somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... অদৃশ্য মানব <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_60.gif" width="23" height="22" alt=":-P" style="border:0;" /> <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_60.gif" width="23" height="22" alt=":-P" style="border:0;" /> <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_60.gif" width="23" height="22" alt=":-P" style="border:0;" /> বাড়িতে এসেও তিনি স্বস্তি পাচ্ছিলেন না। বার বার বিবেক তাকে দংশন করছিল। ইস্! কেন কিছু করলাম না। দীর্ঘদিনের জানাশোনা। ওঠাবসা। তার জন্য একটা কথাও খরচ করতে আমার এত ভয়! হ্যাঁ ভয়। কিছু বলিনি পাছে ওরা আমায় চিনে নেয়। পরে যদি খবর করে দেয়। যদি অদৃশ্য হয়ে যেতে পারতাম! একদিনের জন্য। মাত্র এক ঘন্টার জন্য। তাহলে অন্তত একটা খারাপ লোককে শাস্তি দিতে পারতাম। প্রতিবাদ করতে পারতাম। কেউ তো আর চিনতে পারত না।
আজকের সকাল সুলতান সাহেবের জন্য এত বিস্ময় নিয়ে আসবে তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। ঘুম থেকে ওঠার পর তিনি অবাক হয়ে দেখলেন তার স্ত্রী, সন্তানরা তাকে খুঁজছে। অথচ তিনি ওদের সামনেই দাঁড়িয়ে আছেন। তার মানে তিনি এখন অদৃশ্য হয়ে গেছেন। কী মজা! কে যেন বলল, " তুমি এক ঘণ্টার জন্য অদৃশ্য মানব হয়ে গেছ। এখন যা করার কর।" সুলতান সাহেবকে কে আর পায়! তিনি লাফিয়ে বাইরে নামলেন। দৌড়ে গেলেন জুপিটারের আস্তানায়। ধুমধাম মার লাগালেন। জুপিটার তো ভয়েই অস্থির। ভূত! ভূত! বলে চিৎকার করে উঠল সে। কিন্তু তাতে লাভ হলো না। বরং মার দ্বিগুণ হয়ে গেল। শেষে অদৃশ্য মানবের ধাক্কা সামলানোর জন্য সে মাহমুদ সাহেবের বাড়ি ফিরিয়ে দিতে রাজি হলো।
আহ্! কী শান্তি। সুলতান সাহেব যেন তৃপ্তির ঢেঁকুর তুললেন। ঘড়িতে দেখলেন হাতে আরও আধ ঘন্টা সময় আছে। এবার কাকে ধরা যায়। ইউরেকা! পেয়েছি! সামনে দিয়ে যাচ্ছে কোব্বাত রাজাকার। ব্যাটা বড়ই বদ। একাত্তরে জ্বালিয়েছে। এখনও জ্বালাচ্ছে। অথচ ওর ক্ষমতার জন্য কেউ ওকে কিছু বলার সাহস পায় না। কী করা যায় ব্যাটাকে? ভাবছে অদৃশ্য মানুষ। শালাকে দুটো চড় মারি। নাহ্ এটা পুরনো পন্থা হুম পেয়েছি। ওর লুঙ্গি খুলে নিলে কেমন হয়। যেই ভাবনা সেই কাজ। বীরদর্পে এগিয়ে গেলেন তিনি। জোরসে টানো হেইয়ো। লুঙ্গি নিয়ে তুমুল টানাটানি শুরু হয়ে গেল। রাজাকার চিৎকার করতে লাগল, কে আছিস! বাঁচা, ভূত আমার ইজ্জতে হাত দিছেরে...। কিন্তু অদৃশ্য মানুষের মুখে বিকট হাসি, হা হা হা! আজ তোর রক্ষা নেই শয়তান।
হঠাৎ কে যেন সুলতান সাহেবকে প্রচণ্ড এক ধাক্কা দিল। কিন্তু অদৃশ্য বস্তু দেখতে পায় এমন তীক্ষ্ণ চোখ কার? একি আমি কোথায়? নিজেকে বিছানায় পেয়ে ঠিক সন্তুষ্ট হতে পারলেন না সুলতান সাহেব। স্ত্রীর দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে বললেন, সীমা, আমি এখানে কেন?
মাথামুণ্ডু কি সবই গেছে। বউ ক্ষেপেছে। রাত দুপুরে শাড়ি ধরে টানাটানি করছিলে কেন? যত্তসব। বুড়ো বয়সে ভিমরতি!!
সত্যিই কি ভিমরতি? এর উত্তর সুলতান সাহেবের ঠিক জানা নেই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29539842 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29539842 2012-02-12 22:10:49
আলাদিনের দৌড়... : <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_62.gif" width="23" height="22" alt="B:-/" style="border:0;" /> - কি হয়েছে মালিক আমার?
- এই মেদভুঁড়ি, কি করি?
- মালিক আমার, প্রতিদিন সকাল বিকেল দৌড়ান। সব ঠিক হয়ে যাবে।
- না, না। এখানের সবই তো আমার চেনা। চেনা জায়গায় দৌড়াতে আমার ভাল লাগে না।
কিছুক্ষণ চুপ করে রইল দৈত্য। মস্তিস্কের অলিগলি সার্চ করতে লাগল- নতুন উপায়ের সন্ধানে। শেষে দৈত্যের মুখে হাসি দেখা গেল। সে বলল, মালিক আলাদিন, চলুন একটা দেশ ভ্রমন করে আসি।
- কোন দেশ?
- বঙ্গদেশ। সে দেশের পথে ঘাটে শুধুই রঙ্গ। ও দেশে মালিক আপনাকে এতটাই দৌড়ের ওপর থাকা লাগবে যে মুহূর্তেই ফ্যাট হাওয়া হয়ে যাবে।
- বাহ্ ভালই তো। নতুন দেশও দেখব। স্লিমও হব। এক ঢিলে দুই পাখি। আচ্ছা ও দেশের মানুষ বুঝি খুব রসিক?
- জ্বি। অত্যাধিক রসিক।
যেমন ভাবনা তেমনি কাজ। আলাদিন ও দৈত্য চলল বঙ্গদেশ ভ্রমণের পথে। অবশ্য দৈত্য মানুষের রূপ নিয়ে নিল, পাছে লোকে যদি চিনে ফেলে।
ঘুরতে ঘুরতে আলাদিন ও দৈত্য এক জায়গায় এলো। তখন বেলা বারোটা। মাথার ওপর সূর্য গনগন করছে। গরমে ঘেমে নেয়ে উঠল আলাদিন। চলতে চলতে হঠাৎ দেখল এক রাস্তায় লোকজনের অনেক ভিড়। রাস্তাটার দু’ধারে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা দাঁড়িয়ে। কি ব্যাপার!
দৈত্যকে জিজ্ঞেস করল আলাদিন। দৈত্য বলল, মালিক বঙ্গদেশের মহারাজ আজ এ পথ দিয়ে যাবেন তো। এরা সবাই ওকে, স্যরি, ওনাকে স্বাগত জানাবে।
- কিন্তু বাচ্চাদের স্কুল নাই। ওদের লেখাপড়া শেখানো বাদ দিয়ে এসব কি হচ্ছে? মালিক এখানেও ওদের পরোক্ষভাবে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। -যেমন?
-যেমন ধরুন এই যে ওরা রোদে পুড়ে খাক হচ্ছে। এতে ওরা কষ্টসহিষ্ণুতা শিখছে। তারপর কিভাবে কাউকে তেল দিতে হবে বা তেল নিতে হবে তার প্রাথমিক ধারণা লাভ করছে। কিভাবে মানুষকে কষ্ট দেয়া যায় তাও শিখছে।
-থাক, থাক। আর শিখে কাজ নেই।
এরপর আলাদিন ওখানকার ষণ্ডামার্কা এক লোককে বলল, ভাই এ বাচ্চাদের এভাবে কষ্ট দেয়ার মানে কি? লোকটা চোখ লাল করে তাকাল। শিশুদের অধিকার নিয়ে তো আপনারা কত কি বলেন। অথচ ওদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবেন না কেন? আলাদিন আরও কি যেন বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু সুযোগ পেল না। ষণ্ডা লোকটা গুণ্ডাদের মতো হাঁক দিল, হারামজাদা হালার পুত, তরে খাইছি। ওই তোরা এ ব্যাডারে ধর। বিরোধী দলের লোক। ওরে মার।
শুরু হয়ে গেল আলাদিনের দৌড়। সঙ্গী তার মানুষরূপী দৈত্য। দৈত্য বলল, মালিক আপনার ফ্যাট কমা শুরু হয়েছে। দৌড়াতে দৌড়াতে আলাদিন আর তার দৈত্য ছোটখাটো এক জনসভাস্থলে হাজির হলো। এক বক্তা হম্বি-তম্বি করে কার যেন চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করছে। আলাদিন বলল, দৈত্য উনি কি বলে?
উনি বলেন, পাকি আমলে ওনারা নাকি ভাল ছিল। এক লেখক পাকিদের বিরুদ্ধে লিখছে বলে তার শাস্তি চান।
দৈত্যের কথা শেষ হতেই জনসভাস্থলের এক শ্রোতাকে আলাদিন বলল, ছিঃ ছিঃ ভাই, যে পাকিস্তান আপনাদের কত কষ্ট দিল তাদের সাফাই গাইছেন।
নাউজুবিল্লাহ! পেয়ারা পাকিদের বিরুদ্ধে কথা। শালা মুরতাদ। মার শালারে। আরেক দফা দৌড় শুরু হল আলাদিনের। এবার শহীদ মিনারের সামনে এল আলাদিন ও দৈত্য। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছিল। দর্শকদের মাঝে কয়েকজন তরুণের কথোপকথন শুনতে পেল আলাদিন। একজন বলল, রাবিশ অনুষ্ঠান। মঞ্চে বাংলা গান পরিবেশনের সময় আরেকজন বলল, বেঙ্গলি সং আই ডোন্ট লাইক।
শিট্ বাংলা।
আলাদিন আর চুপ করে থাকতে পারল না। বলল, এইটা কি বললেন ভাই। বাংলা আপনাদের ভাল লাগে না। যে ভাষার জন্য মানুষ প্রাণ দিল তারে আপনারা বলেন ‘শিট বাংলা’। ছিঃ ছিঃ ছিঃ।
- ও ড্যাম। শিট্ ডাল ম্যান। গো ফ্রম হিয়ার।
- ঝাড়িটাও ইংলিশে মারলেন। এটা অন্তত বাংলায় কন। আচ্ছা ভাই ভিক্ষাবৃত্তি কি ভাল? দেশীয় সংস্কৃতিকে দূরে ঠেলে বিদেশীকে ধার নেয়া.... ব্যাপারটা কেমন না? আপনারা ইংলিশ পারেন ভাল কথা। বাংলাকেও শ্রদ্ধা করতে শেখেন।
- ও ইউ ব্লাডি। আই উইল কিল ইউ। আলাদিনের আবার ভুঁড়ি কমা শুরু হল। দৌড়ে দৌড়ে হাঁপিয়ে সে বলল, দৈত্য, এত দৌড়ালে তো আমার ফ্যাটের লগে জানটাও যাবে। চল দেশে ফিরে যাই।
এবার আলাদিন তার দেশের দিকে দৌড় দিল।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29539227 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29539227 2012-02-11 22:03:30
ইন্টারভিউ // <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_09.gif" width="23" height="22" alt=";)" style="border:0;" /> একটু পরে রুবেলের একটা ইন্টারভিউ হবে। পোষ্ট হচ্ছে সেলস অফিসার। বেতন মোটামুটি। আজকে ইন্টারভিউর প্রথম ধাপ-লিখিত পরীক্ষা। এতে টিকলে ভাইভা। তাতে টিকলে লোক ধরাধরি। তাতে টিকলে ডোনেশন এবং এতে টিকলে চাকরি!
যাহোক, কিছুক্ষণ পর লিখিত পরীক্ষা শুরু হলো। কিন্তু প্রথম প্রশ্নটা থেকেই তার চোখ কপালে উঠল। হাত-পা ঠণ্ডা হতে আরম্ভ করল। কলমের মাথার বল যেন জমে গেল। কোথায় যেন রুবেল পড়েছিল টেনশন কমানোর জন্য এক থেকে একশ পর্যন্ত উল্টো করে পড়তে হয়। কিন্তু ওর হাতে এখন অত সময় নেই। তাই সে দশ থেকে শুরু করল দশ, নয়, আট, সাত...। সে প্রশ্নটা আবার পড়ার চেষ্টা করল, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক কে?
ইতিহাসের ছাত্র রুবেল। তার তো এ প্রশ্নের উত্তর ঝড়ের বেগে লিখে ফেলা উচিত। কিন্তু কথায় বলে না ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না। তাই রুবেল ভাবতে বসল। বর্তমান সময়টা টেকনিকের যুগ। উত্তরটা তাই টেকনিক্যালি দিতে হবে- যাতে সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙ্গে। কিন্তু কি করা যায়? এদিকে সময়ও চলে যায়। আচ্ছা এক কাজ করলে কেমন হয়, যা সত্য তাই লিখে দিই। কিন্তু মালিকপক্ষ যদি সত্যের সাপোর্ট না করে। তাহলে তো চাকরি হবে না। আবার মিথ্যাইবা লিখি কি করে! বিবেক বলে একটা কথা আছে না। চাকরির জন্য মনুষ্যত্ব বিসর্জন দেয় কি ঠিক? ঠিক না। তবে কথায় বলে, প্রয়োজন আইন মানে না। আমার এখন চাকরির প্রয়োজন। প্রয়োজনে মিথ্যা লেখা তো দোষের কিছু না। তবুও সমস্যা থেকেই যাচ্ছে- মালিকপক্ষ আসলে কোন পক্ষের? সরকারদলীয় না বিরোধী দলীয়? মনে করি, মালিক পক্ষ সরকারদলীয়। তাই সরকারের মনের মতো উত্তর লিখলাম, চাকরি হলো। কিন্তু ভবিষ্যত তো শঙ্কামুক্ত থাকল না। বাংলাদেশে ইদানীং প্রতি পাঁচ বছর পর পরই তো ইতিহাস পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই বিরোধী দল ক্ষমতায় এসে তো আমার চাকরি খেয়ে নেবে।
এভাবে রুবেল যখন হাজার ভাবনার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে তখন কে যেন বলল স্টপ রাইটিং। তার মানে পরীক্ষার সময় শেষ। অথচ রুবেলের একটা প্রশ্নেরও উত্তর দেয়া হয়নি, যাক। ব্যাপার না। সংসার সাগরে দুঃখ তরঙ্গের... আশা... একমাত্র ভেলা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29535049 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29535049 2012-02-04 21:19:56
একুশে বইমেলা ২০১২// নতুন বইয়ের ঘ্রাণ ... হঠাৎ করেই রাফির সাথে ব্রেক আপ হয়ে গেল লোপার। রাফি আসলে তার মত নয়। শুধু গাইড করতে চায়। কত বড় সাহস ওর! বলে কি না আমি উশৃঙ্খল! আমি কি ওর চেয়ে কোন অংশে কম বুঝি! আমি একটা কর্পোরেট হাউজে জব করি। আমাকে জ্ঞান দিতে আসে!! যা ব্যাটা তোকে আমার দরকার নাই। আমার লাইফ আমিই ভাল বুঝব ...
... এমএমএস। হায় ভগবান! এটা কী! ওহ সিট! তাপসীর সঙ্গে রাম এসব কী করছে! জয় আর দেখতে পারে না। জোরে জোরে ঢাকের ওপর বাড়ি পড়তে থাকে। জয় যেন কিছুই শুনতে পায় না ... ঢাকের শব্দ ...
মানুষের চিৎকার ... পুরোহিতের উচ্চারণ - যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেন সংস্থিতা/ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ
... নমস্তস্যৈ নমঃ নমঃ ...
... ছোটনের খুব ইচ্ছা করে শুধু একবার, শুধু একবার প্রিয় মুখটা পিছনে তাকিয়ে দেখে। ইচ্ছে করে ছুটে গিয়ে তাকে বলে, রাইসা আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি। এতটা আমি নিজেকেও বাসি না ... “

জীবনের এমন কিছু ছবি আমি আঁকার চেষ্টা করেছি আমার প্রথম গল্প গ্রন্থ “আমাদের গল্প”-এ। এটি প্রকাশ করেছে জাগৃতি প্রকাশনী। একুশের বইমেলার প্রথম দিন থেকেই “আমাদের গল্প” পাওয়া যাবে জাগৃতির স্টলে (স্টল নং-২৪০, ২৪১, ২৪২)।
চরম আবেগ, আকাঙ্ক্ষা আর আগ্রহ নিয়ে আমি উন্মুখ হয়ে আছি এই নতুন বইটির ঘ্রাণ নেবার জন্য। বিভিন্ন সময়ে জনকণ্ঠ, প্রথম আলো, সাপ্তাহিক ২০০০ ইত্যাদিতে প্রকাশিত ২৪টা ছোট গল্পের এক সংকলিত রূপ এই বইটি। তাছাড়া প্রথম বই বলে এর প্রতি অনুভূতিটাও গভীর। সাথে সাথে অযাচিত এক আশংকাও কাজ করছে আমার মনে যে, বাংলাদেশে নতুন লেখকদের বই বিক্রি হয় না! কেউ কি কিনবে আমার বই? যাই হোক। লেখাতেই আমার আনন্দ!
সবাইকে এই বইটি পড়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29532367 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29532367 2012-01-31 01:56:34
তন্ত্রশক্তি বিধান (ফ্যান্টাসি গল্পের চেষ্টা)-৪ ১ম ২য় ৩য়

// ৪র্থ পর্ব //

শুক্রবার সকালটা আমার জীবনের বিগত দশ বসন্ত ধরে একই রকমভাবে কাটছে। আটটা পর্যন্ত বিছানায় পড়ে থাকার পর মায়ের ঝাড়িতে ঘুম ভাঙ্গা। বাথরুম করা। নাস্তা করা। বাসার ময়লা ফালানো। বাজার করা... আজকেও একইভাবে আমার জীবনের আর একটি শুক্রবার শুরু হল।
আমাদের বাসায় কোন কাজের লোক নেই। তাই বাসার প্রতিদিনের ময়লা আমাকেই ফেলতে হয়। এ কাজটা করতে আমার এক সময় ভাল লাগত না। কেমন যেন অপমানজনক কর্ম বলে মনে হত। কিন্তু এখন আর খারাপ লাগে না। ভালই লাগে। নিজের কাজ নিজে করার মাঝে আনন্দ অনেক।
আমাদের বাসা কলেজ রোডের শেষ প্রান্তের একটু আগে। এখান থেকে বগুড়া রোডে হেঁটে যেতে পাঁচ মিনিটও লাগে না। কলেজ রোড ও বগুড়া রোড যেখানে মিশেছে ঠিক সেই মোড়টাতে একটা দোতলা বাড়ি আছে। বাড়িটার পেছনে একটু খোলা জায়গা রয়েছে। আর সেখানেই ডাস্টবিনটা রাখা। আর ওটাই আমার এখনকার গন্তব্য।
একহাতে বাজারের ব্যাগ আর অন্যহাতে ময়লার ব্যাগ নিয়ে আমি আমার গন্তব্যের দিকে এগুতে লাগলাম। যতই ডাস্টবিনটার কাছাকাছি হতে লাগলাম আমার হার্টবিটও ততই বাড়তে লাগল। প্রতিদিনই আমার একই অবস্থা হয়। দূর আর ভাল লাগে না! এভাবে আর কতদিন! আমার সাহস কবে হবে! অহ গড! সাহস দাও!
যাক ময়লা ফেলা সার্থক হল! সে আজকেও দোতলার জানালায় দাঁড়িয়ে আছে। সকালের সূর্যের নরম আলোয় ওর কানের দুল ঝকমক করছে। লম্বা চুলের এক গোছা কপাল ছুঁয়ে ওর নাকের উপর পড়ছে আর বাতাস তা আবার ঠেলে দিচ্ছে। ওর কাজল দেয়া চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে যেন আমার নেশা ধরে গেল। হঠাৎ এক হতচ্ছাড়া মাছি আমার অবচেতন মনে হা করা মুখের মাঝে ঢুকে পড়ে দিল ভাবটা শেষ করে! দুর ছাই! একটু পরে অবাক হয়ে দেখলাম আমি কাশছি আর সে হাসছে। এত সুন্দর হাসি! হাসির মাঝে ওর ওষ্ঠ আর অধরের কাঁপুনি আমার হৃদয়েও কাঁপুনি ধরিয়ে দিল! উহ! আমি শেষ! এমন হাসি দেখার জন্য আমি আজীবন ময়লা ফেলতে রাজি আছি। দরকার হলে আমি একটা কেন আরও এক হাজারটা মাছি খেতেও রাজি আছি।
বাজার করতে আমার কখনোই খুব বেশি সময় লাগে না। কারণ আমি বাজারে গিয়ে প্রথমে যে দোকানে ঢুকি, চেষ্টা করি সেখান থেকেই সব কিছু কিনে ফেলার। বাজারে খুব বেশি দরাদরি বা ঘোরাঘুরি কোনটাই আমার ভাল লাগে না। অবশ্য এ জন্য যে দুই টাকার জিনিস আমি প্রায়ই চার টাকায় কিনে ফেলি এমনটা যে হয় না তা কিন্তু নয়। তাই আমি প্রতি শুক্রবার মায়ের ঝারিও খাই। কিন্তু তবুও কাঁচা বাজারে দোকান থেকে দোকানে আমার ঘুরতে ইচ্ছে করে না। তবে আজকে একটু ঝামেলায় পড়ে গেলাম। সারা বাজার বাধ্য হয়ে ঘুরেও কোথাও ডাব পেলাম না। অথচ মা বলেছেন আজ তার এটা লাগবেই। কি যে করি! শেষে এক দোকানদার বলল, কাক্কু তুমি মড়ক খোলার পোলের দিকে যাইয়া দেখতে পার।
নতুন বাজার থেকে মড়ক খোলার পোল মাত্র পাঁচ মিনিটের রাস্তা। কাঁচা বাজার থেকে বের হতেই হঠাৎ নাকে কেমন যেন একটা তীব্র ঝাঁজাল গন্ধ এসে লাগল। সাথে সাথে মাথাটা যেন একটা চক্কর দিয়ে উঠল। আজব ব্যাপার! এটা কিসের গন্ধ? কিন্তু গন্ধটা কেমন যেন চেনা চেনা লাগল। হুম বুঝতে পেরেছি। নতুন বাজারের মাঝে একটা অতি পুরনো মন্দির আছে। আর আমি এখন ঠিক ওটার একদম সামনেই দাঁড়িয়ে আছি। তাহলে গন্ধটা এখান থেকেই আসছে। আমি নিশ্চিত এটা ধুপের গন্ধ। প্রায় সব মন্দিরেই নানান পূজা আচার্যের সময় ধুপ পোড়ান হয়। কিন্তু ধুপের গন্ধ তো এত ঝাঁজাল হয় না। আরে ওই লোকটা আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছে কেন? বিরাট জটাধারী এই লোককে এর আগে তো এখানে দেখি নাই। বাপরে কেমন যেন শীতল চাহনি! আমি ওখানে আর দাঁড়ালাম না।
ডাব খুঁজতে গিয়ে আমাকে একদম মড়ক খোলার পোল পাড় হয়ে শ্মশানঘাটের কাছাকাছি চলে যেতে হল।এবার ডাবওয়ালার সাথে দরদাম না করে আর পারা গেল না। বলে কি না প্রতি পিস ডাব চল্লিশ টাকা! শেষে অনেক কষ্টে পঞ্চাশ টাকায় একজোড়া ডাব কিনে বাড়ির পথ ধরলাম। হেঁটে হেঁটে মড়ক খোলার পোলের কাছাকাছি আসতেই মনে হল কে যেন বলছে, এই ছ্যামড়া ডাব দিয়া যা। খাড়া কইলাম হালার পো। খাড়া।
ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাতেই চোখ যেন আমার কপালে উঠল। ওরে বাপরে! এ তো রফিক পাগলা! সেই ছোটবেলা থেকেই একে নতুন বাজার এলাকায় একটা নেংটি পরে ঘোরাঘুরি করতে দেখে আসছি। কিন্তু কখনো কথা বলতে শুনি নাই। আজই প্রথম তার কণ্ঠ শুনলাম। এ দেখছি আমার দিকেই তেড়ে আসছে। আজকে ব্যাটায় নেংটিও পরে নাই। এক নগ্ন পাগল তার উত্থিত শিশ্ন নিয়ে আমার দিকে ধেয়ে আসছে! আমি আর এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট করলাম না। এক দৌড়ে পোল পার হয়ে নতুন বাজারের কাছাকাছি চলে এলাম। আস্তে আস্তে পাগলের চিৎকার যেন পিছনে হারিয়ে গেল। বুঝলাম আমি নিরাপদ দূরত্বে এসে গেছি। কিন্তু একটা বিষয় আমাকে খুব অবাক করল রফিক পাগলা আমার পিছন পিছন আসল ঠিকই কিন্তু মড়ক খোলার পোল পার হয়ে এপার এল না। এর কারণ কি?
[চলবে]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29531718 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29531718 2012-01-29 23:50:26
তন্ত্রশক্তি বিধান (ফ্যান্টাসি গল্পের চেষ্টা)-৩ তন্ত্রশক্তি বিধান (ফ্যান্টাসি গল্পের চেষ্টা)-১ ও ২

