আমার প্রিয় পোস্ট
- আমার বিবেচনায় সেরা ১০ হট/সেক্সি মুভি [ছোটদের পড়া নিষেধ] - হাসান বিপুল
- সব বিশ্ব সুন্দরী এক সাথে...
- গাইতে ভালো লাগে
-
বিখ্যাত লেখক গণের বিচিত্র বাতিক - ইসতিয়াক আহম্মেদ
- ফোবিয়া // ভীতি // আতঙ্ক সমূহ (সম্পূর্ণ) - মইন
- ইউটিউবে আপনারা কি মাস্টারপিস সিনেমাগুলো দেখেন? - ফাহমিদুল হক
- স্প্যানীস চিত্রকর পাবলো পিকাসোর চিত্রকলা। - রামন
কঠিন জিনিসের সাথে এখন
০৯ ই আগস্ট, ২০০৮ রাত ১২:০১
চদু আবারো প্রমাণ করলো তার নাম ঠিক আছে।
ঘটনা ঘটেছিলো শ্যালের নিচে, নাহার প্লাজা থেকে একটু দুরে।
এই ভাই শোন..
চদু থামে । দেখে তার সামনে তিনটি সাপ। আর তাদের লকলকে জিহ্বা । লেজগুলো বাক্সে । কাঠের। আর দেখে তিনজোড়া হাত। আঁকড়ে আছে বাক্সগুলো। তা বেয়ে চোখ যায় হাতের উৎসে। কিছুক্ষণ আনমনা হয় সে। তারপরই নড়াচড়া বন্ধ করে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তায়।
কেননা সাপে তার ভীষণ ভয়। প্রতি বর্ষায় ঘরের চার কোণায় কার্বলিক এসিড না রাখলে ঘুম হয় না চদুর । সে সব দিনে মশারীতেও ভরসা থাকেনা তার ।
যার ভয়ে এতো সাবধানতা সে যদি সামনে আসে তো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কি করতে পারে চদু
যতই হাতকে বলে নড়ো বাপধন, হাত কি তখন নড়ে? ভোঁ একটা দৌড় অবশ্য দেয়া যায়। কিস্তু এরই মাঝে যদি কামড়ে দেয় সাপগুলো । কিছু কিছু সাপতো আবার উড়তেও পারে। বেদেদের হাতে কুফরি কালাম যাদু মন্ত্র কতকিছুই তো থাকে।
তারওপর ওরা তিনজন রমণী। সাপের মতোই বাঁকা তাদের কোমর। ছোবলের মতোই শিরশিরে তাদের নিঃশ্বাসের শব্দ। লকলকে জিহ্বার মতোই নড়ে তাদের চোখের মনি। আর হাসি আর হাঁটার থমক আর বুক ঝাঁকিয়ে রাস্তা শাসন করার ক্ষমতা!
কোনটা যে কোনটা থেকে কম_ বলা মুশকিল । তার ওপর যুবতী রমণী। একেবারে গরম চায়ের মতো ।ভাবে চদু।
যদি পুড়িয়ে দেয়।
কি চান ?
পাঁচটা ট্যাকা দে।
সাপ সরানতো ।
সরামু আগে পাচ ট্যাকা দে।
কেন ?
ল্যাংড়া মাইয়্যার বিয়া, বিয়ার শাড়ি কিনমু । তোর যদি একটা বোইন থাকতো তাইলে কি তুই, না করতে পারতি? দে পাঁচটা ট্যাকা দে ।
তিনটি যুবতী মেয়ের মাঝে হেবলার মতো দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে পাঁচ টাকা দিয়ে দেয়াই সবচেয়ে সহজ সমাধান মনে হয় তার।
তাই মানিব্যাগ বের করে সে।
ভাঙতি দিস না । একশো টাকার নোট দে । আমি ভাঙতি দেই।
ঠিক আছে ।
মানিব্যাগে রাখা বেশ কয়েকটি একশো টাকার নোট থেকে একটি তুলে নেয় চদু।
সাপ সরান ।
সরাই, বলে সাপের বাক্স থেকে কতগুলো কাগুজে নোট বের করে নাকে নথ লাগানো মেয়েটি। তারপর ভাঁজ করে। দুই ভাঁজ চার ভাঁজ আট ভাঁজ ষোল ভাঁজ বত্রিশ ভাঁজ।
