somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... হাতে ছিল রাতে শেষ করা সেই সিগারেটের প্যাকেট

দিনক্ষণ ঠিক মনে নেই যেদিন প্রথম দেখেছিলাম হলুদ একটি থ্রিপীস পড়েছিলে। সেদিন আমাকে তুমি দেখনি। তোমার কিছু বান্ধবী সাথে থাকায় আমি ফিরে যেয়ে তোমাকে ফোনে বলেছিলাম,
"তোমারতো একা আসার কথা ছিল।"

সেদিনতো আমাকে একা ফেলে চলে যাওনি। পরদিনতো ঠিকই আবার এসেছিলে একই স্থানে দেখা করতে। সেই গেলেটেরিয়া ইগলুতে। কতদিন দেখেছি সামনে বসে থেকে তোমার সেই স্কুপস-ইন-কাপ খাওয়া।

মনে পড়ে আমি যখন ছাত্র ছিলাম, টিউশনির বেতন পেলে সবার আগে তোমার সাথে দেখা করতে চাইতাম, আর সারা মাসের ধার শোধ করে যখন প্রায় খালি হাতে তোমার সামনে যেয়ে উপস্থিত হতাম, তখনতো চলে যাওনি আমাকে একা ফেলে।

যখন তোমার সাথে বেশি সময় বসতে পারতামনা, টিউশনির আর ব্যস্ততার জন্য, তখনতো আমাকে একা ফেলে যাওনি।

মনে পড়ে, তোমার বাসার খুব কাছেই ছিল আমার প্রথম চাকুরি, প্রায় লাঞ্চের সময় অফিসের সামনে এসে ফোন দিতে, মনে পড়ে সেই দিন গুলো খুব বেশী। কখনও বের হতাম, কখনও পারতাম না। তখনতো আমাকে ছেড়ে যাওনি।

তাহলে কিভাবে আছ আমাকে ছেড়ে? কিভাবে আছ নতুন একটি মানুষকে আমার পাওনাগুলো বুঝিয়ে দিতে? তুমি কি এখনও আগের মত আইসক্রিম খাও? তুমি কি খুব বেশি ভাল আছ, আমাকে ছেড়ে? তোমারও কি আমার মত মাঝরাতে দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙ্গে? তুমিও কি আমার মত সারারাত একা একা আকাশের দিকে চেয়ে থেকে কাটিয়ে দাও? তুমিও কি আমার মত গভীর রাতে ছাদে যেয়ে চিৎকার করে কাঁদ? তুমিও কি আমার মত কোন জুটে দেখে গোপনে চোখ মোছ? তুমিও কি ভোর রাতে আমাকে স্বপ্ন দেখ? তুমি কি আমাকে আগের মত ভালবাস? তুমি কি আমাকে আগের মত সকালে ফোন করে বল "অফিসে যেতে হবে, উঠে যাও"? না, তুমি আর এখন আমাকে তা বলনা। কিন্তু আজ সকালে ঠিক এমনভাবেই ঘুম ভেঙ্গেছে। কিন্তু ঘুম ভাঙ্গার পর হাতে মোবাইল ছিলো না। ছিল রাতে শেষ করা সেই সিগারেটের প্যাকেট।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28878362 http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28878362 2008-12-04 23:01:18
রজনী পোহালো তবু পেলাম না তোমার দেখা

কাল সারা রাত আমি অপেক্ষায় ছিলাম,
অপেক্ষার প্রহর গুনে দিন কাটালাম,
সাঁজের বেলায় তাকিয়ে ছিলাম,
তোমার দেখা নাহি পেলাম।

কতটা বোকা দেখ এই আমি,
ভুলেই গেছি তুমিতো আজ আমার নেই।
তোমার কথা ভেবে, নীরবে অশ্রুঝেরে,
পুরোনি দিনের ছবি আর ডায়রীর সাথে রাত কাটাই।

জানিনা তোমার মত পারবো কিনা
নতুন কাউকে আপন করে নিতে,
হয়তো এভাবেই কাটিয়ে দেব,
চেষ্টা করবো সব কিছু ভুলে যেতে।

বারবার নিজে শপথ করি
ঠিক এমনটাই,
বড় বেশি মনে পড়ছে তোমাকে
ইচ্ছে করছে আবার সেই দিনগুলো ফিরে যাই।

জানি এও সম্ভব নয়, রাত কাটাই একা,
তুমি আজ অনেক দূরে
আমাকে ছেড়ে, পর করে।

মোবাইল ফোনটা হাতে নিয়ে,
তোমাকে ডায়াল করি,
জানিনা তোমার নম্বর
নিজের ভেতর কি যেন খুঁজে ফিরি।

সিগারেটের ধোঁয়াকে জিজ্ঞেস করি, কেমনে ভুলিবো তারে,
জবাবে আসে মরন কাশি, আর বুক ভরা যন্ত্রণা
এভাবেই রাত কেটে যায়, তবু ভুলিনা তোমায়,
পারবো না, আমি সত্যি পারলাম না।

শত ক্ষমা চাইলেও, জানি তুমি ফিরবে না
স্বপ্নগুলো এলোমেলো, তুমি তা জানবেও না।
একা এই আমি, আজ বড় বেশী একা
রজনী পোহালো তবু পেলামনা তোমার দেখা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28877978 http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28877978 2008-12-04 03:20:31
সংবিধান প্রস্তাবনা - ১৯৭২

আমরা বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষনা করিয়া জাতীয় মুক্তির ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি;

আমরা অঙ্গীকার করিতেছি যে, যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্ভুদ্ধ করিয়াছিল - জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গনতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল এই সংবিধানের মূলনীতি হইবে;

আমরা আরো অঙ্গীকার করিতেছি যে, আমাদের রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ হইবে গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা - যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হইবে;

আমরা দৃঢ়ভাবে ঘোষনা করিতেছি যে, আমরা যাহাতে স্বাধীন সত্তায় সমৃদ্ধি লাভ করিতে পারি এবং মানবজাতির প্রগতিশীল আশা-আকাঙ্খার সহিত সঙ্গতি রক্ষা করিয়া আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে পূর্ণ ভূমিকা পালন করিতে পারি, সেইজন্য বাংলাদেশের জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিস্বরূপ এই সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা এবং ইহার রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান আমাদের পবিত্র কর্তব্য;

এতদ্বারা আমাদের গণপরিষদে অদ্য তের শত ঊনআশি বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসের আঠার তারিখ, মোতাবেক ঊনিশ শত বাহাত্তর খ্রীষ্টাব্দের নভেম্বর মাসের চার তারিখে, আমরা এই সংবিধান রচনা ও বিধিবদ্ধ করিয়া সমবেতভাবে গ্রহণ করিলাম।

আমার কথা:
এই ছিল আমাদের প্রথম সংবিধানের প্রস্তাবনা। সামনে আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আবারও কোন না কোন দল সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবে। তাই যারা নির্বাচনে অংশগ্রহন করবেন তারা সবাই কি জানেন কি ছিলো এই স্বাধীন দেশের উদ্দেশ্য?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28875234 http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28875234 2008-11-28 04:16:32
প্রথম আলো ব্লগ - কিছু সমালোচনা
কেউ কেউ বলেছেন এক গাদা শর্তের ব্যাপারে, যা নিয়ে আমার ব্যক্তিগতভাবে কোন মাথাব্যাথা নেই। কেই যদি আমাকে ব্যান করে, পৃথিবীতে আমার কথা বলার জন্য আরো অনেক প্ল্যাটফরম আমি পেয়ে যাবো।

প্রথমত আমার সবচেয়ে আশ্চর্য লেগেছে তারা সার্চের বাংলা অর্থ খুঁজে পাইনি এই দেখে।


গুগলের সার্চ ব্যবহার না করে কি কন্টেন্ট সার্চ করা যায় না? এলগরিদমের দৌড়টা তখনি বোঝা যায়।

তারপর নিচে দেখলাম পেইজিং করা হয়েছে, তাও ইংরেজিতে। এবং সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো ৫৮তম পৃষ্ঠায় যেয়ে আমি দেখি কোন পোষ্ট নেই। কিন্তু পেইজের সংখ্যা ৬১ পর্যন্ত দেখাচ্ছে। এর মানেটা ঠিক বুঝলাম না। ৬১ এর পরে কিন্তু আরো আছে বলে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।





এরপর আছে বাংলার সমস্যা, এটা কিন্তু CSS এর সমস্যা। শুনেছিলাম কোন এক CSS গুরু নাকি এরও কাজ করেছেন।



