আমার প্রিয় পোস্ট

বাংলাদেশে সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের এবং বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে আমাদের গৌরবময় ইতিহাস জানানোর প্রত্যয়ে... www.bangladesh1971.org

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৪

১৮ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৫:১৫

শেয়ার করুন:                   Facebook

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ২

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৩

আগের পোস্টসমূহের ধারাবাহিকতায় -

শরনার্থী



আনুমানিক এক কোটি মানুষকে পাকিস্তানী হানাদার এবংতাদের এদেশীয় দোসরদের গনহত্যা, লুটপাট থেকে বাঁচতে এবং মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিতে নিজের মাতৃভূমি ত্যাগ করে প্রতিবেশী ভারতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। ভারতের সরকার এবং জনগন আশ্রয়, খাদ্য এবং চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছিল। পাশাপাশি জাতিসংঘ ও আরো কিছু আন্তর্জাতিক সংগঠনও সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক শিশু এবং বৃদ্ধ অপুষ্টি ও রোগে মারা যায়।



শরনার্থীদের পরিসংখান:
পশ্চিমবঙ্গ : ৭৪,৯৩,৪৭৪
ত্রিপুরা : ১৪,১৬,৪৯১
মেঘালয় : ৬,৬৭,৯৮৬
আসাম : ৩,১২,৭১৩
বিহার ও অন্যান্য : ৮,৬৪১
সর্বমোট : ৯৮,৯৯,৩০৫

জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক হাই কমিশন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে স্বল্প সময়ে দেশ ত্যাগের এই সংখ্যাকে সর্বোচ্চ বলে আখ্যা দেয়।

মুক্তিবাহিনী


মুক্তিবাহিনী ছিল সাহস এবং দৃঢ়তার প্রতীক। আধুনিক অস্ত্রে সুসজ্জিত ও সুপ্রশিক্ষিত পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও যুবকদের সমন্বয়ে গঠিত স্বল্প প্রশিক্ষিত মুক্তবাহিনীর বীরোচিত সংগ্রাম সমগ্র পৃথিবীকে অবাক করে দিয়েছিল । প্রধানত পাকিস্তান সেনাবাহিনী ত্যাগী বাংলাদেশী সদস্যরাই মুক্তিবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিল।



২৫শে মার্চের গনহত্যা শুরুর পর পরই সেনাবাহিনীর বাঙ্গালী সদস্যদের নেতৃত্বে ই.পি.আর, পুলিশ ও সাধারণ জনতা প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। কিন্তু পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর আক্রমনের মুখে তাদেরকে পিছু হটে ভারত ও সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান নিতে হয়েছিল।

৪ঠা এপ্রিল, প্রাথমিক প্রতিরোধের সাথে সম্পৃক্ত কিছু বাঙ্গালী সেনা কর্মকর্তা সিলেটের তেলিয়াপাড়ায় একত্রিত হন একটি সমন্বিত লড়াই শুরুর উদ্দেশ্যে। তারা কর্ণেল এম. এ. জি. ওসমানিকে প্রধান করে মুক্তিযুদ্ধের পরিকল্পনা গ্রহন করেন।

১১ই জুলাই মন্ত্রীপরিষদ সমগ্র দেশকে একজন করে সেক্টর কমান্ডারের নেতৃত্বে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করেন।



মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী:


সর্বাধিনায়ক : কর্ণেল এম. এ. জি. ওসমান


প্রধান স্টাফ অফিসার : লে: ক: এম. এ. রব


উপ-প্রধান : গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার

সেক্টরসমূহ:
সেক্টর: ১

সেক্টর কমান্ডার:

মেজর জিয়াউর রহমান (এপ্রিল - জুন),

মেজর রফিকুল ইসলাম (জুন - ডিসেম্বর)
সেক্টর সীমানা: চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং মুহুরী নদীর পূর্বতীরবর্তী এলাকাসমূহ।
সদর দপ্তর: হরিণা।

সেক্টর: ২
সেক্টর কমান্ডার:

