somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসুন পরিচিত হই এক জগৎ বিখ্যাত কল্প-বিজ্ঞান সিরিজের সাথে (ডাউনলোড লিংক সহ!!!B-))।

২১ শে জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনি কি কল্প-বিজ্ঞানের পাঁড় পাঠক?
ফাউন্ডেশন সিরিজের নাম শুনেছেন?
যদি না শুনে থাকেন তবে আমাকে বলতেই হচ্ছে আপনি এক অসামান্য সাহিত্য কর্মের রস হতে বঞ্চিত। সাই-ফাই পাঠকদের সায়েন্স ফিকশনের সম্রাট আইজ্যাক আসিমভের এই সিরিজটি অবশ্য পাঠ্য। কল্পনায় মানুষ যে কত বিস্তৃত হতে পারে , তা এ সিরিজ পড়লে বোঝা যায়। বইটার শানে নুযুল বলে দিলে পড়ার মজা নষ্ট হয়ে যাবে। তাই আমি সে কাজ করতে যাচ্ছি না। চেষ্টা করছি বইটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে হালকা ধারনা দিতে, যাতে করে আপনার বইটি পড়ার আগ্রহ জন্মে। বইটি পড়েছিলাম বেশ কয়েক বছর আগে। দেখি, স্মৃতি হাতিয়ে কতটুকু বলা যায়।
ফাউন্ডেশন সিরিজ টিতে রয়েছে মোট সাতটি বই। এগুলো হল-
১. ফাউন্ডেশন(১৯৫১),
২. ফাউন্ডেশন এন্ড এম্পায়ার(১৯৫২),
৩. সেকেন্ড ফাউন্ডেশন(১৯৫৩),
৪.ফাউন্ডেশন এজ্(১৯৮২),
৫.ফাউন্ডেশন এন্ড আর্থ(১৯৮৩),
৬. প্রিলিউড টু ফাউন্ডেশন,
৭.ফরওয়ার্ড দ্যা ফাউন্ডেশন।

এর মধ্যে প্রথম তিনটি কে একত্রে বলা হয় “ফাউন্ডেশন ট্রিলজি” বা “ফাউন্ডেশন ত্রয়ী”।

ফাউন্ডেশন সিরিজ টি রচিত হয়েছে ১০০০ বছরের বিশাল ব্যপ্তি নিয়ে(যদিও লেখক ৫০০ বছর বর্ণনা করেছেন সিরিজের এই বইগুলিতে। আসিমভ পুরো ১০০০ বছরই সম্পূর্ণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যু বাকি ৫০০ বছরের বর্ণনা থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করেছে /:))। কাহিনী শুরু হয় যখন পৃথিবীর মানুষ সারা ছায়াপথের বিভিন্ন গ্রহে ছড়িয়ে পড়েছে। আর অনেকগুলো গ্রহ নিয়ে তৈরি হয়েছে এক সম্রাজ্য, যার নাম “গ্যালাক্টিক এম্পায়ার”।এতে কাহিনীর সূত্রপাত হয়েছে হ্যারি সেলডন (এই নামে কিন্তু একজন ব্লগার আছেন !!! ;)) নামের একজন গণিতবিদ কে নিয়ে। তিনি “সাইকো-হিস্ট্রি” নামে গণিতের একটি নতুন ধারার সূচনা করেন। “সাইকো-হিস্ট্রি” সমাজের বিভিন্ন পরিবর্তন এবং সম্ভাব্যতা নিয়ে গবেষণা করে,আর তারই ভিত্তিতে ভবিষ্যৎবাণী করে। এই “সাইকো-হিস্ট্রি”র সাহায্যেই হ্যারি সেলডন দেখতে পান “গ্যালাক্টিক এম্পায়ারে” ক্ষয় ধরেছে এবং অচিরেই(৫০০ বছরের মধ্যেই !!!) এ সম্রাজ্য ভেঙে পড়বে। তখন মানব জাতি আবার হারিয়ে যাবে এক অন্ধকার যুগে। গ্রহ সমূহের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, অযাচিত যুদ্ধ বিগ্রহ দেখা দেবে। এ অন্ধকার যুগ স্থায়ী হবে তিরিশ হাজার বছর। সেলডন এও গবেষণা করে বের করেন যে,গ্যালাক্টিক এম্পায়ারের ভাঙন অবশ্যম্ভাবী, একে কোন ভাবেই থামানো যাবে না, তবে অন্ধকার যুগের সময়কাল কমিয়ে এক হাজার বছর করা সম্ভব, যদি তাঁর পরিকল্পনা মাফিক কাজ করা হয়।……

