somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... জীবন জীবনে যোজন দূরত্ব গ্রামের মেঠো পথ ধরে চারটি মেয়ে হেঁটে যাচ্ছে, মেরুণ রঙ্গের স্কুল ড্রেস গায়ে। দৃশ্যটি সাউথখালিতে নেমে প্রথমেই চোখে পড়ে। বালিশ্বর নদী তীরের পেশীবহুল, রোদে জ্বলে যাওয়া মানুষদের ভীড়ে, একজন ছাত্রী বেমানান ফর্সা। গোল তার মুখ। চোখের রঙ পিঙ্গল। মনে হলো বৃহস্পতির জাতিকা সে। রাশি অনুযায়ী, বহু বিপদ থেকে হঠাৎ উদ্ধার পাবার কথা তার।

কী নাম?
মিস মুন্নী।
মিস মুন্নী?
হু।

লাজুক তার চোখ। পড়ে ক্লাস এইটে। সিডরে তার দুই ক্লাস ওপরের একজন ছাত্রী মারা যায়। জানায় চোখের দিকে না তাকিয়ে।
আপনি কোথায় ছিলেন?
গাছ ধরে বাঁচলাম। আমার সাড়ে তিন বছরের ছোট ভাই জাহিদ ভেসে গেছে। আপু বলে ডাকতো। কথা কইতে পারতো।

চোখ মুছে মুন্নী। সিডরের একবছর পরও ছোট ভাইটি কত নিবিড় হয়েই না তার মনজুড়ে রইলো।
পরিবারের চারজনকে হারিয়েছে মুন্নী।


মোস্তফা....


বয়স ১৮। সাউথখালিতে বাঁধের পূর্ব দিকে তার বাড়ী ছিলো। মা ছিলো। ছিলো বাবা। ভাই, বোন, ভাইদের ছেলে মেয়েসহ মোট ৯ জন। সিডরে তার সব গেছে। গরু নৌকা জাল সম্পর্ক বন্ধন আদর প্রশ্রয় স্নেহ সমর্থন। বিশাল পৃথিবীতে এখন সে একা।
ভালো লাগেনা। নিজে রান্ধি। নিজে খাই । মাঝে মাঝে না খেয়ে থাকি।

হাত ধরে আমাকে ঘরে নেয় সে। ত্রানের টিনে রোদের ঝিকিমিক। আসবাব বলতে ভারী একটা খাট। আর রোটারী ইন্টারন্যাশনালের একটা ত্রাণের বাক্স। মোস্তফা তার নাম দিয়েছে আমেরিকা। আকাশ থেকে পড়েছে। তাঁবু ছিলো তাতে। পানি ছিলো। খাবার ছিলো। আমি তার ওপরে বসি। খাটে ওপুর হয়ে অঘোরে ঘুমাচ্ছে তারই বন্ধু।

মা নাই বাবা নাই। কী করি ভাই?

ত্রাণের নতুন টিনের ঘরের জায়গাটি নিয়ে এরইমধ্যে মামলার মুখোমুখি সে। যে মামলা করেছে সেও সিডরে ক্ষতিগ্রস্থ। ত্রাণ হিসেবে যে কয়টি টাকা পেয়েছে তা দিয়েই মামলাটি করেছে মোস্তফার নামে।

ভাইরে সিডর তো সব নিলো, এখন একলা পাইয়া এই ঘরটাও নিতে চায়...

হাট করে খোলা দরজা দিয়ে আকাশের দিকে তাকায় মোস্তফা। ওখানে সে কাউকে খোঁজে ফিরে।

বুইন্যা....

মোস্তফার সামনের ঘরের মেয়েটি, বাচ্চাকে দিচ্ছে বুকের দুধ। চোখ ভেজা।
কী নাম, সিডর?
ভাইরে আগেরটাকে নিছে সিডরে। এইডার নাম রাখবো সিডর? কী কন আপনে। এইডা আল্লায় দিছে সিডরের পর।আপনে একটা নাম কন।

কী নাম দেই আমি?

আমার একটা বুইন আছিলো। বিয়ার উপযুক্ত । নাম ছিলো বুইন্যা। বুইন্যা তারে ভাসায়ে নেছে। বুইন্যা বড় ভয় পাই ভাই।

সাউথখালির প্রায় প্রত্যেকেই কাউকে না কাউকে হারিয়েছে গত সিডরে। কেউ আত্নীয় কেউবা প্রতিবেশী। যারা বুদ্ধি করে আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়েছিলো তারা অবশ্য নিরাপদেই ছিলো। গত সিডরে শরণখোলায় সরকারি হিসাবে মারা যায় ৭০৯ জন। এর মধ্যে কেবল সাউথ খালিতে ৬১২ জন। দুয়েকটি উপরে পড়া গাছ এখনও স্বাক্ষর দিচ্ছে তার।

হালিমা বেগম...
বাঁধ ধরে হাঁটি। আতিয়ার ভাই থামে। তার চোখ অনুসরন করি। থমকে যাই। কতো হবে বয়স তার । ৬৫। ৭০ও হতে পারে। কাঠ, পলিথিন, ছন দিয়ে বানানো ঘরের খুঁটিতে হেলান দিয়ে সামনে তাকিয়ে। তাকিয়ে দূরে কোথাও। বালিশ্বর নদীর রোদ ঝলমলে পানিতে। সিডর এসেছিলো তা বেয়ে।
স্বামী নাই।
বড় ছেলে হারিয়েছে বউ ছেলে। ছোট ছেলেরও দুটি সন্তান ভেসেছে জলে। মেয়ের হয়েছে বিয়ে। ছেলেরা ভিন্ন।
তারাতো বউকে খাইতে দিতে পারেনা। আমাকে কী দেবে?

কঠিন প্রশ্ন।

১৫ কেজি চাউল পাই কার্ডে। তাতে চলি। পাশে বসে ছিলো আরেক বুড়ি। বললো ভিক্ষা করতেও যায়না। কানে কম শুনে। হালিমা বেগমের ভেজা চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলা মুশকিল।

গাবতলা বজার ...

বাজার থেকে নদীর দিকে নেমে গেলে গোরস্থান। একসময় বসতি ছিলো। বোঝা যায় শূন্য ভিটা দেখে। চোখে পড়ে একটা সাইন বোর্ড।

এখানে কবর দেয়া হয়েছে আমার বৌ আর চার ছেলেমেয়েকে। এপিটাফে তাদের নাম আছে...

নদীর দিকে যাওয়া হয় না। নদী থেকে বের হয়ে আসা সরু খালে নোঙ্গর করে আছে একটা নৌকা। নাম আশার আলো।

বাজারে বসি আমরা। জলপাই কিনি। মূলা, ঝাল অনেক।
বিদ্যুৎ নাই। সৌর বিদ্যুৎ আছে একটা দোকানে। রাতে জেনারেটর চলে। দোকানে টিভি আছে। ভিসিডি চলে। রাত আটটায় বিটিভির সংবাদ। সব বাড়ীতে টিভি নেই । এমনকী শতকরা ৩০ ভাগের মতো বাড়ীতে আছে রেডিও।
কীভাবে পায় তারা আবহাওয়ার বার্তা?
রেড ক্রিসেন্ট রেড ক্রস ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকার।

শিল্পী...


কালো। তারপরও সবার চেয়ে উজ্জ্বল সে। ওয়ানে পড়ে। স্কুলে গেছে লেট এ। কমপক্ষে ক্লাস থ্রি তে পড়া উচিত ছিলো তার।

আমার দুইডা ভাই বন্যায় মইরা গেছে। মায়তো পাগলের মতো হাঁটে। সেদিন বাবায় সাগরে গেছিলো। কাঠ ধইরা ভাসতে ভাসতে আসছে। বাকী সব হারাই গেছে। আমি গাছ ধরছি । দাদীরে বানছি গাছের সাথে। বাইচা আছে। বুড়ি খনখইন্না। তারপর ফিক করে এক টুকরো হাসি তার ।

কারো দাঁত এতো সাদা হয়?

এখনও আসমানে মেঘ ডাকলে বুড়ির খাওন বন হইয়া যায়। শিল্পী আরো অনেক কথা বলে। শেষ করে বলে, আপনেতো মুখস্ত কইরা রাখছেন দেকি?

যেখানে বাঁধ ভেঙ্গে সিডরের সময় পানি ঢুকেছিলে, সেখানে তারা থাকে।

ভাঙ্গা বাঁধে আমারা অনেকক্ষণ বসে থাকি। ভাঙ্গা বাঁধে পূর্ণিমার বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ার। বাঁধটি আবারো হয়তো নতুন হবে কখনো।

হারানো সম্পর্ক কী নতুন হবে কখনো....

@আনোয়ার সাদী
রিপোর্টিং.....জীবনের কথা..

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadibd76/28868392 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadibd76/28868392 2008-11-13 01:49:44
অক্ষরের সাথে বিরোধ
আবারো বই। অক্ষরগুলো প্যারেডের মতো দাঁড়িয়ে। এটেনশন। আমি গড় গড় করে পড়ি-সম্মতি আইন দ্বারা বলবৎ হলে চুক্তি হবে। আইন কীভাবে বলবৎ হয় তা জানতে আমার মনযোগের শেষ নেই!

ঠিক তখনি অক্ষরগুলো আরামে দাঁড়ায়। লেফট রাইট লেফট বলে পা মিলায় না । ডিসিপ্লিন ভাঙে। কাছাকাছি হয়। তারপর হঠাৎই ঝাপসা হয়ে যায়। ভাবি চোখে বুঝি জল এলো। জল নেই সেখানে। আছে খরা। খাঁ খাঁ শূন্যতা।আবারো, দেখি অক্ষরগুলো লেপ্টে আছে। আর তার মাঝ বরাবর শাটল ট্রেন যায়। ঝিক ঝিক। সামনে। নাক বরাবর। ট্রেনের গতি বাড়ে,বইয়ের পাতা কাঁপে। উঠে যাই। দরোজা খুলে বারান্দায়।
আহ কি বাতাস!

নিচে সাইফুলের রুম। দরজা গলে ঠিকরে পড়ে আলো। তাতে ছায়া। পড়ায় মগ্ন এক যুবকের। আমার চোখ এতকিছু দেখে! অথচ, পড়ার বইয়ে কেন ট্রেন? দাঁড়ি কমায় কেন ঝগড়া?

বিরক্তি লাগে।

মাথার ওপর দুটো ফ্যান। ও দুটো ধাক্কা লাগলে কোনটা বেশী আহত হবে? বাঁ টা, না ডান দিকের টা? বোঝা মুশকিল।

কেমন আছিস? মৃদুল।
ফ্যান থেকে মনযোগ সরে। তাকাই। সাইফুল। চোখের নিচে কালি। রাতজাগে। পরীক্ষা। দেখা হলেই ছেলেটি জানতে চায় কেমন আছি? যতবার দেখা হয় ততবারই। একই প্রশ্ন। কেন? সুতরাং জবাব না দিলেও চলে।
তাই,পরিস্থিতি লুকাই। চুপ থাকি।
ও তো পড়ছিলো। কখন এলো গেস্ট রুমে। আবার হাঁটতে বেরুই। গেস্ট রুমে বসে থাকার কোন মানে হয়? আগে মিথিলার ফোন আসতো। গেস্ট রুমে বসা- সেটা একটা মানে ছিলো। সেদিন ফতেয়াবাদে ট্রেনে শেষ দেখা। থাক, সেসব কথা ভেবে লাভ কী?
মেয়েটি আর ফোন করেনি।

রুমে ফিরি। মনে পড়ার তাগিদ। সামনে পরীক্ষা,পড়তে পারছিনা কিছুতেই। কিন্তু জুলফিকার হায়াত প্রায়ই ব্যস্ত। পড়ে। বারান্দায় দাঁড়ালেই তার রুম দেখা যায়। তাকিয়ে থাকি। কেউ একজন নিমগ্ন হয়ে পড়ছে, এটাই বোধহয় শিল্পোত্তীর্ণ ছবি। আচ্ছা, একটা ছেলে পড়ছে আইন কিন্তু তার পড়াগুলো ট্রেন হয়ে যাচ্ছে- এমন একটা ছবি ক্যানভাসে কেমন হবে? দেখি মনির মৃত্তিককে বলে।

অক্ষরগুলো এখন সুস্থ্য। স্কুল পরিদর্শকের মন পেতে ছাত্ররা মাথায় তেল দিয়ে আঁচড়ে পরিপাটি হয়ে লাইনে দাঁড়ায়, তেমন। পরিপাটি। চোখ পরিদর্শক। মনযোগ আহত করে পিঠের তিন ফুট দুরের টেবিল ফ্যান। যার নাম দিয়েছি হেলিকপ্টার ফ্যান। প্লাগ লাগিয়ে প্রথমে পাখা ঘুরাতে হয়, পরিশ্রম কমায় তেল। তারপর ঘচাং ঘটাং টানা শব্দে চলতে থাকে। পুরো ব্যাপারটাই বিরক্তিকর।
রুমমেট মুনির অযথাই তাকায়,আমি মনযোগের ভান করি। ভয় পাই যদি বইয়ের ট্রেনটি সে দেখে ফেলে!

