজেও এমন অনেক বৈদিক যাদুবিদ্যাগত প্রক্রিয়া এখনও চালু আছে।
হরপ্পা মহেঞ্জোদারতে উৎখননে প্রাপ্ত রিং স্টোন গুলো যাদুবিদ্যায় ব্যাবহার করা হতো বলে জন মার্শাল ধারণা করেন। বলা হয় কেউ যদি এর পাশ দিয়ে যায় তাহলে তার পাপ খন্ডন হব! যেমন আফজাল খানকে হত্যার পরে পাপ খন্ডন করার জন্য শিবাজী এই পাথরের তলা দিয়ে পার হয়েছিলেন!!



হরপ্পান রিং স্টোন, ধারণা করা হয় এগুলো যাদুবিদ্যায় ব্যবহার করা হতো!
জাপানের প্রাচীন শিন্টো ধর্মের মধ্যে যাদুবিদ্যার প্রচুর উদাহরণ দেখা যায়। জাপানিরা বিশ্বাস করে চালের মধ্যে ব্লাক ম্যাজিক প্রতিহত করার বিশেষ শক্তি আছে, এছাড়া রাস্তার সংগমস্থলও তাদের কাছে বিশেষ ভাবে পবিত্র। এসব স্থানে তারা এখনও জননেন্দ্রীয়ের প্রতিক চিন্থ স্থাপন করে, বিশ্বাস করে এই প্রতিক অশুভ শক্তিকে দূরে সরিয়ে রাখবে!
জাপানিদের মতো চীনাদের ভুত প্রেত সম্পর্কে বেশ ভালই ভয় ভীতি ছিল। মজার ব্যাপার হলো, চীনের ঘরবাড়ি ও পুল নির্মানে একটা বিশেষ দেবতা চীনদের প্রভাবিত করেছে, এই দেবতার নাম হলো শা'।
শা হলো একটা অপদেবতা, আর চীনারা বিশ্বাস করে এই অপদেবতা সব সময়ে সোজা রেখা বরাবর চলে, তাই এটাকে প্রতিহত করার জন্য চীনা স্থাপত্যশিল্পে ছাদে এত বক্রতা আর কোণ!
পরবর্তি কালে তাওবাদ যেমন চীনা লোকসংস্কারকে প্রভাবিত করে, তেমন করেছিল কনফুসিয়াস। কনফুসিয়াসের 'আই চিং' প্রধানত ভবিষ্যৎ গননার জন্যই নির্দিষ্ট ছিল।

যাদুবিদ্যা চর্চায় প্রাচীন গ্রীক আর রোমানরাও কম ছিলেন না।যাদুবিদ্যার দেবী হেকেটি।
যাদু বিধান প্রয়োগের জন্য বিশেষ স্থানে নির্বাচিত করা হতো, যেমন গোরস্তান বা রাস্তার সংগমস্হল! গ্রীকরা যাদুবিদ্যার জন্য বিশেষ বর্নমালার সৃষ্টি পর্যন্ত করেছিল, এগুলো লেখা হতো পবিত্র কালি দিয়ে আর লেখার সময় বার বার পাঠ করা হতো, কারণ ধারণা করা হতো এভাবেই যাদুকর অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার অধিকারি হতে পারবে! ওয়ার উলফের ধারণটাও এদের মাধ্যমেই সৃষ্টি হয়েছিল! এছাড়া এরা ফেব্রুয়ারি শেষ বা মার্চের প্রথম সপ্তাহে তিন দিন ধরে প্রেতাত্মাদের উদ্দেশ্য একটা বিশেষ অনুষ্ঠান পালন করতো, এখনও করে।
রোমান জনসাধারণ 'বদ নজর' (evil Eye) কে বিশ্বাস করতো! তারা মনে করতো কুনজর লাগিয়ে মানুষ থেকে শুরু করে শস্য গবাদি সব কিছুরই ক্ষতি করা সম্ভব! এই ধারণটা আমাদের দেশেও এখনও দেখা যায়! ছোট ছোট শিশুদের কপালে বা পায়ের নিচে কাজলের টিপ লাগিয়ে কুনজর দূরে রাখার রিতী এখনও প্রচলিত আমাদের দেশে!
অন্যান্য জাতিদের মতোই রোমানারও ভবিষ্যত জানবার সকল উপায় উদ্ভাবন করার চেষ্টা করেছিল। রোমান যাদুকরেরা স্বপ্ন বিচার, কোষ্ঠি বিচার থেকে শুরু করে নারী বশিকরন করার জন্য নানারকম প্রসাধনীও ওঝারা বিক্রী করত!
এখানে একটা কথা না বললেই নয়, বর্তমানের রূপচর্চার বহুল ব্যাবহৃত প্রসাধন দ্রব্য শুরুতে শুধু যাদুবিদ্যার কাজেই লাগানো হত!

এভাবে প্রাচীন কাল থেকে বিভিন্ন সভ্যতায় মানুষের জীবন ও কল্পনায় যাদুবিদ্যা প্রভাব বিস্তার করতে থাকলেও মধ্যযুগে এসে এটা দানবীয় রূপ ধারণ করে। আর যাদুবিদ্যার পরিবর্তীত রূপে শয়তানবাদের চর্চা বেশির ভাগ দেশেই পূর্নতা পায়! এই সময়ে যাদুবিদ্যার যে নিরংকুশ চর্চা হয়, তা ছিল নিষ্ঠুরতা, হিংস্রতা, লালসায় ভরপুর!
এই সময়ে প্রতিটা যাদুকরকে শয়তানের কাছে বিশেষ প্রক্তিয়ায় চুক্তি বদ্ধ হতো। সকলেই দাবী কর‌তো যে সে কোন দেব-দেবীর নৈবর্ক্তিক শক্তিকে আয়ত্ব করে রেখেছে।
সাপ, ব্যাঙ, বিড়াল ও পেঁচা মধ্যযুগীয় যাদুবিদ্যায় অবশ্যকীয় পশু-পাখি হিসাবে গণ্য করা হত। লোকের ধরণা ছিল আংটি, শিশি, বোতল ও বাক্সে ভুত প্রেত, দৈত্য দানোকে বন্দী করে রাখা সম্ভব! এখন এসব শুনতে হাস্যকর লাগলো, সে সময়ে এটাই ছিল বাস্তব!


শয়তানের প্রতিক হলো শিং। ব্লাক ম্যাজিক চর্চায় শিং অপরিহার্য!
এই সময়ের একজন বিখ্যাত যাদুকর ছিলেন যোহান রোসা। তার একটা মন্ত্রপুত অংটি ছিল, যেটায় একটা প্রেত্মাত্মাকে তিনি আটকে রেখএছিলেন আর এটাকে দিয়ে সব কাজ করাতেন! তার মৃত্যুর পরে প্রকাশ্য জন সভায় আংটিটা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ভেংগে ফেলা হয়ছিল্!
গর্ভবতী নারীদের প্রসব বন্ধ করা থেকে শুরু করে যৌনাকাঙ্খা চিরতার্থ করার মত বিভৎস সব যাদু বিধানের চর্চা হতো তখন। এসময়ে বিশ্বাস করা হতো বশিকরণের মাধ্যমে মানুষকে দাস বানিয়ে রাখা যায়। যে কোন বিপদজনক কাজে যাবার আগে 'প্রয়োজনীয় মন্ত্রপুত জামা" পরে যাবার রিতী ছিল, কুমারী মেয়ের বড়দিনের এক সপ্তাহ ধরে এই ধরনের জামা ঘরে বুনত। 'বান' ছোড়ার কথা বাংলাদেশে অপরিচিত নয়, মধ্যযুগের এই (Magical Arrow) ধারণাটার ব্যাপক প্রচার ছিল। বিশ্বাস করা হতো এভাবে মানুষের ক্ষতি করা সম্ভব!

মধ্যযুগে রেনেসাঁর আলো যতই ছড়াক না কেন, জ্যোতিষীদের হাত থেকে কেউই রক্ষা পায়নি! অর্থনৈতিক, সামাজিক আর রাজনৈতিক অস্তিরতা প্রভৃতি কারণে জনমানসে তখনও ভবিষ্যত জানার প্রবল স্পৃহাই এর কারণ ছিল। পরবর্তি কালে হাজার হাজার ঐন্দ্রজালিক, ডাইনি হত্যা করা হয়েছিল।


ক্রমশ:.............


তথ্য সূত্র: লৌকিক সংস্কার ও মানব সমাজ; আবদুল হাফিজ এবং নেট



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29480340 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29480340 2011-11-09 20:55:36
~স্বপ্ন জগতের সেই সব স্বপ্নসঙ্গীরা~ বিটিভিতে তখন সম্ভবত সপ্তাহে দুই বা তিনদিন কার্টুন দেখানো হতো, বুধ আর শুক্রবারের কথা মনে আছে আমরা। শুক্রবার দুপুরের তিনটায় টিভি চ্যানেল খুলতো, তখন দেখানো হতো থান্ডার ক্যাটস আর বুধবারে উডিউড পেকার। এরও কিছু বছর পরে ছিয়াশির দিকে সম্ভবত টম এন্ড জেরী শুরু হলো! তারপর আরও চমৎকার কিছু কার্টুন দেখানো হতো, প্লাস্টিকম্যান, ভলকান,নিনজা টারটেলস!

এখন এত এত চ্যানেলে এত এত সব কার্টুন হয়, কিন্তু সে সব গুলো কার্টুনের সেই গোল্ডেন এইজে (১৯৪৭.....) বাননো কার্টুন গুলোর মতো আর ক্রিয়েটিভ মনে হয় না। হয়তো বা পরিপ্রেক্ষিত আর সময়ের পরিবর্তনের জন্যই....

এবার আমার পছন্দের কিছু কার্টুনের কথা বলি <img src=" style="border:0;" />


কার্টুন জগতের সব চাইতে দুষ্ট আর পাজি কিন্তু হিরো ক্যারেক্টার আমার মতে বাগসবানি। সারাদিন গাজর চিবাইতে থাকা বুদ্ধিমান এই খরগোশটা আমারও প্রিয় আবার মেয়েরও প্রিয়।


১৯৪৪ সালে বাগসবানির যাত্রা শুরু হয়েছিল লুনি টুনস আর মেরি মেলোডিস এর একটা শর্ট ফ্লিমের মাধ্যমে, কিন্তু তার চেহারাটা এমন ছিল না। এই সময়ে তার নাম ছিল হ্যাপি রেবিট আর দেখতে ছিল অনেকটা বড়সর ইদুরের মতো।


বাগসবানি পর্দায় প্রথম আবির্ভুত হয় " Porky's Hare Hunt," নামের একটা স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমায়। এই পর্বটি বানানোর সময়ে কার্টুনটির এনিমেটর বেন হার্ডাওয়ে (উনাকে মাঝে মাঝে বেন বাগস' হার্ডাওয়ে ডাকা হয়) যে মডেল সিটে তিনি কার্টুনটা একেছিলেন তার মধ্যে লিখেছিলনে বাগস' বানি, সেই থেকে কার্টুন সিরিজটাই এই নামে প্রচারিত হতে থাকে, যা আজ জগৎ বিখ্যাত।


বাগসবানি প্রথম যে চেহারায় পর্দায় আবির্ভুত হয়েছিল সেই " Porky's Hare Hunt," দেখুন বাগস আর এলমারের চেহারাটা কত ভিন্ন রকমের ছিল!

বেশির ভাগ পর্বেই দেখা যায় বাগসের সাথে একটা খাটো মোটকা, টাকলু মাথার লোকের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মারামারি লেগেই থাকে। সেই টাকলুকে প্রায়ই বন্দুক হাতে বাগসকে ধরার জন্য ছোটাছুটি করতে দেখা যায়, এর নাম হলো এলমার ফাড!

" Elmer's Candid Camera" তে হ্যাপির ওরফে বাগসের সাথে প্রথম এলমারে সাথে দেখা হয়।


Knighty Knight Bugs (১৯৫৮) বাগস বানির এই পর্বটা একাডেমি এওয়ার্ড পেয়ছিল

সহজ সরল বুদ্ধিদীপ্ত চটপটে উপস্থিতির কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে বাগস খুবই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সেই সময়ে পরিচালক ওয়ার্নার অ্যাডল্ফ হিটলার, মুসেলিনএবং জাপানিদের বিরুদ্ধে বাগস বানির চরিত্র গুলোকে সুকৌশলে ব্যবহার করেছিলেন। এমনকি জাপানিদের বিরুদ্ধে জাতিগত দ্বন্দ ছড়ানোর অভিযোগে তখন কিছুদিন বাগসবানীর ডিস্ট্রিবিউশন বন্ধ রাখা হয়েছিল।
পরবর্তিতে একটা পর্বে বাগসবানীর কস্টিউম হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কপসদের নীল ইউনিফর্ম ব্যবহার করায় বাগসকে রাস্ট্রীয় ভাবে মেরিন অনারারি মেরিন মাস্টার উপাধি দেয়া হয়েছিল! <img src=" style="border:0;" />
এছাড়া ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত আরিজোনার কিংম্যান সেনাবাহিনী বোমারু বিমান প্রশিক্ষন কেন্দ্রে সরকারি ম্যাসকট ছিল বাগসবানি, এত থেকে তার জনপ্রিয়তা কতটা আকাশচুম্বি ছিল তা বোঝা যায় তাই না?

পাজি আর দুষ্টের শিরোমনিদের মধ্যের আরেকটা নাম না বললেই নয়, ইনি হলেন উডিউডপেকার নামের কাঠঠোকরা পাখিটা। ওর হে হে হে হেহে....হে হে হেহে হাসিটা কানে এখনও বাজে, এই হাসিটা অনেক দিন আমার মোবাইলের রিং টোন ছিল!


উডিউডের জন্ম হয় ১৯৪০ তে, সেই বাগসবানির একই আর্টিস্ট বেন বাগস হার্ডাওয়ের হাত থেকে। প্রথম পর্দার আসে 'Knock Knock (১৯৪০) নামের শর্ট ফ্লিমের মাধ্যমে আর ১৯৫৭ সালে প্রচারিত হওয়া "The Woody Woodpecker Show" হলো টিভিতে প্রচারিত প্রথম শো!



উডিউড পেকারে প্রথম শো নক নক -১৯৪০

উডিউডের সৃষ্টি নিয়ে মজার কিছু রিউমার প্রচলিত আছে বাজারে, যেমন পরিচালক ওয়াল্টার লেন্টজের প্রেস সচিব একবার জানালেন যে, ওয়াল্টার তার নবপরিনিতা স্ত্রীকে নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার শেরউড লেকে হানিমুন করার সময়ে তাদের কেবিনের ছাদ আর বাইরে একটা কাঠোকরার ঠোকাঠুকির শব্দে তাদের রাতের ঘুম হারাম হয়েছিল। সেই সময়েই তিনি এটাকে নিয়ে কার্টুন বানানোর চিন্তা করেন। যদিও এটার সত্যতা নিয়ে অনেকের মধ্যেই সন্দের আছে, কারণ প্রথম পর্ব রিলিজ হবার বেশ কিছু দিন পরে বিয়ে করেন।


বেন বাজার্ডকে হাতুরির পেটা করার প্লানে আছে উডি

যাই হোক উডির একজন জন্মশত্রু আছে, সে হলো বেন বাজার্ড নামের কালো রং এর লম্বা একটা শকুন। এর মাথা ভর্তি বদমাইশি বুদ্ধি, তবে যতই বুদ্ধি থাকুক না কেন সবসময়েই উডির কাছে ভয়াবহ রকমের নাস্তানাবুদ হয় বেচারা।



এটা উডিউড পেকারের শেষ পর্ব "I Know What You Did Last Night (2002)"


আশির দশকে যারা ছোট ছিলেন তাদের সবার নিশ্চয়ই থান্ডার ক্যাটসের কথা মনে আছে। দেখুন তো মনে পরে কিনা.....<img src=" style="border:0;" />



থান্ডারক্যাটস শুক্রবারে দুপুর তিনটায় দেখাতো, সারা সপ্তাহ এটার জন্য অধির আগ্রহে বসে থাকতাম। তখন তো বিটিভিই ভরসা ছিল, আর তেমন কোন কার্টুনও দেখাতো না! খুবই জনপ্রিয় ছিল এই কার্টুনটা, এমন কি তখন পাড়ার দোকানে থান্ডার ক্যাটসের তলোয়ারের মতো প্লাস্টিকের তলোয়ারও পাওয়া যেতো! এমন একটা তলোয়ার আমারও ছিল, খুব ভাব নিতাম সেটা নিয়ে <img src=" style="border:0;" />

থান্ডার ক্যাটস প্রচারিত হওয়া শুরু হয় ১৯৮৪ সাল থেকে, টবিন টেড উলফের রচনা করা চরিত্র গুলোকে নিয়ে।

থান্ডের ক্যাটসরা থান্ডেরা গ্রহের অধিবাসী। তাদের বসতি একবার শত্রু মিউট্যান্ট অব প্লান্ডেরাদের দ্বারা চরম ভাবে আক্রান্ত হলে তাদের মধ্যে সব চাইতে বয়োজেষ্ট্য জাগা বালক রাজপুত্র লায়নো আর অন্যান্য দের নিয়ে একটা স্পেশ শিপে করে নতুন আবাসের উদ্দেশ্য বের হয়ে যায়। কিন্তু পথে মিউট্যান্টদের আক্রমন অব্যাহত থাকে, তবে থান্ডার ক্যাটসদের কাছে আই অব থান্ডেরার শক্তি সম্পন্ন তলোয়ার থাকায় এরা বিশেষ সুবিধা করেতে পারেনি।
কার্টুনে লায়নো যখন "থান্ডার থান্ডার থান্ডার ক্যাটস" বলে তলোয়ারটা উচু করে ধরতো তখন এটাতে বিড়ালের সাইড ভিউ সহ একটা আলোর রশ্মি বের হতো, এটাই আই অব থান্ডেরা!


যাই হোক সেই স্পেসশিপের চালক জাগা দেখলো যে মিউটানদের আক্রমনের কারণে তাদের লক্ষ্যের যাওয়া যাচ্ছেনা, তখন সে থার্ড ওয়ার্ল্ডে তাদের স্পেশশিপ চালিয়ে নিয়ে আসে। এইসময়ে অন্য ক্যাপসুলে ঘুমিয়ে ছিল ত্যাদের মধ্যে ছিল তাদের বালক রাজপুত্র লায়নো, চিতারা, প্যান্থর, টাইগ্রা, উইলিকিট, উইলিক্যাট, স্নার্ফ।
দীর্ঘ নিদ্রা শেষে এরা নিজেদের থার্ড ওয়ার্ল্ডে আবিস্কার করে, পরে এখানে লায়নোর নেতৃত্বে তারা তাদের নতুন বাড়ি আর হেড কোয়াটার ক্যার লেয়ার বানয়। আর ঐদিকে কিন্তু মিউটেন্টরা তাদের অবস্থা খুজে বের করে ফেলে, তখন তারা মামরা কে পাঠায় এদের ধ্বংস করার জন্য।

জ্যাকেল ম্যান, ভলচারম্যান, মনকিয়ান, রাটা-রো নামের চার সহযোগীর সাথে নিয়ে প্রতিনিয়ত থান্ডারক্যাটদের ধ্বংসের চেষ্টা করে আর হেরে যায়!

নব্বইয়ের দশকে আরেকটি খুব জনপ্রিয় কার্টুন সিরিজ ছিল ক্যাপ্টেন প্লানেট এন্ড দ্যা প্লনেটিয়ার্স, এটা সম্ববত বুধবারে বিকাল পাঁচটার দিকে দেখানো হতো।
টেড টার্নারের এই কার্টুনির প্রথম প্রচার শুরু হয় ১৯৯০ সালে!
এটা মূলত: একটা পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষনে নিয়ে একটা চমৎকার শিক্ষামূলক কার্টুন।
গল্প অনুযায়ী, পৃথিবীর মানুষের ক্রমাগত পরিবেশ দূষনের কারণের অতিষ্ট হয়ে পৃথিবীর আত্মা জেগে ওঠে, সে হলো নারীরূপি গাইয়া! পৃথিবীকে বাচানোর জন্য সে প্রকৃতির ক্ষমতা সম্পন্ন পাঁচটা আংটি সৃষ্টি করে, এগুলো বিশ্বের পাঁচ দেশের পাঁচ জনে তরুণের হাতে তুলে দেয়!
আফ্রিকরা কাওমির কাছে মাটি, উ: আমেরিকার হুইলার পায় আগুন, রাশিয়ার লিংকা বাতাস, চীনের জিং পানি আর ব্রাজিলের মা-থির কাছে মানবিক শক্তি! আর পৃথিবী যখন মানুষের তৈরি কোন পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পরে, তখন তাদের এই সম্মিলিত শক্তির সমন্বয়ে সৃষ্টি হয় ক্যাপ্টেন প্লানেটের, যে "দ্যা পাওয়ার ইজ ইওরস" বলে মানুষের পাশে এসে দাড়ায়!



সবুজ চুলের এই সুপার হিরোর ড্রেস আপও অন্যান্য সুপার হিরোদের মতোই ছিল, মানে আন্ডার গার্মেন্টস পরা।
একটা ব্যাপার আমার কখনোই বোধগম্য হয় না, সব সুপার হিরোরাই কেন শুধু আন্ডার গারমেন্টস পরা থাকে!!


সে যাক, এই কার্টুনেও প্লানেটিয়ার্সদের বিপক্ষে একটা ছোটখাট গুন্ডা দল আছে, যাদের নাম ছিল ইকো-ভিলেন। এই গুন্ডা দলের সর্দার হোৎকা, মোটকা হগিস গ্রীডলি! এদের কাজই হলো নানা ভাবে পরিবেশ দূষণ করা আর শেষ পর্যন্ত ক্যাপ্টেন প্লানেটের কাছে নাস্তানাবুদ হওয়া!!


সেই কোন ছোট বেলায় দেখা, তবে ক্যাপ্টেন প্লানেটের এই থিম সংটার সুর এখনও মনে আছে আমার!!

শেষ পর্যন্ত যাদের কথা না বললে কার্টুন জগতটা অসম্পূর্ণ থেকে যায় এরা হল টম আর জেরী। ছেলে বুড়ো সবার কাছে জনপ্রিয় এই কার্টুন সিরিজটিকে ২০০০ সালে টাইমস পত্রিকা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট টেলিভিশন শো হিসাবে ঘোষনা করেছিল।

উইলিয়াম হান্না আর জোসেফ বারাবারার হাত ধরে ১৯৪০ সালে টম আর জেরীর আবির্ভাব হয়েছিল কার্টুনের জগতে। প্রথম পর্ব হলো "Puss Gets theBoot”।



টম এন্ড জেরীর প্রথম শো Puss Gets the Boot"। ওদের চেহারা পার্থক্যটা চোখে পরছে তো?

টম এন্ড জেরীর সিরিজ গুলো সাত সাতবার Animated Short Film ক্যাটগরিতে একাডেমি এওয়ার্ড পেয়েছিল। একাডেমি এওয়ার্ড পাওয়া পর্ব গুলো হলো...............।

* ১৯৪৩: The Yankee Doodle Mouse
* ১৯৪৪: Mouse Trouble
* ১৯৪৫: Quiet Please!
* ১৯৪৬: The Cat Concerto
* ১৯৪৮: The Little Orphan
* ১৯৫১ The Two Mouseketeers
* ১৯৫২: Johann Mouse


টমের ভাল নাম হলো টমাস, সে একটু বোকা কিসিমের বেড়াল, আর জেরী খুবই স্মার্ট। সে জেরী কে ধরার জন্য নানা ফন্দি ফিকির করে তবে এখন পর্যন্ত সে সেই কাজে সফল হতে পারেনি। এই ইঁদুর বিড়ালের মারামরি মাঝে মাঝে অবশ্য ভায়োলেন্সের দিকে গড়ায় তবে যেমন টম মাঝে মাঝে চ্যাপ্টা হয়ে যায়,ট্রেন চাপা , কুড়াল , পিস্তল দিয়ে দুজন দুজনাকে একেবারে মেরে ফেলার চেষ্টা করে মাঝে মাঝে! তবে কখনো রক্তপাত দেখানো হয়নি!
আরেকটা ব্যাপার হলো পুরো কার্টুনে মিউজিকের ব্যাবহার। ডায়লগ প্রায় নেই বললেই চলে, মিউজেকই পুরো আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।


টোডলার আর টম :)

টম আবার বেশ প্রমিক ধাচেঁর, অনেক পর্বেই তাকে সুন্দরী বিড়ালদের প্রেম নিবেদন করতে দেখা যায়। তাবে সে বেশি অনুরক্ত সাদা বিল্লী টোডলার গ্লোরির প্রতি। এছাড়া ধুসর রং এর টুটসের প্রতিও সে বেশ কয়েকবার প্রেম নিবেদন করেছিল <img src=" style="border:0;" />


টমের গুন্ডা দলের বস বুচ
টম আর জেরীতে মাঝে মাঝে আরও কিছু আনুষঙ্গিক চরিত্র দেখা যায় যাদের কথা না বললেই নয়, এরা হলো টমের চিরকালের শত্রু বুলডগ স্পাইক আর তার ছেলে টাইক, কালো সাদা মেশানো ডাস্টবিনে বাস করা বেড়াল বুচ!

একাডেমি এওয়ার্ড পাওয়া ":The Little Orphan"

ভাবতে অবাক লাগে সেই প্রায় ৭১ বছর আগেরকার সব কার্টুন চরিত্র গুলো এখনও কেমন ভাবে মানুষকে মাতিয়ে রেখেছে, কখনোই পুরানো মনে হয় না। আর একমন জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র আর তৈরিও হয়নি। একেই মনে হয় বলে "কালত্তির্ণ"!




তথ্য সুত্র: বিস্তর নেট ঘাটাঘাটি, আবার কি!



পোস্টটা উৎসর্গ: মনের ভেতর আজন্ম শৈশবের স্বপ্নকে লালন করা লায়নোকে
আজীবন লায়নোই থাকুন, এই কামনা করি <img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29475873 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29475873 2011-10-31 20:25:04
............ আমার প্রিয় ভৌতিক গল্প সংকলন..........

চিরকাল এইসব রহস্য আছে নীরব
রুদ্ধ ওষ্ঠাধর
জন্মান্তের নব প্রাতে, সে হয়তো আপনাতে
পেয়েছে উত্তর।

গল্প উপন্যাসের টপিকস হিসাবে বাংলা ভাষার লেখকরা ভূতের গল্পকে তেমন পাত্তা দেয় না সম্ভবত, যে কারণে ভাল ভৌতিক গল্পের তেমন কোন নিদর্শন নেই বাংলা সাহিত্যে। ব্লগও তার ব্যাতিক্রম নয়, এখানে মূলত: লেখকরা প্রেমের গল্প লিখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, কয়েক জন ব্যতিক্রমী লেখক ছাড়া। ভৌতিক গল্প গুলোকে বেশির ভাগ পাঠকই শিশুতোষ বিষয় মনে করেন, মূল সাহিত্য হিসাবে বোধহয় বিবেচনা করে না। যদিও বিশ্বাস যোগ্য ভৌতিক গল্প লিখে পাঠক কে ভয় পাওয়ানোর কাজটা খুবই জটিল বলে মনে হয় আমার কাছে।
যাই হোক এবার শেয়ার করছি সামহোয়ার ইন ব্লগে আমার দেখা কয়েকজন ভৌতিক গল্পের লেখক আর তাদের কিছু চমৎকার গল্প।

প্রথমেই বলবো নিথর শ্রাবন শিহাবের কথা। নামটা বোধ হয় অনেকের কাছে অচেনা লাগতে পারে, ব্লগার হিসাবে সে নতুন। এই লেখকের প্রথম লেখাটি আমি পড়ি ফেইস বুকে "ভুতের গল্প" নামের একটা পেইজে। পরে এক সময়ে দেখি তিনি এখানেও লিখছেন, তবে কেন যেন তার এই চমৎকার গল্প গুলোতে পাঠকের সংখ্যা দু:খজনক ভাবে কম।
তাঁর লেখার বিষয় বস্তু মুলত আধিভৌতিক চমৎকার লেখার ভাংগি আর পটভুমি।
টানটনা উত্তেজনা থাকে আগাগোড়াই, কখনোই মনে হয় না গল্পটা ঝুলে গেলো। তার কয়েকটি গল্প..........

