somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বেতন বেড়েছে, প্রয়োজন মিটবে?

০৭ ই আগস্ট, ২০১০ ভোর ৫:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবনের নূ্যনতম প্রয়োজনটুকু মেটানোর দাবিতে তাঁরা এখন রাজপথে। বাইরে থেকে দেখা তাঁদের জীবনের কতখানিই বা প্রকাশ করা সম্ভব! জয়িতার আজকের আয়োজনের পুরোটাই নারী পোশাক কর্মীদের নিয়ে

কেমনে বোঝাই! মা-বাপ নিয়া থাকি। যে বেতন পাই তা দিয়া ঢাকা শহরে থাকা-খাওয়া কী যে কষ্ট! বাবা অসুস্থ। তাঁরে ওষুধও কিন্না দিতে পারি না। খাওয়াই হয় না ঠিকমতো আবার ওষুধ! কবে থেকা বেতন বাড়ানোর কথা বলতাছি। মালিকরা মুখে কয় বাড়াইব, কাজের বেলায় বিছরাইয়া পাওন যায় না। এখন যাও বাড়াইল তা দিয়াও কিছু কুলান যাইব না। চাল-ডালের দামের সঙ্গে হিসাব মিলাইলে বুঝবেন। চাকরি যাইব এই ভয়ে জোর দিয়া কিছু কইতেও পারি না।' বলতে বলতে কেঁদে ফেলল নিশি। ১০ মাস হলো একটি পোশাক কারখানায় কাজ করছে ও। মিছিল-মিটিংয়ের মানুষ সে না। পেট পুরে খেয়ে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেই খুশি। অন্য শ্রমিকদের চাওয়াও এর বেশি না। সাত বছর ধরে কাজ করছেন আকলিমা। 'যে বেতন পাই তা দিয়া পাঁচজনের সংসার চালানো সম্ভব না। এখন যা বাড়াইছে তা আগের চাইয়া ভালো, বেশি না। মালিকরা বুইঝা ফালাইছে আমাগো যাওয়ার জায়গা নাই।' রহিমাও ভিন্ন কিছু বললেন না, 'আমরা তো কথাও কইতে পারি না। কথার আগে মাইর। মিছিল করলে পুলিশ কই থেকা যে আইয়া পড়ে! মালিক-পুলিশ ভাই ভাই।'
অনেক দিন ধরেই পোশাক শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছিল সরকার এবং মালিকপক্ষ। অবশেষে ২৭ জুলাই টানা চার ঘণ্টা বৈঠক করে খসড়া মজুরি কাঠামো তৈরি করে মজুরি বোর্ড। সেই খসড়ায় বোর্ডের পাঁচ সদস্য সই করলেও বিজিএমইএর (মালিকপক্ষের) প্রতিনিধি সই করেননি। খসড়া তৈরি করে বোর্ডের সদস্যরা চলে যান শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে। মালিকপক্ষের তৎপরতায় ওই দিন শেষ মুহূর্তে শ্রমমন্ত্রী তা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে দেননি। ২৯ জুলাই বিকেলে তিনি নিজেই এ মজুরি-কাঠামো ঘোষণা করবেন বলে জানান। নিয়ম অনুসারে মজুরি বোর্ড তাদের খসড়া চূড়ান্ত করে তা গেজেটে প্রকাশ করবে। খসড়া গেজেট প্রকাশের পর ১৪ দিনের মধ্যে মালিক বা শ্রমিকপক্ষ তাদের আপত্তি জানাতে পারবে। এগুলো বিবেচনা করে মজুরি বোর্ড চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে গেজেট প্রকাশ করতে দেয়। সরকার ইচ্ছে করলে ওই মজুরি কাঠামো পুনর্নির্ধারণের জন্য পুনরায় বোর্ডে পাঠাতে পারবে। কিন্তু সরকার নিজে এটা পরিবর্তন-পরিবর্ধন করতে পারবে না। মজুরি বোর্ডের বৈঠকে মালিকরা চেয়েছেন সপ্তম ধাপ তুলে দিয়ে ছয় ধাপের মজুরি কাঠামো তৈরি করতে। আর চলতি কাঠামোর সপ্তম ধাপের হেলপার বা সহকারীর পদকে শিক্ষানবিশ হিসেবে দেখিয়ে এই পদের জন্য সর্বসাকল্যে মজুরি আড়াই হাজার টাকা নির্ধারণ করতে। কিন্তু মজুরি বোর্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের প্রত্যাখ্যানে মালিকদের এই কৌশল কাজে দেয়নি। বরং তাঁরা সাতটি ধাপ রেখে শিক্ষানবিশদের মজুরি দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি করে আড়াই হাজার টাকা করে। এরপর ২৮ জুলাই বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর (বাংলাদেশ নীটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনস) যৌথ সভায় মালিকদের বুঝিয়েছেন, সরকার যে কাঠামোর কথা বলেছে, তাই তাঁদের বাস্তবায়ন করতে হবে। তখন মালিকরা মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত সময় চেয়েছেন। তাঁদের যুক্তি হলো, যেহেতু ক্রেতাদের কাছ থেকে তাঁরা চার থেকে ছয় মাস আগে কাজ পেয়েছেন, তাই ভবিষ্যতে নতুন কাজ নেওয়ার সময় এই মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।