ট্রেনটি এতোদিন ছুটতো নির্বাক সিনেমার মতো। এবার যোগ হয়েছে ফ্যানের শব্দ। শব্দ পাচ্ছি।
ঠক্কর ঠক্কর মমিনসিং
ঢাকা যেতে কতোদিন।
বই ছুঁড়ে ফেলি। পটাপট ছিড়ি চুল।
মৃদুল থামো। থামো বলছি। কী হয়েছে? এগিয়ে আসে মুনির। আমি কেবল তো তো করতে থাকি।

চট্টগ্রাম শহরটা আমার জন্য ভালো। পরিচিত কম,হাই হ্যালোর ধাক্কা নেই।নিজেকে বেশ ভিনদেশী ভিনদেশী লাগে, উল্টা পাল্টা ঘুরা যায়,ঘুরছি। পরামর্শটা মুনির দিয়েছিলো। বলেছিলো,শহর থেকে ঘুরে আসো,ভালোতো লাগবেই, পড়ায়ও মন বসবে। তাই মন ভালো করতে মাকের্টে মার্কেটে, রাস্তায় রাস্তায় ঘুরা। মুনিরকে অবশ্য জানানোই হয়নি, বইয়ের পাতায় পাতায় ট্রেন।
ঠক্কর ঠক্কর মমিসিং
ঢাকা যেতে কতোদিন।

মোড় ঘুরতেই নন্দন কানন। এখানেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থামে। এদিক ওদিক তাকিয়ে ঘড়ির দোকান চোখে পড়ে। সিদ্ধান্ত নেই কিনবো একটা।

একটু ফাস্র্ট দেখে একটা ঘড়ি দিনতো?
কেমন ঘড়ি?দোকানিটা অবাক হয়।
এমন হবে,চাবি দিলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্রুত চলবে ঘড়িটা।হাত নেড়ে ব্যখ্যা করি।২৪ ঘন্টায় ২৫ বার ঘুরবে। অর্থাত দিনে ২৫ ঘন্টা।
লোকটির ভ্রু কুঁচকে যাচ্ছে, ভাবছে হয়তো ছাগল দেখতে পেলো একটা।
তার মাথার ওপর মাধুরী। ঘড়ির দোকানে হাসিমুখের পোট্রেট্। অন্যরকম হাসি।

বাইরে এসে সন্দেহে পড়ি। পাগল ভাবলো নাতো? অথচ, বিষয়টা সহজ। ঘড়ি দ্রুত চলবে,দ্রুত। সময়ের চেয়ে একটু দ্রুত। ২৪ ঘন্টার স্থলে সময় দেবে ২৫ ঘন্টা। স্লো হলে যেমন কম দেয়। আইডিয়াটা অবশ্য দিয়েছেন রাকিব ভাই। পদার্থবিদ্যার তুখোড় ছাত্র। নিজের মাথা থেকে নাকি বই পড়ে আইডিয়া দিয়েছেন বোঝা মুশকিল।

ঘড়িটা আমার খুব দরকার। সময় মেপে পড়তে হবে। আচ্ছা, লোকটা কী কিছু ভাবলো? পাগল জাতীয়?
রাস্তা ফাঁকা। টুং টাং শব্দ তুলে দুয়েকটা রিক্সা যাচ্ছে। এই শহরে ঢাকার চেয়ে রিক্সা আনেক কম। খুবই ভালো ব্যাপারটা।
মৃদুল ...মৃদুল ...উড়ে এলো ডাকটা। একটা চলন্ত রিক্সা থেকে। নাসির। একসাথে বোঁধনে আবৃত্তির ক্লাস করি। কী ব্যাপার পরীক্ষা সামনে রেখে তুমি শহরে? গত দু্ই সপ্তাহে আবৃত্তির ক্লাসে আসোনি।পড়ার বাহানা দিয়ে ক্লাসে যাচ্ছোনা,এখনতো দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছো? কী ঘটনা,গার্ল ফ্রেন্ডের বাসায় গিয়েছিলে বুঝি?
এতোগুলো প্রশ্নবোধকের একটাই জবাব,ঘড়ি কিনবো। একটু ফার্স্ট হবে। বুঝলে দিনে ২৫ ঘন্টা সময় দেবে।
নাসির খুব মনযোগ দিয়ে আমার দিকে তাকায়। তারপর বলে, মঙ্গলগ্রহে চলে যাও। সেখানে দিন অনেক বড়।
তার মনযোগকে ভয় পাই।যদি বোঝে ফেলে,যদি শুনতে পায় ট্রেনের শব্দ।
সে অনেক কথা বলে,আমি হু হা জবাব দিই। একসময় ক্লান্ত হয় ছেলেটি। উধাও হয় রিক্সার ডানায় ভর করে।
আমি হলে ফিরি।
কমন রুমে ভিড়। রেসলিং। টেলিফোনের গোড়ায় ভিড়। প্রেম। কেন্টিনে ভিড়। আড্ডা। গেস্টরুমে ভিড়। রাজনীতি। ছাত্রদের রুমগুলো বেশ ফাঁকা। পড়ালেখা। আর আমার মনে বিরোধ। অক্ষরের সাথে।
সেই বিরোধ উপেক্ষা করে পড়তে বসি। সম্মতি যদি আইনের সমর্থন পায়...
হুইসেল। প্রথমে সম্মতি শব্দটি আইন শব্দটির সাথে ধাক্কা খায়। বগিতে উঠতে গিয়ে যেমনি ধাক্কা খায় ছাত্ররা। তারপর আইন দুলতে থাকে। যেমনি শ্যাটল ট্রেন দোলে নৌকার মতো। তারপর অক্ষরগুলো আলাদা হয়। ব্যকরণের নিয়ম ভেঙে। যে যার মতো ছুটাছুটি করতে থাকে বই জুড়ে। আমার ইচ্ছে হয় বইটি ছুড়ে ফেলতে। করিনা। বিরোধের একটা পরিণতি দেখতে চাই এবার। ট্রেনে চাপলেই যেমন ইচ্ছা হয় শেষ বগি দেখার। সবচেয়ে পেছনে, সবচেয়ে নির্জন জায়গাটায় বসে, মনের অনেক কথা বলার ইচ্ছেটা মিথিলাকে জানাতে দেরী করিনি । আমাকে ও পেতে চায় বলার পর ওটাই তাকে ঘিরে আমার রোমান্টিক প্রথম ভাবনা। ফলে, ট্রেনে চাপলেই সবচেয়ে পেছনের বগিতে, সবচেয়ে নির্জন বেঞ্চিটা একবার ঘুরে দেখার লোভ কখনোই জয় করতে পারিনা। সেদিনও পারিনি্। ফতোয়াবাদ জংশনে তাই লাফিয়ে ওঠি শেষ বগিতে। ধীর পায়ে যাই পেছনের বেঞ্চিতে।দেখি একটা মেয়ে ঝুঁকে আছে তার প্রেমিকের দিকে।মেয়েটির দীঘল কালো চুলে ঢেকে আছে মুখ। ঠোঁটগুলো একে অন্যের আশ্রয়ে। ভেজা।
চাকা ঘুরতে শুরু করে। ঘটাং ঘটাং। তীব্র হুইসেল। ঝাঁকুনিতে আশ্রয়হীন হয় ঠোঁট। আসে নিজ আয়ত্বে। সামান্য শব্দও হয় তাতে। ইচ্ছেও বোধ হয় কমে। দুধ থেকে সরিয়ে দেয় ছেলেটির আগ্রাসী হাত। তাকায় সামনে। বিস্ময় বিস্ফোরিত চোখে হতাশা ষ্পস্ট।

মৃদুল তুমি!
আমি মিথিলাকে পেছনে ফেলে বাইরে তাকাই ।

দেখি, দিগন্তে বিকেলের পড়ন্ত রোদ, খেলা করে মেঘের সাথে।

রচনাকাল:২০০০
@আনোয়ার সাদী
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadibd76/28843222 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadibd76/28843222 2008-09-14 22:22:53
দক্ষিণ মহল্লায় পুলিশের গাড়ি নামে যখন মেয়েটি বুঝতে পারলো নাম দিয়ে মানুষ মূলত: নিজেকে আলাদা করে তখন সে পাখি নামে পরিচয় দিতে শুরু করে। একসময় আকিকা দেয়া নামের চেয়ে পরিচিত হয়ে ওঠে তার নিজের দেয়া দুই অক্ষরের নাম। দুধে আলতা রঙের মেয়েটি তার পরিচয়ের দাপট দিয়ে দোয়েল ময়নাদের ফেলে পরিচয় সংকটে। এক সকালে দক্ষিণ মহল্লার সব মানুষ তাকে পড়ে থাকতে দেখে বাড়ির সামনে। উপুর হয়ে। মৃত। সেদিনও সবাই ভাবলো মেয়েটি কি তা হলে জীবনের শেষ মুহূর্তে ছয় তলার ছাদ থেকে নেমে এসেছিলো পাখির মতোই? হয়েছিলো কোন সে পাখি? নাকি সে দৌড় দিয়েছিলো আজরাইলের সাথে ?

পাখি কেন পালক ফেলে গেলে...


একটি শোক সংবাদ! একটি শোক সংবাদ! দক্ষিণ পাড়া নিবাসি কানিজ সুলতানা গত রাতে ইন্তেকাল...
কানিজ সুলতানা নামতো হারিয়ে গেছে পাখি নামের আড়ালে। তাহলে বলতে হবে দক্ষিণ পাড়া নিবাসি পাখি গত রাতে ইন্তেকাল করেছেন।
রাত কয়টায়?
জানা নাই।
এসময় তার বয়স হয়েছিলো ২৫।
২৫ বছর!
এতো কম বয়স!
কি হয়েছিলো মেয়েটির? অসুখ? কি অসুখ? কোন ডাক্তার দেখতো? জানিনা।
মৃতদেহ পাওয়া গেছে বাসার সামনে।
সুইসাইড নাকি?
তা হলে ঘোষণা হবে অন্য রকম।

একটি পাখি আত্মহত্যা করেছে। তার গায়ের রঙ দুধে আলতা।

এ পর্যন্ত ভেবে চোখের পানি মোছে রফিক। সকাল হতেই খবর ছড়িয়ে পড়েছে পথে পথে। দক্ষিণ মহল্লার শুরুতে আবুলের দোকান দখল করে যে বহুতল ভবন হচ্ছে, সেখানকার শ্রমিকরাও জানে। মহল্লার শেষ প্রান্তে লেকের পানি ছুঁয়ে যাওয়া সোনালি রোদ জানে তার হারিয়ে যাওয়ার খবর।

অনেক চেষ্টায়ও একটা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার খসড়া লিখতে পারেনা রফিক। অনেক প্রশ্নবোধকের ভীড়ে হারিয়ে যায় ঘোষণাটি।

কখন পড়লে ছাদ থেকে, রাত তখন কতো ?
কি ভেবেছিলে পড়ার আগে ? পানি খেয়েছিলে একগ্লাস? কেউ কি তাতে মিশিয়ে দিয়েছিলো একমুঠো লবণ ।

যেমনটি করেছিলো রফিক। তখন পাখি ক্লাস নাইনে। ঠিক কেন সে এসেছিলো রফিকদের বাড়ি, এখন আর তা মনে পড়ে না । কেবল মনে হয় পানি খেতে চেয়েছিলো মেয়েটি। আর রফিক তাতে লবন মিশিয়ে দিয়েছিল। লবনের সাথে মন। চায় পাখির মনযোগ কাড়তে। পুরো ব্যাপারটা কাউকে বুঝতেই দেয়নি মেয়েটি। মা ছিলো পাশে, বোনটাও ছিলো। কেবল একচিলতে তাকায় রফিকের দিকে। ঠোঁটের দুই কোণ বেয়ে বাতাসে হারায় সে হাসি। আজ এতোদিন পর রফিক ভাবে সেটা আসলে হাসি নয়, একটা পালক ফেলেছিলো পাখি।

এরপর আর কখনো রফিকদের বাড়ির দিকে আসেনি পাখি। কিন্তু রফিক পালকটা রেখেছে বুকে, রেখেছে যত্নে। যখনই মনে পড়ে লবন পানি মুখে নিয়ে, হাসি মুখে রফিকের দিকে মেয়েটির তাকিয়ে থাকা, হাসি মুখে সে পানিতে তৃষ্ণা মেটানো,বুকের ভেতর মোচড় দেয় একটা। চিনচিনে ব্যাথা লাগে। কি ম্যাজিক ফেলে গেলে মেয়ে?

