আমার প্রিয় পোস্ট
- "চলচ্চিত্র সমাজ পরিবর্তন করতে পারে না, কখনো করেও নি" -- সত্যজিৎ রায়ের সাক্ষাৎকার - ফাহমিদুল হক
- যে বই গুলো পড়া দরকার (সবগুলোর লিস্ট) - সপ্নীল
- `ঈশ্বরের চোখ' থেকে : কবি রণজিৎ দাশের ১০টি কবিতা - সফেদ ফরাজী......
- ।।জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি।। কবি বুদ্ধদেব বসুর তপস্বী ও তরঙ্গিণী : পুরাণের নবরূপায়ণ - তপন বাগচী
- আমার রবীন্দ্র অভিজ্ঞতা - মৃদুল মাহবুব
- `আমারেও ডাকেনি কি কেউ এসে জ্যোৎস্নায়' - সফেদ ফরাজী......
- বৃত্তবন্দি নজরুল ও কিছু প্রশ্ন - সফেদ ফরাজী......
- কবি শহীদ কাদরীর ৫টি নির্বাচিত কবিতা - সফেদ ফরাজী......
- জনপ্রিয় কিছু ওয়েব সাইট এর ঠিকানা.......... - গিফার
কথাসাহিত্যিক মাহমুদুল হককে মূল্যায়নে আমরা কি অক্ষম?
২৩ শে জুলাই, ২০০৮ বিকাল ৫:২৯
ষাটের দশকের অন্যতম কথাসাহিত্যিক মাহমুদুল হক (ওরফে বটু ভাই) আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন গত ২০ জুলাই রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে, মানে ক্যালেন্ডারের হিসেবে ২১ জুলাই ২০০৮। রাত থেকে শুরু করে বেলা ১১টা/ ১২টার মধ্যেই অন্তত ঢাকা শহরে বসবাসরত অধিকাংশ কবি-সাহিত্যিকের কানে এ সংবাদটি পৌঁছে যায়। ১টার দিকে লাশ আসে বাংলা একাডেমীর বর্ধমান হাউসের সামনে। সেখানে কবি-সাহিত্যিকদের অনেকেই ছুটে আসে এই বরেণ্যসাহিত্যিককে শেষবারের মতো একনজর দেখতে এবং সম্মান জানাতে। সকালে বন্ধুপ্রতীম আশফাকুর রহমানের ফোনে সংবাদটি জানতে পেয়ে আমিও যাই বাংলা একাডেমীর চত্বরে।
কখনো আমার মাহমুদুল হকের সঙ্গে দেখা করা হয়ে উঠেনি। তাঁর `জীবন আমার বোন' উপন্যাসটি পড়ার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে দেখা করার এক দুরন্ত তাড়া অনুভব করছিলাম। বেশ অনেকবার প্লান-পরিকল্পনাও করেছি, কিন্তু কোনো না কোনো কারণে সম্ভব হয়নি। অবশেষে বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে দেখা হলো তাঁর সাথে, কিন্তু কথা হলো না কোনো!
আশ্চর্য হলাম ওখানকার উপস্থিতি দেখে। এত কম উপস্থিতি! এত বড় মাপের কথাশিল্পী যার হাত দিয়ে বেরিয়েছে- খেলাঘর, জীবন আমার বোন, অনুর পাঠশালা, নিরাপদ তন্দ্রা, কালো বরফ, প্রতিদিন একটি রুমাল, মাটির জাহাজ, চিক্কোর কাবুক, অশরীরী ইত্যাদি রচনা- তাঁর কফিনের পাশে সাহিত্যিকমহলের হাতেগোনা মাত্র ৪০/৫০ জন, আত্মীয়পরিজন ২০/৩০ জন, এবং বাংলা একাডেমীর কর্মকর্তা-কর্মচারী ৭/৮জন!