১।উত্তর বঙ্গের এক প্রত্যন্ত গ্রামের ভাগী চাষী তাজল শেখের উপরে রহস্যময় দেব মূর্তির প্রভাব আর সেই সংক্রান্ত গা শিরশিরে সব ঘটনা নিয়ে রচিত আধিয়ার
২। দ্বৈত জগত আর প্যারানরমাল প্রকৃতি নিয়ে লেখা চমৎকার একটা গল্প অমীমাংসিত

৩।চতুরঙ্গে অনেক আশা নিয়ে ড: এমারনের সাথে কাজ করতে যান ড: নোভেরা। কিন্ত সেখানে সে মুখোমুখি হয় স্বপ্ন আর মৃত্যু আর প্যারানরমাল জগতের অদ্ভুত সব ঘটনার!


ভূতের আড্ডা ভাইয়ার কথা নিশ্চয়ই অনেকেরই মনে আছে, নাম শুনেই নিশ্চয় অনুমান করতে পারছেন তার গল্পের বিষয় বস্তু কি হতে পারে! হ্যাঁ উনি জমজমাট সব একশত ভাগ খাঁটি ভূতের গল্প লিখতেন। যদিও তিনি এখন আর এই ধরনের গল্প একদমই লেখেন না, আর একটা গল্প অসমাপ্ত অবস্থায় রেখে দিয়েছেন (খুব খারাপ কাজ)।
ভূতের আড্ডার লেখা কয়েকটি গল্প........
১। ভয়

২। চক্র

৩।কোব্বালা

৪।কালো মানুষ

ইউনুস খান ভাইয়ার গল্প গুলোও ব্যাতিক্রমী, তার ভৌতিক গল্প গুলোর সবই গ্রাম বাংলায় যে সব ভুতের গল্প প্রচলিত ছিল সেই ধরনের। গভীর রাতে হারিকেন বা মশাল নিয়ে মাছ ধরা কিংবা যাত্রাপালা দেখতে যাওয়া গ্রামের মানুষদের জন্য আনন্দময় একটা বিষয়, আর ইউনুস খানের ভূতের গল্প গুলোতে ভূতের আগমন হয় সেই সময় গুলোতেই। চিরায়ত গ্রামের "আউলা" যারা মানুষের গলার স্বর নকল করে গভীর রাতে মাছ ধরতে নিয়ে যায় মানুষকে আর তারপরে পানিতে ডুবিয়ে মারে সেই আউলা বা নিশির ডাক তার বেশির ভাগ গল্পেরই মূল উপজীব্য। আত্মজীবনি স্টাইলে লেখা তার ভুতের গল্প গুলোর আবার একজন মূল চরিত্র আছে, তার নাম ভূত খেকো মজিদ!
এই লিংকে ওনার সব গুলো ভৌতিক গল্পের সংকলন পাওয়া যাবে।
সবাইকে রইলো ভূত মেলায় নেমন্ত্রণ। যাদের হার্ট দুর্বল তাদেরকে ভূত মেলায় না আসার জন্য অনুরোধ রইলো

নষ্টকবি নাম হলেও তিনি চমৎকার সব প্যারানরমাল, রহস্য রোমাঞ্চ গল্প লেখেন, ইদানিং অনেকেই নিশ্চয় তার এসব ছোট্ট কিন্তু গা ছমেছমে গল্প গুলো পড়েছেন। তার গল্পের যেটা আমার কাছে বেশি ভাল লাগে সেটা হলো স্বল্প পরিসরে পুরো বিষয়টা ফুটিয়ে তোলা।
যে সব লেখা ভাল লেগেছে.......

১।পুঁথি
২।ভুত
3.শেষ রাতের ট্রেন
৪।পরিবর্তন
৫।সিংহাসন
৬।লাশের অভিনেতা
৭। লাশ
৮।আজরাইল
৯।প্রতিশোধ
১০।পৌনপুনিক
১১।
ফোঁড়া

নষ্টকবি ভাইয়ের প্রতি অনুরোধ আপনার এই সব গল্প গুলো একসাথে করে যে কোন বই মেলায় বই প্রকাশ করে ফেলুন।

টিনটিনের ভৌতিক গল্প গুলো দেশি আর বিদেশী দুই পটভূমিকায়া লেখা। তার ভৌতিক গল্প গুলোতে আফ্রিকান ভুডু ম্যাজিক থেকে শুরু করে ওয়ার উলফ, ড্রাকুলা সব কিছুই আছে এবং এই গল্প গুলোর অনেক গুলোই রহস্য পত্রিকাতে প্রকাশিতও হয়েছে।
দেখে নেই টিনটিনের কিছু গল্প.........

১।হ্যালোইনের রাত (একখন্ডে সমাপ্ত সম্পূর্ণ পিশাচ কাহিনী)
২।আস্তিক - একখন্ডে সমাপ্ত সম্পূর্ণ পিশাচ কাহিনী
৩।মধ্যরাতে কঙ্কালের সাথে। (একখন্ডে সমাপ্ত সম্পূর্ণ রম্য-হরর গল্প)
৪।কালো যাদু - একখন্ডে সমাপ্ত সম্পূর্ণ পিশাচ কাহিনী

মিলটন ভাইয়া, উনি সাধারণত প্রবন্ধ টাইপের পোস্ট লেখেন। তবে তার নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু রহস্যময় ঘটনা নিয়ে তিনি ধারাবাহিক ভাবে লিখছেন! গা শিউরে ওঠা সেই সব ঘটনা গুলো পড়তে চাইলে দেখুন......

আমার অমীমাংসিত রহস্যগুলো -৪

আমার অমীমাংসিত রহস্যগুলো -১

ব্লগ পড়তে পড়তে এক সময়ে আমার প্রায় বিশ্বাস জন্মে গিয়েছিল যে আপু ব্লগারদের গল্পের একমাত্র উপাদান হলো প্রেম, সাহিত্যের অন্যান বিষয়ে তাদের আগ্রহ মনে হয় একটু কম। সম্প্রতি কয়েকজন আপু সেই ধারণাটা ভেঙ্গে দিয়ে আমাকে হাপ ছেড়ে বাচিঁয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম ত্রিনিত্রি
তার চমৎকার সব ভৌতিক গল্প গুলো ইতিমধ্যে নিশ্চয় সবাই পড়ে ফেলেছেন, না চোখে পড়লে নিচে দেখে নিন <img src=" style="border:0;" />
১।রুম নাম্বার ২১৩
২।রাজকান্দির আতংক
৩। অভিশপ্ত আয়না

রোদেশী নামের নতুন এক ব্লগারের ভৌতিক গল্প গুলোও বেশ সুলিখিত...
১।
প্রতিশোধ (ভৌতিক গল্প)
২। ভয় (অনুলিখিত হরর কাহিনি)
৩। যুক্তিহীন সত্য ঘটনা-২ (ভৌতিক গল্প)
৪।কটকার খাল


ইমন জুবায়ের। তার গল্পের কথা নতুন করে কিছুই বলার নেই সবারই জানা। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক বিষয় বস্তু সবই তার গল্পের টপিকস ইদানিং তিনি ভৌতিক গল্পও লিখেছেন বেশ কয়েকটি। যথারিতী এটাতেও তিনি সফল। তবে তার ভৌতিক গল্প গুলো পড়লে কেন যেন ভয়ের বদলে মায়া লাগে। গল্পের ভৌতিক চরিত্র গুলোর জন্য মায়া, কারণ গল্প গুলো অনেক বেশি মানবিক, অনেকটা মনোজ বসুর ভৌতিক গল্প গুলোর মতো।
ইমন ভাইয়ের যে ভৌতিক গল্প গুলো ভাল লেগেছে..
১। অশরীরী
২।সে
৩। প্রতিশোধ
৪।তাহলে কে এসেছিল
৫।মোহনার দ্বিতীয় জীবন
৬।গল্প: ওরা
৭।গল্প: গর্জনিয়ার উড়ন্ত লামা ও অলৌকিক নীলশঙ্খ

আরও একজন বেশ প্রতিভাবান ব্লগার ছিলেন যিনি শুধু মাত্র একটা ভৌতিক লিখেছিলেন, কেন যে আর পরে লিখলেন না। আমার মনে হয় এই বিষয়ে ধারাবাহিকতা রাখলে তার কাছ থেকে আমরা ভাল কিছু ভৌতিক গল্প পেতাম, ইনি হলেন লিপিকার
ভুডু ম্যাজিক আর কালো যাদু নিয়ে লেখা তার উপন্যাসটি হলো তিন খন্ডের আঁধার বিলাস

প্লানচ্যাট, আত্ম, ভূতে ইত্যাদি নিয়ে বিশ্লেষণ মূলক লেখা পড়তে চাইলে দেখুন সুমন ঘোষের দশ খন্ডের লেখা বিশ্বাস অবিশ্বাসে ভুত ও ভৌতিক

কবি শহিদুলের ভৌতিক গল্প ; ভয় ( বৈশাখী স্পেশাল ) গল্পটাও ভাল লেগেছিল। তবে তিনি এই একটাই গল্প লিখেছেন!
নীল বেদনার ভূতের গল্প গুলো আমি প্রথম পড়ি ফেইস বুকের সেই ভূতের গল্পের পেইজটাতে, পরে দেখি উনি অনেক আগেই এই গল্প গুলো সামুতে পোস্ট করেছিলনে, কেন যেন তখন চোখে পরেন। লেখার স্টাইল সাবলিল, আমার বেশি ভাল লেগেছে, 'ভাড়া বাড়ি'।
১।লাল চোখ (ভৌতিক গল্প)
২।ভাড়া বাড়ী (ভৌতিক গল্প)

সামহোয়ার ইনে ভৌতিক গল্প লেখকদের কথা বলতে গেলে একজনের নাম উল্লেখ করতেই হয় তিনি হলেন নাফে মোহাম্মদ এনাম , ভুতের গল্প লেখার কারণে যার নাম হয়ে গিয়েছিল হরর নাফে। এখনও মাঝে মাঝে অনেকেই মন্তব্য "ভয়ে আমার হাত পা....." শুধু এই টুকু লিখে অনেকই মন্তব্য করেন মজা করে, সামুতে এই শব্দের জন্মও নাফে ভাইকে কেন্দ্র করেই হয়েছিল। ভূতের গল্প লিখে তার মতো এত অলোচিত সমালোচিত আর কেউই বোধহয় হয়নি, তার প্রমাণ নাফিস ইফতেখারের এই পোস্ট ব্লগের সাম্প্রতিক হড়ড়ড়ড়ড় গল্প ও পোস্টগুলোর সংকলন গাছভুদাই™ সমগ্র <img src=" style="border:0;" />
যাই হোক ব্লগে গল্প লেখার পাশাপশি তিনি হরর পত্রিকা আর একটা শর্ট ফ্লিমও বানিয়েছিলেন। এখন কি অবস্থা জানি না, অনেকদিন তাকে ব্লগে আর দেখি না।

অনেক তো ভূতের গল্পের লিংক দিলাম, তবে তেনাদের মানে এই সব ভুত পেত্নীদের ঠিকুজি কুলঝি, কে কেমন এই সব জানাও তো দরকার। ভূতের শ্রেণী বিভাগ, আচার আচরণ, কোথায় থাকে, কি খায় এসব সকল তথ্য জানার জন্য দেখুন ম্যাভেরিক ভাইয়ার বাংলার ভূত-পেত্নী

আজ এ পর্যন্তই।
সবাই ভাল থাকুন, সকলের জন্য ভৌতিক শুভেচ্ছা <img src=" style="border:0;" /><img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29465956 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29465956 2011-10-14 16:43:51
~~সোহামনির কাব্য~~ ছুটছি যখন একা
হঠাৎ করেই যেন পেলাম
রাজকণ্যার দেখা
রাজকণ্যা, রাজকণ্যা
কিসে তোমার সুখ
বছর দু'এক যেতেই পেলাম
সোহা বাবুর মুখ।



সোহামনি দুষ্ট অতি
ছোট্র বেলা থেকেই
দাঁত গজাবার আগেই
এসে কামড় দিত নাকে


বুকের উপর বসেই কেবল
হতো না সে শান্ত
ইচ্ছে মতোন চুল ছিড়ে সে
তবেই হতো খান্ত।


একটু একটু করে আমার
মা-মনিটা বাড়ে,
সাত আট মাস যেতেই দেখি
কথা বলতে পারে
অর্থহীন সেই শব্দ গুলো
সুরের মতো লাগে
রিনিঝিনি নুপুর যেন
কানের মাঝে বাজে।


আমায় ডাকে আম্মু-মা
আর বাবাকে 'ইবা'
মাথা দুলিয়ে ছাড়া কাটে
"ইবা ইবা ইবা
আমায় বেড়ু কলতে নিবা?"


দিনে দিনে বাড়ছে তার
আদর আর আব্দার
মাঝে মাঝে ওর বাবা বলে
ওকে শাসন দরকার।


আমি কেবল হেসেই মরি
বলি ওতো সোনা
দেখছো না ওর গল্প গুলো
স্বপ্ন দিয়ে বোনা।


মা যে আমার মায়ার শরীর
পরীর দেশের মেয়ে
স্বপ্ন আমার সত্যি হলো
ওকে ধরায় পেয়ে।


কত কথা আসছে মনে
কোনটা বা লিখি
মেয়ে আমার হচ্ছে বড়
অবাক হয়ে দেখি!


আজকে আমরা রাজকণ্যার
চার বছরে পা,
আসছে বছর, যাচ্ছে সময়
বাড়ছে জীবনটা!


সোহামনির এক বছরে বয়সে ওকে সঙ্গে নিয়েই আমার ব্লগ যাত্রা শুরু। ওর জন্মদিনের পোস্ট দিয়ে শুরু হয়েছিল আমার ব্লগীয় জীবন, তখনও সেইফ হয়নি। তারপরও দেখি বেশ কিছু উইশ, দেখে অবাক হলাম, পরে দেখি সেটা স্বপ্নজয় ভাইয়ার কান্ড। তিনি তার ব্লগের এক আড্ডা পোস্টে আনকোরা নতুন সেই রেজোয়ানার সোহামনিকে নিয়ে অপটু হাতের লেখাটার লিংক দিয়ে সবাই কে বলছেন 'মিষ্টি বাবু'টাকে উইশ করার জন্য।

অপ্রত্যাশিত এই ব্যাপারটায় খুব অভিভূত হয়েছিলাম আমি, এরপর থেকে অনেকবার সম্পূ্র্ন অদেখা অজানা সব ব্লগের পরিজনেরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে তাদের ভালবাসা, স্নেহ আর আশির্বাদ জানিয়েছেন ওকে। আমার খুব প্রিয় দু'জন সন্মানিত ব্লাগার তাদের দুটো পোস্ট উৎসর্গ করেছিলেন আমাদের এই ক্ষুদ্র কণ্যাটিকে। আর প্রিয় কবি মহাবিশ্ব দা'র কথা কি বলবো, সে যে কত ছোট ছোট ছড়ায় ছড়ায় তার স্নেহ ধন্য করেছেন ওকে, তার ইয়াত্তা নেই।
এসবই আমাদের অনেক বড় প্রাপ্তি। আশাকরি ঈশ্বর যদি চান তাহলে আমাদের সোহামনি একদিন বড় যখন দেখবে অজানা অচেনা কত মহৎপ্রাণ ভার্চুয়াল জগতের মানুষ তার প্রতি কত ভালবাসা পোষন করেছিলেন, স্নেহে সিক্ত করেছিলেন, তখন নিশ্চয় সমস্ত মানব জাতির উপর তার শ্রদ্ধা অনেক বেড়ে যাবে.....

দোয়া করবেন ওর জন্যা, যেন "মানুষ" হতে পরে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29461295 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29461295 2011-10-06 22:41:52
গোরক্ষনাথের মন্দিরে একরাত.....

সময়টা ছিল ২০০৭ এর শেষ দিকে, মাস্টার্সের পর দুই বছর মোটামুটি প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশুনা বিহীন থাকার পরে এম ফিলে ভর্তি হয়ে গেলাম। প্রথম পর্ব পরীক্ষা শেষে শুরু করলাম ফিল্ড ওয়ার্ক , তারই কাজে এক শীতের শুরুতে তিনদিনের ছুটি নিয়ে দু'জনে চলে গেলাম নঁওগার পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে। এখানে টেরাকোটা আর পাথরের ভাস্কর্যের আছে দারুন সংগ্রহ।

পাহাড়পুর রেস্ট হাউজটাও চমৎকার , যাবার আগেই প্রত্নতত্ব অধিদপ্তর থেকে অনুমতি নিয়ে যাবার কারণে থাকতে কোন সমস্যাই হলো না। রেস্ট হাউজের বারান্দা থেকে জোনাক জ্বলা রাতের পটভূমিতে বিহারের কেন্দ্রীয় মন্দিরটাকে মনে হচ্ছিল ভিসুভিয়াস পর্বতের মত। রাতে বাবুর্চির হাতের ঝাল ঝাল মুরগীর মাংস, আর কই মাছ ভাজি দিয়ে ভাত খেয়ে পরের দিনের ট্যুর প্লান করে শুয়ে পরলাম তারাতারি।

ভোর থেকেই ঘুরলাম জগদ্দল বিহার, দেখলাম ভিমের পন্টি আর আগ্রা-দ্বিগুন আর্কিওলজিকাল সাইট গুলো। তারপর শেষ বিকালে পৌঁছলাম যোগীর ঘোপ নামের ছোট্ট গ্রামে। এখানেও আছে বেশ বড়সর একটা আনএক্সেভেটেড সাইট। ঢিবির আশেপাশের লোকজন ঢিবির উপর থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়াও মাঝে মাঝে সৃষ্টি হয়ে গেছে বড় বড় গর্ত । আর তার ভেতর থেকে কংকালের মতো বেরিয়ে আছে পাথরের স্লাব, প্রাচীন দেয়ালের ভগ্নাবশেষ, টেরোকোটা ফলকের অংশ। যেভাবে মানুষ কোদাল চালাচ্ছে তাতে মনে হয় না সামনের বছর আর এটাকে পাবো । সেই ভেবে যতটুক সম্ভব ডকুমেন্টেশন করে নিচ্ছিলাম, এই করতে করতে কখন যে সন্ধ্যা হয়ে গেলো টেরই পাইনি।
এদিকে আলোর অভাবে ঠিক মতো ছবিও আসছে না, কি করা যায় ভাবতে ভাবতে পাশ দিয়ে যাওয়া এক গ্রামবাসীকে শুধালাম, ভাই এখানে রাত কাটাবার মতো নিরাপদ কোন জায়গা পাওয়া যাবে? সে যেন প্রথমে বুঝতেই চাইলো না কি বলছি, পরে যখন বুঝিয়ে বললাম, তখন বলে তেমন তো কোন জায়গা নেই বাবা, সবই ঝাপড়া ঘর বাড়ি নিজেদের।
কি আর করা হতাশ হয়ে যখন ফিরে যাবো ভাবছি, তখন একজন পরামর্শ দিল এ গ্রামের একমাত্র দালান বাড়ি , জমিদার বাড়িতে যেতে। মুল মালিকেরা অবশ্য অনেক আগেই চলে গেছেন , এখণ তাদের দূরসম্পর্কের কোন এক আত্মীয়া থাকেন ওখানে । তাকে বোঝাতে পারলে হয়তোবা কোন ব্যাবস্থা করে দিতে পারেন থাকার। শুনে আর দাড়ালাম না আমরা, চলে গেলাম সাথে সাথে।

দূর থেকে বাড়িটা দেখে দমে গেলাম অনেকটা, এখানে কি মানুষ থাকে!!


যাই হোক অনেক কষ্টে বুঝানোর পরে একরাত থাকার ব্যাবস্থা করে দিলেন তারা প্রায় পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ির দ্বোতালার এক ঘরে। তখনও কি জানতাম কি এক দমবন্ধ করা রহস্য অপেক্ষা করছে ওখানে আমাদের জন্য!!!

বাড়িতে বিদ্যুত নেই, একটা হারিকেন জ্বলিয়ে দিয়ে গেলো বাচ্চা মত একটা মেয়ে। হাতমুখ ধুয়ে তার সাথেই উপরের চলে এলাম আমরা। মাথার উপরে অদ্ভুত রকমের বড় বড় আস্ত গাছের কাঠের কড়িবরগা ওয়ালা মাঝারি আকারের একটা ঘরে থাকতে দেয়া হয়েছে আমাদের।


দেয়ালের ইট গুলো যেন মুখ ভেংচে তাকিয়ে আছে। সারা ঘরের মধ্যে একটাই বড় কুলুঙ্গি মতো জানালা, কোন গ্রিল নেই, ঠান্ডা বাতাস আসছে সেদিক দিয়ে। ওদিকে দিয়ে নীচে তাকাতে চোখে পরলো দরদালানের আশেপাশে ভংগ্ন, অর্ধভগ্ন সব স্থাপনা, এক পাশে সম্ভবত ইট দিয়ে বানানো বড় বড় দুটো চুলা।

সারাদিনের পরিশ্রমের কারণে পা দুটো যেনো ব্যাথায় টনটন করছিল, তাই শুয়ে পড়লাম তারাতরি। তবে কেন যেন ঘুম আসছিল না, এমন একটা বাড়ি, আশের পাশের ঝোপঝাড় থেকে ভেসে আসা নানা রকম পোকার ডাক পরিবেশটাকে যেন থমথমে করে তুলছিল। পাশে সোহার বাবা আগেই ঘুমে কাদা, এই সব সাতপাচ ভাবতে ভাবতে আমিও ঘুমিয়ে গেলাম একসময়।

এরপর রাত তখন কত প্রহর হবে কে জানে , হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেলো, কেমন একটা অস্বস্তি নিয়ে উঠে বসলাম। সমস্ত চরাচর নিস্তব্দ, দেয়ালে হারিকেনের কাপাকাপা আলোর নানা রখম ভৌতিক নকশা, তার মধ্যে জানালা গলে ঘরের ভেতরে ঢুকছে চাঁদের মিষ্টি আলো। আজ যে পূর্নিমা মনেই ছিলা না। জানলার পাশে গিয়ে দাড়ালাম , দূরে বিলের পানি জোছনার রূপোর মতো ঝক ঝক করছে।


মনে হলো এই দৃশ্য একা একা দেখা ঠিক হবে না, ডেকে তুললাম সঙ্গীকে তারপর দু'জনে মিলে চওড়া সিড়ি বেয়ে উঠে গেলাম ছাদে।


জোৎস্নার ভেসে যাচ্ছে চরাচর, এর মধ্যে চোখে পড়লো নীচে বাড়ির আধা ভাঙ্গা প্রবেশদ্বার,


এর পাশেই সম্ভবত একটা বেশ গহীন কুয়ো


মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ


গ্রিক এক্রোপলিসের মতো কিছু স্ট্রাকচার। এত গুলো প্রবেশদ্বার দেখে মনে হলো এটাও কোন একটা মন্দিরই হবে।


ঠান্ডা হওয়া বইছে, ঝিঝির অর্কেস্ট্রা আর সেই সাথে ভয় ভয় ভালো লাগার একটা মিশ্র অনুভূতি। সে বললো, চলো নীচে যাই হেটে আসি একটু। কিছু না ভেবেই দু'জনায় নেমে পড়লাম তারপর হেটে গেলাম সেই মন্দিরটার দিকে।
কিছুক্ষন হেটে ভাবলাম এইবার ফিরে যাই ঘরে, ঠিক সেই সময়ে হঠাৎ কেমন যেন বদলে গেলো পরিবেশটা। প্রথম বুঝতে পারছিলাম না এমন লাগছে কেন, পরে খেয়াল করলাম সমস্ত পোকার ডাক বন্ধ হয়ে গেছে, বাতাসটাও পরে গেছে। খুব বেশি চুপচাপ হয়ে পরেছে যেনো পৃথিবী, কারো অনাকাঙ্কিত আগমনে সবাই যেন চমকে গিয়ে চুপ হয়ে গেছে!

এমন সময় কি মনে করে পিছন দিকে তাকালাম আর তাকিয়েই আমি জমে গেলাম একদম, শক্ত করে চেপে ধরলাম সঙ্গীর হাত। আমাদের ঠিক দশ হাত পেছনেই বিশাল দুটো গোখরা প্রায় লেজের উপরে দাড়িয়ে ফনা দোলাচ্ছে, চাঁদের রূপালি আলো তাদের কালো পিচ্ছিল গায়ে ঝলক্বে ঝলকে উঠছে যেন। এক দৃষ্টিতে তারা তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে, একেই কি বলে সাপের মতো শীতল চাহনী!