কতো বড় হলে ছাদ খেলার মাঠ হয়...

পাখিদের ছাদটা বেশ বড়। এরশাদ আমলে কন্টাকটরির টাকায় বাড়িটা বানায় তারা বাবা। হাউজ লোন কিছু ছিলো তাও ইনকাম ট্যাক্স বাঁচাতে। এতো বড় ছাদই হয়ে ওঠে পাখিদের খেলার মাঠ। রুমকী, সুমি, সুলতানা কে না সময় কাটিয়েছে এই ছাদে। পুতুল খেলার স্বামী স্ত্রী সেজে পাখিকে প্রথম এখানেই চুমু খায় মুরাদ। সে নিয়ে অনেক দিন ক্ষেপিয়েছে পাখিকে। ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির পরও দেখা হলেই মুরাদ বলতো তুই আমার লেঙটা বেলার বন্ধু। মুচকি হাসিতেই জবাব দিতো পাখি। খুব মুডে থাকলে বলতো, তোকে কতো ছোট দেখেছি মুরাদ। বড় হয়েছিস তো?

সে ছাদে পখিদের সবচেয়ে প্রিয় ছিলো রেলগাড়ি রেলগাড়ি খেলা। সামনের জনের কাঁধে হাত রেখে দৌড়ানো । আর মুখে ছড়ার তুবড়ি। খোকন খোকন ডাক পারি বদলে যায় ক্লাস বাড়ার সাথে সাথে । সে খেলা পুরনো হয়নি কখনো। ভার্সিটিতে ভর্তির পরও সে খেলা জমতো বন্ধুদের সাথে দেখা হলে। তেমনি এক রেলজার্নির পর আচমকা একদিন সুলতানাকে ডেকে নিয়ে পাখি বলেছিলো, স্বামীকে নিয়ে এই ছাদে এক পূর্ণিমার রাতে ওপেন সেক্স করতে চায় সে।

এক ধরণের আমোদ লেগেছিলো সুলতানার । তারও মনে জেগেছে একই বাসনা । ছোটদের পতন ঠেকাতে বড় করে দেয়া এরশাদ আমলের গ্রিলে হেলান দিয়ে সে ভেবেছিলো আইডিয়া মন্দ না। মুখে বলেছিলো , ভালো কইসো দোস্ত। কিন্তু বাস্তব হইবো তো?

অমন রোমান্টিক না হলে বিয়েই করমু না কোন শালাকে। সাফ ঘোষণা দেয় পাখি ।

সে ছাদ আটকে রাখতে পারলো না পাখিকে! কি এমন হয়েছিলো তার! সব কথাতো তাকে বলতো পাখি। সেই প্রথম উরু বেয়ে রক্তের ধারা বয়েছিলো যেদিন পাখি মায়ের কাছে না গিয়ে ছুটে আসে সুলতানার কাছে।
তার সে কি ভয়!
সে কি বিস্ময়!
ভাগ্যিস নানি সেদিন ছিলেন। কত মধুর করেই না ভয় মুছিয়ে দিলেন তিনি। কি এমন হলো যে সুলতানাকে একটা কথাও বলতে পারলো না পাখি। দারুণ অভিমান হয় সুলতানার। ফোনে কথা বলতে চাইলে ক'দিন ধরেই বলতো ঘুমাবে সে। ঘুমের ওষুদ খেয়েছে। দুর্বল লাগছে। তবে কি দুর্বলতার জন্যই পড়ে গেলো পাখি। না কি নিজেই উড়ে নেমে যায় সে।
জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে সুলতানা। তাকায় আরো ওপরে। অভিমানে ঠোঁট কাঁপে। নিচে তাকায় না। তাকালে সে দেখতে পেতো এরই মধ্যে পাখির দেহ ঘিরে একটা জটলা জমে গেছে।

গাল বেয়ে নামে পানির ধারা। অভিমানে থেমে থেমে ফুলে ওঠে ঠোঁট। কিন্তু নিচে তাকায় না সুলতানা। তাকালে সে কি দেখতে পেতো, এরই মধ্যে দুয়েকটি মাছি উড়তে করতে শুরু করেছে মৃতদেহ ঘিরে।


বিবমিষা বিবমিষা লাগে...

মাইয়াডা আছিলো বালা । বাসমুতি চাইলের নাহান। কুনোদিন তারে সিনাটাইট জামা পড়তে দেহি নাই। সিগারেট এগিয়ে দিয়ে আগন্তুককে বলে মফিজ মিয়া। পাখিদের পাড়ার দোকানদার। আহা চুখের সামনে তরতর গাছের মতন বড় হইলো মিয়া, কুনু ফাউল করে নাই,আসতে যাইতে সালাম কইতো। আল্লা তারে বেহেস্ত নসিব কইরো।

আগন্তুক সিগারেটে আগুণ দিয়ে বিদায় নেয়।

কোন সন্দেহের মুখে না পড়ে এতগুলো কথা শুনে আপ্লুত হয় আগন্তুক। একটু এগিয়ে সদর রাস্তা থেকে নেমে একটা নারিকেল গাছের নিচে দাঁড়ায় সে। তারপর মফিজ মিয়ার দোকানের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে , শালা সিনাটাইট দেখে নাই! দেখছে নাকি শালা কোনদিন, সুপারি গাছে ডাব!
সেলফোন তার স্বগোক্তিতে বাধা দেয়।
পাইছোস ?
না।
কই এখন ?
বাসার সামনে পড়ে আছে।
মোবাইল কই ?
জানিনা। ধারে কাছে নাই। মোবাইল হাতে নিয়া পড়লে এতোক্ষণ থাকার কথা না । নকিয়া এন ৮১ । দাম আছে।
তোরে শালা আগেই কইছিলাম ফাইলটা দিস না । ব্লু টুথ ব্যবহার শিখাও এইবার! শোন ববি, পুলিশের হাতে যদি ফাইল পড়ে তাইলে ল্যাওড়া তোর পাছায় ডুকাবে।
শোন রাজু, বাজে কথা বলিস না। গ্রুপ সেক্স করার আইডিয়া তোর।
পাখির সম্মতি ছিলো।
মোটেও না। সে অংশগ্রহণ করে নাই। চেপে বসেছিল।
তলা ভিজেতো বঙ্গোপসাগর হয়েছিলো।
অসম্মতিতেও শরীর জাগতে পারে। এখন বুদ্ধি বের কর বাঁচার ।
আমি রাখি ।

সিগারেটের স্বাদে বিবমিষা লাগে ববির। সে কি সত্যিই ভালোবাসতো পাখিকে। তা না হলে দিনের পর দিন ফোন দিয়ে কেন তার মনোযোগ কাড়লো। কতজনই তো তারা একক্লাসে পড়ে। অন্য কারো কাছে কেন যায়নি সে? ববি নিজের কাছে জানতে চায়। কেন সে রাজুর সাথে শেয়ার করলো পাখিকে?
মন্টিকে একবার পেতে।
সেদিন ববির শোবার ঘরে রাজুকে দেখে খুব অবাক মানে পাখি। বিস্ময়ের ঘোর কাটার আগেই পাখির উরুসন্ধিতে মুখ ডুবায় রাজু। পেশির টানে ফর ফর করে ছিঁড়ে যায় কটনের পাজামা।
আর মন্টিকে পাবার আশায় মোবাইলে রেকর্ড করে ববি। এ হোম মেইড লাভ শো।
সেটা পাখিকে ট্রান্সফার করেছে ববি। সে তো মাসতিনেক আগে। এখনও কি তা আছে মোবাইলে?

শার্ট ভিজে গায়ের সাথে লেপ্টে যায়। পেটের ভিতর মোচড় দিয়ে ওঠে তার।
ওয়াক...
পেট চেপে বসে যায় সে।
এই কুত্তা সর।
ওয়াক...
এই ..ওয়াক .. একটা লোম ওঠা নেড়ি কুকুর এসে ববির বমি খেতে থাকে।

দোকান বন্ধ করে দাও...লোকসান অইবার পাড়ে। তারপরও দোকান বন্দ করি দাও মিয়া। আমি মফিজ চাচা যুদি আইজ বেচি, পাখি মা আমারে মাফ দিবোনা। আহা কতো বালা আছিলো মায়াডা। কুনুদিন সিনাটাইট জামা পড়ে নাই। আসতে যাইতে ফাউল করে নাই। সেলাম কইতো ...

মফিজ মিয়ার সাথে পা মিলিয়ে পথে নামে রফিক। সুলতানা তাকায় নিচে।
দেখে সাইরেন বাজিয়ে পুলিশের গাড়ি ঢোকে দক্ষিণ মহল্লার নীরবতা ভেংগে...
@আনোয়ার সাদী।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadibd76/28836822 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadibd76/28836822 2008-08-30 22:50:54
কঠিন জিনিসের সাথে এখন

চদু আবারো প্রমাণ করলো তার নাম ঠিক আছে।

ঘটনা ঘটেছিলো শ্যালের নিচে, নাহার প্লাজা থেকে একটু দুরে।
এই ভাই শোন..
চদু থামে । দেখে তার সামনে তিনটি সাপ। আর তাদের লকলকে জিহ্বা । লেজগুলো বাক্সে । কাঠের। আর দেখে তিনজোড়া হাত। আঁকড়ে আছে বাক্সগুলো। তা বেয়ে চোখ যায় হাতের উৎসে। কিছুক্ষণ আনমনা হয় সে। তারপরই নড়াচড়া বন্ধ করে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তায়।

কেননা সাপে তার ভীষণ ভয়। প্রতি বর্ষায় ঘরের চার কোণায় কার্বলিক এসিড না রাখলে ঘুম হয় না চদুর । সে সব দিনে মশারীতেও ভরসা থাকেনা তার ।

যার ভয়ে এতো সাবধানতা সে যদি সামনে আসে তো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কি করতে পারে চদু

যতই হাতকে বলে নড়ো বাপধন, হাত কি তখন নড়ে? ভোঁ একটা দৌড় অবশ্য দেয়া যায়। কিস্তু এরই মাঝে যদি কামড়ে দেয় সাপগুলো । কিছু কিছু সাপতো আবার উড়তেও পারে। বেদেদের হাতে কুফরি কালাম যাদু মন্ত্র কতকিছুই তো থাকে।
তারওপর ওরা তিনজন রমণী। সাপের মতোই বাঁকা তাদের কোমর। ছোবলের মতোই শিরশিরে তাদের নিঃশ্বাসের শব্দ। লকলকে জিহ্বার মতোই নড়ে তাদের চোখের মনি। আর হাসি আর হাঁটার থমক আর বুক ঝাঁকিয়ে রাস্তা শাসন করার ক্ষমতা!
কোনটা যে কোনটা থেকে কম_ বলা মুশকিল । তার ওপর যুবতী রমণী। একেবারে গরম চায়ের মতো ।ভাবে চদু।
যদি পুড়িয়ে দেয়।

