আমার প্রিয় পোস্ট
- সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা (১৯৭৫-১৯৮১) একটি প্রামাণ্য দলিল - শওকত হোসেন মাসুম
- আসুন আমরা Rapidshare থেকে Resume Support সহ Super Speed এ File Download করি... - অতিথি_পথিক_মানুষ
- বাঙ্গালীর ব্যাংক ব্যবসা ও বাংলাদেশের আর্থিক খাত-১ - শওকত হোসেন মাসুম
- পাক বাহিনী ও রাজাকাররা কিভাবে মানুষ মেরেছে আসুন সেটাই জানি-২ - শওকত হোসেন মাসুম
- "গণহত্যা": এ্যান্থনি মাসকারেনহাসের অবশ্যপাঠ্য প্রতিবেদন, ৩য় অংশ (বিদেশী পত্রিকায় মুক্তিযুদ্ধ, পর্ব ৩২) - ফাহমিদুল হক
- শহীদ জননী জাহানারা ইমাম (সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল) - দূরন্ত
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ই-সংকলন : প্রস্তাবিত পোস্টের তালিকা - টিম সেভেনটিন
- English Songs কালেকশন ()()()()() যারা ইংরেজী গান পছন্দ করেন তাদের জন্য.. - নতুন
- মূলধারা ৭১: আসুন ইতিহাস জানি-১ - শওকত হোসেন মাসুম
- পাক বাহিনী ও রাজাকাররা কিভাবে মানুষ মেরেছে আসুন সেটাই জানি-১ - শওকত হোসেন মাসুম
- ১০ বিষয়ে সেরা ১০ ছবির তালিকা: মুভি প্রেমিকদের জন্য অবশ্য পাঠ্য - শওকত হোসেন মাসুম
- ১৯৭১-এ দৈনিক সংগ্রাম (পর্ব-৪) - সবাক
- ইয়াহু মেসেনজার মাল্টিপল লগিন - শিমুল
- গোলাম আজম ভাষা সৈনিক হিসাবে প্রচার - জামাতিদের ভন্ডামীর একটা নমুনা মাত্র। - এস্কিমো
- ১৯৭১-এ দৈনিক সংগ্রাম (পর্ব-২) - সবাক
- ১৯৭১-এ দৈনিক সংগ্রাম (পর্ব-১) - সবাক
- ব্লগের সকল কম্পিউটার প্রফেশনাল, ইথিক্যাল/আনইথিক্যাল হ্যাকার, কম্পিউটার এক্সপার্টদের জন্য একটি কুইজ - নোক্সেনডার
- আমার অভিজ্ঞতায় মুক্তিযুদ্ধ এবং ৭ই মার্চের ভাষন - নাসার আহমেদ চৌধুরী - নোক্সেনডার
- আমার মায়ের সাতটি মিথ্যা কথা - প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব
- বিশ্ব মা দিবসে পৃথিবীর সকল মা-দের সালাম - নামহীন মানব
- একদা এক প্রোগ্রামিং কন্টেস্টে!!! - যূঁথী
- ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ! - হমপগ্র
- রাজাকারদের তালিকা-১ - গোপাল ভাঁড়
- ১৯৭১ ট্রাজেডিঃ মুক্তিযুদ্ধে চা শ্রমিকদের ঐতিহাসিক দলিল.... - ভাস্কর চৌধুরী
- বাংলার বীরশ্রেষ্ঠ সন্তানেরা - সাত বীরশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধার জীবনী - রাগিব
- এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা। আমরা তোমাদের ভুলবো না। - তাজুল ইসলাম মুন্না
বাংলাদেশে সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের এবং বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে আমাদের গৌরবময় ইতিহাস জানানোর প্রত্যয়ে... www.bangladesh1971.org

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৮
২৮ শে জুন, ২০০৮ ভোর ৪:০৩
আগের পোষ্টসমূহের ধারাবাহিকতায়-
![]()
গনহত্যা
পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসররা ১৯৭১ এর মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বিচারে গনহত্যা, অত্যাচার, ধর্ষন এবং অগ্নিসংযোগ চালায়।
আনুমানিক ত্রিশ লক্ষ লোক তাদের হাতে শহীদ হয়। দুই হতে চার লক্ষ নারী তাদের হাতে শারিরীক নির্যাতনের স্বীকার হয়। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর এটাই ছিল স্বল্পতম সময়ে নৃশংসতম গনহত্যা। বাংলাদেশের কোন গ্রাম এবং শহর তাদের এই ধ্বংসলীলা থেকে রেহাই পায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়ঃ
