সে ছিল আমার জানলার পাশে।তার দিকে এক দৃষ্টি তে তাকিয়ে থাকতে আমার কোন পাপ বোধ হচ্ছিল না।মনে পড়ছিল সুমনের গানের কথা--
মুখটা তুলে আকাশ টাতে দেখ আরেক বার
তোমার সাথে আছি আমি যে চির কাল
জোছনার আলো যখন তোমার গায়ে পড়ে
আমি তখন থাকি তোমারি পাশে পাশে
প্রথম যখন তাকে দেখলাম মনে হল একদম লাল টুকটুকে। সময়ের সাথে সাথে সে নিজেকে আরো সুন্দর করে সাজিয়ে তুলছিল।কোন লজ্জায় পাচ্ছিল না। তবে সে কিন্তু মাঝে মাঝে লুকোচুরি খেলছিল কখনো এর পিছনে তো আবার কখনো ওর পিছনে গিয়ে লুকায়।
শীতের বুড়ি তার কুয়াশার চাদর দিয়ে সব কিছু কে ঢেকে দিচ্ছিল আর সে তার সৌন্দর্য দিয়ে ঢেকে দিচ্ছিল কুয়াশাকে।শিশির বিন্দুতে তাকে দেখলাম অন্য রুপে।আবার যখন কোন নদী বা খাল পার হচ্ছিলাম একবার দেখছিলাম তার দিকে আরেক বার দেখচ্ছিলাম পানিতে পড়া তার প্রতিচ্ছবির দিকে --
ভোরের আলোয় পাখির ডাকে ঘুম টা ভাঙ্গে যখন
বাগান টাতে হাঁটার সময় আমায় ভেব তখন
ঘাসের মাঝে শিশির কণায় তাকিয়ে দেখ তুমি
আছে সেথায় তোমার সাথে আমার প্রতিচ্ছবি
যখন চট্টগ্রামের কাছাকাছি চলে আসলাম সে তার সৌন্দর্য কে কখনো পাহাড়ের চূড়ায় আবার কখনো পাহাড়ের ঢালে ছড়িয়ে দিচ্ছিল।ততক্ষণে তার সৌন্দর্য কে আরো বাড়িয়ে তুলার জন্য তার আশেপাশে সাজুগুজু করে হাজির তার সঙ্গী সাথীরা...
তার সৌন্দর্য যত টুকু অনুভব করেছি তার সামান্য টুকুই লিখে প্রকাশ করতে পারছি।এই সৌন্দর্য লিখে প্রকাশ মনে হয় না সম্ভব।ও মনে পড়েছে তার সোন্দর্যের আরেক রুপ দেখেছিলাম সেন্টমার্টিনে।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসার কথা ছিল আজ সকালে। কিন্তু তার সাথে দেখা হবে বলেই হয়ত রাতেই রওনা দিয়েছিলাম।আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে কতদিনি বা আর বাঁচব তার আগেই চোখের সামনে এমন সুন্দর কিছু কে হাজির করার জন্য,আর সুন্দর কিছু দেখার যোগ্যতা কে এখনো কেড়ে না নেওয়ার জন্য।
কার কথা বলছি এতোক্ষণ।ঐ যে কাল রাতের চাঁদ টার কথা।
--------------------------
তবে এত কিছুর পরেও চাঁদ টা প্রতিদিন একই ভাবে আমার কাছে ধরা দেয় না।কিন্তু প্রতিদিন সূর্য উঠার আগে পূর্ব আকাশে আমি একজন কে খুঁজে বেরাই,আর সে হয়ত আমাকে---
রাতের আকাশ ভরা তারা
হয়ত বা চলে যাবে
থাকব হয়ে এই আমি শুকতারা
-----হুম শুকতারা টাকেই প্রতিদিনি খুঁজে বেড়ায়।আর সব তারার থেকে কত উজ্বল হয়েই না শুকতারা জ্বলতে থাকে।তাকে চিনে নিতে আমার তেমন কোন কষ্টই হয় না।
চট্টগ্রাম
২৭-১১-২০০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

