somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তন্ত্রশক্তি বিধান (বড় গল্পের পথে ছোট করে শুরু)-৩

১৭ ই মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১ম পর্বের লিংক তন্ত্রশক্তি বিধান-১

২য় পর্বের লিংক তন্ত্রশক্তি বিধান-২


/// তিন ///

ঘণ্টা দুয়েক পর। রাকিবদের বাসা।
‘ কী আজব ব্যাপার! গত দুদিন ধরে আমি একটা শকুন দেখতে পাই যা অন্য কেউ দেখতে পায় না।‘ চিন্তিত রাকিব। ‘এমন কেন হচ্ছে?’
‘দোস্ত আমার মনে হয় তুই রিসেন্টলি এমন এক হরর মুভি দেখছস বা বই পড়ছস যেখানে শকুন রিলেটেড কোন ঘটনা ছিল যা তোর মনে গভীর দাগ কেটেছে।‘ বললাম আমি। ‘তাই মাঝে মধ্যে অবচেতন মনে শকুন দেখতে পাস।‘
‘আরে না! যত দূর মনে পড়ে গত এক বছরে আমি কোন হরর মুভি দেখি নাই। আর শকুন বিষয়ক বইও তো পড়ি নাই। তাহলে এমন হচ্ছে কেন? এটা কি হ্যালুসিনেশন? নাকি ইলুশন? দাড়া এক কাজ করি। ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে দেখি শকুনের সাথে হ্যালুসিনেশনের কোন সম্পর্ক আছে কী না!’
শকুনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Vulcher. আমরা Vulcher লিখে গুগলে সার্চ দিলাম। মুহূর্তের মধ্যে কয়েকশ লিংক এসে হাজির। এত লিংক ঘাটাঘাটি করতে করতে তো রাত ভোর হোয়ে যাবে! আমরা উইকিপিডিয়ার লিংকে ক্লিক করলাম। অনেকক্ষণ ঘাটাঘাটি করে যা পেলাম তার সারসংক্ষেপ হল, পৃথিবীতে আদিযুগের যে কয়েকটি প্রাণী এখনো টিকে আছে তাদের মধ্যে শকুন অন্যতম। তবে এরাও বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকার অনেক মানুষ শকুনকে অশুভ আত্মার প্রতীক মনে করত। সেখানকার ব্লাক ম্যাজিশিয়ানরা শকুনকে তাদের কালো জাদুর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত। কিন্তু আইরিশরা মনে করত শকুন হচ্ছে ঈশ্বরের সাথে সরাসরি আত্মার সংযোগের রাস্তা। তাদের ধারণা ছিল, শকুনের মগজ পোড়ালে যে কালো ধোঁয়া হয় তার মাধ্যমে অতি দ্রুত মর্তের প্রার্থনা ঈশ্বরের কাছে পৌঁছে যায়......।
‘ধুর! হ্যালুসিনেশানের সাথে শকুনের কোন রিলেশানই নাই।‘ এতক্ষণ এসব পড়ে রাকিব খুব বিরক্ত হল।
‘কিন্তু দোস্ত দ্যাখ ব্লাক ম্যাজিকের সাথে শকুনের একটা সম্পর্ক আছে।‘
‘মানে কি? তুই কি বলতে চাচ্ছিস যে আমার উপর কেউ কালো জাদুর প্রভাব ফেলতে চাচ্ছে?‘
‘হ্যাঁ, হতেও তো পারে।‘
‘দুর পাগল! এখানে ব্লাক ম্যাজিশিয়ান কোত্থেকে আসবে? আর যদি এসেও থাকে তাহলে চারদিকে এত মানুষ থাকতে আমাকে কেন বেছে নেবে? আমি তো তেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নই।‘
কথার পিঠে নানান কথা হল। কিন্তু আমরা কোন সমাধান বের করতে পারলাম না।

কয়েকদিন পর।
দুপুরবেলা মেডিকেল কলেজ থেকে বের হয়েই রাকিব অবাক হয়ে আবিষ্কার করল আজকের আবহাওয়াটা যেন একটু অন্যধরনের। আকাশে পেজা পেজা মেঘ। মাঝে মধ্যে মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে সূর্য। সূর্যের আলোতে আজকের তীব্রতাও যেন একটু কম। যাক প্রতিদিনের মত আজকে আর ঘেমে নেয়ে উঠতে হবে না!
মেডিকেল কলেজের মেইন গেট থেকে রাকিব একটা রিকশা নিল। রিকশাওয়ালাকে বলল, ‘সোবহান কমপ্লেক্সে চল।‘ সোবহান কমপ্লেক্স হল বরিশালের প্রাণকেন্দ্র সদর রোডের একটা শপিং সেন্টার। রাকিব ঠিক করেছে আজ সে ওখান থেকে একজোড়া জুতো কিনবে।
এপেক্সের ডিজাইনগুলোর একি হাল! কোনটাই তো ভাল লাগছে না। কালার পছন্দ হলে আকার ভালো লাগে না। পছন্দসই আকৃতি পেলে কাঙ্খিত রঙ পাই না। কী যন্ত্রণা রে বাবা! জুতো কিনতে এসে রাকিবের মাথা কিঞ্চিত গরম হয়ে গেল!
‘দুর! আজকে জুতোই কিনব না।‘
দোকান থেকে রাকিব বের হয়ে গেল। হঠাৎ কে যেন ওকে পেছন থেকে ডাকল, ‘এক্সকিউজ মি! এই যে ভাইয়া শুনুন!’
কণ্ঠটা মেয়ে মানুষের হওয়ায় অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ঘুরে তাকাল রাকিব। আর তাকিয়েই যেন ফ্রিজ হয়ে গেল। এ আমি কাকে দেখছি! নিজের চোখই তো বিশ্বাস হচ্ছে না! যাকে নিয়ে আমার এত ভাবনা, যার সাথে কথা বলার আমার এত আগ্রহ! এ তো সেই মেয়ে! বিকেলবেলার রিকশায় চড়া মেয়েটা!
‘আমি রূপা।‘ বলল মেয়েটা। ‘ভাল আছেন?’
প্রচণ্ড রকম অপ্রস্তুত হয়ে যাওয়া রাকিব বলল, ‘ও হ্যাঁ ভাল। আপনি?’
‘ভাল। আপনি বোধহয় আমাকে চিনতে পারেননি।‘
‘না, না চিনেছি।‘
‘আমি কিন্তু আপনাকে চিনি। আপনি রাকিব। মেডিকেলের স্টুডেন্ট।‘
‘তাই নাকি! কিভাবে জানলেন?’
‘এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বলব? চলুন কোথাও বসি।‘
সোবহান কমপ্লেক্সে ‘রোজ গার্ডেন’ নামক একটা রেস্টুরেন্ট আছে। রাকিব আর রূপা সেদিকে পা বাড়াল। কিন্তু সে সময় মার্কেটের উপরের আকাশে লাল চোখ খুলে ক্রুদ্ধ এক শকুন যে ডানা মেলে চক্কর কাটছিল তা কেউ খেয়াল করল না!


৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×