somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাসে একদিন.......। :-* (পর্ব-৩ ১৮+)

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কলকাতা নিউমার্কেট থেকে বাস ধরলাম গন্তব্য বেহালা। উদ্দেশ্যে সৌরভ গাঙ্গুলীর বাড়ী। বাসে উঠার পর সীট পেলাম না। কারণ তখণ স্কুলের সময়। আর এই সময়টাতে স্কুলের ছাত্র/ছাত্রীদের অগ্রাধিকার বেশী থাকে।


বাসে উঠার পর দেখালাম বাস পরিপূর্ণ । একটা জায়গায় দাড়ালাম। কোন রকমে বাসের রড ধরে যাচ্ছি। শীতের দিন আমি ঘেমে একেবারে ভিজে যাচ্ছি, না গরমে নয়, আমার শরীরের তাপমাত্র বেড়ে যাওয়ায়।


আমি যেখানে দাড়িয়েছি তারা আশে পাশে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীরা একদম গা ঠেসে দাড়িয়ে। আমি অনুভব করতে পারছি আমার দেহের বিভিন্ন জায়গায় নরম কিছু জিনিসের স্পর্শ। এবার বুঝেন আমার কি অবস্থা? আমার শরীরের ঘাম দেখে ছাত্রীদের বুঝার বাকী রইল না, আমার ভিতরে কি হচ্ছে। এটা হল ইন্ডিয়ারদের কালচার। ছেলে মেয়ে কোন ভেদাভেদ নাই। কিন্তু আমাদের দেশে তো আর এসব চলবে না। তাই ভিড়াভিতে আমাদের দেশের মেয়েরা হচ্ছে না যৌন নিপিড়নের স্বীকার। এমনি একটা ঘটনা-

অফিসে কাজে প্রায়ই সময় ঢাকা চষে বেড়াতে হয়। বেশীর যাতায়াত গুলশান, বারীধারা, বাড্ডা। কাকরাইল মোড় থেকে ফাল্গুনের টিকিট কেটে অনেকক্ষন দাড়ানোর পর গাড়ী আসলো। একটা কথা বলা রাখি। এমনিতে দেখবেন বিভিন্ন সার্ভিসের অনেক গুলো গাড়ী যাতায়াত করছে। কিন্তু আমি যেই সেই সার্ভিসের টিকিট কাটবো অমনি রহস্যজনকভাবে বাসের যাতায়াত কমে যাবে। নরমালী আমার বাসের জন্য কমপক্ষে পৌনে এক ঘন্টা দেরী করতে হয়। আমার অভ্যাস হয়ে গেছে। যাক বাসে উঠলাম।

মৌচাক মোড় থেকে একটি মেয়ে উঠল, অষ্টাদশী সুন্দরী সুউন্নত বুক (একটু বেশী উন্নত, যা কয়েক হাত উড়নায় ঢেকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না, নাকি ঢেকে রাখতে চাচ্ছেন না ঠিক বুঝলাম না) । ড্রাইভারের বাম পাশে মহিলা সিটের দরজার কাছে বসল। আমি ডান দিকে বসে আছি। আশ্চার্য্যজনক ভাবে একটা সীট পেয়েছি, যা আমি কখনও পাই না। আমার বাস ভাগ্য আসলে একেবারে খারাপ না।

কিছুদুর যাওয়ার পর লক্ষ করলাম। মেয়েটি পিছনে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। গাড়ীর হেলপার দরজার কাছে ছিল। লক্ষ্য করলাম হেলপার আস্তে আস্তে তার ডান হাত চালান করে দিচ্ছে মেয়েটির বুকে। মেয়েটি কিছুক্ষন পর পর একটু করে মোচড় দিয়ে উঠছে, অমনি হেলপার হাত সরিয়ে নিচ্ছে। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলাম না। এ আমি কি দেখছি?

কয়েকবার এই দৃশ্য দেখার পর মনে হল শুয়রের বাচ্চারে লাথ্থি দিয়ে দরজা থেকে ফেলে দেই রাস্তায়। আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না কি করব? আমার কি করা উচিৎ? কাকে বলব? না কিছুই করতে পারি নাই। অন্য সবার মত আমার গন্তব্যে ঠিকই নেমে পড়েছি। তার পরে এইভাবে জানোয়ারের ঘাবলা খেতে খেতে মেয়টি কতদূর গেছে জানি না।

আমাদের দেশে মা বোনরা এভাবে বাসে যৌন নিপিড়নের স্বীকার হচ্ছে প্রতিদিন। এই নিয়ে কয়েকটা পোষ্ট ও মন্তব্য পড়লাম। আসলে এর কোন সমাধান কি আসবে?

না এর কোন সমাধান নাই। সমাধান একটাই- বদলাতে হবে আমাদের সমাজ ব্যবস্থাকে। আমরা যে শংকর জাতি তার প্রমাণ আমরা করছি আমাদের বিভিন্ন কর্মকান্ডে। আমাদের পার্শবর্তী দেশ ভারত পশ্চিমা সংস্কৃতিতে ছেয়ে গেছে, আর আমাদের কিছু কিছু শহরের কিছু কিছু অভিজাত এলাকা গুলি। গুলশান, বারীধারা, ধানমন্ডি, বিভিন্ন শপিং মলে বড়লোকদের আদুরে কন্যাদের লক্ষ্য করুন, মনে হবে কোন পশ্চিমা দেশে এসে পড়েছি। তাদের মনেই হয় না যে- হাজার হাজার কামুক দৃষ্টি তাদের এই স্বল্প বসন ভেদে করে তাদের ইজ্জত লুণ্ঠিত করছে হাজার বার। কারণ আমাদের এভাবে দেখে অভ্যাস নাই।
আমার আসলে দুটানার মধ্যে আছি। না পাড়ছি রক্ষনশীল হতে, না পাড়ছি ধর্মের বেড়াজাল ছিন্ন করে অপসস্কৃতির দিকে হাটতে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা মুসিলম ইচ্ছা করলেই আমার যা যা খুশি তাই করেত পারবো না। কারণ আমাদের দিকনির্দেশনার জন্য আছে একটি মহা মূল্যবা ধর্মগ্রন্থ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:২৫
২১টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×