ওরা এইট পাশ বর্বর, আর আমরা.... জাতির বিবেক!
০৩ রা মার্চ, ২০০৯ সকাল ১১:১৯
![]()
ভেবেছিলাম আর লগইন করব না। ব্যস্ততার খাতিরে জীবনটা একেবারে পানিভাত হবার জোগার। দুমুঠি অন্নের তাগিদে মেধা বিক্রি করে চলি। দেশের মানদন্ডে হয়ত একজন বিডিআরের চেয়ে আমার দাম বেশী। কেননা ওরা এইট পাশ অশিক্ষিত বর্বর। ঠিকমত নিজের দাবীও জানাতে পারে না। ওদের সন্তানরা গ্রামে থাকে, শহরে ওদের আত্মীয় নাই, ওরা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে জানে না। জানে না প্রেস কনফারেন্স করে নিজের কষ্টের বিবরন দিতে। নাহ, ওরা কেও আমার আত্মীয় নয়। অত গরীব মেধাহীন মানুষ আমার আত্মীয় হবার যোগ্যতা রাখে না। মিডিয়া কি ওরা জানে না। ওরা আমাদের মত অতি বুদ্ধিমান শয়তান দ্বারা চালিত হয়। ওরা রেশন পায় না, ২ বছরে একবার ছুটি পাই না, ডাল-ভাত প্রজেক্টের টাকা মেলাতে না পারলে ওদের চাকরী যায়। আমাদের কিছু হয় না। আমরা মেধাবী, আমরা সকল কিছুর উর্ধে! আমরা অপারেশন ডাল-ভাত দিয়ে নিজের আখের গুছাই।
রাজনীতির হীন আচরন বোঝার ক্ষমতা ওদের কোথা থেকে হবে, ওরাত আমাদের মত মোটামোটা বই পড়েনি। ওরা তো জানে না, কি করে শয়তানদের হাত থেকে বাচতে হয়। জানে না, কখন পাষন্ড কাকেরা ওদের ব্যবহার করে শয়ে শয়ে মানুষ মারে! ওরা জাতির কলন্ক।
ওদের কোন ক্ষোভ থাকতে পারে না। বর্ডারে প্রতিদিন একজন করে মারা গেলেও পেপারে আসে না। কারন ওরা মানুষ নয়! ওরা কে? ওদের কি কোন অবদান আছে দেশের প্রতি? ২নড গ্রেডেড মানুষ ওরা!
কিন্তু তারপরও কেন জানি ওদের সাথে নিজের মিল খুব খুজে পাই। ওরা বেচে শরীরের ঘাম, রক্ত আর আমি বেচি মাথা! আর্মীদের জন্য আমারও বুক খামচে ওঠে। ওরাও ত মানুষ। তবুও ওদের পরিবার এক কোটি করে টাকা পাবে, ফ্লাট পাবে।ওদের সন্তানরা পড়াশুনার সুযোগ পাবে। কিন্তু ঐ বিডিআরের পরিবার, যারা গ্রামে থাকে, ঘোমটা খুলে আকাশ দেখে না, তাদের নোংরা সন্তানগুলোর কি হবে কেও কি জানে ?
হ্যা, ওরা হবে, টোকাই। ওরে হবে হিরোইন্চী। ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়ার সুযোগও হয়ত ওদের আর হবে না। অভাবের সংসারে ঐ সন্তানদের মা কি করবে তার কুলকিনারা হবে না। ওদের ঘরে আগামী একমাস পর হাড়ি জ্বলবে কিনা জানি না। ঐ বিডিআরের বৃদ্ধা মা বাবার আর চিকিৎসা হবে কিনা জানি না। মহাজনের সুদের টাকা বাড়তে বাড়তে হয়ত বাড়িঘর যা আছে সব যাবে! জানিনা রিকশাআলা আর পথচারীর পরিবারের কি হবে!
ধুত! ওরা কে ! ওদের জন্য আমরা ভাবব কেন? ওরা হল খুনি! ওদের পরিবারও খুনি! ওদের ৩ মাসের বাচ্চাও খুনি! ওদের বৃদ্ধা বাবা মাও খুনি! খুনিদের না খেতে মারা যাওয়াই তো ভাল!
আমরা নতুন প্লাজমা টেলিভিশন কিনব! মার্সিডিজ গাড়িটার বুকিংও দেয়া হয়ে গেছে! আমরা মহান! আমরা দেশপ্রেমিক! আমরা জাতির প্রান!
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:৩৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: হমম
নীল-দর্পণ বলেছেন:
খারপ লাগল লেখাটা পড়ে।
লেখক বলেছেন: এটাই সত্য। ওরা মানুষ না বলেইত কেও খবর নেয় না ওদের পরিবারের!