এখানেও ইংরেজী -



নিচে মাসের নামটি দেখুন -



যারা নিজেদের এই ব্যাপারে তথাকথিত গুরু বলে দাবী করেন তারা কিভাবে এমন ভুল করেন। যদিও তারা নিজেরাই নিজেদের কাজে কোন মান নিয়ন্ত্রক ব্যবহার করেন না। কারণ তারা যে সকল ভুলের উর্ধ্বে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28861361 http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28861361 2008-10-29 02:00:24
এরা যে বসতে দিলে শুতে চায়

একটা সত্যি ঘটনা দিয়ে শুরু করা যাক।

আমি তখন বেশ ছোট, যতদুর মনে পড়ে ক্লাস ফাইভে পড়ি। সময়টা বৎসরের শেষের দিকে। পরিবারের বাকি সবাই দুপুরে খেয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে। বৃত্তি পরীক্ষার্থী বলে আমার দুপুরে ঘুম নিষেধ। সকালেও আম্মু নামায পড়তে উঠার সময় তুলে দিতেন। আমার মা বেশ কড়া মহিলা ছিলেন তাই, আম্মু ঘুমালেও আমি পড়ার টেবিলে বসেই ঝিমাচ্ছি। এমন সময় দরজায় কড়া নাড়ার আওয়াজ পেয়ে উঠে গেলাম। কাঠের দরজার পরে একটা লোহার গেইট ছিল বলে যে কেউ আসলে অনায়াসেই আমরা কাঠের দরজা খুলে দেখতাম কে এসেছে। দেখলাম ২৫-৩০ বছরের এক যুবক আমাকে আমার নাম ধরে বলে, "তোমার আম্মুকে ডেকে দাও।" আম্মু ব্লাডপ্রেসারের রোগী ছিলেন বলে হুট করে ঘুম থেকে জাগানো নিষেধ ছিল। তাই আমি তার কাছে তার পরিচয় জানতে চাইলে সে আমাকে আমার মামা বলে পরিচয় দেয়। প্রথম দেখায় তাকে আমার পছন্দ হয়নি মোটেই। তাকে বাহিরে দাড় করিয়ে আম্মুকে ডেকে আনলাম। আম্মু নিজেও তাকে প্রথম দেখায় চিনতে পারলেন না। পরে অনেক পরিচয় দেবার পর আম্মু দরজা খুলে তাকে ভেতরে আসতে দিলেন। বেশ কিছুক্ষণ আম্মুর সাথে কথা বলে চলে যাবার সময় দেখলাম আম্মু তাকে কিছু টাকা দিলেন। সেদিন সে যাবার পর আম্মুর কাছে জানতে চাইলাম সে কে। আম্মু বললো, আম্মুরা যখন ছোট ছিলেন তখন আমার নানার বাড়ীতে ঐ ছেলের বাবা কাজ করতেন। অভাবী পরিবার, বাবা মারা গেছেন তাই এখন তাকেই কস্ট করে সংসার চালাতে হয়। পড়াশুনা মাদ্রাসায় করেছেন বলে ভাল চাকুরী পায়নি। তাই টিউশনি করেই এখন কোন মতে পরিবার চালায়।

পরদিন শুক্রবার। আমি ভোর থেকেই আমার পড়ার টেবিলে, আর আমার ছোট বোন মাত্র উঠে দাঁত ব্রাশ করছে বারান্দায় দাড়িয়ে। এমন সময় সেই মামা আবার এসে হাজির। আমার ছোট বোন চিনতে না পারায় আমাকে ডেকে নিয়ে যায়। আমি যেহেতু তাকে আগের দিন দেখেছি তাই আজ সরাসরি দরজা খুলে দিয়ে ড্রয়িং রুমে বসতে বললাম। সে আমার কাছে জানতে চাইলো আম্মু কোথায়। উত্তরে বললাম, রান্নাঘরে নাশতা বানাচ্ছে। সে সোজা চলে গেল রান্নাঘরে। আমাদের সেই বাসাটা এমন ছিল যে রান্না ঘরে যেতে হলে মোটামুটি সব রুমই দেখা যায়।

আম্মু এত সকালে তাকে দেখে একটু অপ্রস্তুত হলেন। তারপরও সহানুভুতিতাতো তার জন্য আগের দিনই জন্মেছিলো তাই তাকে বললেন ডাইনিং টেবিলে আমাদের সাথে বসে নাশতা করতে। সবাই মিলে নাশতা শেষে আমি যথারীতি চলে যাই আমার পড়ার ঘরে। এইদিকে সে আম্মুর সাথে নানান কথাবার্তা বলছে। প্রায় দশটার সময় সে চলে যাবার সময় হঠাৎ আম্মুকে বলে, "আপা, আপনার টু-ইন-ওয়ানটা কি আমাকে একটু দেয়া যায়, আমার বাসা কাছেই, তাছাড়া মিশু (আমার ডাক নাম) কে আমার সাথে নিয়ে যাচ্ছি। জুমার নামাযের আগে আবার ওকে সহ দিয়ে যাব।"

আমার অতি সাধাসিধে মা জননী তার কথায় না বলতে পারলেন না। আমাকে সহ সে নিয়ে গেল আমাদের টু-ইন-ওয়ান। বাসা থেকে বের হয়ে প্রথমে সে কাছের একটি স্থনের নাম বলে রিকশা নেয়। তারপর সেস্থানে পৌছালে, টু-ইন-ওয়ান টা একটি দোকানে রেখে দোকান থেকে টাকা নিয়ে আমাদের রিকশা ভাড়া দিয়ে আমাকে বলে মামা তুমি বাসায় চলে যাও, আমার একটু কাজ আছে আমি পরে আসছি।

তখনই আমার মনে একটু সন্দেহ দেখা দেয়। তাছাড়া আমাদের টু-ইন-ওয়ানটা ছিল আমার ছোট বেলা থেকেই আমার সঙ্গী। আমি নাকি ছোট বেলায় কান্না করলে আম্মু এই টু-ইন-ওয়ান বাজিয়ে দিলে আমার কান্না থেকে যেত। যাই হোক ফিরে আসি মূল কথায়। আমি সেই রিকশা নিয়েই বাসায় ফেরত আসি এবং সাথে সাথে আম্মুকে ব্যাপারটি জানাই। আম্মু তখনও কিছু আঁচ করতে পারেননি। জুমার নামায শেষে সবাই খেয়ে উঠার পর আম্মু ব্যাপারটি আব্বুকে বলেন। আব্বু আমাকে সাথে নিয়ে যান সেই দোকানে যেয়ে দেখেন সেই দোকানে আমাদের সেই টু-ইন-ওয়ানে খুব জোড়ে গান বাজচ্ছে। দোকানীকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে সে আজ সকালে ৫০০ টাকা দিয়ে এটা কিনে নিয়েছে। শুনেই আমি কেঁদে ফেলি সেখানেই। যাই হোক স্থানীয় হবার সুবাদে আব্বু দোকানীকে আবার ৫০০ টাকা দিয়ে সেদিনের মত তা ফিরিয়ে এনেছিলেন।

কিন্তু সেদিন এই ব্যাপারটি শিখেছিলাম যে এই পৃথিবীতে এমন মানুষের অভাব নেই যাদের খেতে দিলে বসতে চায়, বসতে দিলে শুতে চায়। আমার ছোট্ট মাথায় ধরেনা তাদের কি করা যায়।

তাই আজ আমাদের চোখের সামনে আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিকে মুছে ফেলার যে পায়তারা করছে একটি সংঘবদ্ধ গোষ্টি তাদেরকে আমরা কিভাবে রুখবো? আজ আমরা বিমানবন্দরের সামনে করা লালনের মূর্তি ভেঙ্গে ফেলার দাবী মেনে নিয়েছি। তাদের কথায় আমরা তা ভেঙ্গেও ফেললাম। কালতো তারা দাবী করবে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের নিদর্শন "অপরাজেয় বাংলা" ভেঙ্গে ফেলতে।

কারণ এরা যে বসতে দিলে শুতে চায়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28857157 http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28857157 2008-10-20 02:12:05
পকেট চাই.....

পকেট...

পকেট, পকেট চাই,
একটা পকেট চাই,
দুইটা পকেট চাই,
হাজার পকেট চাই।

পকেট, পকেট চাই,
এখানে পকেট চাই,
সেখানে পকেট চাই।

সবাই পকেট কেন বানাচ্ছে?

বুঝলেন না?

নিচে দেখুন….

