somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরিবেশ দূষণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে কিছু কথা

১১ ই জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৪:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশ নাকি উন্নয়নশীল দেশ। আর এটা স্পষ্ট বোঝা যায় যখন দেখি আমার চিরচেনা গ্রামগুলো কিভাবে আমার চোখের সামনে বদলে যাচ্ছে। আমার নানির বাড়ি গাজীপুর জেলার সফিপুরে। ওখানকার অবস্থা যে কি হয়েছে তা ঐ এলাকার লোকজনই ভাল বলতে পারবে। ইটের ভাঁটা, কল-কারখানার বর্জ্য, নোংরা পানি--- যাচ্ছেতাই অবস্থা। আগে ঢাকা থেকে নানু বাড়ি বেড়াতে যেতাম একটু প্রকৃতির সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য। আর এখন ওখানে গেলে মনে হয় দম বন্ধ হয়ে মারা যাব। ঢাকার আশেপাশে অনেক জায়গাতেই এখন এমন অবস্থা। আমি শিল্পায়নের বিপক্ষে নই, তবে সবকিছু হতে হবে পরিকল্পনামাফিক। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার এই যে এই অনিয়মের দেশে পরিবেশ রক্ষার আশা করা যেন একটু বেশি বেশিই...

এখানে ভারতের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কথা বলতে হচ্ছেঃ

দূষণ-সমস্যায় জেরবার শিল্পনগরী দুর্গাপুরকে দূষণ-রোধের পথ দেখাল একটি বেসরকারি ইস্পাত প্রস্তুতকারক কারখানা। পথটা নতুন না হলেও সময়োপোযোগী তো বটেই।

কারখানা থেকে নির্গত গরম গ্যাসকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র তৈরি হেয়ছে দুর্গাপুরের হলদিয়া স্টিল লিমিটেডে। দুর্গাপুরের মেয়র রথীন রায় বলেছেন, “এই শিল্পাঞ্চলে দূষণ এক ভয়ঙ্কর নাগরিক সমস্যা। সেখানে এই ধরনের উদ্যোগ দূষণ অনেকটাই প্রশমিত করবে। গরম গ্যাসকে ব্যবহার করে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র দুর্গাপুরে এই প্রথম নির্মাণ হল। অন্যান্য কারখানার কর্তৃপক্ষেরাও নিজস্ব কর্মক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে দুর্গাপুরে দূষণের মাত্রা কমবে।”

দুর্গাপুরের সিটিসেন্টারে ‘পরিচ্ছন্ন সবুজ পৃথিবী’ শীর্ষক আলোচনাসভার আয়োজন করে হলদিয়া স্টিল লিমিটেড। কারখানার ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিকাশ বনশল জানান, প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে আট মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এই ‘ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট’ তৈরির জন্য। প্রায় তিন একর জমির উপর নির্মিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মসংস্থান হবে ১০৬ জনের। চলতি মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।

কারখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, কারখানার ভিতরে ‘স্পঞ্জ আয়রন কিলিন’ বিভাগ থেকে ক্রমাগত গরম গ্যাস নির্গত হয় ৯৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস উত্তাপে। সেই গ্যাসের মধ্যে রয়েছে সালফার ডাই অক্সাইড এবং কোল গ্যাসের মত একাধিক রাসায়নিক পদার্থ। এত দিন এই গরম গ্যাসকে জল ছিটিয়ে আংশিক ঠাণ্ডা করে ইলেকেট্রা স্ট্যাটিক প্রেসিপিটেটর (ইএসপি)-এর মাধ্যমে আকাশে ছাড়া হত। যা পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকারক ছিল বলে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্যদ কারখানা কর্তৃপক্ষকে সতর্কও করেছিল। এ বার ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রটি তৈরি হওয়ায় ‘স্পঞ্জ আয়রন কিলিন’ বিভাগ থেকে বের হওয়া সমস্ত গরম গ্যাস ব্যবহার করা হবে প্রধান কাঁচামাল হিসেবে। ফলে দূষণের মাত্রা অনেকটাই কমবে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, কারখানার চারপাশের প্রায় দশ কিলোমিটার এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন এই উদ্যোগের ফলে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত জলের ব্যবহার হ্রাস পাবে উল্লেখযোগ্য হারে। ডিপিএলের বিদ্যুতের চাহিদার উপর নির্ভরশীলতাও অনেকটা কমবে। কারখানার মধ্যে রাস্তার আলো জ্বালানোর জন্য ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে।
তথ্যসূত্র: http://www.anandabazar.com/11jibjagat2.htm

আমাদের দেশে যদি এমন একটি উদ্যোগ নেয়া হয় তাহলে মনে হয় মন্দ হত না। তবে এই পদ্ধতির একটি সমস্যা হচ্ছে এটা খুব একটা efficient না(মাত্র ৮ মেগাওয়াট, উপরে উল্লিখিত)। তবে অনেকগুলো কারখানার বর্জ্য গ্যাস যদি একত্রিত করে একটি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র তৈরি করা গেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ একদিকে যেমন দেশের কাজে লাগবে, তেমনি পরিবেশ দূষণও অনেকাংশে রোধ করা যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ২:০৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×