// ৩য় পর্ব //

ঘণ্টা দুয়েক পর। রাকিবদের বাসা।
‘ কী আজব ব্যাপার! গত দুদিন ধরে আমি একটা শকুন দেখতে পাই যা অন্য কেউ দেখতে পায় না।‘ চিন্তিত রাকিব। ‘এমন কেন হচ্ছে?’
‘দোস্ত আমার মনে হয় তুই রিসেন্টলি এমন এক হরর মুভি দেখছস বা বই পড়ছস যেখানে শকুন রিলেটেড কোন ঘটনা ছিল যা তোর মনে গভীর দাগ কেটেছে।‘ বললাম আমি। ‘তাই মাঝে মধ্যে অবচেতন মনে শকুন দেখতে পাস।‘
‘আরে না! যত দূর মনে পড়ে গত এক বছরে আমি কোন হরর মুভি দেখি নাই। আর শকুন বিষয়ক বইও তো পড়ি নাই। তাহলে এমন হচ্ছে কেন? এটা কি হ্যালুসিনেশন? নাকি ইলুশন? দাড়া এক কাজ করি। ইন্টারনেটে Vulcher. সার্চ দিয়ে দেখি শকুনের সাথে হ্যালুসিনেশনের কোন সম্পর্ক আছে কী না!’
শকুনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে আমরা Vulcher লিখে গুগলে সার্চ দিলাম। মুহূর্তের মধ্যে কয়েকশ লিংক এসে হাজির। এত লিংক ঘাটাঘাটি করতে করতে তো রাত ভোর হোয়ে যাবে! আমরা উইকিপিডিয়ার লিংকে ক্লিক করলাম। অনেকক্ষণ ঘাটাঘাটি করে যা পেলাম তার সারসংক্ষেপ হল, পৃথিবীতে আদিযুগের যে কয়েকটি প্রাণী এখনো টিকে আছে তাদের মধ্যে শকুন অন্যতম। তবে এরাও বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকার অনেক মানুষ শকুনকে অশুভ আত্মার প্রতীক মনে করত। সেখানকার ব্লাক ম্যাজিশিয়ানরা শকুনকে তাদের কালো জাদুর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত। কিন্তু আইরিশরা মনে করত শকুন হচ্ছে ঈশ্বরের সাথে সরাসরি আত্মার সংযোগের রাস্তা। তাদের ধারণা ছিল, শকুনের মগজ পোড়ালে যে কালো ধোঁয়া হয় তার মাধ্যমে অতি দ্রুত মর্তের প্রার্থনা ঈশ্বরের কাছে পৌঁছে যায়......।
‘ধুর! হ্যালুসিনেশানের সাথে শকুনের কোন রিলেশানই নাই।‘ এতক্ষণ এসব পড়ে রাকিব খুব বিরক্ত হল।
‘কিন্তু দোস্ত দ্যাখ ব্লাক ম্যাজিকের সাথে শকুনের একটা সম্পর্ক আছে।‘
‘মানে কি? তুই কি বলতে চাচ্ছিস যে আমার উপর কেউ কালো জাদুর প্রভাব ফেলতে চাচ্ছে?‘
‘হ্যাঁ, হতেও তো পারে।‘
‘দুর পাগল! এখানে ব্লাক ম্যাজিশিয়ান কোত্থেকে আসবে? আর যদি এসেও থাকে তাহলে চারদিকে এত মানুষ থাকতে আমাকে কেন বেছে নেবে? আমি তো তেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নই।‘
কথার পিঠে নানান কথা হল। কিন্তু আমরা কোন সমাধান বের করতে পারলাম না।

কয়েকদিন পর।
দুপুরবেলা মেডিকেল কলেজ থেকে বের হয়েই রাকিব অবাক হয়ে আবিষ্কার করল আজকের আবহাওয়াটা যেন একটু অন্যধরনের। আকাশে পেজা পেজা মেঘ। মাঝে মধ্যে মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে সূর্য। সূর্যের আলোতে আজকের তীব্রতাও যেন একটু কম। যাক প্রতিদিনের মত আজকে আর ঘেমে নেয়ে উঠতে হবে না!
মেডিকেল কলেজের মেইন গেট থেকে রাকিব একটা রিকশা নিল। রিকশাওয়ালাকে বলল, ‘সোবহান কমপ্লেক্সে চল।‘ সোবহান কমপ্লেক্স হল বরিশালের প্রাণকেন্দ্র সদর রোডের একটা শপিং সেন্টার। রাকিব ঠিক করেছে আজ সে ওখান থেকে একজোড়া জুতো কিনবে।
এপেক্সের ডিজাইনগুলোর একি হাল! কোনটাই তো ভাল লাগছে না। কালার পছন্দ হলে আকার ভালো লাগে না। পছন্দসই আকৃতি পেলে কাঙ্খিত রঙ পাই না। কী যন্ত্রণা রে বাবা! জুতো কিনতে এসে রাকিবের মাথা কিঞ্চিত গরম হয়ে গেল!
‘দুর! আজকে জুতোই কিনব না।‘
দোকান থেকে রাকিব বের হয়ে গেল। হঠাৎ কে যেন ওকে পেছন থেকে ডাকল, ‘এক্সকিউজ মি! এই যে ভাইয়া শুনুন!’
কণ্ঠটা মেয়ে মানুষের হওয়ায় অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ঘুরে তাকাল রাকিব। আর তাকিয়েই যেন ফ্রিজ হয়ে গেল। এ আমি কাকে দেখছি! নিজের চোখই তো বিশ্বাস হচ্ছে না! যাকে নিয়ে আমার এত ভাবনা, যার সাথে কথা বলার আমার এত আগ্রহ! এ তো সেই মেয়ে! বিকেলবেলার রিকশায় চড়া মেয়েটা!
‘আমি রূপা।‘ বলল মেয়েটা। ‘ভাল আছেন?’
প্রচণ্ড রকম অপ্রস্তুত হয়ে যাওয়া রাকিব বলল, ‘ও হ্যাঁ ভাল। আপনি?’
‘ভাল। আপনি বোধহয় আমাকে চিনতে পারেননি।‘
‘না, না চিনেছি।‘
‘আমি কিন্তু আপনাকে চিনি। আপনি রাকিব। মেডিকেলের স্টুডেন্ট।‘
‘তাই নাকি! কিভাবে জানলেন?’
‘এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বলব? চলুন কোথাও বসি।‘
সোবহান কমপ্লেক্সে ‘রোজ গার্ডেন’ নামক একটা রেস্টুরেন্ট আছে। রাকিব আর রূপা সেদিকে পা বাড়াল। কিন্তু সে সময় মার্কেটের উপরের আকাশে লাল চোখ খুলে ক্রুদ্ধ এক শকুন যে ডানা মেলে চক্কর কাটছিল তা কেউ খেয়াল করল না!
[চলবে]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29531047 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29531047 2012-01-28 23:05:26
তন্ত্রশক্তি বিধান (ফ্যান্টাসি গল্পের চেষ্টা)-২ তন্ত্রশক্তি বিধান (ফ্যান্টাসি গল্পের চেষ্টা)-১

// ২য় পর্ব//
সকালে ঘুম ভাঙতেই মেজাজটা চরম খারাপ হয়ে গেল। ঘড়ির কাঁটা সাতটা ছোঁয়ার আগেই লোডশেডিং। এ বসন্তকালেও এত গরম! ঘেমে একদম নেয়ে উঠলাম। এমনিতেই আমাদের ফ্ল্যাটটা পশ্চিম দিক ঘেঁষা। তাই এখানে গরম বা ঠাণ্ডা দুটোই বেশি লাগে। তাছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশের আবহাওয়া অদ্ভুতভাবে বদলে গেছে। কখন যে গরম পড়বে, আবার কখনই বা ঠাণ্ডা লাগবে কিংবা সময়ের বৃষ্টি অসময়ে হবে কিনা তার কোন তাল ঠিক নেই। প্রকৃতির এ আজব আচরণ যতটা না অস্বস্তির তার চেয়ে অধিক বেশি আতঙ্কের- কখন আবার বড় অঘটন ঘটে কে জানে!
ওরে বাপরে! পাঁচটা মিসড কল! কিন্তু এত সকালে রাকিব কল দিল কেন? আমি তাড়াতাড়ি ওকে কলব্যাক করলাম।
‘কি রে এত সকালে ফোন দিছিস কেন?’
‘শোন, এখন মেডিকেলে যাচ্ছি। দুটোর মধ্যে বাসায় ফিরে আসব।‘ বলল রাকিব। ‘তুই পাঁচটার আগেই আমাদের বাসায় চলে আসবি। আজকে ওর সাথে কথা বলব। তুই সাথে থাকবি!’
‘কার সাথে?’
‘আররে ওই যে সেদিন দেখলাম শহিদ স্যারের ছাত্রী, রিকশায় আমাদের সামনে থেকে গেল।‘
‘তুই কি পাগল হয়েছিস? রাস্তায় রিকশা আটকিয়ে একটা মেয়ের সাথে কথা বলবি! এলাকার সবাই কি বলবে? মান সম্মান তো কিছুই থাকবে না! তাছাড়া এখন ইভটিজিং নিয়ে নানান আন্দোলন হচ্ছে। মেয়ে যদি কোন সিন ক্রিয়েট করে তাহলে কিন্তু খবর আছে। সোজা জেলে যেতে হবে!’
‘উহ তুই একটা ভীতুর ডিম। আমি কি একবারও বলেছি যে আমি রিকশা আটকাব? তুই আগে আয় তো!’
‘মামা তোমার দেখি সাহস অনেক বেড়ে গেছে! তা এতই যখন তুমি বীরপুরুষ একাই যাও, আমারে ডাক কেন?’
আমার কণ্ঠের দৃঢ়তা বুঝতে পেরে রাকিব নরম সুরে বলল, ‘ দোস্ত! প্লিজ তুই আয়। তুই ছাড়া আমার কে আসে বল!’
রাকিবের কণ্ঠের এমন অসহায় আকুতিতে সাড়া না দিয়ে পারলাম না। বুঝলাম ওর অবস্থা এখন শামুকের মতন! উপরে শক্ত হলেও ভেতরে পর্যাপ্ত কাঠিন্য নেই।

বিকেলবেলা।
রাকিব আজকে বেশ সাজুগুজু করে এসেছে! ক্লিন শেভ মুখে শরীর জুড়ে লাল টিশার্ট আর নীল জিন্স প্যান্টের বসবাসে ওকে বেশ স্মার্ট দেখাচ্ছে। তবে পরনের স্যান্ডেলটা একটু রংচটা হয়ে গেছে - এই আর কি!
যতই ঘড়ির কাঁটা পাঁচটা অতিক্রম করে একটু একটু করে সামনের দিকে এগিয়ে চলল ততই আমার মধ্যে কেমন যেন একধরনের বিব্রতকর অনুভূতি গাঢ় থেকে গাঢ়তর হতে লাগল। এভাবে এখানে দাঁড়িয়ে তো আমরা প্রতিদিনই চা খাই কিন্তু কখনও তো এমন লাগেনি। অবশ্য এর একটা ব্যাখ্যা এমন হতে পারে - অন্যদিনগুলোতে আমাদের দাঁড়ানোর পেছনে কোন বিশেষ উদ্দেশ্য থাকে না কিন্তু আজ যে আছে!
‘দোস্ত ওই যে আসছে!’ রাকিবের সতর্কবাণী। অবশ্য এখানে আমার সতর্ক হবার কিছু নাই। কারণ আমি কিছুই করতে পারব না। যদি কোন গণ্ডগোল বাঁধে তাহলে ওকে রক্ষা করার চেষ্টা করলেও করতে পারি! আবার কিছু নাও করতে পারি। যা হোক এখন আমি চুপচাপ দর্শকের ভূমিকায় থাকলাম।
একটুপর অবাক হয়ে আবিষ্কার করলাম রাকিবও চুপচাপ দর্শকের ভূমিকায়ই থাকল। সেও কিছুই করতে পারল না। মেয়েটা আমাদের সামনে থেকে রিকশা নিয়ে যথারীতি চলে গেল।
জীবনে এই প্রথম মনে হয় একটু সাহস দেখিয়ে ফেললাম। ‘এই রিকশা যাবে?’ বলেই একটা খালি রিকশা দাড় করালাম। ‘চল, ওর বাসাটা চিনে আসি।‘ বলেই স্ট্যাচু হয়ে যাওয়া রাকিবকে রিকশায় তুলে নিলাম। আমাদের রিকশা ওই মেয়েটার রিকশা ফলো করতে লাগল।
বটতলা থেকে বগুড়া রোড হয়ে মেয়েটার রিকশা নতুনবাজার পার হয়ে মড়কখোলার পোলের দিকে এগুতে লাগল। নামটা ‘মড়কখোলার পোল’ হলেও আসলে এটা একটা বড় ব্রিজ। ব্রিজের একপারে নতুনবাজার আর অন্যপাড়ে শ্মশানঘাট। বরিশালের শ্মশান কিন্তু যেনতেন শ্মশান নয়। অনেকের মুখেই শুনেছি এটা নাকি উপমহাদেশের অন্যতম বড় এবং পুরনো শ্মশান । তাই একে শুধু শ্মশান বললে ভুল হবে এটা হল মহাশ্মশান। এখানে প্রতিদিন অনেক মরা পোড়ান হয়। যাদেরকে এ ব্রিজের উপর দিয়েই বয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। মৃত মানুষের সাথে সম্পর্কযুক্ত হওয়ার কারনে হয়ত বা এর নামকরণ করা হয়েছে ‘মড়কখোলার পোল’।
মেয়েটার রিকশা মড়কখোলার পোলের উপর উঠতেই আমাদের রিকশার চেইন পড়ে গেল।
‘শিট!’ রাকিবের চোখ-মুখে অযাচিত বিরক্তি।
আমাদের রিকশা যখন আবার চালু হল ততক্ষণে আমরা মেয়েটার রিকশা হারিয়ে ফেলেছি। মড়কখোলার পোল দিয়ে নামার পর রাস্তা তিনদিকে চলে গেছে। আন্দাজে কোন দিকে যাই?
‘ধ্যাত! এত দাপাদাপি করে এসে কোন লাভ হল না।‘ বললাম আমি।
হঠাৎ রাকিব পাশের একটা মেহগনি গাছের মাথার দিকে আঙুল তুলে বলল, ’দোস্ত দ্যাখ সেই শকুনটা!’
‘কই আমি তো কিছুই দেখছি না!’
[চলবে] ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29530177 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29530177 2012-01-27 11:16:03
তন্ত্রশক্তি বিধান (ফ্যান্টাসি গল্পের চেষ্টা)-১ বসন্তের বিকেলবেলা বরিশাল শহরটাকে আমার অসম্ভব ভালো লাগে। ধূলোবালিহীন, শান্ত-ছোট্ট এক শহর। যেখানে নেই অতিরিক্ত মানুষের চাপ, গাড়ির মাত্রাতিরিক্ত কালো ধোঁয়া, নেই সারাক্ষণ ঢাকার মত অযথা টেনশনের যন্ত্রণা - ঘর থেকে বের হয়ে আবার ফিরতে পারব তো! এজন্যেই বোধহয় কবি জীবনানন্দ দাশ বরিশালে বসে নিশ্চিন্তে প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছিলেন আর সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন অসাধারণ ভালোলাগার কবিতার শরীর।
আমি এখন যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি শত বছর আগে এখানেই হয়ত বহুবার হেঁটেছেন জীবনবাবু। দেখেছেন চারদিক। ভেবেছেন তার কবিতা নিয়ে। হ্যাঁ, আমি এখন একদম তার বাসার সামনে। বরিশালের বগুড়া রোডের মুন্সির গ্যারেজ এলাকার এ ‘ধানসিঁড়ি’ নামক বাড়িটিতেই কবি তার জীবনের বহুকাল কাটিয়েছেন। আমি সবসময় গর্ব করে বলি, বরিশালে জীবনবাবুর বাসা আর আমার বাসার দূরত্ব মাত্র পাঁচ মিনিটের রাস্তা। এমন ভুবনবিখ্যাত কবির প্রতিবেশী হতে পারাটা আমার কাছে বিশাল সৌভাগ্যের ব্যাপার বলে মনে হয়। শুনেছি মানুষ মারা গেলে তার কথা, তার আত্মা অনন্তকাল ধরে বাতাসে ভেসে বেড়ায়। মৃত মানুষের আত্মা তার জীবিতকালের প্রিয় স্থানগুলোতেই নাকি বার বার ফিরে ফিরে আসে। আচ্ছা জীবনবাবুর আত্মা কি এখন এখানে আছে? আমার মত উদাস প্রকৃতির এক তরুণকে তার শৈশবের বাড়ির দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে উনি এখন কি ভাবছেন? ইশ যদি মাত্র দুইশ বছর আগে এখানে জন্মগ্রহণ করতাম তাহলে নিঃসন্দেহে আমি কবির সাথে বন্ধুত্ব করতাম!
হঠাৎ পকেটের মধ্যে কি যেন নড়ে উঠল! ওরে বাপরে কে নড়ে! না তেমন ভয়ের কিছু নেই। সাইলেন্ট করা মোবাইলে ভাইব্রেশন অন করা ছিল বলে ওটাই কেঁপে কেঁপে উঠছে। রাকিব কল করেছে,’ওই তুই কই? আসবি না?’
আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম, আজ বিকেলে রাকিবদের বাসায় আমার যাবার কথা। আমি বললাম, ‘হ্যাঁ দোস্ত আসতেছি। রিকশা নিলে জাস্ট দশ মিনিট লাগবে।‘
‘তুই এখনো রিকশা-ই নিশনি! আয় তাড়াতাড়ি আয়!’
‘আসছি। আসছি।‘
রাকিব কল কেটে দেয়।
রাকিব আমার খুব ভালো বন্ধু। আমার জীবনে দেখা অসম্ভব বুদ্ধিমান ছেলেদের একজন। বরিশাল মেডিকেলে পড়ে। মেডিকেলে পড়লেও নতুন টেকনোলজি বিশেষ করে কম্পিউটারের প্রতি তার আগ্রহ মারাত্মক। আমি যখনই ওর বাসায় গিয়েছি তখনই দেখেছি ও ল্যাপটপ নিয়ে গুঁতোগুঁতি করছে। আমরা বন্ধুবান্ধবরা অনেকেই কম্পিউটার, ইন্টারনেট, ব্লগ ইত্যাদি বিষয়ে প্রথম ধারণা পেয়েছি ওর কাছ থেকে। আমি তো প্রায়ই বলি তুই ডাক্তারি না পড়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়লে অনেক ভাল করতি!
রাকিবদের বাসা বরিশালের বটতলা এলাকায়। আমি দশ মিনিটের আগেই ওখানে পৌঁছে গেলাম। ও বাসার গলি থেকে বের হয়ে মেইন রোডে এসে দাঁড়িয়েছিল। আমাকে দেখেই ক্ষেপে গেল, ‘গাধা তকে বললাম পাঁচটার মধ্যে আসতে। তুই এসেছিস ছয়টা বাজিয়ে।‘
‘কেন? কি হয়েছে?’
‘তাড়াতাড়ি চল। চা খেয়ে আসি। এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে।‘
‘মানে কি? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।‘
‘পারবি। পারবি। সময় হলে এমনিতেই বুঝে যাবি।‘
রাকিবদের বাসা থেকে একটু সামনে এগুলেই অক্সফোর্ড মিশন রোড। এ রোডটা যেখানে বটতলা মেইন রোডের সাথে মিশেছে ঠিক সেখানে একটা চায়ের দোকান রয়েছে। হারুন নামক মধবয়সি একলোক এ দোকানটি চালায়। আমরা একে ‘হারুন টি স্টল’ বলি। হারুনের হাতে যাদু আছে কিনা জানি না তবে সারাটা বছর তার দোকানে উপচে পড়া ভীড় লেগে থাকে। এত স্বাদ ওর চায়ে! অনেকে বলে নির্ঘাত ও ওই চায়ে আফিম মেশায়। তাই যে একবার খায় সে আসক্ত হয়ে পড়ে! কী ভয়াবহ কথা! তাহলে কি আমরা সবাই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছি! আমি না হয় মাদকাসক্ত (!) হয়ে পড়েছি কিন্তু এদিকে রাকিব যে অন্যকিছুতে তীব্র আসক্ত হয়ে পড়ছে তা বিকেলে চা খেতে খেতেই টের পেলাম!
আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছি মূলত সেখান থেকেই অক্সফোর্ড মিশন রোডের শুরু। এ রোড ধরে একটু সামনে এগুলেই বরিশালের বিখ্যাত গণিত শিক্ষক শহিদ স্যারের বাসা। স্যার মহিলা কলেজের প্রভাষক বিধায় তার কাছে প্রতিদিন বিকেলে এ রোড ধরে অনেক মেয়ে পড়তে আসে, আবার ফিরে যায়। আর আমরা প্রতিদিন ঠিক এখানটাতেই ঠিক এসময়য়েই এভাবেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চা খাই! এদিক অদিক তাকাই! আর এটা তো আমাদের দোষ না, এটা হল বয়সের দোষ! তাছাড়া বিখ্যাত বিজ্ঞানী আল হাজেন তো বলেছেন, বস্তু থেকে আলো আমাদের চোখে এলে আমরা তা দেখতে পাই। তাই কী আর করা!
হঠাৎ রাকিবের কনুইয়ের গুঁতো খেয়ে আমি এতটাই নড়ে উঠলাম যে আর একটু হলেই হাত থেকে চায়ের কাপই পড়ে যেত! ‘কিরে, কি হইল?’ আমি বললাম। রাকিব মুখে কিছু বলল না চোখে ইশারা করল। দেখলাম নীল রঙের শর্ট কামিজ পরা একটা মেয়ে রিকশায় চড়ে এদিকেই আসছে। আর আমাদের রাকিব তার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে। চায়ের কাপে শেষ চুমুক দেবার আগেই রিকশাটা আমাদের সামনে থেকে চলে গেল। আমি বললাম, ’মামা! তুমি তো শেষ!’
‘আমারও তো তা-ই মনে হচ্ছে রে!’ বলল রাকিব। মেয়েটার চলে যাওয়া রিকশার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ করে রাকিব চিৎকার করে উঠল, ‘দোস্ত দেখতো ওইটা কি? শকুন না? এদিকেই তো উড়ে আসছে!’
‘কই আমি তো কিছুই দেখছি না! তুই কি পাগল হয়ে গেছিস নাকি! বাংলাদেশ থেকে শকুন বিলুপ্ত হয়ে গেছে তো বহু বছর আগেই! শালার মাথা নষ্ট!’ এ কথা বলেই রাকিবের মাথায় হালকা একটা চাটি মারলাম। তারপর ওকে বললাম, ‘এখনো কি শকুন দেখতে পাচ্ছিস?’
‘না, পাচ্ছি না।‘
রাকিবের কণ্ঠে স্পষ্ট দুশ্চিন্তার আভাস!

