আমার প্রিয় পোস্ট

বাংলাদেশে সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের এবং বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে আমাদের গৌরবময় ইতিহাস জানানোর প্রত্যয়ে... www.bangladesh1971.org

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ১২ (শেষ পর্ব)

১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ২:৪৯

শেয়ার করুন:                   Facebook

আগের পোষ্টের ধারাবাহিকতায়....

মুক্তিযুদ্ধে প্রচারমাধ্যমের ভূমিকা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বিশ্ব প্রচার মাধ্যম বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ভুমিকা রাখে। পূর্ব পাকিস্তানের বেশীর ভাগ সংবাদপত্র স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ গনতান্ত্রিক সংগ্রামের মিত্র ছিল। সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় আন্তর্জাতিক গন মাধ্যমগুলো বিশ্ব জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল।

পাকিস্তান আমলে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এবং বাক স্বাধীনতার পক্ষে তাদের সাহসী ভুমিকা রেখে আসছিলেন। ফলশ্রুতিতে অসংখ্য সংবাদকর্মী নির্যাতন ও কারাভোগ করেন এবং কিছু কিছু সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে পরাজয় নিশ্চিত জেনে রাজাকার এবং আলবদর বাহিনীর সহায়তায় পাকিস্তানী বাহিনী প্রচুর সংখ্যক প্রসিদ্ধ সংবাদকর্মীদের হত্যা করে।

২৫শে মার্চের গনহত্যা শুরুর পর থেকে বেশ কিছু বিদেশী সাংবাদিক তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গনহত্যা এবং ধ্বংসযজ্ঞের সংবাদ প্রচার করেন।


ছবিঃ সাইমন ড্রিং

স্বাধীনতার দীর্ঘ নয় মাস ধরে ভারত, যুক্তরাজ্যে ও ইউরোপের আরো কিছু দেশ, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্রসমূহ পাকিস্তানীদের অমানবিক নৃশংসতা এবং মুক্তিবাহিনীর সাহসী সংগ্রামের উপর নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রচার করতে থাকে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গনমাধ্যম বিশ্বজনমত গঠনের জন্য বিবেক জাগ্রত করে। যা বিজয় ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে।

১৯৭১ এ গনমাধ্যমের এই ভুমিকা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিপক্ষে গনমাধ্যমের অবস্থানের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।



বাংলাদেশের অভ্যুদয় - ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭১



সর্বস্তরের জনসাধারন সমর্থিত বাংলার সাহসী সন্তানদের নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশত্র সংগ্রামে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামস পর্যদুস্ত হয়ে পড়ে। ৩রা ডিসেম্বর ১৯৭১, পাকিস্তান ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে আক্রমণ করে। এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার ৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী ও ভারতের সশত্রবাহিনীর ইষ্টার্ন কমান্ড মিলে যৌথবাহিনী গঠিত হয়। যৌথবাহিনী বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবেশ করে।







অবশেষে ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর জেনারেল জগজিৎ সিং আরোরার নিকট পাকিস্তানী লেঃ জেনারেল নিয়াজী আত্মসমর্পন করে। ঐ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীর উপ-প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার মুক্তিবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেন।

এভাবেই বিশ্ব মানচিত্র বাংলাদেশের অভ্যুদয়।

তথ্যসুত্রঃ
বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর।
[সকল পর্বই সংরক্ষিত আছে বাংলাদেশ ১৯৭১]


ছবিঃ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যাবর্তন











পুর্বের পর্বসমুহঃ

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ১

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ২

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৩

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৪

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৫

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৬

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৭

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৮

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৯

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ১০

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ১১

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): মুক্তিযুদ্ধ১৯৭১বাংলাদেশস্বাধীনতা১৬ই ডিসেম্বরপাকিস্তানের আত্মসমর্পণ ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমি এবং আমার দেশ  বিভাগে ।

 

  • ১৪ টি মন্তব্য
  • ১৪১ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৫ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৩:২৬
comment by: নিহন বলেছেন: +
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ১০:০৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

২. ১০ ই জুলাই, ২০০৮ ভোর ৬:২৭
comment by: দোলাহাসান বলেছেন: নতুন প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লেখা।
১০ ই জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:০০

লেখক বলেছেন: জ্বী। সেই উদ্দেশ্যেই লিখা।

৩. ১০ ই জুলাই, ২০০৮ সকাল ৯:৪৯
comment by: জামালiiuc বলেছেন: অবশেষে ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর জেনারেল জগজিৎ সিং আরোরার নিকট পাকিস্তানী লেঃ জেনারেল নিয়াজী আত্মসমর্পন করে। ঐ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীর উপ-প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার মুক্তিবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেন।

উপরের লেখাটি পড়েছি খুবই ভাল লাগল। কিন্তু যা ভাল লাগেনি জেনারেল জগজিৎ সিং আরোরার নিকট আত্মসমর্পন করা হল কেন। এভাবে কি আমাদের মুক্তিযদ্ধাদের অপমানিত করা হল না। নয় মাস মাঠে তো আমাদের মুক্তিযুদ্ধারাই ছিল। তারা এসে দুদিন সব কৃতিত্ব নিয়ে নিল।
১০ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১২:১২

লেখক বলেছেন: লেঃ জেঃ নিয়াজীকে বলা হয়েছিলো, কিন্তু সে রাজ্বী হয়নি। এবং জেঃ আরোরা এবং লেঃ জেঃ নিয়াজী ছিলো ব্যাচমেট, বৃটিশ শাসনামলে তারা একসাথে সেনাবাহিনীতে যোগ দেয় এবং একসাথে প্রশিক্ষণ নেয়।

৪. ১০ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১২:১৫
comment by: নেমেসিস বলেছেন: সোজা শোকেসড ।
১০ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১২:২১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

৫. ১০ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১২:১৭
comment by: নেমেসিস বলেছেন: মেইল করে দিয়েন এই কপিটা মনে কইরা।
১০ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১২:২১

লেখক বলেছেন: প্রত্যুদাকে করে দিয়েছি ভোরেই।

৬. ১০ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১:০৩
comment by: সৈয়দ দেলগীর বলেছেন: ভালো... ধন্যবাদ মিশু...
১০ ই জুলাই, ২০০৮ বিকাল ৪:০৭

লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। অনেকদিন পরে দেখলাম আপনারে।

৭. ১০ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১:৩৭
comment by: শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: শেষ হয়ে গেলো? অনেক অনেক ভাল কাজ। অনেকগুলো ধন্যবাদ
১৩ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১২:০২

লেখক বলেছেন: এই সিরিজ শেষ। নতুন সিরিজ শুরু করবো শীঘ্রই।

 



 


স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন বুনি, স্বপ্নেই আমার বাস।
http://www.bangladesh1971.org
http://www.saifur-rahman.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ১৪১৪১