ফাউন্ডেশন সিরিজের নাম শুনেছেন?
যদি না শুনে থাকেন তবে আমাকে বলতেই হচ্ছে আপনি এক অসামান্য সাহিত্য কর্মের রস হতে বঞ্চিত। সাই-ফাই পাঠকদের সায়েন্স ফিকশনের সম্রাট আইজ্যাক আসিমভের এই সিরিজটি অবশ্য পাঠ্য। কল্পনায় মানুষ যে কত বিস্তৃত হতে পারে , তা এ সিরিজ পড়লে বোঝা যায়। বইটার শানে নুযুল বলে দিলে পড়ার মজা নষ্ট হয়ে যাবে। তাই আমি সে কাজ করতে যাচ্ছি না। চেষ্টা করছি বইটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে হালকা ধারনা দিতে, যাতে করে আপনার বইটি পড়ার আগ্রহ জন্মে। বইটি পড়েছিলাম বেশ কয়েক বছর আগে। দেখি, স্মৃতি হাতিয়ে কতটুকু বলা যায়।
ফাউন্ডেশন সিরিজ টিতে রয়েছে মোট সাতটি বই। এগুলো হল-
১. ফাউন্ডেশন(১৯৫১),
২. ফাউন্ডেশন এন্ড এম্পায়ার(১৯৫২),
৩. সেকেন্ড ফাউন্ডেশন(১৯৫৩),
৪.ফাউন্ডেশন এজ্(১৯৮২),
৫.ফাউন্ডেশন এন্ড আর্থ(১৯৮৩),
৬. প্রিলিউড টু ফাউন্ডেশন,
৭.ফরওয়ার্ড দ্যা ফাউন্ডেশন।
এর মধ্যে প্রথম তিনটি কে একত্রে বলা হয় “ফাউন্ডেশন ট্রিলজি” বা “ফাউন্ডেশন ত্রয়ী”।
ফাউন্ডেশন সিরিজ টি রচিত হয়েছে ১০০০ বছরের বিশাল ব্যপ্তি নিয়ে(যদিও লেখক ৫০০ বছর বর্ণনা করেছেন সিরিজের এই বইগুলিতে। আসিমভ পুরো ১০০০ বছরই সম্পূর্ণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যু বাকি ৫০০ বছরের বর্ণনা থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করেছে
কাহিনীর শুরু এখানেই। এরপর লেখক একে একে বলে গেছেন হ্যারি সেলডনের মহাপরিকল্পনা এবং এর বাস্তবায়নের দুর্গম পথের কথা। এতে ক্রমে ক্রমে এত চরিত্রের আগমন ঘটেছে যে এক ঘেয়েমিতে পাবার কোন কারনই নেই।
এ সিরিজের একটি চমকপ্রদ বিষয় হল –সিরিজটির প্রথম বই হল “ফাউন্ডেশন”। এরপরে প্রকাশিত হয়েছে ফাউন্ডেশন আগের কাহিনী নিয়ে (প্রিকুয়েল) “প্রিলিউড টু ফাউন্ডেশন” এবং “ফরওয়ার্ড দ্যা ফাউন্ডেশন”। বাকিগুলো সব সিকুয়েল। প্রতি ক্ষেত্রেই লেখক এমন সুন্দর করে আগের কাহিনীর সাথে পরের কাহিনী মিলিয়েছেন, তা সিরিজটি না পড়লে বোঝা অসম্ভব।
বাংলাদেশে মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং হূমায়ূন আহমেদ নিঃসন্দেহে অসাধারণ কল্পবিজ্ঞান লেখক। তবে শুধু মাত্র তাদের বই পড়েই নিজেকে সায়েন্স ফিকশনের একনিষ্ঠ ভক্ত বলে চালিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। কারন তাঁদের ছাড়াও দেশের বাইরে প্রচুর সায়েন্স ফিকশন লেখক রয়েছেন। সায়েন্স ফিকশনের প্রকৃত রস পেতে হলে তাদের লেখাও পড়তে হবে। আপনি যদি সেইসব বিখ্যাত লেখকদের লেখা ইতমধ্যেই পড়ে থাকেন তাহলে তো নতুন করে কিছু বলার নেই। আর যদি না পড়ে থাকেন,তবে বলব ফাউন্ডেশন সিরিজ দিয়ে আজই শুরু করুন।
বাজারে ফাউন্ডেশনের বেশ কিছু ভাল বাংলায় অনুবাদ রয়েছে, আমিও অনুবাদই পড়েছি। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমান লাইব্রেরীতেও পেতে পারেন। আর যদি ইংরেজীতে পড়তে চান তবে নেট তো আছেই। আমি এখানে আসিমভের বিখ্যাত লেখা নিয়ে একটি সংকলনের(৪১৫১ পৃষ্ঠার ই-বুক!!!
THE COMPLEAL ASIMOV
তবে আমার মত হল আপনার ইংরেজি জ্ঞান যদি ইংরেজি লিখা থেকে সাহিত্য রস সংগ্রহের মত যথেষ্ট না হয়, তবে বাংলা অনুবাদ-ই পড়া উচিৎ। তা না হলে ইংলিশ টু বেঙলী ডিকশনারির পাতা ওল্টাতে ওল্টাতেই আপনার বই পড়ার আগ্রহ উবে যাবে। খুব সম্ভবত এই সিরিজের কোন বইয়েরই বাংলা অনুবাদের পিডিএফ কপি নেটে কেউ আপলোড করেনি। যদি কখনো আমার সুযোগ হয়, তবে আমি এটা আপলোড করার চেষ্টা করব এবং আপনাদের জানিয়ে দেব। আপনাদের কারও সুযোগ থাকলে দয়া করে আপলোড করুন এবং এখানে লিংক দিন।
এখনকার সায়েন্স ফিকশন মুভি দেখা দর্শকরা যদি বইটি পড়ে প্রীত না হন, তবে তাদের বলে রাখি “ফাউন্ডেশন” বইটি লিখা হয়েছিল পঞ্চাশের দশকে। সে সময়ের প্রেক্ষিতে লেখকের বর্ণনায় যে আধুনিক বৈজ্ঞানিক বিষয়বস্তুর অবতারনা করেছেন, তা দিয়ে লেখক ঈর্ষনীয় কল্পনা শক্তির পরিচয় দিয়েছেন তা ভেবে বিস্ময় জাগে। এমনকি তার বর্ননার বিষয়বস্তুগুলো ছয় দশক পরে আজও পুরোনো হয়নি।
তাহলে আর দেরি না করে শুরু করে দিন।
ধন্যবাদ।
আরও তথ্যের জন্য দেখতে পারেন-
১. Click This Link
২. http://en.wikipedia.org/wiki/Isaac_Asimov
৩. http://en.wikipedia.org/wiki/Foundation_(novel)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