চদুর একশ টাকার নোটও হাতে নিয়েই ভাঁজ করতে থাকে মেয়েটি। দুই চার আট বত্রিশ।
নতুন নোট দে।
আপনি ভাঙতি দেন।
নতুন নোট দে
নতুন নোট নাই
তোর ব্যাগে দেখছি ওই নোটটা দে।
ঠিক আছে এবার ভাঙতি টাকা ফেরত দেন।
ভাঁজ করা টাকাটা সাপের বাক্সে পুরে দিতে দিতে শ্যামলা মেয়েটি বলে রাগ করিস না । বোনের বিয়ার শাড়ি কিনমু ।
এটা তো প্রতারণা । জানেন এর জন্য জেল হতে পারে আপনার ।
চদুর ইচ্ছে হয় ছোঁ মেরে টাকাটা ছিনিয়ে নিতে। কিন্তু তার সাহস হয়না সাপের বাক্সে হাত দিতে । এর চেয়ে তার কাছে সহজ রাজপথে মেয়েটির বুকে হাত দেয়া ।
পাঁচ টাকা রেখে বাকী টাকা ফেরত দেন ।
রাগ করিস না ।
চদু দেখে সাপের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ। আর তা ধরে আছে পাঁচটি হাত। সাপের ময়লা লেগে থাকা অপর পাঁচটি হাত ছুটে আসছে তাকে সান্ত্বনা দিতে।
ভেতরে ভেতরে জমে যায় চদু ।
থাক লাগবেনা ।
শ্যালে পার হতে না হতেই চদুর পিঠে আছড়ে পড়ে কতগুলো শব্দ।
রাগ করিস না । বোনের বিয়া। তোর বোন হলে কি করতি?
কঠিন জিনিসের সাথে আছি এখন...
এই, এখন তুমি কই?
বিগ বাইটে।
ওহ, বাইট পারো সোনা , কই, কোনোদিন দিলা নাতো । কি বাইট করো ?
বার্গার ।
চিকেন খাবানা, ফ্লু আছে। বিফ খাও। আচ্ছা বার্গার খাও কেনো । ভাত খাবা না ?
না ।
কেন ?
এমনি।
ঠিক আছে, খাইতে মন না চাইলে, না খাবা । আর কিছু ? চুপ কেনো? কথা কও ।
দশ মিনিট পরে ফোন করো, ইলোরা ।
আচ্ছা ।
এসিতে বসেও ঘামে চদু। দুইশ টাকা! পাঁচ টাকার বদলে দশ টাকা হতে পারতো । বিশ টাকা হতে পারতো। পঞ্চাশ হলেও মানা যায়, একেবারে দুইশ! গলা দিয়ে নামে না বার্গার। বরফ ঠাঁন্ডা কোমল পানীয় কমাতে পারেনা উত্তেজনা। তখনি ইলোরার ফোন। আবার।
মাত্র এক সপ্তাহের পরিচয়। তাই ধরতে হয়। নতুন বন্ধুদের বেশী সময় দিতে হয়। না হলে বন্ধুত্ব আঠাঁলো হয়না। এটাই বন্ধুত্বের নিয়ম বলে মানে চদু।
হ্যালো বলো
বাইট শেষ সোনা।
না।
কেনো।
খাওয়ার ইচ্ছা নেই।
বার্গারে তেলাপোকা পাইছো?
না ।
তালে?
বেদে মেয়েদের পাল্লায় পরছিলাম।
ওদের কাছে কেন গেছিলা। খুব সেক্সি নাকি?
কি যে বলো! কথার কোন স্টেশন নাই ।
আচ্ছা বলো।
আচমকা ধরলো। কয় পাঁচ টাকা দে। ভাংতি দিস না। একশো টাকার নোট হাতে নিয়া কয় নতুন আরেকটা নোট দে।
দিলা?
দিলাম।
চাইলেই দিবা?
হু।
কেন?
ওমা বললো যে বোনের বিয়া। আর বেশীতো চায় নাই। পাঁচ টাকা।
তুমি একশ টাকার নোট দিলা ক্যান?
কইলো যে ভাঙতি দিস না।
তুই কইরা কইসে?
হা।
আর পইটা গেলা। মেয়ে দেখলে গরম হইয়া যাও।
ওহ ইলোরা!
ছোঁ মাইরা টাকাটা ফেরত আনলা না কেন? বুকের ভাঁজে রাখছিলো?
না, সাপের বাক্সে রাখছিলো।
টাকা দিয়া মন খারাপ?
না, ভয় লাগতাছে।
ভয় লাগতেছে?
