somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার দেখা জাফর ইকবাল: পর্ব ২ (শিক্ষক)

১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৮:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথমে ভেবেছিলাম ধারাবাহিক ভাবে লিখব, ১৯৯৬ সালের পর থেকে সময়ের সাথে সাথে তার কি কি ঘটনা বা কথা আমার জীবন কে প্রভাবিত করেছে, কিন্তু পরে ভেবে দেখলাম সেটা অনেক একঘেয়ে হয়ে যাবে। তাই এবার লিখতে চাইছি শিক্ষক হিসাবে জাফর স্যার কেমন ছিলেন।

প্রথমে বলব সময়ের ব্যাপারটা, স্যার কি সত্যিই ঠিকমতো ক্লাস করান, নাকি ব্যস্ততার জন্য ঠিক মতো ক্লাসে আসেন না অথবা যেন তেন ভাবে সময় কাটান। এর পর বলব প্রথম সেমিস্টারে তিনি আমাদের কেমন পড়িয়ে ছিলেন।

ক্লাসে জাফর স্যার: স্যারের ক্লাস সাধারনত সকাল ৮ টায় শুরু হয়, ব্যতিক্রম শুধু রবিবার। সেদিনটায় স্যারের ক্লাস ১০টার পর। কারন বিভিন্ন কাজে স্যার কে প্রায় প্রতি সপ্তাহে সিলেটের বাইরে যেতে হয়, আর তিনি সেটা যান বৃহস্পতিবার ক্লাসের পর অথবা শুক্রবারে আর ফেরেন রবিবার সকালে। কোন কারনে রাস্তায় দেরি হয়ে যেন ক্লাসে আসতে দেরী না হয়, এই কারনে তিনি রবিবার ক্লাস শুরু করেন দেরীতে। শাবি-তে আমাদের ক্লাস ৫০ মিনিট। স্যারকে আমি কখনও দেরীতে ক্লাসে আসতে দেখিনাই। আর ক্লাসে তিনি পুরো ৫০ মিনিটই পড়াতেন। অবশ্য প্রথম ক্লাসেই তিনি বলে দিয়েছিলেন ৫০ মিনিট হলে আমরা যেন তাকে মনে করিয়ে দেই। তিনি জানেন ক্লাস যতই মধুর হোক, সেই বয়সে একটানা বশেথাকা ছাত্রছাত্রীদের জন্য কষ্টকর। তিনি চেষ্টা করতেন আমরা যেন তাকে ভয় না পাই।

ছিদ্রান্বেষীরা প্রশ্ন করতে পারেন, তিনি সপ্তাহে কয়টা ক্লাস নেন???? এখানেও তাদের হতাশ হতে হবে। এখানে একটু বলতে হবে আমাদের বিভাগের শিক্ষক সংকটের অবস্থা। আমাদের অবস্থা এমন যে, প্রতিটি শিক্ষকে সপ্তাহে ২০ ঘন্টার বেশী ক্লাস নিতে হবে, যেখানে ইউ.জি.সি. বলে দিয়েছে সর্বোচ্চ ১৪ ঘন্টা। আমাদের বিভাগে সাধারণত যে শিক্ষকটি সবচেয়ে বেশী ক্লাস নেন, তিনিই জাফর ইকবাল। এবার আপনারা অংক করেন, ২১ ঘন্টা মানে ৭ টা কোর্স। প্রতিটি ক্লাসে ৬০ জন করে হিসাব করেন। (তার উপর আবার আজকাল পরীক্ষায় ড্রপ দিয়ে ছাত্র সংখ্যা ৭০-৮০ হয়ে যায়।) এতগুলো ক্লাসের ক্লাস টেস্টের প্রশ্ন করা, ক্লাস টেস্টের খাতা দেখা, পরীক্ষার খাতা দেখা, বিভাগের ফাইনাল পরীক্ষার টেবুলেশন করা, ওহ....। আমিই পাগল হয়ে যাই।(বাড়ি অবশ্য পাবনা, এই জন্য বাঁচা।:D) ছাগুদের দোষ দেই না, আমিই মাঝে মাঝে চিন্তা করি স্যার এত কিছু কি করে করেন? নিশ্চয়ই আমি কোথাও হিসাবে ভুল করছি। কিন্তু কি করে ভুল করি, গত ১৩ বছর ধরে আমি তাকে দেখছি। রহস্যটা ধরতে পারলে তো আমিই জাফর হয়ে যেতাম।

