তথ্য সন্ত্রাস ও বর্বরতার শিকার ইসলামী আন্দোলন-২
০৬ ই নভেম্বর, ২০০৬ রাত ৩:৩১
দেখুন !@@!162664 !@@!162665
সকাল এগারটার দিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল জামায়াতে ইসলামীর মঞ্চ দখলের জন্য পল্টন মোড় থেকে আক্রমণ শুরু করে। বিকেল ৩ টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কারনে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে তখনো লোকসমাগম তেমন হয় নি। অরক্ষিত ও স্বল্প জনবল দেখে আওয়ামী লীগ মোক্ষম আঘাত হানার পরিকল্পনা করে। যে করেই হোক জামায়াতে ইসলামীর অগ্রযাত্রাকে আজকেই চীরতরে স্তব্ধ করে দিতে হবে এমন প্রত্যয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল পৈশাচিক উল্লাশে আগ্নেয়াস্ত্র, লগি-বৈঠা, নিয়ে হামলে পড়ে নিরস্ত্র জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মীদের উপর। অসহায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা পাশবিক হামলায় রক্তাক্ত হয়ে আজাদ প্রোডাক্টস পর্যন্ত পিছু হটে আসে।
জামায়াত শিবিরের কর্মীদের বুঝতে বাকী থাকে না যে আজ তাদের যে করেই হোক টিকে থাকতে হবে। আওয়ামী শাসনামলে এই স্থানেই জামায়াত শিবিরকে পশুর মতো অত্যাচার চালানো হয়েছিল পুলিশ দিয়ে। সেদিন বায়তুল মোকাররম মসজিদে আশ্রয় নিয়েও নিস্তার মেলেনি তাদের। আওয়ামী পুলিশ বাহিনীর বুটের আঘাতে সেদিন বায়তুল মোকাররম মসজিদ যেভাবে অপবিত্র হয়েছিল তার স্মৃতি ভেসে ওঠে জামায়াত কর্মীদের মনে। জামায়াত শিবিরের কর্মী শুধু নয় পল্টন এলাকা থেকে দাড়ী-টুপিধারী যাকে পাওয়া গেছে তাকেই ধরে নির্যাতন চালানো হয়েছে এমনকি জামায়াত শিবিরের অফিসগুলো টিয়ারসেল দিয়ে অন্ধকার করে প্রথমে চরমভাবে আহত করা অফিসের নেতা-কর্মীদের এবং পরে প্রায় অচেতন একেক জনকে টেনে হিচড়ে তোলা হয়েছিল পুলিশ ভ্যানে। দশতলা ভবনে অবস্থিত অন্যান্য সাধারণ অফিস ও বাসাবাড়ি তছনছ করেছিল পুলিশ বাহিনী। এতকিছুর পরও জামায়াত শিবিরকে স্তব্ধ করা যায় নি। আজ যে তার সমুচিত জবাব আওয়ামী লীগ দিতে কুন্ঠিত হবে না তা জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের বুঝতে অসুবিধা হয় না।
বেলা বারোটার দিকে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা তাদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে আক্রমনকারীদের ধাওয়া করে। কিন্তু জেহাদের তামান্না যতই থাকুন নিরস্ত্র হয়ে অস্ত্রধারী আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় যে কত মূল্য দিতে হয় তা মুহূর্তেই জানা হয়ে যায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের। প্রকাশ্য দিবালোকে, ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিড়িয়ার ক্যামেরার সামনে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একের পর এক গুলি বর্ষণ করতে থাকে রক্তপিয়াসী আওয়ামী গুন্ডারা। বুলেটের আঘাতে মুহূর্তেই লুটিয়ে পড়ে অসংখ্য জামায়াত-শিবির কর্মী। হায়েনাদের বুলেট স্তব্ধ করে দেয় জামায়াতের তিন-তিনটি তাজা প্রাণ। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী আর সাংবাদিকদের অনুরোধ সত্ত্বেও পুলিশ থাকে সম্পূর্ণ নিষ্কৃয়। ওদের ভাব দেখে মনে হয় ওরা আসলে শক্তের ভক্ত। আজ লড়াই করে যারা টিকে যাবে কুকুরের মতো তাদের পা চাটার জন্য লুটিয়ে পড়বে পুলিশ বাহিনী। নিরীহ, নিরপরাধ সাধারণ মানুষের জান-মাল-ইজ্জত যতই ক্ষতিগ্রস্ত হোক না কেন তাতে পুলিশ বাহিনীর কিছুই যায় আসে না।
দুপুরের দুটার দিকে পুলিশ এসে উভয় পক্ষের সামনে দাড়িয়ে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। পুলিশের এই ভালোমানুষী কেমন যেন অশুভ মনে হলো। বার বার মনে হচ্ছে আরো কোন ভয়ংকর হামলার পরিকল্পনা হয়তো করছে ওরা, পুলিশ ওদের সুযোগ করে দিতেই আপাদত হস্তক্ষেপ করেছে বলে মনে হলো। ইতোমধ্যে একপিস রুটি ও একটা/অর্ধেক কলা সরবরাহ করা হলো জামায়াত কর্মীদের। জামায়াত কর্মীরা পুলিশের হাতেও পৌছে দিল কলা রুটি। কি যত্ন করেই না ওরা কলা রুটি খায় দেখে ভারী মায়া হয় ওদের জন্য, আসলে রুটি রুজির জন্যই ওরা শক্তির পুঁজো করে বুঝতে অসুবিধা হয় না। এক শিবির কর্মী বললো, "ওরা ইচ্ছে করলেই আওয়ামী সন্ত্রাস থামাতে পারতো, ওই শয়তানদের রুটি-কলা দিয়ে সৌজন্য দেখানোর মানে কি? অন্য একজন বললো, "ওরা যেই হোক, এখনতো আমাদের এরিয়ায়, ওরা আমাদের মেহমান"।
কিন্তু ওরা যে আসলে মেহমান নয় বরং ওরা শত্রুপক্ষের অগ্রবাহিনী তা একটু পরেই পরিস্কার হয়ে যায়। পল্টন মোড থেকে সুকৌশলে (নাকি পুলিশের ইশারায়) আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আস্তে আস্তে পুলিশের বেরিকেড (তারকাটার নয়, শ্রেফ পুলিশবন্ধন) ভেঙ্গে একপা একপা করে সামনে এগোতে থাকে। মাঝে মাঝে ক্যামেরা কাধে ঝুলিয়ে সাংবাদিকের বেশে একে একে ঢুকে পড়তে থাকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। সাংবাদিক ভেবে চ্যালেঞ্জ করতে সাহস পায় না শিবির কর্মীরা, পাছে আবার এ ঘটনার পুরো দায় জামায়াত শিবিরের ঘাড়ে চাপে।
(চলবে)
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরী বিভাগে ।
অতিথি বলেছেন:
আপনি লিখেছেন নিরস্ত্রজামায়াত-শিবির কর্মীদের সেদিন চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। কিন্তু রিকশা করে বয়ে আনা ইট আর একজন জামায়াত কর্মীর সেই ইট পিচঢালা শক্ত রাস্তায় ভেঙে তা ছুঁড়ে মারার উপযোগী টুকরা করার যে ছবি দেখলাম আপনাদের জোট সরকারের এক প্রভাবশালী নেতার গাঁটের টাকায় চলা স্যাটেলাইট চ্যানেলে সেটি তবে কী? ওই চ্যানেলের ওই খবরের পরের অংশ দেখলাম একজন জামায়াত নেতা বলছেন,'ভাইসব, বৃষ্টির মতো ইট ছোড়ো, বৃষ্টির মতো....।' এসব তবে কী? হযরত মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কয়টা ইসলামী আন্দোলন করেছিলেন রক্তপাতময়? আপনাদের তো দেখি -যে আন্দোলনই করেন জিহাদী তামানায় রক্তই মূখ্য থাকে। ঘটনা কী ভাইজান?
