গল্প লিখতে ভালোবাসি

একজন প্রেমিকের কর্মতৎপরতা

০১ লা আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:৩২

শেয়ার করুন:                   Facebook


আমি আনমনে হাঁটছি আর হাঁটছি। সড়ক দ্বীপ পেরিয়ে মাঠ, মাঠ পেরিয়ে বালু এবং তারপরই আচমকা সমুদ্র। সমুদ্রে আমি নামবো না। পানিতে খুব গা চুলকায়। তারচেয়ে বালুতে বসে থাকা ভালো।

মরুভূমি কিংবা সমুদ্র একই কথা, যে দেখেনি তার কাছে।
কিছু গল্প, কিছু অনুমান মিলে একটা ধারণা। ব্যাস । কমনরুমে বসে নায়িকাদের উত্তাপে গলে মাটি হওয়া আর বাতাসে ভেসে পানি হওয়া একই কথা কি? এই দুটোর সাথে মিল কোথায়? তা হলে মরুভূমি এবং সমুদ্রের পার্থক্য কেউ জানেনা । আমি তা জানি।

এই একটি পার্থক্য আমি খুব মনযোগ দিয়ে মুখস্ত করেছিলাম, কিন্তু পরীক্ষায় আসেনি। অপেক্ষায় আছি, মৌখিক এ অবশ্যই জানতে চাইবে। আমি বলবো ছোট চুলের অপূর্ব মেয়েটিকে ভালোলাগে বলার ইচ্ছের নাম মরুভূমি। এর বৈশিষ্ট্য শূন্যতা এবং পাওয়ার আকুলতা। আর রুপবতীকে সামনে বসিয়ে বলতে চাই, দিই মেয়ে, তোমার নাকে নাকটি ঘষে,ঠোঁটে ঠোঁট লেগে গেলে কিছু মনে করোনা। আমি জানি এই বলার পর পৃথিবীর সব মরুভূমি মুছে যাবে। থাকবে সবুজ ঘাসের কার্পেট। সেই কার্পেটের ওপর হাঁটুমুড়ে বসে থাকা পানির নাম সমুদ্র।

ব্যখ্যাটা সবাই বুঝতে পারেনা। তাই মুখস্ত করে। ২০ মার্কের জন্য।

তবে মুচকী হাসি দেয়া অপরাজেয় বাংলার মেয়েটা তা বোঝে। গত তিন রাত এ বিষয়ে তার সাথে আমার অনেক কথা হয়েছে। প্রতি রাতেই আমাকে যেতে হয়েছে এগারোটার পর। এর আগে তার লজ্জা লাগে। পাবেই তো । গাড়ী হাকিয়েদের চাহনী তার কাছে কেমন যেন লাগে। আমাকে বলেছে।
ওরা সব চলে গেলে আমি যাই। বঙ্গবন্ধু হল থেকে যেতে লাগে সাড়ে তিন মিনিট। এই সময়ে কতকিছু যে হয়!! মরুভূমির বালু একে অন্যের আন্তরিকতা ভুলে যায়। ফলে মরুভূমি বাড়তে বাড়তে এই অল্প সময়েই চলে যায় পৃথিবীর বাইরে। আমি যেতে দেই । কেননা সমুদ্রতো পৃথিবীর বাইরে থেকেই আসে। গড়িয়ে গড়িয়ে।

মেয়েটি কিন্তু সহজে কথা বলেনা। প্রথমে স্বাস্থ্যবান পুরুষগুলো ঘুমায়। ওই যে কাঁধের বাক্সটা তার, সেটাতে অনেকগুলো ঘুমের প্রজাপতি থাকে। সেখান থেকে একটা দুটো ছেড়ে দিলেই ওরা ঘুমের জালে জড়ায় তাদের চোখ। এই হলের এতগুলো ছেলে মেয়ে তাদের রুমে একটি করে প্রজাপতি চলে যায় প্রতিরাতে। তা না হলে কি এই শহরে ঘুম আসবে। কি যে উল্টা পাল্টা কথা!