হু।শরীর কাঁপতাছে।
আসো সোনা তোমারে জড়ায়ে ধরি। আমার গরমে কাঁপুনি থামবে।
ওহ, কিসব বলো! সময় জ্ঞান নাই তোমার।
কেন আশে পাশে তো সব সুপারি গাছে ডাব। তোমার যা চোখ। ডাব দেইখাইতো দোকানে ঢুকো। ঠিক আছে, কিন্তু চাইলেই টাকা দিয়া দাও তুমি, এটা কেমন কথা_ মাই সিজলিং ডিয়ার।
কেন দুই দিন আগে না ডিডি থেকে একটা ড্রেস কিনে দিলাম তোমাকে।
হু। মনে পড়ছে সোনা, আরো চাইলে দিবা?
দিবো।
এক কোটি টাকা চাইলে দিবা?
এক কোটি টাকা নাই ।
এক লাখ দিবা?
দিবো।
আরে আমি এখন দেখি একটা কঠিন জিনিসের লগে আছি। অতো বেশী লাগবোনা। দশ হাজার দিবা? চুল রিবন্ড করবো।
দিবো।
বিকালে আসতেছি । গরম হইয়া থাইকো সোনা । ওমমমমমমা ।
লাল কান নিয়ে বাইরে আসে চদু। এটিএম বুথে যেতে হবে। ভালোবেসে মানুষ জীবন দিয়ে দেয়। এতো সামান্য টাকা।
বিকেল মানে র্টাগেট প্রাকটিস...
কয়টা বল ফুটাইতে পারলা সোনা। গলার স্বরে তুমুল আবেদন এনে জানতে চায় ইলোরা। লাল রঙের বেলুনের দিকে এক চোখে তাকিয়ে এয়ার গানের পিচ্ছিল ট্রিগারে আলতো একটা চাপ দিয়ে চদু বলে পাঁচটি।
পাঁচ টাকায় ছয়টি বেলুনের বল ফাটানোর সুযোগ নেয়া যায়। পার্কে এলে চদুর এই হবি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। লালহলুদনীল বল । ফটাস ফাটাও।
মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করতে করতে চদু বলে, বাসায় যাবা?
ইস পাগল। তর সয় না । বন্দুকে পারো নাই এখন ইসে দিয়া ফুটাইতে চাও? কইলাম না এখন প্রবলেম আছে। যেদিন যামু দেখমুনে কেমন পারো। আমার কিন্তু সব কিছু বেশী লাগে।
এয়ারগান অলা মুচকি হাসে । তার পান খাওয়া ক্ষয়ে যাওয়া লালচে দাগ বের হয়।
চলো। সিএনজি নাও। এখানে অনেক লোক।
চলে যাবে?
না ।
তাহলে ?
ঘুরবো । আর দেখবো কতো টার্গেট তুমি প্যাকটিস করতে পারো।
মানে কি?
সিএনজি ডাকো? বোঝবা।
ইলোরার কারণেই সিএনজি পাওয়া সহজ হলো । ও সব পারে। ও পাশে থাকলে দুনিয়া সহজ মনে হয় চদুর । এই যেমন ইলোরা ঠিক করে ফেলতে পারে কোন হোটেলের কোন খাবারটা ভালো। এক ঘন্টায় রিক্সায় চড়লে কতো দিতে হবে। কোথায় নতুন কি ড্রেস এলো ইত্যাদি।
আরে সোনা দুরে বসে কি দেখো?
মানুষ দেখি রাস্তা দেখি গতি দেখি গতিই জীবন।
কতো বোঝো তুমি। হাত ধরো।
চদুর বুকের ভেতরে একটা মোচর দেয়। ভরদুপুরে গভীর দীঘির শান্ত পানির মতো স্থিরতা নেমে আসে তার শরীর জুড়ে। বেড়াল ছানার মতো একটু ঘেঁষে আসে ইলোরা। শান্ত পানিতে ঢিল পড়ে। ঢেউয়ের বৃত্ত তৈরী হয়। একটি ঢেউ আরেকটিকে ছাড়িয়ে যায়। ঠোঁট আশ্রয় নেয় অপর ঠোঁট জোড়ার মাঝে।
চদুর হাত হয় কর্মির হাত।
শোন
বলো
কি করে বলি। অনেক দ্বিধা আছে মনে। আগে প্রমিজ করো আমাকে খারাপ মেয়ে মনে করবেনা।
আহা, তুমিতো খারাপ মেয়ে না।
না, প্রমিজ করো আমাকে খারাপ মেয়ে মনে করবেনা ।
জড়িয়ে বুকের সাথে পিষতে পিষতে চদু বলে তোমাকে ছুঁয়ে বলছি আমি তা মনে করবো না।
আমার আসলে কিছু টাকা লোন লাগবে। ব্যপারটা পার্সোনাল তাই বাবাকে বলতে পারছিনা। আবার ব্যাংক থেকে লোন পেতেও কমপক্ষে এক সপ্তাহ লাগবে। তুমিতো কখনো জানতেই চাইলে না, কি করি আমি। ঐ যে দেখছো অফিসটা_এতেই আমার কাজ।
সিএনজির ভট ভট শব্দের কাছে নিজের দীর্ঘ বাক্য সমর্পন করে উদাস মুখে বাইরে তাকিয়ে থাকে ইলোরা।
তা মানতে বুক ফেটে যায় চদুর । সামান্য কয়টা টাকার জন্য পৃথিবীর সবচে মনোরম মেয়েটি এতো কষ্ট সইবে। পঞ্চাশ পঞ্চাশ করে দুইটা ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে এখনই টাকাটা দিয়ে দেয়া যায়।
এই যে চাচা মতিঝিল চলেন।
এই না কইলেন মিরপুর?