১. ডাঃ জেবা মাহমুদের ভাযায় তার পিতা রাজশাহীর সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা মামুন মাহমুদ সম্পর্কে -
কিছু স্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং পুলিশ কর্মকর্তা তার বাসায় গোপন মিটিং করেন। কিন্তু তা গোপন ছিলনা। কারন ঐ মিটিং-এ কিছু রাজাকার উপস্থিত ছিল যারা পাকিস্তানি সেনা বাহিনীর কাছে মিটিং-এর খবর পৌছে দেয়।
আমার বাবা ছিলেন কোষাগারের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। সকালে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাপ্টেন কোষাগারে প্রবেশ করতে চাইলে স্থানীয় পুলিশ বাধা দিলে সে আমার বাবাকে জানায়। আমার বাবা জবাবে বলেছিলেন, "আমার লোকজন সঠিক কাজই করেছে। কোষগারে প্রবেশের কোন অধিকার তোমার নেই।" ঐ ক্যাপ্টেন সন্ধ্যায় আবার আসে এবং আমার বাবাকে জানায় রংপুর থেকে ব্রিগেডিয়ার তার সাথে কথা বলতে চায়। আমার বাবাকে সরাসরি গ্রেপ্তারের সাহস তাদের ছিলনা। তারা তাদের সাথে বাবাকে ক্যান্টনমেন্টে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে।
আমার এখনও মনে আছে বাবা জীপে করে ড্রাইভার এবং গার্ড সহ ক্যান্টনমেন্টে যান। তিনি আর কোনদিন ফিরে আসেননি। যেই শয়তানের থাবা থেকে বাবা দেশকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন সেই শয়তানই আমার বাবাকে চিরতরে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়।
২. সংবাদকর্মী নাদিম কাদেরের ভাষায় তার বাবা চট্টগ্রামের কর্ণেল কাদের সম্পর্কে -
একদিন খুব ভোরে একজন পাকিস্তানী ক্যাপ্টেন তার বাহিনী নিয়ে আমাদের বাসায় এসে আমার বাবাকে বলে, "তুমি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তোমাকে আমি সম্মান দেখাতে পারছিনা। তুমি একজন বিশ্বাসঘাতক, তোমাকে আমাদের সাথে যেতে হবে।" তারপর থেকে সকল তথ্যের ভিত্তিতে আমরা বাবাকে সর্বত্র খুঁজি কিন্তু আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমার মা তার জন্য অপেক্ষা করেন। আমরা তার লাশ দেখিনি তাই সবসময় এই আশায় থাকি যে তিনি একদিন ফিরে আসবেন।
আমার বাবার একমাত্র অপরাধ ছিলো তেল এবং গ্যাসকুপ খননের জন্য প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক যেই গুদামে থাকতো তার চাবি আমার বাবার কাছে থাকতো এবং পাকিস্তানী সেনাবাহিনী জোরপূর্বক সেই গুদাম খুলে তারা কোন বিস্ফোরক পায়নি। তিনি সব বিস্ফোরক মুক্তিযোদ্ধা মেজর রফিকের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। এই বিস্ফোরকগুলো মুক্তিযোদ্ধারা ব্যবহার করতো।
৩. আফতাব আহমেদের মুখে তার বড় ভাই সৈয়দপুরের ডঃ শামশেদ আলী সম্পর্কে -
সৈয়দপুরের উত্তরে একটি বাষ্পীয় ইঞ্জিন ছিল যেখানে মৃতদেহগুলো পুড়িয়ে ফেলা হতো। গ্রেপ্তারের পরে আমার ভাইকে সেই ইঞ্জিনের কাছে একটি গর্তের পাশে গুলি করার জন্য নেয়া হয়। মির্জা নামক একজন বিহারীকে এই হত্যার দ্বায়িত্ব দেয়া হয়। গুলি করার সময় আমার ভাই রাইফেলটি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু তিনি ব্যর্থ হন। এরপর তারা আমার ভাইকে হত্যা করে ষ্টীম ইঞ্জিনে তার মৃতদেহ পুরিয়ে ফেলার চেষ্টা করে কিন্তু তার বিশাল শারিরীক আকৃতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। তখন তারা তার দু-হাত, দু-পা কেটে ফেলে তার শরীরটি পুড়িয়ে ফেলে। আমরা দাফনের জন্য তার দেহটি পাইনি।