দীর্ঘদিন ১৪শিকের পেছন থেকে একে একে সকল দুর্নীতিবাজরা বের হচ্ছে। এতদিন যেসব উপরি আয় থেকে দুরে সরে থাকতে হয়েছিল এখন তা কয়েকগুন বেশী করে পুষিয়ে নেয়ার জন্য এখন সবার অতিরিক্ত পকেট চাই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28850244 http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28850244 2008-10-02 00:46:10
গঠনমূলক সমালোচনা

সামহোয়্যার ইন - বাংলা ব্লগিং এর সূচনা। আমি সঠিক জানিনা বর্তমান ব্লগার সংখ্যা কত। তবে এটুকু জানি অন্য যেকোন বাংলা ব্লগের চেয়ে অনেকগুন বেশী। আমি নিজে পড়ছি বছর খানেক আগে থেকে, আর লিখছি কয়েক মাস ধরে। যদিও অন্যান্যদের তুলনায় আমার অভিজ্ঞতা খুবই কম তার পরও আমার এই অল্পদিনের অভিজ্ঞতায় এই ব্লগের কিছু সমস্যা আমার দৃষ্টিতে এসেছে যা ব্লগ কর্তৃপক্ষেরও যাতে দৃষ্টিগোচর হয় এই উদ্দেশ্যে পোষ্ট আকারে দিলাম।

প্রধানতঃ হঠাৎ করেই সাইটটি খুব স্লো হয়ে গেছে যা গত কয়েক মাস আগেও অনেক ভাল ছিল। শুরুতে পিএইচপি ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে কোন ল্যাংগুয়েজ আছে তা আমার জানা নেই। তবে জাভা হলে ভাল হতো কারণ জাভার একটি খুব ভাল দিক হলো যত লোড বেশী হয় তার পারফরমেন্স তত ভাল হয়। এছাড়া স্লো হবার আরও কিছু কারণ থাকতে পারে। যেমন ডাটাবেসের কমপ্লেক্স কোয়েরী গুলো যদি খুব ভাল অপটিমাইজড না হয়। আমার মনে হয়েছে কিছু কোয়েরী জনীত সমস্যাও রয়েছে।

দ্বিতীয়তঃ মাঝে মাঝে কিছু অপারেশনের সময় একটি অ্যালার্ট ম্যাসেস আসে "Action failed" টাইপের। ম্যাসেজের কথাটি আমার পুরোপুরি মনে নেই। কিন্তু ঐ ম্যাসেজটি প্রকৃতপক্ষে ভুল তথ্য দেয়। কারণ আমি আমার একটি মন্তব্যের জবাব মুছতে যেয়ে ঐ ম্যাসেজটি পেয়েছিলাম। কিন্তু পরে পেইজটি রেফ্রেশ করে দেখি আসলেই ডিলিট হয়েছিলো।

তৃতীয়তঃ সমগ্র সাইটে বেশ কিছু জাভাস্ক্রিপ্ট এরর আছে। যেমন ফায়ারফক্স যারা ব্যাবহার করেন তারা নতুন ব্লগ লিখতে গেলে কিছু সমস্যার সম্মুক্ষিন হবার কথা। যদিও আমি লিনাক্স ইউজার তাই উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের ব্যাপারটা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারছি না। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি সাঃইঃ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবো সাইটটি যেন অন্তত লিনাক্স-এ টেস্ট করা হয়।

চতুর্থতঃ মাঝে মাঝে আমার সিলেক্ট করা লে-আউট যাই থাকুকনা কেন ইংরেজী ছাড়া আর কোন কিছু টাইপ করা যায়না। যা কয়েকবার রেফ্রেশ দেবার পর অথবা অন্য কোথা থেকে টেক্সট কপি করে তারপর টাইপ শুরু করলে অনেক সময় ঠিক হয়।

আমার ব্যক্তিগত উপদেশ হলো, সাইটটি যেহেতু বিশ্বব্যাপী বাংলা ভাষা ভাষীরা ব্যবহার করে থাকেন সেহেতু যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রথম ব্যাপারটির দিকে দৃষ্টি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত এবং খুব ভালভাবে পরীক্ষা না করে নতুন কোন সুবিধা তাড়াহুড়ো করে না দেয়া।

আমি উবুন্টু ব্যবহারকারী। তাই উইন্ডোজ ব্যবহারকারীরা আমার সমস্যাগুলোর সাথে একমত নাও হতে পারেন। তবে প্রথম সমস্যাটির সবাই হয়তো সম্মুক্ষিন হয়েছেন।

যারা এই অ্যাপ্লিকেশনটির আর্কিটেকচার ডিজাইনে আছেন তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক বলছি দয়া করে আর্কিটেকচারটা একটু রিভিউ করুন। না হলে এখন যেই অবস্থা এর ঠিক দেড়গুন ব্যবহারকারী বাড়লেই এর অবস্থা খুবই খারাপ হবে বলে আমার ধারনা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28849140 http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28849140 2008-09-29 03:19:37
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

২৫শে মার্চ ১৯৭১, অপারেশন সার্চলাইটের অযুহাতে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ অত্যাচার শুরু যা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানিদের মারাত্মক নাড়া দেয় এবং তারা বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন স্থানে তুমুল প্রতিবাদ গড়ে তোলে এবং পরবর্তিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে রুপ নেয়। এই সংগ্রামে দেশকে পশ্চিম পাকিস্তানের অত্যাচার থেকে মুক্ত করার প্রত্যয় নিয়ে নিজের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেয় লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশী তরুন, কিশোর, বৃদ্ধ। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোষরদের হাতে সম্ভ্রম হারায় অসংখ্য নারী। পাকিস্তানী বাহিনীর নির্দেশে এদেশীয় প্রতারক দল আলবদর, আলশামসের হাতে শহীদ হয় বিপুল সংখ্যক বুদ্ধিজীবি।

যুদ্ধের ঠিক পরবর্তিতে প্রথমেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে কথা উঠে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ তার এক মন্তব্যে বলেন যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে হয়তো পাকিস্তানি সেনাসদস্যদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হবেনা। তাছাড়া ভারত এবং তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নও বিচারের ব্যাপারে তেমন উৎসাহী ছিলোনা।

২৪শে ডিসেম্বর ১৯৭১, তৎকালীন সরাষ্ট্রমন্ত্রী এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামান বলেন, "কোন যুদ্ধাপরাধী আইনের হাত থেকে রক্ষা পাবেনা। এমনকি গনহত্যা এবং অত্যাচারে জড়িত পাকিস্তানী সেনাসদস্যরাও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।"

শেখ মুজিবর রহমান এবং ইন্দিরা গান্ধীর এক সভা শেষে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রে ভারত সকল সহয়তা প্রদান করবে।

১৯৭২ এর জুলাইয়ের মধ্যেই হঠাৎ করেই সরকারী তালিকায় যুদ্ধাপরাধীর সংখ্যা ৪০০ থেকে ১৯৫ এ নেমে আসে। জে. এন. ডিক্সিট তার বইতে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমান সংগ্রহে নিরুৎসাহিত ছিল। এর কোন সুনির্দিষ্ট কারণ তিনি উল্লেখ না করলেও সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের ভবিষ্যত কুটনৈতিক সম্পর্ক এবং বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর স্বীকৃতি আদায়ের ব্যাপারটি উল্লেখ করেন। পরবর্তিতে ত্রি-জাতীয় চুক্তির মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যুটি চাপা পড়ে যায়।

এরপর জাতি তার মহান নেতা শেখ মুজিবকে হারায়, দীর্ঘদিন সামরিক শাসন, চিহ্নিত রাজাকারদের দেশে পুনরায় প্রতিষ্ঠাকরণ এসব দেখতে এবং সহ্য করতে হয় এই জাতিকে। এরই ধারাবাহিকতায় ৭১ এর চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজমকে ২৯শে ডিসেম্বর ১৯৯১ জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ নামক রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও সক্রিয় হতেও দেখা গেল।

গোলাম আজম এবং তার অনুসারীদের বিচারের দাবিতে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ১৪ ফেব্রুয়ারী ১৯৯১ এ "একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি" নামক জাতীয় কমিটি গঠন এবং গন আদালতে তাদের বিচার চাইতেও দেখলাম। আরও দেখলাম সংসদে শেখ হাসিনাকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাইতে এবং সেই বিল পাস না হতে।

তারপর দেখলাম দীর্ঘ পাঁচটি বছর ক্ষমতায় থেকে সেই শেখ হাসিনা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করে ক্ষমতা থেকে চলে যেতে এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদে উদ্ভুদ্ধ দল বি এন পি কে এই যুদ্ধাপরাধীদের সাথে জোট করে ক্ষমতায় এসে মন্ত্রনালয় ভাগাভাগি করতে। দেখলাম এদেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকায় কেনা সরকারি গাড়িতে পেট্রোল জ্বালিয়ে, জাতীয় পতাকা উড়িয়ে রাজাকারদের ঘুড়ে বেড়াতে। দেখলাম জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান এক মুক্তিযোদ্ধাকে সেই রাজাকারদের উত্তরসূরীর পায়ের লাথি খেতে। আরও দেখলাম টিভি চ্যানেলে চিহ্নিত রাজাকারকে বুক ফুলিয়ে বলতে ৭১-এ তারা কোন ভূল করেনি, দেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই।

