ক্ষমা কর হে বাংলাদেশ, তোমার সন্তানেরা আজ মৃত পরে আছে রাস্তায়, পারিনি পতাকা দিয়ে মুরে দিতে!
২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:২৮
সেনা পরিবারে আমার জন্ম। জন্মের পর থেকেই দেখে আসছি তাদেরকে। এই দূর্যোগে খুব ভয়ে ছিলাম আমার দুই আত্মীয়কে নিয়ে। কি তাদের অবস্থা। ওরা আমার ভাগ্নে-ভাগ্নি। আমি অনেক ছোট আমার ভাই বোনদের মাঝে। তাই আমার সাথে আমার ভাগ্নির সম্পর্ক ছিল ভাই বোনের মত। ছোটবেলায় আমরা একসাথে খেলতাম, এক সাথে মজা করতাম। ভাগ্নেটা ছিল আমার বেশ ৬ বছরের ছোট। ওরা ২ জনই পাশ করার পর ডিফেন্সে কমিশনে ঢুকে। কিছুদিন আগে আমি আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাই। আমার ভাগ্নি মা হতে চলেছিল শুনে। রেগুলার ফোন করে ওর খোজ নিতাম। আর্মি বিডিআর গন্ডগোলের সময় পাগল হয়ে গিয়েছিলাম ওদের জন্য। কি অবস্থা..মোবাইলে কানেকশন পাই না, বাসায় ফোন করে কিচ্ছু জানতে পারি না। উল্টো শুনি আমাদের পরিচিত কর্নেল জাহিদের লাশ পাওয়া গেছে ৬ জনের মাঝে। ভয়ে আরও কেপে উঠে বুকটা। কি হবে আমার ভাগ্নে ভাগ্নির, ওরা কি সুস্থ আছে কিনা জানি না। এই দিকে বিডিআর ভায়েরাও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য যা করেছে তার প্রতি একমত না হতে পারলেও তাদের দাবীগুলোকে উপেক্ষা করতে পারি না। তাদের করুন অবস্থার কথা কল্পনা করে কুকড়ে উঠে ভেতরটা। রক্তের সম্পর্ক যে পারিবারিক বন্ধন দিয়ে হয় না শুধু আরেকবার টের পাই। ওরা আমাদের দেশের সূর্যসেনা। একপেটা খেয়ে অতন্দ্র প্রহড়ীর মত দেশকে রক্ষা করে চলেছে ওরা। আমরা নিজেদেরকে নিয়ে এতই ব্যস্ত ছিলাম যে কোনদিন সময় করে দেখা হয়ে উঠেনি বিডিআররা কেমন আছে! বিডিআর মানেই ভাবতাম বর্ডারে কিছু লোক যারা যুদ্ধ করছে, কিংবা ভারতের সেনাদের গুলিতে পারা যাচ্ছে। চোখ খুলে দেখিনি তাদেরকে!
কিন্তু একি হল! কিভাবে রক্তে রন্জিত হল আমাদের এই বাংলা! বহুদিনের অপ্রাপ্তির বেদানাকে জমদুতের রূপে নিয়ে বিডিআর ও আর্মিরা যা করল তাতে আমার সাধের বাংলা লজ্জায় রাংগা হয়ে উঠল। আমার আত্মীয়রা ভাল আছে। অনেক আর্মী অফিসার মারা গেছে। কিন্তু এখনও জানি না ঐ নিরন্ন বিডিআররা কি রকম আছে ? জানি না তাদের অভুক্ত সন্তানগুলোর কালকে কি হবে ? আজকে ওদের ঘরে খাবার কেনার পয়সা আছে কিনা। ভাবি মারা যাওয়া ঐ আর্মি অফিসারগুলোর কথা। কত স্বপ্ন বুকে নিয়ে তারা ঢুকেছিল সেনাবাহিনীতে। মরলে মরব ভয় নাই, শত্রুকে নিয়ে মরব! এই ছিল তাদের মুলমন্ত্র। তবুও বাংলাকে শত্রুমুক্ত রাখব। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! নিজের লোকই শত্রু হয়ে আজ তাদের মৃত্যুর কারন হয়ে দাড়িয়েছে। নিজের লোকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে স্বপ্নের সমাধি। ঠিক একই ভাবে শত শত বিডিআরের স্বপ্নও অকালে ঝড়ে গেল অকালেই!