কি চান ?
পাঁচটা ট্যাকা দে।
সাপ সরানতো ।
সরামু আগে পাচ ট্যাকা দে।
কেন ?
ল্যাংড়া মাইয়্যার বিয়া, বিয়ার শাড়ি কিনমু । তোর যদি একটা বোইন থাকতো তাইলে কি তুই, না করতে পারতি? দে পাঁচটা ট্যাকা দে ।

তিনটি যুবতী মেয়ের মাঝে হেবলার মতো দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে পাঁচ টাকা দিয়ে দেয়াই সবচেয়ে সহজ সমাধান মনে হয় তার।
তাই মানিব্যাগ বের করে সে।

ভাঙতি দিস না । একশো টাকার নোট দে । আমি ভাঙতি দেই।
ঠিক আছে ।

মানিব্যাগে রাখা বেশ কয়েকটি একশো টাকার নোট থেকে একটি তুলে নেয় চদু।
সাপ সরান ।
সরাই, বলে সাপের বাক্স থেকে কতগুলো কাগুজে নোট বের করে নাকে নথ লাগানো মেয়েটি। তারপর ভাঁজ করে। দুই ভাঁজ চার ভাঁজ আট ভাঁজ ষোল ভাঁজ বত্রিশ ভাঁজ।
চদুর একশ টাকার নোটও হাতে নিয়েই ভাঁজ করতে থাকে মেয়েটি। দুই চার আট বত্রিশ।

নতুন নোট দে।
আপনি ভাঙতি দেন।
নতুন নোট দে
নতুন নোট নাই
তোর ব্যাগে দেখছি ওই নোটটা দে।
ঠিক আছে এবার ভাঙতি টাকা ফেরত দেন।
ভাঁজ করা টাকাটা সাপের বাক্সে পুরে দিতে দিতে শ্যামলা মেয়েটি বলে রাগ করিস না । বোনের বিয়ার শাড়ি কিনমু ।
এটা তো প্রতারণা । জানেন এর জন্য জেল হতে পারে আপনার ।
চদুর ইচ্ছে হয় ছোঁ মেরে টাকাটা ছিনিয়ে নিতে। কিন্তু তার সাহস হয়না সাপের বাক্সে হাত দিতে । এর চেয়ে তার কাছে সহজ রাজপথে মেয়েটির বুকে হাত দেয়া ।

পাঁচ টাকা রেখে বাকী টাকা ফেরত দেন ।
রাগ করিস না ।
চদু দেখে সাপের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ। আর তা ধরে আছে পাঁচটি হাত। সাপের ময়লা লেগে থাকা অপর পাঁচটি হাত ছুটে আসছে তাকে সান্ত্বনা দিতে।
ভেতরে ভেতরে জমে যায় চদু ।

থাক লাগবেনা ।
শ্যালে পার হতে না হতেই চদুর পিঠে আছড়ে পড়ে কতগুলো শব্দ।
রাগ করিস না । বোনের বিয়া। তোর বোন হলে কি করতি?

কঠিন জিনিসের সাথে আছি এখন...

এই, এখন তুমি কই?
বিগ বাইটে।
ওহ, বাইট পারো সোনা , কই, কোনোদিন দিলা নাতো । কি বাইট করো ?
বার্গার ।
চিকেন খাবানা, ফ্লু আছে। বিফ খাও। আচ্ছা বার্গার খাও কেনো । ভাত খাবা না ?
না ।
কেন ?
এমনি।
ঠিক আছে, খাইতে মন না চাইলে, না খাবা । আর কিছু ? চুপ কেনো? কথা কও ।
দশ মিনিট পরে ফোন করো, ইলোরা ।
আচ্ছা ।

এসিতে বসেও ঘামে চদু। দুইশ টাকা! পাঁচ টাকার বদলে দশ টাকা হতে পারতো । বিশ টাকা হতে পারতো। পঞ্চাশ হলেও মানা যায়, একেবারে দুইশ! গলা দিয়ে নামে না বার্গার। বরফ ঠাঁন্ডা কোমল পানীয় কমাতে পারেনা উত্তেজনা। তখনি ইলোরার ফোন। আবার।
মাত্র এক সপ্তাহের পরিচয়। তাই ধরতে হয়। নতুন বন্ধুদের বেশী সময় দিতে হয়। না হলে বন্ধুত্ব আঠাঁলো হয়না। এটাই বন্ধুত্বের নিয়ম বলে মানে চদু।
হ্যালো বলো
বাইট শেষ সোনা।
না।
কেনো।
খাওয়ার ইচ্ছা নেই।
বার্গারে তেলাপোকা পাইছো?
না ।
তালে?
বেদে মেয়েদের পাল্লায় পরছিলাম।
ওদের কাছে কেন গেছিলা। খুব সেক্সি নাকি?
কি যে বলো! কথার কোন স্টেশন নাই ।
আচ্ছা বলো।
আচমকা ধরলো। কয় পাঁচ টাকা দে। ভাংতি দিস না। একশো টাকার নোট হাতে নিয়া কয় নতুন আরেকটা নোট দে।
দিলা?
দিলাম।
চাইলেই দিবা?
হু।
কেন?
ওমা বললো যে বোনের বিয়া। আর বেশীতো চায় নাই। পাঁচ টাকা।
তুমি একশ টাকার নোট দিলা ক্যান?
কইলো যে ভাঙতি দিস না।
তুই কইরা কইসে?
হা।
আর পইটা গেলা। মেয়ে দেখলে গরম হইয়া যাও।
ওহ ইলোরা!
ছোঁ মাইরা টাকাটা ফেরত আনলা না কেন? বুকের ভাঁজে রাখছিলো?
না, সাপের বাক্সে রাখছিলো।
টাকা দিয়া মন খারাপ?
না, ভয় লাগতাছে।
ভয় লাগতেছে?
হু।শরীর কাঁপতাছে।
আসো সোনা তোমারে জড়ায়ে ধরি। আমার গরমে কাঁপুনি থামবে।
ওহ, কিসব বলো! সময় জ্ঞান নাই তোমার।
কেন আশে পাশে তো সব সুপারি গাছে ডাব। তোমার যা চোখ। ডাব দেইখাইতো দোকানে ঢুকো। ঠিক আছে, কিন্তু চাইলেই টাকা দিয়া দাও তুমি, এটা কেমন কথা_ মাই সিজলিং ডিয়ার।

কেন দুই দিন আগে না ডিডি থেকে একটা ড্রেস কিনে দিলাম তোমাকে।
হু। মনে পড়ছে সোনা, আরো চাইলে দিবা?
দিবো।
এক কোটি টাকা চাইলে দিবা?
এক কোটি টাকা নাই ।
এক লাখ দিবা?
দিবো।
আরে আমি এখন দেখি একটা কঠিন জিনিসের লগে আছি। অতো বেশী লাগবোনা। দশ হাজার দিবা? চুল রিবন্ড করবো।
দিবো।
বিকালে আসতেছি । গরম হইয়া থাইকো সোনা । ওমমমমমমা ।

লাল কান নিয়ে বাইরে আসে চদু। এটিএম বুথে যেতে হবে। ভালোবেসে মানুষ জীবন দিয়ে দেয়। এতো সামান্য টাকা।

বিকেল মানে র্টাগেট প্রাকটিস...

কয়টা বল ফুটাইতে পারলা সোনা। গলার স্বরে তুমুল আবেদন এনে জানতে চায় ইলোরা। লাল রঙের বেলুনের দিকে এক চোখে তাকিয়ে এয়ার গানের পিচ্ছিল ট্রিগারে আলতো একটা চাপ দিয়ে চদু বলে পাঁচটি।

পাঁচ টাকায় ছয়টি বেলুনের বল ফাটানোর সুযোগ নেয়া যায়। পার্কে এলে চদুর এই হবি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। লালহলুদনীল বল । ফটাস ফাটাও।

মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করতে করতে চদু বলে, বাসায় যাবা?
ইস পাগল। তর সয় না । বন্দুকে পারো নাই এখন ইসে দিয়া ফুটাইতে চাও? কইলাম না এখন প্রবলেম আছে। যেদিন যামু দেখমুনে কেমন পারো। আমার কিন্তু সব কিছু বেশী লাগে।

এয়ারগান অলা মুচকি হাসে । তার পান খাওয়া ক্ষয়ে যাওয়া লালচে দাগ বের হয়।
চলো। সিএনজি নাও। এখানে অনেক লোক।
চলে যাবে?
না ।
তাহলে ?
ঘুরবো । আর দেখবো কতো টার্গেট তুমি প্যাকটিস করতে পারো।
মানে কি?
সিএনজি ডাকো? বোঝবা।

ইলোরার কারণেই সিএনজি পাওয়া সহজ হলো । ও সব পারে। ও পাশে থাকলে দুনিয়া সহজ মনে হয় চদুর । এই যেমন ইলোরা ঠিক করে ফেলতে পারে কোন হোটেলের কোন খাবারটা ভালো। এক ঘন্টায় রিক্সায় চড়লে কতো দিতে হবে। কোথায় নতুন কি ড্রেস এলো ইত্যাদি।
আরে সোনা দুরে বসে কি দেখো?
মানুষ দেখি রাস্তা দেখি গতি দেখি গতিই জীবন।
কতো বোঝো তুমি। হাত ধরো।

চদুর বুকের ভেতরে একটা মোচর দেয়। ভরদুপুরে গভীর দীঘির শান্ত পানির মতো স্থিরতা নেমে আসে তার শরীর জুড়ে। বেড়াল ছানার মতো একটু ঘেঁষে আসে ইলোরা। শান্ত পানিতে ঢিল পড়ে। ঢেউয়ের বৃত্ত তৈরী হয়। একটি ঢেউ আরেকটিকে ছাড়িয়ে যায়। ঠোঁট আশ্রয় নেয় অপর ঠোঁট জোড়ার মাঝে।
চদুর হাত হয় কর্মির হাত।
শোন
বলো
কি করে বলি। অনেক দ্বিধা আছে মনে। আগে প্রমিজ করো আমাকে খারাপ মেয়ে মনে করবেনা।
আহা, তুমিতো খারাপ মেয়ে না।
না, প্রমিজ করো আমাকে খারাপ মেয়ে মনে করবেনা ।
জড়িয়ে বুকের সাথে পিষতে পিষতে চদু বলে তোমাকে ছুঁয়ে বলছি আমি তা মনে করবো না।

আমার আসলে কিছু টাকা লোন লাগবে। ব্যপারটা পার্সোনাল তাই বাবাকে বলতে পারছিনা। আবার ব্যাংক থেকে লোন পেতেও কমপক্ষে এক সপ্তাহ লাগবে। তুমিতো কখনো জানতেই চাইলে না, কি করি আমি। ঐ যে দেখছো অফিসটা_এতেই আমার কাজ।

সিএনজির ভট ভট শব্দের কাছে নিজের দীর্ঘ বাক্য সমর্পন করে উদাস মুখে বাইরে তাকিয়ে থাকে ইলোরা।

তা মানতে বুক ফেটে যায় চদুর । সামান্য কয়টা টাকার জন্য পৃথিবীর সবচে মনোরম মেয়েটি এতো কষ্ট সইবে। পঞ্চাশ পঞ্চাশ করে দুইটা ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে এখনই টাকাটা দিয়ে দেয়া যায়।
এই যে চাচা মতিঝিল চলেন।
এই না কইলেন মিরপুর?
দুর চাচা মতিঝিল চলেন তো। পোষায়া দিবো।

শোন, কাল দিলেও হবে। কাল তোমার বাসায় যাবো। তুমি কিন্তু প্রটেকশন রাখবা। দেখো, বাতাস ঢুকে যেন ঝামেলা না করে। রিহার্সেল করে রাখবা। অবশ্য প্রথম দিন চিঠিটা ভেতরে পোস্ট করার সুযোগ দিলেই ভালো হয়। এই তুমি কি বলো?
তোমার যা মর্জি। ওই দেখো এটিএম বুথ দেখা যাচ্ছে।
একবারও জানতে চাইলা না টাকাটা কী করবো ?

টেকনাফ থেকে তেতুঁলিয়া পর্যন্ত ছড়ানো হাসিতে চদু বললো, এই না বললা পার্সোনাল কাজ করবা।

শুধু তোমার দেখা নাই...

