কলকাতা নিউমার্কেট থেকে বাস ধরলাম গন্তব্য বেহালা। উদ্দেশ্যে সৌরভ গাঙ্গুলীর বাড়ী। বাসে উঠার পর সীট পেলাম না। কারণ তখণ স্কুলের সময়। আর এই সময়টাতে স্কুলের ছাত্র/ছাত্রীদের অগ্রাধিকার বেশী থাকে।
বাসে উঠার পর দেখালাম বাস পরিপূর্ণ । একটা জায়গায় দাড়ালাম। কোন রকমে বাসের রড ধরে যাচ্ছি। শীতের দিন আমি ঘেমে একেবারে ভিজে যাচ্ছি, না গরমে নয়, আমার শরীরের তাপমাত্র বেড়ে যাওয়ায়।
আমি যেখানে দাড়িয়েছি তারা আশে পাশে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীরা একদম গা ঠেসে দাড়িয়ে। আমি অনুভব করতে পারছি আমার দেহের বিভিন্ন জায়গায় নরম কিছু জিনিসের স্পর্শ। এবার বুঝেন আমার কি অবস্থা? আমার শরীরের ঘাম দেখে ছাত্রীদের বুঝার বাকী রইল না, আমার ভিতরে কি হচ্ছে। এটা হল ইন্ডিয়ারদের কালচার। ছেলে মেয়ে কোন ভেদাভেদ নাই। কিন্তু আমাদের দেশে তো আর এসব চলবে না। তাই ভিড়াভিতে আমাদের দেশের মেয়েরা হচ্ছে না যৌন নিপিড়নের স্বীকার। এমনি একটা ঘটনা-
অফিসে কাজে প্রায়ই সময় ঢাকা চষে বেড়াতে হয়। বেশীর যাতায়াত গুলশান, বারীধারা, বাড্ডা। কাকরাইল মোড় থেকে ফাল্গুনের টিকিট কেটে অনেকক্ষন দাড়ানোর পর গাড়ী আসলো। একটা কথা বলা রাখি। এমনিতে দেখবেন বিভিন্ন সার্ভিসের অনেক গুলো গাড়ী যাতায়াত করছে। কিন্তু আমি যেই সেই সার্ভিসের টিকিট কাটবো অমনি রহস্যজনকভাবে বাসের যাতায়াত কমে যাবে। নরমালী আমার বাসের জন্য কমপক্ষে পৌনে এক ঘন্টা দেরী করতে হয়। আমার অভ্যাস হয়ে গেছে। যাক বাসে উঠলাম।
মৌচাক মোড় থেকে একটি মেয়ে উঠল, অষ্টাদশী সুন্দরী সুউন্নত বুক (একটু বেশী উন্নত, যা কয়েক হাত উড়নায় ঢেকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না, নাকি ঢেকে রাখতে চাচ্ছেন না ঠিক বুঝলাম না) । ড্রাইভারের বাম পাশে মহিলা সিটের দরজার কাছে বসল। আমি ডান দিকে বসে আছি। আশ্চার্য্যজনক ভাবে একটা সীট পেয়েছি, যা আমি কখনও পাই না। আমার বাস ভাগ্য আসলে একেবারে খারাপ না।
কিছুদুর যাওয়ার পর লক্ষ করলাম। মেয়েটি পিছনে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। গাড়ীর হেলপার দরজার কাছে ছিল। লক্ষ্য করলাম হেলপার আস্তে আস্তে তার ডান হাত চালান করে দিচ্ছে মেয়েটির বুকে। মেয়েটি কিছুক্ষন পর পর একটু করে মোচড় দিয়ে উঠছে, অমনি হেলপার হাত সরিয়ে নিচ্ছে। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলাম না। এ আমি কি দেখছি?
কয়েকবার এই দৃশ্য দেখার পর মনে হল শুয়রের বাচ্চারে লাথ্থি দিয়ে দরজা থেকে ফেলে দেই রাস্তায়। আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না কি করব? আমার কি করা উচিৎ? কাকে বলব? না কিছুই করতে পারি নাই। অন্য সবার মত আমার গন্তব্যে ঠিকই নেমে পড়েছি। তার পরে এইভাবে জানোয়ারের ঘাবলা খেতে খেতে মেয়টি কতদূর গেছে জানি না।
আমাদের দেশে মা বোনরা এভাবে বাসে যৌন নিপিড়নের স্বীকার হচ্ছে প্রতিদিন। এই নিয়ে কয়েকটা পোষ্ট ও মন্তব্য পড়লাম। আসলে এর কোন সমাধান কি আসবে?
না এর কোন সমাধান নাই। সমাধান একটাই- বদলাতে হবে আমাদের সমাজ ব্যবস্থাকে। আমরা যে শংকর জাতি তার প্রমাণ আমরা করছি আমাদের বিভিন্ন কর্মকান্ডে। আমাদের পার্শবর্তী দেশ ভারত পশ্চিমা সংস্কৃতিতে ছেয়ে গেছে, আর আমাদের কিছু কিছু শহরের কিছু কিছু অভিজাত এলাকা গুলি। গুলশান, বারীধারা, ধানমন্ডি, বিভিন্ন শপিং মলে বড়লোকদের আদুরে কন্যাদের লক্ষ্য করুন, মনে হবে কোন পশ্চিমা দেশে এসে পড়েছি। তাদের মনেই হয় না যে- হাজার হাজার কামুক দৃষ্টি তাদের এই স্বল্প বসন ভেদে করে তাদের ইজ্জত লুণ্ঠিত করছে হাজার বার। কারণ আমাদের এভাবে দেখে অভ্যাস নাই।
আমার আসলে দুটানার মধ্যে আছি। না পাড়ছি রক্ষনশীল হতে, না পাড়ছি ধর্মের বেড়াজাল ছিন্ন করে অপসস্কৃতির দিকে হাটতে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা মুসিলম ইচ্ছা করলেই আমার যা যা খুশি তাই করেত পারবো না। কারণ আমাদের দিকনির্দেশনার জন্য আছে একটি মহা মূল্যবা ধর্মগ্রন্থ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