[চলবে]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29529953 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29529953 2012-01-26 23:05:06
করুণা ... [মাইক্রো গল্প/ সত্য ঘটনা অবলম্বনে] আসলে জীবন এভাবে পাগলামি করবে সেটা জেরিনের স্বপ্নেও ছিল না। সে তো তখন জীবনকে ভালোই বাসত। কিন্তু বাস্তবতা অস্বীকার করার তো উপায় নেই। প্রেম করলে যে বিয়ে করতে হবে এমন কি কোন নিয়ম আছে নাকি! রাফিকে জেরিনের বেটার মনে হয়েছে তাই ... তাই বলে জীবন এমন করবে? ওদের ছবিগুলো এভাবে ফেসবুকে দিয়ে দেবে? শুধু তাই নয়। সব ছবিগুলোতে সে রাফিকে ট্যাগ করেছে! আজিব! তাও ভাগ্য ভাল বলতে হবে যে জেরিন রাফির ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড জানত! খুব তাড়াতাড়ি সে ট্যাগগুলো রিমুভ করেছিল।
ওইদিন আসলেই জেরিন খুব ভয়ে ছিল। রাফি আবার কি না কি বলে! কিন্তু তার জন্য খুব অবাক করা বিষয় ছিল – রাফি তাকে কিছুই বলল না! জেরিন মনে মনে ভাবে, রাফি কি টিউব লাইট নাকি! যাই হোক! যাক বাবা বাঁচা গেল।
তারপরও জেরিনের মনে কেমন যেন একটা খচখচে ভাব রয়ে গেল। এক দিন রাতে সে বলেই বসল, রাফি, তুমি আমাকে আর আগের মত ভালবাস না, তাই না?
রাফি খুব শান্ত কণ্ঠে বলল, বাসি, বাসব না কেন? তবে আগে করুণা করতাম না, কিন্তু এখন করুণাও করি!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29523637 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29523637 2012-01-17 01:15:57
হাফ প্যান্ট মিশু ... তো এবার আসল ঘটনায় আসি।
একদিন বিকেলবেলা। আমরা কয়েকজন রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছি। যথারীতি হাফ প্যান্ট মিশু আমাদের সাথে আছে। হঠাৎ দেখলাম মিশুদের পাশের ফ্ল্যাটের মেয়ে মৌ হেঁটে হেঁটে এদিকেই আসছে। আমরা সবাই জানতাম এই মেয়েটাকে মিশু বেশ পছন্দ করে। কিন্তু মেয়েটা কোন এক অজানা কারণে ওকে পাত্তা দেয় না।
আজ পাইছি তোরে ... এমন মনোভাবে আমরা বলে উঠলাম, মৌ মৌ মৌ/ হবি মিশুর বৌ!
কে বলে নারী অবলা! মৌও কম যায় না। এক ঝমটায় সে বলল, যা ব্যাটা! সময়কালে বিয়ে করলে এমন হাফ প্যান্ট পরা আমার তিনটা পোলা থাকত!
বলা বাহুল্য সে সময় ওখানে মিশুসহ আমরা তিনটা ছেলেই ছিলাম!!!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29522384 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29522384 2012-01-14 20:00:44
বাঘের লাল মাথা ... <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_07.gif" width="23" height="22" alt="B-)" style="border:0;" /> চিন্তায় তো আমার রাতে ঘুম আসে না। গেল আমার সাব্রিনা ... চিন্তায় চিন্তায় যেন আমার চোখে কালি পড়ে গেল!
এরই মধ্যে বিনা মেঘে ব্জ্রপাতের মত একটা ঘটনা ঘটল। বাসা থেকে হোমওয়ার্ক না করে আনার অপরাধে কোচিংয়ের স্যার আমাকে সাড়া ক্লাস বেঞ্চের উপর কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখলেন। ওই দিন আমি পুরাই যেন ফিউজ হয়ে গেলাম! সাব্রিনার সামনে আমার মান সম্মান আর রইল না। সবচেয়ে বেশি মেজাজ খারাপ হল যখন দেখলাম সুমন মুচকি হাসছে।
কয়েকদিন পরের ঘটনা।
একদিন বিকেলে কোচিংয়ে যেয়ে শুনলাম এ সপ্তাহে টেস্টগুলোতে হাইয়েস্ট পেয়েছে সুমন। ক্লাসে ঢুকে ওর ভাব দেখে আমার মাথা ঘুরিয়ে উঠল। আজকে সে চোখ থেকে সানগ্লাসই খুলছে না। আমাকে দেখে কেমন যেন একটা তাছিল্যের ভাব করল! মেয়েরা ক্লাসে আসার পর সে যেন মাটির এক ফুট উপর দিয়ে হাঁটতে লাগল!
একটু পর ... বিধাতা আমাকে এভাবে সুযোগ দেবেন ভাবতেও পারিনি! আমি সুমনকে বললাম, “সাবাস! চালিয়ে যা। শালা বাঘের বাচ্চা!” আমার কথা শুনে সে যেন মেয়েদের সামনে গর্বে ফুলে ফুলে উঠতে লাগল। কিন্তু যখন আমি বললাম, “মামা, বাঘ যে তার লাল মাথা বের করে আছে ... সবাই ভয় পাবে তো ... “ সুমন কিছুই না বুঝতে পেরে এদিক অদিক তাকাতে লাগল আর ভাব নিয়ে আমাকে বলল, “পাগল ... !” হঠাৎ কয়েকজন চিৎকার করে ওকে বলল, “বেকুব, তুই পাগল! প্যান্টের চেইনটা লাগা! লাল অ্যান্ডু দেখা যায় ... !”
এরপর সুমন দৌড়ে ক্লাস থেকে যে বের হল সেদিন আর ফিরল না।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29521925 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29521925 2012-01-13 22:59:40
স্পা ও অন্যান্য ... <img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_25.gif" width="23" height="22" alt=":P" style="border:0;" /> গুলশান-২। ৫৫ নম্বর রোডের একটা বাড়ির লিফটে উঠতে যাব হঠাৎ চোখে পড়ল গোঁফওয়ালা এক বিখ্যাত চিত্রপরিচালক। বাহ কি সৌভাগ্য আমার এমন লোককে সামনাসামনি দেখছি! ওনার বানানো গ্রাম গঞ্জ নিয়ে নাটকে যে রসবোধ থাকে তাতে আমি মুগ্ধ! ভাবলাম ওনার সাথে একটু কথা বলি। কিন্তু সেটা আর হল না। ওনার দিকে পা বাড়াতেই দেখলাম উনি একটা কালো গ্লাসওয়ালা প্রাডোর দরজা খুলছে। কিন্তু গাড়ি থেকে যে বস্তুটা (!) নামল সেটা দেখে বিস্ময়ে হা হয়ে গেলাম। এ আমি কি দেখছি! আরে এই মেয়েকে তো সেদিনও একটা টিভি নাটকে গ্রামের সরল ললনা হতে দেখছি। আমার ড্রাইভার বলল, স্যার উনি এসব কি পরছে! ওনার কি লজ্জা লাগে না? আমি বললাম, কি জানি! কিন্তু ওনাকে দেখে আমার শীত অনেক কম লাগছে!
একটু পর আরও অবাক করা দৃশ্য দেখলাম। দেখলাম ওই দুটো জামাতে বিড়ি টানছে। বাহ বেশ! যদিও মেয়েদের বিড়ি টানার দৃশ্য আমার কাছে মোটেই অপরিচিত কিছু নয়। তারপরও এই সব তথাকথিত সেলিব্রেটি মেয়েদের এটা করতে দেখলে ভাল লাগে না। মানুষ এত ভন্ড যে ক্যামনে হয়?
বেশ কিছুক্ষণ পর। লিফটে আমি, ওই পরিচালক ও সেই নায়িকা। আমি এক কোনে একদম চুপচাপ। পরিচালক নায়িকাকে বলছে, তুই কি এখানে রেগুলার স্পা করাস?
হুম করাই। বলল নায়িকা।
- কেন?
- ভাল লাগে তাই। এখানকার স্প্রিং স্পাটা জোস!
- সব খুলিস? কে করে দেয় কোন ছেলে নাকি মেয়ে?
- উফ ইউ নটি বয়! তুমি জান না এটা শুধু মেয়েদের স্পা ...
আমি লিফটের তিনে নেমে গেলাম। আর ওরা আরও উপরে উঠে গেল। খুব আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও ওদের বাকি কথা শোনা হল না। কিন্তু একটা ব্যাপার কিছুতেই আমার মাথায় ঘুরল না মেয়েদের স্পা সেন্টারে ব্যাটা পরিচালক কি করবে?


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29521331 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29521331 2012-01-12 22:35:18
নস্টালজিক// ব্লগিংয়ে ৬ বছর ৩ দিন ... সে সময়টা পর্যন্ত রাজশাহীতে হাতে গোনা কয়েকটা সাইবার ক্যাফে ছিল। রুয়েটের কাছাকাছি কাজলাতে ছিল একটা। আমি প্রায়ই বিকেলে ওখানে একটু যাবার চেষ্টা করতাম। আসলে একটা ছোট ফটোকপির দোকানে তিনটা কম্পিউটার বসিয়ে ওটাকে সাইবার ক্যাফে বানিয়ে ফেলা হয়েছিল। আজ এত বছর পর দোকানটার নাম ঠিক মনে আসছে না।
তখন পেন ড্রাইভ রাজশাহীতে একদম ছিল না বললেই চলে। আমরা তখন ফ্লপি ডিস্ক ব্যবহার করতাম। ইন্টারনেটের লাইন ছিল অনেক স্লো, বলা যায়, এক পেজ লোড দিয়ে তার পুরোটা আসতে যে সময় লাগত সে সময়টাতে অনায়েসে এক ঘুম দিয়ে ওঠা যেত! এ কারণে রুমে বসে পোস্ট লিখে এনে সাইবার ক্যাফেতে বসে ব্লগে দিতাম। এছাড়া আরও একটা কারণও ছিল। এক ঘণ্টা ব্রাউজিং চার্জ ছিল ২০ টাকা। পকেটে টাকা আর নেটের গতি কোনটাই সন্তোষজনক ছিল না বলে রুমে বসে না লেখা ছাড়া আমার কোন উপায়ও ছিল না। আর হালের ফোর জি বা ব্রডব্যান্ড কি জিনিস তা-ই তখন জানতাম না।
এমন কি স্টিকি পোস্ট কি তা নিয়েও আমার ধারণা স্বচ্ছ ছিল না। সেসময় আমার এক বন্ধু নুরুলের দুটো কিডনি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ওর পরিবারের তার চিকিৎসার ভার বহন করার সামর্থ্য ছিল না। আমরা রুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তখন সমাজের নানান বিত্তবানদের কাছে হাত পেতে ছিলাম। আমি এ নিয়ে একটা পোস্ট লিখেছিলাম। কিন্তু ওটা যে এই ব্লগে স্টিকি করা হয়েছিল এটাই আমি জেনেছিলাম কয়েকদিন পর। একদিন বিকেলে হাসিন ভাই আমাকে ফোন দিয়ে বললেন, ‘তোমার স্টিকি পোস্টটার আপডেট দাও।‘ প্রথমটায় আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না স্টিকি কি? পরে উনি বিষয়টা ব্যাখ্যা করলেন, সাইটের উপরে স্থায়ী পোস্ট যা কয়েকদিন নড়েচড়ে না! যাই হোক। ওই লেখার পর দেশ বিদেশের অনেকের সহযোগিতা পেয়েছিলাম। ফলাফলে বন্ধু নুরুল এখন ভাল আছে।
বলতে বলতে অনেক কথাই বললাম। আসলে নস্টালজিয়া আজব এক জিনিস! যাই হোক। শুভ ব্লগিং! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29520043 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29520043 2012-01-10 20:35:24
পাগল!


এক//

-হরকান্ত দা, কেমন আছ?

-আজ্ঞে, দাদা, ভাল।

-তা, দাদা দ্যাশের অবস্থা কেমন বুঝতাছো?

-ভাল না, দাদা। গণ্ডগোল, দাদা। যুদ্ধ হইতে পারে।

-আচ্ছা নীলা কে, দাদা?

-একটা বেশ্যা।

-ও না তোমার বউ ছিল?

-বেশ্যারা তো সবার বউ।

-দাদা, বলো তো দেখি এখন কত সাল?

-১৯৭১।

সেই ছোটবেলা থেকেই হরকান্তদাকে এই একই রকম দেখে আসছি। পুরনো, ময়লা একটা কোট গায়ে। ছেঁড়া-খোঁড়া প্যান্ট পরনে। মুখে খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি। চোখের নিচে গাঁঢ় কালি। উদাসীনভাবে হেঁটে চলে। মাঝে মাঝে ঝিম মেরে বসে থাকে। কখনও বা রাস্তার পাশেই ঘুমিয়ে পড়ে। কেউ কিছু দিলে খায়। না দিলে নাই। এভাবেই হরকান্তর প্রতিটি দিনের শেষে সূর্য ডোবে। সকালে আবার ওঠে। বিকেলে আবার ডোবে।

হরকান্তর পুরো নাম হরকান্ত রায়। বয়স এখন প্রায় ষাট বছর। নাটোরের লালবাজার এলাকায় গেলেই তার দেখা পাওয়া যায়। ওখানে নতুন প্রজন্মের কাছে সে ‘পাগল’ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সে কি এমনটা ছিল? ছিল না। তারও ছিল সাজানো এক স্বপ্নিল পৃথিবী। সে পৃথিবীর বাসিন্দা ছিল হরকান্ত আর নীলা। চায়ের দোকানির বউ নীলা। নীল স্বপ্ন ছিল তার চোখে। ভালবাসার মানুষটিকে নিয়ে সে বাঁচতে চেয়েছিল। গড়তে চেয়েছিল সুখের স্বর্গ। কিন্তু যুদ্ধ নামক নরক যন্ত্রণায় জ্বলে সে অঙ্গার হয়েছে সেই কবে! কে তার খবর রাখে! কেউ রাখে না! কেউ না!



দুই//

১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর এবং ১৭ ডিসেম্বর যথাক্রমে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন

নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী আওয়ামী লীগেরই সরকার গঠনের কথা। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালি নেতৃত্বকে মেনে নিতে পারেনি। পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর পরামর্শে ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করেন। এরূপ পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পয়লা মার্চ ’৭১ এক ঘোষণায় ৩ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় পরিষদের প্রথম অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেন। এ ঘোষণার প্রতিবাদে পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সর্বস্তরের জনগণ রাজপথে নেমে আসে। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করায় বঙ্গবন্ধু ২ ও ৩ মার্চ হরতাল পালনের আহবান জানান। তিনি ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক নীতি নির্ধারণী ভাষণ দেন।

ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় তিনি তাঁর ভাষণে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের আহবান জানান। উপস্থিত জনতার সম্মুখে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তিনি ঘোষণা করেন... ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে... এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম... এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম...



তিন//

হরকান্তর চা দোকান। সে ক্রেতাদের জন্য চা বানাচ্ছে। একজন বলল, ভাই, পরিস্থিতি কিছু বুঝতাছেন?

-কোন পরিস্থিতি ভাই? পাল্টা প্রশ্ন করলেন আরেকজন।

-শুনলাম শেখ সাহেবরে নাকি ক্ষমতা দিবে না।

-ক্যান? দিবে না ক্যান? উনি কি বেশি ভোট পান নাই?

-পাইছেন। তাতে কী? পাঞ্জাবি গো বিশ্বাস নাই।

-এটা কোন কথা হইল?

-না ভাই, হইতেও পারে। আলোচনায় যুক্ত হলেন আরেকজন। রেসকোর্সে শেখ মুজিব কী কইছে? জানেন কিছু?

-কী কইছে?

-যুদ্ধের জন্য তৈরি থাকতে বলছে। ঘরে ঘরে দুর্গ বানাইতে বলছে।

-কী! যুদ্ধ!

-হ যুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ। ও হরকান্ত, তোমার তো রেডিও আছে। রেডিওতে কী শুনছো এনাগো কও।

হরকান্ত গলা উঁচুতে নিয়ে বলল, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম!

ঘরে নতুন বউ। শুধু ওকে দেখতে ইচ্ছে করে। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে, ইস ওরে যদি সারাক্ষণ চোখের সামনে রাখতে পারতাম! নীলা তুমি এখন কি করো? আমার জন্য রান্না করো? তোমার কি একা একা ভয় লাগছে? দাঁড়াও, আমি আসছি। হরকান্ত আর বেশিক্ষণ দোকানে থাকতে পারে না। ঘড়ির কাঁটা আঁটটা ছোঁয়ার আগেই সে তাঁর দোকানের ঝাঁপি নামিয়ে দেয়।

আজকের আকাশে অনেক তারা। যেন তারার মিছিল। ঝকঝকে আকাশে এক ফালি চাঁদ হাসছে। ঝিরঝিরে বাতাসে ফুলের গন্ধ ভেসে আসছে। কী ফুল? রাতে ফোটে মিষ্টি গন্ধবিলাসী ফুলের নামটা জন কী? কিছুতেই মনে সে না হরকান্তের। থাক। দরকার নেই। এ ফুলের চেয়ে মিষ্টি গন্ধের ফুল হরকান্তের কাছে আছে। খুব কাছে। একদম বুকের ভেতর। তাঁর বউ নীলা। বউফুল! হরকান্ত বউফুলের চুলের ঘ্রাণ নিতে থাকে। আহ! কী দারুণ! কী...

হরকান্তকে অবাক করে দিয়ে হঠাৎ বউফুল কথা বলে ওঠে। আচ্ছা তুমি এসব কী শুরু করছ?

-কী করছি?

-এই যে রোজ রোজ তাড়াতাড়ি দোকান বন্ধ করে ঘরে ফির্যা আস!

-হ। তাতে কী হইছে?

-মাইনসে কী কয়?

-কী কয়?

-তুমি বোঝো না?

-না। বুঝি না।

-তোমারে বউ-পাগলা কয়।

-কউক। আর ঠিকই তো কয়। আমি তো বউ-পাগলাই!

-ধ্যাত! কী যে কও না! নীলার চোখ মুখ লজ্জায় লাল হয়ে ওঠে। লজ্জিত হলেও স্বামীর মুখে এমন পাগলাটে কথা শুনতে তাঁর ভালই লাগছিল। লাগতেই হবে। ভালবাসার মানুষ বলে কথা। তবুও কৃত্রিম রাগ দেখিয়ে সে বলল, তুমি আসলেই একটা পাগল!