সকাল থেকে যদি কারো ফোন বন্ধ থাকে আর মনের ভেতর যদি আকুলতা বাড়তে থাকে তবে কি করে চদু
কোথায় যায় সে? চদু বসে থাকে ঘরে।
একদিন দুইদিন তিনদিন চারদিন পাঁচদিন।
আর কয়েক হাজার বার চেষ্টা ।
দুঃখিত এই মুহূর্তে সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

মনে এক দরিয়া তুফান নিয়া কি করে চদু
চদু বেইলি রোডে যায়। ফুচকা খায়। এখানেই ইলোরার সাথে তার প্রথম দেখা।
সবাই আসে। শার্ট প্যান্ট। পায়জামা পানজাবি। স্কার্ট টপস। সালোয়ার কমিজ । টুপিস থ্রি পিস। শাড়ি ব্রা।

কিন্তু ইলোরা আসেনা।

মনের দরিয়া ফুঁসে। চোখের কোণা ভাসে। মন যদি ছেঁড়া টেলিফোনের তার হয় তবে কি করে চদু

চদু ইলোরার দেখানো অফিসে যায়। সবাই আসে। চেয়ারম্যান এমডি ডিরেক্টর সেক্রেটারি কেরানী পিয়ন চাপরাশি অফিসার লেডি অফিসার।

কিন্তু ইলোরা আসেনা । নামের সাথে মেলে না । বর্ণনায় মেলে না।

এখন কি করে চদু
চদু গান গায়।

"নতুন প্রেমে মন মজাইয়া,
নতুন প্রেমে মন মজাইয়া
করলাম আমি একি ভুল...

লাভের মাঝে কি লাভ হইলো গলাতে কলংকের ঢোল"...
সমাপ্ত।
মে ২০০৮।আনোয়ার সাদী ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadibd76/28828873 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadibd76/28828873 2008-08-09 00:01:14
এর পরদিন আমার পরীক্ষা ছিলো আগামীকাল আন্তর্জাতিক আইনের পরীক্ষা। পড়ছি। বিষয়টিও বেশ মজার। রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক ও নিয়ন্ত্রণবিধি। আচরণ কেমন করে প্রথা হয়, প্রথা কেমন করে হয় আইন, এসবই এর বিষয়। এমন সময় দরজায় ঠক ঠক শব্দ হলো।

কে? হুংকার দিলাম। বিরক্তও হলাম। ফাইনাল পরীক্ষার এসময়ে বন্ধুরা অযথাই আসে। নানা পরিকল্পণার ফানুস উড়িয়ে সময় নষ্ট করে। গত রাতে এই কাজটি করেছে তুষার। রাত দুটোয় এসে, গেছে ভোর পাঁচটায়। সকালে তাই দরজায় একটা সাইনবোর্ড দিয়েছি। তাতে লিখেছি , সামনে পরীক্ষা আসুন আড্ডা মারি। আসুন শব্দটা লাল কালিতে মোটা করে লেখা। যেন লজ্জায় কেউ না আসে।

ঠক ঠক শুনে মনে হলো তাতে কোন কাজ হয়নি।
কে?
আমি গার্ড স্যার ।
কি চাই ?
আপনের ফোন আইছে।
কোত্থেকে?
ঢাকা।

সুতরাং উঠতেই হয়। বাড়ি থেকে ফোন। একবার মনে হলো যাবোনা। বন্ধুরা মজা করছে। এমন অনেকবার হয়েছে। গার্ড বলে, রফিক ভাই আপনের ফোন । লেডিস হল থেইকা। পরে দেখা যায় বোগাস। আবার ভাবলাম যাই। গুরুত্বপূর্ণ কিছু হতে পারে।

পাঁচতলা থেকে নামি। গার্ড আমার সাথে পাল্লা দিয়ে নামতে পারেনা। হাঁপায়। সিড়ির গোড়ায় আছড়ে পড়ে বাঁশির শব্দ। উৎস টিভি রুম। সে শব্দ ক্রমশ বিলীন হয় ঢোলের শব্দে। দুর্গা পূজায় যেমন তাল তোলে ঢুলিরা তেমনি।
একচকিতে টিভির পর্দা দেখতে পাই। তাতে একটি রিক্সার চাকা ঘুরছে। মনযোগ কাড়ে । দাঁড়াই । তখনই নেতা গোছের একজন বদলে দেয় চ্যানেল। শুরু হয় দিলবর দিলবর। আমি গতি বাড়াই ফোনের দিকে।
ফোনের চারপাশে ভন ভন করছে কয়েকজন। ছাত্রী হলে লাইন লাগাবে। সরে না । তাই রিসিভার হাতে নিয়ে বলি, প্রাইভেসি লাগবে।

ছেলেগুলো যতদুরে সরে গেল, তারচেয়ে বেশী সতর্ক করলো কানকে। কি জানি কারো প্রেমিকা চান্সে প্রেমালাপ করে কিনা।

হ্যালো রফিক বলছি।
শোন রফিক , খবর ভালো না।
কে বলছেন ?
তোর ভাই । চিনতে পারস নাই? মার শরীর খারাপ।
কিন্তু কন্ঠ এতো অচেনা লাগছে কেনো! কি হয়েছে মার?
মার অবস্থা ....
লাইন কেটে যায়। ফোনের ওপ্রান্তে টো টো ধাতব শব্দ। যেন নীরবতা ভাঙা গির্জার ঘন্টা ।
এক্সচেঞ্জ ট্রাই করে এতো করে বোঝালাম দরকারটা। ওরা বোঝলো ছাত্রদের তৃতীয় হাতটার নাম অজুহাত।

ফোন ছেড়ে সিঁড়িতে কিছুক্ষণ বসে থাকি।
দিলবর দিলবর গান বাজতে থাকে।

গত বন্ধেও মাকে সুস্থ্য দেখে এসেছি। কীহলো এই অল্প সময়ে। কারো সাথে পরামর্শ করা গেলে ভালো হতো । প্রথমেই যার নাম মনে পড়লো, সে তো আমার দিকে নিষ্পলক তাকিয়ে গলা একদম না কাঁপিয়ে জানতে চায়, তিন ভূবনে আমার কেউ আছে কি না?
তাকে ফোন করলে, এর কী অনুবাদ হবে জানিনা। তারপরো পথে নামি। একই সাথে নিজের ভেতর গুটিয়ে যাই। এতো রাতে ভদ্রলোকের মেয়েকে ফোন করে সমস্যায় টেনে আনা ঠিক হবেনা। তারচেয়ে বরং ঢাকা চলে যেতে পারলে মাকে শেষবারের মতো দেখা যাবে।

ট্রেনতো ছেড়ে গেছে সেই পৌঁনে নয়টায়। সাড়ে নয়টায় যে টিচার বাসটা যায়, যেখান থেকে বেছে বেছে ছাত্রদের ধমকি-ধামকি দিয়ে নামিয়ে দেয় শিক্ষকরা , সেটাও এতোক্ষণে শহর ছুঁই ছুঁই। কোনভাবে শহরে পৌঁছাতে পারলে না হয় বাস ট্রাক একটা কিছুতে করে ঢাকা যাওয়া যাবে।

কিন্তু পরীক্ষা ছেড়ে যাবো কি না সে সিদ্ধান্ত কার সাথে আলোচনা করে নেই? ক্লাসমেটদেরও পরীক্ষা। আঁকিয়ে বন্ধুদের প্রায় সবাই থাকে শহরে। হলে যে দুয়েকজন ক্লাসমেট থাকে তাদের বোঝানো গেলনা সমস্যাটা । তারা মনে করলো সময় নষ্ট করার নতুন ফন্দি এটেছি আমি। চোখ উল্টে একজনতো বলেই দিলো , ছয় মাস আগে সিলেবাস শেষ করে রফিক গায়ে হাওয়া লাগাচ্ছে। এখন এসেছে আমাদের ফেল কনফার্ম করতে।

ক্লাসমেটদের প্রতি তীব্র অভিমান হলো আমার। চার বছর একসাথে পড়লাম অথচ আমাকে বোঝার চেষ্টা করলো না তারা!

অযথাই হলের এমাথা ও মাথায় দুই চক্কর দেই । বুঝতে পারিনা কী করবো।

রুমমেট গেছে রাঙামাটি। ধান ছিটিয়ে যে চড়াই পাখিটাকে লোভ দেখাই প্রতিদিন, সেটিও আজ আসেনি। উদ্বেগ আর সিদ্ধান্তহীনতায় ঘামি। বাকী ক্লাসমেটদের রুমে না পেয়ে ঘাম আরো বাড়ে। চিকন ঘাম বলে যে একটা বস্তু আছে তা টের পাই এই প্রথম ।

সেই সাথে মাকে মনে পড়লো ।
ঘুম পাড়ানি মাসি পিসি মোদের বাড়ী এসো । বাটা ভরে পান দিব মুখ ভরে খেয়ো।
মায়ের পানের বাটাটিও পিতলের।

আহা আর বেশী ভাবা গেলো না। চিন্তার সুতা কেটে যায় কেবলি। মা মারা যাচ্ছে। আর আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারছিনা। কী করবো। মা নাকি পরীক্ষা?

একবার ভাবি পরীক্ষা দেবনা। ভবিষ্যৎ ভাবনাটা মাথায় আসতেও দেরি হয়না। সামনে ইলেকশন । সরকার ফল করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা কী হবে বলা মুশকিল। চার বছরের শ্রম নষ্ট হবে।

তখনই আবারো মার কথা মনে পড়ে। তিনি বলেন, রফিক সোনামনি, বিচারপতি হয়ে একদম নিরপেক্ষ থাকবে কিন্তু। নিরপরাধ যেন সাজা না পায়। কথায় কথায় তৈরী মায়ার বাধনে ব্যাকুল হই আমি।

আমি মূলত একটা সিদ্ধান্ত নিতে চাই । পরীক্ষায় বসবো নাকি মাকে দেখতে ঢাকায় চলে যাবো। একটা নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়ার কঠিন এই সময়। যদি কোন কারনে সিঁড়ি থেকে পড়ে হাত পা মাথা ভেঙে ফেলতাম তবে কি পরীক্ষার কথা ভাবতাম আমি? না মোটেই না।
কেউ যদি নল ঠেকিয়ে বলে পরীক্ষা দিস না, কী করার থাকে আমার? ড্রপ দেয়া ছাড়া।

যাহোক, কাপালে যাই থাকুক পরীক্ষা দেবো না।

কিন্তু এটাই শেষ পরীক্ষা। এরপর চাকরী, কোর্ট, টাকা ,একটা বাসা , আর অহংকারি মেয়েটাকে কবুলের সুতোয় বৌ বানিয়ে রঙ্গিন একটা জীবন। বিছানায় শুয়ে থাকবে আমাদের বাচ্চাটা। আমরা দাঁড়াবো বেলকনিতে। চাঁদের আলো, নারকেলের পাতা পিছলে পড়বে আমাদের গায়ে। ও আমার হাত ধরবে । অস্ফুটে বাজবে রবীন্দ্রনাথ। ভালোবাসি ভালোবাসি।

স্বপ্নটা মিলায় বাতাসে। ভাসে মায়ের মুখ । যার জন্য এই পৃথিবী দেখা তার মৃত্যুর সময় আমার সুখ কল্পণা!

সুন্দর কদাকার সহজ জটিল প্রতারক পৃথিবীতে নাড়ির বাঁধন ব্লেডে কেটে দিলেই কী সব কাটা যায়?