তারপরও আমরা নিশ্চুপ। আমরা চেয়ে আছি আমাদের তথাকথিত সরকারের দিকে তারা করবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। নিজেরা নিজেদের মাঝে দলাদলি করছি এ করলোনা, ও করলোনা বলে। আমাদের পূর্বপুরুষরা ভুল করেছে, তাই তাদের দোষারোপ করেই কি আমরা নিজেদেরকে দায়িত্ব থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারবো? নাকি তাদের সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের শুধরে নিবো? আমরাই করবো সেই বেইমান, রাজাকার, আলবদর, আলশামস সর্বোপরি সেইসব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28847597 http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28847597 2008-09-25 03:40:56
ভালবাসা

ভালবাসা, সে এক কল্পনা
ভালবাসা, সেতো আবেগময় কিছু মূহুর্ত;
ভালবাসা, মাঝরাতে কাঁপানো জ্বর
ভালবাসা, যা শর্তহীন অজস্র শর্ত।

ভালবাসা, যাতে আছে হতাশা
ভালবাসা, ঝড়ের রাতের কুড়েঘর;
ভালবাসা, যা মানুষকে স্বপ্ন দেখায়
ভালবাসা, কালববৈশাখীর ঘুর্ণিঝড়।

ভালবাসা, মানের দ্বারে হুক দিয়ে যায়
ভালবাসা, নির্ঘুম রাতে অশ্রু ঝরায়;
ভালবাসা, নীলাকাশে মেঘ জমায়
ভালবাসা, জীবনের আশা হারায়।

ভালবাসা, হৃদয় কাঁদায়
ভালবাসা, রাতের আকাশের তারা হারায়;
ভালবাসা, এযে এক দুঃখের আলপনা
ভালবাসা, জোনাকি তার আলো হারায়।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28847166 http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28847166 2008-09-24 01:52:03
বীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ শেখ (১৯৩৬ - ১৯৭১)

১৯৩৬ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারী নাড়াইল জেলার মহেশখালী গ্রামে তার জন্ম।
১৯৫৯ সালের ১৪ই মার্চ তিনি ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস এ যোগ দেন।
১৯৭১ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর যশোরের গোলহাটিতে সহযোদ্ধাকে বাঁচাতে যেয়ে ঘাতক হানাদার বাহিনীর গুলিতে তিনি শহীদ হন। তিনি নিজের জীবন দিয়ে তার বাহিনীকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন।

আজ তার মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28838940 http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28838940 2008-09-05 03:35:27
মানুষ নাকি শিবির?

বন্দর নগরীতে জন্ম আমার। শিশুকাল, কৈশর এমনকি পুরো ছাত্রজীবনটা কেটেছে ওখানেই। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পরিবারের আশানুরুপ ফলাফলে ব্যর্থ হওয়ায় দুইয়ের অধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ভর্তি ফরম নেয়া হয়নি। একটি ছিল সরকারি, অপরটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়টি যুগপোযোগী না হওয়ার কারনে শেষ পর্যন্ত গতি হলো বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে। উল্লেখ্য ছোটবেলা থেকেই রাজাকারদের ঘৃণা করি চরম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদেরই একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তি হলাম। প্রথম দিন থেকেই দেখতে লাগলাম তাদের কার্যক্রম। বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে নতুন ছাত্রদের দলে ভেড়ানোর নতুন নতুন কৌশল। যেকোন কারনেই হোক অনেক চেষ্টা করেও শেষ দিন পর্যন্ত আমাকে তাদের দলে ভেড়াতে সক্ষম হয়নি তারা। তাই অনেকের ক্ষোভ ছিল আমার উপর চরম।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন অবস্থায় গ্রুপ স্টাডি, নোট সংগ্রহ এমনই আরো অনেক কারণেই হোস্টেলে যেতে হয় কম বেশী সবারই। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। তাই দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার আগে একরাতে ছিলাম আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলের এক কক্ষে। এমন আরো অনেক রাত ছিলাম, কিন্তু সেই রাতের কথা আজও মনে আছে পরিষ্কার। ছাত্রাবস্থা থেকেই আমার ধুমপানের মত এক বদাভ্যাস ছিল। কিন্তু আমাদের সেই হোস্টেলের ভেতরে ধুমপান ছিল নিষিদ্ধ। তাই সেই রাতে খাবার পর, বাহিরে গেলাম একটু সুখটান দিয়ে আসতে। ফেরার সময়, গেইটে দারোয়ান সাহেব আর আমাকে আর ঢুকতে দিচ্ছেন না। যদিও সে আমাকে খুব ভাল করেই চিনতো। জামায়াতের যেকোন প্রতিষ্ঠানে দারোয়ান থেকে শুরু করে সবচেয়ে উঁচু পদটিতেও যে তাদের দলীয় লোকজন থাকেন একথা আশা করি এখন আর কারো অজানা নয়। তাই তাদের ভাবটিও থাকে মালিকের মতই।

যাই হোক, দারোয়ানের সাথে কিছুটা কথা কাটাকাটিই লেগে গেল। এক পর্যায়ে হোস্টেলের এক সিনিয়র ছাত্র এসে আমাকে কলার চেপে ধরে বলে, "ঐ তুই মুসলমান নাকি আওয়ামীলীগ?"

কোন মতে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, "তুই মানুষ নাকি শিবির?"







]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28838921 http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28838921 2008-09-05 02:14:29
যেদিন আমি লাল হব....

এক ছোট্ট শহরে ছিল এক ছোট্ট পাখী। পাখীটি ছিল খুবই সুখি। কোন কিছুরই অভাব ছিলনা তার। সারাদিন এই গাছ থেকে ঐ গাছে, এই ডাল থেকে ঐ ডালে উড়ে বেড়াতো। সারাদিন আড্ডা দিয়ে বেড়াতো বন্ধুদের সাথে।

একদিন এক ছোট্ট গাছের এক সাদা ফুলের প্রেমে পড়ে যায় সে। কিন্তু ফুলকে কোনভাবেই তা বলতে পারেনা। অনেক সাহস সঞ্চয় করে ফুলের সামনে যেয়েও না বলেই বার বার ফিরে আসে। বন্ধুরা তাকে এ নিয়ে অনেক খেপায়। মাঝে মাঝে বাজি ধরে তার এই ব্যাপার নিয়ে যে সে কোনদিনও বলতে পারবে না। কিন্তু তারা সবাই মন থেকে চায় সে বলুক। পাখিটি সারারাত ধরে ভাবে। পরদিন খুব ভোরে উঠে সে বেরিয়ে যায়। দুর থেকে ফুলটির দিকে তাকিয়ে থেকে ভাবে কিভাবে বলবে তাকে মনের কথাটি। অনেক ভাববার পর সে আজ সন্ধ্যায় বলবে। সারাদিন দুরে বসে থেকে সন্ধ্যায় সে ফুলটির পাশের ডালে যেয়ে বসে।

পাখিঃ তোমাকে আমার কিছু বলার ছিলো।
ফুলঃ বল।
পাখিঃ তুমি কিছু মনে করবে নাতো?
ফুলঃ না।
পাখিঃ সত্যি বলছো তো?
ফুলঃ আরে বাবা! হ্যাঁ সত্যিই বলছি।
পাখিঃ কথাটা তোমার পছন্দ না হলেও আমার সাথে কথা বলা বন্ধ করবে নাতো?
ফুলঃ না করবো না।
পাখিঃ আমি তোমাকে ভালবাসি।
ফুলঃ দুঃখিত! আমি তোমাকে ভালবাসিনা।

মন খারাপ করে পাখিটি চলে গেল। সেদিন সারা রাত না ঘুমিয়ে পরদিন সকালে আবার এল ফুলের কাছে। তাকে বোঝালো। কিন্তু ফুল সেদিনও তাকে ফিরিয়ে দিল।

এভাবে রোজ পাখিটি ফুলের কাছে আসে এবং বোঝাতে চেষ্টা করে। কিন্তু ফুল প্রতিবারই তাকে ফিরিয়ে দেয়। বেশ কিছুদিন যাবার পর ফুলটি পাখিকে বলে যেদিন আমার রং লাল হবে সেদিন আমি তোমাকে ভালবাসবো। পাখিটি সেদিনও মন খারাপ করে ঘরে ফিরে গেল। রাতে শুয়ে শুয়ে ভাবে কিভাবে ফুলকে লাল করতে পারে। অনেক ভাববার পর তার মাথায় একটি বুদ্ধি আসে।

