আমার বেশ্যা হওয়ার নেপথ্য-২
২৩ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৫৯
এবার বইমেলাতে আমার তিনটি বই প্রকাশ হয়েছে। সরি, তিনটি নয়, একটি। বইটির নাম রেলগাড়ি ঝমাঝম। বাচ্চাদের বই। আর দুটি বই আমার লেখা হলেও আমার নামে প্রকাশ পাইনি। এতে আমার কষ্ট নেই। কষ্ট যে একেবারে নেই তা নয়। বুকের ভেতর কষ্টকে আমি লালন করতে পারি খাঁচায় পোষা পাখির মত। খাঁচায় পোষা পাখির জীবন থাকে। কিন্তু সে থাকে জীবন্মৃত। আমিও।
ভাবছি মেধার বেশ্যাবৃত্তি থেকে একেবারেই ফিরে আসব। পারি না। পেট আছে। সে পেটে খিদে আছে। সংসার আছে। সে সংসারে আছে মা, বাবা, বোনরা।
আমি দেশের বিখ্যাত অনেক লেখকদের চিনি। জানিও। তারা সমাজের কাছে নমস্য। আমার কাছে ঘৃণার পাত্র। আমার মত অনেকের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তারা ব্যবহার করছে। আমরা ব্যবহৃত হচ্ছি হাতিয়ারের মত। এ পর্যন্ত আমার লেখা বই বাজারে ৪৫-এর উপরে আছে। এর মধ্যে বিশেষ ১৫টি বই আমার নামে নয়। আমি বিক্রি করে দিয়েছি। দুর্ভাগ্য বলব এই কারণে যে, আমি নামে মাত্র এই বইগুলো থেকে টাকা পেয়েছি। কিন্তু যে সামান্য টাকা পেয়েছি তা আমার কাছে অনেক।
ভণ্ড এই লেখকের সাথে আমার নয় দশ বছরের সম্পর্ক। তার ভেতর আমি মানবতার কোন দিক দেখিনি। কৃতজ্ঞতা বোধটুকুও নেই। আমি কার্পণ্য করিনি কখনও নিজেকে উজার করে দিতে। লিখতে গিয়ে ভুলে যাই এটা আমার লেখা নয়। আমি কখনও লেখাকে ফাঁকি দিতে পারি না। অথচ কোনদিন তিনি আমাকে ধন্যবাদ দেননি।
আমি একুশে পদকপ্রাপ্ত এক লেখকের কথা জানি। আমার মত এই পথ তিনিও বেছে নিয়েছেন। আমি কখন মিডিয়াতে নিজেকে জাহির করতে চাইনি। ক্যামেরায় মুখ দেখানোর অনেক সুযোগ আছে আমার। প্রিন্টমিডিয়াতে লেখা প্রকাশের বাধা নেই। কিন্তু আমার নিজেকে প্রকাশে ঘৃণা হয়। আমি বইমেলাতে দেখেছি বড় বড় লেখকরা একটু ক্যামেরার সামনে যেতে কতকিছুই না করে। এসব আমার ভাললাগে না। পারি না।
ইদানিং টাকা থাকলে পদক কেনা যায়। রাজনীতি করলেও পদক কেনা যায়। বিশ্ব রাজনীতি করলে নোবেল পর্যন্ত পাওয়া যায়। তবে নোবেল পেতে যোগ্যতার পাশাপাশি বিশ্বের বড় বড় মানুষের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠা দরকার।
আমার চোখের সামনে অনেক পুরস্কার পেয়েছেন আমার লিখে দেয়া বইয়ের লেখক। আমার মনে কোন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়নি।
আরেকটা কথা, যদিও কথাটা একটু ভেতরের। পত্রিকাতে কিছু টাকা দিলে কলাম লেখক হওয়া যায় সহজে। আপনি যে বিলটা পত্রিকা থেকে পাবেন সেটা যোগাযোগের মধ্যমকে উৎসর্গ করতে হবে। পাশাপাশি একটা লেখার জন্য ৫০০ থেকে ২০০০ হাজার টাকাই যথেষ্ট।
আমি আমাদের জাতীয় দৈনিকের বড় বড় পদে অধিষ্ঠিত কর্মকর্তাদের হাড়ে হাড়ে চিনেছে আট দশ বছর ধরে। উপরে যারা সত্যের জন্য জীবন দিয়ে দেয় তারা রাতের অন্ধকারে খুন করে মানুষ। আসলে আমার সবাই কোন না কোনভাবে বেশ্যাবৃত্তির সাথে জড়িয়ে গেছি। (চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৫৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: চোখের পানি কষ্ট কমায়
কিন্তু বেশ্যাবৃত্তি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ থাকলে অবশ্যি বের হওয়া উচিত। ব্লগে লিখতে থাকেন সবাই এগিয়ে আসবে আপনাকে বের করে আনার জন্য।
আগের পর্ব টা ও পড়লাম। সত্যি আপনার লেখার হাত অনেক ভাল।
লেখক বলেছেন: ভাললাগার কথাগুলো শরীরে চলাচল করে রক্তের সাথে। আসলে আমরা সবাই সবার জন্যে। আবার কেউ কারো না। ধন্যবাদ।
মাহাফুজুর রহমান বলেছেন:
খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসুন আমরা আপনার নামে জয়ধ্বণি করব।
লেখক বলেছেন: ক্যান্সারের রোগী তার আয়ুর চেয়ে বেশি বাঁচে যদি সে না জানে যে তার ক্যন্সার হয়েছে। ধন্যবাদ।
বাঙ্গাল বলেছেন:
অ ভাই...আপ্নেরে আমার একটা লেখায় লিংকে লাগাইছি...দেইখেন।ব্যানানা বাংলাদেশ-৩ (গডফাদারের স্টিমুলাস মূলা)
লেখক বলেছেন: এক থেকেই শুরু হোক প্রতিবাদ।
অন্যআনন বলেছেন:
আর ইউ সিরিয়াস?