কী করবো আমি ?
মা
না ভবিষ্যৎ
না মা
ভবিষ্যৎ
মা
ধুৎ
যেখানে প্রতিটি সেকেন্ডের মূল্য জীবন দিয়ে দিতে হয় সেখানে এতোটা সময় কেবল ভেবে ভেবে পার করা উচিত না। গোল্লায় যাক আমার পরীক্ষা। গোল্লায় যাক আমার ভবিষ্যৎ । আমি পরীক্ষা দেবোনা। ঢাকা চলে যাবো। মায়ের যদি কিছু হয় অন্তত শেষ দেখাটা দেখতে পাবো।

দ্রুত পাঁচ তলায় যাই । লকার থেকে টাকা নেই। সাথে দুচারটা কাপড়। হাতল টানতেই আইনের বইগুলো যেন কাঁদে।

অনিশ্চিতের পথে যাওয়া ভীষণ কঠিন।

সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামি । হাতঘড়িতে সাড়ে দশটা। মেইন গেইটে পাহারাদার। পোষাকী এবং ছাত্র।
এতো রাইতে যান কই?
যেন পরীক্ষার ভাইবা।
আমি উতরে যাই । কোন রকম ঝামেলা ছাড়া। পথে নামি । হলের সামনের দোকানগুলো এরইমধ্যে বন্ধ। ল্যাম্পপোষ্টের আলোতে পাতাদের সারি সারি ছায়া আন্ধকারকে ফিকে করে অবহেলায় শুয়ে আছে রাস্তায়। দিনে ঝরা পাতা মাড়িয়ে স্টেশনে পৌছি। সেখানে একটা রিকশা থেমে। তাতে মিটমিট করে জ্বলে হারিকেন। অদূরে মেহগনি গাছটার নিচে কাদের যেন জটলা। ডাইলখোর কেউ হয়তো হবে। আমি রিকশাচালককে ইঙ্গিত দেই।
যাবেন?
জটলা নড়ে ওঠে।
আরে রফিক, কই যাস?
সমস্বরে জানতে চায় ওরা। তিনজন। আমার অন্য হলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এতক্ষণ এদের আমি খুঁজেছি।
ঢাকা যাই।
ক্যান?
ওরা মূলত: জানতে চায়।
এতো চাপ আমার শরীর আর বইতে পারছিলো না। লুকিয়ে শার্টের হাতায় চোখের পানি মুছে, বাষ্পীভূত গলায় বললাম - আমার মা বুঝি বাঁচে নারে।

হা হা হো হো (প্রচন্ড ) শব্দে ওরা হাসতে থাকলো। তারপর তলপেট দুহাতে চেপে এদিক-ওদিক নিজের চারপাশে ঘুরতে থাকলো আর হাসতে থাকলো আর ঘুরতে থাকলো আর হাসতে থাকলো।
ওদের একজন বললো নতুন মোবাইল নিছি দোসত্ । তোর লগে একটু জোকস করলাম। তোর মার অসুখের ভুয়া খবর দিয়া।

এইবার আমি আর গোপনে নয় প্রকাশ্যে চোখ মুছলাম।

সমাপ্ত
এই গল্পটি ২০০২ সালে খবরের কাগজে প্রকাশিত হয়েছিলো- আনোয়ার সাদী।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadibd76/28827460 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadibd76/28827460 2008-08-04 23:56:03
একজন প্রেমিকের কর্মতৎপরতা আমি আনমনে হাঁটছি আর হাঁটছি। সড়ক দ্বীপ পেরিয়ে মাঠ, মাঠ পেরিয়ে বালু এবং তারপরই আচমকা সমুদ্র। সমুদ্রে আমি নামবো না। পানিতে খুব গা চুলকায়। তারচেয়ে বালুতে বসে থাকা ভালো।

মরুভূমি কিংবা সমুদ্র একই কথা, যে দেখেনি তার কাছে।
কিছু গল্প, কিছু অনুমান মিলে একটা ধারণা। ব্যাস । কমনরুমে বসে নায়িকাদের উত্তাপে গলে মাটি হওয়া আর বাতাসে ভেসে পানি হওয়া একই কথা কি? এই দুটোর সাথে মিল কোথায়? তা হলে মরুভূমি এবং সমুদ্রের পার্থক্য কেউ জানেনা । আমি তা জানি।

এই একটি পার্থক্য আমি খুব মনযোগ দিয়ে মুখস্ত করেছিলাম, কিন্তু পরীক্ষায় আসেনি। অপেক্ষায় আছি, মৌখিক এ অবশ্যই জানতে চাইবে। আমি বলবো ছোট চুলের অপূর্ব মেয়েটিকে ভালোলাগে বলার ইচ্ছের নাম মরুভূমি। এর বৈশিষ্ট্য শূন্যতা এবং পাওয়ার আকুলতা। আর রুপবতীকে সামনে বসিয়ে বলতে চাই, দিই মেয়ে, তোমার নাকে নাকটি ঘষে,ঠোঁটে ঠোঁট লেগে গেলে কিছু মনে করোনা। আমি জানি এই বলার পর পৃথিবীর সব মরুভূমি মুছে যাবে। থাকবে সবুজ ঘাসের কার্পেট। সেই কার্পেটের ওপর হাঁটুমুড়ে বসে থাকা পানির নাম সমুদ্র।

ব্যখ্যাটা সবাই বুঝতে পারেনা। তাই মুখস্ত করে। ২০ মার্কের জন্য।

তবে মুচকী হাসি দেয়া অপরাজেয় বাংলার মেয়েটা তা বোঝে। গত তিন রাত এ বিষয়ে তার সাথে আমার অনেক কথা হয়েছে। প্রতি রাতেই আমাকে যেতে হয়েছে এগারোটার পর। এর আগে তার লজ্জা লাগে। পাবেই তো । গাড়ী হাকিয়েদের চাহনী তার কাছে কেমন যেন লাগে। আমাকে বলেছে।
ওরা সব চলে গেলে আমি যাই। বঙ্গবন্ধু হল থেকে যেতে লাগে সাড়ে তিন মিনিট। এই সময়ে কতকিছু যে হয়!! মরুভূমির বালু একে অন্যের আন্তরিকতা ভুলে যায়। ফলে মরুভূমি বাড়তে বাড়তে এই অল্প সময়েই চলে যায় পৃথিবীর বাইরে। আমি যেতে দেই । কেননা সমুদ্রতো পৃথিবীর বাইরে থেকেই আসে। গড়িয়ে গড়িয়ে।

মেয়েটি কিন্তু সহজে কথা বলেনা। প্রথমে স্বাস্থ্যবান পুরুষগুলো ঘুমায়। ওই যে কাঁধের বাক্সটা তার, সেটাতে অনেকগুলো ঘুমের প্রজাপতি থাকে। সেখান থেকে একটা দুটো ছেড়ে দিলেই ওরা ঘুমের জালে জড়ায় তাদের চোখ। এই হলের এতগুলো ছেলে মেয়ে তাদের রুমে একটি করে প্রজাপতি চলে যায় প্রতিরাতে। তা না হলে কি এই শহরে ঘুম আসবে। কি যে উল্টা পাল্টা কথা!

একবার আমি তাকে বলেছিলাম , জানো ছোট চুলের মেয়েটিকে কাছে চাই আমি। বলতে চাই, মেয়ে, দিই তোমার নাকে নাকটি ঘষে,ঠোটে ঠোট লেগে গেলে কিছু মনে করোনা। অমনি লাল একটি প্রজাপতি ছেড়ে দেয় সে । আর সেটি রসিকতা করে বসে আমারই নাকে। আমি ঘুমে ঢলে পড়ি।

সকালে ঝাড়ুদারের ডাকে ঘুম পালায়। লোকটার যে কি হাসি! সারা রাত আমি যে মেয়েটিকে সাথে নিয়ে প্রজাপতিদের ডানায় বসে সড়ক দ্বীপ ঘুরে বেড়িয়েছি, বিশ্বাসই করলো না। না করুক । আমি তাকে এড়িয়ে যাই।

এড়িয়ে যাই বলছি কেনো। আমিতো সময়ই পাইনা। সময়গুলোতো কখনো কখনো রমণী হয়। সময় স্থির থাকে আজিজ মার্কেটে।

ওখানে আমি প্রায়ই যাই বই কিনতে। ছোটচুলের রুপবতীর জন্যও আমি একটা বই কিনেছিলাম। সেটা কবে? অনার্স ফাইনাল হবার আগে। ভালো কথা, আমার থিসিস কিন্তু ভিসির টেবিলে চানাচুর ভাজা খায়। আমি তার শব্দ পাই । আগে যে কেন পেতাম না!

আজিজ মার্কেট থেকে দ্বিতীয়বারের মতো বইটি কিনি। নাম মনে নেই । দুটো ভাঙা হৃদয় এঁকে প্রচ্ছদ করা। ও দুটো জোড়া লাগাতেইতো বই দেয়া। টিএসসির বারান্দায় পুরো বইটা ছোট চুলের মেয়েটাকে পড়ে শুনিয়েছি। মনে আছে এখনো। তা হলে অপরাজেয়র মেয়েটাকে কেন শোনাবো না। শোনাবো।

কিন্তু বই কিনতে গিয়ে দেখি সময়, নারী হয়ে বার্গারে কামড় বসাচ্ছে। কোকের গ্লাসটা ঠোটে তুলতে গেলে আমি ছিনিয়ে নেই। সময় তো রমণী, সে কেবল আমার হবে। তাই না?

কিন্তু দোকানদার বলে,ম্যাডাম কিছু মনে করবেন না। ও পাগল । প্রেমঘটিত হাবিজাবিতে পাগল হয়ে গেছে। একসময় আজিজ মার্কেট থেকে প্রচুর বই কিনতো । ব্রিলিয়েন্ট স্টুডেন্ট ছিলো। এখনো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থাকে। কোনদিন সুস্থ্য হবে বলে মনে হয়না।

আমি দোকানদারের মুখে পুরো মরুভূমি ঢুকিয়ে দিতে চাই। পরিনা। অপমান লাগে।

কতোদিন পর সময় মিনিট সেকেন্ডের নিয়ম ভেঙে রক্ত মাংসে ধরা দিলো ! ওমনি আমাকে পাগল বলা? এই শহর পাগল ওদের নানা কথা পাগলামি ওদের প্রেম পাগলামি এমনকি ওদের চুম্বন শিৎকার সব পাগলামির চূড়ান্ত মুদ্রা।

কয়েকটা বই আজিজ মার্কেট থেকে নিয়ে ছুট লাগাই । হতভম্ব হয় বইয়ের দোকানের মানুষরা।

বগলে বই চাপাতেই নিজেকে আবারো ক্লাস উপযোগি মনে হয়। শেষ যেবার ক্লাসে গেলাম, মনে পড়ে সেখানে ম্যাডামের ছিলো দীঘল কালো চুল। লম্বা । কেমন করে যেন তা ছোট হয়ে যায়। ব্ল্যাক বোর্ডকে মনে হচ্ছিল সিনেমার পর্দা। আর তাতে আমি দেখছিলাম আমার সাথে ছোট চুলের মেয়েটির পরিচিত হবার দৃশ্যাবলী। আর সড়ক দ্বীপ ধরে হাঁটা। আর হাতে হাত রেখে বলা আমরা আমৃত্যু আলাদা হবোনা । আমাদের মন আর শরীর আমরা শুধু দুজনের মধ্যেই ....ওহ!!! ম্যাডাম নেই । সেখানে দাঁড়িয়ে ছোট চুলের মেয়েটা।
আমি দুপা সামনে যাই । বলি, শোন মেয়ে, দিই তোমার নাকে নাকটি ঘষে , ঠোঁটে ঠোঁট লেগে গেলে কিছু মনে করো না।

ক্লাসের সবাই হেসেই খুন। যেন আস্ত পাগল আমি।

সমাপ্ত ..
১৯৯৯ সালের জুন মাসে লেখা।

আনোয়ার সাদী ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadibd76/28826372 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadibd76/28826372 2008-08-01 23:32:55
লাভ অ্যাট ফার্স্ট হিয়ারিং
নিজের শরীরের মতোই মেদহীন বাক্যটি বলে আম গাছের দিকে তাকায় লাবণী। এই একটি বাক্য শুনেই প্রেমে মজে মুরাদ। যাকে বলে লাভ অ্যাট ফাস্ট হিয়ারিং । প্রথম শোনাতেই প্রেম।

তো, মন বুঝাতো সহজ না । তার কিছু নিয়ম আছে । স্টেপ বাই স্টেপ এগুতে হয়। আমিও তাই করলাম, লাবণী আম গাছের দিকে তাকিয়ে বলে যায়। আমি পড়া শুরু করলাম সাইকোলজি।

তাতে লাভ হলো ? মুরাদের আগ্রহ বাড়ে।

হু। অনেক কিছু বদলে গেলো। প্রথমেই জানতে হলো মাথা কি করে কাজ করে। আর তা জানতে লাইব্রেরিতে পড়ে থাকতে হলো দিনের পর দিন। বইয়ের একটা আকর্ষণ আছে।
মুরাদ মনে হলো তা মানতে পারলো না। বউয়ের আকর্ষণ থাকতে পারে। বৌ হলো একটা মেয়ে। বই হলো কাগজ। তার আবার আকর্ষণ কী?