অতঃপর ২৯ জুলাই পোশাক খাতের মালিক প্রতিনিধি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন খসড়া মজুরি কাঠামোতে সই করেন। ওই দিন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিকেলে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই মজুরি কাঠামো ঘোষণা করে জানান, আগামী নভেম্বর থেকে নতুন এই কাঠামো অনুসারে শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া হবে। ঘোষিত খসড়া অনুসারে সপ্তম ধাপের একজন সহকারী বা হেলপার পদের শ্রমিকের মাসিক নূ্যনতম মোট মজুরি ধরা হয়েছে তিন হাজার টাকা। এই মোট মজুরির মধ্যে মূল বেতন দুই হাজার টাকা ও বাসা ভাড়া ৮০০ টাকা। ফলে সপ্তম ধাপের একজন শ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরি বর্তমানের এক হাজার ৬৬২.৫০ টাকা থেকে ৮০ দশমিক ৪৫ শতাংশ বাড়ছে। আর সব পদের শ্রমিকের জন্য চিকিৎসা-ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা।
নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রকাশের পর আবার আন্দোলনে নামে শ্রমিকরা। ধর্মঘট করে, ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। জীবনযাত্রার মান ও ব্যয় অনুযায়ী নূ্যনতম মজুরি পাঁচ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে শ্রমিকরা এই আন্দোলন করছে। শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের দাবি, সরকার ও মালিকরাই শ্রমিকদের আন্দোলনে নামতে বাধ্য করেছে। সরকারের উচিত দমন-পীড়ন না করে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসে খসড়া মজুরি কাঠামোকে পুনর্বিবেচনা করা।
বিজিএমইএর নেতারা জানান, অধিকাংশ শ্রমিক ও সংগঠন এই খসড়া মজুরি কাঠামোকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। শুধু কিছু স্বার্থান্বেষী শ্রমিক সংগঠন ঝামেলা সৃষ্টি করছে।
এ প্রসঙ্গে 'ফ্লোরিন ফ্যাশন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড'-এর চেয়ারম্যান গোলাম মওলা লাল বলেন, 'আগের মজুরি খুবই কম ছিল। এখনকারটা পারফেক্ট বলতে হবে। এই মজুরি দিয়ে একটা মেয়ে ঢাকা শহরে খেয়ে-পরে থাকতে পারবে, সঞ্চয়ও করতে পারবে। শ্রমিকরাও সন্তুষ্ট। তবে কিছু শ্রমিক নামধারী লোক এই শিল্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য ভাঙচুর করছে। তাদের দাবি অযৌক্তিক। মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। আগস্ট থেকে নতুন বেতন কাঠামো চালু করার সুযোগ নেই। সব কিছুর তো প্রিপারেশন দরকার। মালিকপক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে নভেম্বর থেকে এটা চালু হবে।'
শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন নিয়ে কথা হয় বিজিএমইএর সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদীর সঙ্গে। তিনি বলেন, 'সরকার ঘোষিত মজুরি কাঠামোতে মালিক, শ্রমিক_সব পক্ষই একমত হয়ে সই করেছে। এরপর তো শ্রমিকরা বিক্ষোভ করতে পারে না। গুটিকয় নেতা ও কিছু মিডিয়া উসকানিমূলক কথা বলছে এবং এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। নতুন বেতন কাঠামো আগস্ট থেকে চালু করা সম্ভব নয়। সব কিছুরই তো প্রসিডিউর আছে। ১ আগস্টের বৈঠকেও নতুন বেতন কাঠামো নভেম্বরে চালু করার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে। এর পরও যদি কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন, তাহলে কঠিন পদক্ষেপ নেব।'


সৌজন্য কালের কন্ঠ
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×