একবার আমি তাকে বলেছিলাম , জানো ছোট চুলের মেয়েটিকে কাছে চাই আমি। বলতে চাই, মেয়ে, দিই তোমার নাকে নাকটি ঘষে,ঠোটে ঠোট লেগে গেলে কিছু মনে করোনা। অমনি লাল একটি প্রজাপতি ছেড়ে দেয় সে । আর সেটি রসিকতা করে বসে আমারই নাকে। আমি ঘুমে ঢলে পড়ি।

সকালে ঝাড়ুদারের ডাকে ঘুম পালায়। লোকটার যে কি হাসি! সারা রাত আমি যে মেয়েটিকে সাথে নিয়ে প্রজাপতিদের ডানায় বসে সড়ক দ্বীপ ঘুরে বেড়িয়েছি, বিশ্বাসই করলো না। না করুক । আমি তাকে এড়িয়ে যাই।

এড়িয়ে যাই বলছি কেনো। আমিতো সময়ই পাইনা। সময়গুলোতো কখনো কখনো রমণী হয়। সময় স্থির থাকে আজিজ মার্কেটে।

ওখানে আমি প্রায়ই যাই বই কিনতে। ছোটচুলের রুপবতীর জন্যও আমি একটা বই কিনেছিলাম। সেটা কবে? অনার্স ফাইনাল হবার আগে। ভালো কথা, আমার থিসিস কিন্তু ভিসির টেবিলে চানাচুর ভাজা খায়। আমি তার শব্দ পাই । আগে যে কেন পেতাম না!

আজিজ মার্কেট থেকে দ্বিতীয়বারের মতো বইটি কিনি। নাম মনে নেই । দুটো ভাঙা হৃদয় এঁকে প্রচ্ছদ করা। ও দুটো জোড়া লাগাতেইতো বই দেয়া। টিএসসির বারান্দায় পুরো বইটা ছোট চুলের মেয়েটাকে পড়ে শুনিয়েছি। মনে আছে এখনো। তা হলে অপরাজেয়র মেয়েটাকে কেন শোনাবো না। শোনাবো।

কিন্তু বই কিনতে গিয়ে দেখি সময়, নারী হয়ে বার্গারে কামড় বসাচ্ছে। কোকের গ্লাসটা ঠোটে তুলতে গেলে আমি ছিনিয়ে নেই। সময় তো রমণী, সে কেবল আমার হবে। তাই না?

কিন্তু দোকানদার বলে,ম্যাডাম কিছু মনে করবেন না। ও পাগল । প্রেমঘটিত হাবিজাবিতে পাগল হয়ে গেছে। একসময় আজিজ মার্কেট থেকে প্রচুর বই কিনতো । ব্রিলিয়েন্ট স্টুডেন্ট ছিলো। এখনো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থাকে। কোনদিন সুস্থ্য হবে বলে মনে হয়না।

আমি দোকানদারের মুখে পুরো মরুভূমি ঢুকিয়ে দিতে চাই। পরিনা। অপমান লাগে।

কতোদিন পর সময় মিনিট সেকেন্ডের নিয়ম ভেঙে রক্ত মাংসে ধরা দিলো ! ওমনি আমাকে পাগল বলা? এই শহর পাগল ওদের নানা কথা পাগলামি ওদের প্রেম পাগলামি এমনকি ওদের চুম্বন শিৎকার সব পাগলামির চূড়ান্ত মুদ্রা।

কয়েকটা বই আজিজ মার্কেট থেকে নিয়ে ছুট লাগাই । হতভম্ব হয় বইয়ের দোকানের মানুষরা।

বগলে বই চাপাতেই নিজেকে আবারো ক্লাস উপযোগি মনে হয়। শেষ যেবার ক্লাসে গেলাম, মনে পড়ে সেখানে ম্যাডামের ছিলো দীঘল কালো চুল। লম্বা । কেমন করে যেন তা ছোট হয়ে যায়। ব্ল্যাক বোর্ডকে মনে হচ্ছিল সিনেমার পর্দা। আর তাতে আমি দেখছিলাম আমার সাথে ছোট চুলের মেয়েটির পরিচিত হবার দৃশ্যাবলী। আর সড়ক দ্বীপ ধরে হাঁটা। আর হাতে হাত রেখে বলা আমরা আমৃত্যু আলাদা হবোনা । আমাদের মন আর শরীর আমরা শুধু দুজনের মধ্যেই ....ওহ!!! ম্যাডাম নেই । সেখানে দাঁড়িয়ে ছোট চুলের মেয়েটা।
আমি দুপা সামনে যাই । বলি, শোন মেয়ে, দিই তোমার নাকে নাকটি ঘষে , ঠোঁটে ঠোঁট লেগে গেলে কিছু মনে করো না।