আমরা দু'জনে স্থানুর মতো দাড়িয়ে আছি, পা নড়ছে না। কতক্ষন সেভাবে ছিলাম জানি না, হঠাৎ চোখে পড়লে তাদের দোলায়মান শরীরের পিছনে মন্দিরের কুলঙ্গীর যে পেডোস্টালে পুজা দেয়া হয়, ওঠার উপরে তীব্র সাদা আলোর মতো জ্বল জ্বল করছে কি যেন। আমরা সম্মোহিতের মতো তাকিয়ে আছি সেদিকে। এক সময় সেই সাদা আলোর তীব্রতা কমতে থাকলো, কমতে কমতে একেবারে নেই হয়ে গলো, তখন সম্বিত ফিরে পেয়ে দেখালম সাপ দুটোও নেই।
তখন হুশ এলো আমাদের, হাচরেপাচের দৌড়ে চলে এলাম ঘরে। সারারাত দুজেন নির্বাক হয়ে বসে থাকলাম, কি দেখলাম আমরা এটা!
সকালের দিকে একটু ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম বোধহয়, উলু আর ঘন্টার শব্দে ঘুম ভাঙ্গলো। জানালার কাছে গিয়ে দেখি গারদের লাল পেরে শাড়ি পরে একজন পুঁজো করছেন গতকালের সেই মন্দিরে।

তারাতারি নেমে এলাম নিচে, পুঁজো শেষে জিজ্ঞেস করলাম তাকে কিসের মন্দির এটা, সে বললো গোরক্ষ নাথের। প্রতি বৈশাখ মাসে এখানে গোরক্ষনাথের বড় পুজো হয়। সবিতা দিদি মানে সেই মহিলা এরপরে আমাদের একটু চা খাওয়ালেন, তারপর আমাদের নিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখালেন সব।

এই জামিদার বাড়ির আশেপাশে আছে বেশ কিছু মন্দিররের ধবংসাবশে, মন্দিরের পাওয়া পাথরের ঠুকরো, দরজার কারুকাজ ইত্যাদি দেখে ধারনা করা হয় এগুলো একাদশ -দ্বাদশ শতকের (সোর্স: মোশাররফ করিম)। তবে জমিদার বাড়িটার স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য দেখে একে লেট কলোনিয়াল সময়ের মনে হয়েছে আমার।

একটা মন্দির প্রায় অক্ষত আছে, সেটাকে ওরা বলে শিব মন্দির।


শিউলি আর কলকে ফুলে ছাওয়া এই মন্দিরের ভেতরে প্রায় ১.৩৭ মি: উচু একটি ব্লাক ব্যাসল্টে শিবলিঙ্গ আছে।


যদিও প্রত্নত্ত্বত্ত অধিদপ্তরের প্রাক্তন ডিরেক্টের মোশাররফ করিমের মতে এটা একটা ভোটিভ স্তুপ, এর গায়ে অনেক গুলো দেবদেবী মুর্তি আছে, তাদের একটিকে তিনি তারা দেবী হিসাবে চিন্থিত করেছেন।


এর পাশের আরেকটা মন্দিরে আছে ব্লাক ব্যাসল্টেরই গৌরীপট্ট।

দুপুর নাগাদ সব মাপজোক, ছবি তোলা আর দেখা দেখির কাজ শেষ হয়ে গেল। কিন্তু সব কিছুর মধ্যেও মনের ভেতর থেকে গতরাতের সেই ঘটনাটা কিছুতেই সরাতে পারছিলাম না। শেষে দেনোমেনো করে দিদিকে বলেই ফেললাম সেই ঘটনা, সব শুনে সে স্থির দৃষ্টিতে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলেন আমাদের দিকে। তারপর বললেন, জমিদার বাবুরা চলে যাবার পরে এই পরিত্যাক্ত বাড়িতে যোগীরা আস্তানা বানায়। পাহাড়পুর, মহাস্স্থনগড় এই দু'জায়গাতেরই যোগীদের বিচরনের প্রমাণ পাওয়া যায়, সেই যোগীদের শেষ ধারাটা এসে আস্তানা করে এখানে আর তাদের নামেই পরে এই গ্রামের নাম করণ হয়। উনবিংশ শতকের শেষ পর্যন্ত তাদের অস্তিত্ব ছিল এই গ্রামে। আর যোগীরা হলেন একটা বিশেষ ধর্মমতের গোষ্টী যাদের নিজেদের বিশেষ ধর্ম বিশ্বাস আর আচার আছে। তবে তাদের এই ধর্ম বিশ্বাসে শাক্ত্য, শৈব্য আর তান্ত্রীক বৌদ্ধ ধর্মের বিশেষ প্রভাব আছে। যোগীদের প্রতিটা গোষ্ঠিতে একটা আলাদা আলাদা একজন করে গুরু থাকেন, এই গুরুই তাদের ধর্ম আর আচার শিক্ষা দেয়।
তো এই বাড়িতে তাদের এমনই একজন গুরু গোরক্ষনাথের পুঁজো হতো এক সময়ে, এখনো হয় প্রতি বৈশাখে। সেই পুঁজোয় যদি কোন আচারে ভুল হয় তাহলে নাকি মন্দিরের ভূগর্ভস্ত কক্ষ থেকে বের হয়ে আসে দুটো বিশাল কৃষ্ণ বর্ণের গোখরা। যুগের পর যুগ থেকে নাকি তার বাস করছে ঐ মন্দিরের ভূগর্ভস্থ একটা কক্ষে!
নীচের চৌকা প্রকোষ্ট থেকেই নাকি বের হয় তারা।


আমরা স্তব্ধ হয়ে শুনছিলাম তার কথা, তাহলে গতকাল রাতে যে সাপ দুটোকে দেখলাম এরাই কি সেই সাপ!! কেন বের হয়ে আসলে তবে অকারণে? কেনই বা এভাবে আমাদের সামনে হাজির হলো, আর কেনইবা আবার হঠাৎ উধাও হয়ে গেলো!

যদি পুজো দেখতে চান তাহলে সামনের বছরে বৈশাখে আসবেন কিন্তু, হাসিমুখে বললেন সাবিতা দিদি।
আচ্ছা চেষ্টা করবো, আসার কথা দিয়ে সরু মাটির রাস্তা দিয়ে ফিরে এলাম আমরা । হাটতে হাটতে একবার পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখি ভাঙ্গা জমিদার বাড়ির দোড় গোরায় সবুজের চালচিত্রে দাড়িয়ে স্মিত মুখে আমদের চলে যওয়া দেখছেন গোরক্ষনাথ মন্দিরের সেবিকা।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29458421 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29458421 2011-10-01 22:34:51
কমল বাওয়ালি উপাখ্যান.......... সেই ঘন বনের মধ্যে কিশোরী কমল আর তার বাবা করিম বাওয়ালী মধু আর গোলাপাতা সংগ্রহ করছে ঘুর ঘুরে। করিম বাওয়ালী এই এলাকার একজন পেশাদার মধু ও গোলপাতা সংগ্রহকারী। বন থেকে এসব সংগ্রহ করে তুলে দেয় মহাজনের হাতে বিনিময়ে যে টাকা পায় তা দিয়ে ভাল ভাবেই কাটছিল বাবা মেয়ের জীবন। কিন্তু তাদের এই সুখ বেশিদিন রইলো না, কিছুদিন আগে নীলকর বেনি সাহেবের লোকজন ঢেরা পিটিয়ে ঘোষনা দিয়েছেন সবাইকে নীলচাষ করতে হবে, যারা করবে না তাদের জন্য কঠিন শাস্তি!
করিম বাওয়ালী বাপদাদার পেশা মধু ও গোলপাতা সংগ্রহকরা, এই পেশা সে কিছুতেই ছাড়বে না। তার উপর নীল চাষে কোন লাভও নেই। এই কারনে সে মেয়েকে নিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে কাজ করে বনে, গভীর রাতে ঘরে ফেরে নীলকর বেনী সাহেবের ভয়ে। নীলকর রেনী সাহেবের অত্যচারে মানুষের জীবন একদম ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে।


সুন্দরবনের ভেতরে গ্রামের স্কেচ। এটি একেছিলেন লেয়ার ফেড্রিক পিটার (১৮১৮-১৮৯১)
সেদিন বড় একটা গাছ থেকে মৌ এর চাক ভাংছিল তারা, বাবা উপরে আর মেয়ে কমল নীচে দাড়ানো। এমন সময়ে ঘোড়ার পদশব্দে চমকে উঠলো তারা, বুঝতে কষ্ট হল না অত্যাচারী রেনী আসছে। ভয়ে চতুর্দশ বর্ষীয়া কমল এতটুকু হয়ে গেলো। তারাতারি করিম বাওয়ালী গাছের উপর থেকে মেয়েকে গোলপাতার আড়ালে লুকিয়ে পড়ার ইশারা করলো, আর নিজে গাছের আরও উপরে ঘন পাতার আড়ালে চলে গেল।
কিছুক্ষনের মধ্যের রেনী সাহেবের ঘোড়া এসে থামলো গাছের গোড়ায়, কমল পালিয়ে যাবার সময়ে ভুলে মধু সংগ্রহরে সরঞ্জাম নিতে ভুলে গিয়েছিল, সেটা চোখে পড়ে গেলো তার। সতর্ক দৃষ্টিতে উপরের দিকে তকাতেই চোখ পড়লো ভয়ার্ত করিমে বাওয়ালির দিকে। ঘোড়ার উপরের বসেই শাই শাই করে শূন্যের চাবুকের আঘাত করে করিম বাওয়ালীকে নীচে নামার আদেশ দিলেন তিনি।

নাম কি তোমার?
করিম বাওয়ালী।- ভয়ার্তকন্ঠ বাওয়ালীর
কুঠির খাতায় নাম লিখিয়েছিলে?-সক্রোধ দৃষ্টি রেনী সাহেবের।
না হুজুর!
আর কোন প্রশ্ন করার প্রয়োজন মনে করলো না রেনী সাহেব, শপাং শপাং চাবুকের আঘাতে ককিয়ে উঠলেন করিম বাওয়ালি, মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন তিনি।
বাবার এই অবস্থা দেখে গোলপাতার আড়ালে আর লুকিয়ে থাকতে পারলোনা কিশোরী কমল। সুন্দরবনের বাঘের হাত থেকে বাঁচার জন্য যে বর্শাটা সে সাথে রাখতো সবসময়ে, সেটাই সর্বশক্তি দিয়ে আকড়ে ধরে লাফিয়ে এসে পরলো রেনীর সামনে। এই আতর্কিত হামলার জন্য রেনী প্রস্তুত ছিল না, কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই কমল বর্শাটা ছুড়ে দিল রেনীর বুকের দিকে লক্ষ করে। তবে রেনী ভাগ্যভাল যে সেটা বুকে না লেগে বাহুতে লাগলো, যন্ত্রনায় চিৎকার করে উঠলো সে।
অতো কিছু খেয়াল করার সময় নেই কমলের; সে তার বাবা দুজনে মিলে রেনীর চাবুকটা দিয়েই পেচিয়ে তাকে বেধে রেখে তার ঘোড়ায় করে গহীন অরন্যের দিকে হারিয়ে গেলেন।

তারপর?

ইতিহাসে রেনীর অত্যাচারের কথা উল্লেখ থাকলেও কমল আর তার পিতার কোন উল্লেখ নেই। খুলনার লোক মুখই শুধু সাহসী কমলের নাম শোনা যায়। বর্তমান খুলনার দেড় মাইল উত্তর পূর্বে ভৈরব নদীর দক্ষিনে রেনীগঞ্জ নামে একটা জায়গা আছে, যা এই নীলকুঠীর অত্যাচারী রেনী সাহেবের নামেই হয়েছিল।
যাক সে কথা; স্থানীয় লোকশ্রুতি অনুযায়ী কমল আর তার বাবা পরে সুন্দর বনের দস্যু দলের সাথে যোগ দেয়। এই দস্যুরাদের বেশীর ভাগই ছিল নীলকর সাহেবেদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী। ১৮৩১ সালে তিতুমীর এর বিদ্রোহী দলে খুলনা শত শত লাঠিয়াল কিষান যোগ দিয়েছিলেন, তিতুমীরের মৃত্যুর পরে এরা সুন্দরবনে আত্মগোপন করে। সুযোগ বুঝে এরা নীলকরদের আস্তানার হানা দিয়ে ধনসম্পদ লুঠ করতো, বরিন হুডের মতোন তাই না?
এদের দলেই ভীরে যায় কলম আর তার বাবা।
লোককথা অনুযায়ী এই দস্যু দল কমল কে মহাসন্মানে তাদের দলে স্থান দিয়েছিল, বিভিন্ন অভিযানে কমল অংশ নিতে থাকে। সেই সময়ে সে ছেলেদের মতো পোষাক পড়তো, বর্শা আর তলোয়ার চালানোতেও সুনিপুন হয়ে উঠেছিল।
এরপরে তিতুমিরের একজন অনুচর সৈয়দজানের সাথে কমলের একটা আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

সেই সময়ে সুন্দরবনের কাছে একটা সরকারী থানা ছিল, সেখানে প্রচুর অস্ত্র আর সৈন্য মওজুত থাকতো বিদ্রোহীদের দমনের জন্য। এক গভীর রাতে কমল আর সৈয়দজানের দল এসে হানা দিল থানায়, উদ্দেশ্য অস্ত্র লুঠ করা। থানার সরকারী সৈন্য আর বিদ্রোহীদের সাথে ভীষন যুদ্ধ হয়, মানুষের আর্ত চিৎকারে নাকি তখন ঐ অঞ্চলের বন্য জন্তু পর্যন্ত বন ছেড়ে লোকালয়ে চলে গিয়েছিল!!
অনেক অস্ত্র বিদ্রোহী দস্যুদের হাতে আসে, কিন্তু এই যুদ্ধু কমল বাওয়ালী নিহত হয়েছিলেন।



না এসব কোন কথা ইতিহাসের পাতায় লেখা নেই, খুলনা জেলার অধিবাসীরাই মুখে মুখে এই গল্প বলে থাকে।না থাক ইতিহাসের পাতায়; তবে তাদের সেই বিদ্রোহ কিন্তু থিতিয়ে যায় নি, দিনে দিনে সুন্দরবনের দস্যুরদের আক্রমন আরও প্রকট হয়ে ওঠে। এদেশে বহু বিদ্রোহ ব্রিটিশ সরকার দমন করতে পারলেও সুন্দরবনের দস্যুদের দমন করতে পারেনি। তাদের দমন করার জন্য ব্রিটিশ সরকার এদেশের প্রথম মহাকুমাটি খুলনাতেই স্থাপন করেছিল। অনেকে বলেন চন্ডীকাব্যের নায়ক ধনপতির স্ত্রী খুলনার নামে থেকেই এই অঞ্চলের নাম হয়েছিল খুলনা। সে যাই হোক খুলনা শহর মূলত নয়াবাদ নামক স্থানেরই পর্ববর্তী নাম, বন কেটে নতুন বসত তাই নয়া বসত।
ধীরে ধীরে আবাদি জমি বাড়তে বাড়তে বন যখন বঙ্গোপসাগরের দিকে সঙ্কুচিত হচ্ছিল তখন স্বদেশী দস্যুরাও বনের গভীরে না যেয়ে ধীরে ধীরে জনপদে মিশে যেতে লাগলো।
খুব বেশি দিন আগের কথা কিন্তু না, বাংলার বিপদ-সংকুল এক বন্য অজপাড়াগায়ে মাত্র চতুর্দশ বর্ষীয়া যে বাওয়ালি মেয়েটি সর্বপ্রথম নীলকরদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল তার কথা ইতিহাসে লেখা না থাকলেও খুলনার মানুষের মুখে আর অন্তরে আজও সে স্মরনীয় হয়ে আছে।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29444611 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29444611 2011-09-08 10:17:04
ঈদের দিনে হওয়া কিছু আজগুবী ঘটনা আর সেই সাথে সবাই কে ঈদের আগাম শুভেচ্ছা <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_05.gif" width="23" height="22" alt=":D" style="border:0;" />
সে সময়ে আমরা ঈদ করতে প্রতি বছর আমার দাদুবাড়ী মানিকগঞ্জে যেতাম, সে সময় গুলো ছিল আমার জন্য দমবন্ধ করা আনন্দের সব দিন! আশেপাশের প্রায় সমবয়সী ফুফুদের সাথে সারাদিন খেলা, বরশি দিয়ে মাঝ ধরা কিংবা পেয়ারা গাছ থেকে পেয়ারা পেরে খাওয়া। তখন সামাজিক পরিবেশটা এখনকার মতো এতটা ভয়াবহ ছিল না বলে, আমরা যখন ঈদের দিন নিশ্চিন্তে দল বেধে এদিক সেদিক কত দূর পর্যন্ত ঘুরে বেড়োতাম তখন মা বাবা তেমন কোন আপত্তি বা চিন্তা করতেন না। আমরা সেই সব পড়শী স্বজনদের সাথে এমন সব বাসাতেও ঘুরতে গেছি, যাদের আমি হয়ত চিনিই না! সারাদিন ঘুরেটুরে বিকালে ক্লান্ত হয়ে বাসার ফিরতাম আর ভাবতাম; ইশ ঈদের দিনটা শেষ হয়ে গেলো!!
এক ঈদে আমার পাশের বাসার ফুফিদের সাথে বেড়াতে গেলাম ফুফির এক বান্ধবীর বাসায়। মানিকগঞ্জটা জেলা শহর হলেও একটা গ্রাম গ্রাম ভাব আছে, আমরা হেটেই বেড়াতাম। তো যাদের বাসায় গেছি, তাদের বাড়িটা ছিল অনেকটা দ্বীপরে মতো! মানে চারিদিকে বর্যার পানি আর মাঝে উচু মাটিতে বাড়ি, এমন অনেক বাড়িই তখন দেখা যেতো খোদ শহরের মধ্যেই। এই সব বাড়িতে যাবার ব্যাবস্থা ছিল লম্বা লম্বা এক বা দুটি বাশ দিয়ে তৈরি সাকো! ফুফির যে বান্ধীর বাসায় আমরা গেলাম উনাদের বাসাটাও এমন লম্বা সাকো পেরিয়ে যেতে হবে, আমি তো ভয়েই শেষ। আমি অনেক ছোট তখন ৮/৯ বছর বয়স হবে, কিছুতেই সেই সাকো পার হবো না। অগত্যা ফুফিরা বললো, ঠিক আছে তুমি এখানে দাড়িয়ে থাকো আমরা যাবো আর আসবো। আমাদের সাথে আমার বাসার কাজের মেয়েটাও ছিল; আমারই বয়সী, আমরা দাড়িয়ে রইলাম।
দাড়িয়ে আছি তো আছিই ওদের আর আসার নাম নেই, বাসায় যে ফিরে যাবো সেই রাস্তাও ভাল করে চিনি না (কারণ আমরা বছরে মাত্র দুবার যেতাম)।
তখন আমাদের মাত্তবর কাজের মেয়েটা বললো আপু চলো আমরা রিক্সায় করে মেলা দেখে আসি, তারপর বাসায় চলে যাবো, রিক্সাওয়ালাকে বললে সে আমাদের নিয়ে যেতে পারবে। সেই কথা শুনে আমিও ভাবলাম ভালোই তো, এই ভেবে দু'জনে তিন টাকা দিয়ে একটা রিক্সায় করে কালিবাড়ি রথের মেলা দেখতে চলে গেলাম। আগে মানিকগঞ্জে সাতদিন ধরে রথের মেলা হতো! আমরা মনের খুশিতে এক ঘন্টা ধরে মেলা দেখে দেখে চারটা আমড়া আর একটা স্প্রীং এর গলা ওয়াল বুমাথা নাড়া বুড়ো পুতুল কিনে ঘুরছি!

আর ওদিকে ফুপিরা এসে দেখে আমরা নেই সেখানে, ওরা ভাবলো বোধ হয় কোন ভাবে বাসায় চলে গেছি। ভয়ে ভয়ে ওরা বাসায় এসো আমার মেঝ চাচিকে আমারা এসছি কিনা। মেঝ চাচী বললো না, ও তো তোমাদের সাথে গেছে, সেই কথা শুনে ওদের যা চেহারা হলো তাতেই চাচী বুঝে গেলেন কিছু একটা হয়েছে। চেপে ধরাতে বললো; ওকে খুজে পাচ্ছি না। সেই কথা শুনে আমার চাচী সেন্সলেস হয়ে গেলেন, তার আবার ফিট হয়ে যাবার অভ্যাস আছে!
আমার সেজ আর ছোট চাচা আর সেই ফুফির ভাইয়েরা সাথে সাথে হোন্ড নিয়ে বেড়িয়ে পরলো খুজতে, কারন ততক্ষনে ঘন্টা দুয়েক সময় পার হয়ে গেছে, আর সেখানে আমি কিছু চিনি না, আমাদের আর তেমন কোন স্বজনদের বাসায়ও নেই যে সেখানে যাবো। আমার মা বাবা তখনও কিছু জানতনে না কি হচ্ছে!

ওদিকে আমি আর আমাদের সেই কাজের মেয়ে করেছি কি, মেলা দেখে রাস্তদিয়ে হাটছি এমন সময় একটা বাড়ি দেখে মনে হলো এই বাড়ি তো আমি চিনি, সেটা ছিল আমরা মেঝ চাচার শ্বশুড় বাড়ি। তখন সেই বাসায় গেলাম সেই বাসার নানা নানুতো আমাকে দেখে অবাক, আমি একা একা এসছি দেখে! সেই সময় তো আর মোবাইল টোবাইলের চল দিল না, তাই তারা তারাতরি আমাদের খাইয়ে দাইয়ে, সেলামী দিয়ে একটা পরিচিত রিক্সায় তুলে দিলেন বাসায় ফেরার জন্য।

ওদিকে আমাকে পাওয়া যাচ্ছে না প্রায় তিন ঘন্টা হয়ে গেছে, আমার মা জেনে গেছে ঘটনা, সে মোটামুটি শয্যাশায়ী। আমার দাদা দাদী একবার ঘরে যাচ্ছে একবার বাইরে, চাচারা তখন সম্ভব অসম্ভব সব জায়গা খুঁজে ফিরছে আর থানায় যাবার কথা ভাবছে!

এই সময় আমরা দুই জনে হাতে করা চারটা আমড়া আর একটা বুড়োর পুতুল নিয়ে রিক্সা থেকে নামলাম বাসায়। আমাদের দেখে আমার দাদী যে ভাবে দৌড়ে এসে আমাকে কোলে নিয়েছিলেন সেই দৃশ্য আজও আমার মনে আছে। দাদী আজ আর নেই কিন্তু তার সেই ভয়, খুশি আর কান্না মাখানো মুখটা আজও আমার চোখের সামনে ভাসে।
এরপর আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো আম্মুর কাছে, আম্মু সব শুনলেন প্রথমে এরপরে প্রথম মাইরাটা খেল মমতা, আর তারপরে আমি <img src=(" style="border:0;" />

আমার জীবনের বেশির ভাগ রোজার ঈদেই এমন কিছু না কিছু ঘটনা আছে, আরেক বার হলো কি ঈদের দিন সকালে আমরা সব উঠোনে বসে আছি, এমন সময় একটা কুমির সাইজের গুইসাপ ঢুকে গেলো, আম্মুর বেড রুমে। সেই সময় আমাদের বাসার পাশেই একটা পুকুর আর বাঁশের ঝার ছিল, ওখানে থাকতেন তেনারা। সেই গুই মিঞা ঢুকেই সোজা চলে গেলে আলমারীর পেছেন, আর বের করা যায় না, আলমারীর পেছনে লাঠি দিয়ে খোচাখুচিও করা যাচ্ছে না! গুইসাপ যে ফোস ফোস আওয়াজ করে সেটা ঐবার প্রথম শুনলাম! এর মধ্যে একজন আবার বললো গুইসাপ নাকি লেজ দিয়ে বাড়ি দেয় আর যেখানে লাগে সেই জায়গাটা পচে যায়! এই শুনে কেউ আর সাহস করে বেশি কাছেও যায় না। যাই হোক আমাদের সেই ঈদের সব আনন্দ মাটি করে করে দিয়ে গুই বাবাজী বিকালের দিকে নিজে থেকেই বের হয়ে চলে গেলেন <img src=(" style="border:0;" />

ছোটবেলার এমন কি মেঝবেলারও ঈদের দিন গুলো ছিল সত্যিকারের ঈদের দিন, খুশির দিন। আগের রাতে পড়াতো আপুরা হাতে বাটা মেহেদীর নক্সা করে দিত, সকালে গোসলের পরে মা দিত হাতের পিঠে নেইল পালিশের গোল গোল ফোটার নক্সা করে! এরপর সারাদিন ঘুরাঘরি, হাতে সালামী রাখার ব্যাগ। একটু বড় হবার পরে যতই ঘোরাঘুরি করিনা কেন ঠিক দুপুর তিনটার সময় হাজির হতাম বাসায় বাংলা সিনেমা দেখার জণ্য, তখন তো একটাই টিভি চ্যানেল ছিল!
বড় হবার সাথে সাথে আনন্দের পরিমানও আনুপাতিক হারে কমতে লাগলো! এখন ঈদ মানে আমার কাছে হাজারটা কাজের বোঝা, এই দরজা জানালরা পর্দা কচো , সোফার কাভার, বিছানার চাদর বদলাও, স্পেশাল বাসনপেয়ালা নামিয়ে পরিস্কার করে রাখো, আর রান্না তো আছেই। ঈদ শেষ এই দঙ্গল আবার গুছিয়ে রাখো <img src=" style="border:0;" />
আজ রাইসুল ভাইয়ের ঈদ আনন্দমেলা নিয়ে একটা পোস্ট পড়তে গিয়ে মনে হলো আমি প্রায় গত ১০ বছর ধরে মনে হয় টিভিতে আনন্দমেলা দেখিনি, অথচ এক সময় ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখ নিয়ে জোর করে বসে থাকতাম এটা দেখার জন্য!

যাই হোক সেদিন নাজনীন আপু, নীলু আর ইভান বলছিল ঈদের জন্য রেসিপি পোস্ট দিতে, কিন্তু রেসিপি পোস্ট দিতে গেলেই আমার শুধু বাঁশ বা মরিচ ভর্তার রেসিপি টাইপ পোস্ট দিতে ইচ্ছা করে। সেগুলো দেখলে আবার রন্ধনশিল্পী সুরঞ্জনা আপু আর অপ্সরা ওরফে শায়মার হাতে মাইর খাবার সমূহ সম্ভাবনা আছে<img src=" style="border:0;" />
তবে যেহেতু ঈদের সময় কাজ করতে করতে আমার হালুয়া টাইট অবস্থা হয়ে যায়, তাই কয়েকটা হালুয়ার রেসিপি দিলাম.......