চার//

’৭১- এর ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ঘুমন্ত, নিরস্ত্র মানুষদের উপর। রাজধানী ঢাকায় তারা প্রথমে হামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারীদের আবাসে এবং পুলিশ ও সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী ইপিআর – এর সদর দফতরে।এরপর তারা ধ্বংস করেছে ঢাকার বস্তি, বাজার এবং হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাসমূহ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র – শিক্ষক – কর্মচারীদের ঘরে ঢুকে কিংবা ঘর থেকে বের করে এনে হত্যা করেছে তারা। বাজার ও বস্তিগুলোতে তারা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আগুনের ভয়ে হাজার হাজার মানুষ যখন ঘর থেকে দলে দলে বেরিয়ে এসেছে, তখন ওদের ওপর মেশিনগানের গুলি বর্ষিত হয়েছে একটানা, যতক্ষণ না প্রতিটি মানুষ নিহত হয়। এসব মানুষ জানতেও পারেনি কেন তাদের হত্যা করা হচ্ছে কিংবা কারা হত্যা করছে। ‘অপারেশন সার্চ লাইট’-এর নামে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে শুধুমাত্র ঢাকায় পঞ্চাশ থেকে ষাট হাজার নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।

ঢাকা পৌরসভার কয়েকজন সুইপারের জবানবন্দি থেকে পাক সৈন্যদের নৃশংসতা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা লাভ করা যেতে পারে। এই সুইপারদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল লাশ সরাবার জন্য। ১৯৭১ –এর ২৯ মার্চের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে ছোটন ডোমের পুত্র সরকারি পশু হাসপাতালের সুইপার পরদেশী বলেছেন, ২৯ মার্চ সকালে আমি ঢাকা পৌরসভা অফিসে হাজির হলে আমাকে ট্রাক নিয়ে লাশ তোলার জন্য আরও কয়েকজন সুইপারের সাথে শাঁখারি বাজারে যেতে বলা হয়। জর্জ কোর্টের সম্মুখে আগুনের লেলিহান শিখা তখনও জ্বলছিল। আর পাক সেনারা টহলে মোতায়েন ছিল বলে আমরা ট্রাক নিয়ে সে পথ দিয়ে শাঁখারি বাজারে প্রবেশ করতে পারি নাই। পাটুয়াটুলি ঘুরে আমরা শাঁখারি বাজারের পশ্চিম দিকে প্রবেশ করি। পাটুয়াটুলি ফাঁড়ি পার হয়ে আমাদের ট্রাক শাঁখারি বাজারের মধ্যে প্রবেশ করল। ট্রাক থেকে নেমে আমরা শাঁখারি বাজারের প্রতিটি ঘরে ঘরে প্রবেশ করলাম- দেখলাম মানুষের লাশ, নারী-পুরুষ, যুবক –যুবতী, বৃদ্ধ – বৃদ্ধা, বালক – বালিকা, কিশোর, শিশুর বীভৎস পচা লাশ। চারদিকে ইমারতগুলো ভেঙে পড়ে আছে। মেয়েদের অধিকাংশ লাশ আমি সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেখলাম। দেখলাম তাদের বুক থেকে স্তন তুলে নেয়া হয়েছে। কারো কারো যোনি পথে লাঠি ঢুকানো আছে। বহু পোড়া ভস্ম লাশ দেখেছি। পাঞ্জাবি সেনারা পাষণ্ডের মত লাফাতে লাফাতে গুলি বর্ষণ করছিল...।

এরই মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হয়। পাকিস্তানি সৈন্যরা ২৫ মার্চ গভীর রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহকর্মীদের করনীয় নির্দেশ দিয়ে যান। ২৬ মার্চ ওয়্যারলেস যোগে প্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাটি চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান চট্টগ্রাম বেতার থেকে দুপুর বেলায় প্রচার করেন। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বেতারের কিছু কর্মী, শিল্পী, শিক্ষক চট্টগ্রাম কালুরঘাট একটি অস্থায়ি বেতার কেন্দ্র চালু করেন এবং মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে মর্মে খবর প্রচার করতে থাকেন। ২৭ মার্চ সন্ধাবেলায় উক্ত কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার আর একটি ঘোষণা প্রচার করেন।

স্বাধীনতার ঘোষক কে এ নিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা আজও বিতর্কে জড়িয়ে আছি। ছোটবেলায় জেনেছি একজন। এখন শুনি আরেকজন। আমি আমার স্কুলজীবনে যা পড়েছি এখানে তা-ই লিখেছি।



পাঁচ//



-ও হরকান্ত শুনছ কিছু?

-কী হইছে দাদা!

-ঢাকায় মিলিতারি নামছে। হাজার হাজার মানুষ মারছে।

-কী কন?

-হ।

-শহর দিয়া দলে দলে মানুষ গ্রামে আইতাছে। সবাই ঢাকা ছাড়তাছে।

গনি শেখের কথা শুনে হরকান্ত চিন্তিত হয়ে পড়ে। তবে এটা ঠিক যে, সে বুঝতে পারছে না তার কি করা উচিৎ। সহজ, সরল, সাদাসিধে তার মত একজন মানুষ যে কিনা গভীরভাবে ভাবতে পারে না। খুব বেশি পড়াশুনাও তার জানা নেই। তাই তখনকার উত্তাল পরিবেশে তার যতটা আন্দোলিত হওয়া উচিৎ ছিল সে তার পুরোটা হতে পারে না। তবে তার চিন্তা হয় নীলার জন্য। তার ও নীলার স্বপ্নগুলোর জন্য। সামনে কি খুব বিপদ? হরকান্ত চিন্তিত স্বরে গনি শেখকে জিজ্ঞাসা করে, মিলিতারই কি এ জায়গায় আইবো?

-তা ক্যামনে কই? ওগো বিশ্বাস নাই। আইতেও পারে।

-যদি আয় তাইলে কী হইবো? চোখে শঙ্কা হরকান্তের।

-গতরাতে আমার শ্যালক মন্টু ঢাকা দিয়া আইছে। ওর কাছে শুনলাম ২৫শে মার্চ রাইতে ওরা যারে সামনে পাইছে তারেই মারছে। মাইয়াগো রেপ করছে। ঘরবাড়ি দোকানপাট সব জ্বালাইয়া দিছে। মন্টু অনেক কষ্ট কইরা কোনমতে জানটা নিয়া পালাইয়া আইছে।

-দাদা গো, তাইলে আমার এই দোকানের কী হইব? দোকান জ্বালাইয়া দিলে আমি কী খামু? বউরে কী খাওয়ামু?

-দুররো! থামো তো। ওরা তো এখনও এখানে আসে নাই। হরকান্তকে শান্ত করার চেষ্টা করে গনি শেখ। দ্যাও তো, এক কাপ চা দ্যাও।

হরকান্ত চা দেয়। এবার কিন্তু সে সত্যিই চিন্তিত হয়ে পড়ে।



ছয়//



রাতে হরকান্ত আর তার বউ নীলা খেতে বসেছে। কৈ মাছের ঝোল, ডাল আর ভাপ ওঠা সাদা ভাত। ভাত খেতে খেতে হরকান্ত বলে, বাহ বউ! তোমার রান্না দারুণ হইছে। এত ভাল রান্না তোমারে কে শিখাইছে?

-কেউ না। আমি একা একা শিখছি।

-একা একা?

-হ। একদম একা।

-আইচ্ছা, আমারে রান্না শিখাবা?

-কী কও! ব্যাটা হইয়া তুমি রান্না শিখবা? বউর চোখে রাজ্যের বিস্ময়।

-হ। শিখমু। এতে এত অবাক হওয়ার কী আছে?

-না মানে...মানে...

-আরে এত মানে মানে করার কিছু নাই। আমি তোমার কাছে রান্না শিখতাছি এটাই ফাইনাল। হরকান্তর মনে হঠাৎ দুষ্টুমি খেলে যায়। সে বলেই ফেলে, আরে বউ, যখন তুমি পোয়াতি হবা তখন তো তুমি রান্নাবান্না করতে পারবা না। আমারেই তো করতে হইব। তাই না?

-দুর! তুমি যে কী কও! পাগল! লজ্জিত কণ্ঠে বলে নীলা। পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নেয়। আচ্ছা ঠিক আছে। এখন ভাত খাও। ভাতে পোকা পড়ব তো!

ও, তাই তো। হরকান্ত ভাত খেতে খেতে ব্যস্ত হয়ে ওঠে।



সাত//



এলাকায় নতুন একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে। নাম ‘শান্তি কমিটি’। এ কমিটি এখানে শান্তি রক্ষা করবে। পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে স্থানীয় মুসলিম লীগ নেতা কফিলউদ্দিন। সে-ই হবে শান্তি রক্ষায় প্রধান কাণ্ডারি। তার নেতৃত্বেই এখনকার মানুষ পাকিস্তানের খেদমত করবে।

সদ্যগঠিত কর্মীবাহিনী নিয়ে কফিলউদ্দিন গেছে হরকান্তর দোকানে চা খেতে। কী হরকান্ত! ভাল আছো তো? জিজ্ঞেস করে কফিলউদ্দিন।

-আজ্ঞে, দাদা। আছি এক রকম।

-আচ্ছা বেশ বেশ। তা আমাগো সবাইরে চা দ্যাও তো দেখি।

-দিতাছি।

-শোন হরকান্ত। জানো তো, শান্তি কমিটি করলাম। পাকিস্তানরে বাঁচাইতে হইব। তাই এ কমিটি। এরপর কফিলউদ্দিন গলা নামিয়ে বলল, মুক্তি বা জয়বাংলাওয়ালা গো খবর জানলেই আমাগো জানাবা, ঠিক আছে? ওরা গাদ্দার। পাকিস্তানের শত্রু।

নিরুত্তর থাকে হরকান্ত। এতে সন্দেহের চোখে তাকায় কফিলউদ্দিন। মনে মনে বলে, শালা মালাউন! ইন্ডিয়ার দালাল! এরপর জোর গলায় বলে, কী, বুঝছ আমি কী কইছি?

-জে, জে, বুঝছি। হরকান্ত থতমত খেয়ে যায়।



আট//

কয়েকদিন পর। তখন রাত। ঘড়ির কাঁটা আঁটটা ছুঁই ছুঁই। আকাশে অসংখ্য তারা জ্বলছে। তারা সাথে যেন পাল্লা দিয়েছে ঝোপঝাড়ের জোনাকিরা। আজ চাঁদ ওঠেনি। তাই অন্ধকারের গাঢ়ত্ব যথেষ্ট গভীর। হরকান্ত এখনো দোকানে বসে আছে। হ্যারিকেনের আলোয় খুব বেশি দূর দেখা যাচ্ছে না। ভ্যাপসা গরমে ঘেমে প্রায় নেয়ে উঠেছে হরকান্ত। গাছের পাতাগুলো একদম স্থির। যেন আঁকা ছবি। ইস! একটু বাতাস বইত!

খদ্দেরবিহীন এভাবে আর কতক্ষণ বসে থাকা যায়! হরকান্তর ভাল লাগছে না। বাড়ি তাকে টানছে। ওদিকে বউটা একা একা কী না কী করছে? বেচারি! সারাদিন একা একা কষ্ট করে, অথচ মুখে ওর সারাক্ষন হাসি লেগেই আছে। কোনও ক্লান্তি নেই। হরকান্ত চোখ বুজে নীলার হাসিমুখ দেখার চেষ্টা করে।

হঠাৎ ঠাশ ঠাশ ঠাশ! এ কী! গুলির শব্দ! বাঁচাও বাঁচাও! মিলিটারি! মিলিটারি! আগুন! আগুন! বাঁচাও! বাঁচাও! ঠাশ ঠাশ ঠাশ......!

কোনমতে দোকানের ঝাঁপিটা নামিয়েই বাড়ির পথে দৌড়ে যায় হরকান্ত। কিন্তু সে যেতে পারে না। পথে পাকিস্তানি মিলিটারির সামনে পড়ে যায়। ওকে দেখা মাত্রই দুইজন সেনা ওর দিকে তেড়ে আসে। হরকান্ত দৌড়ে একটা বাগানে ঢুকে পড়ে। ঠাশ! পিছন থেকে গুলির আওয়াজ শুনতে পায়। সে থামে না। দৌড়াতে থাকে। দৌড়ে দৌড়ে একসময় হানাদারদের নাগালের বাইরে চলে যায়।

এতক্ষণ দৌড়ে হরকান্ত প্রচণ্ড হাঁপিয়ে গেছে। তাই সে একটু দম নেয়। বুকের মধ্যে খুব ধুক ধুক করছে। যেন হৃৎপিণ্ডটা পাঁজরের হাড়ের সাথে বাড়ি খাচ্ছে। কী হবে এখন? নীলা! নীলার কী হবে? না জানি ও কেমন আছে! হায় ভগবান, তুমি এ কোন বিপদে ফেললা! তোমার কাছে হাতজোড় করছি, তুমি নীলারে রক্ষা করো। রক্ষা করো।



নয়//

কয়েক ঘণ্টা পর হরকান্ত ফিরে এল। কিন্তু এ সে কোথায় এসেছে? এটা কি তার বাড়ি, নাকি শ্মশান? সবকিছু ছড়ানো ছিটানো। ভাঙাচোরা। সব এলোমেলো হয়ে গেছে। ওই তো মেঝেতে নীলার হাতের শাঁখার ভাঙা টুকরো পড়ে আছে। নীলা! নীলারে............!

হরকান্ত চুপচাপ বসে থাকে। উদাসীনভাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। তারার পেছনে তারা ছোটে। মেঘের পেছনে মেঘ। একটা কুকুর করুণ সুরে কেঁদে চলেছে, ঘেউ-উ-উ-উ! খাণ্ডব দহনে দগ্ধ হতে থাকে হরকান্তর মন। কিন্তু নিরস্ত্র, একা সে কী করবে? কিছুই করতে পারে না। শুধুই দগ্ধ হতে থাকে।

এরমধ্যে প্রতিবেশী বিধবা বৃদ্ধা মরিয়ম বিবি ঘরে এল। বাবা, মাইয়াডা কফিলউদ্দির কত হাত পায়ে ধরল! ব্যাডায় ছাড়ল না। তুইলা নিয়া গেল। আমি ঠেকাইতে গেছিলাম। আমারে ওরা ধাক্কা দিয়া ফালাইয়া দিছে।

নীলাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় হানাদারদের ক্যাম্পে। শুধু নীলা নয়, সখিনা, জরিনা, মহুয়া, মালতি, লতা এমন নাম না জানা হাজারো মা-বোনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় পাকিদের ডেরায়। তারপর.........



দশ//

তারপর কী হয়েছিল তা আমি জানি না। কেননা বীরাঙ্গনাদের ত্যাগের করুণ কাহিনী কোনও এক বিচিত্র কারণে তরুণ প্রজন্মের সামনে প্রকাশ পায়নি। হয়ত প্রকাশ করা হয়নি। যা হোক। প্রত্যক্ষদর্শী রাবেয়া খাতুনের কথা শুনে আমরা আঁচ করতে পারি কী ভয়াবহ ছিল সেইসব দিনগুলো, যার অন্ধকার অমাবস্যার কালোত্বকেও হার মানিয়েছিল।

’৭১- এর ২৫ মার্চের পর রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যা, নারী নির্যাতন ও ধ্বংসযজ্ঞের নারকীয় দৃশ্যাবলী প্রত্যক্ষ করেছেন সেখানকার সুইপার রাবেয়া খাতুন। তার ভাষায়... ওরা (পাকি আর্মিরা) ব্যারাকে ব্যারাকে প্রবেশ করে প্রতিটি যুবতী, মহিলা ও বালিকার পরনের কাপড় খুলে একেবারে উলঙ্গ করে মাটিতে লাথি মেরে ফেলে দিয়ে বীভৎস ধর্ষণে লেগে গেল... আমি দেখলাম পাক সেনারা সেই মেয়েদের উপর পাগলের মত উঠে ধর্ষণ করছে আর ধারাল দাঁত বের করে বক্ষের স্তন ও গালের মাংস কামড়াতে কামড়াতে রক্তাক্ত করে দিচ্ছে......অনেক পশু ছোট ছোট বালিকাদের উপর পাশবিক অত্যাচার করে ওদের অসাড় রক্তাক্ত দেহ বাইরে এনে দুজনে দু’পা দু’দিকে টেনে ধরে চড়চড়িয়ে ছিড়ে ফেলে দিল...



এগারো//

হরকান্ত পাগলের মত নীলার খোঁজ করে। কিন্তু পায় না। মাঝে মাঝে তার ইচ্ছে করে কফিলউদ্দিনের গলা চেপে ধরে নীলার খবর জিজ্ঞেস করে। সাহসে কুলোয় না। সশস্ত্র রাজাকারটার সামনে গেলেই নিরস্ত্র হরকান্তের জানটা যাবে। তাই হরকান্তর অস্ত্র চাই! অস্ত্র! মুক্তি চাই! স্বাধীনতা চাই! হরকান্ত যুদ্ধে চলে যায়।

সময় গড়িয়ে যায়। থেমে থাকে না ঘড়ির কাঁটা। দিন আসে, রাত হয়। রাত যায়। দিন আসে। আবার...। বাতাসে ভাসে বারুদের গন্ধ। ভেসে আসে লাশের গন্ধ। পোড়া গন্ধ। চিৎকার! বাঁচাও! বাঁচার আকুতি। রক্ত! রক্ত! রক্ত! খালে লাশ। বিলে লাশ। মাঠে লাশ। ঘাটে লাশ। শুধু লাশ আর লাশ। পচা লাশের মাংস খায় শিয়াল, শকুন, কাক, কুকুর। রক্তের স্রোত বাড়তে থাকে। বাড়তে বাড়তে রক্তের সাগর হয়ে যায়। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।



বার//

যুদ্ধ থেকে ফিরে আসে হরকান্ত। পরনে কোট -প্যান্ট। যদিও সেগুলো একটু পুরনো। তবুও ওসবে তাকে ভালই লাগছিল। যুদ্ধের সময় জলিল নামের এক সহযোদ্ধা তাকে এগুলো উপহার দিয়েছিল। ছেলেটি ছিল ধনী পরিবারের। কোটপ্যান্ট পরেই যুদ্ধে চলে এসেছিল। পরে কী মনে করে যেন সে ওগুলো হরকান্তকে দিয়ে দেয়। এর কারণ হরকান্তও জানে না।

হানাদার ক্যাম্প থেকে নীলাকে উদ্ধার করা হয়। হরকান্ত প্রথমে যেন ওকে চিনতেই পারছিল না। কোথায় তার বউফুল? এ যেন এক বিধ্বস্ত প্রতিমা। শ্রান্ত। মলিন। অবসন্ন। নীলা ঠিক মত হাঁটতে পারছিল না। হরকান্ত কোলে করে ওকে বাড়ি নিয়ে আসে।

নীলা অনেক বদলে গেছে। সে আর আগের মত হাসে না। কথাও বলে না। সারাক্ষণ চুপচাপ ফ্যাল ফ্যাল করে শূন্যের দিকে তাকিয়ে থাকে। ওকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে হরকান্ত, শোনো, যা হবার হইছে। ওসব ভুইলা যাও। তুমি আবার আগের মত হইয়া যাও। একটু হাসো। একটু হাসো।

নীলা হাসে না। সে যেন হাসতে ভুলে গেছে। সে থাকে নিরুত্তর। তবুও হাল ছাড়ে না হরকান্ত। সে চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। একসময় সে দেখতে পায় নীলা ক্রমশ স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। কিন্তু একদিন হরকান্ত জানতে পারে নীলা গর্ভবতী। পেটে তার হানাদারদের সন্তান।



তেরো//

হরকান্ত চেয়েছিল নীলাকে নিয়ে কোন ডাক্তার – কবিরাজের সাথে কথা বলবে। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে তখন ডাক্তাররা আজকের মত এতটা সহজলভ্য ছিল না। তাছাড়া সে তার সুযোগও পায়নি। এর আগেই ব্যাপারটা রাষ্ট্র হয়ে যায়। অনেকে ছিঃ ছিঃ করতে থাকে। কিন্তু তারা একবারও ভাবল না, এতে মেয়েটার দোষ কোথায়। কী তার অপরাধ?

আসলেই মানুষ বড় বিচিত্র। সবচে বিচিত্র হচ্ছে তাদের মন। কখন যে কার পক্ষ নেয় তা হয়ত অনেক সময় মানুষ নিজেই জানে না।

দুদিন পর।

স্থান হরকান্ত রায়ের বাড়ির উঠোন। সালিশ বসেছে। বিচার হবে নীলার। তার অপরাধ, কেন সে খানসেনাদের বাচ্চা পেটে নিয়ে আছে! বিচার করতে এসেছে স্থানীয় মাতব্বররা। প্রধান বিচারক হল কফিলউদ্দিন। সেই রাজাকার। অনেক রাজাকারের মতই তার কিছুই হয়নি। কিছুদিন পালিয়ে ছিল। এখন আবার ফিরে এসেছে বহাল তবিয়তে। আমাদের দেশটা যে কত বড় দুর্ভাগা তা ভাবতে খুব কষ্ট হয়! কিন্তু কি করার আছে!

কিছুই কি নেই?

কফিলউদ্দিন উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ করে বলতে শুরু করে, ভাইসব, বলেন তো দেখি এই মাইয়াটারে নিয়া কী করন যায়? তার পেটে খানসেনা গো বাচ্চা। বলেন আপনারা এরে কী শাস্তি দেয়া যায়?

প্রতিবাদ করে হরকান্ত। শাস্তি মানে! কইলেই হইল? ওর কি দোষ? ও কি ইচ্ছা কইরা খানসেনা গো কাছে গেছে?

যাইতেও তো পারে। বিশ্বাস কী? ফোড়ন কাটে কফিলউদ্দিন।

হারামজাদা, রাজাকার। তুই-ই তো ওরে... হরকান্ত আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারে না। দৌড়ে মারতে যায় কফিলউদ্দিনকে। কিন্তু তাকে ধরে ফেলে কফিলউদ্দিনের কয়েকটা চামচা। হরকান্তর মনে হতে থাকে, ইস স্টেনগানটা কেন যে জমা দিলাম! ওটা যদি এখন হাতে থাকত। এক পর্যায়ে তাকে একটা গাছের সাথে বেঁধে ফেলা হয়।

কফিলউদ্দিনের প্রহসন নাটকের কয়েকটা অঙ্ক তখনও বাকি ছিল। তবে সেসব মঞ্চস্থ হতে খুব বেশি দেরি হল না। কুশলী অভিনেতা কফিলউদ্দিন। ক্ষণে ক্ষণে সে ভোল পাল্টাতে জানে। জানে কীভাবে মানুষের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হয়। আর মানুষগুলোও যেন কেমন! মেরুদণ্ডহীন! আসলে বেশিরভাগ সাধারণ মানুষই এমন। তারা নিজেরা কথা বলতে চায় না। ভয় পায়। সমাজের কথিত শক্তিশালী অংশ তাদের যেদিকে যেতে বলে তারা সেদিকেই যায়। জোয়ার যেদিকে, তারাও সেদিকে। নিজেদের যেন কোনও আত্মঅনুভূতি নেই। থাকলেও তারা তা প্রকাশ করে না। করতে চায় না। করতে পারে না। অথচ তারা বুঝতেও পারে না গুটিকয়েক কফিলউদ্দিনের হম্বিতম্বি তাদের সম্মিলিত শক্তির সামনে কিছুই না। বিন্দুর চেয়েও ক্ষুদ্র।

শোনেন ভাইসব! নীলাকে দেখিয়ে বলল কফিলউদ্দিন। এই মাইয়াটার পেটে অবৈধ বাচ্চা। অবৈধ বাচ্চা ভাল মাইয়া মাইনসের হয় না। অবৈধ বাচ্চা হয় বেশ্যা গো। বেশ্যারাই অবৈধ বাচ্চার জন্ম দেয়।

হারামজাদা। কুত্তার বাচ্চা। চুপ কর কফিলউদ্দির বাচ্চা! রাগে, ক্ষোভে, ঘৃণায় চিৎকার করে ওঠে হরকান্ত। নীলার আইজ এ অবস্থার জন্য কে দায়ী? তুই দায়ী! তুই! তুই-ই তো ওরে পাঞ্জাবী গো হাতে দিছিলি। তোরে আমি ছাড়মু না। তোরে আমি গুলি করুম......তোরে...আহ! হরকান্তকে আর কিছু বলতে দেয়া হল না। হঠাৎ করে কফিলউদ্দিনের এক চামচা হরকান্তর মাথায় লাঠি দিয়ে জোরে আঘাত করে। মাথা ফেটে মুষড়ে পড়ে হরকান্ত। তবুও সে ক্ষীণস্বরে বলতে চেষ্টা করে, ভাইসব, আপনারা এ অন্যায় মানবেন না। আপনারা ওই শয়তানের কথা শুইনেন না।

আশ্চর্য! উপস্থিত মানুষগুলোর একজনও হরকান্তর পাশে দাঁড়ানো তো দূরের কথা, টু-শব্দটিও করল না। তারা যেন নির্বাক। নীরব ছবির অপ্রয়োজনীয় অংশ মাত্র। ধীরে ধীরে হরকান্তর চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। তার সামনের পৃথিবী ক্রমশ অন্ধকারে ডুবে যেতে থাকে। অস্পষ্টভাবে কিছু দৃশ্য, কিছু শব্দ অস্ফুটভাবে তার কাছে আসতে থাকে। কফিলউদ্দিন বলছে... বিচার... শাস্তি... দোররা... হ্যাঁ... হ্যাঁ... একঘরে... নীলার চিৎকার... মাগোরে... বাঁচাও... আহ... আহ... আহারে...