আ.রেজা বলেছেন:
১৫ কোটি মানুষের স্বার্থে সঠিক ও সত্য তথ্য প্রকাশ করা হউক। সবার জন্য সুবিচার নিশ্চিত করা হউক।
লেখক বলেছেন: বর্তমান লাশ, ভবিষ্যত লাশের তথ্য কেও আপনাকে দেবে না
আই লাভ ব্লগিং বলেছেন:
কমেন্টটা পড়েছিলাম।
লেখক বলেছেন: হমম
মুহসিন বলেছেন:
সময়োপযোগী পোস্ট। ধন্যবাদ লেখককে।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও পড়ার জন্য, সাথে থাকার জন্য।
কঁাকন বলেছেন:
হ্যা, ওরা হবে, টোকাই। ওরে হবে হিরোইন্চী। ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়ার সুযোগও হয়ত ওদের আর হবে না। অভাবের সংসারে ঐ সন্তানদের মা কি করবে তার কুলকিনারা হবে না। ওদের ঘরে আগামী একমাস পর হাড়ি জ্বলবে কিনা জানি না। ঐ বিডিআরের বৃদ্ধা মা বাবার আর চিকিৎসা হবে কিনা জানি না। মহাজনের সুদের টাকা বাড়তে বাড়তে হয়ত বাড়িঘর যা আছে সব যাবে! জানিনা রিকশাআলা আর পথচারীর পরিবারের কি হবে!লেখক বলেছেন: হ
সত্যবাক বলেছেন:
একেবারে একপেশে লেখা হয়ে গেল না?
লেখক বলেছেন: আপনি না হয় আর্মিদের কষ্ট নিয়ে লেখেন, কোন অসুবিধা ত নাই। আমার চোখে মনে হয়েছে ওরাই বেশী সাফার করবে, তাই আমি ওদের কথা লিখেছি।
ফ্রুডো বলেছেন:
আপনি না হয় আর্মিদের কষ্ট নিয়ে লেখেন, কোন অসুবিধা ত নাই। আমার চোখে মনে হয়েছে ওরাই বেশী সাফার করবে, তাই আমি ওদের কথা লিখেছিসহমত...
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ!
গণ্ড মূর্খ বলেছেন:
আর্মীদের জন্য আমারও বুক খামচে ওঠে। ওরাও ত মানুষ। তবুও ওদের পরিবার এক কোটি করে টাকা পাবে, ফ্লাট পাবে।ওদের সন্তানরা পড়াশুনার সুযোগ পাবে। কিন্তু ঐ বিডিআরের পরিবার, যারা গ্রামে থাকে, ঘোমটা খুলে আকাশ দেখে না, তাদের নোংরা সন্তানগুলোর কি হবে কেও কি জানে ?
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে!
তর্পন বলেছেন:
আমাদের এই বিশ্বটা বড়লোকের, প্রভাবশালীদের, সেলিব্রেটিদের, আত্মবিক্রয়কারী মেধাবীদের, এবং লজ্জাহীনদের । যা কিছু হারাবে গিন্নি কেষ্টা বেটাকে চোর বলবে । বাড়ির বিদ্যুত্ বাল্ব থেকে সোনার গয়না যাই খুঁজে পাওয়া যাবে না, প্রথম আসামী হবে ঠিকে ঝি অথবা কাজের ছেলের । সেনাবাহিনী তো দরবারী ঐতিহ্যের কথা । নবাব অফিসারের জুতো মুছলে ইজ্জত যাবে, লাগবে ব্যাটম্যান নামের ভৃত্য ।আমি রাজনীতি বুঝি না কিন্তু শ্রেনী বৈষম্যেকে টের পাওয়া যায় চোখ খোলা থাকলেই । এমন সামাজিক রীতিগুলো সবাই স্বাভাবিক বলে মেনে নিচ্ছে দেখে অবাকও হই । যে ব্রজেশ্বররা সারাটি জীবন পরের বাড়িতে ভৃত্যের মত জীবন কাটিয়েছে তারা কী পেয়েছে? স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের বাল্যকালের গল্পতে তাদের শুচিবাই নিয়ে বরং মজার গল্পের কম্পোনেন্ট ।
আসলে আশী বিষে দংশনের জ্বালা যে পায়না সে বোঝে ও না । টিভি গুলোর দর্শক দরিদ্রতম শ্রেণীর নয় । যারা ব্লগে নানান জটিল সমালোচনা করি তারাও নিম্ন আয়ের মানুষ গুলোকে সরাসরি দেখিনা ।
ছবি দেখি । ভিডিও দেখি । চামড়ার নিচের মমতা মায়া ভালবাসায় কাতর হয়ে ইমেইল করি বন্ধুদের । জ্বালা ময়ী ব্লগ লিখি । একটু পরে সব ভুলে যাই । ড্রয়িং রুমে আয়েস করে কফি খেতে খেতে প্যারিস হিলটনের ভ্যালেন্টাইনের স্ক্যান্ডাল পড়ি ।
এবার আপনার পোস্টটির প্রশংসা করি । আর্মীর অফিসারদের কষ্টের কথা বলার লোক হবে অনেক । কারো ক্লাস মেট, কারো আত্মীয় পরিজনের হৃদয় বিদারক কাহিনী শৃনে, টিভিতে অফিসারদের বীরত্বগাথা শুনে বিশাল ব্লগ লিখবে অনেকে । কিন্তু এই অল্প আয়ের পোড়া চামড়ার ল্যান্স নায়েক হাবিলদারদের কষ্টের কথা কে বলবে? এমনকি যদিও এরা স্যারের জীবন রক্ষা করতে গিয়ে জীবন ও দেয়, সন্তানদের স্কুলের বেতন কেউ দেবেনা , ৩১ বার তোপধ্বনি তো দুরের কথা ।
Click This Link
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