সে আলতো করে লাবণীর হাতের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়। লাবণী তার আংগুলের ভাঁজে ভাঁজে মুরাদের আ্গংুল জড়িয়ে আলতো চাপ দিয়ে ছেড়ে দেয়। দুর্দান্ত এক শিহরণ বয়ে যায় তার গা জুড়ে ।

এর নাম সুখ । লাবনী বলে । এখন তোমার যে অনুভুতি এটার নাম সুখ। এটা তৈরী হয়েছে তোমার মাথায়। বাট সুখটা পেয়েছো মনে। এখন মন তোমার মাথায় ওঠে বসে আছে। আর এই যে আবেশে বুজে যাচ্ছে তোমার চোখ, এটা হলো শরীরের আচরণ। মানুষের আচরণ নিয়েই কাজ করে সাইকোলজি। এখন বুঝতে পারলে বালক, সাইকোলজি পড়ে বোঝা যায় মনের কারুকাজ ।

আমি তাই সাইকোলজি পড়ি, প্রতিদিন।
মুগ্ধতা বাড়ে মুরাদের। মাথাটা সামনে ঝুকিয়ে আনতেই সতর্ক হয় লাবণী।
এটা রমনা পার্ক । চারদিকে লোক আছে । দেখবে।

মুরাদ হতভম্ব । কী করে এতো বুঝে মেয়েটা। মনে একটা ইচ্ছা জাগলেই টের পেয়ে যায় সে। সাইকোলজির এতো শক্তি!

প্রথম দেখাতেও তাই হয়েছিলো।

সেটা ইস্টার্ন প্লাজার চলন্ত সিড়িতে। পরিচিত হবার খুব ইচ্ছে হলো মুরাদের। আর আচমকা মেয়েটা মুখ ফিরিয়ে বললো এই তোমার নাম কি?

এরপর অনেক কিছুই জানা। বাড়ী নাটোর। বনলতা সেন। বাবানেই মানেই ভাইনেই বোননেই একা। ঢাকায় থাকে চাচার বাসায়। দুজনে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তাই রংগিন জীবনে ভাসতে খুব একটা সময় লাগেনি।


ড্রিম ইজ দ্যা লাইটিং সিস্টেম অব ব্রেইন
মুরাদ স্বপ্নে দেখলো যে লাবনী তার বাসায় এসেছে। শুনে মেয়েটি বললো এটা একটা স্বপ্ন হলো?

বাসা তোমার পছন্দ হলো লাবনী । তুমি বললে কিউট। সেটা আমাকেও বলো তুমি। তোমাকে কখনো কিউট বলা যায় না । তুমি মনে করো কিউট কালো মেয়েদের বন্দনার শব্দ। শরীরের রং একটু ময়লা বলে তা নিয়ে ব্যাপক মনো যাতনা তোমার ।

মুচকি হাসি ছড়িয়ে দিয়ে বিকেলের পড়ন্ত রোদে, তুমি বললে এসব কথা থাক মুরাদ।
সেই মুহুর্তে বালু ঝড়ে পথ হারানো কোন মরু রাখালের মতো অসহায় হয়ে যাই আমি। দিব্যি বলছি লাবণী , তুমি তা ব্যাপক উপভোগ করো। তোমার চেহারা আমুল বদলে যায়। ব্যাপারটা অনেকটা দীর্ঘ লোড শেডিং এর পর বিদ্যুৎ আসার মতো। বিদ্যুতের উপমাতেও আপত্তি আছে তোমার। এর সাথে রাজনীতি কিংবা ভোট কিংবা সরকার বদলের প্রসঙ্গ টানবে তুমি।


যা বলছিলাম, স্বপ্নে বেশ ছটফটে তুমি। এ ঘর ওঘর প্রজাপতির মতো ঘুরলে কিছুক্ষণ। বলা ভালো উড়লে। নিজের গায়ের গন্ধ ছড়ালে বাতাসে। অনেকক্ষন এই গন্ধ তাড়া করলো আমাকে।

বাজে বকোনা , স্বপ্নে কোন গন্ধ থাকেনা।

যাই হোক, বারান্দা পছন্দ হলো তোমার। বারান্দার কোনায় একটা চড়াই পাখির বাসা। বললে এই বাসায় একটা ডায়মন্ড থাকলে ভালো হতো। তুমি মুখ আলো করা হাসি দিয়ে বললে, একটা ডায়মন্ড তোমার চাই ।

আমি অবাক মানি, স্বপ্নেও তোমার হাসি সুন্দর।
আর স্বপ্নেও তোমার কথা ফেলতে পারিনি আমি ।
ফলে ,ডায়মন্ডের খোঁজে পথে নামি।

তুমি চাইলে একমুঠো তুলো আনতে পারি মেঘ নিঙড়ে..
তুমি চাইলে নামতে পারি কাদা-জলে...
আর এতো ডায়মন্ড.
তুমি বললে, কাব্য না । ওসবের দিন কি আছে?
কোথায় পাই ? কোথায় পাই ডায়মন্ড। এদিক ওদিক হাতড়ে বেড়াই । কোন কিছু না পেলে দিগন্ত বুঝি ছোট হয়ে আসে। তখনি কি বলা হয় পৃথিবী হাতের মুটোয় এনে চেষ্টা করেছি। জানি না । জানলেও বলা যাবেনা। অন্য প্রেমিকদের মতো আমিও তোমার কাছে বিতর্কিত হতে চাই না।

যাহোক, পুরো পরিশ্রম সহজ করে দিতে হঠাৎ কোথ্থেকে যেন একটা সাপ এলো। তার মাথায় জ্বল জ্বল করছে একটা ডায়মন্ড।

সাপ ! আমার ডায়মন্ড চাই ।

অমনি সাপটি ছোটদের মন ভুলানো রুশ গল্প শুরু করলো।

ছোট্র গোল রুটি
চলছে গুটি গুটি
গমের ধামা চেছে
ময়দার টিন মুছে
ময়ান দিয়ে ঠেসে
ঘি দিয়ে ভেজে
জুড়োতে দিলো যেই
পালিয়ে এলাম সেই ।
বুড়ো পেলো না বুড়ি পেলো না ক্যাট পেলো না ওরে মুরাদ তুই কি তাকে পাবি।
না না না
সাপটা বললো আবারো গানটা শুনবে মুরাদ? বুড়ো শুনলো টা টা পেলো। বুড়ি শুনলো বিদায় নিলো । শুনবে তুমি শুনবে?

আমি বললাম পাবো।

তুমি জানতে চাইলে কি সাপ। বলো স্বপ্নে কোন সাপের পরিচয় জানতে চাওয়া যায়।

তারপর কি হলো ?

তারপর সারটি রাত কেটে গেলো সাপের সাথে । বনে বাদাড়ে ঘুরে। কড়াই গাছের নিচে তমাল গাছের পাশে । রাত শেষ হবার আগেই হাতে ডায়মন্ড এলো।

সব শুনে লাবণী বললো যা হোক সফল।

এক শব্দে আমার মন ভরে না । তাই জানতে চাই এই স্বপ্নের কি মানে হতে পারে।


অবচেতন মনের প্রকাশ। সাইকোলজির বিদ্যা ঝাড়লে লাবণী ।
সামনেই কোন একটা সাফল্য আসবে। রাজকীয় ফরমান তোমার।
কি করে বুঝলে ?
সাইকোলজি। ড্রিম শুনে। জানোনা ড্রিম ইজ দ্যা লাইটিং সিষ্টেম অব দ্যা ব্রেইন।

বাজারে যাও খোকা? মানুষ বোঝবা কেমনে?

হ্যালো .... আজ সকালে এক বন্ধু ফোন দিয়েছিলো । লাবনী জানায়।
বললো এতো বেলা করে ঘুমাও তুমি । ওঠো । দেখো বাইরে কেমন রোদ পড়েছে। আমি আলসেমি করে বলেছি আরো ঘুমাবো । তারপর ফোন রেখে দিয়েছি ।
কি করো মুরাদ।
মুগ্ধ হই ।
মানে কি?
মানে হলো শরীর মনে দোলা দেয়া । গানদেখি নাচদেখি নায়িকাদেখি মুদ্রাদেখি শিহরনপাই সুখপাই। চ্যানেল বদলাই, টিভি চালাই।
তাহলে তোমার একটা শরীর আছে? আর তাতে দোলাও লাগাও তুমি।
হুম! লাগাই লাগাই। আন্দোলিত হয় মুরাদ। আচমকাই বড় গেরস্থালী লাগে লাবণীকে। বাবা গেছে অফিসে বোন গেছে কলেজে। মা যে কেন যায়না কোথাও? তা হলেই তো লাবণীকে আনা যায় বাসায়। গেরস্থালি বুনো সময় পার করা যায় অনায়াসে।
আমাদের বাসায় আসবে ?
কি খাওয়াবে।
মানে কি ?
মেনু কি ?
এনি মেনু ।
মানে কি ?
যা খেতে চাও। পোলাও সাদাভাত বাসমাতি নাজিরশাইল চিকনচাল । খাসিগরুমুরগী । কবুতরহাস ।
ইলিশইলিশইলিশ।
দুধদইছানা।
আমআপেলকমলা। বলো লাবণী আর কি খেতে চাও তুমি।
এতো কিছু লাগবেনা। শাকভাত ডালভাত ব্যাস।
না এতো অল্প না । তোমাকে খেতে হবে অনেক কিছু।
বাজার করবে কে ?
বাবা।
তাই বলো। কনডম ছাড়া জীবনে কিনেছ কিছু ? গেছো বাজারে কখনো?
তা যাইনি ।
তা হলে তুমি ঘোড়ার ডিম বোঝো। এ জন্যই স্বপ্নে খুঁজে পাও ডায়মন্ড ।
তুমি কি বাজারে যাও ? কি করে বোঝো এসব।
সাইকোলজি বালক ! সাইকোলজি!
বাজারের সাথে উঠানামা করে কর্তার মন। কর্তার মন ভালো তো গৃহিনী স্বামী সোহাগিনী। মাথা ঠান্ডা। সংসার শান্তিময়। এতো কিছু কি করে
বোঝো লাবণী!
সাইকোলজি। বুঝলে না । আজ রাখি মুরাদ । আগামীকাল শুক্রবার । তোমার সাথে কোন দেখা বা কথা হবে না ।
চাচা বাসায় থাকবে । প্লিজ ফোন করো না।

নতুন প্রেমে মন মজাইয়া

লাবনী স্বপ্নে দেখে দেখে একটা মাঠ । যার কোন শেষ নেই । একহাত উঁচু করে সে মাঠের শেষটা দেখায় মুরাদকে। অপর হাতটি হেচকা টানে নিজের আয়ত্বে নেয় মুরাদ। তারপর ছুট লাগায়। দৌড় দে দৌড়। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে গর গর শব্দে চালু হয় চলন্ত সিড়ি। ইস্টার্ন প্লাজার চেয়েও বড়ো? জানতে চায় মুরাদ।
স্বপ্ন বলার মাঝে কথা বলো না । মৃদু ধমক লাবনীর।
চলন্ত সিড়ি চলতেই থাকে। পার হয় মাঠ। ঐ দেখো হরিণ সবুজ ঘাস বনমোরগ।
চলন্ত সিড়ি শেষ হলে কাচা বাজার । চালআছে মানুষআছে বাজারেরব্যাগআছে। টাকা আছে । স্বপ্নে তোমায় জড়িয়ে ধরি মুরাদ।
তারপর ?
লাবণী আনমনে রমনা পার্কের এমাথা ওমাথা তাকায় কিছুক্ষণ। দেখে পাতা নড়ে বাতাস বয় সাহেব হাটে বিবি হাপায়।
কলেজ ড্রেস বুকে চেপে ধরে আছে স্কুল ড্রেসকে। রোদ গাছের ফাঁক গলে নেমে আসে মাটিতে । ঘাসেরা জীবন পায়।
তারপর কি হলো? স্বপ্ন শুনতে আগ্রহী মুরাদ।
বাজার পার হলে পাহাড়। চারদিকে পাহাড়। মাঝখানে সমতল । সবুজ আর সবুজ। সেখানে একটা বড় বট গাছ । তার নিচে একটুকরো ছায়া। তাকে বড় করে দেয় ভাসমান মেঘ।
তোমাকে পাশে নিয়ে দাঁড়াতেই সরে যায় পাহাড়। আর আমরা প্রবেশ করি সেই মনোরম সমতলে।