অতিথি বলেছেন:
ধোনছিড়ি রহঃ বলিয়াছেন যখন তখন স্ব ীকার করিতেই হইবে ইসলামি শাসনতন্ত্র কায়েম করিবার অভিপ্রায়ে এবংবাংলাদেশকে স্বর্গ বানানোর মহান প্রচেষ্টা নিয়া গঠিত ধোনছিড়ির প্রিয় দলজামায়াতে ইসলামির উপর বর্বর অমানবিক আক্রমন করা হইয়াছিলো, তাহাদের একজন কর্মিকে পিটিয়ে হত্যা করে হয়েছে, তবে সমস্যা হলো শিবির ও জামায়াতের গুলিতে যেইকয়জন আহত হয়েছে তারা কি মিস ফায়ারের শিকার,দলীয় প্রচারণার জন্য অনেক ধোনবালছিড়ে এখন নতুন একটা কথা শুনে আমি মুগ্ধ, আসলেই ধোনছিড়ি রহঃ বানী অমৃত সমান।
ধানসিঁড়ি বলেছেন:
সুজন, শত্রু যখন বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়ে লাশ ফেলে দেয়, তখন আঙ্গুল চোষা সুস্থ স্বাভাবিক কোন মানুষের কাজ নয়। জামায়াত ইটের টুকরো দিয়ে বৃষ্টির মতো বর্ষণ করেও যদি আওয়ামী পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ প্রতিহত করে থাকে তবে তাদেরকে অভিনন্দন জানানোই উচিত।
আজকাল বলেছেন:
গোয়েবলসের নাম শুনছি, দেখি নাই। ধানসিঁড়ির পোস্ট দুইটা পড়ে বুঝলাম..//
অতিথি বলেছেন:
ভাইজান তো দেখি বেশ তোড়ে জোড়েই নামছেন। বলোগ টারে তাইলে জামাইত্যা বালেগ বানাইয়াই ছাড়বেন বুইলা ঠিক কোরলেন শেষ ফইযযন্ত? জামাত ক্ষমতায় গেলে মুন্তিরিক হওন ঠেকায় কেডা আইন্নের? দেহের পিছন দিকে গেলনের গেলন নাল নাল অক্ত ঝরাইলেও জামাতের পেছনে চুম্মা দিতে কোন কুণ্ঠা নাই আফনের, ক্যান কনত? কারণ আফনেও একই পথের। আর পথটা হইল বাঙালীর পাছা মারার।
অতিথি বলেছেন:
সেই ডিম আগে না মুরগি আগের বিচার শুরু হইবো এখন, জামায়াত প্রস্তুতি নিছে, ইটের টুকরা ভাঙছে, ঐটা আক্রমনের পর ভাঙছে প্রতিরোধের জন্য!!!!! কইলে অনেক কিছুই কয়া যায়, আপনে সুফী মানুছ, কইছেন একটা কথা দিল লাগায়া, মিথ্যা কইছেন এর পরও আপনের কথা সত্য ধইরা নি, আমাগো তো আগে ঠিক করতে হইবো কে সত্য কয় কে মিথ্যা কয়, আপনে যখন নামাজ নুমাজ করা পাবি্লক, আপনে মিথ্যা কইবেন ক্যান, অনেক লম্ব চওড়া আলাপ চোদাইছেন অনেক জায়গায়, তাই আপনে মিথ্যা কইলেও ঐটা সইত.