ক্লাসের সবাই হেসেই খুন। যেন আস্ত পাগল আমি।

সমাপ্ত ..
১৯৯৯ সালের জুন মাসে লেখা।

আনোয়ার সাদী ।

 

 

  • ১১ টি মন্তব্য
  • ১৯৫ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৬ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ০১ লা আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:৫৮
comment by: সুদীপ্ত সরকার বলেছেন: লেখাটা পড়তে পড়তে শেষের দিকে এসে মনে হল আপনি একটা "dyslexic" চরিত্র সৃষ্টি করেছেন - "taare zamin par" ছবিটির ঐ পিচ্চিটার মতন। অবশ্য আপনারটা প্রাপ্তবয়স্ক "dyslexia"-এ ভোগে! চোখে খালি নারী আর প্রেম দেখে! :P
ভাল লেখা। +
০৩ রা আগস্ট, ২০০৮ রাত ৯:৫৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সুদীপ্ত সরকার।

মনোযোগ দিয়ে গল্পটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এটি একজন মানসিক ভারসাম্য হারানো যুবকের জগত।

২. ০২ রা আগস্ট, ২০০৮ রাত ১২:০৬
comment by: আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন: স্বাগতম। সুস্বাগতম। অবশেষে ব্লগে! তা-ও ভালো যে, ব্লগিং-এর নেশায় লেখালেখিটা বেঁচে থাকবে।

'গল্প' বিষয়ে আপাতত কিছু বলার নেই। মরুভূমি বা সমুদ্র যেটাই আসুক তোমার জীবনে, তাতে আমার কি?!?
০৩ রা আগস্ট, ২০০৮ রাত ১০:১৪

লেখক বলেছেন: আহমাদ মোস্তফা কামাল ভাই , স্বাগতম জানানোয় ধন্যবাদ। বন্ধুরা বললো আপনারা সবাই আছেন ব্লগে। তাই সাহস করে এসে পড়লাম।
দেখলাম প্রচুর মেধাবী মানুষের আনাগোনা আছে এখানে।
ভালো লাগছে।
গল্প বিষয়ে আপনার কথা শুনতে আমার আগ্রহের শেষ নেই। সমালোচনা সাহিত্যে আপনার দখল আছে। বিশেষ করে এই সময়ে। সাহিত্য এবং সময়ের সম্পর্ক, আপনার একটি প্রিয় বিষয়। আপনার ব্লগ পড়ে এমনটি মনে হতে পারে।

কামাল ভাই ব্লগীয় শুভেচ্ছা রইলো।

৩. ০২ রা আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৯:৪৭
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: বেশ বেশ
০৩ রা আগস্ট, ২০০৮ রাত ১০:১৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মাহবুব সুমন।

৪. ০৩ রা আগস্ট, ২০০৮ রাত ১:২১
comment by: ফয়সল নোই বলেছেন: সাদী রোমান্টিক গল্প নাই আরো?কাঁচা একটা প্রেমের গল্প পোস্ট করতো একটু শান্তিতে পড়ি:)
৫. ০৩ রা আগস্ট, ২০০৮ রাত ১০:৫৯
comment by: শিমাম বলেছেন: চমৎকার লাগলো গল্পটা। অন্যরকম।
০৩ রা আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:৪৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শিমাম।
শুভেচ্ছা ।

৬. ০৬ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:৫৫
comment by: ধ্রুব তারা বলেছেন: গল্প না কবিতা সেটাই বুঝতে সময় লাগলো। তবে যে ঘরানার বলেই দাবী করুন না কেনো, সত্যি বললে অসাধারণ লেগেছে। ধন্যবাদ
৭. ০৮ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১২:৪৮
comment by: আনোয়ার সাদী বলেছেন: আমার ব্লগে স্বাগতম ধ্রুব তারা। সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
শুভেচ্ছা জানবেন।

 



 


পেশা সাংবাদিকতা। ভালোবাসি গল্প লিখতে।
আইনের ছাত্র ছিলাম । সুতরাং কপি রাইট সংরক্ষিত..
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৩২৫৭