পরদিন আবারো খুব ভোরে সে যায় ফুলের কাছে। তখনও ফুলের ঘুম ভাঁঙ্গেনি। পাখিটি ফুলের ঠিক উপরের ডালে বসে নিজের দুটো পাখা কেটে ফেলে আর তার রক্ত দিয়ে ফুলকে লাল করে দেয়। ফুলের ঘুম ভাঙ্গে। চোখ খুলে সে দেখতে পায় সে লাল হয়ে গেছে। তখন তার পাখির কথা মনে পড়ে। চারদিকে তাকিয়ে সে পাখিকে খোঁজে। না পেয়ে সে মন খারাপ করে নিচের দিকে তাকিয়ে দেখে গাছের নিচে ডানাকাটা পাখিটির নিরব মৃতদেহ পরে আছে।


[আজ সন্ধ্যায় এক বন্ধুর কাছ থেকে একটি এসএমএস পেয়েছিলাম। ঐটার উপরই ভিত্তি করেই এই লিখা।]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28834975 http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28834975 2008-08-26 00:25:35
তোমাকে

বিস্তির্ণ দুপুরে খোলা আকাশের নিচে
যখনই বসে থাকি একা,
আমার সেই একাকীত্বের মাঝে
খুঁজে পাই তোমাকে।

মাঝরাতে সজাগ থেকে
যখনই থাকি চোখ বুজে,
আমার সেই নিরবতার মাঝে
খুঁজে পাই তোমাকে।

প্রকৃতির মাঝে সবুজের সমারোহে
যখনই তাকিয়ে থাকি আপন মনে,
আমার সেই ভাল লাগার মাঝে
খুঁজে পাই তোমাকে।

বিনিদ্র রাত্রিতে, হৃদয়ের অনেক কষ্ট নিয়ে
যখন কেঁদে যাই নিরবে,
আমার সেই কষ্টের মাঝে
খুঁজে পাই তোমাকে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28830672 http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28830672 2008-08-14 02:28:26
সময় ও দেশ
সময়টা কিভাবে চলে যাচ্ছে। আমি আমার এই সময়টা অনেক আগলে রাখতে চাই। আমি জানিনা, সময়ের চলে যাওয়া দেখলে আমার কেন যেন খুব কান্না পায়। আরও কত কিছুইতো চলে যায় কিন্তু তার জন্য আমার কান্না পায়না। সময়ের চলে যাওয়া দেখলে আমার খুব কান্না পায়।

আমি মাঝে মাঝে খুব চেষ্টা করি তাকে ধরে রাখতে। কিন্তু পারিনা। কিভাবে তাকে ধরে রাখা যায়? তাকে ধরে রাখার জন্য এখন পর্যন্ত কোন বিজ্ঞানী এখন পর্যন্ত কোন হিমাগার তৈরী করতে পারেননি। যুগ যুগ ধরে তারা তাহলে কি করছেন? আমারতো মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে প্রয়োজনীয় যন্ত্র এটাই। কিন্তু এটাই এখনও আবিষ্কার করতে পারেনি কেউ। ইস যদি পারতো! তাহলেতো পৃথিবীতে কোন ঝামেলাই থাকতো না। কেউ মিথ্যা বলতে পারতো না, কেউ কোন অপরাধ করতে পারতো না, কেউ কাউরে ধোকা দিতে পারতো না।

তবে মন বলে একটা কি যেন আছে আমাদের মাঝে। তাতে কিন্তু আমরা সময়কে ধরে রাখতে পারি অনেকদিন, চাইলে আজীবন। কেন যেন আমার ছোটবেলার অনেক কিছুই আমি ভুলিনি, ভুলিনি আমার জীবনের অনেক কিছুই। যা আসলেই ভোলার মত নয়। এটা আমার মনে হয় পৃথিবীর সকল মানুষের ক্ষেত্রেই হয়। এই মনটা কেন আমাদের সাথে আছে? এটা আছে বলেই আমরা কষ্টটা অনুভব করি, আবার আনন্দও পাই। আমাদের এই মনটার কি আদৌ কোন প্রযোজন ছিল? হ্যাঁ কি না তা আমি জানিনা। তবে না থাকলে আমরা হয়তো আজ অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হতাম, আবার না থাকলে আমরা আজ অনেক অপরাধ কম করতাম।

তবে এইসবের একটাই সমাধান। তা হলো, টাইম মেশিন। চলুন আমরা সবাই আমাদের নিজেদের মনটাকে একটা একটা টাইম মেশিন হিসেবে প্রস্তুত করে ফেলি। তাহলে আজ থেকে আমরা আর কোন অন্যায় করতে পারবো না, মিথ্যা বলতে পারবো না, কোন দুর্নীতি করতে পারবো না, ঘুষ খেতে অথবা দিতে পারবো না। তাহলে আমরা হয়তো একদিন বলতে পারবো,

আমার দেশ সোনার দেশ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28825806 http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28825806 2008-07-31 01:43:09
পৃথিবীটা গোল
দীর্ঘ তিন বছর আগে জীবনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করেছিলাম। সোজা চলেছি তাই আজ আবারও নিজেকে খুঁজে পেলাম সেখানে যেখান থেকে শুরু করেছিলাম। কিন্তু তাই বলে কি আমি সেখানেই আছি? হ্যাঁ, আমি সেখানেই আছি কিন্তু আমার অভিজ্ঞতার ঝুড়িতে বেশ কিছু শুকনো ফুল আর কাঁটা জমেছে। হয়তো নতুন কোন দিকে গন্তব্য শুরু করবো, তবে প্রতি কদমে মনে রাখবো এই ফুল আর কাঁটাগুলোর কথা। নতুন আরো ফুল হয়তো যোগ হবে, তবে কাঁটা আর যোগ হতে দেবনা। আমি হয়তো প্রথম ভ্রমণটা বেশ তাড়াতাড়ি শুরু শেষ করতে পেরেছিলাম তাই আরেকবার যাত্রা শুরু করতে পারবো, সবাইকি তা পারে? সবাইকি সেই সুযোগ পায়?

আমাদের দেশে যেসব বাবারা সারাজীবন সৎ থেকে তাদের কর্মজীবনের ইতি টানেন তারা জীবনের শেষ বয়সে এসে কি পান? সন্তানের অবহেলা, কটুক্তি। কারণ যেসব বাবারা সরলপথে চলেননি তাদের সন্তানদের অবস্থা দেখে সরলপথের বাবাদের সন্তানরা বাবাকে প্রশ্ন করে, "কি করেছ আমার জন্য?" তখন এইসব বাবারা নিজেদের খুঁজে পান নিজেকে ঠিক যেখান থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন সেখানে। কিন্তু নতুন করে যাত্রা শুরু করার সময় তখন আর তাদের হাতে থাকেনা।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28820563 http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28820563 2008-07-15 16:05:42
ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ১২ (শেষ পর্ব)
মুক্তিযুদ্ধে প্রচারমাধ্যমের ভূমিকা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বিশ্ব প্রচার মাধ্যম বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ভুমিকা রাখে। পূর্ব পাকিস্তানের বেশীর ভাগ সংবাদপত্র স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ গনতান্ত্রিক সংগ্রামের মিত্র ছিল। সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় আন্তর্জাতিক গন মাধ্যমগুলো বিশ্ব জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল।

পাকিস্তান আমলে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এবং বাক স্বাধীনতার পক্ষে তাদের সাহসী ভুমিকা রেখে আসছিলেন। ফলশ্রুতিতে অসংখ্য সংবাদকর্মী নির্যাতন ও কারাভোগ করেন এবং কিছু কিছু সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে পরাজয় নিশ্চিত জেনে রাজাকার এবং আলবদর বাহিনীর সহায়তায় পাকিস্তানী বাহিনী প্রচুর সংখ্যক প্রসিদ্ধ সংবাদকর্মীদের হত্যা করে।

২৫শে মার্চের গনহত্যা শুরুর পর থেকে বেশ কিছু বিদেশী সাংবাদিক তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গনহত্যা এবং ধ্বংসযজ্ঞের সংবাদ প্রচার করেন।


ছবিঃ সাইমন ড্রিং

স্বাধীনতার দীর্ঘ নয় মাস ধরে ভারত, যুক্তরাজ্যে ও ইউরোপের আরো কিছু দেশ, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্রসমূহ পাকিস্তানীদের অমানবিক নৃশংসতা এবং মুক্তিবাহিনীর সাহসী সংগ্রামের উপর নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রচার করতে থাকে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গনমাধ্যম বিশ্বজনমত গঠনের জন্য বিবেক জাগ্রত করে। যা বিজয় ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে।