একসময় হরকান্ত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।



চোদ্দ//

জ্ঞান ফেরার পর হরকান্ত জানতে পারে নীলা আত্মহত্যা করেছে। তাকে লাশের সামনে নেয়া হয়। যাক! ভাল হইছে! মরছে! বাঁচছি! বেশ্যা! সবাইকে অবাক করে দিয়ে অদ্ভুতভাবে কথাগুলো বলে হরকান্ত। তারপর ঝরঝর করে কাঁদতে শুরু করে।



পনের//

২০০৬ সাল। মার্চ মাস। দুটো কিশোর হরকান্ত দাকে নিয়ে কথা বলছে। জানিস ওই পাগলটাকে এখন কত সাল জিজ্ঞেস করলে কী বলে?

-কী বলে?

-জিজ্ঞেস করেই দ্যাখ না।

-আচ্ছা।

হরকান্তদা রাস্তার পাশে চুপ করে বসে ছিল। কী যেন ভাবছিল। হয়তো নীলার কথা- ই চিন্তা করছিল। কিশোর ছেলেটি তার কাছে গিয়ে বলল, দাদা, এখন কত সাল?

প্রশ্ন শুনে হরকান্ত নিরুত্তাপ জবাব দেয়, ১৯৭১....



[ এটা প্রকাশিত হয়েছিল রহস্য পত্রিকা ডিসেম্বর ২০০৬ সংখ্যাতে ]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29502847 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29502847 2011-12-14 18:28:20
আমি তোমাদের শুভ কামনা চাই .............. আমার প্রথম বইয়ের নাম ‘আমাদের গল্প’ ...... বের করছে জাগৃতি ২০১২ একুশে বইমেলায়.........
আমি তোমাদের শুভ কামনা চাই ...............]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29498382 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29498382 2011-12-07 21:45:57
হ্যালো! ( একটি খ্যাত গল্প!!!) - হাঁ শুনছি বল।
- এতক্ষণ লাগল আমার ফোন ধরতে! তুমি জান না আমি তোমাকে কত মিস করি। তুমি দেরি করে ফোন ধরলে আমার ভালো লাগে না।
- আররে বাবা শাওয়ারে ছিলাম তো। এমন বাচ্চাদের মত কর কেন!
- আমি তো বাচ্চাই। এই বাচ্চাটাকে একটু আদর করে দাও না। একটা পাপ্পি দাও না প্লিজ।
- আমি এখন ফোন রাখছি।
- এই না না। রেখ না প্লিজ। আর একটু কথা বলি!
- আচ্ছা বল।
- আচ্ছা তুমি এত সুন্দর কেন? শাওয়ারের পর তোমাকে নিশ্চয় আরও অনেক সুন্দর লাগছে। ভেজা কাপড়ে মেয়েদের আমার অনেক ভালো লাগে। কেমন যেন প্রতিমা প্রতিমা মনে হয়।
- তা তো ভাল লাগবেই! ভেজা কাপড়ে তো আরও অনেক কিছু দেখা যায়! তোমরা ছেলেরা না সব ওই একটা বিষয় ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পার না!
- ছিঃ ছিঃ আমি কি তাই বলেছি নাকি! তুমি এত দিনেও আমাকে চিনতে পারলে না। আমি তোমাকে এত ভালোবাসি। আর তুমি কিনা...আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমার ভাল লাগছে না। তুমি আমাকে এত কষ্ট কেন দাও!
- উহ! আবার শুরু হল। সরি বাবা সরি।
- তাহলে প্রমিজ কর আমার সাথে আর এভাবে কোথা বলবে না।
- তাহলে কোনভাবে বলব?
- তুমি আমার সাথে এমন কর কেন! আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি। তুমি জান আমি নিজেকেও এতটা ভালোবাসি না যতটা তোমাকে ভালবাসি।
- হুম। ঠিক আছে।
- কি বিশ্বাস করলে না। আমার প্রতিটা মুহূর্ত কাটে তোমাকে ভেবে। তোমার কণ্ঠ না শুনলে আমার এক সেকেন্ডও ভাল কাটে না। তোমাকে না দেখে আমি থাকতে পারি না।
- আচ্ছা বুঝলাম। এখন ফোনটা রাখো। একটু পরেই তো আমরা মিট করছি!
- ও জানু একটা কথা ছিল।
- বল।
- অইজে আমার এক ফ্রেন্ড রাশেদের কোথা বলেছিলাম না।
- হাঁ তার কি হয়েছে!
- না তার কিছু হইনি। বলছিলাম কি ওর বাসায় আজকে কেউ নেই। আমাদের বিয়ের পরে কেমন সাইজের বাসা নিব তা আজকে ওর বাসায় গিয়ে দেখলে হয় না! ও চাবি আমাকে দিয়ে দিয়েছে।
- হারামজাদা ফোন রাখ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29494436 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29494436 2011-12-01 20:49:57
পাগল!
এক//
-হরকান্ত দা, কেমন আছ?
-আজ্ঞে, দাদা, ভাল।
-তা, দাদা দ্যাশের অবস্থা কেমন বুঝতাছো?
-ভাল না, দাদা। গণ্ডগোল, দাদা। যুদ্ধ হইতে পারে।
-আচ্ছা নীলা কে, দাদা?
-একটা বেশ্যা।
-ও না তোমার বউ ছিল?
-বেশ্যারা তো সবার বউ।
-দাদা, বলো তো দেখি এখন কত সাল?
-১৯৭১।
সেই ছোটবেলা থেকেই হরকান্তদাকে এই একই রকম দেখে আসছি। পুরনো, ময়লা একটা কোট গায়ে। ছেঁড়া-খোঁড়া প্যান্ট পরনে। মুখে খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি। চোখের নিচে গাঁঢ় কালি। উদাসীনভাবে হেঁটে চলে। মাঝে মাঝে ঝিম মেরে বসে থাকে। কখনও বা রাস্তার পাশেই ঘুমিয়ে পড়ে। কেউ কিছু দিলে খায়। না দিলে নাই। এভাবেই হরকান্তর প্রতিটি দিনের শেষে সূর্য ডোবে। সকালে আবার ওঠে। বিকেলে আবার ডোবে।
হরকান্তর পুরো নাম হরকান্ত রায়। বয়স এখন প্রায় ষাট বছর। নাটোরের লালবাজার এলাকায় গেলেই তার দেখা পাওয়া যায়। ওখানে নতুন প্রজন্মের কাছে সে ‘পাগল’ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সে কি এমনটা ছিল? ছিল না। তারও ছিল সাজানো এক স্বপ্নিল পৃথিবী। সে পৃথিবীর বাসিন্দা ছিল হরকান্ত আর নীলা। চায়ের দোকানির বউ নীলা। নীল স্বপ্ন ছিল তার চোখে। ভালবাসার মানুষটিকে নিয়ে সে বাঁচতে চেয়েছিল। গড়তে চেয়েছিল সুখের স্বর্গ। কিন্তু যুদ্ধ নামক নরক যন্ত্রণায় জ্বলে সে অঙ্গার হয়েছে সেই কবে! কে তার খবর রাখে! কেউ রাখে না! কেউ না!

দুই//
১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর এবং ১৭ ডিসেম্বর যথাক্রমে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন
নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী আওয়ামী লীগেরই সরকার গঠনের কথা। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালি নেতৃত্বকে মেনে নিতে পারেনি। পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর পরামর্শে ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করেন। এরূপ পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পয়লা মার্চ ’৭১ এক ঘোষণায় ৩ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় পরিষদের প্রথম অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেন। এ ঘোষণার প্রতিবাদে পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সর্বস্তরের জনগণ রাজপথে নেমে আসে। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করায় বঙ্গবন্ধু ২ ও ৩ মার্চ হরতাল পালনের আহবান জানান। তিনি ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক নীতি নির্ধারণী ভাষণ দেন।
ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় তিনি তাঁর ভাষণে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের আহবান জানান। উপস্থিত জনতার সম্মুখে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তিনি ঘোষণা করেন... ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে... এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম... এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম...

তিন//
হরকান্তর চা দোকান। সে ক্রেতাদের জন্য চা বানাচ্ছে। একজন বলল, ভাই, পরিস্থিতি কিছু বুঝতাছেন?
-কোন পরিস্থিতি ভাই? পাল্টা প্রশ্ন করলেন আরেকজন।
-শুনলাম শেখ সাহেবরে নাকি ক্ষমতা দিবে না।
-ক্যান? দিবে না ক্যান? উনি কি বেশি ভোট পান নাই?
-পাইছেন। তাতে কী? পাঞ্জাবি গো বিশ্বাস নাই।
-এটা কোন কথা হইল?
-না ভাই, হইতেও পারে। আলোচনায় যুক্ত হলেন আরেকজন। রেসকোর্সে শেখ মুজিব কী কইছে? জানেন কিছু?
-কী কইছে?
-যুদ্ধের জন্য তৈরি থাকতে বলছে। ঘরে ঘরে দুর্গ বানাইতে বলছে।
-কী! যুদ্ধ!
-হ যুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ। ও হরকান্ত, তোমার তো রেডিও আছে। রেডিওতে কী শুনছো এনাগো কও।
হরকান্ত গলা উঁচুতে নিয়ে বলল, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম!
ঘরে নতুন বউ। শুধু ওকে দেখতে ইচ্ছে করে। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে, ইস ওরে যদি সারাক্ষণ চোখের সামনে রাখতে পারতাম! নীলা তুমি এখন কি করো? আমার জন্য রান্না করো? তোমার কি একা একা ভয় লাগছে? দাঁড়াও, আমি আসছি। হরকান্ত আর বেশিক্ষণ দোকানে থাকতে পারে না। ঘড়ির কাঁটা আঁটটা ছোঁয়ার আগেই সে তাঁর দোকানের ঝাঁপি নামিয়ে দেয়।
আজকের আকাশে অনেক তারা। যেন তারার মিছিল। ঝকঝকে আকাশে এক ফালি চাঁদ হাসছে। ঝিরঝিরে বাতাসে ফুলের গন্ধ ভেসে আসছে। কী ফুল? রাতে ফোটে মিষ্টি গন্ধবিলাসী ফুলের নামটা জন কী? কিছুতেই মনে সে না হরকান্তের। থাক। দরকার নেই। এ ফুলের চেয়ে মিষ্টি গন্ধের ফুল হরকান্তের কাছে আছে। খুব কাছে। একদম বুকের ভেতর। তাঁর বউ নীলা। বউফুল! হরকান্ত বউফুলের চুলের ঘ্রাণ নিতে থাকে। আহ! কী দারুণ! কী...
হরকান্তকে অবাক করে দিয়ে হঠাৎ বউফুল কথা বলে ওঠে। আচ্ছা তুমি এসব কী শুরু করছ?
-কী করছি?
-এই যে রোজ রোজ তাড়াতাড়ি দোকান বন্ধ করে ঘরে ফির্যা আস!
-হ। তাতে কী হইছে?
-মাইনসে কী কয়?
-কী কয়?
-তুমি বোঝো না?
-না। বুঝি না।
-তোমারে বউ-পাগলা কয়।
-কউক। আর ঠিকই তো কয়। আমি তো বউ-পাগলাই!
-ধ্যাত! কী যে কও না! নীলার চোখ মুখ লজ্জায় লাল হয়ে ওঠে। লজ্জিত হলেও স্বামীর মুখে এমন পাগলাটে কথা শুনতে তাঁর ভালই লাগছিল। লাগতেই হবে। ভালবাসার মানুষ বলে কথা। তবুও কৃত্রিম রাগ দেখিয়ে সে বলল, তুমি আসলেই একটা পাগল!

চার//
’৭১- এর ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ঘুমন্ত, নিরস্ত্র মানুষদের উপর। রাজধানী ঢাকায় তারা প্রথমে হামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারীদের আবাসে এবং পুলিশ ও সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী ইপিআর – এর সদর দফতরে।এরপর তারা ধ্বংস করেছে ঢাকার বস্তি, বাজার এবং হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাসমূহ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র – শিক্ষক – কর্মচারীদের ঘরে ঢুকে কিংবা ঘর থেকে বের করে এনে হত্যা করেছে তারা। বাজার ও বস্তিগুলোতে তারা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আগুনের ভয়ে হাজার হাজার মানুষ যখন ঘর থেকে দলে দলে বেরিয়ে এসেছে, তখন ওদের ওপর মেশিনগানের গুলি বর্ষিত হয়েছে একটানা, যতক্ষণ না প্রতিটি মানুষ নিহত হয়। এসব মানুষ জানতেও পারেনি কেন তাদের হত্যা করা হচ্ছে কিংবা কারা হত্যা করছে। ‘অপারেশন সার্চ লাইট’-এর নামে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে শুধুমাত্র ঢাকায় পঞ্চাশ থেকে ষাট হাজার নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।
ঢাকা পৌরসভার কয়েকজন সুইপারের জবানবন্দি থেকে পাক সৈন্যদের নৃশংসতা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা লাভ করা যেতে পারে। এই সুইপারদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল লাশ সরাবার জন্য। ১৯৭১ –এর ২৯ মার্চের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে ছোটন ডোমের পুত্র সরকারি পশু হাসপাতালের সুইপার পরদেশী বলেছেন, ২৯ মার্চ সকালে আমি ঢাকা পৌরসভা অফিসে হাজির হলে আমাকে ট্রাক নিয়ে লাশ তোলার জন্য আরও কয়েকজন সুইপারের সাথে শাঁখারি বাজারে যেতে বলা হয়। জর্জ কোর্টের সম্মুখে আগুনের লেলিহান শিখা তখনও জ্বলছিল। আর পাক সেনারা টহলে মোতায়েন ছিল বলে আমরা ট্রাক নিয়ে সে পথ দিয়ে শাঁখারি বাজারে প্রবেশ করতে পারি নাই। পাটুয়াটুলি ঘুরে আমরা শাঁখারি বাজারের পশ্চিম দিকে প্রবেশ করি। পাটুয়াটুলি ফাঁড়ি পার হয়ে আমাদের ট্রাক শাঁখারি বাজারের মধ্যে প্রবেশ করল। ট্রাক থেকে নেমে আমরা শাঁখারি বাজারের প্রতিটি ঘরে ঘরে প্রবেশ করলাম- দেখলাম মানুষের লাশ, নারী-পুরুষ, যুবক –যুবতী, বৃদ্ধ – বৃদ্ধা, বালক – বালিকা, কিশোর, শিশুর বীভৎস পচা লাশ। চারদিকে ইমারতগুলো ভেঙে পড়ে আছে। মেয়েদের অধিকাংশ লাশ আমি সম্পূর্ণ উলঙ্গ দেখলাম। দেখলাম তাদের বুক থেকে স্তন তুলে নেয়া হয়েছে। কারো কারো যোনি পথে লাঠি ঢুকানো আছে। বহু পোড়া ভস্ম লাশ দেখেছি। পাঞ্জাবি সেনারা পাষণ্ডের মত লাফাতে লাফাতে গুলি বর্ষণ করছিল...।
এরই মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হয়। পাকিস্তানি সৈন্যরা ২৫ মার্চ গভীর রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহকর্মীদের করনীয় নির্দেশ দিয়ে যান। ২৬ মার্চ ওয়্যারলেস যোগে প্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাটি চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান চট্টগ্রাম বেতার থেকে দুপুর বেলায় প্রচার করেন। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বেতারের কিছু কর্মী, শিল্পী, শিক্ষক চট্টগ্রাম কালুরঘাট একটি অস্থায়ি বেতার কেন্দ্র চালু করেন এবং মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে মর্মে খবর প্রচার করতে থাকেন। ২৭ মার্চ সন্ধাবেলায় উক্ত কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার আর একটি ঘোষণা প্রচার করেন।
স্বাধীনতার ঘোষক কে এ নিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা আজও বিতর্কে জড়িয়ে আছি। ছোটবেলায় জেনেছি একজন। এখন শুনি আরেকজন। আমি আমার স্কুলজীবনে যা পড়েছি এখানে তা-ই লিখেছি।

পাঁচ//

-ও হরকান্ত শুনছ কিছু?
-কী হইছে দাদা!
-ঢাকায় মিলিতারি নামছে। হাজার হাজার মানুষ মারছে।
-কী কন?
-হ।
-শহর দিয়া দলে দলে মানুষ গ্রামে আইতাছে। সবাই ঢাকা ছাড়তাছে।
গনি শেখের কথা শুনে হরকান্ত চিন্তিত হয়ে পড়ে। তবে এটা ঠিক যে, সে বুঝতে পারছে না তার কি করা উচিৎ। সহজ, সরল, সাদাসিধে তার মত একজন মানুষ যে কিনা গভীরভাবে ভাবতে পারে না। খুব বেশি পড়াশুনাও তার জানা নেই। তাই তখনকার উত্তাল পরিবেশে তার যতটা আন্দোলিত হওয়া উচিৎ ছিল সে তার পুরোটা হতে পারে না। তবে তার চিন্তা হয় নীলার জন্য। তার ও নীলার স্বপ্নগুলোর জন্য। সামনে কি খুব বিপদ? হরকান্ত চিন্তিত স্বরে গনি শেখকে জিজ্ঞাসা করে, মিলিতারই কি এ জায়গায় আইবো?
-তা ক্যামনে কই? ওগো বিশ্বাস নাই। আইতেও পারে।
-যদি আয় তাইলে কী হইবো? চোখে শঙ্কা হরকান্তের।
-গতরাতে আমার শ্যালক মন্টু ঢাকা দিয়া আইছে। ওর কাছে শুনলাম ২৫শে মার্চ রাইতে ওরা যারে সামনে পাইছে তারেই মারছে। মাইয়াগো রেপ করছে। ঘরবাড়ি দোকানপাট সব জ্বালাইয়া দিছে। মন্টু অনেক কষ্ট কইরা কোনমতে জানটা নিয়া পালাইয়া আইছে।
-দাদা গো, তাইলে আমার এই দোকানের কী হইব? দোকান জ্বালাইয়া দিলে আমি কী খামু? বউরে কী খাওয়ামু?
-দুররো! থামো তো। ওরা তো এখনও এখানে আসে নাই। হরকান্তকে শান্ত করার চেষ্টা করে গনি শেখ। দ্যাও তো, এক কাপ চা দ্যাও।
হরকান্ত চা দেয়। এবার কিন্তু সে সত্যিই চিন্তিত হয়ে পড়ে।

ছয়//

রাতে হরকান্ত আর তার বউ নীলা খেতে বসেছে। কৈ মাছের ঝোল, ডাল আর ভাপ ওঠা সাদা ভাত। ভাত খেতে খেতে হরকান্ত বলে, বাহ বউ! তোমার রান্না দারুণ হইছে। এত ভাল রান্না তোমারে কে শিখাইছে?
-কেউ না। আমি একা একা শিখছি।
-একা একা?
-হ। একদম একা।
-আইচ্ছা, আমারে রান্না শিখাবা?
-কী কও! ব্যাটা হইয়া তুমি রান্না শিখবা? বউর চোখে রাজ্যের বিস্ময়।
-হ। শিখমু। এতে এত অবাক হওয়ার কী আছে?
-না মানে...মানে...
-আরে এত মানে মানে করার কিছু নাই। আমি তোমার কাছে রান্না শিখতাছি এটাই ফাইনাল। হরকান্তর মনে হঠাৎ দুষ্টুমি খেলে যায়। সে বলেই ফেলে, আরে বউ, যখন তুমি পোয়াতি হবা তখন তো তুমি রান্নাবান্না করতে পারবা না। আমারেই তো করতে হইব। তাই না?
-দুর! তুমি যে কী কও! পাগল! লজ্জিত কণ্ঠে বলে নীলা। পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নেয়। আচ্ছা ঠিক আছে। এখন ভাত খাও। ভাতে পোকা পড়ব তো!
ও, তাই তো। হরকান্ত ভাত খেতে খেতে ব্যস্ত হয়ে ওঠে।

সাত//

এলাকায় নতুন একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে। নাম ‘শান্তি কমিটি’। এ কমিটি এখানে শান্তি রক্ষা করবে। পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে স্থানীয় মুসলিম লীগ নেতা কফিলউদ্দিন। সে-ই হবে শান্তি রক্ষায় প্রধান কাণ্ডারি। তার নেতৃত্বেই এখনকার মানুষ পাকিস্তানের খেদমত করবে।
সদ্যগঠিত কর্মীবাহিনী নিয়ে কফিলউদ্দিন গেছে হরকান্তর দোকানে চা খেতে। কী হরকান্ত! ভাল আছো তো? জিজ্ঞেস করে কফিলউদ্দিন।
-আজ্ঞে, দাদা। আছি এক রকম।
-আচ্ছা বেশ বেশ। তা আমাগো সবাইরে চা দ্যাও তো দেখি।
-দিতাছি।
-শোন হরকান্ত। জানো তো, শান্তি কমিটি করলাম। পাকিস্তানরে বাঁচাইতে হইব। তাই এ কমিটি। এরপর কফিলউদ্দিন গলা নামিয়ে বলল, মুক্তি বা জয়বাংলাওয়ালা গো খবর জানলেই আমাগো জানাবা, ঠিক আছে? ওরা গাদ্দার। পাকিস্তানের শত্রু।
নিরুত্তর থাকে হরকান্ত। এতে সন্দেহের চোখে তাকায় কফিলউদ্দিন। মনে মনে বলে, শালা মালাউন! ইন্ডিয়ার দালাল! এরপর জোর গলায় বলে, কী, বুঝছ আমি কী কইছি?
-জে, জে, বুঝছি। হরকান্ত থতমত খেয়ে যায়।

