somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাত্র একটি টাকা দিলে, নাহিদা ফিরবে মায়ের কোলে

০৩ রা জুন, ২০০৯ সকাল ১১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ আমি অফিস থেকে ফেরার পথে আমার পাঁচ বছরের মেয়ের জন্য কোন খাবার কিনব না। মেয়ে যদি জিজ্ঞেস করে, বাবা আমার জন্য খাবার আননি কেন? আমি বলব, মা, তোমার এক আন্টি অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। তোমার খাবার কেনার টাকা আমি তাকে বাঁচাতে দিয়ে এসেছি। ও হয়তো বুঝবে না মৃত্যু কাকে বলে। কেন মানুষ অসুস্থ্য হয়। হয়তো মন খারাপ করে বসে থাকবে কিছুক্ষণ। তারপর খাবারের কথা ভুলে আবার তার কাজকর্ম শুরু করবে। আজ একজন রিকশাঅলা তার সন্তানের জন্য চকলেট নিয়ে যাবে না। সে তার টাকাটা দিবে নাহিদাকে। আজ একজন কেরাণী বাসায় ফেরার সময় হেঁটে ফিরবে। সেই টাকায় চিকিৎসা হবে নাহিদার। যে লোকটা সিগারেট খেয়ে প্রতিদিন ২০০ টাকা খরচ করে সে লোকটা আজ মাত্র একটা সিগারেট খাওয়া বন্ধ করে সে টাকাটা দিবে নাহিদার ভাল হয়ে ওঠার জন্য। যে মানুষটা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভিক্ষা করে, সে মানুষটা আজ দুপুরের খাবার খাবে না। দুপুরের খাবারের টাকাটা দিয়ে নাহিদার চিকিৎসা চলবে। একজন টেক্সি কিংবা সিএনজি চালক আজ তার যাত্রীকে বিনয়ের সাথে বলবে, আজ আপনার কাছে বেশি ভাড়া চাইব না। আজ মিটার থেকে দশটি টাকা বাড়িয়ে দেবেন। আমি ওই দশ টাকা দিয়ে নাহিদাকে বাঁচিয়ে তুলব। রাস্তায় দাঁড়িয়ে খবরের কাগজ বিক্রি করা একজন হকার আজ নাহিদার জন্য দেবে পাঁচ টাকা। হাসপাতাল এগিয়ে আসবে নাহিদার চিকিৎসা খরচ অর্ধেক করতে। বিভিন্ন সাহায্যকারী প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসবে মানবতার হাত বাড়িয়ে। প্রিন্ট মিডিয়া নাহিদার পাশে মানবতা নিয়ে দাঁড়াবে। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া আসবে একটি ফুলের গন্ধ ম্লান হওয়া থেকে ফিরিয়ে আনতে। মানুষের জন্য গান গাওয়া শিল্পীরা নামবে পথে নাহিদাকে বাঁচানোর গান গাইতে। আমরা আমাদের অবস্থান থেকে যে যেভাবে পারবো আজ নাহিদাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসব।
আমরা পনের কোটি মানুষ। একটি করে নাহিদার চিকিৎসায় টাকা দিলে হবে পনের কোটি টাকা। না, নাহিদার চিকিৎসার জন্য ১৫ কোটি টাকার কোন দরকার নেই। দরকার শুধু মাত্র ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা। খুব কি বেশি টাকা। না। আমরা অমিতকে বাঁচিয়েছি। আমরা সিডরে হাত বাড়িয়ে দিয়েছি মানুষের পাশে মানবতা নিয়ে। আমরা পারি। আমরা সব পারি। আমরা নাহিদাকে ফিরিয়ে আনতে পারি।
নাহিদা চলে যাচ্ছে। নাহিদ কাঁদছে। ওর চোখে ফোঁটা ফোঁটা পানি। আমরা নাহিদার চলে যাওয়া রুখতে পারি। আমরা পারি নাহিদাকে আমাদের মাঝে ধরে রাখতে। আমরা আমাদের মাঝে দায়িত্ব ভাগ করে নিই। আমি অঙ্গিকার করি- আমার অবস্থান থেকে আমি মাত্র ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা জোগাড় করে দেব। আমি অবশ্যই পারব। আমি না পারি আমি আমার পরিচিতদের কাছে হাত পাতব। এ হাত পাতাতে আমার কোন লজ্জা নেই। আমার কোন দুঃখ নেই। এ হাত পাতার মধ্যে আছে মহত্ব। আমার দৃঢ় অঙ্গিকার থাকতে হবে- আমি নাহিদাকে বাঁচাবই।
