নিউইর্য়কে আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ২০০৮

০৬ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৫:৪২

শেয়ার করুন:                   Facebook


জল তাহলে থেমে নেই। গড়িয়েছে অনেক দূর। গড়াতে গড়াতে ছড়িয়েও পড়ছে দিকে দিকে। হ্যাঁ গো হ্যাঁ সত্যি, সত্যি। আজ আর বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা কেবল বাংলাদেশ বা পশ্চিমবাংলার সীমারেখার ভেতরই আবদ্ধ থাকছে না। ছড়িয়ে পড়ছে দেশে দেশে। আন্তর্জাতিক হয়ে উঠছে।
নিউইয়র্কে অভিবাসী বাঙালিদের প্রাণকেন্দ্র জ্যাকসন হাইটস-এর রুজভেল্ট এভিনিউ ও ৭৪ স্টিটের কোণায় অবস্থিত ‘মুক্তধারা’ নামে একটি বইয়ের দোকান। যার স্বত্বাধিকারী বিশ্বজিৎ সাহা। হ্যাঁ, বাংলাদেশের ‘মুক্তধারা’র স্বত্বাধিকারী সদ্য প্রয়াত চিত্তরঞ্জন সাহার নিকটাত্মীয় সে, মানে সম্পর্কে ভাগিনা। তার প্রচেষ্টায়ই নিউইয়র্কে প্রথম বাংলা বইয়ের দোকান ‘মুক্তধারা’ প্রতিষ্ঠা, জাতিসংঘের সামনে অস্থায়ী শহীদ মিনার বানিয়ে একুশের প্রথম প্রহরে পুষ্পার্পণ, এবং মুক্তধারার আয়োজনেই বাংলা বইমেলার আয়োজন সম্ভব হয়েছে।
১৯৯২ সালে নিউইয়র্কে একুশে ফেব্র“য়ারি পালনের পরই বাংলা বইমেলা শুরু হয়। যদিও এর আগে বিচ্ছিন্নভাবে একুশে ফেব্র“য়ারি পালন হয়েছে। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে বৃহৎ কলেবরে এটাই প্রথম। এরপর ১৯৯৩-এ জাতিসংঘের সামনে অস্থায়ী শহীদ মিনার বানিয়ে পুষ্পার্পণের মধ্য দিয়ে একুশের প্রথম প্রহর পালন করে বাঙালির চেতনা মঞ্চ ও মুক্তধারা। এরপর অদ্যাবধি প্রতিবছরই সেটি পালিত হয়ে আসছে।
আগামী ২৭ জুন উদ্বোধন হয়ে ২৮ ও ২৯ জুন পর্যন্ত চলবে নিউইর্য়কে আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ২০০৮। এতে থাকবে সেমিনার, বইমেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাংলা গান-সিনেমার সিডি-ডিভিডি ও বিভিন্ন সাজসরঞ্জামের দোকান এবং প্রিয় লেখকদের সঙ্গে আড্ডার আয়োজন। এবার মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবের উদ্বোধন করবেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক ও সুচিত্রা ভট্টাচার্য।
এর আগে জ্যোতিপ্রকাশ দত্তকে দিয়ে শুরু করে শহীদ কাদরী, ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, পূবরী বসু, আব্দুল গাফফার চৌধুরী, হুমায়ুন আহমেদ, সৈয়দ মোহাম্মদউল্লাহ, দিলারা হাশেম, ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, ড. হুমায়ুন আজাদ, জয় গোস্বামী, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, রাবেয়া খাতুন, ড. আব্দুর নূর, আনিসুল হক, গোলাম মুরশিদ, ড. আনিসুজ্জামান, সমরেশ মজুমদার পর্যন্ত সবাই নিউইয়র্ক বইমেলার উদ্বোধন করেছেন।
এই উৎসব নিউইয়র্কের অভিবাসী বাঙালিদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। যেখানেই যে থাকুক, যত ব্যবস্তায়, এই উৎসবে আসা চাই-ই চাই। কেননা সবার সঙ্গে দেখা হওয়া, প্রিয় বইগুলো সংগ্রহ, প্রিয় লেখকদের সঙ্গে সামনাসামনি আড্ডা দেওয়া, বাংলা গান, সেমিনার শোনার এ যে এক বিরাট সুযোগ। প্রবাসে ভিনভাষী পরিমণ্ডলেও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা থেমে নেই জেনে আমাদেরও ভালো লাগে। সাধুবাদ নিউইয়র্কে অবস্থানরত বাঙালিদের প্রতি। সাধুবাদ।

 

 

  • ১০ টি মন্তব্য
  • ১৬৬ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৩ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৬ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৫:৫১
comment by: রিজওয়ানুল ইসলাম রুদ্র বলেছেন: এ উৎসব বয়ে চলুক অবিরতভাবে... সাধুবাদ জানাই উদ্যোক্তাদের।

ভালো লাগলো পড়ে। +
১১ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১:১০

লেখক বলেছেন: আপনাকেও সাধুবাদ, পড়ার জন্য।

২. ০৬ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:১২
comment by: আলফ্রেড খোকন বলেছেন: সফেদ তুমি কি ওইখানে গেছ ? জানলাম না তো।
১১ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১:১২

লেখক বলেছেন: না যাই নাই। গেলে আপনি না জেনে পারতেন?

৩. ০৭ ই জুন, ২০০৮ রাত ১:০২
comment by: মৃদুল মাহবুব বলেছেন: সুসংবাদ।
১১ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১:১৩

লেখক বলেছেন: হ, সুসংবাদই বটে।

৪. ০৭ ই জুন, ২০০৮ রাত ২:১৩
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: সাধুবাদ নিউইয়র্কে অবস্থানরত বাঙালিদের প্রতি। সাধুবাদ।
১১ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১:১৩

লেখক বলেছেন: আপনাকেও সাধুবাদ।

৫. ০৯ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০১
comment by: জুয়েল মোস্তাফি. বলেছেন: এটা সত্যতো?
১১ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১:১৫

লেখক বলেছেন: কি জানি। তবে এটা হচ্ছে এটা জানি। সত্য মিথ্যা নিরূপণ কর তুমি এখন।

 



 


safedfarazi@gmail.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ৫৩৩৫