গাজরের ছানার হালুয়া.~
গাজর পরিমান মতো নিয়ে সবজি কুরানীতে মিহি করে গ্রেট করে নিন, এরপরে এই গাজরটা হালকা করে পানিতে ভাপিয়ে পানি ফেলে দিন! খেয়াল করবেন গাজরটা যেন একটু একটু শক্ত থাকে বেশি গলে না যায়। এরপরে ননস্টিকি প্যানে পরিমান মতো ঘি (এক কেজি গাজরে আধা কাপ ঘি) গরম করে এতে এলাচ, দারচিনি ভেঙে দিন, তারপরে গাজর কুরানোটা ঢেলে দিন। স্বাদ মতো চিনি মিশিয়ে ক্রমাগত নাড়তে হবে। হালুয়ার মজা বাড়ে কিন্ত এই নাড়ার উপরেই। এরপরে এর সাথে দুই কাপ ঘন দুধ মেশান, আবার নাড়তে থাকুন!
অণ্যদিকে ছানাটা (১ কেজি গাজরে ১/২ কেজি ছানা) হাত দিয়ে গুড়ো করে নিন, তারপর আরেকটা প্যানে ঘি, চিনি আর ছানা দিয়ে নাড়তে থাকুন। নাড়তে নাড়তে শুকিয়ে ছোট ছোট দানা বাধলে নামিয়ে রাখুন। এরপরে গাজরের হালুয়ার সাথে মিশিয়ে আবার নাড়ন, হালুয়ার পাত্রের গা থেকে আলাদে হয়ে আসবে আর ঘিটা উপরে গ্লেজ করবে, তখন বুঝবেন কাজ শেষ।


একই ভাবে কাঁচা পেপের হালুয়াও বানানো যায়। এক্ষেত্রে পেপেটা খোসা ছাড়িয়ে সিদ্ধ করে খুব ভাল ভাবে থেতো করে নিন, এরপরে একটা কাপরে বেধে ঝুলিয়ে রাখুন পানি ঝরে যাবার জন্য। পানি ঝরার পরে বাদ বাকি প্রসেস এক, শুধু এটাতে ছানা মেশাবেন না।


ছানার পায়েস~
প্রথমে ছানাটা ভাল করে মথে, পরিস্কার একটা কাপড়ে পেচিয়ে শক্ত চৌকা কোন ওয়েট দিয়ে চাপা দিয়ে রাখতে হবে ২/৩ ঘন্টা। এর পরে সেটা বার করে ছুরি দিয়ে ছোট ছোট টুকরো করে নিন।
আরেকটা পাত্রে ৪ লি: দুধ জ্বাল দিতে থাকুন, ঘনে হয়ে ২ লি: এর মতো হলে চিনি, দারচিনি, এলাচ দানা মেশান। এরপর ছানার টুকরো গুলো ছেড়ে দিন এর মধ্যে। আচঁ কমিয়ে ৭/৮ মি: জ্বাল দিয়ে নামিয়ে নিতে হবে। বাটিতে ঢেলে উপরে জাফরানের কেশর ছিটিয়ে দিন।
ছানার পায়েসের মূল বিষয়টা কিন্তু ছানা মথা আর চেপে রাখার উপর নির্ভর করছে। ছানা ঠিক মতো মথা না হলে আর শক্ত না হলে কিন্তু দুধের দেবার পরে ছাড়া ছাড়া হয়ে যেতে পারে/<img src=" style="border:0;" />



অনেক বকবকানি হলো এবার সবাইকে ঈদের অগ্রীম শুভেচ্ছা <img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29439974 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29439974 2011-08-28 16:23:41
..........পটের গান.........বাংলার বাঘ

যদি বলা হয় বাংলা রূপকথার ও লোক কাহিনীর একটা বড় অংশ জুড়ে কোন প্রাণীর অবস্থান, নির্দিধায় সাবাই বলবে বাঘ.....শুধু বাঘ না বাঘ আবার মামাও। মানুষের আত্মীক সম্পর্ক গুলোর মধ্যে সবচাইতে মধুর সম্ভাষন। এই রাজসিক বঙ্গ শার্দুলের হলুদ ও কালো ডোরাকাটা দাগের মধ্যে তাকালে একটা অদ্ভুত গতির ব্যাঞ্জনা টের পাওয়া যায়, হলুদ কালোর একটা চমৎকার অপটিক্যাল ইলিউশন।
একসময় জংগলময় বাংলার জীবনের সাথেই জড়িয়ে ছিল বাঘ , শুধু সুন্দরবন বলে নয়, বাংলার প্রতিটি অঞ্চলেই কিন্তু বাঘের গল্প শোনা যায়। ডাঙ্গায় বাঘ, জলে কুমির আর জঙ্গলে সাপ এটাই ছিল একসময়ের বাংলার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ঠ্য।
বর্তমানের নগর সভ্যতার অগ্রাসনে এরা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেলেও আমাদের অবচেতন স্বত্তায় এই সব প্রাণীরা মূর্তিমান সবসময়েই। এই কারনেই বাঘ নিয়ে অনেক প্রবাদ প্রবচন, কথকথা, রূপকথায় ছেয়েছিল জীবন। 'বাঘে মোষে এক ঘাটে জল খায়', 'তিনি ব্যাঘ্র হয়ে বললেন' 'বাঘিনী মেয়ে', বাঘের মাসী.....বিশাল এক তলিকা। এদের নিয়েই আমাদের লোকগল্প, গাথা, টোটেম ট্যাবুর মতো আদিকাল থেকে ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ভয়ে স্মরন করে চলেছে এদের মানব জাতি।
সেদিন বেঙ্গল গ্যালারীতে "পটের গান বাংলার বাঘ" একটা ব্যাতিক্রমী প্রদর্শনী দেখতে গিয়ে এর প্রভাবটা আরেকবারটের পেলাম। পট শিল্পের প্রতি একটা আলাদা আগ্রহ ছিল আমার বরাবরই, তাই পেপারে খবরটা দেখে আর দেরি না করে হাজির হলাম এক বৃষ্টির সন্ধ্যায়।
পটশিল্পী নাজির হোসাইনের সেই বাংলার বাঘ সংক্রান্ত আখ্যানধর্মী লোককলাসংলগ্গ চমৎকার পটশিল্পের কিছু নমুনা দেখুন.........

তার পট চিত্রগুলোতে ফ্যান্টাসির ছড়াছড়ি, লোক কাহিনী নির্ভর.........
গরুর বদলে অমায়িক চেহারার বাঘ গাড়ি টানে


আবার হাল চাষও করে <img src=" style="border:0;" />


বাঘের পিঠে বসে হুকো খেতে খেতে কৃষক গল্প করে কিষানীর সাথে!


লাল বাঘ, নীল বাঘ, হাসি হাসি গন্ধ <img src=" style="border:0;" />


তার ছবিতে গায়ের বধু মাছে কোটে, পাশে স্বামী বাঘের লেজ দিয়ে কান চুলকায় আর হুকো খায়!


সারসের বাঘের গলার কাঁটা বের করার গল্প আর বাঘের নৌকা বাইচ!!


জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ আর সেই পথে বেহুলার ভাসান....


বাঘের পাশে বসে কেউ কি কখনো দোতারা বাজিয়ে গান শুনে দেখেছে কেমন লাগে? আবার মৎস কুমারীর সাথে মৎস বাঘ মামা!


এইটা একটা চরম ছবি। হাস্যমুখি হেলিকপ্টার, সাথে ট্যাংক, কামান, হাতি, সাপ[ পরিবেশ্টিত অত্যাচারী জমিদার আর তার সমানে বাঘের পিঠে মনের সুখে বংশিবাদনরত নায়ক <img src=" style="border:0;" />


ঘুরি ওড়ায় বাঘ মামা <img src=" style="border:0;" />


দুই বেহারা পালকি চালায়, হালুম রে.....হুলুম রে <img src=" style="border:0;" />


গাছের যদি সত্যিই এমন মানুষে মতো মুখ থাকতো তাহলে কেমন হতো!


অক্টোপাস মর্দিনী চতুর্ভুজা বাঘিনী !


এই ছবিটা খুবই মজার, ভাল করে খেয়াল করেন <img src=" style="border:0;" />


এরকম আরো অনেক চমৎকার সব পট চিত্রের সমাবেশ ঘটেছিল সেদিন, শিল্পীর কল্পনার দৌড়, বর্ণনারিতী, অলংকরণ, শিল্পরিতী সব কিছুই ছিল চমকপ্রদ!
ভাল কথা অনেকেই হয়তো জানেন পটচিত্রটা কি, তারপরও বলছি আবার.....পটের উপর আঁকা চিত্রকে পটচিত্র (Scroll painting) বলাহয়। এটি প্রাচীন বাংলার অন্যতম সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। প্রাচীনকালে যখন কোন রীতিসিদ্ধ শিল্পকলার অস্তিত্ব ছিলনা তখন এই পটশিল্পই বাংলার শিল্পকলার ঐতিহ্যের বাহক ছিল। যারা পটচিত্র অঙ্কন করেন তাদেরকে সে যুগে এবং এ যুগেও পটুয়া বলা হয়। পট শব্দের প্রকৃত অর্থ হল কাপড়। শব্দটি সংস্কৃত "পট্ট" থেকে এসেছে। বর্তমানে এই শব্দটিকে ছবি, ছবি আঁকার মোটা কাপড় বা কাগজের খন্ড ইত্যাদি অর্থেও ব্যবহার করা হয়। কাপড়ের উপর গোবর ও আঠার প্রলেপ দিয়ে প্রথমে একটি জমিন তৈরি করা হয়। জমিন তৈরির পরে শুরু হয় আঁকার কাজ। এক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশজ রংয়ের ব্যবহার উল্লেকযোগ্য; যেমন: ইটের গুঁড়া, কাজল, লাল সিঁদুর, সাদা খড়ি, আলতা, কাঠ-কয়লা ইত্যাদি। পটটিকে কয়েকটি অংশে ভাগ করে কাজ করা হয় এবং রংয়ের প্রকারের মধ্যে লাল, নীল, হলুদ, গোলাপী, বাদামী, সাদা এবং কালো ব্যবহৃত হয়।
তবে আপনি যদি মনে করেন যে দেশীয় শিল্পের এমন একটি কপি আপনি আপানার বাসায় আনবেন , তাহলে আপনার গুনতে হবে মাত্র পাঁচ হাজার থেকে শুরু করে ত্রিশ হাজার টাকা পর্যন্ত /<img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29435094 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29435094 2011-08-19 20:28:00
প্রাচীন বিরুলিয়ার একদিন........ ভাওয়াল রাজার জমিদারির এলাকার একাংশ এই বিরুলিয়া গ্রাম। এখান থেকেই পরিচালিত হতো সাভার, কালিয়াকৈরের একাংশ, শ্রীপুর-বরমীর একাংশ, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা এবং এখনকার ঢাকার মিরপুর-গাবতলী। উত্তরা থেকে কহর দরিয়ার প্রবল ঢেউ এসে আছড়ে পড়ত এই বিরুলিয়ার ঘাটে। যেখানে বড় বড় জাহাজ আর বজরা ভিড়ত জমিদারবাবু তারক চন্দ্র সাহা, বাবু কালি কুমার সাহাদের। তারা এখানে বসে নিলাম কিনতেন আর পরিচালনা করতেন জমিদারি, বংশী, ধলেশ্বরী ও তুরাগ নদী পথে তাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন। সেই প্রাচীনতার গন্ধ মাখা গ্রামে আজ আমি দাড়িয়ে আছি কত শত বছর পরে, ভাবতেই কেমন শিহরণ লাগে!



গ্রামে ঢোকার প্রথমেই চোখে পড়ে এই বাড়িটি।

বাবু রজনী সাহার বাড়ি এটি। প্রায় দু'আড়াইশ' বছরের পুরনো স্মৃতি নিয়ে আজও কালের নীরব সাক্ষী।

এরপরে আছে ৮৫ বছরের পুরনো শ্রীশ্রী বৃন্দাবন চন্দ্র জিউ বিগ্রহ মন্দির। তারপর আরও এগোতেই দেখা পেলাম তাদের যাদের দেখার জন্য এসছি।

সরু রাস্তার দুপাশের সরি সারি বদ্ধ বাড়ি গুলোর বেশিরা ভাগেই বেদখল হয়ে গেছে, মানুষ জন বাস করে।

পরপর বিভিন্ন প্যাটানরাউর বিভিন্ন ডিজাইনের দেড়শ' থেকে দু'শ' বছরের পুরনো বাড়িঘর। ছোট ছোট সিঁড়িঘর, শ্যাওলা ধরা ছাদ, দূর-অতীতের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে।


বালিয়াটি জমিদার বাড়ির প্রধাণ ভবনের সাথে একদম মিলে যায় না এই ইন্দো ইউরোপিয় স্টাইলে বানানো বাড়িটির?

বারান্দায় লম্বা কোরেনথিয়ান পিলার, রেলিং এ লোহার অপূর্ব কারুকাজ আর চমৎকার চুড়োর প্রাসাদটি নিশ্চয়ই তার যৌবনে অনন্য ছিল!

এখন ক্ষয়ে পড়া প্লাস্টার, পাল্লা ছাড়া দরজা গুলো যেনো হাহাকার করছেন এছাড়া আশেপাশে গজিয়ে ওঠা বাড়ি ঘরের জন্য বাড়িটি দেখাই যায় না প্রায়!
এরপাশেই রয়েছে আরেকটি বাড়ি, একদম লাগোয়া।

প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যের দারুন কম্বিনেশন। বারান্দার উপরের ছাদটা লক্ষনীয়। এটা একেবারেই পরিত্যাক্ত।
একই রাস্তায় কিছু দূর এগুলোি চোখে পরবে চমৎকার চিনিটিকরী কাজের পিলার ওয়াল এই পালেসটি।

এই বাড়ির প্রতিটা দরজার লিনটেল আর দেয়ালের ফাঁকা জায়গা গুলো হাইলি ফলস পিলার আর ফ্লোরাল ডিজাইনে হাইলি ডেকোরেটেড।

মজার ডিজাইন হলো এটা। ব্রটিশ শাসনের প্রতীক হিসাবেই কি এই ভিক্টোরিয়ার মুকুট আর পতাকা নির্মান করেছিল শিল্পী!


বেশির ভাগ বাড়ির পিলারেই রয়েছে ফ্লোরাল ডিজাইনের এবাকাস (পিলারের উপরের অংশ)।


আলো হাওয়া খেলার জন্য রান্দার উপরে কাঠের খরখরি।


এই প্যালেসের পুরো কার্নিশ আর দরজা জানালার প্যানেকে এখনও চমৎকার স্টাকো ফ্লরাল ডেকোরেশন। একসময়ের মলমলের পর্দা ঝুলানো হতো যে বাতায়নে সেখানে আজ কাঠকুটোর আব্রু!
আরেকটা বিশেয দ্রষ্টব্যের কথা তো বলাই হলো না, সেটা হলো বিরুলিয়ার শতবর্যী এই বট গাছ। কত ইতিহাসের নীরব সাক্ষী।

এখানের এই বটগাছটিরই ছবি বড় করে ঝোলানো আছে কলকাতায় অবস্থিত ইন্ডিয়া তথা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত আদি ঢাকেশ্বরী বস্ত্রালয়ের প্রধান শোরুমে। বটগাছটি গ্রাম থেকে বিচ্ছিম্ন হলেও একেবারে কাছাকাছি।

প্রতি বাংলা বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখে মেলা বসে বটতলায় শান্ত চুপচাপ এ বিরুলিয়া গ্রামে।


কি যাবেন নাকি বেড়াতে?
উত্তরা, আবদুল্লাহপুর থেকে আশুলিয়া বাঁধকে ডানে রেখে ধাউর রোড (মিরপুর বাঁধ রোড) ধরে মিনিট পনেরো যাবার পর বিরুলিয়া ঘাট পরবে, এখানে নামতে হবে। নাস বা ম্যাক্মি যায়। মিরপুর থেকেও যাওয়া যাবে একই রাস্তাতায়, এরপর পশ্চিম দিকে বাঁধ থেকে নেমে একটু হাঁটলেই খেয়ানৌকা। নৌকা পার হলেই পৌছে যাবেন প্রাচীন সেই জনপদে, যেখানে প্রকৃতি এখনও উজার হাতে তার নির্মল সৌন্দর্য্যে সাজিয়ে রেখেছে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29427367 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29427367 2011-08-07 20:01:57
একটি রোমহর্ষক পটকাবাজীর কাহিনী <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_18.gif" width="23" height="22" alt=":|" style="border:0;" />
তখন আমরা সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি, তো সেই সময় হলে দুই সীটের রুম পেলাম দ্বোতলায়, আর মজার হলো আমাদের ব্যাচের মোটামুটি সবাই সেই রো তে। আমাদের পাশের রুমে ছিল সিনিয়ার দুই আপু, একজন অনেক মোটা এর আবার হালকা গোফ ছিল, আরেক জন অনেক শুকনা। এদের ডিপার্টমেন্টের জটিলতার কারণে মাস্টার্স পরীক্ষা পিছিয়ে গিয়েছিল, তো এক দঙ্গল জুনিয়ারের মধ্য থাকতে হয়তো তাদের তেমন ভাল লাগতো না। সেই ভাল না লাগার ঝালটা এনারা অবশ্য ভাল ভাবেই তুলতেন, এই যেমন বারান্দায় বসে জোরে কথা বলল্লে, বা রুমে একটু সাউন্ড দিয়ে গান বাজালে সাথে সাথে ঝাড়ি<img src=" style="border:0;" />। আমারও ইচ্ছা করে ওনাদের রুমের সামনে দিয়ে স্যান্ডেল ঘসটে ঘসটে শব্দ করতে করতে হাটতাম <img src=" style="border:0;" />

এই দুই আপুর মধ্যে মোটা আপুটার ছিল চরম কুসংস্কার। সে যখন তারে কাপড় মেলতেন তার আগে সেই তারটা মিনিমাম দশবার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতেন, তার কাপড়ের আশেপাশে আমাদের কোন কাপড় মেলতে পারতাম না। আবার কিচেন থেকে যখন বোতলে পানি নিতেন (সেই সময় আমার সরাসরি টেপের পানিই খেতাম) তখন পানির বোতল আর টেপের মুখটা ধুতেই থাকতেন ধুতেই থাকতেন এর যেন কোন শেষ নেই। আমার অতিষ্ট হয়ে অন্য ফ্লোরের কিচেনে যেতাম তখন <img src=" style="border:0;" />
ওনার একটা হোৎকা মোটকা বেড়াল ছিল ধুসর রং এর, সেই বজ্জাতটার কাজই ছিল সব সময় বারান্দার ঠিক মাঝখানটাতে নবাবের মতো পা ছড়িয়ে রাতদিন ঘুমানো। একদিন আমি এটার গায়ে পানি ঢেলে দিয়েছিলাম, তাতে করে সেই বিল্লি করলো কি রাতের বেলায় এসে আমার রুমের দরজার প্রকৃতিক কাজ করে গেলে!

সেই সময় ভার্সিটিতে ইন্টার ডিপার্টমেন্ট ফুটবল খেলা চলছিল। আমদের ডিপার্টমেন্ট ফাইনালিস্ট, সাথে চিরপ্রতিদ্বন্দী গোপাল (গভমেন্ট এন্ড পলিটিক্স কে সংক্ষেপে গোপাল বলতাম আমরা )। এই সব খেলা গুলো আমাদের কাছে বিশ্বকাপের চাইতে কোন অংশে কম ছিল না। এমন কি আমাদের স্যাররাও মাঝে মাঝে প্রাকটিস দেখার জন্য মাঠে চলে আসতেন।
বেশির ভাগ প্লেয়ারই আমাদের ব্যাচের ছিল, আবার প্রতিপক্ষ গোপালের মেইন প্লেয়ারও ব্যাচ মেট। খেলার আগের দিন ওরা আমাদের শুনিয়ে গেল, তোদের আমারা হারাবোই , তারপর দেখবি সবই নেড়া মাথায় তোদের ডিপার্টমেন্টে মিছিল করে যাবো! আর আমরা বললাম তোদের আমরা এত গোল দেবো যে সেগুলো হলে নিয়ে যাবার জন্য বস্তা লাগবে। মানে খেলার আগেই সেই রকম স্লেজিং আরকি! গোপালে আমাদের ব্যাচ মেট ছিল সুমাইয়া শিমু, ও করতো কি সব সময় দলবল নিয়ে অপনেন্ট টিমের গোলপোস্টের আশেপাশে থাকতো, গোলকিপারের কনসেন্ট্রেশন ভংগের জন্য<img src=" style="border:0;" />

যাই হোক খেলার দিন আমরা মহাসমারোহে পটকা ফটকা বাঁশি নিয়ে মাঠে হাজির, খোলোয়াড়দের চাইতে আমাদের উৎসাই বেশি!! কিন্তু মর্মান্তিক বিষয় হলো আমাদের নাক কেটে দিয়ে আমাদের ফুটবল টিম সেবার হেরে গেলো গোপালের কাছে। পরের দিন ঠিকই তারা নাড়ু মাথা করে চ্যাম্পিয়ান কাপ হাতে নিয়ে ঘুরে গেলো আমাদের বিভাগ থেকে.....কি লজ্জা কি লজ্জা।

রুমে ফিরে একগাদা পটকা দেখে আরও মেজাজ খারাপ হলো। ডাস্টবিনে ফেলে দিতে গেলাম, তখন আমার রুম মেট বললো ফেলিস না ওগুলো, এগুলো দিয়ে আজ শায়েস্তা করবো আজকে লিমাদেব আর চিমাদেবকে মানে আপুদ্বয়কে!


শীতের সময় ছিল সেটা, সেদিন কুয়াশাও পরেছিল খুব। আমাদের হলটা বাংলা ৪ আকৃতির, বিল্ডিং এর মাঝে গোল বড় ফাঁকা লন, তাই কুয়াশা বারান্দাতেও চলে আসে। রাত গভীর হবার পরে আমরা করলাম কি একসাথে দুটো পটাকা বেধেঁ এদের লেজের সুতোর সাথে লম্বা একটা চিকন দড়ি বাধলাম, পটকা রেখে আসলাম লিমাদেব আর চিমাদেবের রুমের সামনে। তারপরে সেই দড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েই এক দৌড় রুমে ঢুকে লাইট নিভিয়ে লেপ মুড়ি দিয়ে চুপচাপ শুয়ে আছি সব। এক মিনিট যায় দু মিনিট যায় পটকার শব্দ আর পাই না! হলো টা কি?
বের হয়ে দেখি হতচছাড়া আগুনটা নিভে গেছে /<img src=" style="border:0;" />


এইবার করলাম কি দড়িতে একটু নেইলপালিশ রিমুভার লাগালাম, তারপর আবার আগুন এবং রুমে ঢুকে আত্মগোপন।
কিছুক্ষন পরে মনে হলো বিকট শব্দ বাজ পড়লো, ধরাম করে। সেই শব্দে আমরা নিজেরাই হকচকিয়ে গেলাম, এত জোরে যে শব্দ হবে ভাবিনি!!
হলের সুপারা জেগে গেলো, মেয়েরাও কেউ কেউ বারান্দায় এসে বোঝার চেষ্টা করছে কি হলো।
আমরা ভাবলাম আমাদেরও বার হওয়া উচিত না হলে কেমন দেখায়। বের হয়ে দেখি সারা বারান্দা ধোয়ার ভর্তি আর কাগছের কুঁচি ছড়িয়ে আছে। ঐদিকে প্রভোস্টও চলে এসেছেন, উনি যদি কোনভাবে টের পান আমাদের রোতে এমন ধোয়া তাহেল তো কাজ সেরেছে!! আস্তে আস্তে পা দিয়ে কাগজ গুলো সব সরালাম, আর ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল যে কুয়াশার জন্য দ্বোতালার ধোয়া আলাদা ভাবে টের পাবার কোন উপায় ছিল না।
তো প্রভোস্ট স্যার ও তার সাঙ্গপাঙ্গ গন কিছুক্ষন তদন্ত করে এটা হলের বাইরে ফায়ার হয়েছে এই রায় দিয়ে চলে গেলে মেয়েদের নিশ্চিন্তে থাকতে বলে। আমরাও হাপ ছেড়ে বাচলাম।



তবে সব চাইতে দু:খজনক হলো যাদের জন্য এই আয়োজন তাদের রুমের সামনে গিয়ে দেখি মৃদু নাক ডাকার শব্দ, এরা কিছুই টের পায় নি <img src=(" style="border:0;" />

এর পরে বারান্দা ঝাড়ু দিয়ে পরিস্কার করে মনের দু:খ মনে চেপে রেখে যার যার রুমে ঘুমাতে গেলাম।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29423836 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29423836 2011-08-01 15:11:25
একটি ডলস হাউজের গল্প <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_05.gif" width="23" height="22" alt=":D" style="border:0;" />
ডলস হাইজের প্রতি সেই সুপ্ত ভালবাসা এখনও আছে মনের মধ্যে, মার্কেটে গেলে প্রায়ই খুজি, কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই রকম ডলস হাইজ পেলাম না, যেমন দেখেছি ছোট বেলায়। হবুহু সত্যই বাড়ির মতো বাড়ি, ছোট ছোট খাট, চেয়ার টেবিল, ডাইনিং, রান্নাঘর।
শেষ ভাবলাম নিজেরাই একটা বানিয়ে ফেলি, দেখি কেমন হয়।কিন্তু সময়ের অভাবে সেই এক্সপেরিমেন্টটা করতে পারছিলাম না, সেই সুযোগ করে দিল আমাদের অতি প্রিয় বিরোধী দল
তাদের ডাকা ঘনঘন দীর্ঘ হরতালে আমার বাৎসরিক ছুটি গুলো উৎসর্গ করে (দরকারের সময় হয়তো ছুটি আর পাবো না) ঘরে বসে ভেরান্ডা ভাজার সময় বানিয়ে ফেললাম এই ডলস হাইজ।


ঘরটা বানিয়েছি ফলের বাক্স কেটে। ঘরটা দ্বোতালা।



ফলের বাক্সের মধ্যে দুটো অংশ থাকে, একটা অংশ রেখে দিয়ে বাকি অংশটা বের করে নিয়ে ঘরের মধ্যে উল্টো ভাবে জুড়ে দিয়ে দ্বোতালা ভাব আনা হয়েছে।


দ্বোতালর অংশে বারান্দা করা হয়েছে সেই অশেরই বর্ধিত অংশ দিয়ে। এরপরে পুরো ঘরটাকে সাদা কাগজ দিয়ে মুড়ে দিয়েছি তার উপরে রং।

ইনি বিশিষ্ট পেইন্টার সোহামনি



এবার দেখা যাক ঘরের ফার্নিচার। বাজারে অবশ্য বাচ্চাদের ছোট ছোট চেয়ার, টেবিল, খাট এসব কিনতে পাওয়া যায়। কিন্তু নিজের হাতে বানিয়ে দেবার আনন্দটাই আলাদা, তাই এগুলোও বানিয়ে ফেললাম।

ও আর লোডশেডিং এর সময় কাজ চালানোর জন্য একটা হ্যারিকেনও আছে, এটা আবার জ্বলেও কিন্তু <img src=" style="border:0;" />
সোফাসেট গুলো বানিয়েছি স্টেপলার পিন রাখার বাক্স, তুলো আর কাপড় দিয়ে। প্রথমে স্টেপলার বাক্সটার একপাশ তুলা দিয়ে ঢেকে, কাপড় দিয়ে শক্ত করে সেলাই করে দিতে হবে এভাবে। ম্যাচের বাক্স দিয়েও এটা বানানো যায়। আমার মা আমার পিচ্চি বেলায় এমন ম্যাচের বাক্স দিয়ে সোফা বানিয়ে দিয়েছিলেন, এটা তার কাছেই শেখা।



এই রকম দুটো অংশ বানাবেন, এরপর একটা বক্সের কিনারার উপর খাড়া ভাবে আরেকটা বাক্স সুই-সুতো দিয়ে ভালো করে সেলাই করে দিতে হবে। ব্যাস হয়ে গেলো বসার আর হেলান দেবার জায়গা। হাতল গুলো ইচ্ছা মতো বানাতে পারেন, তারপর জুড়ে দেবেন দু'পাশে। আমি এখানে শক্ত বোর্ডের উপর কাপড় সেলাই করে হাতল বানিয়েছি।

এইটা হলো সোহামনির ড্রইং রুম <img src=" style="border:0;" />


বিছানাটাও শক্ত বোর্গ কয়েক পরত কেটে একসাথে আঠা দিয়ে জোড়া দিয়ে বানিয়েছি।


পরে সাদা কাগজে মুড়ে রং করা হয়েছে। তুলোর তোষক বানিয়ে তার উপর বিছানা ও বালিশ <img src=" style="border:0;" />


আলমাড়ি বানানো হয়েছে ঔষুদের কাগজের প্যাকেট দিয়ে। প্যাকেটের সামনের অংশটা উপরে নীচে কিছু অংশ বাদ রেখে এন্টিকাটার দিয়ে লম্বা ভাবে চিরে নিন, এর পর ভেতরে প্যাকেটের আয়তনের মাপে শক্ত বোর্ড কেটে, বোর্ডের নীচের দিকে আঠা লাগিয়ে আলমারির তাক বানানো হয়েছে।