দুর চাচা মতিঝিল চলেন তো। পোষায়া দিবো।
শোন, কাল দিলেও হবে। কাল তোমার বাসায় যাবো। তুমি কিন্তু প্রটেকশন রাখবা। দেখো, বাতাস ঢুকে যেন ঝামেলা না করে। রিহার্সেল করে রাখবা। অবশ্য প্রথম দিন চিঠিটা ভেতরে পোস্ট করার সুযোগ দিলেই ভালো হয়। এই তুমি কি বলো?
তোমার যা মর্জি। ওই দেখো এটিএম বুথ দেখা যাচ্ছে।
একবারও জানতে চাইলা না টাকাটা কী করবো ?
টেকনাফ থেকে তেতুঁলিয়া পর্যন্ত ছড়ানো হাসিতে চদু বললো, এই না বললা পার্সোনাল কাজ করবা।
শুধু তোমার দেখা নাই...
সকাল থেকে যদি কারো ফোন বন্ধ থাকে আর মনের ভেতর যদি আকুলতা বাড়তে থাকে তবে কি করে চদু
কোথায় যায় সে? চদু বসে থাকে ঘরে।
একদিন দুইদিন তিনদিন চারদিন পাঁচদিন।
আর কয়েক হাজার বার চেষ্টা ।
দুঃখিত এই মুহূর্তে সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
মনে এক দরিয়া তুফান নিয়া কি করে চদু
চদু বেইলি রোডে যায়। ফুচকা খায়। এখানেই ইলোরার সাথে তার প্রথম দেখা।
সবাই আসে। শার্ট প্যান্ট। পায়জামা পানজাবি। স্কার্ট টপস। সালোয়ার কমিজ । টুপিস থ্রি পিস। শাড়ি ব্রা।
কিন্তু ইলোরা আসেনা।
মনের দরিয়া ফুঁসে। চোখের কোণা ভাসে। মন যদি ছেঁড়া টেলিফোনের তার হয় তবে কি করে চদু
চদু ইলোরার দেখানো অফিসে যায়। সবাই আসে। চেয়ারম্যান এমডি ডিরেক্টর সেক্রেটারি কেরানী পিয়ন চাপরাশি অফিসার লেডি অফিসার।
কিন্তু ইলোরা আসেনা । নামের সাথে মেলে না । বর্ণনায় মেলে না।
এখন কি করে চদু
চদু গান গায়।
"নতুন প্রেমে মন মজাইয়া,
নতুন প্রেমে মন মজাইয়া
করলাম আমি একি ভুল...
লাভের মাঝে কি লাভ হইলো গলাতে কলংকের ঢোল"...
সমাপ্ত।
মে ২০০৮।আনোয়ার সাদী ।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
গৎবাধা কাহিনী।যদিও শুরুটা ভালো।
লেখক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ আহসান হাবিব শিমুল ।
আপনার জন্য শুভেচ্ছা রইল।
কৌশিক বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ কৌশিক। শুভেচ্ছা জানবেন।
মানুষের পৃথিবী বলেছেন:
চমৎকার গাথুনীর গল্প। অনেকদিন পর একটি ছোটগল্প পড়লাম। মন ভরে যাওয়া গদ্য। চদু নামটির ভিতর ঘাপটি মেরে থাকা অশ্লীলতাটুকু বাদ দিলে এককথায় বলা চলে চমৎকার।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মানুষের পৃথিবী।
শুভেচ্ছা রইলো।
লেখক বলেছেন: সুস্বাগতম রুবেল শাহ। কপি নেন, রাইট নেবন না । আবারো দেখার আশা রাখছি্ ।
শুভেচ্ছা রইলো।


