আট//
কয়েকদিন পর। তখন রাত। ঘড়ির কাঁটা আঁটটা ছুঁই ছুঁই। আকাশে অসংখ্য তারা জ্বলছে। তারা সাথে যেন পাল্লা দিয়েছে ঝোপঝাড়ের জোনাকিরা। আজ চাঁদ ওঠেনি। তাই অন্ধকারের গাঢ়ত্ব যথেষ্ট গভীর। হরকান্ত এখনো দোকানে বসে আছে। হ্যারিকেনের আলোয় খুব বেশি দূর দেখা যাচ্ছে না। ভ্যাপসা গরমে ঘেমে প্রায় নেয়ে উঠেছে হরকান্ত। গাছের পাতাগুলো একদম স্থির। যেন আঁকা ছবি। ইস! একটু বাতাস বইত!
খদ্দেরবিহীন এভাবে আর কতক্ষণ বসে থাকা যায়! হরকান্তর ভাল লাগছে না। বাড়ি তাকে টানছে। ওদিকে বউটা একা একা কী না কী করছে? বেচারি! সারাদিন একা একা কষ্ট করে, অথচ মুখে ওর সারাক্ষন হাসি লেগেই আছে। কোনও ক্লান্তি নেই। হরকান্ত চোখ বুজে নীলার হাসিমুখ দেখার চেষ্টা করে।
হঠাৎ ঠাশ ঠাশ ঠাশ! এ কী! গুলির শব্দ! বাঁচাও বাঁচাও! মিলিটারি! মিলিটারি! আগুন! আগুন! বাঁচাও! বাঁচাও! ঠাশ ঠাশ ঠাশ......!
কোনমতে দোকানের ঝাঁপিটা নামিয়েই বাড়ির পথে দৌড়ে যায় হরকান্ত। কিন্তু সে যেতে পারে না। পথে পাকিস্তানি মিলিটারির সামনে পড়ে যায়। ওকে দেখা মাত্রই দুইজন সেনা ওর দিকে তেড়ে আসে। হরকান্ত দৌড়ে একটা বাগানে ঢুকে পড়ে। ঠাশ! পিছন থেকে গুলির আওয়াজ শুনতে পায়। সে থামে না। দৌড়াতে থাকে। দৌড়ে দৌড়ে একসময় হানাদারদের নাগালের বাইরে চলে যায়।
এতক্ষণ দৌড়ে হরকান্ত প্রচণ্ড হাঁপিয়ে গেছে। তাই সে একটু দম নেয়। বুকের মধ্যে খুব ধুক ধুক করছে। যেন হৃৎপিণ্ডটা পাঁজরের হাড়ের সাথে বাড়ি খাচ্ছে। কী হবে এখন? নীলা! নীলার কী হবে? না জানি ও কেমন আছে! হায় ভগবান, তুমি এ কোন বিপদে ফেললা! তোমার কাছে হাতজোড় করছি, তুমি নীলারে রক্ষা করো। রক্ষা করো।

নয়//
কয়েক ঘণ্টা পর হরকান্ত ফিরে এল। কিন্তু এ সে কোথায় এসেছে? এটা কি তার বাড়ি, নাকি শ্মশান? সবকিছু ছড়ানো ছিটানো। ভাঙাচোরা। সব এলোমেলো হয়ে গেছে। ওই তো মেঝেতে নীলার হাতের শাঁখার ভাঙা টুকরো পড়ে আছে। নীলা! নীলারে............!
হরকান্ত চুপচাপ বসে থাকে। উদাসীনভাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। তারার পেছনে তারা ছোটে। মেঘের পেছনে মেঘ। একটা কুকুর করুণ সুরে কেঁদে চলেছে, ঘেউ-উ-উ-উ! খাণ্ডব দহনে দগ্ধ হতে থাকে হরকান্তর মন। কিন্তু নিরস্ত্র, একা সে কী করবে? কিছুই করতে পারে না। শুধুই দগ্ধ হতে থাকে।
এরমধ্যে প্রতিবেশী বিধবা বৃদ্ধা মরিয়ম বিবি ঘরে এল। বাবা, মাইয়াডা কফিলউদ্দির কত হাত পায়ে ধরল! ব্যাডায় ছাড়ল না। তুইলা নিয়া গেল। আমি ঠেকাইতে গেছিলাম। আমারে ওরা ধাক্কা দিয়া ফালাইয়া দিছে।
নীলাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় হানাদারদের ক্যাম্পে। শুধু নীলা নয়, সখিনা, জরিনা, মহুয়া, মালতি, লতা এমন নাম না জানা হাজারো মা-বোনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় পাকিদের ডেরায়। তারপর.........

দশ//
তারপর কী হয়েছিল তা আমি জানি না। কেননা বীরাঙ্গনাদের ত্যাগের করুণ কাহিনী কোনও এক বিচিত্র কারণে তরুণ প্রজন্মের সামনে প্রকাশ পায়নি। হয়ত প্রকাশ করা হয়নি। যা হোক। প্রত্যক্ষদর্শী রাবেয়া খাতুনের কথা শুনে আমরা আঁচ করতে পারি কী ভয়াবহ ছিল সেইসব দিনগুলো, যার অন্ধকার অমাবস্যার কালোত্বকেও হার মানিয়েছিল।
’৭১- এর ২৫ মার্চের পর রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যা, নারী নির্যাতন ও ধ্বংসযজ্ঞের নারকীয় দৃশ্যাবলী প্রত্যক্ষ করেছেন সেখানকার সুইপার রাবেয়া খাতুন। তার ভাষায়... ওরা (পাকি আর্মিরা) ব্যারাকে ব্যারাকে প্রবেশ করে প্রতিটি যুবতী, মহিলা ও বালিকার পরনের কাপড় খুলে একেবারে উলঙ্গ করে মাটিতে লাথি মেরে ফেলে দিয়ে বীভৎস ধর্ষণে লেগে গেল... আমি দেখলাম পাক সেনারা সেই মেয়েদের উপর পাগলের মত উঠে ধর্ষণ করছে আর ধারাল দাঁত বের করে বক্ষের স্তন ও গালের মাংস কামড়াতে কামড়াতে রক্তাক্ত করে দিচ্ছে......অনেক পশু ছোট ছোট বালিকাদের উপর পাশবিক অত্যাচার করে ওদের অসাড় রক্তাক্ত দেহ বাইরে এনে দুজনে দু’পা দু’দিকে টেনে ধরে চড়চড়িয়ে ছিড়ে ফেলে দিল...

এগারো//
হরকান্ত পাগলের মত নীলার খোঁজ করে। কিন্তু পায় না। মাঝে মাঝে তার ইচ্ছে করে কফিলউদ্দিনের গলা চেপে ধরে নীলার খবর জিজ্ঞেস করে। সাহসে কুলোয় না। সশস্ত্র রাজাকারটার সামনে গেলেই নিরস্ত্র হরকান্তের জানটা যাবে। তাই হরকান্তর অস্ত্র চাই! অস্ত্র! মুক্তি চাই! স্বাধীনতা চাই! হরকান্ত যুদ্ধে চলে যায়।
সময় গড়িয়ে যায়। থেমে থাকে না ঘড়ির কাঁটা। দিন আসে, রাত হয়। রাত যায়। দিন আসে। আবার...। বাতাসে ভাসে বারুদের গন্ধ। ভেসে আসে লাশের গন্ধ। পোড়া গন্ধ। চিৎকার! বাঁচাও! বাঁচার আকুতি। রক্ত! রক্ত! রক্ত! খালে লাশ। বিলে লাশ। মাঠে লাশ। ঘাটে লাশ। শুধু লাশ আর লাশ। পচা লাশের মাংস খায় শিয়াল, শকুন, কাক, কুকুর। রক্তের স্রোত বাড়তে থাকে। বাড়তে বাড়তে রক্তের সাগর হয়ে যায়। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।

বার//
যুদ্ধ থেকে ফিরে আসে হরকান্ত। পরনে কোট -প্যান্ট। যদিও সেগুলো একটু পুরনো। তবুও ওসবে তাকে ভালই লাগছিল। যুদ্ধের সময় জলিল নামের এক সহযোদ্ধা তাকে এগুলো উপহার দিয়েছিল। ছেলেটি ছিল ধনী পরিবারের। কোটপ্যান্ট পরেই যুদ্ধে চলে এসেছিল। পরে কী মনে করে যেন সে ওগুলো হরকান্তকে দিয়ে দেয়। এর কারণ হরকান্তও জানে না।
হানাদার ক্যাম্প থেকে নীলাকে উদ্ধার করা হয়। হরকান্ত প্রথমে যেন ওকে চিনতেই পারছিল না। কোথায় তার বউফুল? এ যেন এক বিধ্বস্ত প্রতিমা। শ্রান্ত। মলিন। অবসন্ন। নীলা ঠিক মত হাঁটতে পারছিল না। হরকান্ত কোলে করে ওকে বাড়ি নিয়ে আসে।
নীলা অনেক বদলে গেছে। সে আর আগের মত হাসে না। কথাও বলে না। সারাক্ষণ চুপচাপ ফ্যাল ফ্যাল করে শূন্যের দিকে তাকিয়ে থাকে। ওকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে হরকান্ত, শোনো, যা হবার হইছে। ওসব ভুইলা যাও। তুমি আবার আগের মত হইয়া যাও। একটু হাসো। একটু হাসো।
নীলা হাসে না। সে যেন হাসতে ভুলে গেছে। সে থাকে নিরুত্তর। তবুও হাল ছাড়ে না হরকান্ত। সে চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। একসময় সে দেখতে পায় নীলা ক্রমশ স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। কিন্তু একদিন হরকান্ত জানতে পারে নীলা গর্ভবতী। পেটে তার হানাদারদের সন্তান।

তেরো//
হরকান্ত চেয়েছিল নীলাকে নিয়ে কোন ডাক্তার – কবিরাজের সাথে কথা বলবে। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে তখন ডাক্তাররা আজকের মত এতটা সহজলভ্য ছিল না। তাছাড়া সে তার সুযোগও পায়নি। এর আগেই ব্যাপারটা রাষ্ট্র হয়ে যায়। অনেকে ছিঃ ছিঃ করতে থাকে। কিন্তু তারা একবারও ভাবল না, এতে মেয়েটার দোষ কোথায়। কী তার অপরাধ?
আসলেই মানুষ বড় বিচিত্র। সবচে বিচিত্র হচ্ছে তাদের মন। কখন যে কার পক্ষ নেয় তা হয়ত অনেক সময় মানুষ নিজেই জানে না।
দুদিন পর।
স্থান হরকান্ত রায়ের বাড়ির উঠোন। সালিশ বসেছে। বিচার হবে নীলার। তার অপরাধ, কেন সে খানসেনাদের বাচ্চা পেটে নিয়ে আছে! বিচার করতে এসেছে স্থানীয় মাতব্বররা। প্রধান বিচারক হল কফিলউদ্দিন। সেই রাজাকার। অনেক রাজাকারের মতই তার কিছুই হয়নি। কিছুদিন পালিয়ে ছিল। এখন আবার ফিরে এসেছে বহাল তবিয়তে। আমাদের দেশটা যে কত বড় দুর্ভাগা তা ভাবতে খুব কষ্ট হয়! কিন্তু কি করার আছে!
কিছুই কি নেই?
কফিলউদ্দিন উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ করে বলতে শুরু করে, ভাইসব, বলেন তো দেখি এই মাইয়াটারে নিয়া কী করন যায়? তার পেটে খানসেনা গো বাচ্চা। বলেন আপনারা এরে কী শাস্তি দেয়া যায়?
প্রতিবাদ করে হরকান্ত। শাস্তি মানে! কইলেই হইল? ওর কি দোষ? ও কি ইচ্ছা কইরা খানসেনা গো কাছে গেছে?
যাইতেও তো পারে। বিশ্বাস কী? ফোড়ন কাটে কফিলউদ্দিন।
হারামজাদা, রাজাকার। তুই-ই তো ওরে... হরকান্ত আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারে না। দৌড়ে মারতে যায় কফিলউদ্দিনকে। কিন্তু তাকে ধরে ফেলে কফিলউদ্দিনের কয়েকটা চামচা। হরকান্তর মনে হতে থাকে, ইস স্টেনগানটা কেন যে জমা দিলাম! ওটা যদি এখন হাতে থাকত। এক পর্যায়ে তাকে একটা গাছের সাথে বেঁধে ফেলা হয়।
কফিলউদ্দিনের প্রহসন নাটকের কয়েকটা অঙ্ক তখনও বাকি ছিল। তবে সেসব মঞ্চস্থ হতে খুব বেশি দেরি হল না। কুশলী অভিনেতা কফিলউদ্দিন। ক্ষণে ক্ষণে সে ভোল পাল্টাতে জানে। জানে কীভাবে মানুষের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হয়। আর মানুষগুলোও যেন কেমন! মেরুদণ্ডহীন! আসলে বেশিরভাগ সাধারণ মানুষই এমন। তারা নিজেরা কথা বলতে চায় না। ভয় পায়। সমাজের কথিত শক্তিশালী অংশ তাদের যেদিকে যেতে বলে তারা সেদিকেই যায়। জোয়ার যেদিকে, তারাও সেদিকে। নিজেদের যেন কোনও আত্মঅনুভূতি নেই। থাকলেও তারা তা প্রকাশ করে না। করতে চায় না। করতে পারে না। অথচ তারা বুঝতেও পারে না গুটিকয়েক কফিলউদ্দিনের হম্বিতম্বি তাদের সম্মিলিত শক্তির সামনে কিছুই না। বিন্দুর চেয়েও ক্ষুদ্র।
শোনেন ভাইসব! নীলাকে দেখিয়ে বলল কফিলউদ্দিন। এই মাইয়াটার পেটে অবৈধ বাচ্চা। অবৈধ বাচ্চা ভাল মাইয়া মাইনসের হয় না। অবৈধ বাচ্চা হয় বেশ্যা গো। বেশ্যারাই অবৈধ বাচ্চার জন্ম দেয়।
হারামজাদা। কুত্তার বাচ্চা। চুপ কর কফিলউদ্দির বাচ্চা! রাগে, ক্ষোভে, ঘৃণায় চিৎকার করে ওঠে হরকান্ত। নীলার আইজ এ অবস্থার জন্য কে দায়ী? তুই দায়ী! তুই! তুই-ই তো ওরে পাঞ্জাবী গো হাতে দিছিলি। তোরে আমি ছাড়মু না। তোরে আমি গুলি করুম......তোরে...আহ! হরকান্তকে আর কিছু বলতে দেয়া হল না। হঠাৎ করে কফিলউদ্দিনের এক চামচা হরকান্তর মাথায় লাঠি দিয়ে জোরে আঘাত করে। মাথা ফেটে মুষড়ে পড়ে হরকান্ত। তবুও সে ক্ষীণস্বরে বলতে চেষ্টা করে, ভাইসব, আপনারা এ অন্যায় মানবেন না। আপনারা ওই শয়তানের কথা শুইনেন না।
আশ্চর্য! উপস্থিত মানুষগুলোর একজনও হরকান্তর পাশে দাঁড়ানো তো দূরের কথা, টু-শব্দটিও করল না। তারা যেন নির্বাক। নীরব ছবির অপ্রয়োজনীয় অংশ মাত্র। ধীরে ধীরে হরকান্তর চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। তার সামনের পৃথিবী ক্রমশ অন্ধকারে ডুবে যেতে থাকে। অস্পষ্টভাবে কিছু দৃশ্য, কিছু শব্দ অস্ফুটভাবে তার কাছে আসতে থাকে। কফিলউদ্দিন বলছে... বিচার... শাস্তি... দোররা... হ্যাঁ... হ্যাঁ... একঘরে... নীলার চিৎকার... মাগোরে... বাঁচাও... আহ... আহ... আহারে...
একসময় হরকান্ত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

চোদ্দ//
জ্ঞান ফেরার পর হরকান্ত জানতে পারে নীলা আত্মহত্যা করেছে। তাকে লাশের সামনে নেয়া হয়। যাক! ভাল হইছে! মরছে! বাঁচছি! বেশ্যা! সবাইকে অবাক করে দিয়ে অদ্ভুতভাবে কথাগুলো বলে হরকান্ত। তারপর ঝরঝর করে কাঁদতে শুরু করে।

পনের//
২০০৬ সাল। মার্চ মাস। দুটো কিশোর হরকান্ত দাকে নিয়ে কথা বলছে। জানিস ওই পাগলটাকে এখন কত সাল জিজ্ঞেস করলে কী বলে?
-কী বলে?
-জিজ্ঞেস করেই দ্যাখ না।
-আচ্ছা।
হরকান্তদা রাস্তার পাশে চুপ করে বসে ছিল। কী যেন ভাবছিল। হয়তো নীলার কথা- ই চিন্তা করছিল। কিশোর ছেলেটি তার কাছে গিয়ে বলল, দাদা, এখন কত সাল?
প্রশ্ন শুনে হরকান্ত নিরুত্তাপ জবাব দেয়, ১৯৭১....

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29489096 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29489096 2011-11-23 21:26:41
বিপরীত শব্দ ( এটা আমার লেখা একটা মিনি গল্প। আমার ধারণা এর সাথে অবাস্তবের মিল আছে! )
- আসবো মা, আসবো। ছুটি পেলেই আসবো।

- আমার জন্য কি আনবে?

- এত্ত বড় একটা বারবি ডল!

- কত্ত বড়? আমার চেয়েও বড়?

- হ্যাঁ। তুমি খুশি হবে না?

টেলিফোনের রিসিভার কানে খুব জোরে চেপে ধরে মিষ্টি করে একটা হাসি দেয় প্রবাসি নাজমুল সাহেবের পাঁচ বছরের ছোট্ট মেয়ে অর্পা।

দুই//

দুপুরবেলা। প্রচন্ড গরম পড়েছে। এইমাত্র দোলা তার মেয়ে অর্পাকে নিয়ে বাসায় এসেছে। ছিমছাম গোছানো ড্রইংরুমে ফুলস্পীডে এসি চলছে। অর্পা আর সময় নষ্ট না করে দ্রুত টিভি দেখতে বসে গেল-টমের সাথে জেরির দ্বন্দ্ব ওর খুব ভাল লাগে।

হঠাৎ ইন্টারকমে রিং হল। অর্পা রিসিভ করল।

- হ্যালো।

- আপামণি অর্পণ নামে এক লোক আইছে। ফোনের ওপাশ থেকে সিকিউরিটি বলল।

অর্পা কি যেন বলতে যাচ্ছিল কিন্তু তার আগেই দোলা ওর হাত থেকে রিসিভার নিয়ে গেল- হ্যালো কে? ও আচ্ছা। আসতে দাও।

তিন//

ও মা কী দারুণ! আজকে বারান্দায় এতগুলো প্রজাপতি এসেছে! লাল প্রজাপতি! নীল প্রজাপতি! আচ্ছা সবুজ রঙের প্রজাপতি কি পাওয়া যায়? একা একা ভাবে অর্পা। বাহ খেয়ালই তো করিনি-আমার গোলাপ গাছটা এত বড় হয়ে গেছে! প্রায় বাবার লাগানো গাছটার সমান! আমারটা ছোট, বাবারটা বড়। ছোট গাছ, বড় গাছ। বাহ বিপরীত শব্দ হয়ে গেল তো! কালকে তো এটাই হোমওয়ার্ক। যাক একটু প্রাকটিস করি। ছোট-বড়, লম্বা-খাটো, মোটা-চিকন... বৈধ...ওহ-হো এটার বিপরীত শব্দটা কি যেন? কি যেন? দুর মনেই পড়ছে না। ধ্যাত! যাই মাকে জিজ্ঞাসা করি!

- মা, মা দরজা খোল। খোল।

খুব বিরক্তি নিয়ে অর্পণ দরজা খুলতেই অর্পা বলল, পেয়েছি আংকেল অবৈধ! ...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29487881 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29487881 2011-11-22 00:30:33
এক টিকিটে দুই ছবি!!!!! (১৮ over!) যত দূর মনে পরে তখন আমি ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি। থাকি বরিশালে। একদিন বিকেলবেলা। বটতলা পুরান পাসপোর্ট অফিসের সামনে আমি, রাকিব আর বাপ্পি দাঁড়িয়ে! হাতে তেমন কোন কাজ নেই। রিকশায় মেয়ে দেখা ছাড়া কোন কাজ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। হঠাৎ বাপ্পি বলল, চল একটা এক টিকিটে দুই ছবি মেরে আসি!
রাকিব বলল, তুই এসব কি বলছিস?
আমি তো ভয়ই পেয়ে গেলাম! বললাম, নারে! আমার এত সাহস নাই! বরিশালে সবাই সবাইকে চেনে। কোনভাবে যদি আম্মার কানে যায়! খবর আছে আমার! আমি যাব না।
আমাদের কথা শুনে বাপ্পি কেমন যেন দমে গেল!
ঘণ্টাখানেক পর।
হাঁটতে হাঁটতে আমরা সদর রোডে চলে এলাম। তখন বরিশালে কাকলি নামক একটা সিনেমা হল ছিল। সেখানে সব হট হট (!) বাংলা ছবি দেখানো হত। ওই হলের সামনে এসেই বাপ্পি আমাদের খোঁচাতে শুরু করল! চল। ঢুকে পড়ি। পোস্টার দেখে মনে হচ্ছে পয়সা উঠে যাবে!
সেদিন জীবনে দুইটা প্রবাদ বাক্যের সত্যতা হাতে নাতে পেলাম- ১/ অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা! ২/ সংগদোষে লোহা ভাসে!
সিনেমা হলের আলো আধারি পরিবেশ আমাদের খুব একটা খারাপ লাগছিল না। তদুপরি নায়িকার বার বার পানিতে ভেজার অপচেষ্টা দেখে দেখে চারপাশ বেশ গরমই (!) লাগছিল। যতদূর মনে পড়ে ছবিটার নাম ছিল ০০৭ টাইপ একটা কিছু! তো আমরা ছবি দেখছি! এক দৃশ্যে দেখা গেল, নায়িকা পানিতে ডুবে গেল আর নায়ক তাকে তুলে এনে মাটিতে শোয়াল। সাধারণত কেউ পানিতে ডুবে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে তার পেটে চাপ দিয়ে পানি বের করা হয় বা তাকে শ্বাস দেবার চেষ্টা করা হয়। অথচ এখানে দেখলাম, নায়ক প্রাথমিক চিকিৎসার নাম করে নায়িকার গায়ের জামা কাপড় সব খুলে ফেলল...তারপর...হিশ হিশ...
একটু পরে রাকিবের হালকা আওয়াজ শোনা গেল, পয়সা উঠে গেল রে...!
তৃপ্তিকর (!) অনুভূতির বিনাশ হবার আগেই আমাদেরকে এক ভয়ানক আতঙ্ক চেপে ধরল যখন হঠাৎ দেখলাম আমাদের পাশে বসা লোকটি নেই কিন্তু তার জায়গাতে একটা ব্যাগ পরে আছে! ওরে আল্লাহ! বোমা নাতো! উল্লেখ্য ওই সময় দেশের অনেক সিনেমা হলে বোমা হামলা হয়েছিল!
আমাদের তো কলিজায় তখন পানি নেই! মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে ফেললাম, হে খোদা এবারের মত বাঁচিয়ে দাও! আর জীবনেও এ পথে আসব না!
আল্লাহর অশেষ রহমত! দেখলাম একটু পর ব্যাগওয়ালা লোকটা চলে আসল। হয়ত হট সিন দেখে তার বাথরুম পেয়েছিল!!
এরপর সিনেমা শেষ না করেই আমরা হল থেকে বের হয়ে গেলাম! বলাবাহুল্য, সেই ঘটনার পর আজ এত বছর হল আমার আর হলে গিয়ে সিনেমা দেখা হইনি!!! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29486630 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29486630 2011-11-20 00:01:58
প্রশ্ন.।।। কিছুটা অশ্লীল!!! (মাইক্রো গল্প)/ প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য! - ভাল।
- আরে ভাল তো থাকবেই শালায় নতুন বিয়ে করছে। এখন তো ওর ভাল থাকারই সময়।
- যাক ভাল থাকলেই ভাল। তা দোস্ত বিয়ে করলা কিন্তু আমাদের জানাইলাও না। আমরা অনেক মাইন্ড করছি।
- সরি দোস্ত। হুট করেই তো সব হয়েছে। তাই... সরি।
- আর সরি বলে কী হবে! যাক আমরা তোমারে এক শর্তে মাফ করতে পারি। বল রাজী কিনা?
সদ্য বিবাহিত নাজমুল বেশ বুঝতে পারছে আজ সে বন্ধুদের চিপায় পড়েছে। তার রক্ষা নেই।
- আগে তো বলবি শর্ততা কী?
- তোর বাসর রাতের গল্প বলতে হবে। কিছু লুকাতে পারবি না।
- শিট! কী বলিস এসব?
- শুরু কর। দেরি করিস না। দ্যাখ! আমরা তিনজন। আর তিনজনই ব্যাচেলর। না বললে কিন্তু তোর খবর আছে!
- বল। কি জানতে চাস?
একজন চোখ গোল গোল করে বলল, কনডম কিভাবে কিনেছিলি বল?
এটা একটা ভাল প্রশ্ন! বলল নাজমুল। ডিসপেনসারিতে গিয়ে প্রথমে কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিছুতেই বলতে পারছিলাম না। শেষে সেল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করলাম,-ইউ অ্যান্ড মি! তারপর দোকানদারকে বললাম ভাই এই ওষুধটা আছে? খুব দরকার ছিল! ব্যাস পেয়ে গেলাম।
- তারপর?
- তারপর আর নাই।
- হারামজাদা। আমাদের সাথে ফাজলামি করস? বল রাতের কথা বল।
- কি বলব?
- কে জিতেছে? তুই না ভাবি? বল।
- কি সব যে বলিস না।
- আচ্ছা চিনিস না জানিস না এমন একটা মেয়ের সামনে তোর নেংটু পুটু হতে লজ্জা করল না।
- অচেনা কই? ও তো আমার বউ!
- হাহাহা! তার মানে তুই নেংটু হয়েছিলি! কথায় ধরা খাইছস!
নাজমুল চুপ করে থাকে। এবার তাকে ধাক্কা দিয়ে আরেক বন্ধু বলে, মামা, কোন ঝামেলা হইছিল? নাকি ভালোয় ভালোয় সব শেষ হইছে।
- একটা ঝামেলা হইছিল। কনডম ঠিক মত পরতে পারছিলাম না। উল্টা করে পরার চেষ্টা করাই দুইটা নষ্ট করে ফেলেছিলাম। আসলে অভিজ্ঞতা না থাকলে যা হয়!
- তুই কই প্যাকেট নিয়া ঢুকছিলি। এক কার্টন নাকি?
- ধ্যাত। অনেক কইছি। আমারে এখন ছাড়।
- আঃরে দাড়া। মামা, কইবার পারলা প্রথম রাতে? ডিউরেশান কতক্ষণ ছিল?
- মনে নাই।
- আররে মনে থাকব ক্যামনে ও তো হাঁপাইতে হাঁপাইতে কখন ঘুমাইয়া গেছিল যে নিজেই তের পায় নাই!
- অনেক হইছে। এখন বাদ দে। নিজেরা বিয়া কর। এমনিতেই সব জেনে যাবি।
- দোস্ত লাস্ট একটা জ্ঞানের কথা বল। মাস্টারবেশন আর রিয়েল সেক্সের মাঝে পার্থক্য কি?
- দুধের স্বাদ কি আ ঘোলে মেটে রে...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29483498 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29483498 2011-11-15 01:23:06
ফার্স্ট লাভ // ( Strongly a false tale) // গল্প না বলে গল্পের চেষ্টা বলাই ভাল!
-তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছিল।