পড়ার চেয়ার টেবিলও একই ভাবে শক্ত কাগজে বানানো। চেয়ারের বসার সিটটা গোল করে কেটে নিয়ে এর সাথে পায়া আর হেলান দেবার জায়গা আঠা দিয়ে জোড়া দেয়া হয়েছে।


টেবিলটাও ঔষুধের প্যাকেট কেটে সেটার সাথে শক্ত কাগজের বোর্ড লাগিয়ে বানানো।


ডাইনিং টেবিলের চেয়ার গুলো অবশ্য কেনা।


জানলার পর্দা বানানো হয়েছে নেট দিয়ে। প্রথমে কুচি করে সেলাই করে, আইকা দিয়ে সেট করা হয়েছে জানালায়।আর ঘরের ছাদা কিন্তু ফ্লেক্সবিল, ইচ্ছা করেলেই সরিয়ে রাখা যায়।


এই হলো পুরো ডলস হাউজ আর সাথে আমার নিজের ডলটা <img src=" style="border:0;" />
তবে সমস্যা হলো এখন আমার এই ডলটা নিজেই এই ঘরের মধ্যে ঢুকতে চায়, তাই ভয়ে আছি যে কোন দিন এই বাড়ির ভবলীলা সাঙ্গ হতে পারে <img src=" style="border:0;" />



পরিশিষ্ট: বাড়ির নাম: সোহামনির পুতুল বাড়ি। আর্কিটেক্ট প্লাস মিস্ত্রী সোহার বাবা। সহযোগী ইঞ্জিনিয়ার, ইন্টেরিয়র ডেকোরেটর, রং মিস্ত্রী, ফার্নিচার মিস্ত্রী, দর্জি সোহার মা। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29418102 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29418102 2011-07-22 23:00:25
নীলক্ষেতের পুরানো বই বাজার আর রবীন্দ্র চিত্রকলা নিয়ে আমার ছবি ব্লগ......... " style="border:0;" />
যদিও বিমূর্ত চিত্রকলা তেমন একটা বুঝিনা তারপরও বইটা পড়ে আর ছবি দেখে মুগ্ধ হলাম আরেকবার। কবি গুরুর আঁকা এত সব ছবি আমি আগে কখনোই দেখিনি।

সেই সব ছবি গুলো আর কিছু কথা...............
১।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯২৭ সালের দিকে তুলি ও কলমে আঁকার কাজ শুরু করেন। পরে পান্ডুলিপি সংশোধনের আছিলায় তিনি তাতে ডিজাইন বা নক্সা আকা শুরু করেন, যেটা আজ সুধুমহলে সুপরিচিত। তার পান্ডুলিপি সংশোধনের ধরণ থেকে নতুন একটা নকশা রীতি তৈরি হয়, অর্থাৎ এই নক্সাই এধরণের কাজের মূল কথা, বহু বছর ধরে তিনি তাঁর লেখার সাথে সামঞ্জস্য রেখে পাতার পর পাতা আকিবুকিতে ভরিয়ে তুলেছেন।
২।

প্রায়ই তিনি দিনে কবি তিন চারটা ছবি একে শেষ করতেন। ছবি আঁকার সরঞ্জামের ক্ষেত্রে খুব সাধারন ছিলেন তিনি, কলম, পেন্সিল, ফেলনা ছেড়া কাগজ....সব কিছুকেই কাজ লাগিয়েছেন।
৩।

ভালো রং নিয়ে তিনি পরোয়া করতেন না, বেশির ভাগ সময়েইও পেলিক্যান কালি ব্যাবহার করতেন।
৪।

তাঁর আঁকার পদ্ধতিটি ছিল সম্পূর্ণ নিজস্ব, স্বদেশি বা বিদেশী কোন ধারাই তিনি অবলম্বন করেননি।
৫।


তিনি নিজেই বলতেন " আমি আকার জন্য কলম ধরনি, তখন আমার মনে কোন পূর্বপরিকল্পনা থাকে না......কলম সরতে শুরু করলেই কলমের ডগা থেকে ছবি বের হতে শুরু করে।" এভাবে ছবির পর ছবির সৃষ্টি হয়েছে এক কবির হাত থেকে যার সংখ্যা দুই হাজারের কম নয়।

৬।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা ছবি গুলোর প্রথম চিত্র প্রদর্শনি হয়েছিল প্যারিসে। সাধারণ ভাবে তাঁট চিত্র গুলোকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়.........

১। প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবি।

২।মানবদেহের চিত্র।

৩। জীব জন্তুর, পাখির ছবি।

কবি গুরুর প্রাকৃ্তিক দৃশ্য ও জীবজন্তুর ছবি গুলো বেশি সমাদৃত হয়েছিল ফ্রান্সে, অপরদিকে মানব চেহারার চিত্র গুলো আলোড়ন তুলেছিল জার্মান সমাজে, স্বীকৃতির এই তফাতটা লক্ষনীয়।
৭।


তাঁর আঁকাআঁকির জগতে সৃষ্টির স্রোত নানাভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তিনি শুধু নরম আর কারুকার্যময় ছবি একে সন্তুষ্ট হননি।

৮।


সাহিত্য সৃষ্টির চিন্তা দর্শনের ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ঐতিহ্য ও পরম্পরাকে স্বীকার করে এগুলেও ছবির ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রায় ঐতিহ্যবিমূখ।
৯।


এদেশের শিল্প পরম্পরা থেকে তিনি প্রায় কিছুই গ্রহণ করেননি। তবে সমসাময়িক উইরোপিয় ধারার কিছুটা প্রভাব হয়তোবা রয়েছিল। উনবিংশ শতকের শেষদিকে ইউরোপের আধুনিক চেতনার নতুন যে অধ্যায় রচিত হয়েছিল, তার বেশি প্রভাব দেখা গিয়েছিল রবীন্দ্র চিত্রকলায়।
১০।


চিত্রকলার ক্ষেত্রে বিপ্লব বিগত শতকে ঘটেছিল ইউরোপের, তার সাথে কবিগুরুর পরিচয় হয় ১৯২০-২১ শে পশ্চিম ভ্রমনের সময়। এই পরিচয় তাকে নিজের চিত্রকর্ম সম্পর্কে সংশয় আর সংকোচ উত্তরণে সাহায্য করেছিল। বাস্তবের হবহু অনুকৃতি নির্মান ছাড়াও যে চিত্রকর্ম যেতে পারে, রং ও রেখার স্বাধীন সঞ্চালনে বাস্তববানুগতাবিহীন পটও চিত্রকলা হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে সেই বোধটা তাকে চিত্রকলার ক্ষেত্রে নিজস্ব ধারা সমন্ধে অস্থাবান করে তুলেছিল।
১১।


শিল্প বাস্তবের কোন হবহু প্রতিরূপ হবে না, শিল্প হবে বাস্তবের সাথে রূপরের ছন্দের মিলনে একটি মৌলিক সৃষ্টি, চিত্রকলার ক্ষেত্রে ভারতীয় উপমহাদেশে এই ধারাটা প্রচলন করাতেই রবীন্দ্রনাথের বিশিষ্ঠতা।
১২।


বহুকাল ধরে উপমহাদেশীর চিত্রকলা ছিল বর্ণানাত্মক, ছবিতে ধর্মীয়, সামাজিক, পৌরণীক, ঐতিহাসিক কোন ঘটনা, রাজারাজরারর জীবন অথবা কোন মহিমান্নিত দৃশ্য রচনা করাই ছিল এর কাজ। এখানে রবীন্রনাথই সর্বপ্রথম তাঁর ছবির মাধ্যমে আমাদের দেখালেন ছবিও একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র সৃষ্টি এবং রূপ ও ছন্দের মিলনে শিল্পীর অনুভূতির গভীর এর জন্ম।
১৩।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29411864 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29411864 2011-07-12 21:34:24
চন্দ্রাবতী ও নাগরাজের অমর প্রেমকাহিনী ও আনুষাঙ্গিক কিছু প্যাচাল <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_25.gif" width="23" height="22" alt=":P" style="border:0;" />

অনেক অনেক দিন আগে কুসুমপুর নগরে এক অন্ধ লোক আর তার মেয়ে চন্দ্রাবতী বাস করতেন, তিনি কুলে তাদের কেউ ছিল না। গরীব হলেও বাবা আর মেয়েতে বেশ সুখেই দিনাতিপাত করতো। একদিন হলো কি, এক পুকুরের পাশ দিয়ে হাটার সময় অন্ধ লোকটা পুকুরের মধ্যে পরে গভীর পানিতে তলিয়ে গেলো। যেতে যেতে একদম গভীরে, তার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল, চোখের সামনে হলুদ হলুদ আলোর ফুটকি....বুড়ো ভাবলো আমি বোধ হয় মরেই গেলাম। আহারে আমার মেয়েটার কি হবে! এমন সময়ে হঠাৎ তার কানের কাছে একটা দৈববানী শুনতে পেলো ''শোন বুড়ো তুমি যদি গায়ের শেষ মাথার বিষ্ণু মন্দিরে ৩০০ বস্তা ধান উৎসর্গ করার প্রতিঞ করো তাহলে এখন আমি তোমাকে প্রাণে বাচাঁবো, আর তোমার দৃষ্টি শক্তিও ফেরত পাবে"।

এক কথা শুনে আর যায় কোথায়, বুড়ো সাথে সাথে রাজি। সেই দেবপুরুষ তখন তাকে পানির উপরে উঠিয়ে আনলো, আর বুড়ো তার সদ্য জীবন প্রাপ্তি আর দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবার সম্ভাবনায় খুশি হয়ে নাচতে নাচতে বাড়ি ফিরলো।

বাবার ভিজে চুপচুপে অবস্থা দেখে মেয়ে শুধায় কি হয়েছে বাবা তোমার? তখন বুড়ো খুশিতে আটখানা হয়ে সব খুলে বললো তাকে। সব শুনে মেয়ে একটু হতাশ হয়ে বললো, বাবা আমাদের তো টাকা নেই, জমিও নেই, ৩০০ বস্তা চাল কোথায় পাবো। তাইতো'...... বুড়োও মুশরে পরলো এই ভেবে।

বাবার মন খারাপ দেখে চন্দ্রাবতীরও খুব খারাপ লাগলো। সে বললো বাবা তুমি ভেবো না, দেখি আমি কোন ব্যবস্থা করতে পারি কিনা।
এই ভেবে সে বেড়িয়ে পড়লো, হাটতে হাটতে চলে গেলো গ্রামের মহাজনের কাছে। গিয়ে বললো, মহাজন মশায় আমি নিজেকে সাগরের নাগরাজের কাছে উৎসর্গ করতে চাই, বিনিময়ে আপনি আমার বাবার নামে বিষ্ণু মন্দিরে ৩০০ বস্তা চাল ভেট দিবেন।

এদিকে হয়েছে কি সেই নগরের পাশে সাগরে মধ্যে বাস করতো সাপেদের রাজা, সে অনেকদিন থেকেই মহাজনের কাছে দাবি করছিল তার মেয়েদের মধ্যে থেকে একজনকে তার সাথে বিয়ে দিতে হবে! মহাজন রাজি হচ্ছিল না সেই প্রস্তাবে, তাই সেই নাগরাজ সব সময়েই সাগরে ঝড়ো হাওয়া আর প্রবল স্রোত তৈরি করে রাখত, আর দূর দূরান্ত নগরের সব বানিজ্য তরী ডুবে যেত তাতে, বাইরে থেকেও কোন জাহাজ আসতে পারতো না এখানে।

তাই চন্দ্রাবতীর কাছ থেকে এমন অভাবিত প্রস্তাব পেয়ে তো মহাজনের তো পোয়াবারো! চন্দ্রাবতী ছিল খুব সুন্দরী, তাকে সাজিয়ে গুছিয়ে পাঠালে নাগরাজ কোন সন্দেহই করবে না, আর তার মেয়েরাও বেঁচে যাবে, ব্যাবসা বানিজ্যেও সুবিধা হবে। সুতরং রাজি হয়ে গেলো মহাজন চন্দ্রাবতীর প্রস্তাবে। সেই দিনই বিষ্ণু মন্দিরে চন্দ্রাবতীর বাবার নামে ৩০০ বস্তা ধান পাঠানো হলো, আর চন্দ্রাবতী অপরূপা সাজে সেজে ঝাপ দিল সাগরে!

চন্দ্রাবতী ঢুবে যেতে............... যেতে................. যেতে.............. যেতে........... যেতে..........সাগরের তলদেশে যেয়ে অবাক হয়ে দেখে সেখানে নাগরাজার সুরম্য অট্টালিকা ! নাগরাজাও তাকে দেখে মহা খুশি, ধুমধামের সাথে তাদের বিয়ে হয়ে গেলো। নাগরাজার প্রাসাদে চন্দ্রাবতী আদরে দিন কাটাতে লাগলো।

ওদিকে হয়েছে কি, বিষ্ণু দেবতার মন্দিরে ভেট দিয়েও কিন্তু চন্দ্রাবতীর বুড়ো অন্ধ বাবার চোখ ভাল হলো না। সে চোখের দু:খের আর মেয়ের দূর্ভাগ্যের জন্য নিজেকেই দোষী ভাবতে লাগলো, খুব কষ্ট তার দিন কাটছিল।

এই খবর চন্দ্রাবতীও একদিন নাগরাজের অনুচর ঢোরা সাপের মাধ্যমে জানতে পেলো। সে প্রায়ই মন খারপ করে তাই বসে বসে কাঁদে। এটা দেখে একদিন নাগরাজা বললো, কিসের এত দু:খ তোমার রানী?
চন্দ্রাবতী বলে, যদি আমি আমার বাবাকে একবার দেখতে পেতাম! নাগরাজা তার স্ত্রীকে খুব ভালবাসতো, তার দু:খে সেও কষ্ট পেলো, বল্ললো " চন্দ্রাবতী আমি তোমাকে তোমার বাবার কাছে যেতে দেবো, কিন্তু এতদিনে তো সবাই ধরে নিয়েছে তুমি মারা গেছো। তুমি যদি মানুষ বেশেই যাও তাহলে তোমাকে দেখে সবাই ভয় পেতে পারে, তাই আমি তোমাকে এমন একটা রূপ দেবো যাতে কেউ তোমাকে চিনতে না পারে।" এই বলে তাকে লাল শাপলা ফুল বানিয়ে দিল। ভোরের প্রথম আলোয় অপরূপ শাপলা হয়ে চন্দ্রাবতী সাগরের পানিতে ভাসতে লাগলো।

এদিকে হয়েছি কি, সেই দেশের রাজা আবার ফুল খুব ভালবাসতেন। রাজার লোকেরা পানিতে নতুন ধরনের একটা ফুল দেখে সেটা রাজার জন্য তুলে নিয়ে রাজার বাড়ির পুকুরে লাগিয়ে দিল। রাজা মশাই তো সেই শাপলার রূপে মুগ্ধ! একদিন রাতে রাজার ঘুম আসছিল না, সে জানালার কাছে দাড়িয়ে আছে, এমন সময় দেখে পুকুরের পারে অপরূপা এক মেয়ে দাড়িয়ে।


রাজা বলেন, কে তুমি মেয়ে, এখানে কি করছো?
চন্দ্রবতী ঘুরে দেখে রাজা দাড়িয়ে আছেন, সে বলল্লো, আমি আপনার পুকুরের শাপলা ফুল, যাকে আপনি অনেক ভালবাসেন। আমার আসল নাম চন্দ্রাবতী।
রাজা বলেন, চন্দ্রাবতী তুমি আমাকে বিয়ে করবে?
রাজি আছি, তবে একটা শর্ত আছে'......বললো চন্দ্রাবতী। আপনার নগরের সকল অন্ধ লোককে দাওয়াত করে খাওয়াতে হবে একদিন।
রাজা ভাবলনে এত খুবই সহজ কাজ, সে সানন্দে রাজি হয়ে গেলো চন্দ্রবতীর কথায়, এরপর মহাধুম ধামে বিয়ে হয়ে গেলো।
তারপরে রাজ্যের সকল অন্ধ লোকেদের দাওয়াত দেয়া হলো, রানী নিজে তাদের খাওয়াবেন।
এরপর সেই খাবার মজলিস থেকে চন্দ্রাবতী তার অসুস্থ, জীর্ন বাবাকে খুজে বারকরে তাকে জড়িয়ে ধরে বাবা' বলে কেঁদে ফেললো। আর কি আশ্চর্য চন্দ্রবতীর অশ্রু বাবার গায়ে গড়িয়ে পরা মাত্রই বৃদ্ধের দৃষ্টি শক্তি ফিরে আসলো, অশ্রুসজল চোখে সে দেখলো তার মেয়ে শাপলাকে..........

এরপর থেকে সমুদ্রও শান্ত হয়ে গেলো, মৃদু স্রোত বইতে লাগলো আর কুসুমপুর নগরের সবাই সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলো <img src=" style="border:0;" />

এই হলো শাপলা কুমারীর গল্প। ফুল হিসাবে শাপলা আমারও খুব পছন্দের। আমাদের ভার্সিটিতে দুটো লেক ভর্তি ছিল লাল শাপলায়। সকাল বেলা পুরো লেকটা ঝলমল করতো যেন......নৈসর্গিক লাগতো দেখতে। এই লেকটা আমি যে হলে থাকতাম সেই জাহানারা ইমাম হলের পিছন দিকের লেকের ছবি!


আগে ভাবতাম শাপলা শুধু মনে হয় লাল আর সাদাই হয়, কিন্তু সেদিন নেটে ঘুরে ঘুরে অবাক, এত ভ্যারাইটি জানা ছিল না আমার।


এর নাম ব্ল্যাক প্রিন্স। ফুলের ভেতরটা একদম কালচে লাল।


এই সেই বিখ্যাত নীল পদ্ম, আসেল কিন্তু এটা শাপলা প্রজাতির (বিস্তারিত আগের পোস্টে লিখেছিলাম )


পিচ গ্লো শাপলা।


এর নাম পিগমী ওয়াটার লিলি, বাংলায় বামন শাপলা <img src=" style="border:0;" />


স্টার ওয়াটার লিলি, আমাদের জাতীয় ফুল শাপলাটা এই প্রজাতির।

শাপলার ডাটা সব্জি হিসাবেও চমৎকার। এখনই পাওয়া যাবে বাজারে শাপলা ডাটা। একটা রেসিপি দিলাম ফাও হিসাবে....
শাপলা চিংড়ি: এটা করতে যা যা লাগবে, শাপলা ডাটা এক ইঞ্জি লম্বা করে আশা ছাড়িয়ে কেটে নিন দুই কাপ। মাঝারি সাইজের চিংড়ি ১ কাপ। মসলা লাগবে পেয়াজ কুচি, রসুন বাটা, হলুদ, জিরা, ধনে গুড়ো আর কাচা মরিচ।
প্রথমে ডাটা গুলো ধুয়ে হালকা ভাপ দিয়ে পানি ফেলে দিন, খেয়াল রাখতে হবে বেশু ভাপ যেন না হয়, তাহলে ডাটা গুলো গলে যাবে। এরপর কড়াইতে তেল ও বাকি সব মসলা ও অল্প পানি দিয়ে কষিয়ে চিংড়ি গুলো দিয়ে ভেজে নিন। চিংড়ি মোটামুটি সিদ্ধ হয়ে আসলে শাপলা ডাটা আর তেজপাতা দেবেন। আলাদা পানি দেবার দরকার নেই কারণ শাপলার ডাটা থেকে অনেক পানি বের হবে। ভাজা ভাজা করে নামিয়ে নিন।
এটা চিংড়িং বাদে নারকেলের দুধ দিয়েও রান্না করতে পারেন।

শাপলা ফুলের কন্দের অংশ যেটাকে শালুক বলে, সেটাও কিন্তু খাওয়া যায় পুড়িয়ে বা সিদ্ধ করে। এটা আর কদিন পরে পাওয়া যাবে।
আরেকটা খাবার হয় এটা থেকে, ঢ্যাপ। ঢ্যাপের খই বানানো হয় শাপলা ফুলের বীজ থেকে।




এগুলো হলো ঢ্যাপ, এটা ভেজে মুড়ির মতো একটা খাবার বানায়, যেটাকে ঢ্যাপের খই বলে (ছবি গুলো মহলদার ভাইয়ের পোস্ট থেকে নেয়া)।

যাই হোক রূপকথার গল্পের সাথে যে ফাও ফাও যে এত গুলো খানা খাদ্যের রেসিপি দিলাম সেই জন্য আমাকে স্পেশাল থ্যাংক দিবেন কইলাম <img src=" style="border:0;" /> ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29403760 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29403760 2011-06-28 13:19:39
পদ্মপুকুর আর পদ্ম কথা........... মামাবাড়ির মাঝি নাদের আলী বলেছিল, বড় হও দাদাঠাকুর তোমাকে আমি তিন প্রহরের বিল দেখাতে নিয়ে যাবো সেখানে পদ্মফুলের মাথায় সাপ আর ভ্রমর খেলা করে !

সুনীলের এই লাইন গুলো এক সময়ে; এমনকি এখনও মাঝে মাঝে আমাকে খুব আলোড়িত করে। তার মতো আমারও দেখতে ইচ্ছে করে কেমন সেই তিন প্রহরের বিল! সত্যি কি সেখানে পদ্ম বন আছে?
পদ্মের বন........কি অদ্ভু্ত সুন্দর। পড়ন্ত নিস্তব্দ দুপুর, নীল আকাশে সাদা সাদা তুলোর মতো মেঘের সামিয়ানার নিচে কাকচক্ষু জলের সেই পদ্ম পুকুর...........পারে ঝিরঝিরে পাতার শিরিষ আর হিজলের বন...........মৃদু বাতাসে দু একটা শিরীষের পাতা বা হিজলের লালচে ফুলের পানিতে ঢলে পড়া.........গাঙ ফড়িং এর চঞ্চল উড়াউড়ি, তার ভেতরে পদ্মপাতায় সাপ আর ভ্রমরের খেলা............কি অপার্থিব সুন্দর।

সত্যি কি এমন আছে?

নিচের ছবিটা দেখুন তো, কি মনে হয়?


একদম পদ্মবন, শ্বেত পদ্ম!


সাদা বা লাল রং শাপলা ভরা দীঘি আর বিল চোখে পড়লেও আমাদের দেশে কিন্তু এমন পদ্ম দিঘী মোটমুটি বিরলই বলা যায়।


দারুন এই দিঘীটা বরিশাল শহরের বেলস পার্ক ও প্লানেট ওয়ার্ল্ড সংলগ্ন, হিমনীড়ে যা বর্তমানে বিআইডাব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী, বরিশাল ডিভিশনের কার্যালয় হিসেবে চালু আছে।


এতো দেখলেন শ্বেতপদ্মের বন, এখন দেখুন গোলাপী পদ্মবন......


এই পদ্মবনের দেখা পাবেন শ্রীমঙ্গলের বাইক্কার বিলে।


বাইক্কার বিল মূলত: অতিথী পাখির অভয়ারন্য হিসাবে বেশি পরিচিত। শীতের দিনে পাখিদের কলকাকলীতে মুখর হয়ে ওঠে বিলটা!
এই বিলটার পদ্ম ফুলের পাশাপাশি লাল শাপলাও ফোটে, যেমনটা দেখা যায় না বরিশালের শ্বেতপদ্মের বনে।


পদ্ম ফুল শুধু সৈন্দর্য্যের দিক থেকেই নয়, প্রাচীন সভ্যতার ধর্ম আর মিথেও এর গুরুত্ব পূর্ণ অবস্থান ছিল। বৌদ্ধ আর হিন্দু ধর্ম অনুযায়ি পদ্ম হলো সৌন্দর্য্য আর বিশুদ্ধতার প্রতীক।


পদ্মকে মাটি, পানি, আগুন আর বাতাসের চতুর্মুখি সন্মেলনের প্রাকৃতিক প্রতীক বলা হয়। কারণ পদ্মের শিকর থাকে পানির নীচে মটিতে, পানির উপরে সে লালিত আর বর্ধিত হয় বাতাসের আর সূর্যের আলোতে সে ফুল ফোটায়। প্রাচীন মিশরীয় বিশ্বাস অনুযায়ী পদ্ম হলো সূর্য আর পূনর্জন্মের প্রতিক। কারণ হিসাবে বলা হয়, রাতের বেলায় পদ্ম ফুলের পাপড়ি গুলো সব বন্ধ হয়ে যায়, পানির নিচে লুকিয়ে যায় কুড়ি। সূর্যের আলোতে সে আবার প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে। সৃষ্টির শুরুতে অসিম শূন্যতায় বিশ্বব্রক্ষান্ড পানিতে পূর্ণ ছিল। একদিন এই পানিতে জন্ম নেয় এক খন্ড মাটির বুকে বিশাল এক পদ্ম ফুল, সেই পদ্মের মাঝ থেকে জেগে উঠে সূর্য। এরপর আস্তে আস্তে পুরো সৃষ্টি জগত তৈরি করে। প্রায় একই ধরনের একই ধরনের মিথ কিন্তু হিন্দু ধর্মেও রয়েছে, সৃষ্টির দেবতা ব্রক্ষ্মা নিজেই জন্ম গ্রহণ করেছিলেন বিশাল এক পদ্ম ফুল থেকে।

একটা বিষয় লক্ষনীয় যে হিন্দু আর বৈদ্ধ ধর্মের বেশির ভাগ দেবদেবীর মূর্তিতে কোন না কোন ভাবে পদ্মকে উপস্থান করা হবেই।স্বরস্বতী দেবীর প্রতীক শ্বেত পদ্ম, আপর দিকে লক্ষী, ব্রক্ষ্মা, গনেশ, গৌতম বুদ্ধ এদের প্রতীক গোলাপী পদ্ম!


এছাড়া প্রাচীন মিশরে অনেক চিত্রে নানা ভাবে পদ্ম ফুলকে উপস্থাপন করা হয়েছে।


মজার বিষয় হলো, ১৯২২ সালে টুটেনখামেনর মমি আবিস্কৃত হবার পরে দেখা যায়, তার সারা দেহের উপর নীল শাপলার পাপড়ি ছড়ানো। অনেক পদ্ম ফুলের নির্যাস আর পাপড়ি হ্যালুশিনেসন, স্টিমুলেশন ইত্যাদি চিকিৎসার কাজেও ব্যাবহার করা হতো!