কাহিনীর শুরু এখানেই। এরপর লেখক একে একে বলে গেছেন হ্যারি সেলডনের মহাপরিকল্পনা এবং এর বাস্তবায়নের দুর্গম পথের কথা। এতে ক্রমে ক্রমে এত চরিত্রের আগমন ঘটেছে যে এক ঘেয়েমিতে পাবার কোন কারনই নেই।

এ সিরিজের একটি চমকপ্রদ বিষয় হল –সিরিজটির প্রথম বই হল “ফাউন্ডেশন”। এরপরে প্রকাশিত হয়েছে ফাউন্ডেশন আগের কাহিনী নিয়ে (প্রিকুয়েল) “প্রিলিউড টু ফাউন্ডেশন” এবং “ফরওয়ার্ড দ্যা ফাউন্ডেশন”। বাকিগুলো সব সিকুয়েল। প্রতি ক্ষেত্রেই লেখক এমন সুন্দর করে আগের কাহিনীর সাথে পরের কাহিনী মিলিয়েছেন, তা সিরিজটি না পড়লে বোঝা অসম্ভব।

বাংলাদেশে মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং হূমায়ূন আহমেদ নিঃসন্দেহে অসাধারণ কল্পবিজ্ঞান লেখক। তবে শুধু মাত্র তাদের বই পড়েই নিজেকে সায়েন্স ফিকশনের একনিষ্ঠ ভক্ত বলে চালিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। কারন তাঁদের ছাড়াও দেশের বাইরে প্রচুর সায়েন্স ফিকশন লেখক রয়েছেন। সায়েন্স ফিকশনের প্রকৃত রস পেতে হলে তাদের লেখাও পড়তে হবে। আপনি যদি সেইসব বিখ্যাত লেখকদের লেখা ইতমধ্যেই পড়ে থাকেন তাহলে তো নতুন করে কিছু বলার নেই। আর যদি না পড়ে থাকেন,তবে বলব ফাউন্ডেশন সিরিজ দিয়ে আজই শুরু করুন।

বাজারে ফাউন্ডেশনের বেশ কিছু ভাল বাংলায় অনুবাদ রয়েছে, আমিও অনুবাদই পড়েছি। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমান লাইব্রেরীতেও পেতে পারেন। আর যদি ইংরেজীতে পড়তে চান তবে নেট তো আছেই। আমি এখানে আসিমভের বিখ্যাত লেখা নিয়ে একটি সংকলনের(৪১৫১ পৃষ্ঠার ই-বুক!!!B-)) ডাউনলোড লিংক দিচ্ছি। এতে ফাউন্ডেশন সিরিজের “ফরওয়ার্ড দ্যা ফাউন্ডেশন” ছাড়া সবকটি বই-ই আছে।



THE COMPLEAL ASIMOV

তবে আমার মত হল আপনার ইংরেজি জ্ঞান যদি ইংরেজি লিখা থেকে সাহিত্য রস সংগ্রহের মত যথেষ্ট না হয়, তবে বাংলা অনুবাদ-ই পড়া উচিৎ। তা না হলে ইংলিশ টু বেঙলী ডিকশনারির পাতা ওল্টাতে ওল্টাতেই আপনার বই পড়ার আগ্রহ উবে যাবে। খুব সম্ভবত এই সিরিজের কোন বইয়েরই বাংলা অনুবাদের পিডিএফ কপি নেটে কেউ আপলোড করেনি। যদি কখনো আমার সুযোগ হয়, তবে আমি এটা আপলোড করার চেষ্টা করব এবং আপনাদের জানিয়ে দেব। আপনাদের কারও সুযোগ থাকলে দয়া করে আপলোড করুন এবং এখানে লিংক দিন।

এখনকার সায়েন্স ফিকশন মুভি দেখা দর্শকরা যদি বইটি পড়ে প্রীত না হন, তবে তাদের বলে রাখি “ফাউন্ডেশন” বইটি লিখা হয়েছিল পঞ্চাশের দশকে। সে সময়ের প্রেক্ষিতে লেখকের বর্ণনায় যে আধুনিক বৈজ্ঞানিক বিষয়বস্তুর অবতারনা করেছেন, তা দিয়ে লেখক ঈর্ষনীয় কল্পনা শক্তির পরিচয় দিয়েছেন তা ভেবে বিস্ময় জাগে। এমনকি তার বর্ননার বিষয়বস্তুগুলো ছয় দশক পরে আজও পুরোনো হয়নি।

তাহলে আর দেরি না করে শুরু করে দিন।
ধন্যবাদ।

আরও তথ্যের জন্য দেখতে পারেন-
১. Click This Link
২. http://en.wikipedia.org/wiki/Isaac_Asimov
৩. http://en.wikipedia.org/wiki/Foundation_(novel)
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১২:২১
২৭টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×