নাহিদা ডাক্তারী পড়ছে। ভবিষ্যতের ডাক্তার। আজ যদি আমরা নাহিদাকে বাঁচাতে পারি তাহলে একদিন নাহিদাই বাঁচাতে পারবে এদেশের হাজার হাজার মানুষের প্রাণ। আপনি শুধু আজ ৩০টি মিনিট সময় নাহিদার চিকিৎসার অর্থের জন্য ব্যয় করেন। আপনি অবশ্যই নাহিদাকে বাঁচতে পারবেন।
আমি প্রত্যেকটি ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনারা নাহিদার চিকিৎসার ব্যাপারে অর্থের যোগান দিতে এগিয়ে আসুন। প্রিন্ট মিডিয়াকে বিনয়ের সাথে বলছি- আসুন, আমরা নাহিদার জন্য একটি তহবিল খুলি। কন্ঠ শিল্পীদের বলছি- আপনারা একটা শো করুণ এবং টিকিট বিক্রির টাকা নাহিদাকে বাঁচাতে সাহায্য করুন। চিত্রশিল্পীরা একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করুন, প্রদর্শনীতে ছবি বিক্রির টাকাটা দিন আমাদের নাহিদাকে। যারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তাদের বলছি- নাহিদার দিকে তাকান। তাকে বাঁচিয়ে তুলন। বিভিন্ন সংগঠন ও বিত্তবানদের কাছে সবিনয় অনুরোধ- আপনার যে যা পারেন তাই দিয়ে আমাদের নাহিদাকে বাঁচিয়ে তুলুন।
স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীদের প্রতি আমি অনুরোধ জানাচ্ছি- একদিনের টিফিনের খরচটা বাঁচিয়ে সে টাকাটা আমরা নাহিদাকে ভাল করতে ব্যয় করি। সরকারি অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারীদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি- আপনারা একদিনের টাকা আমাদের নাহিদাকে বাঁচাতে দিয়ে দিন।
নাহিদাকে মৃত্যু ঘিরে ধরেছে অক্টোপাশের মত। তার দুচোখে আজ রাতের অন্ধকার। অপেক্ষা, কখন মৃত্যু তাকে নিয়ে যায় তার হিম শীতল কোলে। না, আমরা নাহিদাকে মরতে দেব না। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৪৩ নাম্বার ওয়ার্ডে শুয়ে আছে নাহিদা। ২৫ হাজার ছাত্রছাত্রীর মধ্যে মেডিক্যালের ভর্তি পরীক্ষায় ও ছিল ৮৯ তম। ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে এই মেধাবী বোন আজ মৃত্যুর দিন গুনছে। তার চোখের আমাদের কোন কথা না বলেও অনেক কথা বলে যাচ্ছে।
নাহিদার শরীরে বাসা বেঁধেছে ক্রনিক মাইলোয়েড লিওকোমিয়া নামের ক্যান্সার। চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছেন, ৬ মাসের মধ্যে বোনম্যারো ট্রান্সফার করতে না পারলে নাহিদাকে বাঁচানো যাবে না। এর মধ্যে সে আবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। সবকিছু যেন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে।
তারপরও নাহিদা বাঁচবে। আমরা পারি নাহিদকে বাঁচাতে। আমরা নাহিদকে বাঁচাবই। শুধুমাত্র টাকার জন্য মৃত্যুর কাছে পরাজয় হবে নাহিদের সে আমরা হতে দেব না। নাহিদের মৃত্যুর কাছে পরাজয় হলে সে পরাজয় হবে আমাদের। সে পরাজয় হবে মানবতার।
নাহিদাদের সাথে যোগাযোগ করার ফোন নাম্বার- ০১৯১১-৫২৩৮৯২ ও ০১৬৭৪-১৭৫০৪৫ ।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০০৯ দুপুর ১:১৮
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×