আমরা পনের কোটি মানুষ। একটি করে নাহিদার চিকিৎসায় টাকা দিলে হবে পনের কোটি টাকা। না, নাহিদার চিকিৎসার জন্য ১৫ কোটি টাকার কোন দরকার নেই। দরকার শুধু মাত্র ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা। খুব কি বেশি টাকা। না। আমরা অমিতকে বাঁচিয়েছি। আমরা সিডরে হাত বাড়িয়ে দিয়েছি মানুষের পাশে মানবতা নিয়ে। আমরা পারি। আমরা সব পারি। আমরা নাহিদাকে ফিরিয়ে আনতে পারি।
নাহিদা চলে যাচ্ছে। নাহিদ কাঁদছে। ওর চোখে ফোঁটা ফোঁটা পানি। আমরা নাহিদার চলে যাওয়া রুখতে পারি। আমরা পারি নাহিদাকে আমাদের মাঝে ধরে রাখতে। আমরা আমাদের মাঝে দায়িত্ব ভাগ করে নিই। আমি অঙ্গিকার করি- আমার অবস্থান থেকে আমি মাত্র ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা জোগাড় করে দেব। আমি অবশ্যই পারব। আমি না পারি আমি আমার পরিচিতদের কাছে হাত পাতব। এ হাত পাতাতে আমার কোন লজ্জা নেই। আমার কোন দুঃখ নেই। এ হাত পাতার মধ্যে আছে মহত্ব। আমার দৃঢ় অঙ্গিকার থাকতে হবে- আমি নাহিদাকে বাঁচাবই।
নাহিদা ডাক্তারী পড়ছে। ভবিষ্যতের ডাক্তার। আজ যদি আমরা নাহিদাকে বাঁচাতে পারি তাহলে একদিন নাহিদাই বাঁচাতে পারবে এদেশের হাজার হাজার মানুষের প্রাণ। আপনি শুধু আজ ৩০টি মিনিট সময় নাহিদার চিকিৎসার অর্থের জন্য ব্যয় করেন। আপনি অবশ্যই নাহিদাকে বাঁচতে পারবেন।
আমি প্রত্যেকটি ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনারা নাহিদার চিকিৎসার ব্যাপারে অর্থের যোগান দিতে এগিয়ে আসুন। প্রিন্ট মিডিয়াকে বিনয়ের সাথে বলছি- আসুন, আমরা নাহিদার জন্য একটি তহবিল খুলি। কন্ঠ শিল্পীদের বলছি- আপনারা একটা শো করুণ এবং টিকিট বিক্রির টাকা নাহিদাকে বাঁচাতে সাহায্য করুন। চিত্রশিল্পীরা একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করুন, প্রদর্শনীতে ছবি বিক্রির টাকাটা দিন আমাদের নাহিদাকে। যারা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তাদের বলছি- নাহিদার দিকে তাকান। তাকে বাঁচিয়ে তুলন। বিভিন্ন সংগঠন ও বিত্তবানদের কাছে সবিনয় অনুরোধ- আপনার যে যা পারেন তাই দিয়ে আমাদের নাহিদাকে বাঁচিয়ে তুলুন।
স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীদের প্রতি আমি অনুরোধ জানাচ্ছি- একদিনের টিফিনের খরচটা বাঁচিয়ে সে টাকাটা আমরা নাহিদাকে ভাল করতে ব্যয় করি। সরকারি অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারীদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি- আপনারা একদিনের টাকা আমাদের নাহিদাকে বাঁচাতে দিয়ে দিন।
নাহিদাকে মৃত্যু ঘিরে ধরেছে অক্টোপাশের মত। তার দুচোখে আজ রাতের অন্ধকার। অপেক্ষা, কখন মৃত্যু তাকে নিয়ে যায় তার হিম শীতল কোলে। না, আমরা নাহিদাকে মরতে দেব না। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৪৩ নাম্বার ওয়ার্ডে শুয়ে আছে নাহিদা। ২৫ হাজার ছাত্রছাত্রীর মধ্যে মেডিক্যালের ভর্তি পরীক্ষায় ও ছিল ৮৯ তম। ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে এই মেধাবী বোন আজ মৃত্যুর দিন গুনছে। তার চোখের আমাদের কোন কথা না বলেও অনেক কথা বলে যাচ্ছে।
নাহিদার শরীরে বাসা বেঁধেছে ক্রনিক মাইলোয়েড লিওকোমিয়া নামের ক্যান্সার। চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছেন, ৬ মাসের মধ্যে বোনম্যারো ট্রান্সফার করতে না পারলে নাহিদাকে বাঁচানো যাবে না। এর মধ্যে সে আবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। সবকিছু যেন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে।
তারপরও নাহিদা বাঁচবে। আমরা পারি নাহিদকে বাঁচাতে। আমরা নাহিদকে বাঁচাবই। শুধুমাত্র টাকার জন্য মৃত্যুর কাছে পরাজয় হবে নাহিদের সে আমরা হতে দেব না। নাহিদের মৃত্যুর কাছে পরাজয় হলে সে পরাজয় হবে আমাদের। সে পরাজয় হবে মানবতার।
নাহিদাদের সাথে যোগাযোগ করার ফোন নাম্বার- ০১৯১১-৫২৩৮৯২ ও ০১৬৭৪-১৭৫০৪৫ ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