লালা শাপলা আর পদ্ম নিয়ে অনেকেরই মধ্য কিছু কনফিউশন দেখা যায়। দুটোকে মাঝে মাঝেই গুলিয়ে ফেলা হয়। এই ফুল গুলো আলাদা ভাবে চেনার খুব সহজ একটা পদ্ধতি আছে........পদ্মের বীজ পত্রটা ফুলের ভেতরেই বাইরে থেকে দেখা যাবে, আর শাপলা ফুলের বীজপত্র বোঝা যায় না বাইরে থেকে, গর্ভকেশরে ঢাকা থাকে।

এই যে বীজপত্র ওয়ালা পদ্ম


আর এটা হলো শাপলা যার বীজপত্র লুকানো থাকে <img src=" style="border:0;" />


পদ্ম ফুল হয় সাধারণত সাদা, গোলাপি অথবা হালকা গোলাপি রং এর। হুমায়ুন আহমেদ যতই লিখুন না কেন, "হিমুর হাত সাতটি নীল পদ্ম" আসলে নীল রং এর পদ্ম ফুল নেই। বরং বলা যায় হিমুর হাতে সাতটি নীল শাপলা <img src=" style="border:0;" />
পদ্ম ফুল ফোটে মার্চ মাস থেকেই আর মার্চের শেষ থেকে মে মাস পর্যন্ত এ দৃশ্য দেখা যায়। কিন্তু বরিশালের পদ্মপুকুরের পদ্ম এখনো দেখতে পাওয়া যায়। বুঝাই যায় যে, আমার নানা বাড়ীর কারনে , বই এর লেখা এখানে অকার্যকর <img src=" style="border:0;" />

পদ্ম পুকুরের কথা বলতে এসে ধান ভাংতে শিবের গীত গেয়ে ফেললমা। যাই হোক,
এই সুন্দর পদ্মপুকুরটা দেখতে চাইলে আপনাকে দৌড়াতে হবে কীর্তনখোলা নদীর পাশের সুন্দর শহর বরিশাল পর্যন্ত।
আর পাখিদের অভয়ারন্য বাইক্কার বিল দেখতে হলে যেতে হবে শ্রীমঙ্গল।


ছবি সৌজন্য: জিশান শা ইকরাম]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29400808 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29400808 2011-06-22 15:52:01
আমের আচারের পাঁচ পদ আর আমার বাসায় না থাকার বিশেষ ঘোষণা <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_05.gif" width="23" height="22" alt=":D" style="border:0;" /> " style="border:0;" />

জীবনের একটা বড় অংশ কেটছে কলোনীতে। সে সময়ে খুব মজার একটা বিষয় দেখতাম মা, খালাম্মাদের। কেউ যদি বিশেষ ধরেণের কোন খাবার বা কুশি কাটার কাজ বা উলের কাজের কোন কিছু বানায়, সাথে সাথে অন্যদেরও সেই রকমের জিনিসটাই বানানো চাই। আচারে বা পিঠা পুলি হলে তো কথাই নেই। এক সাথে শুরু হয়ে যেতো। তাই জলাপাই আর আমের সময়ে আমাদের পিচিকিপাচকাদের রিতীমত ঈদ। কখন আচার তৈরি শেষে রোদে দেয়া হবে সেই অপেক্ষায় দিন কাটতো, আর আচারের সানবাথ শুরু হয়ে গেলে আমাদেরও চলতো তাদের উপর চোরাগুপ্তা আক্রমন। এমন কি সেই গেরিলা হামলা থেকে নিজেদের বাসার আচারেরর বোতলও বাদ যেত না! রাজশাহীর খালাম্মা ছিলে ন খুব মজার সব আচার বানাতেন, কিন্তু সেই আচারে কেউ ভাগ বসাতে পারতো না। খাবার ঘরের মিটসেফের তাক ভর্তি বয়ামের পর বয়াম, নিজের দু'ছেলে এরা তেমন খেতো না, তাই জমাই হতে থাকত। কোন আচার যদি একদম পুরানো হয়ে যেতে তখন খালাম্মা আমাদের তা ডেকে ডেকে খেতে দিতেন আর আমারও লোভির মতো তা খেয়ে শেষ করে দিতাম।

যাই হোক নিজের হাতে প্রথম আচার বানিয়ে ছিলাম বিয়ের পরে। নতুন বউ আচার বানানোর শখ করেছে, আমার শ্বশুর মশাই বাজার থেকে নিজে কাচা ডাসা আম কিনে আনলেন। আমের মোরব্বা বানাবো, নিজেই কাটলাম কেচলাম খুব উৎসাহ নিয়ে। শাশ্বুরি দেখিয়ে দিলেন কি ভাবে কেচতে হয় খেজুর কাটা দিয়ে। আমি ভাবলাম মোরব্বা বানানো কি আর এমন কঠিন কাজ নিজেই পরবো,আম্মুর কাছ থেকে সব রেসিপি জেনে নিয়ে নিজেই শুরু করে দিলাম। দিন শেষে ফলাফল যা দাড়ালো সেটা আমের মোরব্বা না হয় জেলী হয় গেলো <img src=" style="border:0;" />
আমি লজ্জায় গরমে মুখ লাল করে চুলোর পাশেরই দাড়িয়ে রইলাম!! শেষ পর্যন্ত আমার শ্বশুড়ী মা উদ্ধার করলেন আমাকে, বললেন এটাও একরকম হয়েছে আচার হয়েছে বৌমা, এটাকে আমারা "গলা মোরব্বা" বলি!!! পরে বুঝেচি এটা সান্তনাবানী ছিল <img src=" style="border:0;" />

যাই হোক এখন আমি আর ততটা আনাড়ী নই, অন্তত আচার বানানোর ক্ষেত্রে। এই হরতালে তাই বানিয়ে ফেললাম বেশ কয় রকমের আচার। রেসিপি গুলো আপনাদের জন্য........................

আমের মোরব্বা:
যা যা লাগবে.............আম দুই কেজি, চিনি এক কেজি, গরম মশলা (এলাচি, দারচিনি, লবঙ্গ, তেজপাতা)।

ভেতরে অল্প আটি বেধেছে এমন কাঁচা আম মোরব্বার জন্য সবচেয়ে ভাল। প্রথমে আম গুলোকে পুরু করে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে। এরপরে মাঝখান দিয়ে দুই টুকরো করে আটি ফেলে দিয়ে ভাল করে কেচতে হবে খেজুর কাটা বা টুথপিক কিংকা কাটা চামচ দিয়ে। আমি খেজুর কাটা দিয়ে কেচতে গিয়ে একবার আমের বদলে নিজের আঙ্গুলটাই কেচে ফেলেছিলাম, তাই এখন আর ও মুখো হই না। কাটা চামচে ব্যবহার করি।
আম সব ভাল করে কেচা হলে প্রথমে চুন গোলা পানিতে ঢুবিয়ে রাখতে হবে। তিন ঘন্টা পরে পানি ফেলে দিলে আবার লবন গোলা পানিতে ঢুবিয়ে রাখবেন। এভাবে তিন ঘন্টা পরে পরে লবন পানি চেঞ্জ করে দিতে হবে। এভাবে পুরো দু দিন আমা লবন পানিতে রাখতে হবে, এতে টক ভা টা চলে যাবে।



এরপরে চার কাপ পানিতে চিনি এবং গরম মশলা দিয়ে জ্বাল দিতে থাকবেন, সিরা একটু ঘন হয়ে আসলে আম গুলো ছেড়ে দিতে হবে ওর মধ্যে। ৫/৬ মিনিট জ্বাল দিয়ে নামিয়ে ফেলুন। পরের দিন আবার এমন করে ৫/৬ মি: জ্বাল দিন, হালকা করে আম গুলো নেড়ে চেড়ে দিন। খেয়াল রাখতে হবে যেন বেশি সময় জ্বাল না হয়, তাহলে গলে যেতে পারে। এভাবে তিন দিন জ্বাল দিয়ে পরে বয়ামে ভরে রোদে দিন। দু তিন দিন রোদের দিলেই রেডি হয়ে যাবে মজার আমের মোরব্বা।



আমের কাশ্মিরী আচার:

আম গুলোকে লম্বা লম্বা করে আধ ইঞ্চি পুরু করে কেটে নিন। আগের মতোই প্রথমে চুন পরে লবন গোলা পানিতে ঢুবিয়ে রেখে টকটা দূর করে নিন।



চিনির সিরা তৈরির পদ্ধতি আগের মতোই, বাড়তি যে মশলা দুটো যোগ করতে হবে সেগুলো হলো আদা আর শুকনা মরিচ। শুকনা মরিচ গুলো বোটার দিকে কেঁচি দিয়ে কেটে ফেলুন, তারপর হালকা করে চাপ দিলেই ভেতরে বীজ গুলো বের হয়ে আসবে। বীজ ফেলে দিয়ে মরিচ গুলোকে কেচি দিয়ে গোল গোল ছোট ছোট টুকরো করে কেটে লেবুর রসে ঢুবিয়ে রাখেন। আর আদা পাতলা পাতলা গোল করে কেটে চিনির সিরার সাথে মিশিয়ে দেবেন প্রথম থেকেই। এরপরে সিরা মোটামুটি ঘন হয়ে আসলে আমা আর মরিচের টুকরো মেশাবেন। আগের পদ্ধতিতেই জ্বাল প্লাস রোদে দেবেন।


করমচার আচার:

করমচা দু ভাগ করে বিচী ফেলে দিতে হবে। এরপরে লবন গোলা পানিতে একদিন ডুবিয়ে রাূন। হবুহু আমের কাশ্মিরী আচারের পদ্ধতিতেই বানানো যাবে।



আম রসুনেরট টক আচার:

আম ছোট ছোট টুকরো করে কেটে একটু হলুদ মাখিয়ে রোদে একদিন শুকাতে হবে। পানি মোটামুটি শুকিয়ে আসলে রসুন বাটা আর বেশি করে সরিষা বাটা দিয়ে আরেক দিন রোদে দিতে হবে।
এরপরে বয়ামের ভরে আস্ত শুকনা মরিচ, আস্ত রসুনের কোয়া (এক কেজি আমে ৫/৬টা) দিয়ে, সরিষা তেলে হালকা গরম করে ঢেলে দিতে হবে, যেন আমের টুকরো তেলে ঢুবে থাকে। এর পরে রোদে দিনে ৪/৫ দিন।



খোসা সহ আমের আচার:

আম ভাল করে ধুরে খোসা সহ চৌকা চৌকা ছোট টুকরো করে নিতে হবে। হলুদ মাখিয়ে রোদে একদিন রেখে পানি শুকাতে হবে। এরপরে কড়াইতে পরিমান মতো সরিষা তেল নিয়ে এতে আদাবাটা, রাসুন বাটা, পাঁচফোড়ন বাটা, লবন দিয়ে তাতে আম ছেড় দিন। ভাল করে কষান, খুন্তি দিয়ে আম গুলো একটু ভাঙ্গা ভাঙ্গা করে দিতে হবে। আমা একটু গলে আসলে উঠিয়ে ফেলুন চুলো থেকে, এরপরে বিয়ামে ঢেলে গরম সরিষা তেল দিয়ে ঢুবিয়ে দিন। তারপরে রোদে দিতে হবে ৫/৬ দিন।


আমের জেলি:
পাকা আম এক কেজি নিয়ে খোসা ফেলে আম গুলো ডুবো পানিতে সিদ্ধ করবেন। পানি শুকিয়ে অর্ধেক হয়ে আসলে আম গলো তুলে রস বার করে মোটা ছাকনিতে ছেকে নিন যাতে আশ গুলো রসে না আসে।এরপরে আধকেজি চিনি দিয়ে আমের রস আর সিদ্ধকরা পানি চুলোয়ে বাসন।
ফুটে উঠে যখন সাদা ফেনা উঠবে তখন এরমধ্যে দুই টেবিল চাম লেবুর রস দিয়ে নাড়তে থাকবেন।

এভাবে ১০/১২ মি: জ্বাল করে দেখতে হবে জেলি হলো কিনা। এটা চেক কারা সহজ একটা সিস্টেম আছে। এক কাপ পানিতে কয়েক ফোটা জেলি ফেলতে হবে, জেলী হয়ে গেলে সেটা নিচে জমা হবে, না হলে পানিতে মিশে যাবে বোঝা যাবে না।
রস ঘন হয়ে আসলে নামিয়ে ফেলুন, একটু ঠান্ডা হলে শুকনো বয়ামে ঢেলে ফেলুন।

আম গুড়ের মিষ্ট আচার:
আটি শক্ত হয়েছে এমন আম নিতে হবে এই আচারের জন্য। আম খোসা ফেলে টুকরো টুকরো করে কেটে নিতে হবে আটি সহ। এরপরে হাড়িতে গুড় জ্বাল দিয়ে সিরা বানিয়ে এতে আমারে টুকরো, পাচঁ ফোরনের গুড়ো, থেতো করা রসুন, রিমান মতো লবন দিয়ে কসাতে হবে। আমা গুলোকে ঘুটে গলাতে হবে। এরপরে বড় ট্রেতে ঢেলে রোদে দিন। শিকিয়ে আসলে গলা আম গুলোকে নিয়ে আটির টুকরো গুলোর সাথে মুঠি করে করে লাগিয়ে দিন, তারপর আবার রোদে দিন।


এত সব আচারের রেসিপি জিবের জল আটকে কষ্ট করে পড়ার জন্য একটা বোনাস রেসিপি <img src=" style="border:0;" />

আমের আইসক্রীম:

যে জিনিস গুলো লাগবে .............

তরল দুধ ৩ কাপ
ঘন দুধ ১ কাপ
ডিমের কুসুম তিনটা(ভাল করে ফেটে নিতে হবে)
চিনি পরিমান মতো
আইসিং সুগার ৩ টেবিল চামচ
চিনি
আমের রস আর ছোট ছোট টুকরো দুই কাপ।

প্রথমে দুধ চিনি আর ডিম মিশিয়ে জ্বাল করুন। এরপরে মোটামুটি ঘন হয়ে আসলে এতে কর্নফ্লাওয়ার গুলো মিশিয়ে আবার ফোটান। ঠান্ডা হয়ে আসলে বাটিতে ঢেলে ডিপ ফ্রিজে রাখুন। এই মিশ্রনটা আধা আধি ভাবে জমাট বাধলে বের করে এতে আমের রস আর টুকরো, ঘন দুধ, আইসিং সুগার মিশিয়ে বিটার দিয়ে ভাল করে বিট করে আবার ফ্রিজে জামতে দিন। আধা ধি জমলে আবার বের করে ক্রীম মিশিয়ে বিটার দিয়ে বিট করে আইসক্রীমের ছাচে ঢেলে ডিপে জমান।



আচারের রেসিপি পোস্টের এখানেই সমাপ্তি। যারা এই পোস্ট পড়ে আমার বাসায় বেড়াতে আসার পরিকল্পনা করছেন তাদের সবার সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি, "আমি গেছি মার্কেটে বাড়িতেই নেই"<img src=" style="border:0;" /> ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29396321 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29396321 2011-06-13 22:16:36
রূপকথার জনপ্রিয় চরিত্র ব্যাঙ ও আনুষাঙ্গীক কিছু কথা।
অনেক অনেক দিন আগে বিজয়নগর রাজ্যের রাজার ছিল খুব সুন্দর এক রাজকণ্যা, নাম তার কংকাবতী। রাজবাড়ির পাশের ছোট্ট সবুজ একটা বন, সুন্দর ছোট্ট টলেটলে পানির একটা ঝর্ণাও ছিল সেখানে, ঐ বানটা কংকাবতীর খুব প্রিয় ছিল! সে মাঝে মাঝেই ওখানে বেড়াতে যেতো। একদিন ফুরফরে বাতাস বওয়া সুন্দর বিকালে রাজকুমারী বেড়াতে বেড়াতে একা একা সেই বনে চলে গেলো। তার হাতে ছিল সুন্দর একটা সোনালী বল, এই বলটা তার খুব প্রিয়। হাটতে হাটতে বল নিয়ে লোফালোফি করতে করতে সে ঝর্ণাটার কাছে এসে একটা পাথরের উপর বসলো। এমন সময় হঠাৎ তার হাত ফসকে বলটা ঝর্ণার পানিতে পড়ে গেলো, এত গভীরে চলে গেলো যে আর দেখায়ই যায় না।
রাজকণ্যার মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো বলের জণ্য। সে মুখ ফসকে জোরে বলে উঠলো " ইস, কোন ভাবে বলটা যদি আবার ফিরে পেতাম!!" যেই না এই কথা বলেছে, ওম্নি একটা মোটাসোটা কোলা ব্যাঙ, জলের উপর মাথা তুলে বলে উঠলো "কি গো রাজকণ্যা বলের জন্য মন খারাপ? আমি যদি তোমাকে বলটা তুলে এনে দেই, তাহলে কি তুমি আমাকে ভালবাসবে, তোমার সাথে তোমার রাজপ্রাসাদে থাকতে দেবে?"



মোটকা ব্যাঙটার এই কথা শুনে কংকাবতীর রাগ উঠে গেলো, "কি তোমার এত বড় সাহস! তুমি ভাবলে কিভাবে যে তোমার মতন এমন পচাঁ, বিশ্রী একটা ব্যাঙকে আমি আমার সাথে করে আমার ঘরে নিয়ে যাবো! তারপরও যখন এত করে বলছো যাও আগে আমার বলটা নিয়ে আসো তারপর দেখবো তোমার জন্য কি করা যায়।" কোলা ব্যাঙ খুশি হয়ে সাথে সাথেই এক ডুবে ঝর্নার নিচ থেকে বলটা তুলে এনে ডাঙায় ছুড়ে ফেললো! কংকাবতী তখন করলো কি বলটা তুলে নিয়ে এক দৌড়ে বাড়ি চলে গেলো, পাছে ব্যাঙটা আবার তার পিছু নেয়।
পরের দিন সকালবেলা রাজকণ্যা, তার বাবার সাথে বসে বসে নাস্তা খাচ্ছিল, এমন সময়ে বাইরের সিড়িতে একটা অদ্ভুত থ্যাপ থ্যাপ শব্দ আসতে লাগলো, যেনো কেউ লাফিয়ে লাফিয়ে উঠে আসছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই দরাজয় মৃদু নক শোনা গেলো, সর্দি বসা গলায় কেউ একজন সুর করে বলছে.........

প্রিয়তম রাজকণ্যা, দরজা খোল
দরজা খোল, তোমার ভালবাসার জন্য!
ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ
মনে আছে কি কথা দিয়েছিলে আমায়
সেই সবুজ শীতল বনে ঝার্ণার কাছে, গাছের ছায়ায়?
ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ

সেই গান শুনে রাজকণ্যা মনটা ভয়ে কেপে উঠলো, সে স্ত্রস্ত পায়ে দৌড়ে গিয়ে দরাজা খুলে দেখে সেই কুৎসিত ব্যাঙটা দাড়িয়ে। সে তখন দড়াম করে তার মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দিয়ে আবার ডাইনিং টেবিলে ফিরে গেলো। কংকাবতীর ভয়ার্ত মুখ দেখে রাজা জানতে চাইলেন কি হয়েছে, কে এসছে? তখন কংকাবতী আগের দিনের কথা সব খুলে বললো। সব শুনে রাজা বললেন, তুমি তো তাকে প্রতিশ্রূতী দিয়েছিলে, সেটা রাখা তোমার কর্তব্য!


অগত্যা দরাজ খুলে কংকাবতী ব্যাঙটাকে ভেতরে নিয়ে আসলো। ঘরে ঢুকে সেই কোলাব্যাঙ থ্যাপর থ্যাপর করে লাফিয়ে লাফিয়ে রাজকণ্যার চেয়ারের পাশে দাড়িয়ে বললো, তোমার পাশে আমাকেও একটা চেয়ারে বসাও। তাই করা হলো। তখন সে আবার হুকুম করলো তোমার প্লেটটা আমার কাছে নিয়ে আসো প্রিয়তমে, আমি ওখানে থেকে একসাথে খাব। তাও করা হলো, তখন ব্যাঙ মহাশয় পেট পুরে খেয়ে দেয়ে বললো, খেতে খেতে আমি খুব ক্লান্ত হয়ে পরেছি। এখন আমি ঘুমাবো, আমাকে তোমার ঘরে নিয়ে যাও। কংকাবতী আর কি করবে, সে রাগে গজ গজ করতে করতে ব্যাঙটাকে নিয়ে গেলো তার ঘরে।
ঘরে ঢুকে ব্যাঙ ইয়া বড় এক ফাল দিয়ে সোজা কংকাবতীর ছোট্ট বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লো! ব্যাঙটার কান্ড দেখে কংকাবতীর গা জ্বলে গেলো, সে চেয়ারে বসে রাত কাটিয়ে দিল। পরদিন সকালে উঠে ব্যাঙটা আর নেই দেখে সে ভাবলো যাক আপদ বিদায় হলো। এই ভেবে কংকাবতীর মনটা খুশি হয়ে উঠলো, কিন্তু সন্ধ্যার পরে তার সেই খুশি আর থাকলো না! আবার সে হাজির হলো সন্ধ্যায় এবং আবারও সেই এক ঘটনা। এভাবে পরপর তিনদিন গেলো। তৃতীয় দিনের সকালে ঘুম থেকে উঠে রাজকণ্যা দেখলো তার বিছানার ঘুমিয়ে আছে পরম সুন্দর এক যুবক। সেই সুন্দর পুরুষ ঘুম ভেঙে উঠে হতবাক হয়ে যাওয়া রাজকণ্যাকে বললো, ভয় পেয়ো না আমিই সেই কুৎসিত ব্যাঙ। আমি আসলে হীরকগড়ের রাজপুত্র কমলকুমার, এক ডাইনী বুড়িরর অভিশাপে ব্যাঙ হয়ে ঝর্ণায় ছিলাম, পরপর তিন দিন রাজকণ্যার বিছানায় ঘুমিয়ে সেই অভিশাপ কেটে গেছে। এখন আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই।
এরপর সাত দিন সাত রাত ধরে অনেক ধুমধাম করে তাদের বিয়ে হয়ে গলো। বিয়ের পর রাজপুত্র কমলকুমার ১৪ ঘোড়ায় টানা সোনার গাড়িতে করে রাজকণ্যা কংকাবতীকে তার হীরকগড়ের রাজপ্রসাদে নিয়ে গেলো। এরপর তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলো!



উৎপত্তি গত ভাবে পশ্চিমা এই গল্পের বিভিন্ন রূপ ভিন্ন ভিন্ন দেশে প্রচলিত আছে। ব্যাঙ নিয়ে এত ছড়া, গল্প এমনকি গানও রচিত হয়েছে প্রাণীকুলের মধ্যে আর কারও কিন্তু এতটা জনপ্রিয়তা দেখা যায় না, যতটা আছে ব্যাঙের! মাঝে মাঝে আমার খুব অবাক লাগে, ব্যাঙের মতন এমন বিশেষত্বহীন মোটামুটি কুদর্শন একটা প্রাণী কিভাবে সাহিত্য, মিথ, লোককথায় এমন অবস্থান করে নিল! শুধু বাংলা ভাষাতেই যদি আমরা ব্যকরণের দিকে তাকাই তাহলে ব্যাঙের সর্দি, ব্যাঙের ছাতা, ভেক এমন কত কত শব্দ! এমন অবস্থা কিন্তু পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশেই দেখা যায়।



ব্যাঙের ছাতা, মাশরুম গুলোর নাম কেন ব্যাঙের ছাতা হয়ে গেলো। এই ছাতার নীচে কখনো কি কোন ব্যাঙকে বসে থাকতে দেখা গেছে বর্ষায়?

যাই হোক, শুধু বর্তমান কালের এসব গল্প নয়, প্রাচীন অনেক সংস্কৃতির মিথে আর লোককথায়ও ব্যাঙের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দেখা যায়। এর কারণটা কি মানব সভ্যতার আদিম কোন টোটেম? যেমন প্রাচীন মিশরের কথা বলা যায়, মিশরীয় সভ্যতায় উর্বরতা আর জন্মের দেবী হেকেট। এই দেবীকে মাঝে মাঝে ব্যাঙের মাথা আর দেহ মানুব দেহের কম্পোজিট ফিগার হিসাবে দেখানো হয়ছে। পশ্চিমা মিথলজিতে প্রাক খ্রীস্টিয় বিশ্বাস অনুযায়ী ব্যাঙ হলো আত্মীক জাগরণের প্রতিক। গ্রেকো রোমান সভ্যতাতে ব্যাঙ আফ্রেদীতী আর ভেনাসের প্রতীক এবং উল্লখ্য যে এরাও কিন্তু প্রেম ও উর্বরতার প্রতীক!
হিন্দু পৌরানিক কাহিনীতেও ব্যাঙের উল্লেখযোগ্য অবস্থান রয়েছে, ঋগবেদ বলা হয়েছে, বিশাল এক ব্যাঙ তার মাথায় বিশ্বব্রক্ষ্মান্ডটা ধরে রেখেছে <img src=" style="border:0;" />! আবার বৈদিক গ্রন্থ অনুসারে ব্যাঙের ডাকাডাকির কারণেই বৃষ্টিপাত হয়। এই সংস্কারটা অবশ্য বর্তমান সমাজেও প্রচলিত, এমনকি ইউরোপীয় লোকাচারেও রয়েছে।



এখন কথা হলো, ব্যাঙকে কেন উর্বরতা আর জন্মের প্রতীক হিসাবে নির্ধারণ করা হলো? এর কারণটা কি ব্যাঙের অধিক সংখ্যায় ডিম দেয়া (প্রায় ৩০০০) আর বাচ্চা ফুটানো? বর্ষাকালে জলাশয়ে হাজার হাজার ব্যাঙাচির জন্ম নেয়া দেখেই কি তাকে উর্বরতা ও জন্মের রক্ষাকারী দেবতা হিসাবে চিন্হিত করেছিল প্রাচীন মানুষেরা?
এছাড়া ব্যাঙকে বৃষ্টি আর পানির উৎস মনে করে অনেক সভ্যতা আর ধর্মে একে উপাসনা করা হতো। যখন এই প্রাকৃতিক পানিই ছিল সেচ ব্যাবস্থার একমাত্র মাধ্যম, সেই সময়ে আদিম মানুষ খেয়াল করলো বৃষ্টির সাথে ব্যাঙের ডাকাডাকি আর গোষ্ঠি বৃদ্ধির একটা সম্পর্ক রয়েছে, সেই জন্যই কি তারা তখন ব্যাঙকে উর্বরতা, জন্ম আর জলের টোটেম হিসাবে নির্দিষ্ট করেছিল? আর সেই আদিম কৃষি ভিত্তিক সমাজে এটাই ছিল স্বাভাবিক।
তবে যে ভাবেই করা হোক না কেন, পূর্বপুরুষদের সেই রিতী কিন্তু এখনও পৃথিবীর বিভিন্ন সমাজ বহন করে চলেছে! যেমন পেরু আর বলিভিয়ার আয়মারা নামক ক্ষুদ্রজাতি গোষ্ঠিরা ছোট ছোট ব্যাঙের মূর্তি বানিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় রেখে এসে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করে। আমাদের বাংলাতেও প্রবল খড়ায় ব্যাঙের বিয়ে দিয়ে বৃষ্টিকে আহবান করা হয়!



তবে ব্যাঙ যে মানব সভ্যতায় সব সময়েই সমাদৃত হয়েছে, তাও কিন্তু না। মিলটনের প্যারাডাইজ লস্টে বর্নিত আছে ইভের মনে হিংসা আর সন্দেহের বীজ বপনকারী সেই দুরাত্মা ছিল একটা সোনা ব্যাঙ!! এছাড়া মধ্যযুগীয় ইউরোপে ব্যাঙকে শয়তানের প্রতীক হিসাবে ভাবা হতো, কারণ হলো ক্যাথলিক চার্চ গুলো থেকে বল হয়েছিল ব্যাঙ হলো ডাইনী চর্চার অন্যতম উপাদান। ছোটবেলায় আমরা শুনেছিলাম ব্যাঙাচি ধরলে হাত ঘা হয়, এই ধরনের অনেক সংস্কার বিভিন্ন দেশে প্রচলিত আছে! এভাবে দেখা যাচ্ছে কোন না কোন ভাবে এই এম্পিবিয়া গোত্রের প্রাণীটি মানব সংস্কৃতিতে কোন না কোন ভাবে জড়িয়ে গেছে।
পৃথিবীর বেশির ভাগ মানব সংস্কৃতির উপকথা, গল্প কাহিনীতে জড়িয়ে আছে সে। কল্পনাপ্রিয় মানুষেরা ব্যাঙকে অতি আপন ভেবেই বিভিন্ন চরিত্র রুপায়ন করেছে তাকে নিয়ে রূপকথা, সেটা সুবেশি রাজকুমার থেকে শুরু করে পাজি শয়তান পর্যন্ত। কিন্তু বর্তমানে যে ভাবে পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছে, জলাশয় গুলো ভরে গিয়ে নগর সভ্যতার অগ্রাসন চলছে তাতে করে সন্দেহ হয় যে আর কতদিন আমরা সেই ডোবাপুকুর থেকে রূপকথার অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র ব্যাঙের নস্টালজিক ডাক শুনতে পাবো!