অতিথি বলেছেন:
আসলে জামাতের উপরে দীর্ঘদিনের ঘৃণা উপশমের একটা সুবর্ণ সুযোগ তৈরী হয়েছে। এটাকে কোনমতেই নষ্ট হতে দেয়া ঠিক হবে না। তবে আমার কেন যেন মনে হয় যত জামাতের নেতারা মরে তত মানুষ একটা স্পেনিস বুলডগের মৃত্যু দেখার মজা পায়। এটা ঠিক নয়, আমাদের অবশ্যই মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে শিখতে হবে। একবার তাদের তালেবানদের মত হতে দেয়ার সুযোগ দেয়া উচিত। তবে পৃথিবীতে সুন্নী প্রধান কোন দেশে ইসলামী শাষন সাসটেইন করার কোন নজির দেখছি না এই যা ভয়। জয় জামাতে এসলামী।
অতিথি বলেছেন:
ঘটনা হইলো মারামারি একটা রেগুলার বিষয় এইখানে ভালো খারাপ খুইজা লাভ নাই । আউমি লীগরে গাইল আমিও দেই । অ্যাটাক করলে শিওর হ্যান্ডে করতে হয় । প্ল্যানিং খুব খারাপ ছিল । উত্তর গেট দখল হয় নাই আবার 4 টা লাশ পড়ছে হুদাই । আবারও প্রমাণ হইলো আউমি লীগ পলিটিক্যালি দূর্বল হইয়া গেছে । সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষ্যামতা নাই । ধানসিড়ির সাথে একমত । আউমি লীগ বোকাচোদা ।
অতিথি বলেছেন:
ষড়যন্ত্রকারী হায়েনারা প্রতি যুগেই ইসলামের সৈনিকদেরকে প্রতারিত করতে তৎপর ছিল অত্যন্ত সুনিপুণ কৌশলে। কিন্তু আল্লাহ বলেন যে, তাঁর কৌশলই সবার চেয়ে বড়। সুতরাং, আমরাও তা দেখতে পেয়েছি। শহীদদের জীবন দান এবং আহতদের রক্ত বৃথা যায়নি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও যাবে না। আল্লাহ তাঁর দ্্বীনকে বিজয় দান করবেনই; তাতে যালেম সম্প্রদায়ের যতই গাত্রদাহ হোক না কেন?
জাযাকুমুল্লাহ।
এস্কিমো বলেছেন:
আগের পোস্টে বললেন -।দুপুর সোয়া একটায় অফিস থেকে বেড়িয়ে পল্টন ময়দানের কাছাকাছি এসে দেখলাম পুরোটাই পুলিশের দখলে।
এবার বলছেন - দেখুন আওয়ামী বর্বরতাসকাল এগারটার দিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল জামায়াতে ইসলামীর মঞ্চ দখলের জন্য পল্টন মোড় থেকে আক্রমণ শুরু করে।
এটা ব্লগারের নিজের দেখা নয়। বর্ননার ক্ষেত্রেও পক্ষপাতিত্ব লক্ষ্যনীয়। অধিকাংশ কথাই ধারনার বশবর্তী হয়ে লিখেছেন। যা অনুমান নির্ভর।
ফজলে এলাহি বলেছেন:
দেশবাসী কখনো ভুলতে পারবেনা আওয়ামীদের এই হিংস্র চরিত্রকে। বিশ্ববাসীও ভুলতে পারবে না এই জঘন্য নৃশংসতা দেখার পর তাদের সেই নির্ঘুম রাতকে!
হট্টগোল বলেছেন:
ওই ফজলা উট @ আমার প্রশ্নের উত্তর দিস না কেন? তাইলে যে তুই মানুষ না, মাইন্যা নিলি?
রাশেদ বলেছেন:
জামাত শিবিরকে মাইরা সাফ কইরা ফেলা হউক।রাজাকার জামাতির লোক ফজইল্যা গুলাম আজমের রস খাইয়া আসছে, এখন চাঙ্গা আছে তাই।
আজকে থেকে ত্রিভুজ আওরঙ্গ ভিমরু মাহমুদ রহমান রাজাকারদের ব্যান করলাম।


