বাংলা একাডেমীতে জানাজা শেষে ২.৩০টা/৩ টার দিকে যখন লাশ নিয়ে মীরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের দিকে রওনা দেওয়া হলো, তখন দেখা গেল কফিনের গাড়িতে সাহিত্যিকমহলের আমরা তিনজন ছাড়া বাকি সবাই মাহমুদুল হকের আত্মীয় পরিজন। সামনে ড্রাইভারের পাশে `লোক' সম্পাদক অনিকেত শামীম, আবু তাহের সরফরাজ এবং পিকআপের ওপরে লাশের কফিনের পাশে অন্যান্য লোকজনের সাথে আমি দাঁড়িয়ে, বুক পকেটে আমার মাহমুদুল হকের ডেথসার্টিফিকেট। আর পেছনে ট্যাক্সিক্যাবে কথাসাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামাল, কবি শামীম রেজা, কবি চঞ্চল আশরাফ এবং অন্য গাড়িতে সাহিত্যিক মারুফ রায়হান ও হামিদ কায়সার। এই আটজন ছাড়া শবযাত্রায় সাহিত্যিকমহলের আর কাউকে চোখে পড়েনি। কেন পড়েনি, জানি না। জানি না!
এছাড়া বাংলা একাডেমীতে কবি রফিক আজাদকে ছাড়া ষাটের উল্লেখযোগ্য কাউকে চোখে পড়েনি। কেন তারা এলেন না, তারাই ভালো জানেন। অথচ এদেশের অনেক চোর-বাটপারের জানাজা বা শেষকৃত্যতেও অনেক লোকসমাগম ঘটে এবং আমাদের সাহিত্যিকমহলের অনেকেই সেখানে দৌড়ে যান। মাহমুদুল হক প্রথাগত তথাকথিত বাজারি লেখক ছিলেন না বলে, দলবাজি-মিডিয়াবাজি-তেলবাজি করতেন না বলেই কি তার শেষকৃত্যে এত কম উপস্থিতি ছিল? নাকি মাহমুদুল হকের মতো এত বড়মাপের লেখককে আমরা বুঝতে পারিনি এখনও?
কবি বিনয় মজুমদার অবশ্য লিখেছেন `ভালোবাসা দিতে পারি, তোমরা কি গ্রহণে সক্ষম?' এ প্রশ্নটির সঙ্গে সুর মিলিয়ে এখানে বলা যায় `কথাশিল্পী মাহমুদুল হককে মূল্যায়নে আমরা কি অক্ষম?'
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০০৮ বিকাল ৫:৩১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
ইমরান মামা বলেছেন:
মূল্যায়নে আমরা অক্ষমই
লেখক বলেছেন: ভাবসাবে তাই তো মনে হয়।
হাসিব মাহমুদ বলেছেন:
প্রথার বাইরের বাজারবিমুখ সাহিত্যিকদের দের রাজনৈতিক পরিচয় না থাকলে ও সেই সাথে "সার্কেল" মেইনটেইন না করলে এটাই হবার কথা । মাহমুদুল হকের পুরোপুরি হারিয়ে যেতেও মনে হয় আর বেশী সময় লাগবে না ।
লেখক বলেছেন: প্রকৃত সাহিত্য অবশ্য তার অন্তর্নিহিত শক্তি দিয়েই টিকে থাকে নিজে নিজেই। এক্ষেত্রে মাহমুদুল হকের সাহিত্য অনেকদিন টিকে থাকার সম্ভাবনা আছে বলে আমার মনে হয়।
সুতরাং বলেছেন:
আমাদের একটি প্রজেক্ট-এর জন্য বহুদিন থেকেই তাঁর বাসায় আমার যাওয়ার কথা ছিল। যাবো যাবো করে যাওয়া হয়নি। তার মৃ্ত্যুর সংবাদ শুনেছিলাম সকালেই। যাইনি। খুব খারাপ লেগেছিল। তাঁর উপন্যাস 'জীবন আমার বোন' আমার প্রিয় একটি বই। মাহমুদুল হকের বই সবাই পড়ুক- এটাই প্রত্যাশা।
লেখক বলেছেন: আমারও খুব খারাপ লেগেছে মাহমুদুল হকের মৃত্যু সংবাদে।
সোমেশ্বর অলি বলেছেন:
তাঁর সাথে শেষ দেখা অর্থাৎ প্রথম দেখাই হলোনা। একটা অপরাধবোধ কাজ করছে। এতোটা নাগরিক হয়ে গেছি, এতোটা! মাঝে মাঝে নিজেকে খুবই ধান্দাবাজ টাইপের মনে হয়...
লেখক বলেছেন: জীবনে তাঁর সাথে দেখা হলো না, হলো মরণে। এজন্য ক্ষত থেকে গেল প্রাণে।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