আমরা কিছুই করতে পারি নাই। বুক দিয়ে আগলে রেখেছিল তোমরা, পারিনি বিপদের সময় তোমাদের মাথায় হাত রেখে শান্তনা দিতে। পরিশ্রান্ত মুখের ঘামটা মুছিয়ে দিতে। আজীবন নিয়েই গেলাম তোমাদের কাছ থেকে, দেয়া আর হয়ে উঠল না। নিরুপায় এক বাংগালী আমি, বুকের এক পাজরে আর্মি ভায়ের মৃত দেহ রাখি, অন্য পাজরে রাখি বিডিআর ভায়ের অপ্রকাশিত কষ্টের লাশগুলোকে। বুক আজ রক্তাত্ব। পারি নি আমাদের সূর্যসন্তানগুলোকে যোগ্য সন্মান দিতে।
ক্ষমা কর হে বাংলাদেশ, তোমার সন্তানেরা আজ মৃত পরে আছে রাস্তায়, পারিনি পতাকা দিয়ে মুরে দিতে!
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ দুপুর ২:২৯ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
অরণ্য আনাম বলেছেন:
লেখক বলেছেন: হমম
সুদীপ্ত বলেছেন:
মনটা খারাপ হয়ে গেল। এই ঘটনা আমাদের জন্য লজ্জার, গ্লানির। ....
লেখক বলেছেন: আসলেই এটা লজ্জার, কষ্টের। ২ ভায়ের রক্তাত্ব মৃতদেহকে আগলে রাখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারি না!
মুহম্মদ জায়েদুল আলম বলেছেন:
এতোক্ষন টিভিতে খবরগুলো দেখছিলাম। আর দেখতে পারছি না। খুব কষ্ট হচ্ছিলো। এখন টিভিটা অফ করে দিতে হয়েছে। হয়তো দৃশ্যগুলো থেকে পালিয়ে বাঁচতে চাইছি।পালালেই কি অপরাধবোধ থেকে মুক্তি মেলে?
লেখক বলেছেন: ফিলিস্তিনিদের হত্যার দৃশ্য যেমন দেখতে পারিনি মানুষ হবার যন্ত্রনায়, ঠিক তেমনি পারি নাই আমার ভাইদের এ করুন দশা দেখার দৃশ্য। কোন টিভি দেখছি না। কিচ্ছু করতে পারব না, শুধু কষ্ট গুলো বারবে। তাইত পালিয়ে মুক্তি চাইছি!
আজ দেখলাম সনাক্ত করার জন্য একজন অফিসারের মুখ বালতির পানি দিয়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে কারণ ম্যানহোলের ময়লা ...
লেখক বলেছেন: এর চেয়ে বড় দুখের কি আছে ? মরার পরও সন্মান পাবার মত অবস্থায় নাই মৃত বীররা। সব মৃতদেরকে যথাযোগ্য সন্মানের সাথে শেষকার্য সম্পন্ন করা উচিত!
মনজুরুল হক বলেছেন:
মাইনাস দিলাম, কারণ শুধু অফিসার নয় সাধারণ বিডিআর সদস্যও মারা গেছে শত শত, তাদেরও আত্মিয় পরিজনদের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে আছে।
লেখক বলেছেন: আপনি মনে হয় না পরেই মাইনাস দিলেন। আমি কি বিডিআরদের কথা লিখি নাই ? আপনার না পড়ে কমেন্ট করার স্বভাব ছারেন।
লেখক বলেছেন: জাতির প্রতি নিবেদিত সব সন্তানই শ্রেষ্ঠ, ঐ শ্রেষ্ঠ সন্তানদেরকে সন্মান দিতে না পারার চেয়ে কষ্ঠ আর কি থাকতে পারে !
পজিটিভ২৯ বলেছেন:
একমত।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে!
লেখক বলেছেন: জানি না আসলে কি ঘটেছিল, কখনও জানতে পারব না। তবে কোনভাবেই এইরকম হত্যাকান্ড চাই না, ঠিক একইসময়ে এইরকম হত্যাকান্ডের পেছনের কারনগুলোও তৈরী হোক যেটা বিডিআরদের হয়েছিল, তাও চাই না।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