১৯৭১ এ গনমাধ্যমের এই ভুমিকা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিপক্ষে গনমাধ্যমের অবস্থানের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।



বাংলাদেশের অভ্যুদয় - ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭১



সর্বস্তরের জনসাধারন সমর্থিত বাংলার সাহসী সন্তানদের নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশত্র সংগ্রামে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামস পর্যদুস্ত হয়ে পড়ে। ৩রা ডিসেম্বর ১৯৭১, পাকিস্তান ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে আক্রমণ করে। এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার ৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী ও ভারতের সশত্রবাহিনীর ইষ্টার্ন কমান্ড মিলে যৌথবাহিনী গঠিত হয়। যৌথবাহিনী বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবেশ করে।







অবশেষে ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর জেনারেল জগজিৎ সিং আরোরার নিকট পাকিস্তানী লেঃ জেনারেল নিয়াজী আত্মসমর্পন করে। ঐ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীর উপ-প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার মুক্তিবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেন।

এভাবেই বিশ্ব মানচিত্র বাংলাদেশের অভ্যুদয়।

তথ্যসুত্রঃ
বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর।
[সকল পর্বই সংরক্ষিত আছে বাংলাদেশ ১৯৭১]


ছবিঃ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যাবর্তন











পুর্বের পর্বসমুহঃ

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ১

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ২

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৩

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৪

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৫

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৬

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৭

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৮

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৯

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ১০

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ১১

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28818722 http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28818722 2008-07-10 02:49:17
ফেইসবুকে বাংলাদেশ ১৯৭১ এর সর্বশেষ পোষ্ট


কয়েকদিনের চেষ্টার ফল হিসেবে আজ সফলতা পেলাম। ফেইসবুকে আমার করা প্রথম অ্যাপ্লিকেশনে আজ বাংলা দেখা যাচ্ছে।



শুধুমাত্র ১৯৭১ নিয়ে শুরু বাংলা ব্লগ (বাংলাদেশ ১৯৭১) এর সর্বশেষ পোষ্টটি এখন সরাসরি ফেইসবুকের প্রোফাইলে। ঐ সাইটের সদস্য না হয়েও ফেইসবুকে নিজের প্রোফাইলে পড়ুন ঐসাইটের সর্বশেষ পোষ্ট। নিচে অ্যাপ্লিকেশনের লিংকটি দেয়া হলো। যাদের মন চায় নিজের প্রোফাইলে যোগ করে নিতে পারেন।

বাংলাদেশ ১৯৭১ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28818680 http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28818680 2008-07-09 23:14:35
ফেইসবুকে এবার বাংলাদেশ ১৯৭১
বিশ্বজুড়ে এক নতুন হুজুগ ফেইসবুক। সোস্যাল কমিউনিটি আমি একটু কম বুঝি। তবে এটা বুঝি যে এইখানে বন্ধু-বান্ধবীর অভাব হয়না।

প্রোফাইল করেছি অনেক আগেই। তবে এবার আমি নিজে একটু অন্য একটা পরিচয় নিলাম ফেইসবুকে। বিভিন্ন ফ্রি-ল্যান্সার সাইটগুলোতে দেখি ফেইসবুক অ্যাপ্লিকেশনের জন্য ডেভেলপার খুঁজছে। তাই ভাবলাম দেখি একটু কিভাবে তৈরী করা যায় একটা টেস্ট অ্যাপ্লিকেশন। তাই কোন কিছু না ভেবেই প্রথমে গুগল মামার কাছে জানতে চাইলাম কিভাবে ফেইসবুক অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপ করা যায়? মামা দেখি তার অনেকগুলো জবাবের মধ্যে তৃতীয়তে উল্লেখ করলেন ফেইসবুক উইকির কথা। উইকিতে আমার সবসময় দারুন উৎসাহ তাই প্রথম দুটিতে না যেয়ে উইকিতেই চলে গেলাম সোজা।



উইকির সাহায্য নিয়ে মোটামুটি একটা ব্যাপার বুঝতে পারলাম তা হলো আসলেই খুবই সোজা এমন অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপ করা। তাই শুরু করলাম রাতে না খেয়েই। ছোটখাট একটা দাড় করালাম। তারপর তা ফেইসবুকের সাইটে যুক্তও করে দিলাম। নিচে আমার করা প্রথম এবং খুবই সাধারন এই অ্যাপ্লিকেশনের লিংক দিলাম। সময় পাইলে দেখে নিয়েন। না দেখলে নাই।

বাংলাদেশ ১৯৭১ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28818071 http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28818071 2008-07-08 13:26:37
ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ১১


মুক্তিযুদ্ধে সাংস্কৃতিকর্মীরা

গনতন্ত্র ও স্বাধিকার আন্দোলনের সাথে সাথে বাংলার সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার আন্দোলনও চালিয়ে যাচ্ছিলো পূর্ববাংলার সাংস্কৃতিকর্মীরা।

১. ১৯৬৭ সালে যখন পাকিস্তান সরকার গনমাধ্যমে রবীন্দ্রসংগীত বন্ধ ঘোষনা করে তখন সাংস্কৃতিকর্মীরা সংগঠিতভাবে এর বিরোধিতা করে।
২. ২৫শে মার্চের গনহত্যার পরে অনেক কবি, সাহিত্যিক তাদের লিখার মাধ্যমে এর বিরোধিতা করে এবং নয় মাস ধরে তা চালিয়ে যায়।
৩. শিল্পীরা স্মরনার্থী শিবির, মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ ক্যাম্প এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সাধারন জনগন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস যোগাত।
৪. অংকন শিল্পীরা বিভিন্ন পোস্টার এবং ঐতিহাসিক ব্যানার তৈরী করেন।
৫. চিত্রনির্মাতাগন স্বাধীনতার উপর চলচিত্র তৈরী করেন।



৬. মঞ্চশিল্পীরা বিভিন্ন নাটক লিখেন এবং তা পরিবেশন করতেন।

বিদেশী সাংস্কৃতিকর্মী

১. পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্পী এবং সাহিত্যিকবৃন্দ বাংলাদেশীদের পক্ষে জনমত গঠন এবং আর্থিক সাহায্য জন্য সহয়ক কমিটি গঠন করে।
২. ভারতের প্রথম সারির শিল্পীবৃন্দ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে।
৩. আমেরিকার ম্যাডিসন স্কয়ারে জর্জ হ্যারিসন, পন্ডিত রবীসংকর, আকবর আলী খান এবং অন্যান্যরা মিলে বাংলাদেশের জন্য কনসার্ট আয়োজন করে। সেই কনসার্টে তারা বাংলাদেশের জন্য বিশ্ববাসীর কাছে সাহায্যের আবেদন জানায় এবং স্মরনার্থীদের জন্য আর্থিক সাহায্য সংগ্রহ করে।





৪. আমেরিকার বিখ্যাত কবি অ্যালান গুইসবার্গ স্মরনার্থী শিবিরে বাংলার সাধারন মানুষের করুন অবস্থা দেখে তার বিখ্যাত "September on Jessore Road" কবিতা রচনা করেন।

[চলবে]

পুর্বের পর্বসমুহঃ

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ১

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ২

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৩

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৪

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৫

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৬

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৭

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৮

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৯

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ১০]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28817327 http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28817327 2008-07-06 13:42:02
ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ১০
মুক্তিযুদ্ধ এবং নারী



৭১ এ সর্বত্রই নারীরা পাকিস্তানী বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসরদের হাতে নির্যাতনের স্বীকার হয়। রাজাকার, আলবদর, আল শামস এবং শান্তিকমিটির সদস্যরা নারীদের ধরে নিয়ে পাকিস্তানী পশুদের হাতে তুলে দিত।



শুধুমাত্র সম্ভ্রমহানী ছাড়াও আরো অনেকভাবে মুক্তিযুদ্ধে নারীরা অবদান রাখে।

১. ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত গনতন্ত্রের পক্ষে পাকিস্তানের সকল আন্দোলনেই নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহন ছিল।



২. মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে এবং সময়ে সময়ে তাদের অশ্র লুকিয়ে রেখে নারীরা যে সাহায্য করেছিল তা আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনকে অনেকাংশে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়ক হয়।



৩. নারীরা সরাসরিও যুদ্ধে অংশগ্রহন করে। তাদেরকে বিশেষ গোবরা ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।



৪. মহিলা চিকিৎসকরা স্মরনার্থী শিবিরে এবং আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে।

৫. মহিলা শিল্পীরা রেডিওতে, স্মরনার্থী শিবিরে এবং মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে বিভিন্ন রকম সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে তাদের উৎসাহ দেয়।

