যুদ্ধপরাধী কারা? যারা যুদ্ধর সময় যোদ্ধাকে হত্যা করে, তারা সৈনিক। সে যে পক্ষেরই হোক - ৭১ এ যেমন মুক্তিবাহিনী হোক বা পাক বাহিনী বা রাজাকার যেই হোক। কিন্তু কেউ যদি নিরস্ত্র কাউকে হত্যা/নির্যাতন করে, লুট করে তবে সে যুদ্দপরাধী। বিদেশে যারা বিশ্বযুদ্ধের সময় জামার্নদের সাথে সর্ম্পক রাখতো, যুদ্দপরাধ না করলেও তাদেরকেও ঘৃনিত হিসাবে দেখা হয়।
খালেদা জিয়ার সর্বশেষ জনসভার বক্তব্য প্রথম আলোর প্রথম পাতায় বড় করে ছাপা হয়েছে। উনি বলেছেন, 'নিজামি, মুজাহিদ যুদ্ধাপরাধী নয়। তাদের এই বিচার বাংলাদেশের মানুষ মানে না।'
নিজামীরা ৭১-এ ফতোয়া দিয়েছিল-আমাদের সম্পত্তি, বাড়িঘর, আমাদের বোনেরা/মেয়েরা মালে গনমিতের মাল ! এসব লুট, ধর্ষন (যেকোন বাঙালীর বাড়ি থেকে যে কাউকে) ইসলাম সম্মত।
১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঠেকানো অসম্ভব দেখে একদম শেষ মুহূর্তে প্রভুর নিল নকশা অনুযায়ী তারা আমাদের বুদ্ধিজীবিদের বাসা থেকে তুলে নিয়ে (এরা কেউ যোদ্ধা ছিল না, সসস্ত্র থাকার তো প্রশ্নই নেই) ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করে, যাতে দেশ স্বাধীন হলেও সেই দেশ টিকতে না পারে, দেশ চালানো অসম্ভব হয়।
তো এসব কিছুই যদি যুদ্ধপরাধ না হয়, তবে যুদ্ধপরাধ কি করলে হয় ?
খালেদা ৭১ সালে ক্যন্টমেন্টে বন্দী ছিলেন। ওই সময় পাকিস্তানীরা নির্বিচারে গনহত্যা ও গনধর্ষন করেছে। গরীব বড়লোক বাঙালী কাউকে ছাড় দেয় নি। তার স্বামী 'বীর' মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতার 'ঘোষক'। তার সুন্দরী স্ত্রীকে ওরা কিছুই করলো না, তার এই শক্তির রহস্য কি ?
তার স্বামী দালাল আইন বাতিল করে, যুদ্ধপরাধীদের বিচার বাতিল কলে খালাস করে দেন। রক্তের রঙে রঙিন পতাকা উপহার দেন শাহ আযিয দের।তারই ধারাবহিকতায় খালেদা একই উপহার দিয়েছেন নিযামীদের।
যেকারনেরই হোক খালেদা বিচার চান না এটাই স্বাভাবিক, উনিতো স্বামী হত্যার বিচারও কখোনো চাননি, বিচার করার চেষ্টাও করেন নি, উল্টো গতো টার্মে ক্ষমতায় আসার ৭ দিনের মধ্যে স্বামী হত্যার তদন্ত বাতিল করে দেন। শুধু তাই নন, তার ভাষায় প্রকৃত হত্যাকারী এরশাদের কাছ থেকে উনি নিয়েছেন টাকা, বাড়ি, জমি। কোন মহিলার পক্ষে সম্ভব স্বামী হত্যাকারীর কাছ থেকে টাকা নেয়া ?
কিন্তু প্রথম আলো নাকি মুক্ত চিন্তার দৈনিক, তারা কেন খালেদার এই কথা বিনা প্রশ্নে ছেড়ে দিল। তারা যদি খালেদার কথা গুরুত্বহীন মনে করে, তবে তা প্রথম পাতায় ছাপলো কেন ?
শুধু তাই নয়, খালেদার সভার বিশাল ছবি ছিল প্রথম পাতায়, অথচ হাসিনার পাল্টা জনসভার ছবি তারা ছাপলো শেষের পাতায়। সর্বশেষ নির্বাচনে প্রথম আলোর আহ্বানে ও তাদের প্রণীত 'মাইনাস টু' ফর্মূলা পালনের নিয়তে আসা সরকারের নির্বাচনে, হাসিনার দল ২/৩ ভাগ সিট পেয়েছে। কার ব্যক্তিগতভাবে কি মনে হয় তাতে কিছূই যায় আসে না, সর্বশেষ নির্বাচন অনুযায়ী হাসিনাই বেশী জনপ্রিয়, তো তার সভার গুরুত্ত খালেদার চেয়ে এতো কম হয় কি করে?
প্রথম আলো খালেদার যুদ্ধপরাধের বিচার বিষয়ক বক্তব্য শুধু যে বিনা প্রশ্নে ছেড়ে দিয়েছে তাই নয়, হাসিনা যে এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে, তারা হাসিনার বক্তৃতার উপরে সম্পাদকিয় লিখেছে, যেটাতে উল্টো হাসিনা কেন আদালতের বিষয়কে (যুদ্ধপরাধের বিচার) রাজনৈতিক তর্কের বিষয় করছেন তাই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এই প্রগতির লেবাসধারী পত্র্রিকাটি আসলে কি বিচার চায় ? তারা প্রতিদিন শেষের পাতায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্তের কাহিনী ছাপছে। খুবই ভালো। কিন্তু নিজামী, সাকা, সাইদীদের গনহত্যার উপরে তাদের কোন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কি আপনি পড়েছেণ ? আজকে কি সেটার প্রয়োজন ও প্রাসঙ্গিকতা আরো অনেক বেশী নয় ????
এরপরে সাইদীর বিচার নিয়ে এই পত্রিকার খবর প্রকাশের ধরন নিয়ে একটি পর্যালোচনা লিখবো, আশাকরি তাতে স্পষ্ট হবে এরা আসলে কোন পক্ষের সৈনিক !

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