উৎসর্গ: মাধ্যমিক শ্রেণীতে প্র্যাকটিকালের নামে অহেতুক যে নিরীহ ব্যাঙ গুলোকে ধরে ধরে মেরে ফেলেছি, তাদের স্মরণে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29388504 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29388504 2011-05-30 16:26:37
দ্যা কোড অফ হাম্বুরাবি .....চোখের বদলে চোখ!! That the strong might not injure the weak In order to protect the widows and orphans I have in Babylon... Set up these my precious words Written upon my memorial stone...!


ব্যাবিলনীয় সভ্যতার প্রথম সম্রাট হাম্বুরাবি (১৭৯২ খ্রী:পূ:-১৭৫০ খ্রী:পূ<img src=" style="border:0;" /> তিনি মেসোপটেমিয়ার আইন ও বিচার ব্যাবস্থা পূর্নগঠিত ও সুসংবদ্ধ করেছিলেন! তিনি যদিও ব্যাবিলন শহরের ষষ্ঠ সম্রাট ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে সুমের, আক্কাদ, এবং মেসোপটেমিয়ার অনেক অঞ্চল দখল করার পরে তিনি নিজেকে প্রথম সম্রাট হিসাবে ঘোষনা করেন!!
রাজ্য বিস্তারের পাশাপাশি কৃষি ব্যবস্থা উন্নয়ন জ্যোতির্বিদ্যা, গনিতচর্চা, সাহিত্যচর্চার বিকাশে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।
তবে তিনি যে কারণে আজও জগৎ বিখ্যাত হয়ে আছেন, সেটা হলো তার প্রনীত আইনের ধারা।

আনুমানিক ১৭৮৬ খ্রী: পূ: তিনি প্রায় ২৮২ টি আইনের ধারা প্রনয়ন মতান্তরে সংকলন করেছিলেন, এগুলো বেশির ভাগই ছিল পারিবারিক, দোষীদের শাস্তি, সামরিক আইন, নৈতিকতা, ব্যবসা বানিজ্য, দ্রব্যমূল্য ইত্যাদি সম্পর্কিত। হাম্বুরাবির প্রণীত এই আইনের ধারা গুলোকে বলা হয় " দ্যা কোড অফ হাম্বুরারি"। এবং এই ধারা গুলোকে রাস্ট্র পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত আবশ্যিক আইনের সর্ব প্রাচীন নিদর্শন হিসাবে গন্য করা হয়! এখানেই সর্ব প্রথম বিবাদীর নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের সুযোগ আর বাদি এবং বিবাদীর উভয়েরই আদালতে সাক্ষ্য প্রমান দেবার আধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিল।

১৯০১ সালে মিশরীয় প্রত্নতাত্বিক গুস্তাভ জ্যাকুয়ার ইরানের কাজাকিস্তান থেকে ব্ল্যাক ব্যাসল্টের একটা মানব আকৃতির stele আবিস্কার করেন যেখানে এই ধারা গুলো লিখিত ছিল। এছাড়া বেশ কিছু পোড়ামাটির ট্যাবলেটে এই আইনের ধারা গুলো উৎকীর্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা থেকে মনে হয় এই কোড গুলো তিনি এমন ভাবে ছড়িয়ে দিয়েছিলনে রাজ্য জুড়ে যাতে সমস্ত লোক তা পড়তে পারে!

বর্তমানে ল্যুভ মিউজিয়ামে রাখা এই ব্ল্যাক ব্যাসল্টের stele আক্কাদিয়ান ভাষায় কিউনিফর্ম লিপিতে আইন গুলো লেখা আছে!


তার আগে ৪০০ বছর ধরে বিভিন্ন সময় ছোট খাট আইনের কিছু ধারা বিভিন্ন রাজারা প্রনয়ন (যেমন উর এর রা প্রনিত আইন 'কোড অব উর নাম্মু (২০৫০ খ্রী পু', ) ইসিনের লিপট-ইস্তার (১৮৭০ খ্রি: পু) , করেলও এমন বিস্তৃত আর সংগঠিত আইন প্রনয়ন ও সংকলন হাম্বুরাবির হাত থেকেই হয়েছিল!
আইনের এই সর্বপ্রাচীন ধারা গুলোর সূচনা পত্রে তিনি তার আইন প্রনয়েনর উদ্দ্যেশটা এভাবে বর্নানা করেছিলেন " to promote the welfare of the people, I, Hammurabi, the devout, god-fearing prince, cause justice to prevail in the land by destroying the wicked and the evil, that the strong might not oppress the weak!"


পোড়ামাটির ফলকে কিউনিফর্মে লিখিত হাম্বুরাবির আইন।

যাই হোক এবার সেই আইনের ধারা থেকে বিশেষ কিছু আইন দেখে নেয়া যাক, কেমন ছিল সেই প্রাচীন আইন গুলো.........

১। কোন ব্যাক্তি যখন অন্য আরেকজনের নামে কোন অভিযোগ করবে তখন অভিযুক্তকে নদীর পানিতে ঝাপিয়ে পরতে হবে, যদি অভিযুক্ত ব্যাক্তি ডুবে যায়, তাহলে প্রমানিত হবে যে সে আসলেই দোষী এবং তখন আভিযোগকারি আভিযুক্তের ঘর বাড়ি সব পেয়ে যাবে। আর যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি কোন ধরনের আঘাত ছাড়াই নদীর পানি থেকে সাতরে তীর চলে আসতে পারে তাহলে প্রমানীত হবে যে সে আসলে নির্দোষ। এক্ষেত্রে মিথ্যা অভিযোগ আনার কারণে অভিযোগকারীর মৃত্যুদণ্ড হবে (কোড-২)

হালের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা আইনজীবীদের যেমন তাদের ভুলভাল কাজের জন্য তেমন কোন হিসাব নিকাষ দিতে হয় না, বেশির ভাগ সময়েই তাইরে নাইরে বলে আইনের ফাঁক গলে বের হয় যায়, সেই সময়ে কিন্তু এদের সেই সুব্যবস্থা ছিল না.............

২। কোন বিচারকের কোন লিখিত রায় যদি পরবর্তিতে ভুল প্রমাণীত হয় এবং যদি দেখা যায় যে ভুলটা ঐ বিচারকের নিজের কারণে হয়েছে , তাহলে তিনি শাস্তি হিসাবে যে জরিমানা করেছিলেন তার ১২ গুন বেশি জরিমানা তাকে দিতে হবে! এবং ..........এবং জনসমুক্ষে তাকে বিচারকের আসন থেকে আপসারণ করা হবে, আর ভবিষ্যতে সে কখনোই বিচার কাজে অংশ নিত পারবে না! (কোড---৫)

৩। শল্য চিকিৎসার সময়ে ডাক্তারের ভুলের কারণে রোগীর মৃত্যু হয় বা অংগহানী হয় ডাক্তারে হাত কেটে দেয়া হবে! (কোড---২১৯)

৪।যদি কোন ইঞ্জিনিয়ারের ভুলের কারণে কোন বাড়ি ভেংগে যায় এবং এই কারনে যদি সেই বাড়ির মালিকের মৃত্যু হয়, তাহলে ঐ নির্মাতার মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে! আর যদি এর কারণের মালিকের পুত্র সন্তান মারা যায়, তাহলে ঐ নির্মাতার পুত্রকে মেরে ফেলা হবে!!! (কোড---২২৯ এবং ২৩০)



চুরি ডাকাতির শাস্তি ছিল বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মৃত্যুদণ্ড......

৫। যদি কোন ব্যক্তি কোন বাড়ির দেয়াল ভেঙ্গে বা গর্ত করে চুরি করতে গিয়ে ধরা পরে ও দোষ প্রমানীত হয়, তাহলে সেই গর্তের সামনেই তার মৃত্যুদণ্ড হবে এবং সেখানেই তাকে পুতে ফেলা হবে! (কোড---২১)

কৃষি ও ব্যাবসা বানিজ্য সংক্রান্ত আইন গুলো মোটামুটি কার্যকর ছিল.....

৬।যদি কোন রাজার দূর্ভাগ্যের কারণ কোন সৈনিক শত্রুপক্ষের হাত ধরা পরে তাহলে সেই লোক বা সৈনিকের প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে, অথবা তার স্ত্রী তার জমি এবং বাগানের মালিকানা পাবে। তবে এই সম্পত্তি তারা বিক্রী করতে পারবে না, তবে ভাড়া দিতে পারবে! আর সেই সৈনিক বা ব্যক্তি যদি ফিরে আসে কখনো, তবে সাথে সাথে তার জায়গা জমি সব সাথে সাথে ফেরত দিতে হবে!(কোড----২৭ থেকে ৩৬)

৭। কোন কৃষক চাষের জন্য টাকা ধার নিল বা জমি ভাড়া করার পর সেই বছরে প্রবল ঝড় বৃষ্টি বা খড়ার কারণে ফসল উৎপাদনে সমর্থ না হলে, সেই বছর তাকে ঋণের টাকা বা জমির ভাড়া দিতে হবে না!

৮।যদি কোন জালধারের মালিক খুব অলস হয়, আর সেই অলসতার কারণে তার জলাধারের পাড় ভেঙ্গে পানি আশেপাশের জমির ফসল ভাসিয়ে নিয়ে যায়, তাহলে ঐ জলাধারটি নিলামে বিক্রী করে দেয়া হবে। আর সেই টাকা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে!

৯।কোন বনিক ব্যবসার উদ্দ্যেশ্যে বিনিয়োগ কারীর কাছ থেকে টাকা ধার নিল, কিন্তু বানিজ্য যাত্রা পথে দুস্কৃতিকারীরা তার সব টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে যায় সেক্ষত্রে যদি বনিক দেবতার নামে কিরা কেটে বলে যে আসলেই সে ছিনতাই হয়েছে, তাহলে বিনিয়োগকারি তার সকল দাবীদওয়া তুলে নেবে!

পারিবারিক আইন গুলো বেশ ফলপ্রসু ছিল আবার কিছুকিছু আইন হাস্যকর.............

১০। যদি বিবাহিত স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কোন রকম দৈহিক সম্পর্ক স্থাপিত না হয়, তাহলে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক আর থাকবে না! (কোড---১২৮)

১১। যদি কোন স্ত্রী অন্য কোন পুরুষের সাথে পরকিয়া সম্পর্কে আবদ্ধ হয়, তাহলে দুজনকেই বেধে নদীতে নিক্ষেপ করা হবে, তবে স্বামী যদি স্ত্রীকে ক্ষমা করে দেয় তাহলে সে আর কোন শাস্তী পাবে না, শাস্তী পাবে প্রেমিক প্রবর একাই!(কোড----১২৯)

১২।যদি কোন ব্যাক্তি তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দিতে চায়, এবং তার যদি কোন সন্তান থাকে তাহলে সে তার সমুদয় সম্পত্তি, বাগান ও জমির একটা অংশ স্ত্রীকে দিতে বাধ্য থাকবে, সন্তানেরা তার মায়ের সংগে থাকবে! সন্তান বড় হলে স্ত্রী চাইলে আবার বিয়ে করতে পারবে!
তবে যদি সেই স্ত্রী ঝগড়াটে স্বভাবের হয়, স্বামীর উপর অত্যচার করে, অমান্য করে, এমন প্রমাণিত হয়, তাহলে সে যদি বিবাহ বিচ্ছেদ চায়, সেক্ষেত্রে স্বামীর সম্পত্তির কিছুই সে পাবে না, স্বামী অনুমতি দিলে সে ঘর ছেড়ে চলে যেতে পারবে! আর যদি স্বামী ঘর ছাড়ার অনুমতি না দেয় তাহলে স্বামী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করার পরে সেই ঘর গৃহকর্মী হিসাবে থাকবে!(কোড---১৪১ থেকে ১৪৮)

১৩। একজন বিবাহিত পুরুষ তার স্ত্রী ও সন্তান বর্তমান থাকাকালিন সময়ে দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবে না। তবে তাঁর স্ত্রী যদি অসুস্থ হয় তাহলে আরেকটা স্ত্রী গ্রহণ করতে পারবে। এবং অসুস্থ স্ত্রী কে অবশ্যই স্বামীর গৃহেই থাকবে এবং তার যাবতিয় স্বামীকেই বহন করতে হবে!

বাবা মা কে অপমান আবমাননা করার শাস্তি ছিল ভয়ংকর (এটা এখন আবার প্রচলন করা দরকার)..........

১৪।যদি কোন পালক সন্তান তার বাবা মা কে বলে যে "তুমি আমার বাবা/মা নও" তাহলে তার জিব কেটে নেয়া হবে! (কোড---১৯২)

১৫। যদি কোন সন্তান তার পিতাকে শাররিক ভাবে আঘত করে তবে তার হাত কেটে নেয়া হবে! (কোড---১৯৫)

কিলাকিলি মারামরি করার শাস্তি ছিল জম্পেস.............

১৬। মারামরি করে কোন ব্যাক্তি অন্য কোন ব্যাক্তির চোখ তুলে নিলে আক্রমনকারীরও চোখ তুলে নেয়া হবে। যদি হাড় ভাংগে তাহলে আক্রমনকারীরও একটা হাড় ভেংগে দেয়া হবে! দাঁত ভাংগলে দাঁত তুলে ফেলা হবে! (কোড----১৯৬ থেকে ২০৫)

১৭। যদি কোন লোক কোন গর্ভবতী মহিলাকে আঘাত করে এবং এইকারণে যদি সেই মহিলা মারা যায়, তাহলে আক্রমনকারীর মেয়েকে মেরে ফেলা হবে (মেয়ে না থাকলে কি হবে সেই কথা অবশ্য লেখা নাই)। (কোড---২০৯-২১০)


আমি উল্লেখযোগ্য কিছু ধারার কথা লিখলাম, হাম্বুরাবির আইনের সকল ধারা গুলো জানতে এখানে ঢু মারুন The code of Hamburabi



কিউনিফর্মে লিখিত ডিটেইলস, দেখেন তো কিছু পড়া যায় কিনা!

একটা বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, উপরে যে আইন সমূহের কথা লিখলাম, এগুলো সবই ছিল স্বাধীন মানুষদের জন্য, ক্রীতদাসদের জন্য একই অপরাধের আইন ছিল ভিন্ন। যেমন কোন স্বাধীন মানুষের আক্রমনে কোন ক্রীতদাসের যদি অঙ্গহানী বা মৃত্যুদন্ড হতো, সেক্ষেত্রে কিন্তু এটা আর প্রযোজ্য ছিল না! এসব ক্ষেত্রে স্বাধীন মানুষের শুধু অর্থদন্ড হতো!

যদিও অনেক গবেষকগনই হাম্বুরাবির এই আইন সমূহকে চরমপন্থী আর ক্রুর হিসাবে চিন্হিত করেছেন, তবুও আইনের শাসনের ভিত্তি স্থাপনে এর অবদান আস্বীকার করার উপায় নেই! হাম্বুরাবীর এই আইন পরবর্তিতে অন্যান্য ধর্মে ও রাজ্যের আইনের উপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করেছিল! বিশেষ করে জাস্টিনিয়ানের আইন, বাইবেলের বেশ কিছু বিষয়ের সাথে এর মিল খুজে পাওয়া যায়! কোন কোন ঐতিহাসিকদের মতে বাইবেলে উল্লেখিত নমরুদই ছিলেন প্রকৃত পক্ষে হাম্বুরাবি!
হাম্বুরাবি হযরত ইব্রাহিমের সমসাময়িক ছিলেন, এবং অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন হযরত মুসা সরাসরি এই হাম্বুরাবির আইন গুলোকেই কিছুটা সংস্কার করে ঈশ্বর প্রেরিত আইন হিসাবে প্রচার করেছেন!!! তবে এটা নিয়ে এখনও অনেক দ্বিমত রয়েছে!

তথ্যসুত্র: Code of Hammurabi....... C. H. W. Johns বিশ্বসভ্যতা...........এ কে এম শাহনেওয়াজ

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29381189 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29381189 2011-05-14 22:49:39
কবুতর কাহিনী .... বলল্লাম কোথায় আসছে বাবা, তোমার বইতে? না তো, সে চোখ বড় বড় করে বললো, 'দেখ আমান ঘরে আত্তে'। তুমি আতো, এই বলে আমার হাত ধরে টানাটানি শুরু করে দিল। অগত্যা আর কি করা, কবু পাখি দেখতে আমিও তার পিছু পিছু হাজির হলাম। বেডরুমে এসে দেখি, ওমা সত্যিই তো জানালার গ্রীলে একটা সাদা কালো ছিট ছিট আর একটা নীল গলা ধুসর কবুতর বসে আছে!

ইনি হলেন তিনি


আর ইনি হলেন তিনি'র উনি

দেখে অবশ্য তেমন অবাক হইনি, কারণ আমাদের দু'বাসা পরেই এক বাসার ছাদে কবুতেরর খোপ দেখেছি, ওদেরই হবে।

তারপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই অফিস থেকে ফিরে সোহার মুখে তার নুতন বন্ধু কবু পাখিদের বিবরনী শুনতে হলো, বুঝলাম ইদানিং তারা এদিকে বেশ ঘোরাঘুরি করছে!
একদিন সোহা বললো, মা মা আমি কবু পাখির ডিম খাবো। আরে কি মুশকিল, কোথায় কবুতরের ডিম পাবো আমি!!
বাবা ওটা তো দোকানে পাওয়া যায় না, বল্লাম আমি! না মেয়ের ভয়াবহ জেদে, সে বলে 'আতে তো।' কোথায় আছে দেখাও, বলাতে ও ওর
বাবাকে টেনে নিয়ে গেলো জানালার কাছে।

সত্যিই দেখি পাশের বাসার এসি রাখার চৌকা খালি খাঁজের মধ্যে একটা ডিম পরে আছে কয়েকটা খড়কুটোর মধ্যে। এটা হলো সেই সাদা কালো ছিট ছিট কতুবতরের কান্ড, উনি বাসার পাশে বেস আছেন! কিছুক্ষন পরে দেখি, না দেখি আরেকজনও এসে হাজির। আর ইনি হলেন সেই নীল গলা ধুসর কবুতরটা। তারা দু'জনা এখানে বাসা বানিয়েছেন, আমাদের নতুন প্রতিবেশি!


প্রথমে এদের বাসাটা এমনই খড়কুটো শূণ্য ছিল

এখন তারা একটু গুছিয়ে নিয়েছে

এরপর থেকে সোহার সাথে প্রতিবেশিদের খোঁজ খবর নেবার নতুন আরেক সংগী জুটে গেলো, সোহার বাবা। একদিন দেখি একমাত্র ডিমটা গড়িয়ে কারণিশের কোনার চলে এসছে। দেখে বাবা মেয়ের সাথে সাথে সাথে আমারও একটু একটু দুশ্চিন্তা হলো, যদি পরে যায়!! বেশ টেনশনে ছিলাম দু'দিন, কি অদ্ভুত মানুষের মন তাই না!


পরো পরো সেই ডিমটা

পরে দেখি মা কবুতরটা (নীল গলা ধুসর কবুতরটা) কোন এক সময়ে আবার ঠেলে ঠেলে ভেতরে নিয়ে গেছে!

যাই হোক, এদের এমন ফার্নিচার বিহীন শূণ্য বাসা সোহার বাবার তেমন পছন্দ হচ্ছিল না। তাই সে করলো কি, ছাদে উঠে আমাদের পুরানো গাছপালার পাতা, ঘাস, আমার ফুলদানীর ড্রাই ফ্লাওয়ার থেকে ঘাস জাতীয় লতা গুলো নিয়ে পাশের সানসেটে ফেলে রাখতে রাখলো প্রায় প্রতিদিনই। দোকান থেকে সরিষাদানা কিনে আনলো, মায়ের যথেষ্ট পুষ্টির দরকার এখন তাই, সকালে বিকালে সানসেটে সরিষা ফেলে অপ্যায়নও চলছে সমান তালে। যাতে খাবারের জন্য বাবা মায়ের বেশি দূরে কোথাও যেতে না হয়<img src=" style="border:0;" />

আমাদের ফেলে রাখা ঘাস গুলো নিয়ে যাচ্ছে বাবা কবুতরটা। মজার ব্যাপার হলো এরা শুধু শুকনো ঘাস বা লতাই শুধু নেয়, এই ঘাসের ঝোপটা তাজা ছিল, তখন নেয়নি, শুকিয়ে যাবার পর নিচ্ছে!

সারাদিন এরা পালা করে ডিমে তা দেয়, তবে রাতে শুধু মা কবুতরটা থাকে। বাবা কবুতর সামনের সানসেটে ঘুমায়।

আমি খেয়াল করেছি বাবাটা একটু অগোছালো, উড়ে এসে ধপাস করে বাসায় বসে পরে, খড়কুটো গুলো এলোমেলো করে দিয়ে। একবার উল্টা হয়ে বাসে, আবার সোজা, এমন করতেই থাকে। এই যে বসেই খড় গুলো এলোমেলো করলো


এরপর সোজা হয়ে বসলো


আবার উল্টো দিকে ঘুরলো!

এরপর আবার সোজা হয়ে বসেছিল, ছবি বেশি হয় যাবার জন্য দিলাম না! ওর রকমসকম একদম মানুষ বাবাদের মতোই অস্থির, চঞ্চল, ঘর অগোছালো করতে ওস্তাদ <img src=(" style="border:0;" />
আর মা কবুতরটা খুব লক্ষী, প্রথমে বাসার কাছে একটু দাড়ায় তারপর সন্তর্পনে সাবধানে বাসার এসে বসে, আর কোন রকম নড়াচড়াই করে না, শুধু ঘার ঘোরানো ছাড়া।



সেদিন দেখি তাদের সংসারে নতুন অতিথি এসেছে, মানে আরেকটা ডিম পেরেছে।
ওদের বাসায় ডিমের সংখ্যা এখন দুটো।


বাবা কবুতরটা খড়কুটো গুলো নিয়ে গিয়ে বাসায় রাখে, আর মা কবুতরটা ডিমে তা দিতে দিতেই ঠোট দিয়ে সেগুলো চারপাশে গুছিয়ে রাখে। আরেকটা খুব মজার ব্যাপার, প্রতিবার খর বা খাবার দিয়ে উরে যাবার আগে বাবা কবুতরটা মা কবুতরের মাথায় ঠোট দিয়ে আস্ত ঠুকরে দেয়ে, দারুন ভালবাসা।

একটি একান্ত মূহুর্তে তারা

তবে তাদের এই ভালবাসাবাসীর সংসারে কিছুদিন হলো দুই ভিলেনের আবির্ভাব হয়েছে।
সেদিন সকালে হলো কি দুই ছেলে এসে হাজির, কবুতর গুলো নাকি ওদের, ওরা খুঁজে খুঁজে বের করেছে। মানে ঘটনা হলো দুই বাসার দু'জন প্রেমে করে পালিয়ে এসে বাসা বেধেছে আমাদের বাসায়। এখন ওরা কবুতর গুলো ধরতে এসেছে। ওদিকে সোহা আর তার বাবা কিছুতেই এখন ধরতে দেবে না ওদের, সে এক বিশাল চৌকাটেবিল মিটিং দুই পক্ষের!
শেষ পর্যন্ত পলাতক কবুতরদ্বয়ের লোকাল গার্জিয়ান হিসাবে সোহার বাবা দাবি করেছে পলাতকদের এখন নেয়া যাবে না, আগে বাচ্চা হোক তারপর দেখা যাবে।

আরেক ভিলেন হলেন আমাদের বাড়িওয়ালার মোটা কালো মেনি বেড়াল, ইনি অবশ্য এখনও মনে হয় খবর পায়নি।
যাই হোক দোয়া করবেন যাতে এদের সুখের সংসারে এই সব দুস্কাকৃতিকারীরা কাটা না হতে পারে। বাচ্চা ফুটলে পোস্টে আপডেট দেবো.....
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29373907 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29373907 2011-05-02 21:29:08
..........ডাইনী বুড়ি, মুইল্লা ও পাতি শিয়াইল্লার গল্প...........
এই কথা শুনে মুইল্লা মাকে বলে, মা তুমি কোন চিন্তা করিয় না, মুই ব্যবস্তা করতে আছি।
তখন সে বেড়ূলো পাড়া বেড়াতে, মোড়লের বাড়িতে, গিয়ে বসলো তাদের চালের বস্তার উপরে। মোড়ল গিন্নীর সাথে একথা সে কথার বলার পরে, যেই না একটু গিন্নি একটু ওপাশে গেছে, আর অম্নি মুইল্লা করলো কি চালের বস্তা হাতে নিয়ে দিল একটা দৌড়। মোড়ল গিন্নী দৌড়ে এসে বলে 'ঐ মুইল্লা মোগ ধানের ছালা দিয়া যা।' মুইল্লা দৌড়ায় আর উত্তর দেয়,'হে তো মুই নেই নাই, মোর হাতেএ নিছে।'
এর পরে আরেক বাড়িতে গিয়ে বসলো তাদের গুড়ের পিপার উপর, তারপর সুযোগ বুঝে পিপা নিয়ে আবার দৌড়। বাড়ির মালিক দৌড়ে এসে বললো" ঐ মুইল্লা মোগ গুড়ের পিপাগ্গা দিয়া যা।' মুইল্লা দৌড়ায় আর উত্তর দেয়,'হ্যা তো মুই নেই নাই, মোর হাতেএ নিছে।'

এভাবে একে একে তেল, নুন সব জোগার হলো, মুইল্লার মা মহানন্দে পিঠা তৈরি করে দিল, আর মুইল্লা ততোধিক আনন্দে সব পিঠা বসে বসে খেয়ে ফেললো। আর একটা পিঠা নিয়ে তাদের বাড়ির পাশের বনের ধারে মাটিতে পুতে রাখলো। সেদিন খুব বৃষ্টি হলো, পরের দিন সকালে মুইল্লা গিয়ে দেখে, ওমা দিব্যি একটা বড় সর পিঠার গাছ হয়ে আছে আর তাতে নানা রমক পিঠা, পুলি পিঠা, চিতই পিঠা, পাটিসাপটা, পাকন পিঠা কি নেই। দেখে তার আনন্দ আর কে দেখে, সে সারাদিন গাছে চরে বসে থাকে আর পিঠা পেরে পেরে খায়।


