শাম্মির মেজাজ খারাপ হয়! এক মিনিট কথা বললে কি এমন দোষ হত! আবার পরক্ষণেই ভাবে, জাপানিরা চরম কাজ পাগল! তাই সোহেলরই বা দোষ কি! অফিস টাইমে ব্যক্তিগত কথা বলতে দেখলে জাপানি বস ওকে সাইজ করে দেবে! থাক বাবা দরকার নেই! সময় মতো অফিস শেষে বাসায় ফিরলেই হবে!
হঠাৎ শাম্মির সেল ফোনটা বেজে উঠলো। আজব! সোহেল অফিস টাইমে কল ব্যাক করেছে! রোবোটের মাঝে দেখি প্রাণের সঞ্চারণ হয়েছে!
শাম্মি বলল, হ্যালো সুইট হার্ট কি কর? আমার কিছু ভালো লাগছে না। তুমি কখন আসবা?
-আসব না! ফোন দিছ কেন?
- আমার জানটার খবর নিবার জন্য! সেই সকাল থেকে আমার জানটাকে দেখি না! মিস ইউ!
-কি বলে! অফিসে এসেছি মাত্র এক ঘণ্টা হয়েছে!
-তোমার কাছে মাত্র এক ঘণ্টা! কিন্তু আমার কাছে এ যেন এক অনন্তকাল! সুইটু আজকে অফিস করা লাগবে না। চলে আস না! তোমার বসকে বল শরীর ভালো লাগছে না। একটা সিক লিভ মেরে দাও না! এত কাজ করে কি হবে!
-দ্যাখো আমার এখন ঢং করার সময় নাই! ওয়াশ রুমে ঢুকে কথা বলছি। ফোন রাখ।
- না রাখব না। রাখব না। রাখব না। তুমি আমার সাথে খারাপ বিহাভ করতেছ! যাও আজকে বাসায় রান্না বন্ধ। রাতে না খেয়ে থাকবে। এটাই তোমার শাস্তি!
- এইরে সেড়েছে! সরি ডিয়ার! সরি।
- খালি সরিতে হবে না। আমাকে একটা পাপ্পি দাও।
-পাপ্পি! কিভাবে? ফোনে!
-হ্যাঁ! দিবা কি না বল!
-ওকে দিচ্ছি বাবা দিচ্ছি!
সোহেল শাম্মির রাগ ভাঙাতে পারল কি না জানি না তবে এরপরই শাম্মি রান্না করতে গেল! আজকে সে সোহেলকে ওর সব পছন্দের ডিশগুলো খাওয়াবে! গত দুই বছর যাবত এই টোনাটুনির সংসার টোকিওতে এভাবেই কাটছে!
দুই//
সকালের রঙিণ সূর্যটা যে বিকেলে এতটা রংচটা হবে তা শাম্মি ভাবতেও পারে নি। যেন জোরে ঘুড়ে ওঠা পৃথিবীতে সে এতক্ষণ ঘোড়ের মধ্যে ছিল! নিজের চোখকে সে বিশ্বাস করতে পারছিল না। টেবিলের উপর থেকে ফুলদানিটা পড়ে ভেঙে গেল। সব আসবাব, সমস্ত ঘর এমনভাবে দুলছিল যেন এগুলো সব কাগজের তৈরি! এক দৌড়ে শাম্মি রাস্তায় বের হয়ে আসল। চোখের সামনে রাস্তা চির চির করে ফেটে যেতে লাগল! কালবৈশাখী ঝড়ে সুপারী গাছগুলো যেমনি অসহায়ভাবে দোলে আশেপাশের বাড়ি ঘরগুলোকে শাম্মির তেমনই অসহায় মনে হচ্ছিল! একটু পরে প্রকৃতির তাণ্ডব কিছুটা থেমে আসলে বাসার ভিতরে গিয়ে তার চোখ দুটো জলে ভিজে আসল। সব এলোমেলো, ভেঙে খানখান! বিদ্যুৎ চলে গেছে। মোবাইলে সোহেলকে এতবার কল দিল কিন্তু কলই ঢুকছে না। খুব কান্না পাচ্ছে তার। নিজেকে খুব অসহায় লাগছে। কি করবে সে এখন! হঠাৎ সে দেখল ল্যাপটপটা টেবিল আর খাটের মাঝে পড়ে ঝুলছে। এখনও ওটার চার্জ শেষ হয়নি। দৌড়ে ওটা তুলে নেটে ঢোকার চেষ্টা করল শাম্মি। যাক নেটলাইন এখনও আছে। তাড়াতাড়ি ফেজবুকে সোহেলের ওয়ালে লিখল, তুমি কথায়? কেমন আছ? তোমাকে তো ফোনে পাচ্ছি না। আমি খুব টেনশনে আছি।
এরইমধ্যে জাপানের ভূমিকম্পের খবর সারাবিশ্ব জেনে গেছে। শাম্মি দেখল বাংলাদেশ থেকে অনেকেই তার ফেজবুক ওয়ালে তাদের খবর জানতে চেয়েছে। সে সবার কাছে দুয়া চাইল। ও আল্লাহ! আবার ঘর নড়তে শুরু করেছে। সে দৌড়ে বাইরে চলে গেল।
নাহ এবার বেশিক্ষণ কম্পন থাকল না। আসলে এটা হচ্ছে আফটার শক। জাপানে বড় যেকোন ভূমিকম্পের পর এমন হালকা কম্পন একটু পর পর চলতে থাকে। তিন চারদিন থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত এমনটা হতে পারে।
শাম্মি এবার যেন একটু বেশি অস্থির হয়ে গেল। একবার সেল ফোন, একবার ফেজবুক। নাহ কোনোভাবেই সোহেলকে পাওয়া যাচ্ছে না। কি করবে? এখন সে কি করবে? সোহেলের অফিসের দিকে যাবে? হ্যাঁ তাই যাব! শাম্মি ঘরের দরজা পর্যন্ত যেতেই মোবাইলটা বেজে উঠল। রিছিভ করতেই কাঙ্ক্ষিত কণ্ঠস্বর, শাম্মি, আমি সোহেল। আমি ঠিক আছি। তুমি ঠিক আস তো?
শাম্মির চোখে আনন্দে জল চলে আসে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মার্চ, ২০১১ দুপুর ১:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