তারপর ?
তুমি আমার হাত ছাড়োনি কখনোই । টেনে বুকে জড়িয়ে নিলে । আমি তোমার পায়ের ওপর দাঁড়ালাম। এরচেয়ে কাছে যাওয়া যায় মুরাদ? যায়না।
তারপর কি হলো ।
ওহ তারপরই আমার বদমাইশ জামাইটা ব্রেস্ট্র চেপে ধরলো। বলো, বিয়ের পাঁচ বছর পরও কিএসব ভালো লাগে। জানোয়ারের মতো দুধ চেপে ঘুম ভাঙানো।

তুমি বিবাহিত লাবণী ??
হতবিহ্বল লাবণী এক মুর্হূতে তাকায় মুরাদের দিকে । তারপর স্বপ্নের হরিণের মতো দ্রুত চঞ্চল পায়ে বের হয়ে যায় রমনা পার্ক থেকে। অস্ফুটে বলে যায় সরিরিরিরিরি।
সমাপ্ত
আনোয়ার সাদী. ঢাকা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sadibd76/28825368 http://www.somewhereinblog.net/blog/sadibd76/28825368 2008-07-29 19:59:02
গাল জুড়ে নি:সঙ্গ ঢেউ আঁতলামির সাথে প্রেমের বৈরিতা থাকে

ও যখন কথা বলে, গালে একটা ঢেউ খেলে যায়। হঠাৎ মনে হতে পারে একটা নি:সঙ্গ ঢেউ আছড়ে পড়লো বেলাভূমিতে। বয়ে গেলো ওর মসৃণ গাল জুড়ে। এই একটা বিষয় তাকে সবার থেকে আলাদা করে দিয়েছে।

এটুকু বলে জানালা দিয়ে বাইরে তাকায় হাসান। অনেক দূরের আকাশ দেখে। ওর বাসায় ডাকটিকেটের মতো একটুকরো আকাশ। সে আকাশ বা জানালার প্রেমে কখনো পড়েনি হাসান। কাজেই, আমার অনেক পছন্দের জানালা বিলাস যে ওকে টানে তা আমি মনে করিনা। অপেক্ষায় থাকি কখন মেয়েটার গল্প শুরু করে।

ও একবার আমার সামনে এসে চুল পেছনে টেনে খোপা বেঁধেছিলো। ওমনি বদলে গিয়েছিলো তার চেহারা। অন্যরকম। মানুষ এমন হয়, পরতে পরতে বদলায়।

মানুষতো পেঁয়াজ না, একটার পর একটি খোসা খুলে গেলেও একই থাকবে তার চেহারা। আর আপাদমস্তক একই থাকলে আকর্ষণ হারাবে না মানুষ? তাই রহস্যময়ীরাই যুগ যুগ ধরে ভালোবাসা পেয়ে এসেছে। পত্তন হয়েছে ষোল কলার।

ভালো কথা, কলা বুঝিস?

হাসানের হতবিহ্বল চেহারায় তাকিয়ে বলি, সাগর কলা না। বুঝলি না ছলাকলা না থাকলে মুগ্ধতা থাকে না। বল তোর গল্প বল। আমি তাগাদা দেই।

মেয়েটা যখন হাসে...
কথা হয়েছে তার সাথে?
না, জবাব হাসানের।

তা হলে এই আলাপ বাদ দে। বায়বীয় প্রেমের কোন আবেদন এখন নেই। তারচেয়ে চাকরীর পাশাপাশি কোন একটা বিজনেস শুরু করা যায় কি না, চল তা নিয়ে কথা বলি। শেয়ার বাজারে টাকা খাটানো যেতে পারে। সামনেই ট্রাস্ট ব্যাংক বোনাস শেয়ার দেবে। সেকেন্ডারি মার্কেটে নাকি তার দামও কমেছে।

ওকে আমার ভালো লাগে । হাসানের দৃপ্ত ঘোষনা।

ওয়েল, গুড। এই সিদ্ধান্ত টানতে পারাটাই গুরুত্বপূর্ণ। এবার সেটা সরাসরি তাকে বল।
যদি ফিরিয়ে দেয়।
দেবে। তোর যেমন তাকে ভালো লাগার অধিকার আছে, তারও অধিকার আছে তোকে ভালো না লাগার। এটার নাম গণতন্ত্র। তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দিতেই হবে। তা তুমি মানো আর নাই মানো।

ইস তোর আঁতলামি এই জীবনে গেলো না। তুই থাক তোর গণতন্ত্র নিয়ে আমি যাই। মানুষের মন বোঝার বুদ্ধি কোন কালেই তোর হলোনা। এজন্যই তোর কপালে প্রেম নেই। মন ভাঙ্গার ওস্তাদ। জানিস না , মন ভাঙা আর মসজিদ ভাঙা সামান কথা। শালা, বন্ধুরা কি বলতে চায় তাই বুঝতে পারে না, তার আবার জীবন। আপন মনে কথা বলতে বলতে বেরিয়ে যায় হাসান।

আমি অবাক হই । আঁতলামির সাথে প্রেমের বৈরিতা কেথায়? কবে শুরু এই শত্রুতা।

ও হাসলে সকাল সকাল লাগে

টানা তিনদিন পর ঢাকায়। দেশের কোলড স্টোরেজগুলো ঘুরে ঘুরে গেলো এই তিন দিন। এইবার আলু হয়েছে প্রচুর। রাখার জায়গা নেই । হিমঘরগুলো ভরে আছে আলুতে। কৃষকের উঠানেও পড়ে আছে তা। এদিকে আকবর আলি খান বলেছেন দেড় কোটি মানুষকে জরুরী ভিত্তিতে খাদ্য সাহায্য দেয়া প্রয়োজন।
চালের দাম নিয়ে কথা না বলাই ভালো। পাশের বাসার যে ভাবী প্রতিদিন চুল চেহারা নানা ফলজ বনজবাটা দিয়ে ঢেকে সকালের হিমেল রোদে নিজের দুধে আলতা গায়ের রঙ মেলে বসে থাকতো...তার অভ্যাস বদলে গেছে গত পনের দিনে।
ডিম মাথার অভ্যাস অবশ্য গেছে বার্ড ফ্লুর ভয়ে। আর বাকিটা নাকি নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায়। আমাদের চেংড়া দারোয়ান সেদিন বাড়িওয়ালার ড্রাইভারকে এসবই বলছিলো। কথার মুল সুর অবশ্যই পাশের বাড়ীর ভাবীর যৌবন আর তার প্রকাশিত লক্ষণগুলো। এর মধ্য থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য টুকে নিতে হয়। এটাই আমার পেশা। মানুষের আয় এবং খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কাজ করে এমন একটি এনজিওর মাঝারি কর্তা আমি। এখন আমার কাজ দেশের খাদ্য পরিস্থিতি জানা। কারণ দারিদ্র বিমোচন করতে আমাদের এনজিওগুলো এবার গরীবদের মধ্যে খাবার বিতরণের কথা ভাবছে। এডিবি, জাতিসংঘ বাংলাদেশের জন্য খাদ্য সাহায্যের সুপারিশ করার পর টনক নড়েছে আমাদের কর্তাদেরও। সুতরাং কর্তার ইচ্ছায় কর্ম। এই তিন দিন গেলো মানুষের পেটের খবর নিয়ে।

সরকার যে আন্তরিক, তা অবশ্য প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ বারবারই বলেছেন। তাঁর যে মুখপাত্র সৈয়দ ফাহিম মুনেম তিনিও বলেছেন অনেকবার। এই ভদ্রলোকের নামের বানান একেক পত্রিকায়
একেক রকমভাবে লেখা হয়। আগামী বোরো মৌসুমের দিকে যে সরকার আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে তা ফাহিম মুনেমকে কোট করে সাংবাদিক
বন্ধুরা জানিয়ে দিয়েছে জনগনকে।
আর প্রতিদিন টিভির খাদ্যসংশ্লিষ্ট রিপোর্ট আমরা যত মনোযোগ দিয়ে দেখি, সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারও মনে হয়না এতো মনযোগ দিয়ে রিপোর্ট করে। পত্রিকা যত মনযোগ দিয়ে আমরা পড়ি, পত্রিকার বেতনভূক প্রুফরিডারও মনে হয়না এতো মনযোগ দিয়ে তা পড়ে। তো, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আমাকে দুয়েকদিনের মধ্যেই রিপোর্ট পাঠাতে হবে। সাহায্য নিয়ে আগে মাঠে নামতে চায় আমাদের এনজিও। সুতরাং তার আগে গত তিনদিনের বাসি মেইলগুরো চেক করে নেয়া ভালো।

আর মেইল খুলতেই হাসান। তিনদিনে তিনটি মেইল। প্রেমে থৈ থৈ মেইল।

হাসান থাকে রামপুরায়। অফিস করে ধানমন্ডিতে। দিবাতে আসে। নিশীথে যায়। দশ টাকা । দশ টাকা। পরিবহনের নামও দিবানিশি। দুবেলা দুই টুকরা ঘুম। হেলপারের চিল্লাচিল্লিতে সেই ঘুম মাঝেমাঝেই চার টুকরা হয়। বাস থেকে নেমে একটু বাঁয়ে গেলেই তার দশতলা অফিস। সেন্ট্রাল এসি। তিনবছরের চাকরিজীবনে লেট হয়নি কখনো। ছুটির আগে বেরও হয়নি অফিস থেকে। ফলে, ছাত্রজীবনের শ্যামলা হাসান এখন রীতিমতো ফর্সা। আর বাস থেকে নেমে ডানেই একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি। বাবুই পাখির বাসার মতো ক্যাম্পাস। ছাত্রদের আড্ডা তাই রাস্তায়। ফুচকার দোকান ঘিরে কতগুলো রঙ্গিন প্রজাপতি। মেয়েগুলোতো এডরেবল ডল। আর লাবণ্যময়ীদের আড্ডা তাদের রুপের চেয়েও রঙ্গিন। সেই আড্ডাতেই মেয়েটিকে দেখে হাসান । যে কথা বললে গালে ঢেউ বয়ে যায়। আর হাসলে সকাল । প্রথম দেখায় ঠিক তাই মনে হয় হাসানের।

তিন বছরের চাকরিজীবনে সেটাই হাসানের প্রথম লেট। হাসান ভুলে যায় তার পথ বাঁয়ে। কিংবা পছন্দ হলেই এভাবে তাকিয়ে থাকতে হয় নার মতো নীতি কথা। মেইলে অবশ্য হাসান মনে করিয়ে দিয়েছে প্রয়োজন কোন আইন মানে না। তাই তার নিরন্তর তাকিয়ে থাকা।

হাসানের দ্বিতীয় মেইল; বার্গার রোদের কয়েকলাইন

রোদের ধর্ম তাপ দেয়া। গায়ে লাগে। মন পোড়ে ওর তাপে। জিন্স পড়ে ক্লাসিক পড়ে গান করে আর সেক্স করে। সিওর । রেনডম প্লে।

ফুচকা খায় সিনেমায় যায় টাকা ওড়ায় সুখ কুড়ায়। ভালোবাসে জোরে হাসে। ডিজুস কোকাকোলা।

আহারে, তার জন্য হইলো মন উতলা ।

থার্টি সিক্স শিওর টুয়েন্টি ফাইভ সিওর থার্টি সিক্স শিওর । এখানে রমনীরা নদীর মতো। ।

আহারে তার জন্য পেট পোড়ে।

রাস্তায় দাঁড়ায়, হোন্ডা যায়। রিকশা চলে। চুল দোলে। বাতাস বয়। গল্প কয়। সময় গড়ায় বেল বাজায়।

কানে এমপি থ্রি । জন এডামস। হাঁটা ওফ সেক্সিসেক্সিসেক্সি ট্যাক্সিট্যাক্সিট্যাক্সি।

আবার জিগস আবার জিগ