সময় ১৯৯৬। তারিখ মনে নেই। শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শা.বি.) ভর্তির জন্য হাজির হলাম, আমার মেধা ভিত্তিক স্থান ৬১। তখন কম্পিউটার বিভাগ ছাত্রদের কাছে খুবই আকর্ষনীয়, যদিও আমি তখন কম্পিউটার চোখেই দেখিনি, আর ওই বিষয়ে কি কি পড়ান হয় তা জানাতো দুরের কথা। যাই হোক, ইন্টারভিউ/এর পর জানলাম আমি কম্পউটার বিভাগে ভর্তি হতে পারব, আমি খুব খুশি হলাম এই ভেবে যে আমার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। আমাকে একটি ভর্তি ফরম ধরিয়ে দেওয়া হলো, সেখানে লেখা আছে ভর্তির জন্য স্ব স্ব বিভাগীয় প্রধানের স্বাক্ষর লাগবে, আমি প্রমাদগুনলাম। কারন তখন পর্যন্ত কারো কাছ থেকে স্বাক্ষর নেয়ার মতোও কোন দ্বায়িত্বশীল কাজ আমাকে করতে হয়নি, সব সময়ই আমার বড়ভাই, বাবা অথবা বড় কেউ সঙ্গে থাকতেন। সেই প্রথম আমি একা একা নিজ জেলার বাইরে এসেছি তাও আবার পাবনা থেকে সিলেট। স্বাক্ষর নিতে হলে কি কথা বলতে হয়, তাই-ই জানিনা। যাই হোক, বিভাগীয় প্রধানের রুমটা খুঁজে দরজার সামনে দাড়িয়ে আছি। জানিনা ভেতরের মানুষটা কেমন। তিনি কি পাবনা জেলা স্কুলের এ.কে. আজাদ স্যারের মতো হাসিখুশি একজন মানুষ? নাকি জুহা স্যারের মত, যিনি আমার ক্লাসের এক বন্ধুকে দেয়ালের সাথে মাথা ঠুকেদিয়েছিলেন এই জন্য যে সে বাড়ির কাজ করেনি। এই সব ভাবতে ভাবতে দেখি, ঘরের ভেতর হালকা গড়নের সার্ট ইন করা বেল্ট ছাড়া একজন মানুষ বের হয়ে জিজ্ঞাসা করছে, তোমার কি সই লাগবে? তিনিই ড: জাফর ইকবাল যার কোন বই আমি তখনও পড়ি নাই কারন তিনি তখনও এখনকার মত এত বিখ্যাত হন নাই (আমার মতে)। সাথে সাথেই তিনি স্বাক্ষর করে দিলেন আর তেমন বেশী কথা বললেন না। ভাব খানা এমন, তুমি তো এখানেই ভর্তি হবে তখন কথা বলা যাবে।
(চলবে)
পর্ব ২: শিক্ষক Click This Link
-------------------------
কালকে একটা পেপার সাবমিট করতে হবে, তাই ইচ্ছা থাকা স্বত্বেও বেশি লিখতে পারলাম না।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৪:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