৬. কিছু বিদেশী নারী বাংলাদেশের পক্ষে বিভিন্ন দেশে ক্যাম্পেইন করে


[চলবে]

পুর্বের পর্বসমুহঃ

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ১

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ২

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৩

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৪

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৫

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৬

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৭

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৮

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৯]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28815350 http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28815350 2008-06-30 15:27:52
ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৯


জগন্নাথ হল - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

৫. প্রত্যক্ষদর্শী কালি রঞ্জন শীলের মুখে ২৫শে মার্চের কাল রাত্রি -

তারা আমাদেরকে মৃতদেহগুলো তুলে গাছের নিচে জড় করতে নির্দেশ দিল। এরপর আমাদেরকে ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ করা হয় এবং আমাদের গ্রুপকে শিক্ষকদের আবাসিক এলাকায় নিয়ে যায় যেখানে ডঃ গুহাঠাকুর্ত বাস করতেন। সেখানে সিঁড়ির নিচে আমরা বেশ কিছু মৃতদেহ দেখতে পাই। আমি ঠিক স্মরন করতে পারছিনা ঠিক কতগুলো মৃতদেহ আমরা সেখান থেকে সরিয়ে ছিলাম। তবে আমি এটা মনে করতে পারছি যে শেষ মৃতদেহটা ছিল ঐ রাতের প্রহরী সুনীলের। তার শরীর তখনও গরম ছিল। এটা হতে পারে তাকে মেরেছিল বেশিক্ষণ হয়নি অথবা উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে। আমি যখন তার মৃতদেহ মাঠের মধ্য দিয়ে বইয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম তখন আমি কাছের বস্তিতে মহিলাদের কান্নার আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলাম। সেই মহিলারা মাঠে আসতে চাচ্ছিল এবং পাকিস্তানী সেনা সদস্যরা তাদের গুলি করার ভয় দেখিয়ে বাঁধা দিচ্ছিল। আমি দেখতে পাই আমাদের গ্রুপ থেকে আলাদাকৃত ঝাড়ুদ্বারের গ্রুপকে এলোপাথারী গুলো করে হত্যা করা হয়। আমি চোখের সামনে দর্শনের অধ্যাপক ডঃ গৌর গোবিন্দ দেবের অর্ধালোঙ্গ মৃতদেহ দেখতে পাই, যাতে নির্মম অত্যাচারের চিহ্ন স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। আমাকে যেই ছেলেটি সাহায্য করছিল সে বললো, তারা ডঃ দেবকেও হত্যা করেছে তাহলে আমরা আর মৃত্যুকে ভয় পাচ্ছি কেন? আমি ক্লান্ত শরীরে সুনীল এবং ডঃ দেব এর মৃতদেহের মাঝে শুয়ে পড়ি।



৬. প্রত্যক্ষদর্শী লেখক হুমায়ুন আহমেদের ভাষায় ফিরোজপুর -

পাকিস্তানী সেনা সদস্যরা বন্দীদের খেজুর গাছে চড়তে বলে। এরপর তারা তদের গুলি করে মাটিতে ফেলে এবং আনন্দে উল্লোসিত সেনা সদস্যরা খেজুর খুঁজে খাচ্ছিলো। আমি শুনতে পেলাম ভগিরথী নামক একজনকে চলন্ত জীপের সাথে বেঁধে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। প্রতিদিন নদীতে মৃতদেহ ভাসতে দেখতাম। চিল শকুন দেখতাম মৃতদেহের জন্য অপেক্ষায় বসে আছে কিন্তু তারাও এইসব মৃতদেহের প্রতি তাদেরও উৎসাহ ছিল না। কোন শকুনই সেদিন কোন মৃতদেহের উপর বসতে দেখিনি। সেদিন ৩০-৩৫ বৎসরের সবুজ শার্ট পরা মধ্যবয়স্ক একজন পুরুষ এবং ৭-৮ বৎসরের এক মেয়ের তাকে জড়িয়ে ধরেছিল। তার হাতে তখনও মেহেদির রং ছিল।

৭. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অরুন দের মুখে তার বাবা মুধুসুধন দের সম্পর্কে -

২৫শে মার্চের মধ্যরাত থেকেই আমি দেখতে পেয়েছিলাম সেনাবাহিনী জগন্নাথ হল ঘিরে রেখেছিল। চারদিকে গুলির আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। খুব ভোরে আমরা শুনতে পাই কয়েকজন আমাদের দরজা নক করছে। তারা ঢুকেই আমার বাবাকে গুলি করার জন্য দাঁড়াতে বলে। তখন আমার মা তার সামনে দাঁড়িয়ে বাঁধা দিলে তারা আমার মায়ের হাত কেটে ফেলে। আমি দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলাম এবং এই নৃশংসতা দেখে দরজা বন্ধ করে দেই। তারা লাথি দিয়ে দরজা খুলে ফেলে। আমি দেখতে পাই মা তখনও বাবার শরীরের উপর পড়ে আছেন আর সেনা সদস্যরা তখনও গুলি চালিয়ে যাচ্ছিল। কিছুক্ষন পরে বাবা দরজার দিকে এগোতে চান কিন্তু তিনি তার ডান হাত এবং পা নাড়াতে পারছিলেন না। বাবার পিঠে বিদ্ধ গুলি দেখে আমি তা বের করি। তখনও বাবার প্রাণ ছিলো। আমার মা, ভাই এবং তার স্ত্রীর মৃতদেহ ১০-১২ দিন ধরে আমাদের ঘরেই পঁচছিলো। পরে প্রতিবেশীরা পৌরসভার লোক ডেকে তা পরিষ্কার করায়। অবশ্য এটা আমি পরে শুনেছি।

৮. ঢাকার শ্যামলী নাসরিন চৌধুরীর মুখে তার স্বামী চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডঃ আলীম চৌধুরীর সম্পর্কে -

৩রা ডিসেম্বর যখন ঢাকায় প্রচন্ড আক্রমন হয় তখন আমরা হাসপাতালে আশ্রয় নেবার পরিকল্পনা করছিলাম। কিন্তু মাওলানা আব্দুল মান্নান যাকে আমরা আমাদের নিচের তলায় আশ্রয় দিয়েছিলাম সে বার বার আমাদেরকে থাকার জন্য আশ্বস্ত করছিল এবং আলীম তাকে বিশ্বাস করেছিল। ১৪ই ডিসেম্বর রাতে কারা যেন দরজায় নক করে। আমি যখন আলীমকে জিজ্ঞেস করলাম তখন সে আমাকে খুলতে বলে নিজে মাওলানা মান্নানের দরজার দিকে দৌড়ে যায়। সে মান্নানের দরজা নক করতে থাকে কিন্তু সে দরজা না খুলে বরং বলে তাদের সাথে চলে যেতে, সে পরে সাহায্য করবে। সে মান্নানের মিথ্যায় আশ্বস্ত হয়ে তাদের সাথে যায়। আমি তখনও আলীমকে ফিরিয়ে আনার জন্য মাওলানা মান্নানকে অনুরোধ করছিলাম। কিন্তু সে আমার দিকে ফিরেও দেখলোনা। আলীমকে নিয়ে যাওয়া গাড়ীর আওয়াজ পাই। আমি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ি। তখন সে আমাকে অভয় দিয়ে বলে তার ছাত্ররা আলীমকে চোখের চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেছে। অবশেযে ১৮ই ডিসেম্বর আমি তাকে খুঁজে পাই। তার মৃতদেহ অন্যান্য বুদ্ধিজীবিদের সাথে রায়ের বাজার বধ্যভুমিতে পড়ে থাকে। ডঃ রাব্বি, আলীম, লাদু ভাই এবং আরও অনেকের মৃতদেহ ছিল একসাথে।

[চলবে]

পুর্বের পর্বসমুহঃ

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ১

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ২

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৩

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৪

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৫

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৬

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৭

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৮]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28814591 http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28814591 2008-06-28 14:32:43
ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৮


গনহত্যা

পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসররা ১৯৭১ এর মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বিচারে গনহত্যা, অত্যাচার, ধর্ষন এবং অগ্নিসংযোগ চালায়।

আনুমানিক ত্রিশ লক্ষ লোক তাদের হাতে শহীদ হয়। দুই হতে চার লক্ষ নারী তাদের হাতে শারিরীক নির্যাতনের স্বীকার হয়। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর এটাই ছিল স্বল্পতম সময়ে নৃশংসতম গনহত্যা। বাংলাদেশের কোন গ্রাম এবং শহর তাদের এই ধ্বংসলীলা থেকে রেহাই পায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়ঃ

১. ডাঃ জেবা মাহমুদের ভাযায় তার পিতা রাজশাহীর সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা মামুন মাহমুদ সম্পর্কে -