-তাই নাকি? দেখা তো হয়েছে এখন আমি যাব। আর কিছু বলবা?

-ছোটন, আই এম সরি। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।

এ কথা বলেই রাইসা ছোটনের হাতটা ধরল। সাথে সাথে ছোটন এক ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে নিল। অথচ এই হাত ধরার জন্য সে এক সময় কত পাগল ছিল। তীব্র রোদে পুড়ে কিংবা বরষায় কাক ভেজা হয়ে কতদিন সে ছুটে গেছে রাইসার কাছে-শুধু তার হাতটা ধরবে বলে! কিন্তু মজার ব্যাপার ছিল। সামনা সামনি হলে সে যেন স্ট্যাচু হয়ে যেত। শুধু তার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকত। তেমন কিছু বলতে পারত না, কিছু করতে পারত না। এমন কি এক সাথে রিকশায় ঘোরার সময়ও সে মুগ্ধ নয়নে রাইসার দিকে কেবল তাকিয়েই থাকত।

রাইসা আবার বলা শুরু করে, আমি জানি আমি তোমার সাথে চরম অন্যায় করেছি। আমি এখন বুঝতে পারছি আমি জীবনে কি ভুলটাই না করেছি। প্লিজ তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।

-তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছ? আমার কাছে? আজিব!

-আমি জানি তুমি আমাকে ক্ষমা না করলে আমার বাকি জীবনটা ভাল কাটবে না।

-কেন কাটবে না! জীবনে যা চেয়েছ তা-ই তো পেয়েছ! কি যেন নাম ছেলেটার... ওই যে যাকে নিয়ে তুমি নতুন করে ভেবে ছিলে...জানো তোমার সেই এসএমএসটা আজও আমার মোবাইলে আছে... তুমিই তো বলেছিলে আমি জানি না কিভাবে ভালবাসতে হ্য়...তোমার সে জানে...সে তো তোমারই আছে। আমাদের এতদিনের জানা শোনা যার জন্য তোমার কাছে ফিকে হয়ে গেল... তাহলে তোমার এত কষ্ট কিসে?

- আমি জানি তুমি আমার উপর অনেক রেগে আছ? কিন্তু আমি ভুল করেছি। ও ছিল একটা প্রতারক। চিট! আমি তা অনেক পরে বুঝতে পেরেছি! ও আমার সব শেষ করে দিয়েছে! আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। তুমি আমাকে মাফ করে দাও।

রাইসা কাঁদতে শুরু করে।

কি হবে এতদিন পর মাফ করে! ছোটন আর রাইসার কাছে দাড়ায় না। সে চলে যায়। পেছনে পড়ে থাকে রাইসা।

ছোটনের খুব ইচ্ছা করে শুধু একবার, শুধু একবার প্রিয় মুখটা পিছনে তাকিয়ে দেখে। ইচ্ছে করে ছুটে গিয়ে তাকে বলে, রাইসা আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি। এতটা আমি নিজেকেও বাসি না।

কিন্তু ছোটন ফেরে না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29482653 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29482653 2011-11-13 20:40:14
হারমাফ্রোডাইট (এটা একটা অন্যরম গল্প যেখানে প্রেম/ স্যাকা/মজা নাই।)
আজকে জাভেদ নতুন প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে-এক একটা অপরিচিত নম্বরকে মিসকল দিতেই থাকবে যতক্ষণ না সেটা থেকে কেউ কলব্যাক করে। কোন কিছু চিন্তা না করেই জাভেদ মোবাইল বাটন টেপা শুরু করল, 0171867093...। এই তো রিং হচ্ছে। একবার, দুবার, তিনবার- টানা মিসকল দিল। কিন্তু কোন সাড়া নেই। আরেকবার দেই। এবার ব্যাটা বিরক্ত না হয়ে পারবে না। আশ্চর্য! ঘুমাচ্ছে নাকি? কিন্তু এই সন্ধাবেলায় কেউ কি ঘুমায়? দাঁড়া! দেখাচ্ছি মজা! তুমি ঘুঘু দেখেছ, ফাঁদ দেখেছ কিন্তু জাভেদ দেখো নাই! টানা ৩২ বার মিসকল দিল সে। ইয়েস! এবার কলব্যাক করেছে। তাও আবার নারীকন্ঠ!

-হ্যালো মিসকল দিচ্ছেন কেন?

-ইচ্ছে হল তাই দিলাম।

-ও তাই। বুঝতে পেরেছি নতুন সেট নিয়েছেন, তাই না?

-হাঁ। কিন্তু কি করে বুঝলেন?

-এটা না বোঝার কি আছে? একসময় আমারও তো আপনার মত বয়স ছিল। তা কোন ক্লাসে পড়েন? ফার্স্ট ইয়ার?

খাইছে! বয়স্ক কোন আন্টির সাথে ফাজলামি করে ফেললাম নাকি? জাভেদ মিথ্যা বলল না, হাঁ। অনার্স ফার্স্ট ইয়ার।

-কোন সাবজেক্ট?

-ইকোনমিক্স।

- ভেরি গুড। কোন ভার্সিটি?

-ঢাকা ভার্সিটি।

-ও তাই। আমিও তো ওখান থেকেই পাশ করেছি।

-তাই নাকি! কবে?

-এই তো ২০০৪ এ।

-আপনি আমার ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র। সরি। সরি। আপু। আমার ভুল হয়ে গেছে।

-না ঠিক আছে। তা তোমার নাম কি?

-জাভেদ।

-দেশের বাড়ি কোথায়?

-বরিশাল।

-বরিশাইল্যা! আমার শ্বশুড়বাড়িও ওখানে। জানো তোমার ভাইকে আমি কি বলে ক্ষেপাই-বরিশাইল্যা মুরগি চোর/ ব্যাড়া ভাইঙ্গা দিল দৌড়! কি রাগ করলে নাকি?

-না না। ব্যাপার না। আপু তা ভাইয়া কি করেন?

-কি আর করবে! রাস্তা সাফ করতে পারে। দোকানদারিও করতে পারে।

-মানে?

-মানে ও সাউথ আফ্রিকা থাকে। কি করে তা আমি জানি না।

-আপনি এখানে একা থাকেন?

-না। আমি আর আমার বাবুটা গলাগলি বেঁধে থাকি।

-বাবুটার নাম কি?

-তানিম।

-কোন ক্লাসে পড়ে?

-পড়ে না।

-খুব ছোট। তাই না?

-এই তো পাঁচ বছর হতে চলল।

-এখনো স্কুলে দেননি! এ বয়সে তো বাচ্চারা প্লেগ্রুপ শেষ করে ফেলে।

-কিন্তু আমার বাবুটা কোনদিন পড়তে পারবে না। কোনদিনও না। কি হবে ওর পড়াশুনা করে? কেউ তো ওকে কোনদিন ভালবাসবে না। কোনদিনও না। সবাই শুধু হাসবে। আর হাসবে। বড় হলে ও তো হাসির পাত্র হবে। ওর পড়াশুনা করে কি হবে?

কি ব্যাপার! আপুর কন্ঠ ভেজা মনে হচ্ছে। জাভেদ কিছুটা থতমত খেয়ে গেল, সরি আপু। সরি। আমি আসলে কিছুই বুঝতে পারছি না।

-পারবে কি করে? তুমি তো কিছুই জান না। জান আমি না জীবনে কোন পাপ করিনি। তাহলে আল্লাহ আমাকে কেন এমন শাস্তি দিলেন? কেন?

জাভেদ কি বলবে কিছু বুঝতে পারছে না। তাই সে চুপ করে রইল। একটু থেমে আপু আবার বলল, তুমি আমার কথায় কিছু মনে কর না। আসলে তোমাকে কেন এসব বলছি তা আমি জানি না। তুমি আমার ডিপার্টমেন্টের ছোট ভাই। তাই হয়ত বলছি। আসলে আমার কষ্টগুলো কারও সাথে শেয়ার করা দরকার। আর তোমার ভাইও যেন কেমন হয়ে গেছে। যেদিন ডাক্তার বলল তানিম আর ভাল হবে না সেদিন থেকে ও কেমন যেন দূরে চলে গেছে। ভাল করে আমার সাথে কথা বলে না। আর তানিমের তো খোঁজই নেয় না। জান একবার ও কি বলেছিল-বাবুকে ওর মত লোকদের হাতে তুলে দিতে। ওদের নাকি নিজস্ব থাকার জায়গা আছে। সেখানে নাকি ও ভাল থাকবে। আর আমরা নতুন বাবু নেব। বল এটা কি সম্ভব? বাবুকে ছাড়া আমি বাঁচব কি করে?

-বুঝতে পারছি আপু আপনি খুব কষ্টে আছেন। সরি আপু। আমার খুব খারাপ লাগছে। আচ্ছা আপু আমি কি জানতে পারি তানিমের অসুখটা কি?

-হাঁ পারো। He is hermaphrodite.



-মানে?

আর কোন কথা শোনা গেল না। ওপাশ থেকে লাইন কেটে দেয়া হল। কিন্তু Hermaphrodite মানে কি? জাভেদ তাড়াতাড়ি ডিকশনারির পাতা উল্টাতে লাগল। শব্দটার মানে দেখে জাভেদের খুব খারাপ লাগল। হাঁ আপু, আমরা ওদের রাস্তায় প্রায়ই দেখি। ওদের নিয়ে হাসাহাসিও করি। কিন্তু একবারও ওদের নিয়ে ভাবি না। ওদের কষ্ট ওদেরই থেকে যায়। আর আমরা শুধু উপহাসই করি। কেননা আমরা যে মানুষ!!!

পরদিন। জাভেদ আবার মোবাইলটা হাতে নিল। কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইল- থাক আর অযথা কাউকে মিসকল দেব না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29482162 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29482162 2011-11-12 23:59:17
খেলা ( কিঞ্চিৎ ১৮+ গল্পের চেষ্টা!!) - কই?
-দূর বাল! তুই একটা কানা! কিছুই দেখস না!
- না মামা এইবার দেখছি। ইস......ধরছে তো...
-উহ শালা! শাড়িটা খুলে ফেলছে...
-মামা আমার সব খারাইয়া যাইতাছে...মাথার চুল থেকে গায়ের লোম...সব...আমি নিজের চোখ বিশ্বাস করতে পারতাছি না...
-চুপ থাক। আগে দেখি আজকে কি করে...

ঢাকা শহরের পাশাপাশি ফ্ল্যাটগুলোর এই এক মহামারি সমস্যা! এক বাসার জানালা থেকে আরেক বাসায় তাকালে অনেক কিছুই দেখা যায়। অবশ্য স্বভাবগত কারণে ব্যাচেলরদের মধ্যে এই উঁকিঝুঁকি মারার প্রবণতা বেশি থাকে। পান্থদের ক্ষেত্রেও এই একই ব্যাপারটা ঘটেছে। কিন্তু এ বিষয়ে ওদের দোষ পুরোটা দেয়া যাবে না। গভীর ভালবাসাবাসির আগে দরজা বন্ধ আছে কিনা, কিংবা জানালার পর্দা উড়ন্ত দুষ্টামি করছে কিনা সেটা সবারই খেয়াল রাখা উচিৎ। কেননা নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি আকর্ষণ থাকবেই।

গত প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে একই চেয়ারের উপর দাঁড়িয়ে পান্থ আর ছোটন। চোখের সামনে এমন পর্ণো মুভি দেখার সুযোগ খুব একটা পাওয়া যায় না! কিন্তু ওদের এমন অতি আগ্রহের ভার নিতে হঠাৎ যেন বাধ সাধল চেয়ার! দড়াম! গেল চার পায়ের এক পা! একজন আরেকজনের গায়ে পড়ে ওরা যতটা না ব্যথা পেল তার চেয়ে বেশি ভয় পেল যখন দেখল, পাশের ফ্ল্যাটের আদিম নরনারীর দুইজনই ওদের দিকে রক্ত চক্ষু মেলে তাকিয়ে আছে!!

আধা ঘণ্টা পর।
ছোটন বলল, পান্থ দ্যাখ তো এত জোরে জোরে কোন শালায় দরজা ধাক্কায়!
-দেখতাছি!
দরজা খোলার শব্দ হল। আর রে এত সেই লোকটা! একটু আগে দেখা আদিম নরনারীর নর! ওরা কিছু বলার আগেই লোকটা শুরু করল, হারামজাদা! কুত্তার বাচ্চা! খানকির পোলা!...
পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এটা বেশ বুঝতে পারল ছোটন। কিন্তু সে ঘটনা সামলানোর চেষ্টা করল। ছিঃ ছিঃ! কে আপনি! এভাবে কথা বলছেন কেন?
- তাইলে ক্যামনে বলবে! তোদের চুমা দিয়া কইতে হবে! শুয়োরের দল!
-আজব!
লোকটার চেঁচামেচিতে এরই মধ্যে অনেক লোক জমে গেছে! কি হয়েছে ভাই? কি হয়েছে?
চালাকিটা করল পান্থ! সে জানে লোকটা কিছুই করতে পারবে না। সে বলল, ভাই, আপনি এত রেগে আছেন কেন? বসেন। ঠাণ্ডা হন। আমাদের অপরাধটা কি? সব কিছু সবার সামনে খুলে বলুন। তারপর আমরা অন্যায়কারি হলে শাস্তি তো দিবেনই!

ওষুধে বেশ কাজ হল! লোকটা সবার সামনে কিছুই বলতে পারল না। গালাগালি করতে করতে এক সময় চলে গেল।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29481404 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29481404 2011-11-11 20:05:31
একটি সাধারণ গল্প ( এই গল্পের কোন কিছুই কাল্পনিক নয়!)


এখন আমাকে অনেক দূর যেতে হবে-খিলগাঁও থেকে মিরপুর। ঢাকাতে আমি তেমন একটা আসি না। তাই অপরিচিত পরিবেশে কেমন যেন অসহায়বোধ করছিলাম। এত দূর কিভাবে যাব? কিন্তু যেতে যে আমাকে হবেই। আজ এগারটায় ওর সাথে দেখা করার কথা। মিরপুর শেওড়াপাড়া ওভারব্রিজের নীচে আসবে সে। তারপর..আপাতত জানি না।



খিলগাঁও থেকে ম্যাক্সি চড়ে মালিবাগ মোড়ে পৌছালাম। তারপর একটা বাসে চড়ে বসলাম। এটা যাবে ফার্মগেট। আমি জানালার পাশে বসেছিলাম। এত মানুষ, এত ছুটোছুটি! কেমন যেন ক্লান্তিকর মনে হচ্ছিল। ফার্মগেট এসে পড়লাম ঝামেলায়। এখন মিরপুর কিভাবে যাব-তা তো জানি না। শেষে এক পান বিক্রেতা বললেন, '১০ আর ১১ নম্বর বাসগুলো মিরপুর যায়।' বাসে উঠে এবার আর বসার জায়গা পেলাম না। এক হাত দিয়ে মাথার উপরের হাতল ধরে রইলাম। অন্য হাতে পকেট শক্ত করে চেপে ধরলাম পাছে যদি পকেট কাটা যায়! এবারের ড্রাইভার বেশ রসিক মানুষ মনে হল। সে গান বাজাচ্ছিল, 'গুলশান, বনানী আবার জিগায়... তেজকুনিপাড়ায় হালায় আবার জিগায়...।'



শেওড়াপাড়া পৌছে দেখি ঘড়িতে পৌনে এগারটা বাজে। আরো এখনো পনের মিনিট বাকি। কি করা যায়? ওকে একটা ফোন দিলাম, হ্যালো সাদিয়া! আমি তো চলে এসেছি।

-চলে এসেছেন। কোথায় আপনি?

-এই তো তোমাদের বাসার গলির ভেতর হাঁটছি।

-কি? যান যেখানে দাঁড়ানোর কথা সেখানে গিয়ে দাঁড়ান। আমি পনের মিনিটের মধ্যে আসছি।

অজানা অচেনা জায়গায় কারো জন্য অপেক্ষা করাটা যে কতখানি বিরক্তিকর তা বলে বোঝানো যাবে না। কি করব বুঝতে পারছিলাম না। শেওড়াপাড়া বাজার থেকে হেঁটে ওভারব্রিজ পর্যন্ত এলাম। আবার উল্টো পথে গেলাম। একটু পরে সে এল। বাহ! গতবারের তুলনায় এবার সে অনেক সুন্দর হয়েছে। চুলও বড় হয়েছে।

-কি খবর? কেমন আছ?

-ভাল। আপনি?

-এই তো।

-তারপর কোথায় যাবেন?

-আমি কিভাবে বলব? আমি তো এখানকার তেমন কিছুই চিনি না। তুমি যেখানে নিয়ে যাবে আমি সেখানেই যাব।

এসব ঘটনায় সাধারণত ছেলেটা মেয়েটাকে পথ দেখায়। আমার ক্ষেত্রে ঘটল উল্টোটা। সাদিয়াই চালকের আসনে বসল।

আমরা মিরপুর বাঁধের উদ্দেশ্যে রিকশা নিলাম। রিকশার পেছন রিকশা। গাড়ির পেছন গাড়ি। হাজার মানুষের ছুটে চলার মাঝে আমদের রিকশাও এগিয়ে চলল। দুজনই চুপচাপ। হঠাৎ কেমন যেন সিনেমাটিক ডায়ালগ দিয়ে ফেললাম, তুমি না আগের চেয়ে সুন্দর হয়ে গেছ..অনেক সুন্দর।

-কি যে বললেন! মুখে পিম্পলে ভরে গেল। আর আপনি বলেন সুন্দর!

সত্যি বলতে কি সেদিন ওকে আসলেই সুন্দর লাগছিল। বলতে দ্বিধা নেই ওর চোখ দুটো আমাকে যেন চুম্বকের মত টানছিল। ইচ্ছে হচ্ছিল ছুঁয়ে দেখি! আরেকটা জিনিস অনুভব করলাম। এর আগেরবার যখন ও আমার সাথে রিকশায় উঠেছিল তখন আমাদের মাঝে প্রায় পাঁচ ইঞ্চি দূরত্ব ছিল। অথচ আজ সেটা নেই।

মিরপুর বাঁধ আমার কাছে আজব জায়গা বলে মনে হল। শুধু জুটি আর জুটি। রিকশায় জুটি। রাস্তায় জুটি। পার্কে জুটি। হঠাৎ এক লোক বলল, মামা সইওয়ালা নৌকা আছে। আসেন আপুরে নিয়া নৌকাই ঘুইরা আসেন।

আমি বললাম, নৌকায় উঠবে?