লেখক বলেছেন: ইয়েস।
জ্বীন বলেছেন:
@ সো-(হেল)!! আহমেদ , একমত ।এখনো কি এই চক্র থেকে বের হতে পারছেন না ?
আশা করি আপনি একদিন পারবেন ।
লেখক বলেছেন: বিষয়টা নেশার মত।
নীলকমল বাংলাদেশ বলেছেন:
কিছুই বুঝতে পারলাম না, বিখ্যাত কোন লেখক আপনার বই নিজের নামে ছাপিয়েছে? এ কি করে সম্ভব?
লেখক বলেছেন: এক বিদেশী তার নিজ কন্যাকে আটকে রেখে একাধিক সন্তানের জন্ম দিয়েছে।
লেখক বলেছেন: অবশ্যই আসব।
ট্র্যানজিস্টার বলেছেন:
গোস্টরাইটিং চালিয়ে যান, তবে সেইসাথে নিজে লিখতে থাকুন। দুটোই চালিয়ে যান।চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের বৌদ্ধিক অবনমনের চিত্র এবং তথাকথিত পন্ডিতদের।
বাংলাদেশে মেধার তীব্র সঙ্কট।
লেখক বলেছেন: ভাল কথা বুকে বাজে কাঁকনের মত, নদীর টেউয়ের মত, পাখির গানের মত।
কৌশিক বলেছেন:
একি শুনাইলেন!
লেখক বলেছেন: অ-নে-ক- কিছুই বাকি আছে শোনার।
ইন্দ্রধাম বলেছেন:
বিষয়টা সত্যিই ভাববার মতো! তবে এ সমস্য থেকে উত্তরণের সঠিক পথ কোনটি বলে লেখক আপনি মনে করেন?
লেখক বলেছেন: গাঁটে জোর, আর মনের বল। তবে মনের সাহসই সবচেয়ে বড়। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: সহজ কথা যায় না বলা সহেজ।
শামীমা িবনেত রহমান বলেছেন:
খুব ড্রামাট্যিক পেইন আপনার। আপনি কি আমার কাছে পার্সোনালি ওপেন হবেন?জানান। খুব জরুরি। খুবই জরুরি। নিজেকে বিক্রি করার বেদনা চোখের পানির ওজন দিয়ে মেপে সান্তনা পাবার পর্ব শেষ করা দরকার। আমার কন্ট্যাক্ট নম্বরটা দিলাম: ০১৯১৯৯৯৯৭৯৭। ফোন করবেন।
লেখক বলেছেন: কখনও কখনও অচেনা মানুষ আপন মানুষের চেয়ে আপন হয়। ধন্যবাদ।
শতকত বলেছেন:
বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, কিন্তু জানি আমাদের দেশে এটাই বাস্তবতা। আমরা সবাই কোন না কোন সমস্যার আবর্তে ঘুরপাক খাই। এ থেকে বেরিয়ে আসার পথ আমাদের জানা থাকে না। শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।
লেখক বলেছেন: তবুও বেঁচে আছি, থাকবোই।
শফিক আসাদ বলেছেন:
ভালো লাগলো এটাও।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
রেজওয়ান শুভ বলেছেন:
বাস্তবতা .........
লেখক বলেছেন: বাস্তবতা নিষ্ঠুর হলেও তাকে মেনে নিতে হয়। মেনে নিতে বাধ্য করে।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, অবস্থা বেগতিক।
আথচ ভাবি আনেক জানি।
লেখক বলেছেন: অনেক অসম্ভবও সম্ভব শুধুই টাকার জন্যে। টাকাকেইতো পৃথিবীর দ্বিতীয় ঈশ্বর বলা হয়।
রথে চেপে এলাম বলেছেন:
অবাক হলাম ! খুব খারাপ লাগল জেনে। ধিক্ তথাকথিত পন্ডিতদের।
লেখক বলেছেন: যশের চূড়ায় অবস্থানরত অনেকই এমন।
সালাহউদ্দীন আহমদ বলেছেন:
এ ধরণের ১টা কথা আগে শুনেছিলাম, কানাঘুষায় ২/১ জন লেখকের নামও শুনেছি। আপনিও হয়তো তাদের দ্বারা ব্যবহ্রত। আমার আশা ১দিন আপনি নিজ নামেই খ্যাত হবেন। তখন অন্য ২/১ জন দরিদ্র লেখককে সাহায্য করবেন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















তাও, আপনার সাথে যে অন্যায় হচ্ছে, হয়েছে, তার জন্যে সহমর্মিতা।