ভাবছি মেধার বেশ্যাবৃত্তি থেকে একেবারেই ফিরে আসব। পারি না। পেট আছে। সে পেটে খিদে আছে। সংসার আছে। সে সংসারে আছে মা, বাবা, বোনরা।
আমি দেশের বিখ্যাত অনেক লেখকদের চিনি। জানিও। তারা সমাজের কাছে নমস্য। আমার কাছে ঘৃণার পাত্র। আমার মত অনেকের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তারা ব্যবহার করছে। আমরা ব্যবহৃত হচ্ছি হাতিয়ারের মত। এ পর্যন্ত আমার লেখা বই বাজারে ৪৫-এর উপরে আছে। এর মধ্যে বিশেষ ১৫টি বই আমার নামে নয়। আমি বিক্রি করে দিয়েছি। দুর্ভাগ্য বলব এই কারণে যে, আমি নামে মাত্র এই বইগুলো থেকে টাকা পেয়েছি। কিন্তু যে সামান্য টাকা পেয়েছি তা আমার কাছে অনেক।
ভণ্ড এই লেখকের সাথে আমার নয় দশ বছরের সম্পর্ক। তার ভেতর আমি মানবতার কোন দিক দেখিনি। কৃতজ্ঞতা বোধটুকুও নেই। আমি কার্পণ্য করিনি কখনও নিজেকে উজার করে দিতে। লিখতে গিয়ে ভুলে যাই এটা আমার লেখা নয়। আমি কখনও লেখাকে ফাঁকি দিতে পারি না। অথচ কোনদিন তিনি আমাকে ধন্যবাদ দেননি।
আমি একুশে পদকপ্রাপ্ত এক লেখকের কথা জানি। আমার মত এই পথ তিনিও বেছে নিয়েছেন। আমি কখন মিডিয়াতে নিজেকে জাহির করতে চাইনি। ক্যামেরায় মুখ দেখানোর অনেক সুযোগ আছে আমার। প্রিন্টমিডিয়াতে লেখা প্রকাশের বাধা নেই। কিন্তু আমার নিজেকে প্রকাশে ঘৃণা হয়। আমি বইমেলাতে দেখেছি বড় বড় লেখকরা একটু ক্যামেরার সামনে যেতে কতকিছুই না করে। এসব আমার ভাললাগে না। পারি না।
ইদানিং টাকা থাকলে পদক কেনা যায়। রাজনীতি করলেও পদক কেনা যায়। বিশ্ব রাজনীতি করলে নোবেল পর্যন্ত পাওয়া যায়। তবে নোবেল পেতে যোগ্যতার পাশাপাশি বিশ্বের বড় বড় মানুষের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠা দরকার।
আমার চোখের সামনে অনেক পুরস্কার পেয়েছেন আমার লিখে দেয়া বইয়ের লেখক। আমার মনে কোন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়নি।
আরেকটা কথা, যদিও কথাটা একটু ভেতরের। পত্রিকাতে কিছু টাকা দিলে কলাম লেখক হওয়া যায় সহজে। আপনি যে বিলটা পত্রিকা থেকে পাবেন সেটা যোগাযোগের মধ্যমকে উৎসর্গ করতে হবে। পাশাপাশি একটা লেখার জন্য ৫০০ থেকে ২০০০ হাজার টাকাই যথেষ্ট।
আমি আমাদের জাতীয় দৈনিকের বড় বড় পদে অধিষ্ঠিত কর্মকর্তাদের হাড়ে হাড়ে চিনেছে আট দশ বছর ধরে। উপরে যারা সত্যের জন্য জীবন দিয়ে দেয় তারা রাতের অন্ধকারে খুন করে মানুষ। আসলে আমার সবাই কোন না কোনভাবে বেশ্যাবৃত্তির সাথে জড়িয়ে গেছি। (চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