সাদিয়া আমাকে এক বাক্যে না-করে দিল।

আমরা বাঁধের উপর বসলাম। সামনে শুকনো নদী। নদীর পাড় ঘেষে ধানের চারা লাগানো হয়েছে। একটা ছোট কার্গোকে দেখলাম ঘুরে ঘুরে বালি তুলছে।

-তারপর কি অবস্থা? কি খবর? আমি বললাম।

-কি আর খবর হবে? প্রতিদিনই তো আপনার সাথে কথা হয়। সবই তো জানেন। নতুন কোন খবর নেই।

এরপর কি বলব বুঝতে পারছিলাম না। আসলে এখানে আসার আগে মনে হয়েছিল ওকে সামনে পেলে কথার ঝড় বইয়ে দেব। অথচ এখন বলার মত কিছুই খুঁজে পাচ্ছি না। আমি বললাম, মোবাইলেই তোমার সাথে গল্প জমে। এখন কেমন যেন লাগছে।

-আচ্ছা ঠিক আছে। যান দূরে যেয়ে আমাকে কল দেন আমি রিসিভ করছি।

আবার কিছুক্ষন চুপচাপ বসে থাকি।

-আচ্ছা তুমি আমাকে আর কতদিন 'আপনি' করে বলবে? আমার এসব আপনি-টাপনি আর ভাল লাগছে না। প্লিজ 'তুমি' করে বল। প্লিজ।

-আচ্ছা বাবা বলব, বলব। পরে বলব। গান শুনবেন। নেন গান শুনেন।

সাদিয়া তার এমপিথ্রি প্লেয়ারের হেডফোনের একটা কড আমার কানে ভরে দিল। অন্যটা নিজের কানে রেখে দিল। মাহামুদুজ্জামান বাবুর গান বাজছে, আমি বাংলার গান গাই।

আস্তে আস্তে সূর্যের তাপ বাড়তে লাগল। এমনিতেই আমার মাথায় চুল কম। তারপর এমন খোলা জায়গায় সরাসরি সূর্যের আলো। মাথা ঝিমঝিম করা শুরু করল। ওর অবশ্য তেমন একটা লাগল না। কারন আমাকে দিয়ে সূর্যকে আড়াল করে সে বসেছিল। বসুক। বেশিক্ষণ সূর্যের আলোয় থাকলে আমার হাত-পা কাঁপতে থাকে। যাক তারপরও ওকে আড়াল করে রাখারই চেষ্টা করলাম। কেননা আমি যে ওকে ভালবাসি, ভীষণ ভালবাসি।

হঠাৎ ওর হাত ধরলাম। এক ঝটকায় ও হাত ছাড়িয়ে নিল। একটু কষ্ট পেলাম। নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম, এটা ঠিক না। এটা ঠিক না।

কিন্তু পারলাম না। পরে যে কখন আবার ওর হাত ধরে ফেলেছিলাম তা নিজেই টের পাইনি। এভাবে কতক্ষন যে ওর হাত ধরে ছিলাম তা বলতে পারব না।

দুপুর হয়ে এলে আমরা জায়গা পরিবর্তন করলাম। একটা পুকুরের পাশে গাছের নিচে ছায়ায় গিয়ে বসলাম।

সত্যি বলতে কি সারাদিন আমাদের তেমন একটা কথা হল না। শুধু চুপচাপ পাশাপাশি হাত ধরাধরি করে বসে থাকা হল। বেশিরভাগ সময়ই আমি বেহায়ার মত ওর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। ও প্রায়ই বলছিল, দ্যাখেন, এভাবে তাকিয়ে থাকবেন না। আমার ব্যাপারটা ভাল লাগে না।

কিন্তু আমি কি করব? আমি যে কিছুতেই নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে পারছিলাম না। শুধু ওর দিকে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করছিল। দূরে দেখলাম, আমাদের মত এক জোড়া বসে আছে। হঠাৎ ছেলেটা মেয়েটাকে জোর করে ধরে একটা কিস দিয়ে দিল। মেয়েটা রাগ করে উঠে গেল। ছেলেটা 'সরি, সরি' বলতে বলতে তার পেছন পেছন ছুটল।



আজকের দিন আমার কাছে বছরের সবচেয়ে ছোটদিন বলে মনে হচ্ছিল। এত তাড়াতাড়ি বিকাল হয়ে গেল! ইচ্ছে হচ্ছিল না ফিরে যাই। তবুও ফিরতে হল। সাদিয়া রিকশা নিয়ে বাসায় চলে গেল। আমি শেওড়াপাড়া বাজারের সামনে নেমে গেলাম। আবার সেই ফেরার পালা, আবার সেই বাস, 'গুলশান, বনানী আবার জিগায়... তেজকুনিপাড়ায় হালায় আবার জিগায়...। ']]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29481189 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29481189 2011-11-11 12:19:24
একটি লোমহর্ষক মাইক্রো গল্প! (দুর্বল চিত্তের লোকদের পড়া নিষেধ!) - হাঁ পারব। পারতে আমাকে হবেই।
- ও কিন্তু অনেক চালাক! ধরা খাবি নাতো আবার?
- না।
- সাবাশ। তাহলে যা। একবারে ছিবড়ে বানিয়ে ছেড়ে দিবি। আজীবন যেন তোর কথা মনে রাখে। শালি হারামজাদী!
- হুম।
- টিপে টিপে লাশ বানিয়ে দে।
- হুম।
- দেখিস শালি যেন বুঝতে না পারে। একটু একটু করে ওর সব ছিড়ে খাবি।
- হুম। দোয়া রেখো।
- ও আমাকে শেষ করেছে। আমিও ওকে শেষ করে দেব। আমি ওর রক্ত চাই।
- হুম।
- আমি রক্তের সাগরে ওর ভেসে থাকা টুকরো শরীর দেখতে চাই। যা মার যা...........................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................





দূর গাধা! এবারও মশাটা মারতে পারলি না! <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29480450 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29480450 2011-11-10 00:43:49
কর্পোরেট সাউন্ড! (চোখের সামনে দেখা এক আজিব ঘটনা!) লিফটে আমি ছাড়া আর দুজন আরোহী ছিল। একটা মেয়ে। আর একটা ছেলে। বলতে দ্বিধা নেই, আমার মনে হচ্ছিল মেয়েটার কি যেন নেই নেই! পরে খেয়াল করে দেখলাম,ওহ নাহ আছে- তার গলায় ওড়না আছে! নিজের চোখের আচরণে নিজেকে একটু একটু দুষ্ট মনে হচ্ছিল। পরে বিখ্যাত বিজ্ঞানী আল হাজেনের একটা কথা মনে পড়ল, “বস্তু থেকে আলো আমাদের চোখে আসলে আমরা ওই বস্তুটা দেখতে পাই।“ তাহলে আমার আর দোষ কি?
ছেলেটার চুল স্পাইক করা। ব্লেজারে সাথে অসম্ভব টাইট একটা নরমাল প্যান্ট পরা। নাহ তাকে আনস্মার্ট বলা যাবে না। মেয়েটা বলল, you are looking so cool dear!
-O really! Thanks. তোমার ড্রেসটাও সেই রকম! জোশ লাগছে তোমাকে!
ছেলেটার কথা শুনে মেয়েটা যেন গর্বে ফুলে ফুলে উঠতে লাগল। এমনিতেই তার ড্রেসটা যথেষ্ট টাইট ফিট! বেশি ফুললে কপালে তো বিপদই আছে!!!
মেয়েটা বলল, আমাদের নতুন বসটা কেমন যেন! কর্পোরেট হাউজে boss should be more smart and frank!
-hmm! You are so right. He is damn…bull shit! F…k!
-এই স্টুপিড টাইপের লোক কেন যে এখানে এসেছে! সে তো কর্পোরেট কালচারই বোঝে না! এত নরমাল ড্রেস আপ! So third class!
-hmm! Exactly! Look at me. Real corporate man! My attitude! My behave! I think all these reflect my corporate society!
-yah darling!
-Even when I walk, you can see corporate movement!
এ কথা বলেই ছেলেটা লিফটের মাঝে একটু হাঁটার ভঙ্গি করতেই প-রা-ত করে একটা আওয়াজ হল। সাথে সাথে তার মুখটা যেন বাংলা পাঁচ হয়ে গেল। লিফট থেকে নামার সময় তাকে দেখলাম ব্লেজারটা দিয়ে সে তার পশ্চাৎদিক ঢাকার প্রাণপণ চেষ্টা করছে! What a corporate sound!!!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29479821 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29479821 2011-11-08 19:15:16
কর্পোরেট অফার!!! (এই গল্পের পুরো ঘটনা সত্যি!) তিশার ঝাঁজাল কথায় একটু নড়েচড়ে বসে লোপা। তারপর নিজেকে একটু সামলে নিয়ে একসময়ের ভার্সিটির বান্ধবী আর আজকের কলিগ তিশাকে বলে, উহ! আর বলিস না। হি ইজ আওসম ম্যান! দৃষ্টিটা কি মানলি দেখেছিস! আমার মাথা ঠিক থাকে না!!!
- আমি কিন্তু মোটেই ফান করছি না! সিরিয়াসলি বলছি। জানিস মিটিং-এর সারাটা সময় ওই শালা তোর কোন দিকে তাকিয়ে ছিল!
- কোন দিকে বল না? বল না প্লিজ!
- ছেমড়ি তুই আসলেই একটা ছাগল! কালকে থেকে যদি এত টাইট ড্রেস পরে অফিসে আসিস। তাহলে তোর খবর আছে।
- কি করবি তুই?
- কসম খোদার সব টেনে ছিঁড়ে দেব!
- হাহাহা...

২//

হঠাৎ করেই রাফির সাথে ব্রেক আপ হয়ে গেল লোপার। রাফি আসলে তার মত নয়। শুধু গাইড করতে চায়। কত বড় সাহস ওর! বলে কি না আমি ঊছসৃঙ্খল! আমি কি ওর চেয়ে কোন অংশে কম বুঝি! আমি একটা কর্পোরেট হাউজে জব করি। আমাকে জ্ঞান দিতে আসে!! যা ব্যাটা তোকে আমার দরকার নাই। আমার লাইফ আমিই ভাল বুঝব।

৩//

মাস খানেক পর। হঠাৎ একদিন।
লোপার মোবাইল বন্ধ। অফিসে আসার পর সবাই তিশাকে লোপার কথা জিজ্ঞেশ করছে। কিন্তু তিশা তো কিছুই জানে না। সারাদিনে লোপার কোন খবর মেলে না। অফিস শেষে তিশা লোপাদের বাসায় যায়। যা জানতে পাড়ে তা হল...

গতকাল রাত সাড়ে বারটায় বসের ফোন পেয়ে লোপা খুব অবাক হয়েছিল, হ্যালো।
- সরি ডিয়ার এত রাতে তোমাকে ডিস্টার্ব করলাম না তো।
- না ভাইয়া। সমস্যা নেই বলেন।
- স্মার্ট গার্ল। দ্যাটস হোয়াই আই লাইক ইউ সো ম্যাচ! আসলে কি জান আমি মনে করি তোমার মাঝে অনেক সম্ভবনা আছে। তোমার আপ্রচ রিয়েলি অ্যাটট্রাকটিভ।
- থ্যাংকস ভাইয়া।
- আমি আসলে তোমাকে নিয়ে অনেক কিছু চিন্তা করেছি। আমি তোমার ট্যালেন্টকে অনেক রেসপেক্ত করি।
- থ্যাংকস ভাইয়া।
- দ্যাখ এই কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডে কিন্তু সবাই উপরে ওঠে না। কিন্তু কেউ কেউ ওঠে। আমি জানি তুমি সেটা পারবে। লেটস বি মোর ফ্রাঙ্ক হানি! তোমাকে আরও ফাস্ট হতে হবে। অনেক স্ট্রেট ফরোয়ার্ড হতে হবে।
- থ্যাংকস ভাইয়া। আমি চেষ্টা করব।
- লিসেন। আমি কিন্তু স্ট্রেট কথার মানুষ।
- জী।
- শোন তোমাকে আমার অনেক ভাল লাগে। আমি তোমার সাথে কয়েকদিন একসাথে কাটাতে চাই।
- কি বলতে চান?
- ভেবে দ্যাখ! তোমার স্যালারি, প্রোমোশন সবই আমি দেখব। তোমার ভাবি কয়েকদিন বাসায় নেই। লেটস হাভ ফান।
লোপা ফোনটা বন্ধ করে দেয় আর অন করে না।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29479404 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29479404 2011-11-07 19:40:37
তিশার বাসর! (বাসররাতের গল্প) উহ! ব্যথা পেলাম তো! তার মানে সবই ঠিক আছে। সবই সত্য!
কিছুক্ষণ আগে তার বিয়ে হয়েছে। পাত্রপক্ষ সন্ধাবেলা দেখতে আসল। কিছুক্ষণ কথাবার্তা হল। সে শুধু শুনেছে ছেলে নাকি সোনার টুকরা! ভাল চাকরি করে! ঘুষ না খেয়েই ভাল বেতন পায়। ছেলে তাকে পছন্দ করেছে। আর এতেই বাবা আনন্দে আত্মহারা! হঠাৎ বাবা এসে তাকে জিজ্ঞেশ করলেন, মা। আমরা চাই তোর এখানে বিয়ে হোক। তোর কি আপত্তি আছে?
তিশা কি বলবে প্রথমটায় বুঝতে পারছিল না। পরে ভাবল বিয়ে তো করতেই হবে। তাছাড়া পাত্রের চেহারা তার অপছন্দ হয়নি। তাই সে দিল হ্যাঁ-বোধক মাথা নাড়িয়ে!
কিন্তু তখন তার মনে তেমন কোন জটিল চিন্তা না আসলেও এখন চরম অস্বস্তিতে তার মাথা ঘুরাচ্ছে! লাল একটা শাড়ি পরে সে বিছানায় চুপচাপ বসে আছে। একটু পরে তমাল (পাত্রের নাম) আসবে। বিষয়টা তিশা এখনো মেনে নিতে পারছে না। চেনে না জানে না এমন একটা লোকের সাথে তাকে একই ছাদের নিচে থাকে হবে!
আচ্ছা তমাল এসে কি করবে! হালুম করে ঝাঁপিয়ে পড়বে নাতো! ইস এসব আমি কি ভাবছি!
তিশার ভাবনা অদ্ভুত থেকে অদ্ভুতুড়ে পর্যায়ে যেতে থাকে!
সম্পূর্ণ অপরিচিত একজন মানুষের সাথে কিভাবে আমি থাকব? একই ছাদ... একই বিছানা ... এ মা কাঁথাটাও তো একটাই...
একটু পর তমাল আসল। দরজা বন্ধ করার সাথে সাথে তিশার বুকটা কেঁপে উঠল। সে চোখ বন্ধ করে রইল। কিন্তু তার কান সম্পূর্ণ সজাগ! সে স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে তমাল হেঁটে হেঁটে খাটের কোনায় এসে পৌঁছেছে! হঠাৎ তিশার মনে হল কেউ বোধহয় তার শাড়ির আঁচল ধরে টানছে। শিট! এসেই শুরু করল! এ তো দেখছি চরম অসভ্যলোকরে বাবা!
পরক্ষণেই তিশা চোখ মেলে দেখল তার শাড়ি ধরে কেউ টানেনি। আঁচলের এক অংশ খাটের মশারি স্ট্যান্ডের সাথে আটকে গিয়েছিল। আর তমাল তার সামনে বসে আছে। সে তিশাকে অবাক করে দিয়ে বলল, তোমার চোখ দুটো তো অনেক সুন্দর!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29478687 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29478687 2011-11-06 01:05:03
লুঙ্গি সন্ত্রাস! (আমার ভার্সিটি লাইফের এক সত্য ঘটনা)
হয়ত দেখা গেল একা একজন বারান্দায় লুঙ্গি পরে হাঁটাহাঁটি করছে। হঠাৎ করে দুই একজন এসে ওর লুঙ্গির গিত্তু ধরে টান মেরেই দে ছুট! কিছু বুঝে ওঠার আগেই বেচারার দফা রফা! আমাদের মধ্যে দুই একজন বাঁদর টাইপের ছেলেরাই (লুঙ্গি সন্ত্রাসি!) এই কাজটা করত! সাধারণত লুঙ্গির নিচে কেউ কিছু পরে না। কিন্তু আমাদের ওখানকার পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল যে ছেলেরা রুমের বাইরে বের হলে লুঙ্গির নিচে হাফ প্যান্ট বা অন্য ছোটোখাটো কিছু পরা শুরু করে দিল।

যাই হোক। একদিনের ঘটনা বলি। তখন রাত আটটা বাজে। রুম থেকে বের হয়ে দেখলাম দুটো লুঙ্গি সন্ত্রাসি লোলুপ দৃষ্টি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে! আমার খুব কাছাকাছি রুম থেকে আমাদের সাথের এক ছেলেকে দেখলাম রুম থেকে বের হয়ে পিছন ফিরে দরজা লাগাচ্ছে! এই ছেলেটা একটু অন্য টাইপের মানুষ! গোল গোল ফ্রেমের চশমা পরে। নাকের নিচে মোটা গোঁফ নিয়ে ঘোরে। বিড়বিড় করে একা একা কথা বলে। মাঝে মাঝে সে হঠাৎ করে স্ট্যাচু হয়ে যেত, নড়তে পারত না। আমরা কেউ তাকে ছুয়ে দিলে তবে সে নড়তে পারত। এই কাজের ব্যাখ্যায় সে বলত কেউ একজন আছে যে তাকে এমন করতে বলে! কিন্তু কে সে তা বলত না। এই আজব আচরণের জন্য একজন ওর নাম দিয়েছিল মহাজাগতিক প্রাণি!

এবার আসল গল্পে আসি। তো মহাজাগতিক প্রাণি পিছন ফিরে রুমের দরজা লাগাসছিল। এরি মধ্যে ওই দুই লুঙ্গি সন্ত্রাসির চোখে পরে গেল তার লুঙ্গি! আর যায় কই! চিলের মত ছোঁ মেরে ওর লুঙ্গির গিত্তুতে টান মেরেই দুই সন্ত্রাসির পলায়ন! পায়ের নিচে ঝুলন্ত লুঙ্গি পরা মহাজাগতিক প্রাণির এমন আবির্ভাবে আমরা যেন স্ট্যাচু হয়ে গেলাম! নির্বাক আমাদের সবাক হবার সম্ভাবনা তখন কমে গেল যখন দেখলাম মহাজাগতিক প্রাণি নড়তে পারছে না আর আমাদের বলছে, ‘এই আমি লুঙ্গি পরতে পারছি না। তোমরা কেউ আমাকে এটা পরিয়ে দাও!’ এই সেরেছে! ও নিশ্চয়ই ওর সেই একজনের কাছ থেকে লুঙ্গি পরার অনুমতি পাচ্ছে না। বিপদ! এ যে মহাবিপদ! এভাবে পাঁচ মিনিট চলে গেল। এরমধ্যে একজন লুঙ্গি সন্ত্রাসির মনে মায়া হল। সে এসে লুঙ্গি পরিয়ে মহাজাগতিক প্রাণিকে করুণ দশা থেকে মুক্ত করল!

বলাবাহুল্য এরপর লুঙ্গি সন্ত্রাসিদের অপতৎপরতা কিছুটা হলেও কমেছিল!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29477580 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29477580 2011-11-03 18:10:27
গল্প/ ডায়েরির ছেঁড়া পাতা (অবাস্তব কাহিনী- এমনটা এখন কেউ করে না!!!) - আহারে...
- পোলাডা কত ভাল ছিল!
- ছাত্র হিসেবেও ছিল অসাধারণ। ইন্টারে স্ট্যান্ড করেছিল। আহারে...
- আর কয়টা দিন পরই তো পাশ করত।
- কিন্তু ও ...
বাড়িময় লোকজন। বাতাসে আগরবাতির গন্ধ। উঠোনে এলাকার মুরুব্বিরা চেয়ার পেতে বসে আছে। রাস্তায় পার্ক করা পুলিশের জিপে বসে হাবিলদারটা আপনমনে বিড়ি টানছে। এলাকার মসজিদ থেকে এই মাত্র খাটিয়াটা আনা হয়েছে। কাফনের কাপড় আনতে লোক পাঠানো হয়েছে। বাড়ির ভেতর থেকে উচ্চস্বরে কান্নার শব্দ ভেসে আসছে-বাবারে তুই আমাদের এভাবে ছেড়ে গেলি...আমরা এখন কি নিয়ে বাঁচব সোনা...!
- আপনারা কি শিউর যে এটা সুইসাইড?
- পোস্টমর্টেম করলেই বোঝা যাবে।
- আর পোস্টমর্টেম কইরাই বা কি হইব? ওরে তো আর ফেরত পাওয়া যাইবে না।
ঠিকই তো! শামীমকে তো আমরা আর কখনোই দেখব না। কি লাভ পোস্টমর্টেমে!

// দুই //

শামীম আমার খুব ভাল বন্ধু ছিল। বলতে গেলে সারাক্ষণই আমরা একসাথে থাকতাম। লেখাপড়া, ঘোরাফেরা-কখনো আলাদাভাবে করেছি-এমনটা আমার মনে পড়ে না। আমরা আমাদের ফিলিংসগুলো শেয়ার করতাম। জানতাম ওর সাথে একটা মেয়ের অ্যাফেয়ার আছে। শামীম আমাকে প্রায়ই বলত-'দোস্ত আমার জীবনটা সার্থক! আমি অর্চির ভালবাসা পেয়েছি। আমি ওকে খুব ভালবাসি।' ওর কথা শুনে আমার খুব ভাল লাগত। মাঝে মধ্যে হিংসাও হত-'ইস আমার জীবনে কেন প্রেম আসে না!'
শামীম আমাদের মাঝে নেই আজ প্রায় দু'মাস হতে চলল। এখনো কেউ জানে না কেন সে এমন কাজ করল। কদিন আগে আমিও জানতাম না। কিন্তু এখন জানি। বিচিত্র মানুষের মন। বিচিত্র তার অনুভূতি এবং খুবই বিচিত্র তার প্রকাশ। শামীমের ডায়েরিটা কয়েকদিন আগে হাতে পেয়েছি। মাঝে একটা পৃষ্ঠার অর্ধেকটা ছেঁড়া, তারিখ লেখা নেই-'...ও আমার সাথে কেন এমন করল? আমি তো ওর কোন ক্ষতি করিনি। তবে কেন ও আমাকে এভাবে শেষ করে দিল। কি করিনি আমি ওর জন্য! ওর জন্য আমি আমার মায়ের সাথে মিথ্যা বলেছি পর্যন্ত। বাবার মুখে মুখে তর্কও করেছি। আর ও...। কত বিশ্বাস করেছিলাম ওকে..কত ভালবাসতাম...নিজেকেও বোধহয় আমি এতটা ভালবাসিনি। আমার সাথে ওর সব কথা, সব অনুভূতি-সবই ছিল খেলা। আমি কেন এত বোকা! সততার কি কোন দাম নেই! আমার খুব কষ্ট হচ্ছে-ভীষণ কষ্ট! ও আমাকে ভালবাসে না-এ জন্যে আমার কোন কষ্ট নেই। কেবল কষ্ট লাগে তখনই যখন ভাবি-এমন একটা ফালতু মেয়েকে আমি বলেছিলাম-আমি তোমাকে ভালবাসি। আমি এখন কি করব! বিধাতা তুমি ওকে কোনদিন ক্ষমা কর না..কোনদিনও না। কিন্তু আমি..আমি..।' এরপরও কি যেন লিখেছিল শামীম। হয়ত পরে আবার কি মনে করে নিজেই ছিঁড়ে ফেলেছিল-কে জানে!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29477118 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadat/29477118 2011-11-02 21:29:11