এমন সময় একদিন ঐ দিক দিয়ে একটা ডাইনী বুড়ি যাচ্ছিল, নাদুস নুদুস মুইল্লাকে দেখে তার খুব লোভ হলো, সে ভাবলো কিভাবে এটাকে ধরা যায়! তখন সে থুথ্থুরে বুড়ির চেহারা নিয়ে মুইল্লার পিঠা গাছের নীচে এসে হাজির হলো।
বুড়ি বলে 'ও মুইল্লা মোরে এট্টা পিঠা দে", মুইল্লা একটা গোলাপ পিঠা ছিড়ে দিল নীচে, বুড়ি খেয়ে বলে 'এইডু লাগে নাই মোর লেপেও'। তখন মুইল্লা আরেকটা দুধ চিতই দিল, সাথে সাথে খেয়ে ফেলে বুড়ি বলে "এইডু লাগে নাই মোর ছ্যাপেও। মুইল্লা তুই নীচে নাইম্মা আও, মোর হাতে হাতে দেও মুই পাতে পাতে খাই।" এই কথায় সে যেই না নীচে এসে পিঠা দিতে গিয়েছে, আর অম্নি বুড়ী তাকে খপ করে ধরে ঝপ করে পোটলার মধ্যে নিয়ে চললো।


যেতে যেতে বুড়ির আবার প্রকৃতির ডাক এসে গেলো, সে তখন বস্তাটা একটা রাস্তার পাশে ঝোপের আড়ালে রেখে কাজ সেরে আসতে গেলো। তখন বস্তার ফাঁক দিয়ে মুইল্লা দেখে কাছেই মাঠে এক কৃষক কাজ করছে, সে ডেকে বলে চাষী ভাই আমাকে একটু বস্তা খুলে দাও না, আমি তোমার মাঠের অনেক কাজ করে দেবো। মুইল্লার অনুরোধে চাষী বস্তার মুখ খুলে দিল, আর মুইল্লা তখন করলো কি বস্তার মধ্যে কাদা, কাটা ঝোপ, পাথর এই সব হাবিজাবি ভরে ঝোপের আড়ালে লুকলো। বুড়ি এসে দেখে যেমন বস্তা তেমনই আছে, সে খুশি হয় আবার বস্তা কাঁধে নিয়ে হাটা শুরু করলো। কিছু দুর যায়, ধুম করে পাথর গড়িয়ে পরলো বুড়ির পিঠে, আর বুড়ি করলো মুইল্মলা বুঝি তার পিঠে কিল দিচ্ছে, সে বলে " ও মুইল্লা তুই মোরে কিল মারো, দাড়া বাড়ি যাই, হেপর তোর একদিন কি মোর একদিন।' আবার কিছুক্ষন পরে লাগলো কাঠা ঝোপের খোঁচা, বুড়ি মনে করে মুইল্লা বুঝি চিমটি দিল, সে আবার শাসায় " ও মুইল্লা তুই মোরে চিমটাও, দাড়া বাড়ি যাই, হেপর তোর একদিন কি মোর একদিন।" এভাবে খোঁচা, গুতো খেতে খেতে বুড়ি বাড়ি পৌছে গেল। গিয়ে ছেলের বউকে ডাকলো বউ বউ দেখো কি নিয়ে এসছি, এটাকে কেটে কুটে রান্না করো। বউ এসে গদগদ হয়ে বস্তার মুখ খুলে দেখে, ওমা একি, এযে শুধু পাথর, কাটা ডাল আর কাদামাটি!!
দেখেতো রাগে বুড়ির ব্রক্ষতালু জ্বলে গেলে, রাগে গজ গজ করতে করতে সে আবার রওনা হলো মুইল্লাকে ধরতে।


আবারও আগের মতো পিঠা গাছের নীচে আসে বুড়ি বলে 'ও মুইল্লা মোরে এট্টা পিঠা দে", মুইল্লা একটা চিতই পিঠা ছিড়ে দিল নীচ, বুড়ি খেয়ে বলে 'এইডু লাগে নাই মোর লেপেও'।
তখন মুইল্লা আরেকটা পাটি সাপটা দিল, সাথে সাথে খেয়ে ফেলে বুড়ি বলে "এইডু লাগে নাই মোর ছ্যাপেও। মুইল্লা তুই নীচে নাইম্মা আও, মোর হাতে হাতে দেও মুই পাতে পাতে খাই।'
তখন মুইল্লা যেই আবার পিঠা দিতে নীচে নেমে এসছে, ওমনি বুড়ি তাকে আবার খপাস করে ধরে ঝপাস করে বস্তায় ভরে দে দৌড়, এবার আর রাস্তায় থামাথামি নেই, এক্কেবারে বাড়ি চলে আসলো। বউকে বললো, বউ এইবার আর কোন ভুল হয়নি, তুমি মুইল্লাকে বের করে রান্না করো আমি তোমার বাপের বাড়িতে দাওয়াত দিয়ে আসি।

তখন ডাইনীর ছেলের বউ বস্তা খুলে মুইল্লাকে বের করলো, বের হাবার সাথে সাথে সে বউটার দিকে তাকিয়ে বত্রিশ দাঁত বের করে দিল একটা হাসি। তার দাঁত গুলো ছিল মুক্তোর মতো ধবধবে সাদা, সেই সাদা দাঁতের হাসি দেখেতো বউয়ের চোখ ধাধিয়ে গেলো আর একটু হিংসাও হলো। কারণ বউটার দাঁত ছিল এবরোথেবরো উচু উচু, আর ময়লা। বউ বলে, মুইল্লা তোমার এত সুন্দর দাঁত হলো কিভাবে, আমাকে এমন দাঁত করে দিবা? মুইল্লা বলে অবশ্যি দেবো, যাও তুমি একটা খুন্তী গরম করে নিয়ে আসো, আমি তোমার দাঁত ঠিক করে দিচ্ছি। তখন বউ দৌড়ে গিয়ে চুলা খুন্তি গনগনে গরম করে নিয়ে আসলো, আর মুইল্লা করলো কি সেই খুন্তি দিয়ে দিল ডাইনীর বউটার মুখে একটা ঘা,আর বউটা তাতে গেল ফট করে মরে। তখন মুইল্লা বউটার শাড়ি জামা পরে বউ সেজে রইলো, আর ঘরের পাশ দিয়ে একটা শেয়াল যাচ্ছিল সেটাকে ধরে রেধে বেড়ে চুপ করে বসে রইলো। রাতে সবাই এসে মজা করে খেয়েদয়ে ঘুমাতে গেলো।


তখন বউকে মুইল্লা বুড়িকে বলে, মা মা ঘরে পানি নাই, চলেন পুকুর থেকে পানি নিয়া আসি। বুড়ি বলে না এখন লাগবে মা, না সকালে এনো, মুইল্লা বলে না মা এখনই চলেন!
তখন দুজনে মিলে কলসি নিয়ে গেলো পুকুরে, পুকুরে অনেক পদ্ম ফুটে আছে দেখে মুইল্লা বলে, মা মা আমি একটা ফুল নিয়া আসি। শাশ্বড়ি আর কি করবে, বলে যাও নিয়া আসো। তখন মুইল্লা সাতারে সাতরে একদম পুকুরের অন্যপারে চলে গেলো, তারপর পাড়ে উঠে "বুড়ি তোর বউ তুই খাইলি, মোর দেখলি টিক্কিটা" এই বলে এক দৌড়ে বাড়ি চলে গেলো /<img src=" style="border:0;" /> /<img src=" style="border:0;" />



এই গল্পটা খাঁটি বরিশালের ভাষায় আমার নানুর কাছ থেকে শুনেছিলাম, ছোট বেলায়। নানুর ঘরে বড় বড় দুটো পালংক ঝোড়া দেয়া থাকতো সব সময়, যাতে তিনি তার সব নাতী নাতনীদের নিয়ে ঘুমাতে পারেন। সেই পালংকে শীতের দিনে লেপ মুড়ি দিয়ে এই সব কিম্ভুত গল্প শুনতে এত ভাল লাগতো, আরেকটা গল্প বলতেন, 'পাতি শিয়াইল্লার' গল্প! কি অদ্ভুত না ছিল সেই সব গল্প গুলো। পাতি শিয়াইল্লার গল্পটা ছিল..............
একবার গ্রামের লোকেরা শিয়ালের যন্ত্রনায় অস্থির হয়ে বেশ কিছু শিয়াল মেরে ফেললো। এই আক্রমনে পাঁতি শিয়ালের মা, বাবা, ভাই আর বউ মারা গেলো। এই সময়ে সে আবার গিয়েছিল পাশের গ্রামে মুরগি চুরি করতে, ফলে সে যাত্রায় সে বেচে গেলো। তখন পেচা ভাবলো, যাই পাতি শিয়ালকে খবরটা দিয়ে আসি। এই ভেবে পেচা গিয়ে দেখে পাতি শিয়াল গাছের নিচে বসে মুরগীর ঠ্যাং খাচ্ছে, সে তখন তাকে বললো, পাতি শিয়াইল্লা তোর মায় মরছে', পাতি শিয়াল শুনে বলে 'উহ'। তারপর বললো পাতি শিয়াইল্লা তোর বাপ মরছে, পাতি শিয়াল শুনে বলে 'আহ'। এরপর পাতি শিয়াইল্লা তোর ভাই মরছে, পাতি শিয়াল শুনে বলে 'হায়'। তারপর যেই না বললো পাতি শিয়াইল্লা তোর বউ মরছে, পাতি শিয়াল শুনে বলে 'উহ আহ হায় হায় হায় হায়' <img src=(" style="border:0;" /> <img src=(" style="border:0;" /> <img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" />।

যাই হোক সেই খাঁটি বরিশালের ভাষা থেকে অনুবাদ করে দিলাম গল্পটা, কেমন হলো?? <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29367276 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29367276 2011-04-22 15:55:24
গোরস্থানে সাবধান!!!............ঢাকার আর্মেনীয় সমাধিক্ষেত্র ! মেঝ বেলায় সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদার একটা বই পড়েছিলাম 'গোরস্থানে সাবধান' নামে, সেখানে কোলকাতার সাউথ পার্ক স্ট্রিটেরপ্গোরাচীন এক খ্রীস্টান কবরস্থানের দারুন জাকালো বর্ণনা ছিল, যাতে জোব চার্নকের সমাধিটাও আছে। মুলত: এই বইটা পরেই এ ধরণের সমাধিক্ষেত্র সম্পর্কে আগ্রহান্বিত হয়েছিলাম, খোজ নিতে থাকলাম বাংলাদেশেও কি আছে এমন? অবশেষে খোজ মিলল ঢাকার ওয়ারির খ্রিস্টান সমধিক্ষেত্রের। এম্নিতে গোরস্থান শব্দটি শুনলে আমার কেন যেন একটা গা ছমছমে অনুভুতি হয়! তবে দিনের বেলা তো ভুতের ভয় নেই, তাই একদিন সাহস করে চলে গেলাম ঢাকার ওয়ারির খ্রিস্টান সমধিক্ষেত্রের সমাধি সৌধ গুলোকে দেখার জন্য।

সমাধি বা কবরের উপরে বিশেষ আকারে বানানো স্মৃতিসৌধকে সমাধি সৌধ বলা হয়। মিশরের বিখ্যাত পিরামিড কিংবা ভারতের তাজমহল এই সমাধিসৌধের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। মৃতদেহের সাথে ফুল ও বিভিন্ন দ্রব্য শ কবরদেবার প্রথা ৫০,০০০ বছর আগে প্রচিলত ছিল! এর পরে কালের সাথে সাথে সমাধি আর সমাধি সৌধ নির্মানের পদ্ধতিরও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তাই এই সমাধি সৌধ গুলো ইতিহাস আর ঐতিহ্যের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বাংলাদেশের উপনিবেশিক শাসনামলে সমাধি সৌধ স্থাপত্য নির্মানে এক নতুন ধারা সংযোজিত হয়, এর চমৎকার একটা নির্দশন হলো ঢাকার ওয়ারিতে অবস্থিত নারিন্দা খ্রিস্টান সমাধিক্ষেত্র!
বাংলায় বসবাসরত বৃটিশরা এই সমাধি ক্ষেত্রটি নির্মাণ করেছিলেন, যা বাংলার অন্যতম বৃহৎ সমাধিক্ষেত্র ।অনুমানিক ৬।৪৫ একর জমির উপর নির্মিত এই সমাধিক্ষেত্রটি তৎকালনী ইউরোপীয় ব্যবাসায়ী ও তাদের পরিবার পরিজনদের জন্য নির্ধারিত ছিল, এছাড়া সিপাহী বিদ্রোহের সময় লালবাগ দূর্গে নিহত সৈনিকদের সমাধিও এখানে আছ্বে।

১৮৭০ সালে তোলা নারিন্দা খ্রিস্টান সমাধিক্ষেত্রের ছবি!
এখানে পাওয়া সর্বপ্রাচীন শীলা লিপিটির সময়কাল ১৭২৪ খ্রী:, সেই হিসাবে ধারণ করা হয় ষোড়শ শতকের শুরুর দিকে সম্ভবত এই সমাধিক্ষেত্রটি নির্মিত হয়েছিল। এর প্রায় একশ বছর পরে বিশপ হবার ঢাকা শহর পরিভ্রমনে আসলে এই সমাধাক্ষেটিও দেখতে এসেছিলনে, তার বর্নানায় তিনি সমাধিক্ষেত্রটিকে পরিত্যক্ত, জঙ্গলে ছাওয়া এবং ধ্বংসাবেশষ পরিবেষ্টিত জায়গা হিসাবে উল্লেখ করেছিলেন।

বাংলায় খৃষ্টানদের এই সমাধিক্ষেত্রটি নির্মানে অবশ্য তেমন বিশেষ কোন পরিকল্পনা চোখে পরে না, মানে প্রাচীন সমাধি স্তম্ভ গুলোর বিন্যাস তেমন গোছানো না, অনেকটা খেয়ালখুশি মতো যেন বানানো হয়েছিল। ভেতরের রাস্তাগুলো এমন ভাবে বানানোযে , রাস্তা থেকে কোন সমাধিস্তম্ভ তেমন পরিস্কার ভাবে বোঝা যায়না!
এরপরও ভালো ভাবে খেয়াল করলে এখানে তিনটি ভাগের সমাধি বিন্যাস লক্ষ করা যায়। প্রথম অংশের মধ্যে আছে ১৭২৮ থেকে শূরু করে ১৮৫০ সাল পর্যন্ত সবচেয়ে পুরানো কবর গুলো, দ্বিতীয় ভাগে বাম দিকের দেয়াল বরাবর রয়েছে ১৮৫০ থেকে শুরু করে ১৯৪৭ সালের সমাধি গুলো আর সমাধি ক্ষেত্রের একেবার শেষের দিকে আছে সমসাময়িককালে নির্মিত স্থাপনা গুলো।


এটা হলো মুল প্রবেশদ্বার। বর্তমান কালে নতুনকরে বানানো গেট দিয়ে ঢুকে বেশ কিছু দূর এগুবার পরে চোখে পড়বে এটা। মুরীয় আদলে তৈরি এই তোরনটি যেন হঠাৎ করেই গজিয়ে উঠেছে, এর অবস্থানের সাথে আশেপাশের সমাধি স্থাপনার গুলোর অবস্থান কেমন যেন একটু বেখাপ্পা লাগে! তবে কি কোন বিধিবদ্ধ ভুমি পরিকল্পনা ছাড়াই সমাধিক্ষেত্রের নকশা বানানো হয়েছিল?

চারকোনা, গোলকারা, চাঁদোয়া বা পিরামিড আকারের বেশ কিছু সমাধি চোখে পড়বে এখানে, যা সমসামিয়ক কোলকাতার ইংলিশ সামধক্ষেত্রের অনুকরণে তৈরি! এই সমাধিগুলোই অপেক্ষাকৃত পুরাতন এবং তৎকালিন প্রাদেশিক খ্রিস্টান সমাধিক্ষেত্র গুলোর মতো বারুক রিতীতে বানানো। এর মধ্যে পিরামিড আকারের সে সমাধি আছে সেগুলো আবার বেশি পুরানো এবং এই সমাধি গুলোর নাম হলো "ওবেলিস্ক"!

এই পিরামিড আকারের সমাধিগুলোই সবচেয়ে পুরানো ও মৌলিক। উপমহাদেশে ওবেলিস্ক সর্বপ্রথম দেখা যায় মাদ্রাজে, এগুলো ১৬৮০ সালের দিকে বানানো হয়েছিল।


এটাও ওবেলিস্ক, সাদা চুনকাম করে ফেলা হয়েছে, উপরে ক্রুশবিদ্ধ যীশু।


এলিজাবেথ নামক জনৈক মহিলার সমাধি, বিষন্ন মা মেরীর মূর্তিটা অনন্যতা এনে দিয়েছে!


এটার নির্মাণ রীতিটাও চমকপ্রদ, তবে এপিটাফের কিছুই আর পড়া যায় না!


বারুক রিতীতে বানানো গোলাকার আরেকটা সমাধি, এপিটাফ কেউ একজন খুলে নিয়ে গেছে!



সবচেয়ে অকর্ষনীয় এবং দৃষ্টিনন্দন সমাধি গুলো হলো গম্বুজ শ মন্দির আকারে নির্মিত স্থাপনা গুলো।



গোল, বর্গাকার বা আটকোনা স্ট্রাকচারের সাথে ডরিক এবং আয়োনিক ধরণের স্তম্ভ আর উপরে গোলাকার গম্বুজ সমাধি গুলোকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে । ইউরোপীয় রীতির সাথে স্থানীয় মুঘল রীতির সমন্বয়ের একটি চমৎকার উদারণ এগুলো।


এরমধ্যে সব চাইতে নজরকারা সমাধি সৌধটি বেক এর যেটা কলোম্বো সাহেবের সমাধি নামে ভুল পরিচিত।

কলোম্বো সাহেবের সমাধিসৌধ

চারকোণা এই স্থাপনার শীর্ষে গম্বুজ আচ্ছাদিত একটা আটকোনা বরুজ আছে, আর সবচেয়ে মজার বিষয় হলো এর ভিতের কবরের সংখ্যা কিন্তু তিনটা। প্রতিদিকে একটা করে দরজা আছে। দেয়ালে বেশ কিছু শিলালিপি আছে আবে প্রায় ধ্বংস প্রাপ্ত!

সমাধিটির সামনের দিকে খুব সু্ন্দর প্যাচানো নকশা করা ফ্রী স্ট্যান্ডিং পিলার আছে!

বর্তমানে এই সমাধিক্ষেত্রটি সেন্ট মেরী ক্যাথিড্রালের তত্ত্বাবধানে আছে। ওয়ারির জয়কালী মন্দিরের কাছে , বলধা গার্ডেনের সাথেই অবস্থিত এই প্রাচীন নির্দশনটি দেখে আসুন যে কোন একদিন পুরোপরি ধ্বংস হয়ে যাবার আগেই!!!!

তবে যতই স্থাপত্যিক সৌন্দর্য্যের বর্ণানা করি না কেন, আমাকে হাজার টাকা দিলেও গোরস্থানে পাশের বাড়ি গুলোতে থাকবো না <img src=" style="border:0;" />


এই সংক্রান্ত সুন্দর একটা লেখা, সৌম্য ভাইয়ের ৪০০ বছরের রাজধানীঃ নারিন্দা আর্মেনীয়ান গোরস্তান


প্রাচীন সমাধিক্ষেত্র নিয়ে আমার অনান্য লেখা..........
১।বাংলাদেশের মেগালিথিক সৌধ গুলো কি আসলেই কি সমাধি বা স্মারক সৌধ????

২।শূন্য গর্ভ হাইকোর্টের মাযার


তথ্য সুত্র: ১। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সমীক্ষামালা -১, প্রত্নত্বাত্বিক ঐতিহ্য, ২।বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সমীক্ষামালা -২, স্থাপত্য।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29359443 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29359443 2011-04-08 22:39:30
আন্তর্জাতিক ব্লগ প্রতিযোগীতায় সামহোয়ারইন এর ব্লগার ইমন জুবায়ের কে ভোট দিন
আমাদের এক সহ ব্লগার রাইসুল জুহালার দৃষ্টিতে " ইমন জুবায়ের কোন ব্যাক্তি না, বরং একটা জনা পঁচিশেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে একটা অফিসের নাম! এত পড়া, এত লেখা আর এত বিষয়বৈচিত্র্য একজনের পক্ষে আমি অসম্ভবই মনে করি।"
ইমন ভাইয়ের ব্লগে একবার ঢু দিলেই এই কথার প্রামাণ পাওয়া যায়।
বিশ্ব সভ্যতা , দার্শনিক বিশ্লেষণ, বাংলার ইতিহাস , মিথোলজি থেকে শুরু করে বিখ্যাত ব্যাক্তিদের জীবনী , সুফি মরমীবাদ ইতিহাসের সব শাখায় তাঁর সমান বিচরণ।

বিখ্যাত ব্যান্ড দল ব্ল্যাক' এর গীতিকার (তিনি ব্ল্যাকের প্রায় ৩০টি গান রচনা করেছেন) ইমন জুবায়ের ইতিহাস চর্চা ছাড়াও গল্প লেখেন। সমসাময়িক বিষয়গুলি নিয়ে লেখার উৎসাহ। নারী অধিকারের প্রতি স্বোচ্চার এই লেখকের লেখায় ঈভ টিজিং, অ্যাসিড নিক্ষেপের মত ঘটনা ফুটে ওঠে।
অ্যাসিড রেইন গল্পটি সেরকম একটি গল্প, আবার "আরও একজন" গল্পে নারী নির্যাতনের স্বরূপ উঠে এসেছে। উঠে এসেছে দোররার আঘাতে নিহত হেনা

ঈভ টিজিং নিয়েও বেশ কটি গল্প লিখেছেন View this linkকখনও বাংলার ইতিহাসও উঠে এসেছে তাঁর গল্পে, তাকে আমারা দেখি কবিতার জীবনান্দ দাশের "পথ হাঁটা" " ইংরেজী অনুবাদেও।

ব্লগ ছাড়াও উনি ছোট কাগজে লেখেন। ছোট কাগজের নাম: "শিরদাঁড়া।" এ পর্যন্ত ৪টি লেখা বেরিয়েছে, "আমার তো কপিলে বিশ্বাস", "পূর্বাহ্ণের আগুন", "অন্ধকারে সব মুছে যাবার আগে" এবং এ বছর "আগুনের গলি" বেরিয়েছে।

নির্মোহ ও অন্তর্মুখী এই ব্লগার 'ইমন জুবায়ের' গত দু'বছরের কিছু বেশী সময়ে অসংখ্য এবং বিবিধ বিষয়ে তথ্য সমৃদ্ধ লেখার মাধ্যমে বাংলা ব্লগকে সমৃদ্ধ করে তুলেছেন। ব্লগের মাধ্যমে জ্ঞান ও জানার ক্ষেত্রে একজন পাঠক কতটা লাভবান হতে পারে তা ইমন জুবায়ের এর ব্লগে ঢুকলে উপলব্ধি করা যায়।
সুতারং এখন তাকে বিজয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আমাদের কর্তব্য।

যেভাবে ভোট দিবেন
এই খানে ক্লিক করে View this link ডয়েশে ভ্যালের সাইটে সরাসরি চলে যান। পেইজের উপরের ডান দিকের অপশন থেকে ফেইসবুক/টুইটার এ্যাকাউন্টে লগইন করুন।
IN THE CATEGORY অপশনের ড্রপ ডাউন থেকে Best Blog Bengali সিলেক্ট করুন, তারপর I VOT FORE অপশন থেকে 'ইমন জুবায়রের Emon Jubair's Blog সিলেক্ট করে গোলাপী রংয়ের ভোট বাটনে ক্লিক করুন, ব্যাস দেয়া হয়ে গেল আপনার ভোট <img src=" style="border:0;" />

প্রতি ক্যাটাগরিতে একজন ফেইসবুক, টুইটার ব্যাবহারকারী প্রতি ২৪ ঘন্টায় একবার ভোট দিতে পারবেন এবং ভোট দেয়া যাবে আগামী ১১ এপ্রিল ২০১১ পর্যন্ত ।

ইমন জুবায়ের সামহোয়ারইনের গর্ব, অলংকার................................

আসুন আমরা সবাই রোজ একবার ভোট দিয়ে ইমন জুবায়েরকে জয়যুক্ত করি।

সংযোজন: বেস্ট বাংলা ব্লগের পাশাপাশি আরও ছয়টা ক্যাটগরিতে ছয় জন বাংলাদেশীর ব্লগ প্রতিযোগীতা করছে, তাদের সম্পর্কে জানতে এবং সচিত্র ভোট দেবার পদ্ধতিটা দেখার জন্য জিশান শা ইকরামের এই পোস্টটা দেখতে পারেন "আসুন বাংলাকে ভালবেসে ব্লগীয় ভোটে অংশ গ্রহন করি"।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29352785 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29352785 2011-03-28 20:03:01
.............জয়ের আনন্দে ১৬ কোটি যোদ্ধা .......... বিশ্বজয়ের স্বপ্নচোখে জ্বলছেরে ধিক ধিক
Love u Sakib, Love u Sakib, Love u Sakib
ব্যাটে বলে সাকিব যেন দূর্দান্ত এক যোদ্ধা
নির্ভার তার মুখটি দেখে চিন্তায় ক্রিকেট বোদ্ধা
ভাংগেনা সে শত চাপে
রান তুলে নেয় বলের ফাঁকে
বল হাতেও সমান তালে
লাগায় চাপর শত্রুর গালে
স্বপ্ন তাহার আকাশ ছোয়ার
বন্ধ্যা নয় যে অন্ধ কুয়ার
এগিয়ে যাবে, এগিয়ে যাও
নিজে নাচো দেশকে নাচাও
সামনে যাবে, সামনে যাও
পুরো জাতি শুদ্ধা।
তাকিয়ে তোমার মুখটি পানে
ক্রিকেট প্রেমি, ক্রিকেট পাগল
আছেন যত বোদ্ধা,
সংগে আছি আমরা দেশের ১৬ কোটি যোদ্ধা । ।

আজকে খুব আনন্দের দিন আমার, আমাদের সবার। জাতি হিসাবে আমরা মনে হয় খুব বেশি আবেগ প্রবন, তার প্রমান পেলাম নিজেকে দিয়েই। খেলা শেষে বারান্দায় দাড়িয়ে রাস্তায় বিশাল বড় পতাকা হতে ছেলেদের আনন্দ মিছিল দেখছিলাম, এই জয় যেন প্রতিটা বাংলাদেশিরই জয়, কেন যেন তখন চোখটা বার বার ভিজে উঠছিল।

এই কবিতাটা আমার লেখা না, এটা এমনই এক অবেগী, পাগল বাংলাদেশির লেখা। জয়ের আনন্দে তার হাত থেকে কবিতা হয়ে বের হয়ে এসেছে।
সোমহেপি, আমার পাগলা এই ভাইটা নেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে কয়েকদিন থেকে, কিন্তু তার এই আনন্দ সে সাবার মাঝে ছিড়িয়ে দিতে চাচ্ছিল আজই, এখনই, এই মূহুর্তেই.....
আনন্দ মনে হয় এমনই একটা জিনিস যা একা একা উপভোগ করা যায় না........

তাই তার হয়ে কবিতাটা আমি আমার ব্লগে দিলাম.........

শুভকামনা বাংলাদেশে ক্রিকেট টীম!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29342724 http://www.somewhereinblog.net/blog/s_rezowana/29342724 2011-03-11 23:59:52