৪. খুলনার মুক্তিযোদ্ধা সালাম খানের মুখে তার চার মাসের শিশু রেহানা সম্পর্কে -
চার মাসের শিশু রেহানাও ছিল পাকিস্তানী বাহিনীর নৃশংসতার শিকার। তার অপরাধ ছিলো সে মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম খানের কন্যা। ৩০শে এপ্রিল, ১৯৭১ পাকিস্তানী বাহিনী তার বাড়ীতে হানা দেয়। কিন্তু আবদুস সালামকে না পেয়ে তারা রেহানাকে বুটের তলায় পিষ্ট করে হত্যা করে।
[চলবে]
পুর্বের পোষ্টসমুহঃ
ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ১
ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ২
ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৩
ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৪
ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৫
ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৬
ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৭
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭১, বাংলাদেশ, ইতিহাস ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমি এবং আমার দেশ বিভাগে ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
তারকে বলেছেন:
আপনার নিকটা আমার নেয়ার ইচ্ছা ছিল কিন্তু আপনার জন্য পারিনাই , এখন আবার আপনার লেখার ক্ষমতা যদি নকল করতে পারতাম , আপসোস পারবোনা । লেখার জন্য প্লাস এবং ধন্যবাদ ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। আমার নিকটাও আপনার পছন্দের জেনে ভাল লাগলো।
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
দারুন একটা সিরিজ চলছে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শামীম ভাই। চলবে আরো..
লেখক বলেছেন: জ্বী। আমি অনুমতি দিয়েছি। ধন্যবাদ আপনাকে।
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন:
একটার বেশী + দিতে না পারায় লজ্জিত।
লেখক বলেছেন: লজ্জার কোন কারণ নেই। পড়েছেন এটাই যথেষ্ট। আমার চাওয়া এটাই, সবাই জানুক আমাদের ইতিহাস।
দরদী নজরুল বলেছেন:
শোকেসে গেল।
লেখক বলেছেন: জেনে ভাল লাগলো। সামনের পর্বগুলোও আসছে। ইতিমধ্যে পর্ব -৯ পোষ্ট করেছি।
আসিফ আহমেদ বলেছেন:
+++++
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
বৃত্তবন্দী বলেছেন:
স্পিচলেস
লেখক বলেছেন: হুমম
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন:
তোমাকে ধন্যবাদ দিব না... কারণ এটাই তোমার কাছে আশা করি... তোমার অনেক দুর যাওয়ার ক্ষমতা আছে... সো থেমনা ... হেল্প লাগলে আওয়াজ দিও খালি...
লেখক বলেছেন: জ্বী বস।
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন:
ব্লগের অন্যতম সেরা কাজ। আবারও বলতে হল। +
লেখক বলেছেন: আবারও ধন্যবাদ বস।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ... সাথে থাইকো।
লেখক বলেছেন: দুঃখিত! আপনার মন্তব্যটা দেরীতে খেয়াল করার জন্য। ইতিমধ্যে সবগুলো পর্ব পোষ্ট করেছি। দেখে নিন।
লিপিকার বলেছেন:
বহুদিন পর ৮নং পর্ব আসলো। বরাবরের মতই অতুলনীয়।
লেখক বলেছেন: জেনে ভাল লাগলো। তবে আপনার মন্তব্যের আগে সবগুলো পর্বই শেষ।


















+ + + + + + + + + + + + + + + + + + + + + + + + + + + + + +
+ + + + + + + + + + + + + + + + + + + + + + + + + + + + + +
++++++++++
১০০ টা পেলাচ ।
মন থেকে ।