মেজর খালেদ মোশারফ (এপ্রিল - সেপ্টেম্বর),

মেজর এ. টি. এম. হায়দার (সেপ্টেম্বর - ডিসেম্বর)
সেক্টর সীমানা: নোয়াখালী, কুমিল্লার কিছু অংশ, ঢাকা শহর এবং ফরিদপুরের পূর্বাঞ্চল।
সদর দপ্তর: মেঘালয়।

সেক্টর: ৩
সেক্টর কমান্ডার:

মেজর কে. এম. শফিউল্লাহ (এপ্রিল - সেপ্টেম্বর),

মেজর এ. এন. এম. নুরুজ্জামান (সেপ্টেম্বর - ডিসেম্বর)
সেক্টর সীমানা: সিলেট, কুমিল্লার কিছু অংশ, ঢাকা জেলার উত্তরাঞ্চল এবং কিশোরগঞ্জ।
সদর দপ্তর: মানতলা (সিলেট)।

সেক্টর: ৪
সেক্টর কমান্ডার:

মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত
সেক্টর সীমানা: সিলেটের কিছু অংশ
সদর দপ্তর: খোয়াই।

সেক্টর: ৫
সেক্টর কমান্ডার:

মেজর মীর শওকত আলী
সেক্টর সীমানা: সিলেটের কিছু অংশ, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই এর পশ্চিমাঞ্চল।
সদর দপ্তর: শিলং।

সেক্টর: ৬
সেক্টর কমান্ডার:

উইং কমান্ডার এম. কে. বাশার
সেক্টর সীমানা: রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও।
সদর দপ্তর: পাটগ্রাম (রংপুর)।

সেক্টর: ৭
সেক্টর কমান্ডার:

মেজর নাজমুল হক (জুলাই - অাগষ্ট),

মেজর কাজী নুরুজ্জামান (অাগষ্ট - ডিসেম্বর)
সেক্টর সীমানা: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া।
সদর দপ্তর: তরঙ্গপুর।

সেক্টর: ৮
সেক্টর কমান্ডার:

মেজর আবু ওসমান চৌধুরী (এপ্রিল - অাগষ্ট),

মেজর এম. এ. মনজুর (অাগষ্ট - ডিসেম্বর)
সেক্টর সীমানা: যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর এবং খুলনার কিছু অংশ।
সদর দপ্তর: কল্যাণী।

সেক্টর: ৯
সেক্টর কমান্ডার:

মেজর এম. এ. জলিল
সেক্টর সীমানা: বরিশাল, পটুয়াখালী এবং খুলনার কিছু অংশ।
সদর দপ্তর: হাসনাবাদ।

সেক্টর: ১০
এই সেক্টরটি নৌ-কমান্ডোদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল।

সেক্টর: ১১
সেক্টর কমান্ডার:

মেজর এম. এ. তাহের (অাগষ্ট - নভেম্বর),

স্কোয়াড্রন লিডার হামিদুল্লাহ (নভেম্বর - ডিসেম্বর)
সেক্টর সীমানা: টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহের কিছু অংশ।
সদর দপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।

[চলবে.....]

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): স্বাধীনতাবাংলাদেশ১৯৭১মুক্তিযুদ্ধ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমি এবং আমার দেশ  বিভাগে ।

 

  • ৪ টি মন্তব্য
  • ১৭২ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৩ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৮ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৫:২১
comment by: শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: গর্বের ইতিহাস নিয়ে প্রয়োজনীয় পোস্ট। চলুক।
১৮ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৫:২২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মাসুম ভাই... এটা চলবে

২. ১৮ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৫:৩১
comment by: প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন: শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: গর্বের ইতিহাস নিয়ে প্রয়োজনীয় পোস্ট।

ভাল হয়েছে... চলুক। +
১৯ শে মে, ২০০৮ রাত ১২:২৮

লেখক বলেছেন: চলবেই...তো।

 



 


স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন বুনি, স্বপ্নেই আমার বাস।
http://www.bangladesh1971.org
http://www.saifur-rahman.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ১৪১৪৫