কিছু স্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং পুলিশ কর্মকর্তা তার বাসায় গোপন মিটিং করেন। কিন্তু তা গোপন ছিলনা। কারন ঐ মিটিং-এ কিছু রাজাকার উপস্থিত ছিল যারা পাকিস্তানি সেনা বাহিনীর কাছে মিটিং-এর খবর পৌছে দেয়।

আমার বাবা ছিলেন কোষাগারের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। সকালে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাপ্টেন কোষাগারে প্রবেশ করতে চাইলে স্থানীয় পুলিশ বাধা দিলে সে আমার বাবাকে জানায়। আমার বাবা জবাবে বলেছিলেন, "আমার লোকজন সঠিক কাজই করেছে। কোষগারে প্রবেশের কোন অধিকার তোমার নেই।" ঐ ক্যাপ্টেন সন্ধ্যায় আবার আসে এবং আমার বাবাকে জানায় রংপুর থেকে ব্রিগেডিয়ার তার সাথে কথা বলতে চায়। আমার বাবাকে সরাসরি গ্রেপ্তারের সাহস তাদের ছিলনা। তারা তাদের সাথে বাবাকে ক্যান্টনমেন্টে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে।

আমার এখনও মনে আছে বাবা জীপে করে ড্রাইভার এবং গার্ড সহ ক্যান্টনমেন্টে যান। তিনি আর কোনদিন ফিরে আসেননি। যেই শয়তানের থাবা থেকে বাবা দেশকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন সেই শয়তানই আমার বাবাকে চিরতরে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়।


২. সংবাদকর্মী নাদিম কাদেরের ভাষায় তার বাবা চট্টগ্রামের কর্ণেল কাদের সম্পর্কে -


একদিন খুব ভোরে একজন পাকিস্তানী ক্যাপ্টেন তার বাহিনী নিয়ে আমাদের বাসায় এসে আমার বাবাকে বলে, "তুমি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তোমাকে আমি সম্মান দেখাতে পারছিনা। তুমি একজন বিশ্বাসঘাতক, তোমাকে আমাদের সাথে যেতে হবে।" তারপর থেকে সকল তথ্যের ভিত্তিতে আমরা বাবাকে সর্বত্র খুঁজি কিন্তু আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমার মা তার জন্য অপেক্ষা করেন। আমরা তার লাশ দেখিনি তাই সবসময় এই আশায় থাকি যে তিনি একদিন ফিরে আসবেন।

আমার বাবার একমাত্র অপরাধ ছিলো তেল এবং গ্যাসকুপ খননের জন্য প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক যেই গুদামে থাকতো তার চাবি আমার বাবার কাছে থাকতো এবং পাকিস্তানী সেনাবাহিনী জোরপূর্বক সেই গুদাম খুলে তারা কোন বিস্ফোরক পায়নি। তিনি সব বিস্ফোরক মুক্তিযোদ্ধা মেজর রফিকের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। এই বিস্ফোরকগুলো মুক্তিযোদ্ধারা ব্যবহার করতো।

৩. আফতাব আহমেদের মুখে তার বড় ভাই সৈয়দপুরের ডঃ শামশেদ আলী সম্পর্কে -

সৈয়দপুরের উত্তরে একটি বাষ্পীয় ইঞ্জিন ছিল যেখানে মৃতদেহগুলো পুড়িয়ে ফেলা হতো। গ্রেপ্তারের পরে আমার ভাইকে সেই ইঞ্জিনের কাছে একটি গর্তের পাশে গুলি করার জন্য নেয়া হয়। মির্জা নামক একজন বিহারীকে এই হত্যার দ্বায়িত্ব দেয়া হয়। গুলি করার সময় আমার ভাই রাইফেলটি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু তিনি ব্যর্থ হন। এরপর তারা আমার ভাইকে হত্যা করে ষ্টীম ইঞ্জিনে তার মৃতদেহ পুরিয়ে ফেলার চেষ্টা করে কিন্তু তার বিশাল শারিরীক আকৃতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। তখন তারা তার দু-হাত, দু-পা কেটে ফেলে তার শরীরটি পুড়িয়ে ফেলে। আমরা দাফনের জন্য তার দেহটি পাইনি।

৪. খুলনার মুক্তিযোদ্ধা সালাম খানের মুখে তার চার মাসের শিশু রেহানা সম্পর্কে -

চার মাসের শিশু রেহানাও ছিল পাকিস্তানী বাহিনীর নৃশংসতার শিকার। তার অপরাধ ছিলো সে মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম খানের কন্যা। ৩০শে এপ্রিল, ১৯৭১ পাকিস্তানী বাহিনী তার বাড়ীতে হানা দেয়। কিন্তু আবদুস সালামকে না পেয়ে তারা রেহানাকে বুটের তলায় পিষ্ট করে হত্যা করে।



[চলবে]


পুর্বের পোষ্টসমুহঃ

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ১

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ২

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৩

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৪

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৫

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৬

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৭


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28814459 http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28814459 2008-06-28 04:03:49
নিকের উপর হামলা

আফ্রিকা হইতে আমদানীকৃত নাম লইয়্যা এক নব্য ব্লগার আমাদের নিক তাহার পোষ্টে ব্যবহার করিয়া সহজেই হিট হইবার স্বপ্নে বিভোর।

আপনারা দলে দলে তাহার পোষ্টে মাইনাচ দিয়া আপনার নৈতিক দায়িত্বখানা পালন করুন।

ব্লগে কেন চলছে এই লুকোচুরি?

তাহার নামের উৎসের প্রমান স্বরুপঃ

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28813709 http://www.somewhereinblog.net/blog/saifur_dhk/28813709 2008-06-25 22:57:38
ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৭

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ১

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ২

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৩

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৪

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৫

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৬


আগের পোষ্টসমূহের ধারাবাহিকতায়-

প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভুমিকা

পাকিস্তান শাসনামলে সরকারের বৈষম্যমূলক আচরনের কারনে খুব কম সংখ্যক বাঙ্গালী উচ্চ শিক্ষা, চাকুরী অথবা ব্যবসার জন্য বিদেশ যেতে পারতো। তারপরও এই স্বল্প সংখ্যক বাঙ্গালী বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ব্যাপক জনমত গড়ে তুলেছিল। তারা পুরো বিশ্বকে জানাতে চেয়েছিল কিভাবে পাকিস্তানীরা বাঙ্গালীদের উপর অত্যাচার চালায় এবং এর সাথে সাথে বাঙ্গালী স্মরনার্থীদের জন্য আর্থিক সাহায্য সংগ্রহ করে।

যুক্তরাজ্যঃ
১. যুক্তরাজ্যের প্রধান শহরগুলোতে বড় বড় রেলী*, সভা আয়োজন করা হয়। লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে ৪ঠা এপ্রিল ও ১লা আগষ্ট এবং হাইড পার্কে ১৯শে জুন বড় আকারে সম্মেলন করা হয়। রেলী* থেকে বৃটেনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেয়া হয়।
২. সভায় বাংলাদেশীদের পাশাপাশী লর্ড ব্রুকওয়ে, পার্লামেন্ট সদস্য পিটার শোর, জর্জ স্টোন, মাইকেল বার্নস ও বাংলাদেশীদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে ভাষন দেয়।
৩. ২৪শে এপ্রিল পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয় যার দায়িত্ব দেয়া হয় (পরবর্তীতে বিচারপতি) আবু সাঈদ চৌধুরীকে। এই কমিটির উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক ক্যাম্পেইন করা।
৪. বৃটেনে পাকিস্তানী দূতাবাসে কর্মরত কিছু বাঙ্গালী কুটনৈতিক চাকুরী ছেড়ে এই ক্যাম্পেইনে যোগ দেয়।

ভারতঃ
১. রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে ভারত ক্যাপেইনে যোগ দেয়।
২. কলকাতা এবং নয়া দিল্লীতে অবস্থিত পাকিস্তানী দূতাবাসে কর্মরত বাঙ্গালীরা পাকিস্তানের বিরোধিতা করে এবং ভারত ক্যাম্পেইনে যোগ দেয়।
৩. শিল্পীরা স্মরনার্থী শিবির এবং মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ গুলোতে বিভিন্ন পরিবেশনার মাধ্যমে তাদের সাহস যোগায়।
৪. চিকিৎসকরা স্মরনার্থী শিবির এবং আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে সাহায্য করে।

যুক্তরাষ্ট্রঃ
১. ২৯শে মার্চ ১৯৭১, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাঙ্গালীরা ওয়াশিংটনের ক্যাপিটেল হিলে সম্মেলন করে। তারা যুক্তরাষ্ট