প্রথম ক্লাস: প্রথম সেমিস্টারে MZI (এইটা তার কোড নেম, যা ক্লাস রুটিনে লেখা থাকে।) আমাদের ইলেকট্রনিক্স নিতেন। এত সহজ ভাবে তিনি বোঝাতেন! যে আমার অন্তত আর বাড়িতে এসে পড়তে হতো না। আমি দেখেছি বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রীই তাই বলত। তার ক্লাসে সপ্তাহে একটি করে পরীক্ষা হতো, আর সেটা মঙ্গলবার। প্রশ্নগুলো তিনি এমনভাবে করতেন যেন, ছাত্রছাত্রীদের লিখতে হয় খুব, খুবই কম কিন্তু চিন্তা করতে হয় বেশী। যদি কেউ টপিক্সটা না বোঝে, তাহলে উত্তর দিতে পারবে না।
(পরে অবশ্য জেনেছি, ক্লাস টেস্টের খাতা দেখার টাইম বাঁচানোর জন্য এটা একটা আদর্শ উপায়। তিনি বলেন, যদি প্রশ্ন করতে বেশী সময় ব্যয় কর, তবে খাতা দেখতে সময় কম লাগবে, আর যদি প্রশ্ন দ্রুত কর, তবে .... )একটা ঘটনা বলি, একদিন মঙ্গলবার, স্যার যথারীতি ক্লাসে উপস্থিত। আমরা তো মহাখুশী এই ভেবে যে স্যার পরীক্ষার খাতা আনেন নাই। তার মানে স্যার ভুলে গেছে আর আজকে পরীক্ষা হচ্ছে না। আমরা তো মহা ভদ্র হয়ে গেলাম, ক্লাসে টু শব্দ করছি না আর আল্লাহ আল্লাহ করিছ কি করে ৫০ মিনিট কাটিয়ে দেওয়া যায়। ৪০ মিনিট যখন পার হলো আমরা তো খুশিতে গদগদ হয়ে স্যারকে বল্লাম স্যার আজকে তো আর পরীক্ষা হচ্ছে না। স্যার বল্লেন কেন হবে না? তোমরা সবাই খাতা থেকে ছোট একটুকরো কাগজ ছিড়ে নাও আর তাতে রোল নাম্বার লিখ। তারপর তিনি বোর্ডে তার স্বাভসুলভ সহজ কিন্তু কুটিল ৪টা প্রশ্ন লিখেদিলেন যার উত্তর হবে কয়েকটা সংখ্যা! তখন থেকে শিখলাম পরীক্ষা মানে খাতা নয়, পরীক্ষা মানে ছাত্রদের যাচাই করা যে তারা আগের ক্লাসে কিছু শিখেছে কিনা, তা সে যেভাবেই হোক।

(দুঃখ একটাই জাফর ইকবালের যোগ্য ছাত্র হতে পারলাম না।)
------------------------------------------
আমি জানি এইখানে তার অনেক ছাত্র আছে, আমি যদি ভুল বলি দয়া করি ধরিয়ে দিবেন।

স্যার আমাদের ব্যাচে বেশ কয়েকটা বিষয়ের উপর ক্লাস নিয়েছিলেন। আমরা খুব ভাগ্যবান। বিষয় গুলো হলো, ইলেকট্রনিক্স, ডাটা স্ট্রাকচার, নেটওয়ারর্কিং, ফাইবার অপটিক্স (আর মনে পরছে না, মনে হয় এই ৪ টাই।)
পর্ব ৩-এ কি নিয়ে লিখা যায় বলেন তো? জাফর ইকবালের রাজনৈতিক বিশ্বাস, মানুষ জাফর, জাফর ইকবালের দূর্নাম, নাকি অন্য কিছু? (লেখক জাফর নিয়ে কিছু লিখব না এই টা নিশ্চিত, অনেক ঘাগু ঘাগু লোক আছে এই লাইনে;)।)

পর্ব ১: পরিচয় Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৮:৫১
৭টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×